29/01/2025
Please join this conversation. We will have guest speakers and contributors to discuss the book in reference to Bangladesh.
The Bangladesh Criminology Association (BCA) is a national organization aimed at promoting criminolo
29/01/2025
Please join this conversation. We will have guest speakers and contributors to discuss the book in reference to Bangladesh.
পৃথিবীতে কোন সভ্য দেশে মবজাষ্টিজ সভ্য বলে বিবেচিত নয়। অথচ বাংলাদেশে এমনকি পুলিশ, কোর্ট ও কারেকশন বিভাগের লোকও মবজাস্টিজকে র্যাশনাল মনে করে। কোন মানুষকেই তার অপরাধ আইনীভাবে প্রমানিত হওয়ার আগে তার সম্মান, মর্যাদা, আত্মরক্ষা ও সেল্ফ ডিগনিটির সুযোগ থাকা উচিত। ক্রিমিনাল জাস্টিজ এজেন্সীসহ সকল পুলিশিং প্রতিষ্ঠানের উচিত সবাইকে আইনগতভাবে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেয়া!
পুলিশের লোগো, পোশাক পরিবর্তন করে আপাতত হয়ত তার ইমেজ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হবে কিন্তু তাতে পুলিশের অন্যায়, অপরাধ, ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ কোনোকিছুরই মৌলিক পরিবর্তন হবেনা! কারণ স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হোক আর ইমেজ পুনরুদ্ধারের প্রশ্নেই হোক পুলিশের পোশাক কিন্তু কম পরিবর্তন হয়নি! পুলিশের সংস্কারের জন্য যে, শোষণ বৈষম্যহীন ও দেশপ্রেমের অবধারিত রাজনীতি, আইন ও কাঠামোগত পরিবর্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি নির্মাণ প্রয়োজন তা না হলে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে আখেরে জনগণের ট্যাক্সের টাকাই নষ্ট হবে শুধু!
বাংলাদেশের পুলিশের সংস্কার নিয়ে দুয়েকজন হয়তো ব্যাক্তিগতভাবে বিদগ্ধ ও সংস্কারের ধারণা রাখেন কিন্তু ব্রিটিশ,পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে বিভিন্ন কমিশনের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে পুলিশের সংস্কার শেষ হয়েছে মূলত দুটি কাজ করে। তার একটি হলো, জনসংখ্যার বিপরীতে নতুনভাবে পুলিশের বিপুল পদ সৃষ্টির মাধ্যমে অথবা অন্যদিকে, দুয়েকটি করে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট তৈরির মাধ্যমে! কিন্তু পুলিশের সংস্কারের মূল বিষয়টি যেমন মানুষকে পুলিশে রূপান্তরকরণ বন্ধ হয়নি বা বলতে পারি দার্শনিক, আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার পুলিশ থেকে তারা মানুষ হয়নি! এবং পুলিশকে অমানবিক, আমলাতান্ত্রিক, ফ্যাসিষ্ট ও ফ্রাঙ্কেনস্টাইনরুপে তৈরির সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি।
বন্ধু ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার!
শ্রেণিবিভক্ত সমাজে পুলিশসহ ক্রিমিনাল জাস্টিজ এজেন্সির প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে আমরা অপ্রয়োজনীয়ভাবেই জরুরি মনে করি। অথচ পাশ্চাত্যের ক্রিটিক্যাল ক্রিমিনোলজিষ্টদের একটি গ্রুপ তথ্য, যুক্তি, দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে 'Defunding the Police' 'Defunding the prison' 'Abolish police and prison' নামে মুভমেন্ট করছেন যাদেরকে বলা বিলোপবাদী অপরাধবিজ্ঞানী (Abolitionist Criminologists)। তারা সবসময়ই আদিম সাম্যবাদী সমাজ বা সমতাভিত্তিক ইগালিটারিয়ান সমাজের উদাহরণ তুলে ধরে আদিবাসী ও অবিকশিত সমাজের কমিউনিটি জাষ্টিজ, রেষ্টোরেটিভ জাষ্টিজ, রিকনসিলিয়েশন এর পক্ষে কথা বলেন। তারা সবসময়েই কলোনিয়াল আইন, কলোনিয়াল ক্রিমিনাল জাস্টিজ এজেন্সিকে বিলোপ করে বিউপনিবেশায়ন (decolonization) এর পক্ষে কথা বলেন এবং এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাতিল করে দিয়ে এসবকে মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের কথা বলেন। যেমন তারা কারাগার বন্ধ করে তা স্কুল, কলেজ বা স্থানীয় জনগণের চিত্তবিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরের বাস্তবভিত্তিক প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলছেন, কাজ করছেন। বাংলাদেশেও গত কয়েকদিনে পুলিশবিহীন থানা, ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, লুটপাটের পরে আবার স্বপ্রণোদিত হয়ে মানুষের জিনিসপত্র ও সরকারি সম্পদ ফেরত দেয়া, এলাকায় এলাকায় ডাকাত ও সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকল্পে যে সম্প্রদায়গত প্রতিরোধ দেখেছি তাতে বিলোপবাদী অপরাধবিজ্ঞানীদের মত আমারও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে বাস্তবে এটাই মনে হয়েছে যে, সত্যিকার অর্থে তথাকথিত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের নামে দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ, দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারব্যবসস্থা, আয়নাঘর, ও অাধিপত্যবাদী কারাগার না থাকলেও কিছু যায় আসেনা! কারণ এরা অপরাধ নির্মূলের নাম করে অপরাধী উৎপাদন-পুনরুৎপাদনের সাথে যুক্ত!
