Education of mind light

Education of mind light Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Education of mind light, Education, Darus Salam Road, Dhaka.

14/09/2022

আসসালামু আলাইকুম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম শুরুতে দৃষ্টি জয়ী ভাই বোন সহ সকল এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জানাচ্ছি অনেক অনেক প্রীতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। প্রিয় সুধী দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষা সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজকে এই এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ঘিরেই আমি কিছু কথা বলার চেষ্টা করব দশটি টপিক নিয়ে আপনাদের বিষয়ে বলার চেষ্টা করব নিম্নে একে একে বিষয়গুলো বর্ণনা করা হলো: এক পরীক্ষার পূর্বেই পরীক্ষা সঠিক ভাবে দেয়ার জন্য মনকে স্থির করুন মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষার রুটিনটি পড়ে মুখস্ত করে রাখুন এবং কবে কি পরীক্ষা সেটা মুখস্থ করে নিতে পারেন অথবা ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে দিয়ে রাখতে পারেন অথবা পরীক্ষার রুটিন আপনি আপনার যেকোনো স্থানীয় একটি জায়গায় ঝুলিয়ে রাখতে পারেন অথবা পরিবারের এমন কাউকে আপনার রুটিনটি বলে বা পরিয়ে বা মুখস্ত করিয়ে রাখতে পারেন যে সর্বদাই আপনাকে পরীক্ষার কথাগুলো মনে করিয়ে দিবে কবে কি পরীক্ষা যার ধরুন আপনার যেন কোন পরীক্ষা মিস না হয়ে যায় সে দিকে খেয়াল রাখুন।। দুই যেদিন যে পরীক্ষা সেই দিন সেই টপিক গুলো এবং সেই বই থেকে পড়ুন এক পরীক্ষার দিন অন্য পরীক্ষার পড়া পড়তে যাবেন না এতে আপনার উপরে প্রেসার পড়তে পারে এবং আপনি পরীক্ষার পড়া যে পরীক্ষাটি দিতে হবে সেই পরীক্ষাটির পড়াগুলো ভুলে যেতে পারেন পরবর্তীতে আপনার পরীক্ষা খারাপ হতে পারে আর পরীক্ষা খারাপ হলে রেজাল্ট খারাপ হয়ে যাবে তাই সেই ভুল করা যাবে না অতএব যে পরীক্ষা সেই পরীক্ষার সাবজেক্ট অনুযায়ী বা বিষয়ে অনুযায়ী সেই বইটিকেই খুব যত্ন সহকারে পড়ে মাথায় ঢুকিয়ে মুখস্ত করে রাখতে হবে যাতে করে সেই পরীক্ষার্থী অনেক ভালো এবং সুস্থ সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ করতে পারেন আপনারা। তিন যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন আপনারাসম্ভব হলে পরীক্ষার আগের দিনই যার কেন্দ্র যেখানে পড়েছে সেই কেন্দ্রে গিয়ে জারজির আসন দেখে আসতে পারেন আপনারা তবে বৃষ্টি বা যেকোনো সমস্যায় সে কাজটি করা সম্ভব না হলে পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের সময়ের পূর্বেই আপনারা প্রত্যেকে প্রত্যেকের কেন্দ্রে পৌঁছে জারজির আসন দেখে সেই আসনে পৌঁছে নিজে সুন্দরভাবে বসে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মনকে পুনরায় স্থির করবেন। চার নিজেকে সংযত করে রাখবেন পরীক্ষার আসনে বসার পরে স্কেল দিয়ে ঢেলাঢেলি করা কাউকে গালাগালি করা মন্দ কথা বলা এবং মারামারি করা খুনসুটি করা দুষ্টামি করা মজা করা বকাঝকা ইত্যাদি করা যাবে না এতে কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকগণ আপনাকে বেয়াদব খারাপ বলে চিহ্নিত করতে পারে এবং আপনি যে বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষাতে অংশ নিতে যাচ্ছেন সে বিদ্যালয়ের মান সম্মান খুন্নিত হতে পারে তাই এমন কাজ করা থেকে সর্বদাই নিজেকে বিরত রাখতে