Primary Education Research Center

Primary Education Research Center

Share

First Bangladeshi Primary Education Research Center. The role of primary education is to ensure broad based learning of the child.

This includes development of social, cognitive, cultural, emotional and physical skills Strategies to be undertaken in pre-primary education:

1. Giving education through the use of colour, picture, demonstrations, mimes and other interesting ways,

2. As they are tender-aged, special care should be taken to teach them, keeping them in a free environment.

3. The teacher or instructors should try

04/05/2021

অন্য আলো: জন্মশতবর্ষে সত্যজিৎ
সত্যজিতের নারীরা, নারীকে যেভাবে দেখেছেন সত্যজিৎ
সাহিত্যে আর সেলুলয়েডে সত্যজিতের নারীদের ব্যাপ্তিতে বিশাল ফারাক। সাহিত্যে যেখানে তিনি নারীত্বকে একরকম অস্বীকারই করে গেলেন, সেখানে তাঁরই হাত ধরে রুপালি পর্দায় উপস্থাপিত হলো নারীত্বের সত্যতম রূপ। বাংলার কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষে নিজের লেখা ও চলচ্চিত্রে নারীদের কীভাবে দেখেছেন তিনি, তা নিয়ে এক অনবদ্য অবলোকন।
তাবাসসুম ইসলাম
ফারিহা হোসেনের আঁকা সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রের নারী চরিত্রেরা
আমাদের ছোটবেলায় বাঙালি মধ্যবিত্তের বাড়িতে রবীন্দ্র-নজরুল-সত্যজিৎ বড় আপন নাম ছিল। বিশ্বকবি আর জাতীয় কবির সঙ্গে একনিশ্বাসে তৃতীয় ব্যক্তিটির নাম বলা যাবে কি না, সে নিয়ে ইদানীং দ্বিধায় পড়ে যাই। কারণ ‘লোকে কী বলবে?’ প্রশ্নটা সহজেই মাথার মধ্যে মাথাচাড়া দেয়। অবশ্য যে শৈশবের কথা বলছি, তখন এমনটা হতো না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম তখন আরও একটু ভারী নাম, তাতে ‘বড় হলে বুঝব’ ট্যাগটা প্রায় স্বপ্রণোদিত হয়েই দিয়েছিলাম। তাই সত্যজিৎ রায় দীর্ঘদিন ‘আপনার চেয়ে আপন যেজন’ হয়ে রয়ে গেলেন। অন্তত শৈশবের সমস্তটা আর কৈশোরের অর্ধেকটাজুড়ে।
কিন্তু তারপর? তারপর আসলে প্রশ্ন করতে শিখলাম। তোপসের মা কোথায়? ২১, রজনী সেন রোড। লেখক বলছেন, বিখ্যাত এই ঠিকানায় ফেলুদা তার কাকার বাড়িতে কাকার পরিবারের সঙ্গেই থাকে। তবে সে বাড়িতে কোনো নারী সদস্য নেই কেন? এমনকি লালমোহনবাবুর জীবনেও নারীর অস্তিত্ব নেই। মা, বোন, স্ত্রী—কেউ না। অন্তত তাঁর কথায় তাদের কাউকে পাওয়া যায় না। জটায়ু বাবার কথা বলছেন, ‘গোরস্থানে সাবধান’-এ ঠাকুরদা প্যারীচরণ গাঙ্গুলির কথা বলছেন, এমনকি এথিনিয়াম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক বৈকুণ্ঠ মল্লিক ও তাঁর কাব্যপ্রতিভার প্রতি জটায়ুর মুগ্ধতার কথাও বেশ কয়েকবার প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু মাঝবয়সী এই রহস্য ঔপন্যাসিকের জীবনে কোনো নারীর প্রভাব বা অস্তিত্ব সম্পর্কে লেখক আমাদের কিছু বলেননি।
তবে কি রহস্য অনুসন্ধানে আর রহস্য কল্পনার পথে নারীকে অন্তরায় বা অপাঙক্তেয় বিবেচনা করেছিলেন লেখক? নাকি প্রিয় লেখক আর্থার কোনান ডয়েলের সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র শার্লক হোমস-ওয়াটসনের আদলে গড়তে গিয়েই ফেলুদা-তোপসে-জটায়ুকে নারীবিবর্জিত রেখেছেন তিনি? অন্যান্য বাঙালি গোয়েন্দার ক্ষেত্রে কিন্তু এমনটি হয়নি। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর কেয়াতলার বাড়িতে স্ত্রী সত্যবতী স্পষ্ট, বিরাজমান হিসেবেই লক্ষণীয়। নীহাররঞ্জন গুপ্তের গোয়েন্দা চরিত্র কিরীটী রায়েরও স্ত্রীর পরিচয় পাওয়া যায়। হ্যাঁ, তবে এ কথাও সত্যি, ব্যোমকেশের স্ত্রী সত্যবতী বা কিরীটী রায়ের স্ত্রী কৃষ্ণা—কেউই মূল কাহিনির সঙ্গে খুব একটা সম্পর্কিত নয়।
সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট আরও দুই অমর চরিত্র প্রফেসর শঙ্কু আর তারিণীখুড়ো। এই নিভৃতচারী বিজ্ঞানী আর মজলিশি বৃদ্ধ—কারও অভিজ্ঞতাতেই আমরা কোনো নারী চরিত্রের আভাস পাই না। এদিক থেকে বরং ফেলুদার গল্প-উপন্যাসকে খানিকটা ব্যতিক্রম বলা যায়। ‘ছিন্নমস্তার অভিশাপ’-এ শিক্ষিত-রুচিশীল গৃহিণী নীলিমা দেবী, ‘শকুন্তলার কণ্ঠহার’-এ অভিনেত্রী শকুন্তলা দেবী, সংবেদনশীল প্যামেলা সুনীলা ও মেরি শীলা, ‘জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা’য় আবহমান সনাতন বাঙালি চরিত্র ঠাকুমার কথা উল্লেখিত হয়েছে। বইগুলোতে তারা মুখ্য না হলেও রহস্যের সঙ্গে বেশ গভীরভাবেই জড়িত।