31/07/2024
বিশ্বের সবচাইতে বড় ক্রিমিনোলজি এসোসিয়েশন American Society of Criminology (ASC) এর সানফ্রান্সিসকোতে আগামী নভেম্বর, ২০২৪ এ অনুষ্ঠিতব্য কনফারেন্সে দুটি পেপার এক্সেপ্ট হয়েছে অথচ ভিসার কারণে এবারও যেতে পারবো কিনা জানিনা। কারন এর আগেও ২০২২ ও ২০২৩ সালে Law and Society Association (LSA) এর পুয়ের্তোরিকো, এবং কলোরাডো ডেনভারের কনফারেন্স মিস করেছিলাম! ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে কোন পরামর্শ থাকলে আমাকে সহযোগিতা করবেন!
25/07/2024
Streaming Now
Scan the QR Code after the presentation & Vote For Subrata Banerjee Sir
Voting Time is only 10 mins after Presentations
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির 3 Minutes Thesis Competition Grand Final।
Date: 25 July 2024
ANU 3MT 2024 An 80,000 word PhD thesis would take 9 hours to present in full. Imagine trying to do that in just 3 short minutes!
02/06/2024
নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ”ক্রিমিনোলজি ও সোসিওলজি অব ল” বিভাগ কর্তৃক পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশের Critical Histories of Criminology – Stories of the Seven Continents
Seven speakers শিরোনামে ক্রিমিনোলজির ইতিহাস বিষয়ে এক দূর্দান্ত সেমিনার সিরিজের আয়োজন করেছে যেখানে গ্লোবাল নর্থ ও সাউথের ক্রিমিনোলজি এর দিকপালরা বক্তব্য রাখবেন।
June 5th Eugenio Raúl Zaffaroni on Latin America’s History of Criminology
August 28th Sandra Walklate on the UK and Europe’s History of Criminology
September 18th Biko Agozino on Africa’s History of Criminology
October 9th Juan Tauri on Oceania’s History of Criminology
October 30th Joanne Belknap on North America’s History of Criminology
November 6th Jianhong Liu on Asia’s History of Criminology
December 4th Heidi Mork Lomell on Scandinavia’s History of Criminology
তার প্রথমটি শুরু হবে জুন ৫, ২০২৪ তারিখে যেখানে ল্যাটিন আমেরিকার সাউদার্নাইজিং ক্রিমিনোলজির অন্যতম তাত্ত্বিক ইউজেনিও রাউল জাফারনি বক্তব্য রাখবেন। পরবর্তীতে সান্ড্রা ওয়ালকলেট, অনুবিকো এগোজিনো থেকে শুরু হুয়ান টৌরি থেকে জোয়ান বালকনাপসহ বেশিরভাগ সাউদার্ন/সাউদার্নাইজিং ক্রিমিনোলজির বক্তারা বক্তব্য রাখবেন। আমার ক্রিমিনোলজি এর প্রিয় ছাত্রছাত্রী, কলিগসহ যে কেউ রেজিষ্ট্রেশন করে এই সেমিনার সিরিজে অংশগ্রহন করতে পারেন।
রেজিষ্ট্রেশন লিংক:
Critical Histories of Criminology – Stories of the Seven Continents - Department of Criminology and Sociology of Law (IKRS) Seven speakers from six continents present critical accounts of criminology’s history and their global impact. Africa, Asia, Europe, Latin America, North America, and Oceania have their (hi)stories told. The last speaker celebrates the Department’s contributions to the discipline with a focus on...