হবে। ৫ পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড এডমিট কার্ড কে স্কিন কপি করে প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাছে সংরক্ষণ করে রাখুন কোন ক্ষেত্রে এক্সিডেন্ট হয়ে এডমিট ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড হারিয়ে গেল যাতে আপনারা প্রত্যেকে পরীক্ষা থেক অংশগ্রহণ করতে পারেন অথবা এডমিট ও রেলস্টেশন কার্ড ফটোকপি করে কেন্দ্রে জমাও রাখতে পারেন। ছয় পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগের দিনে আপনাদের ফাইল গুলো গুছিয়ে রাখতে পারেন ফাইলগুলোতে যা যা নিবেন সেগুলো গুছিয়ে সুন্দরভাবে ফাইলে রেখে দিতে পারেন যাতে করে পরদিন সেই ফাইলটি কে নিয়ে আপনারা কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করতে পারেন তবে মনে রাখবেন ফাইলটি এমন ভাবে গুছিয়ে রাখবেন যাতে করে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যা যা উপকরণ প্রয়োজন তার কোনটি যেন ফাইলে মিসটেক না হয়ে যায় সেই দিকে প্রত্যেকেই লক্ষ্য রাখবেন। সাত পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে পরিবার আত্মীয়-স্বজন সহ প্রত্যেকের দোয়া নিয়ে নিবেন এবং পরীক্ষা দিতে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করে বের না হয়ে ধীরে ধীরে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে হাতের সময় রেখে বের হবেন সকলের দোয়া নিয়ে লক্ষ্য রাখবেন যাতে করে আপনাদের ভুলবশত কোন কিছু নিতে মিসটেক না হয়ে যায়। ৮ ফাইলে যা যা রাখতে পারেন তা হচ্ছে: ছয়টি কলম একটি পেন্সিল একটি রবার একটি স্কেল একটি জ্যামিতি বক্স একটি ক্যালকুলেটর এডমিট ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও দৃষ্টি জয়ী ভাই-বোনেরা রাইটার পারমিশনের কাগজ নিয়ে নিবেন। নয় পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়ার সাথে সাথে তাড়াহুড়ায় উত্তর দিতে যাবেন না প্রথমে প্রশ্নটিকে ভালোভাবে দেখবেন তারপর প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়বেন তারপর সঠিক এবং সুন্দরভাবে উত্তর গুলো পূরণ করবেন mcq এর ক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে উত্তর দিবেন এবং সি কিউ এর ক্ষেত্রে প্রথমে ভালো করে বুঝে পড়ে দেখবেন যে কোন গল্পের সাথে প্রশ্নের বা কোন কবিতার সাথে বা কোন অধ্যায়ের সাথে প্রশ্নের মিল রয়েছে অনুচ্ছেদ গুলো পড়ে সেই প্রশ্নের উত্তর গুলোই সঠিক সুন্দরভাবে খাতায় লিখতে চেষ্টা করবেন। । ১০ আপনাদের পরীক্ষার হলে বা কেন্দ্রে কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে কোন ছাত্রের সহযোগিতা না নিয়ে শিক্ষকগন্দের সহযোগিতা নিন এবং কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে তাদের সাহায্য নিতে পারেন এবং তাদের কাছ থেকে বিষয়টা বুঝে নিয়ে সঠিক সুন্দরভাবে পরীক্ষাগুলো সম্পূর্ণ করতে পারেন। উক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে আপনারা প্রত্যেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যান আপনাদের প্রত্যেকের জন্য উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করে সবার জন্য দুয়া ও ভালোবাসা রেখে আজকে এখানেই বিদায় নিচ্ছি সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন সুন্দর ও সঠিক ভাবে এসএসসি পরীক্ষাৎ শেষ করবেন।

09/09/2022

পরীক্ষায় ১ টি প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা রয়েছে...