ফেলুদাকে নিয়ে লেখা হয়েছে ৩৯টি গল্প-উপন্যাস। তাতে নারীত্বের এই এতটুকুন ব্যাপ্তি আমাদের ঠিক সন্তুষ্ট করে না, তবে আমরা বোধ হয় খানিকটা আশ্বস্ত হই। হাঁপ ছেড়ে বলি, যাক! সে ব্রহ্মাণ্ডে অন্তত নারীর অস্তিত্ব আছে! ১০০টির বেশি ছোটগল্প লিখেছেন সত্যজিৎ রায়। সেগুলো যে মানে-গুণে-মুগ্ধকরণে নিজেরাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। শুধু নারীত্বের উপস্থিতি নিয়ে যে আক্ষেপটা ফেলুদা-প্রফেসর শঙ্কু-তারিণীখুড়োর গল্প-উপন্যাসে ছিল, সেটি এখানেও রয়ে যায়। ‘পিকু’ আর ‘ময়ূরকণ্ঠী জেলী’—মাত্র দুটি গল্পে আমরা নারী চরিত্রের উপস্থিতি দেখি। উল্লেখ্য, দুটোই বড়দের জন্য লেখা ছোটগল্প।
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
দুই
কিন্তু ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে সত্যজিৎ রায় যেন হয়ে গেলেন ভিন্ন এক মানুষ। ভীষণ সাবলীলভাবে রুপালি পর্দায় ফুটিয়ে তুললেন নারীর অনুভব আর টানাপোড়েন, আকাঙ্ক্ষা আর অভিলাষের গল্প। নারীত্বের বোধকে খুব ভালো করে উপলব্ধি না করলে অমন সাবলীলতা অর্জন করাও অসম্ভব। ভারতীয় ও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নারীত্বের এমন সূক্ষ্ম ও সহজাত প্রকাশ আগেও হয়নি, বর্তমানেও হচ্ছে না।
ইতিহাসের কথা যেহেতু বলছিই, তবে একটু পেছন ফিরে দেখা যাক। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যখন নির্বাক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এ অঞ্চলে চলচ্চিত্রশিল্পের উৎপত্তি ঘটল, তাতে নারী চরিত্রগুলো ছিল পুরোপুরি আলংকারিক। সবাক চলচ্চিত্রের যুগেও নারী হয়ে গেল সৌন্দর্যের উপাদান। অতীতে তো বটেই, এখনো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দর্শকদের কথা ভেবে চলচ্চিত্রে নারীর যে চিত্রায়ণ, তাতেও তারা বড় সীমাবদ্ধ। ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগালের কথায়ও সে আভাসই পাওয়া যায়, ‘মমতাময়ী মা, পরিবারের জন্য আত্মত্যাগ করা স্ত্রী, অভিমানী প্রেমিকা বা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক—আমাদের চলচ্চিত্রে নারীর ব্যাপ্তি ছিল এই এতটুকুই। সামাজিক ও পারিবারিক ভূমিকার বাইরে যে আমরা নারীকে মানুষ হিসেবে “দেখতে” ও “দেখাতে” ব্যর্থ হয়েছিলাম, এটাও তো নারীর প্রতি বঞ্চনা।’ এমনকি এখনো বেশির ভাগ নারীপ্রধান চলচ্চিত্রে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেড়ে ওঠা দর্শককুলের মন রাখতেই চেষ্টা করছেন পরিচালকেরা। যুগের পর যুগ ধরে নারীরা ‘টাইপকাস্ট’ হচ্ছে চলচ্চিত্রে। দেবী বা অতিমানবী হিসেবে নারীকে পর্দায় তুলে ধরছেন কেউ কেউ। কিন্তু তাতেও নারীর ক্ষমতার চেয়ে তাকে পুরুষের পছন্দনীয় করে উপস্থাপন করাই যেন বেশি জরুরি। সেই ধারা বজায় রাখতে গিয়ে এ অঞ্চলের চলচ্চিত্রে যোগ হয়েছে আরও একটি সংকীর্ণ প্রথা। ভারতীয় চলচ্চিত্র গবেষক ও সমালোচক সোমা চ্যাটার্জির কলামে উঠে এল সে কথাই, ‘একটু খেয়াল করে দেখবেন, উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্রে নারীরা প্রধানত দুরকম। এক, নম্র-ভদ্র, স্নিগ্ধ-সুন্দর, আত্মত্যাগী নারী। তার চরিত্রে ভুল বা দোষের কোনো অস্তিত্ব নেই। দুই, রুক্ষ, কর্কশ ও বাহ্যিকভাবে অসুন্দর নারী। তার চরিত্রে ভুল বা দোষের শেষ নেই। এ চরিত্রগুলো নিজে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং ভুল করছে এমনটা দেখানোর প্রবণতাও আছে।’ অর্থাৎ নারী চরিত্রের গভীরতা ও তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারটি আবারও উপেক্ষিত হলো। তাকে বেঁধে ফেলা হলো ‘ভালো’ ও ‘খারাপ’-এর বেড়াজালে।
উপমহাদেশীয় সিনেমায় নারী চরিত্রকে এই সংকীর্ণভাবে উপস্থাপনের রীতিকে দুর্দান্তভাবে অতিক্রম করেছে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা। প্রথম চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’(১৯৫৫) থেকেই নারীকে তিনি উপস্থাপন করলেন রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে। দর্শক বিস্ময় নিয়ে দেখল ব্রাহ্মণ গৃহিণী সর্বজয়া মমতাময়ী মা বটে, তবে তার চরিত্রেও স্বার্থপরতা আছে। আমরা অভাবের তাড়নায় জর্জরিত সর্বজয়াকে যেমন দেখলাম, তেমনি দেখলাম তার দৃঢ়তাকেও। সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাই তাঁরই সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রজগতে যাত্রা শুরু করা বিশিষ্ট অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর লেখেন, ‘“মেলোড্রামা”কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ঋত্বিক ঘটক। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে তাঁর নারী চরিত্ররা সে যুগের হিন্দি ছবির নারীদের মতোই “মাতৃরূপী দেবী” হয়ে উঠত। মানিকদার (সত্যজিতের ডাকনাম) সঙ্গে এখানেই তফাতটা স্পষ্ট—সর্বজয়াকে তিনি না দিলেন কোনো উচ্চকিত সংলাপ, না দিলেন নাটকীয় ভঙ্গিমায় “সেলফ-পিটি” বা নিজের ওপর করুণা করার অবকাশ। এমনকি তার অবিচলতার গুণগানও হলো না। তবু তার চাহনি, মুখভঙ্গি দেখে দর্শক বুঝে গেল তার যন্ত্রণা ও আক্ষেপের কথা।’