'ইউরো-আমেরিকান/পুঁজিবাদী/পিতৃতান্ত্রিক/ আধুনিক/উপনিবেশিক বিশ্বব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস!!!
১৬ ও ১৭ শতক- 'খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হও নইলে আমি তোমাকে হত্যা করব!'
১৮ এবং ১৯ শতক- 'তোমাদের সভ্য করতে দাও নইলে আমি তোমাকে মেরে ফেলব!’
২০ শতক- 'উন্নয়ন কর নইলে আমি তোমাকে মেরে ফেলব!'
২১ শতকে - 'গণতন্ত্রায়ন করো নইলে আমি তোমাকে হত্যা করব!'
-Decolonizing Sociology by Ali Meghji
একজন মানুষের লেখা-চিন্তা-কথা দিয়ে বুঝা যায় তার জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ব্যাক্তিত্ব এবং জ্ঞানের পরিধি ও স্তর। আন্তঃনির্ভরশীল স্তরায়িত সমাজে কেউ যখন লিখে এর চেয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ কিংবা এর অবদানের চেয়ে ওর অবদান জিডিপিতে বেশি তখন বুঝতে বাকী থাকেনা, এই কথার পিছনেও একটি বিশেষ পেশা বা শ্রেণির প্রতি কারো, কি পরিমান hatred বা ঘৃণ্য মনোভাব বিরাজমান আছে!
13/12/2023
স্কলারশীপ সুযোগ!!!
ইংল্যান্ডের কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল এর প্রফেসর ফ্যাবিয়েন ইমেরিক কিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির ফুল ফান্ডিং নিয়ে আমাকে ইমেইল করেছেন যে কারো ওয়েল ডেভেলপ্ট প্রপোজাল থাকলে আবেদন করার। আবেদনের ডেডলাইন ডিসেম্বর ২২, ২০২৩ তারিখ। আবেদনের লিংক: https://www.keele.ac.uk/study/postgraduateresearch/studentships/humanitiesandsocialsciences2024/
প্রফেসর ফ্যাবিয়েন ইমেরিক হলো জার্মানীর জাতীয়তাবাদী Baader Mainhoff গ্রুপের রাজনৈতিক প্রিজনারদের উপর পিএইচডি করেছেন। যেই গ্রুপটি ইউরোপে জাতীয়তাবাদী ও মার্কসবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত সহিংস সংগঠন ছিলো। আমি কানাডায় কার্লটনে আসার আগে প্রায় ৭ মাস সময় ধরে ফ্যাবিয়েন ইমেরিকের সাথে কিল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রপোজাল ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারভিউ ভাইভা, ওয়ার্কশপে অংশগ্রহন, আবেদন, স্কলারশীপ ডকুমেন্টস রেডি করার পরেও এডমিশন পেয়েছিলাম কিন্তু স্কলারশীপ হয়নি। এত মানবিক, এত কেয়ারিং ও এত দায়িত্বশীল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আমি খুব কম দেখেছি। যেইদিন তার সাথে আমার শেষ কথা হয়েছিলো সেদিন তিনি আবেগতাড়িত হয়ে কেঁদেছিলেন যে, তিনি আমাকে ছাত্র হিসেবে নিতে পারেননি। আমি সেদিন বুঝেছিলাম যে, পাশ্চাত্যের মানুষও অনেক বেশি মানবিক ও আবেগী হন। আপনারা কেউ যদি এই ফান্ডিংয়ের স্কুল অব ল তে বিশেষ করে ফ্যাবিয়েন ইমেরিকের অধীনে আবেদন করতে চান তবে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি আপনার বা আপনাদের জন্য তার কাছে ইমেইলে সুপারিশ করতে পারি।
Humanities and Social Sciences 2024 The Faculty of Humanity and Social Sciences at Keele University is inviting applications for a fully funded (tuition + stipend) PhD studentship in any of the Faculty’s subject areas, including law, politics, criminology, education, philosophy, sociology, business & economics, English literature, c...
মূল লেখা আজফার হোসেন স্যার!
