11/06/2024
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা:
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সমপ্রসারণ এবং উন্নয়ন একান্ত অপরিহার্য। "ডিজিটাল বাংলাদেশ" গড়ার প্রত্যয়ে ভিশন-২১ বাস্তবায়ন তথা দারিদ্র বিমোচন, কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আত্ম-কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সমপ্রসারণ প্রয়োজন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব সহজেই অনুমেয়। সর্বোপরি কারিগরি শিক্ষা ছাড়া অধিক জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তর করা অসম্ভব।
অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী বলতে স্বনির্ভর অর্থনীতি, যার অর্থ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য আভ্যন্তরীণ বিষয়ে উপযুক্ত বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক নিজস্ব প্রযুক্তি সম্বলিত উন্নয়ন আবশ্যক, তার ধারাবাহিকতা এবং মাধ্যম হল কারিগরি শিক্ষা। বিশ্বের উন্নত দেশের সাথে প্রতিযোগিতায় নিজেকে দক্ষভাবে গড়ে তুলতে হলে এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করতে হলে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নাই। তাই কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়নে সামগ্রিকভাবেই কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন :
১. কারিগরি শিক্ষার গুণগতমান উন্নত করা ও দক্ষতা অর্জন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার কোর্সসমূহের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ।
২. শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্ক উন্নয়ন, শিল্প কারখানা চাহিদা অনুযায়ী কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন।
৩. ব্যাপকভাবে সমপ্রসারিত বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহের অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং ল্যাব সুবিধার অভাবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না।
৪. গ্রামের দরিদ্র ছেলেরা সাধারণত কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের জন্য আসে। আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য ড্রপ আউটের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। ড্রপ আউটের হার কমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
৫. সকল সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যথাযথ মাননিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অবকাঠামো ও জনবলের অভাব।
৬. যারা অষ্টম শ্রেণি পাস করতে পারে না তাদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৭. বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কর্তৃক বিভিন্ন ধরণের এবং মেয়াদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্ষিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করা হয়। সকল প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব।
৮. শিক্ষা বাজেটে কারিগরি শিক্ষার চাহিদার তুলনায় বাজেট অপর্যাপ্ত।
৯. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিষয়ে জনসচেতনতা এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীর অভাব।
বাংলাদেশ বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে পারলে তারাই হবে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিকল্প নাই। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আত্ন-কর্মসংস্থান, উদোক্তা উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বিগত বছরগুলোতে তারিগরি ও বৃত্তিমুলক শিক্ষার ব্যাপক সমপ্রসারণ হলেও কারি গরি শিক্ষা নিয়ে রয়েছে একটি মিশ্র মনোভাব। সামাজিক গ্রহনযোগ্যতার পাশাপাশি রয়েছে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন। প্রশ্ন রয়েছে যথাযথ দক্ষতা অর্জন নিয়েও। শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থীর কতভাগ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় পড়াশুনা করে তা নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। কারিগরি ও বৃত্তিমুলক শিক্ষার গুরুত্ব ও বাস্তব প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইজ) এর বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০১১২ (ইধহমষধফবংয ঊফঁপধ:রড়হ ঝ:ধ:রং:রপং-২০১২) অনুসারে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫,৭৩,৫২৪ জন। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষায় ১২,৩৫,০১৩ জন, মাদ্রাসা শিক্ষায় ২.০৩.১০৯ জন এবং ভোপকেশেনাল শিক্ষায় ১,৩৯,৩৬৯ জন অর্থ্যাৎ নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থীর ৮.৮৬% কারিগরি রও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় পড়াশুনা করে।
২০১৩ সালে মোট ১৩,০১,৯৩০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে যার মধ্যে সাধারণ শিক্ষায় ৯,৯২,৩১৩ জন, দাখিল পরীক্ষায় ২,২১,২৫৭ জন এবং ভোকেশনাল শাখায় ৮৮,৩৬০ জন্য অর্থাৎ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্ধীর ৬.৭৯% কারিগরি শাখার।
এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হল নবম শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থীর ৮.৮৬% কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হলেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৬.৭৯% অর্থাৎ কারিগরি শিক্ষায় ড্রপ-আউট-এর সংখ্যা সাধারণ শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি। ড্রপ-আউট কমানোর জন্য বৃত্তি প্রদানসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
তাছাড়া কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমিক স্তরে আগামী ৫ বছরে যাতে মোট শিক্ষার্থীর ২০% পড়াশুনার সুযোগ পায় এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। তোমধ্যে বর্তম,ান সরকার উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য প্রয়োজনে প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে।
২০০৯ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় (সাধারণ, দাাখিল ও ভোকেশনাল) মোট ৭,৫০,৫৩৮ জন ছাত্র-ছাত্রী পাস করে তার প্রায় ১৬.৩২% অর্থাৎ ১,২২,৪৫৬ জন শিক্ষার্থী কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় ভর্তি হয়। ২০১৩ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১১,৫৪,৭৭৮ জন শিক্ষার্থী পাস করে যায় মধ্যে ২,১৫,১৮৬ জন অর্থাৎ ১৮.৬৩% শিক্ষার্থী কারিগরি ও কর্মমূখী শিক্ষায় ভর্তি হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ডিিেপ্লামা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ২০০৯ সালে ভর্তি হয় ২৭,৬৪০ জন এবং ২০১৩ সালে ভর্তি হয় এর দ্বিগুণেরও বেশি ৫৮,৯১৭ জন অর্থাৎ এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের ৫% এর বেশি ছাত্র-ছাত্রী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হয় যা ২০০৯ সালে ছিল ৩.৬৮%। তাছাড়া ডিপ্লোমা ইন টেঙ্টাইল, এগ্রিকালচার, হেলথ, ফিসারিজ এবং এইচএসসি (ভোক) সহ অন্যান্য কোর্সেও শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপক) কোর্সিট সাধারণ এইচএসসি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে চালু করা একটি কর্মমুখী শিক্ষা। এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপক) কোর্সটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। ২০০৯ সালে এ কোর্সে ভর্তি হয় ৭৬,০৮৪ জন যা ২০১৩ সালে দাঁড়ায় ১,২৪,৬৫৬ (১০৭১%) জনে।