সত্যিই, সত্যজিতের নারী চরিত্রেরা বিচিত্র সাজপোশাকে হাজির হয়ে, বড় বড় বক্তৃতার মতো মনোলগ দিয়ে নারীমুক্তির কথা বলে না। তাই হয়তো নারীর বঞ্চনা, তীব্র দুঃখবোধের বাস্তবিক প্রকাশ দর্শকমনে পৌঁছায় সহজেই। শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত তাঁর ‘দেবী’ সিনেমাটি যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা হয়তো ব্যাপারটি আরও ভালো করে বুঝতে পারবেন। জমিদার কালীকিঙ্কর রায় স্বপ্নে তাঁর ছোট বউমা দয়াময়ীর মধ্যে দেবী দর্শন লাভ করলেন। পরদিন সকালে কালীভক্ত শ্বশুর প্রণাম করতে যখন তার সামনে ঝুঁকে পড়লেন, দয়াময়ী মুখে কোনো শব্দই করল না। আমরা শুধু দেখলাম প্রণামোদ্যত শ্বশুরের সামনে তার পায়ের আঙুলগুলো কুঁকড়ে আসার দৃশ্য, সহসা দেয়ালের দিকে ঘুরে গিয়ে নখ দিয়ে দেয়াল আঁচড়ে দেওয়ার দৃশ্য আর শর্মিলা ঠাকুরের চেহারাজুড়ে গভীর শূন্যতা। এই এক মিনিটের দৃশ্যেই একদম বিনা বাক্যব্যয়ে দয়াময়ী বলে দিল তার হতাশা ও ক্ষোভের কথা, বুঝিয়ে দিল পুরুষতান্ত্রিকতা আর ধর্মান্ধতার আরোপিত নিয়মের সামনে সে কী ভীষণ অসহায়!
বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বলতে পারি, বিমলা, চারুলতা থেকে শুরু করে আরতি, অদিতি—এদের সবাই আজও বড় বেশি প্রাসঙ্গিক। ব্যক্তিগত মতাদর্শের অমিল থাকায় বিমলার মতো অনেককেই ভুগতে হয় চরম সিদ্ধান্তহীনতায়। আজও অনেক বাড়িতেই গৃহকর্তার ভূমিকায় আটকে থাকেন স্বামীরা আর নারীদের বিচরণক্ষেত্র ঘর থেকে উঠান, উঠান হয়ে ঘর। ফলে একাকিত্ব আজও উপমহাদেশের নারীদের সঙ্গী।
তিন
সত্যজিৎ রায় দীর্ঘদিন মনোক্রোমাটিক ছবি বানিয়েছেন সত্যি, তবে মানুষ যে মনোক্রোমাটিক নয়, সে সত্য তিনি ভালোভাবেই জানতেন। অন্যদের মতো তিনি পরিচালক বা চিত্রনাট্যকার হিসেবে নারী চরিত্রের ওপর ভুল বা ঠিকের ‘লেবেল’ বসিয়ে দেননি। তিনি নারীকে দেখেছেন মানুষ হিসেবে আর সাদরে গ্রহণ করেছেন মানবমনের ধূসর অঞ্চলকে। তাই একদিকে ‘অপুর সংসার’(১৯৫৯)-এ তিনি স্বামীর প্রতি অপর্ণার নিখাদ ভালোবাসাকে সুনিপুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। আবার স্বামী-সন্তানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা নিয়েও সীমাবদ্ধ (১৯৭১) সিনেমার দোলনকে যখন আমরা উচ্চ জীবনমানের স্বপ্নে বিভোর হতে দেখি, তার প্রতি আমাদের নেতিবাচক মনোভাব জন্মায় না। বরং দোলনের এই উচ্চাভিলাষিতাকে স্বাভাবিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই মনে হয়। অথচ অন্য কোনো পরিচালকের হাতে পড়লে এই দোলন চরিত্রটি হয়তো লোভী, কুচক্রী নারীর অভিধা নিয়ে উপস্থাপিত হতো। মানবচরিত্রের যেকোনো দিককে এমন সহজ, স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরার গুণটি নিঃসন্দেহে সত্যজিৎ রায়ের নির্মাণশৈলীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’।
উপমহাদেশের চলচ্চিত্রে বেশির ভাগ সময়েই নারীর চাওয়া-পাওয়া ঢাকা পড়ে যায় লজ্জাবনত চোখে বা আত্মত্যাগের মহিমায়। আর সাম্প্রতিক সময়ে যখন কেউ কেউ প্রথা ভেঙে নারীর চাহিদার কথা, বিশেষত যৌন আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেছেন, তখন সেখানে শিল্পসম্মত উপস্থাপন পাওয়া যায় কি না, সে নিয়ে প্রচুর বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। অথচ ১৯৭০ সালে নির্মিত ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’তেও সত্যজিতের নারী চরিত্রেরা তাদের ইচ্ছা ও বাসনার প্রকাশে কী দারুণ স্পষ্ট। সেখানে আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখি, মাত্র তিন মিনিটের দৃশ্যে কোনো লাস্যময়তা ছাড়াই যুবতী, বিধবা অপর্ণা বুঝিয়ে দিচ্ছে তার একাকিত্ব ও কামনার কথা। অপর্ণা মা ও পুত্রবধূ, বুদ্ধিমান ও রহস্যময়ী। কিন্তু তার যৌন আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হওয়ার পরও সে চরিত্রে নেতিবাচকতার লেশমাত্র পাওয়া যায় না। যাঁরা বলবেন শিক্ষিত, মার্জিত নারী চরিত্র বলেই অপর্ণার চরিত্রে অমন অশিষ্টতা পাওয়া যায় না, তাঁদের বলি, একই চলচ্চিত্রের দুলি চরিত্রটিকে দেখুন। সাঁওতালকন্যা দুলি সদ্য পরিচিত অতিথির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছে বলেই পরিচালক তাকে অকারণ অশ্লীলতার মোড়কে মুড়ে দেননি। বরং সত্যজিৎ রায়ের শিল্পবোধের সূক্ষ্মতা ও পরিমিতিবোধের চমৎকার প্রমাণ হয়ে থাকে হরি-দুলির ঘনিষ্ঠ দৃশ্যটিই। সত্যজিৎ-অনুরাগী ঋতুপর্ণ ঘোষ তাই তাঁর পর্যবেক্ষণ থেকে লেখেন, ‘নগ্ন দেহ আর নগ্নীকরণের মধ্যে যৌন অনুষঙ্গের ঘনত্বের মাত্রার যে তফাত, তা যেন সচেতনভাবে বুঝে, অনুভব করে তবেই হরি তার পোশাক খোলে—দুলি বরাবরই অনাবৃতা স্কন্ধ, তার পোশাক উন্মোচনের উত্তেজনা দর্শকের চোখে পৌঁছতে দেন না পরিচালক।’

