10/05/2026
শরৎচন্দ্রের একটা উক্তি আছে- “যাহারা পল্লীগ্রাম দেখেন নি বা ঐ রেলগাড়িতে পল্লীগ্রাম দেখিয়াছেন- তাহারা অবাক হইবেন।”
অর্থাৎ যারা পল্লীগ্রাম সম্পর্কে সুধারণা রাখেন, তারা গ্রামবাসীর প্রকৃত অবস্থা জানলে অবাক হবে। আমাদের জীবনটাও এমন। প্রত্যেকের সমস্যা ইউনিক। আপনাকে বাইর থেকে সবাই ভালো মনে করতে পারে কিন্তু আপনি কেমন- তা ভালো বলতে পারে আপনার পরিবারের লোক।
তেমনি যাকে আপনি নির্যাতিত মনে করছেন, তিনি নিজেও নির্যাতনকারী হতে পারে। যাকে ভিক্টিম মনে করছেন, সে নিজেও অপরাধী হতে পারে। ফেসবুক লাইফ আর বাস্তব লাইফ তো এক না।
এগুলো সব আল্লাহ জানেন। তিনি জানতেন, মানুষ কী করবে- সামনে কী হবে? তিনি সোশ্যাল মিডিয়া দেখে বিধান দেননি। তিনি কিছু নীতিমালা দিয়েছেন- যার লঙ্ঘন হলে শাস্তি পেতে হবে। সে নর-নারী যে-ই হোক।
আপনার খোদা পপুলিস্ট না। তার ভিউয়ের প্রয়োজন নেই। লাইক কমেন্ট দরকার নেই। কিন্তু আপনার ভিউয়ের প্রয়োজন আছে। যার ফলে আপনার একচেটিয়া বক্তব্য অপরাধীকে আরও অনুপ্রাণিত করতে পারে। প্রকৃত অবস্থা না জেনে অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দিতে পারে।
এই সবকিছুর জন্য আপনাকে জবাব দিতে হবে। এসব কথা কেবল দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু আল্লাহ ন্যায়বিচারক। তিনি সব জানেন। তিনি তো এতটাই ন্যায় বিচারক যে, মা-বাবার দোয়াতে শিখিয়েছেন-
رَّبِّ ارۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّیٰنِیۡ صَغِیۡرًا (হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালনপালন করেছেন। (সুরা বনি ইসরাইল: ২৪)
এখানে ‘যেভাবে’ শব্দটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই শব্দে ‘মা-বাবার দায়িত্ব’ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অভিভাবক সন্তানকে জাহান্নামের উপযোগী করবে, তাদের ভুল শিক্ষা দিবে- আর তারা দোয়া পাবে, বিষয়গুলো এত্ত সহজ নয়। এটাই আল্লাহ তায়ালার ন্যায় বিচারের একটা নমুনামাত্র।