২০১৩ সালে এসএসসি পাস মোট শিক্ষার্থীর ১৮.৬৩% কারিগরে ও কর্মমূখী শিক্ষায় ভর্তি হয় যার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সসমূহে ৭.৮৪% এবং এইচএসসি (বিএম)-এ ১০.৭৯%। আমাদের লক্ষ্যে হওয়া উচিত ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সসমূহে আগামী ৫ বছরে ভর্তি হবে ১৫% এবং এইচএসসি (বিএম)-এ ১৫%। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলায় এবং বিভাগীয় শহরগুলিতে পলিটেকনিক স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিদ্যমান পলিটেকনিকগুলিতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন পলিটেকনিক স্থাপন করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক সমপ্রসারণে বেসকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেসরকারি উদ্যোগে অসংখ্যা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানেরই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও শিক্ষকের অভাব রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা সাধারণ শিক্ষার তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল। যে সমস্ত শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় পড়াশুনা করে তাদের বেশির ভাগই মিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাদের টাকায় প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে গড়ে তোলা এবং পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কারিগরি শিক্ষার যথাযথ মান বজায় রাখার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের বেতন সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাক- বৃত্তিমূলক ও তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। সকল স্কুলে এক সঙ্গে তা চালু করা যাবে না। ধাপে ধাপে তা করতে হবে। এ জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ খুবই জরুরি। একই সঙ্গে এ জন্য উপযুক্ত কারিকুলাম তৈরির পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০১২ অনুয়ায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ার উপযুক্ত বয়সের জনসংখ্যা ১৬০ লক্ষ এর মধ্যে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণিতে সাধারণ শিক্ষায় পড়ে প্রায় ৮০ লক্ষ এবং মাদ্রাসায় পড়ে প্রায় ১৭ লক্ষ; বাকী ৬৩ লক্ষ স্কুলেই যায় না। যারা স্কুলে যায় তাদের শতকরা প্রায় ৫০% ই ড্রপ-আউট হয়।
বর্তমানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাায় অষ্টম শ্রেণি পাস শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ/শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু যুবসমাজের একটি বিরাট অংশ যারা মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তিই হয় না আবার ভর্তি হলেও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাস করে না তাদের সংখ্যা বর্তমানে ১ (এক) কোটিরও বেশি হবে। তাদের জন্য উপযুক্ত বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষেেণর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই বিরাট নংখ্যক যুব সমাজকে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের উপযুক্ত করা গেলে বেকার সমস্যা দূরীকরণের পাশাপাশি অনেক সামাজিক সমস্যার সমাধান করা যাবে।
বর্তমানে ৮০ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশী বিদেশে কর্মরত আছে যাদের বেশির ভাগই অদক্ষ। তাদের পাঠানো রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রয়োজনীয় স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা গেলে রেমিটেন্সের পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে যেতে খরচ পড়ে বেশি কিন্তু বেতন পায় কম। ফলে জমি, বাড়িসহ যে মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করে বিদেশে যায় সেই টাকাই উপার্জন করতে পারে না। দক্ষ শ্রমিকের বিদেম যেতে খরচ কম হয় বেতনও কয়েকগুণ বেশি।
কারিগরি প্রশিক্ষণের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বল্প পরিসরে সক্ষমতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের (ঈড়সঢ়ব:বহপু ইধংবফ :ৎধরহরহম) উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সকল প্রয়োজনীয় ট্রেডের জন্য সক্ষমতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জনসচেতনতার অভাব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার একটি প্রধান অন্তরায়। যদিও বর্তমানে এ বিষয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করে অধিক হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি সবার আগ্রহ বাড়বে।
কারিগরি শিক্ষা সাধারণ শিক্ষার তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল যা নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। ছাত্রীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত উপবৃত্তির মত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সকল স্তরে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ড্রপ-আউট কমবে এবং শিক্ষার গুণগত মানও বৃদ্ধি পাবে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সকল স্তরে শিক্ষাথীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন পেশার অসংখ্য লোক অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে আসছে। তাদের কোনো সনদ নেই বলে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়না। ইতোমধ্যে কিছু কিছু পেশার জন্য পূর্ব প্রশিক্ষণের স্বীকৃতি (জবপড়মহর:রড়হ ড়ভ ঢ়ৎরড়ৎ ষবধৎহরহম) এর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সকল প্রচলিত পেশার জন্য এই উদ্যোগ সমপ্রসারণ করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন যাতে সংশ্লিষ্ট সবাই সনদ পেতে পারে এবং দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।
দেশ ও দশের অগ্রযাত্রায় কারিগরি শিক্ষায় আপনার প্রথম পছন্দ হোক ইসলামী ব্যাংকের পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট সমূহ।
ইসলামী ব্যাংক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি
ঢাকা, সাভার, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও বগুড়া