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কি বার ছিল.?
➺বৃহস্পতিবার। [ভাষা আন্দোলন]

১৯৭১ সালের ২ মার্চ কি বার ছিল.?
➺বৃহস্পতিবার। [জাতীয় পতাকা দিবস]

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ কি বার ছিল.?
➺রবিবার। [৭ মার্চের ভাষণ]

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কি বার ছিল.?
➺বৃহস্পতিবার। [কালরাত্রি]

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কি বার ছিল.?
➺শুক্রবার। [স্বাধীনতা দিবস]

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল কি বার ছিল.?
➺শনিবার। [মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার গঠন]

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল কি বার ছিল.?
➺শনিবার। [মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ]

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর কি বার ছিল.?
➺মঙ্গলবার। [শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস]

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর কি বার ছিল.?
➺বৃহস্পতিবার। [বিজয় দিবস]

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি কি বার ছিল.?
➺সোমবার। [বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন]

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কি বার ছিল.?
➺শুক্রবার। [সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত]১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কি বার ছিল.?
➺বৃহস্পতিবার। [ভাষা আন্দোলন]

১৯৭১ সালের ২ মার্চ কি বার ছিল.?
➺বৃহস্পতিবার। [জাতীয় পতাকা দিবস]

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ কি বার ছিল.?
➺রবিবার। [৭ মার্চের ভাষণ]

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কি বার ছিল.?
➺বৃহস্পতিবার। [কালরাত্রি]

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কি বার ছিল.?
➺শুক্রবার। [স্বাধীনতা দিবস]

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল কি বার ছিল.?
➺শনিবার। [মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার গঠন]

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল কি বার ছিল.?
➺শনিবার। [মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ]

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর কি বার ছিল.?
➺মঙ্গলবার। [শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস]

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর কি বার ছিল.?
➺বৃহস্পতিবার। [বিজয় দিবস]

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি কি বার ছিল.?
➺সোমবার। [বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন]

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কি বার ছিল.?
➺শুক্রবার। [সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত]

সংগৃহিত ও পরিমার্জিত

30/08/2022

ুকবিতা লেখার চেয়ে
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কবিতা লেখার চেয়ে কবিতা লিখবো লিবো এই ভাবনা
আরও প্রিয় লাগে
ভোর থেকে টুকটাক কাজ সারি, যেন ঘর ফাঁকা করে
সময়ে সুগন্ধ নিয়ে তৈরি হতে হবে
দরজায় পাহারা দেবে নিস্তব্ধতা, আকাশকে দিতে হবে
নারীর ঊরুর মসৃণতা, তারপর লেখা
হীরক-দ্যুতির মতো টোবল আচ্ছন্ন করে বসে থাকে
কালো রং কবিতার খাতা
আমি শিস দিই, সিগারেট ঠোঁটে, দেশলাই খুঁজি
মনে ফুরফুরে হাওয়া, এবার কবিতা একটি নতুন কবিতা…
তবু আমি কিছুই লিখি না
কলম গড়িয়ে যায়, ঝুপ করে শুয়ে পড়ি, প্রিয় চোখে
দেখি শাদা দেয়ালকে, কবিতার সুখস্বপ্ন
গাঢ় হয়ে আসে, মনে-মনে বলি, লিখবো
লিখবো এত ব্যস্ততা কিসের
কেউ লেখা চাইলে বলি, হ্যাঁ হ্যাঁ ভাই, কাল দেবো, কাল দেবো
কাল ছোটে পরশু কিংবা তরশু কিংবা পরবর্তী সোমবারের দিকে
কেউ-কেউ বাঁকা সুরে বলে ওঠে, আজকাল গল্প উপন্যাস
এত লিখছেন
কবিতা লেখার জন্য সময়ই পান না।
বুঝি? না?
উত্তর না দিয়ে আমি জনান্তিকে মুখ মুচকে হাসি
ফাঁকা ঘরে, জানলার ওপার দূর
নীলাকাশ থেকে আসে
প্রিয়তম হাওয়া
না-লেখা কবিতাগুলি আমার সর্বঙ্গ
জড়িয়ে আদর করে, চলে যায়, ঘুরে ফিরে আসে
না-হয়ে ওঠার চেয়ে, আধো ফোটা, ওরা খুনসুটি
খুব ভালোবাসে।।