অনেকগুলো নির্দিষ্ট সময়কালনির্ভর সিনেমা বানিয়েছেন সত্যজিৎ রায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘ঘরে-বাইরে’র পটভূমিকায় দেখা যায় ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, ‘চারুলতা’র প্রেক্ষাপটও সেই ব্রিটিশশাসিত ভারত। আবার ‘মহানগর’ নির্মিত হয়েছে ষাটের দশকের এক নারী ও নাগরিক জীবনকে কেন্দ্র করে। তবু এখনো ঠিক কতটা প্রাসঙ্গিক সত্যজিতের নারী চরিত্রেরা?
বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বলতে পারি, বিমলা, চারুলতা থেকে শুরু করে আরতি, অদিতি—এদের সবাই আজও বড় বেশি প্রাসঙ্গিক।
ব্যক্তিগত মতাদর্শের অমিল থাকায় বিমলার মতো অনেককেই ভুগতে হয় চরম সিদ্ধান্তহীনতায়। আজও অনেক বাড়িতেই গৃহকর্তার ভূমিকায় আটকে থাকেন স্বামীরা আর নারীদের বিচরণক্ষেত্র ঘর থেকে উঠান, উঠান হয়ে ঘর। ফলে একাকিত্ব আজও উপমহাদেশের নারীদের সঙ্গী। চারুলতার মতো অপেরাগ্লাস হাতে হয়তো তারা বাইরের পৃথিবী দেখেন না, তবে পৃথিবী দেখবার সুযোগ তাঁদের জন্যও সামান্যই! আরতি যে দৃশ্যে প্রথম উপার্জনের টাকাগুলো নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালেন, সে দৃশ্যটার কথাও একটু মনে করুন। সংসার না কর্মক্ষেত্র—এ নিয়ে আরতির মনে যে সংঘাত, সে তো আজকের কর্মজীবী নারীদের প্রত্যেকের টানাপোড়েন। উপার্জন শুরু করার পর থেকে যে নিজের সংসারেই বদলে গেল আরতির অবস্থান, প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলো তার সিদ্ধান্ত—এ দৃশ্য আজকের নারীরা ভুলে যাবেন কী করে? পরনির্ভরশীলতার শিকল ভাঙাই যে প্রকৃত ক্ষমতায়ন, তা তো উপমহাদেশীয় সমাজে এক স্পষ্ট সত্য। একইভাবে সত্য হয়ে ফিরে আসে অদিতিরা। তারা শিক্ষিত, আধুনিক, বুদ্ধিমতী। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাদের যতই অভিমান আর প্রেমের গোলাপি আতশ কাচের নিচে রেখেই দেখুক না কেন, এই নারীরা তাঁদের সীমা জানেন, মিষ্টতা বা শিষ্টতা কোনোটাই তাঁদের বোধবুদ্ধিহীন করে দেয়নি। এ যুগের অদিতিরাও হয়তো ‘মনে রেখে দেব’ বলে নেমে যায় ট্রেনের কামরা থেকে।
সাহিত্যে আর সেলুলয়েডে সত্যজিতের নারীদের ব্যাপ্তিতে বিশাল ফারাক। সাহিত্যে যেখানে তিনি নারীত্বকে একরকম অস্বীকারই করে গেলেন, সেখানে তাঁরই হাত ধরে রুপালি পর্দায় উপস্থাপিত হলো নারীত্বের সত্যতম রূপ। ব্যক্তিজীবনে মা ও স্ত্রী, অর্থাৎ খুব কাছের দুই নারীকেই পেয়েছেন সংগ্রামী ও সাহসী সঙ্গিনী হিসেবে। তাই হয়তো একজন সত্যজিৎ বিনা দ্বিধায় বলতে পারেন, ‘দৈহিক দিক দিয়ে পুরুষদের মতো শক্তিশালী না হলেও প্রকৃতি নারীদের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারে। তারা অপেক্ষাকৃত বেশি সৎ, অকপট এবং অনেক দিক দিয়েই বেশি শক্তিশালী।’