মার্কস ও ফুকোঃ একটি সংক্ষিপ্ত নোট
কার্ল মার্কস আর মিশেল ফুকোর সম্পর্ক নিয়ে দুইটি বিশেষ বই বেরিয়েছে সাম্প্রতিক সময়েঃ একটি হচ্ছে ফরাসী দার্শনিক জাঁক বিদে-এর বই _ফুকো উইথ মার্কস_ (২০১৫/ ইংরেজি তর্জমাঃ ২০১৬); অপরটি ইতালীয় মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ও অ্যাকটিভিস্ট আন্তনিও নেগ্রি-এর বই _মার্কস অ্যান্ড ফুকো_ (২০১৭)। বেশ কৌতূহল নিয়ে পড়তে গিয়ে দেখলাম বই দুইটি একদিকে যেমন মার্কস আর ফুকোর তাত্ত্বিক সংশ্লেষণ ঘটাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে আবার তারা ফুকোর নিজস্ব বই--তাঁর সাক্ষাৎকারের বই--_রিমার্কস অন মার্কস_কে সম্পূর্ণ এড়িয়েও গেছে। মনে হল, ফুকোর ওই বইটা আবারও পড়া দরকার।
তবে ফুকোর _রিমার্কস অন মার্কস_ বইটা আবারও পড়ার আরেকটা কারণ আছে অবশ্য। প্রায় দেড় দশক আগে মার্কসবাদীদের এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে মার্কস, ফুকো এবং দেরিদা নিয়ে আমি নিজেই একটা পেপার পেশ করেছিলাম। সেখানে মার্কসকে নিয়ে ফুকো ও দেরিদার ভাবনার তুলনামূলক আলোচনা করেছিলাম। ফুকোর বই _রিমার্কস অন মার্কস_ আর দেরিদার বই _স্পেক্টার্স অফ মার্কস_ কে এক সমতলে এনে তাদের তুলনা করে রূপকার্থে এও বলেছিলামঃ যেখানে দেহতাত্ত্বিক মিশেল ফুকো ব্যস্ত থাকেন মার্কসের দেহ নিয়ে, সেখানে ভূতকাব্যতাত্ত্বিক জাঁক দেরিদা ব্যস্ত থাকেন মার্কসের "ভূত" নিয়ে, যদিও সেটা আমার পেপারের একমাত্র আর্গুমেন্ট ছিল না। ওই পেপারের একটা পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত রূপ শিঘ্রি প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে। সেই জন্যও ফুকোর ওই তুলনামূলকভাবে অবহেলিত বই _রিমার্কস অন মার্কস_-এর কাছে ফিরতে হল।
বলা দরকার, ইতালীয় মার্কসবাদী সাংবাদিক দুচ্চো ত্রোম্বাদরি বেশ কিছু সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন মিশেল ফুকোর, সত্তরের দশকের শেষভাগে। ওই সাক্ষাৎকারগুলোকে একসঙ্গে করেই সেই ১৯৮১ সালে ইতালীয় ভাষায় প্রথম বেরোয় _রিমার্কস অন মার্কস_। ফুকো মারা যান ১৯৮৪ সালে। তারপর ১৯৯১ সালে বইটির ইংরেজি তর্জমা প্রকাশিত হয় আমেরিকায়। আর আমি বইটার প্রথম সন্ধান পাই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত ওয়াইডনার লাইব্রেরিতে, সেই ১৯৯৫ সালে।
এবারে বইটা নিয়ে কয়েকটা কথা বলে নেই। যদিও বইটির শিরোনামে মার্কসের নাম জাহিরী ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত, সেখানে ফুকো সরাসরি মার্কস নিয়ে কথা বলেছেন খুবই কম। বরঞ্চ ফুকোর বয়ান আবর্তিত হয়েছে ফরাসি মুলুকের মার্কসবাদী ঐতিহ্যকে ঘিরে; সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও টানাপড়েনকে ঘিরে এবং সে-সব কিছুর প্রেক্ষিতে তাঁর কাজের রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক তাৎপর্যকে ঘিরেও। বইটাতে ফুকো এই ইঙ্গিতটা দিতেও বাধ্য হন যে, মার্কস ও মার্কসবাদকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো পথ নাই; বরঞ্চ বিশ শতকের প্রায় সব প্রধান ও প্রভাবশালী তাত্ত্বিক বা দার্শনিক কোনো না কোনোভাবে মার্কসের সঙ্গে বোঝাপড়ায় আসতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু এই বইয়ে ফুকো যে মার্কসের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ায় এসেছেন তাও বলা যাবে না, যদিও মার্কসের সঙ্গে ফুকোর কাজের সম্পর্কের একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে, যে-সম্পর্কটা কিছুটা জটিলও বটে।
