13/07/2026
# মালয়েশিয়ায় বৈধ বাংলাদেশি প্রবাসীদের হয়রানি করা হচ্ছে।
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। পরিবার ছেড়ে, প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে হাজারো বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় কঠোর পরিশ্রম করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিকেও সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অনেক বৈধ বাংলাদেশি প্রবাসীর কাছ থেকে পুলিশি ও ইমিগ্রেশন হয়রানির অভিযোগ উঠে আসছে। অনেকের দাবি, বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট দেখানোর পরও দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কখনও কখনও অযৌক্তিক আচরণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত তদন্তের দাবি রাখে।
কিছু প্রবাসীর অভিযোগ আরও গুরুতর। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। যারা প্রতিদিন বৈধভাবে কাজ করে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, তাদের নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করতে হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে, সে যে দেশের নাগরিকই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের অধিকার। কিন্তু একই সঙ্গে যারা বৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের যেন অযথা হয়রানি, অপমান বা বৈষম্যের শিকার হতে না হয়, সেটিও আইনের শাসনের অপরিহার্য অংশ।
আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানাচ্ছি—মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন। প্রবাসীদের কাছ থেকে আসা হয়রানির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করুন এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের আইনি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করুন। যারা দেশের অর্থনীতিতে অমূল্য অবদান রাখছেন, তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।