21/04/2021
09/03/2021

ফিরে দেখা: সে বজ্রকণ্ঠ এখনো লীন হয়ে যায়নি
ড. এ কে আব্দুল মোমেন

মার্চ ০৭, ২০২১

আমার মনে পড়ে ৩ মার্চ তৎকালীন বাংলাদেশের সত্যিকার রাষ্ট্রনায়ক, যার আদেশে গাড়ি-ঘোড়া চলে, ব্যাংক চলে, অফিস-আদালত চলে, যার আদেশে লোকজন অফিসে যায়, সেই মহাপুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর রোডে যখন উপস্থিত হয়, তখন অনেকের হাতে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত (স্বাধীনতার পর তা পরিবর্তিত হয়) লাল-সবুজ পতাকা এবং অনেকেই তখন ‘স্বাধীন বাংলাদেশের’ স্লোগান দিচ্ছিলেন, তার সঙ্গে আমরাও শামিল হই। মেজর জিয়া ৩ তারিখ নয়, ২৬ তারিখ রাতে স্বাধীনতার সংগ্রামে শরিক হন। আমাদের অনেক পরে।

৭ মার্চ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে একটি সমাবেশ হয় এবং তাতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। দুপুর থেকেই আমরা যখন বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক রেসকোর্সের বক্তৃতা শোনার জন্য জমায়েত হই, তখন ওপরে বারবার সামরিক হেলিকপ্টার ও বিমান চলে এবং আমরা তখন নিশ্চিত যে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেবেন। আমাদের আশা কিন্তু তিনি পূরণ করেন। তার অপূর্ব বলিষ্ঠ ভাষণের প্রতিটি শব্দ আমাদের হূদয় পুলকিত করে, রক্ত গরম করে, স্বাধীনতার দৃঢ় প্রত্যয়ে আমরা উজ্জীবিত হই। তিনি অর্বাচীনের মতো বলেননি, ‘আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলাম।’ তার পরিবর্তে তিনি বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ শুধু তাই বলে ক্ষান্ত হননি। তিনি আরো বলেন, ‘...আপনারা জানেন ও বোঝেন...মনে রাখবা আমি যদি তোমাদের হুকুম দিতে নাও পারি, তোমাদের যা যা আছে তা-ই দিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করো। ...ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো।’ বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা আইনের মারপ্যাঁচে হুবহু না দিলেও ‘আখলবন্ধ’ স্বাধীনচেতা সংগ্রামী বাঙালিদের কীভাবে কী করতে হবে, তার নির্দেশনা দিয়ে যান। ‘আমি যদি হুকুম দিতে নাও পারি...’—বক্তব্যের মধ্যে তিনি জাতিকে সজাগ করে দেন যে তাকে যদি পাকিস্তানি বাহিনী হত্যা করে বা কারারুদ্ধ করে তখন আমাদের কী করতে হবে। ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো...যার যা কিছু আছে তা-ই দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে...এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম...।’ আনুষ্ঠানিকভাবে এক ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ না বললেও তার ভাষণে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য কী কী করা প্রয়োজন, তার সব ইঙ্গিত ও নির্দেশনা এতে রয়েছে।