শুরুর দিককার ফুকো, যে-ফুকোর কাজে কেউ কেউ "কাঠামোবাদী" বা "স্ট্রাকচারালিস্ট" পর্ব চিহ্নিত করে থাকেন (যদিও "কাঠামোবাদী" বর্গটা ফুকোর পছন্দের না), সেই ফুকো তাঁর বিখ্যাত বই _দ্য অর্ডার অফ থিংস্_-এ মার্কসকে কোনো বিপ্লবী চিন্তাবিদ হিসাবে গণ্য করেন নাই (এই বইয়ে ফুকোর নায়ক নীৎশে, মার্কস নন।)। ওই বইয়ে তিনি মার্কসের কাজ আর মার্কসবাদকে সমার্থক করে খুব দ্রুত এই কথাগুলো বলেনঃ "পশ্চিমা জ্ঞানের গভীরতম স্তরে মার্কসবাদ কোনো ছেদ ঘটাতে পারে নাই; কোনো সমস্যা ছাড়াই মার্কসবাদ পশ্চিমা জ্ঞানের পরিসরে জায়গা করে নিতে পেরেছে... এমন এক জ্ঞানতাত্ত্বিক আয়োজনের ভেতর দিয়ে, যে আয়োজন মার্কসবাদকে আনন্দে আহবান করেছে আর মার্কসবাদ সেই আয়োজনকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে সামান্যতম আগ্রহ দেখায় নাই" (পৃ. ২৬১)।
দেখা যাচ্ছে, ধ্রুপদী রাজনৈতিক অর্থনীতির অভূতপূর্ব তুমুল ক্রিটিক হাজির করার ভেতর দিয়ে মার্কস যে রাজনৈতিক অর্থনীতির পাঠে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন তা ফুকোর মনোযোগ কাড়তে পারে নাই। না পারারই কথা। মার্কস যে কেবল ইউরোপীয় আলোকায়ন প্রকল্পের সন্তান ছিলেন তা তো নয়; বরঞ্চ তিনি ওই প্রকল্পের বুর্জোয়া রাজনীতির বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছিলেন সবকিছুর খোলনলচে পাল্টে দেয়ার জন্য। এই বিষয়টা শুরুর দিককার বা 'কাঠামোবাদী' ফুকো আমলে যে আনেন নি, তা তো আগেই লক্ষ করলাম। ফুকোর এই ফাঁক ও ফাঁকি এর মধ্যে অবশ্য ধরিয়ে দিয়েছেন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার একাধিক মার্কসবাদী তাত্ত্বিক--বিশেষভাবে বলা যাবে ভারতীয় মার্কসবাদী তাত্ত্বিক এজাজ আহমদ ও ফিলিপাইনি মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ই স্যান উয়ানের কথা। তৃতীয় বিশ্বে ফুকোসহ অনেক "উত্তরবাদী"র সমালোচনা আরেক এলাকায় আমাদের মনোযোগ দাবি করে, কিন্তু আমি এখন সেদিকে যাচ্ছি না।
তবে জোর দিয়েই বলা যাবে যে, থেকে থেকে মার্কসকে নিয়ে ফুকোর ধারণা বদলে গেছে। ফুকোর _দ্য অর্ডার অফ থিংস_-পরবর্তী কাজগুলোতে মার্কস তুমুলভাবে না হলেও কোনো না কোনোভাবে হাজির হয়েছেন। বোঝা যায়, এড়াতে চাইলেও মার্কসকে এড়াতে পারছেন না ফুকো। তাইতো তাঁর পরবর্তী কাজ _দ্য আর্কেওলজি অফ নলেজ_-এ ফুকো নির্দ্বিধায় বলে উঠেনঃ "রাজনৈতিক অর্থনীতির ভিত্তিতে মার্কস সম্পূর্ণ নতুন বয়ানের চর্চাকে সামনে এনেছেন" (পৃ. ১৮৮)। কিন্তু ফুকো এখানেই থামেন নাই; তাঁর বেশ পরের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী কাজ _পাওয়ার / নলেজ_-এ ফুকো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হনঃ " মার্কসের চিন্তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত ধ্যানধারণার বিভিন্ন ব্যবহার ছাড়া এবং মার্কস-নির্দেশিত চিন্তার দিগন্তে নিজেকে কোনো না কোনোভাবে স্থাপন না করে বর্তমান সময়ে ইতিহাস লেখা অসম্ভব" (পৃ. ৫৩)।
এখানে ফুকো যে মার্কসের কথা বললেন তাকে ফুকোবাদীরা যে সবসময় চিনতে পেরেছেন তা বলা যাবে না, যদিও এই মার্কসকে চিনে রাখা দরকার।
[চলবে]