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিলে আমি যখন আমাদের সিলেটের বাসার সামনে পাক-সেনানীর কড়া হুকুম ‘যার বাসার সামনে ব্যারিকেড তৈরি হবে সে বাড়িটি ধ্বংস করে দেয়া হবে’ উপেক্ষা করে ব্যারিকেড তৈরি করি, তখন জিয়া সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, না হান্নান সাহেব দিছেন, না যদু-মধু দিয়েছেন, তা আমাদের মোটেই ধর্তব্য ছিল না। কেউ না দিলেও আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যেতাম। কারণ ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু আমাদের স্পষ্টত নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, ‘...যার যা কিছু আছে তা-ই দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করো।’ সিলেট শহরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় আমাদের বাড়ি থেকে ৪ এপ্রিলে, ওইদিন বিকালে বাড়ি থাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর গুলি চালালে তারা আমাদের বাড়িটি মর্টার দিয়ে ধ্বংস করে দেয়। তখন আমাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইপিআর বাহিনীর ডজনখানেক বাঙালি বীর সন্তান। এর আগের দিনে তাদের যখন বলা হয়, তাদের হাতিয়ার জমা দিতে, তারা ইপিআরের ছাউনি থেকে পালিয়ে এসে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তাদের কেউই তখন জানে না স্বাধীনতার ঘোষণা কেউ দিয়েছে কিনা, তবে তারা জানে স্বাধীনতা ছাড়া বাঙালির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এর পেছনে যার নেতৃত্ব সর্বোচ্চ, তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

বঙ্গবন্ধুর প্রগাঢ় রাজনৈতিক ধীশক্তি ও প্রজ্ঞা থাকায় তিনি তার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বক্তৃতায় এক অপূর্ব সম্মিলনী সৃষ্টি করেছেন। এই ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতাকামী সব বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্যাতন হলে বা তাকে বন্দি করলে সঙ্গে সঙ্গেই স্বাধীনতার যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে। তবে সরকার যদি তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে চিত্রিত করে ফাঁসি দেয়ার পাঁয়তারা করে তাহলে এ বক্তৃতা তাদের হতাশ করবে। যেসব বাংলাদেশী পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন, তাদের কাছে এ বক্তৃতা ‘স্বাধীনতার ইঙ্গিত’ নয়, তারা তাদের তালে এর তফসির করে।

১৯৭১ সাল। ২২ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদ, মোল্লা জালাল উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের গোলাম সারওয়ার প্রমুখ ইমার্জেন্সিতে আসেন আহত কর্মীদের দেখতে। মেডিকেল হাসপাতালের বারান্দায় তার সঙ্গে দেখা, জিজ্ঞাসা করলাম কিসের জন্য এসেছেন। বললেন, ‘আহত কর্মীদের দেখতে এসেছেন।’ তাজউদ্দীন সাহেবের সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডির গোলটেবিল বৈঠকে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানোর জন্য ‘গোলটেবিল’ বৈঠকের আয়োজন করেন এবং বঙ্গবন্ধু তাতে যোগদান করেন। ছাত্র-জনতার প্রবল দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। আমি তখন রাওয়ালপিন্ডিতে ইসলামাবাদ ইউনিভার্সিটির ছাত্র। আমরা তখন ওখানে মাত্র ছয়জন বাংলাদেশী ছাত্র। এদের মধ্যে সহপাঠী ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ (পরবর্তী সময়ে কেয়ারটেকার সরকারের উপদেষ্টা), আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (এরশাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), ড. মাহমুদুল ইসলাম (বিআইডিএস) ও এহতেশাম চৌধুরী (শিল্পপতি)। তাছাড়া ছিলেন অংক বিভাগে চাটগাঁর ড. মাসুম ও পদার্থবিদ্যা বিভাগে সিলেটের বদরুজ্জামান। বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত সংবর্ধনা দেয়ার জন্য আমি একটা ব্যানার তৈরি করি এবং তাতে লিখি—‘স্বাগতম বঙ্গশার্দূল শেখ মুজিবুর রহমান’। পাকিস্তানে যাওয়ার পর পাকিস্তানিদের ব্যবহারে আমাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন আমাদের ‘একমাত্র শক্তি, একমাত্র সাহস’। বঙ্গবন্ধুর শত্রুর সংখ্যা তখন পাকিস্তানে অনেক। তাই তার নিরাপত্তার জন্য তাদের কার্গো দিয়ে বের করে নেয়া হয় এবং প্লেনের সদর দরজা দিয়ে মিজানুর রহমান চৌধুরী বের হন। হাজার হাজার অভ্যাগত তাকেই বঙ্গবন্ধু মনে করে স্বাগত জানায়। রাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডির ‘ইস্ট পাকিস্তান হাউজে’ দেখা করি, তখন রাওয়ালপিন্ডিতে ঘটা করে একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান করছিলাম এবং এতে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান অতিথি হতে অনুরোধ করলে তিনি তাত্ক্ষণিক রাজি হন। অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্থানীয় টিভিতে একুশের অনুষ্ঠানের একটি অ্যাড দিতে বাধাপ্রাপ্ত হলে অনেকের কাছে গিয়ে ব্যর্থ হই। খাজা শাহাবুদ্দিন তখন তথ্যমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুকে ঘটনাটি বললে তিনি তাত্ক্ষণিক খাজা শাহাবুদ্দিনকে ফোন লাগাতে বলেন। পরের দিন সকালে সৈয়দ নজরুল ইসলাম খাজা সাহেবের সঙ্গে আলাপ করলে আমাদের একুশের অ্যাডটি দেয়ার অনুমতি মিলে। রাওয়ালপিন্ডির গোলটেবিল চলাকালে বঙ্গবন্ধু ও তার দলের সার্বক্ষণিক সহকারী হিসেবে উপস্থিত থাকায় তাজউদ্দীন সাহেবের সঙ্গেও পরিচয় ঘটে ঘনিষ্ঠভাবে। বঙ্গবন্ধুর উদারতা ও বাঙালি প্রেম আমাকে মুগ্ধ করে।

তাজউদ্দীন সাহেব জানালেন, ইয়াহিয়া-মুজিব আলোচনা খুব উত্তম নয়। তার কথার ভঙ্গিতে বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে অবস্থা খারাপ হতে পারে, তিনি বিশেষ করে শিশুদের ঢাকার বাইরে নিয়ে যেতে উপদেশ দিলেন। সুতরাং পরের দিন ২৩ মার্চ বড় বোনদের সন্তানদের নিয়ে সিলেটে পাড়ি দিই এই আশায় যে ঢাকায় যদি আন্দোলন চলে, সিলেটে হয়তো কম হবে। তাছাড়া আমার বস ছিলেন তখন এক উর্দুভাষী পাঞ্জাবি—১ মার্চের পর থেকেই কাজে ঠিকমতো যাচ্ছি না, তার জন্য তিনি অসন্তুষ্ট ও সন্দেহের চোখে দেখছেন। মূলত ১ মার্চের পর থেকে অফিস-আদালত বাদ দিয়ে আমি তখন সার্বক্ষণিক সভা-শোভাযাত্রা নিয়েই মহাব্যস্ত।

২৫ মার্চের বিভীষিকাময় ঢাকার হত্যাযজ্ঞ আমি দেখিনি। তবে পরের দিন সিলেট থমথমে ভাব, ঢাকার খবরাখবর নেয়ার জন্য আমরা হন্তদন্ত হয়ে অস্থিরতা করছি। ২৭ মার্চ খবর পেলাম যে বঙ্গবন্ধু পাকসেনার হাতে বন্দি হওয়ার আগে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।

স্বাধীনতার জনক একজনই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার সাড়ে সাত কোটি জনতা একজনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপ দেয়। তিনি হচ্ছেন বাংলার গৌরব। বাংলার শ্রেষ্ঠ পুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।



ড. এ কে আব্দুল মোমেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

07/03/2021

সমাজে বিরজমান বৈষম্যগুলো নিরসন করতে পারলে, সকলের জন্য সমান সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে সকলেই যোগ্য এবং দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতি এ সমাজ এখনো মানবিক নয়। প্রতিনিয়ত তাদের শোষণ বঞ্চনা অবহেলা ঘৃণা উপেক্ষা করে বেঁচে থাকতে হয়। তাদেরকে যে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয় তার দায় এই সমাজকেই নিতে হবে। তাদেরকে রাস্তায় ঠেলে দিয়েছে কারা? আমরাইতো।
যে কাজটি হওয়া উচিত ছিলো আরো আগে সেটি হচ্ছে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে। তারপরও যে শুরুটা হল সেটি অনেক ভাল খবর। আমার খুবই প্রিয় বন্ধু Hochemin Islam অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য ইতোমধ্যে উদাহরণ হতে পেরেছেন এবং আরেক বন্ধু Tashnuva Anan Shishir ৮ ই মার্চ ২০২১ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে টেলিভিশনে প্রথম সংবাদ উপস্থাপন করবেন। এছাড়া এবছর তার দুটো সিনেমায় অভিনয় করারও কথা আছে।
তবে আরেকজন ট্রান্সজেন্ডার নুসরাত মৌ অলরেডি একটি নাটকে অভিনয় করে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যে কঠিন পথ অতিক্রম করে এই অবস্থায় নিজেদের উপস্থাপন করতে পেরেছেন তার জন্য আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই।
সরকার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য ইতোমধ্যে কিছু ভাল পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিছু ভোটাধিকার লাভ তাদের জন্য বাড়ি নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। শিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষন পেলে তারাও দেশের জন্য অনেক অবদান রাখতে পারবেন। তবে তার আগে দরকার সমাজের মানুষের মানসিক সুস্থতা; টিটকারি, উপহাস, গীবত বর্জন করে মানবিকতা এবং সভ্যতার শিক্ষা গ্রহণ।- শেখর বালা

07/01/2021

সিডনিতে বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ভারত। এ ম্যাচে চতুর্থ আম্পায়ারের (রিজার্ভ) দায়িত্বে যে থাকবেন, তিনি একজন নারী। তার নাম ক্লেয়ার পোলোসাক।

ছেলেদের টেস্টে এই প্রথম কোনো নারী হিসেবে তিনি আম্পায়ারিং করতে যাচ্ছেন।

যদিও এর আগে ছেলেদের ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ারিং করার রেকর্ড তিনিই করেন। গত বছর উইন্ডহকে আইসিসি ডিভিশন টু নামিবিয়া-ওমান ওয়ানডে ম্যাচে তিনি প্রথম নারী হিসেবে আম্পায়ারিং করেন।

৩২ বছর বয়সী ক্লেয়ার পোলোসাক অস্ট্রেলিয়ার আম্পায়ার।

টেস্টে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, রিজার্ভ আম্পায়ার নিয়োগ করে থাকে সিরিজ আয়োজককারী ক্রিকেট বোর্ড।

সিরিজ এবার অস্ট্রেলিয়ায় হওয়ায় পোলোসাককে সুযোগ দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। আইসিসির আম্পায়ার প্যানেলে মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে বাছাই করে এ সিদ্ধান্ত নেয় সিএ।

02/01/2021

Collected

01/01/2021

দেখতে দেখতে বিদায় নিল গেল টিকে থাকার লড়াইয়ের বছর ২০২০। করোনা ভাইরাস সৃষ্ট মহামারীর সাথে লড়াইয়ে অনেক প্রাণ হারিয়ে গেছে, নতুন প্রাণসঞ্চার ও হয়েছে পৃথিবীতে। লকডাউনের মধ্যিখানেই পথচলা শুরু হয়েছে "Uttara Care" এর।

বিগতবছরের খারাপ সময়গুলোকে শিক্ষনীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে নিয়ে নতুন দশকে পদার্পণ করি এক নতুন অনুপ্রেরণায়। ২০২১ সালে "Uttara Care" আপনাদের সেবায় সম্পুর্নভাবে নিজেদের নিয়োজিত করবে এই প্রত্যয় নিয়ে চলুন ২০২১ কে স্বাগতম জানাই।

🌼"Uttara Care" এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই খ্রিষ্টিয় নববর্ষ ২০২১ ও নতুন দশকের শুভেচ্ছা 🌼

31/12/2020

আংটির ভেতর দিয়ে গলে গেল আস্ত একটি শাড়ি! ঢাকাই মসলিন ফিরিয়ে আনলেন বাংলাদেশের গবেষক-এক্সপার্টরা, এর চেয়ে আনন্দের দৃশ্য আর কী হতে পারে!

পুরো গল্পটিই রুদ্ধশ্বাস দুর্দান্ত। ঢাকাই মসলিনের তুলাগাছ ঠিক কোনটা, কোথায় সেই গাছের বীজ পাওয়া যাবে, কীভাবে তুলা থেকে সুতা হবে, সেই সুতা কীভাবে বুনতে হবে, সেই স্কিল কাদের আছে, কোনরকম তথ্যই শুরুতে ছিল না! এক্সপার্টরা ঘাঁটাঘাঁটি করে একটি স্কেচ তৈরি করলেন তুলাগাছ দেখতে কীরকম, সেই স্কেচ প্রচার করা হল, যদি বন্য অবস্থায় হলেও তুলাগাছটি খুঁজে পাওয়া যায়! কাপাসিয়ায় এক ভদ্রলোক জানালেন এরকম গাছ আছে ওখানে, গবেষকরা নমুনা আনলেন। কিন্তু এটাই যে ঠিক গাছ শিওর হবেন কীভাবে? অরিজিনাল ঢাকাই মসলিনের স্যাম্পল তো হাতের কাছে নেই। বহু যন্ত্রণার পর লন্ডনের মিউজিয়াম থেকে নমুনা আনা হল, ডিএনএ তুলনা করে শিওর হওয়া গেল যে গাছ ঠিকঠাক, সেই গাছ চাষও করা হল রাজশাহীতে। ভালো কথা, কিন্তু তুলা থেকে সুতা হবে কী করে? কুমিল্লায় কারিগর পাওয়া গেল যারা ১০ 'কাউন্টের' মোটা সুতা তৈরি করেন, অথচ দরকার ৫০০ কাউন্ট! সেই সুতা তৈরিতে তিন আঙুলের কারিশমা প্রয়োজন, আর সেই আঙুল হতে হবে একেবারে নরম। কারিগরদের আঙুলে সারারাত লোশন মেখে সকালে সুতা কাটার কাজ করা হল, ধীরে ধীরে একটি দল দাঁড়িয়ে গেল যারা ৩০০ কাউন্টের সুতা তৈরি করতে পারছেন। একেবারে হয়তো মিললো না, কিন্তু কিছু তো এগুলো। এবার শাড়ি বুনবেন কীভাবে? এক্সপার্ট তাঁতি খুঁজে বের করা হল, আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য মাটির গর্তে তাঁত বসানো হল, সুতা বারবার ছিঁড়ে যাওয়া রোধ করার জন্য বালতিতে পানি রেখেও কাজ করা হল। তৈরি হল মসলিনের শাড়ি!

চারদিকে লুটপাট ছাড়া আর কোন খবর শুনি না, এদিকে এই প্রজেক্ট ১৪ কোটি টাকা বাজেট নিয়ে শুরু করে মাত্র সোয়া চার কোটিতে পুরোটা এগিয়ে নিতে পেরেছে, বাকি টাকার সিংহভাগ সরকারকে ফেরতও দিয়েছে। পুরো টিমের সবার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন, ভালোবাসা!

ছবি এবং তথ্য - প্রথম আলো

22/12/2020
19/12/2020

নাসার ফাহাদ আল আব্দুল্লাহ'র মত তনিমাও বাংলাদেশের মাটি-জলে বড় হয়েছেন। যখন তনিমার বয়স ৫ বছর, তার গৃহিণী মা তাকে শুনিয়েছিলেন নাসার মঙ্গলগামি প্যাথফাইন্ডার স্পেসক্রাফটের গল্প। তার পর থেকে এস্ট্রোফিজিক্সের প্রতি আগ্রহ তৈরী হয় তনিমার। বাংলাদেশে যেহেতু সুযোগ নেই, তাই আন্ডারগ্রাজুয়েট করতে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিন ম্যর কলেজে। তার পর থেকে একের পর এক অর্জন। ব্রিন ম্যর কলেজ থেকে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, সেখান থেকে নাসা ও সার্নে ইন্টার্নশীপ ও ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে টিচিং ফেলোর দায়িত্ব তাকে ব্যপক অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বর্তমানে তিনি ডার্টমাউথে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন।

একটি মজার ব্যপার হচ্ছে, তার মায়ের উপদেশ ছিল, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থেকেও যাতে কখনও অ্যালকোহল কনজ্যুম না করেন। তিনি এখন পর্যন্ত তার মায়ের উপদেশ অনুসরণ করেছেন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Diabari Road Uttara
Dhaka