==========
দেখা হলো ভালোবাসা বেদনায়
==========

সর্বাধিক ৬৫ জন কবি ও তাদের ২৬০০+ কবিতা পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ টি ডাউনলোড করুন
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.samiulbasir.kobita

30/08/2022

কথা আছে
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বহুক্ষণ মুখোমুখি চুপচাপ, একবার চোখ তুলে সেতু
আবার আলাদা দৃষ্টি, টেবিলে রয়েছে শুয়ে
পুরোনো পত্রিকা
প্যান্টের নিচে চটি, ওপাশে শাড়ির পাড়ে
দুটি পা-ই ঢাকা
এপাশে বোতাম খোলা বুক, একদিন না-কামানো দাড়ি
ওপাশে এলো খোঁপা, ব্লাউজের নীচে কিছু
মসৃণ নগ্নতা
বাইরে পায়ের শব্দ, দূরে কাছে কারা যায়
কারা ফিরে আসে
বাতাস আসেনি আজ, রোদ গেছে বিদেশ ভ্রমণে।
আপাতত প্রকৃতির অনুকারী ওরা দুই মানুষ-মানুষী
দু‘খানি চেয়ারে স্তব্ধ, একজন জ্বলে সিগারেট
অন্যজন ঠোঁটে থেকে হাসিটুকু মুছেও মোছে না
আঙুলে চিকচিকে আংটি, চুলের কিনারে একটু ঘুম
ফের চোখ তুলে কিছু স্তব্ধতার বিনিময়,
সময় ভিখারী হয়ে ঘোরে
অথচ সময়ই জানে, কথা আছে, ঢের কথা আছে।

==========
দেখা হলো ভালোবাসা বেদনায়
==========

সর্বাধিক ৬৫ জন কবি ও তাদের ২৬০০+ কবিতা পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ টি ডাউনলোড করুন
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.samiulbasir.kobita

30/08/2022

এই জীবন
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বাঁচতে হবে বাঁচার মতন, বাঁচতে-বাঁচতে
এই জীবনটা গোটা একটা জীবন হয়ে
জীবন্ত হোক
আমি কিছুই ছাড়বো না, এই রোদ ও বৃষ্টি
আমাকে দাও ক্ষুধার অন্ন
শুধু যা নয় নিছক অন্ন
আমার চাই সব লাবণ্য
নইলে গোটা দুনিয়া খাবো!
আমাকে কেউ গ্রামে গঞ্জে ভিখারী করে
পালিয়ে যাবে?
আমায় কেউ নিলাম করবে সুতো কলে
কামারশালায়?
আমি কিছুই ছাড়বো না আর, এখন আমার
অন্য খেলা
পদ্মপাতায় ফড়িং যেমন আপনমনে খেলায় মাতে
গোটা জীবন
মানুষ সেজে আসা হলো,
মানুষ হয়েই ফিরে যাবো
বাঁচতে হবে বাঁচার মতন,বাঁচতে-বাঁচতে
এই জীবনটা গোটা একটা জীবন হয়ে
জীবন্ত হোক!

==========
দেখা হলো ভালোবাসা বেদনায়
==========,
ফ্রয়েড ও মার্ক্স নামে দুই দাড়িওয়ালা
বলে গেল, মানুষেরও রয়েছে সীমানা
এঁচোড়ে পাকার মত এর পর অনেকেই চড়িয়েছে গলা
নৃমুন্ড শিকারী দেয় মনোলোকে হানা।
সকলেই সব জানে, এত জ্ঞানপাপী
বলেছে মুক্তর রং শাদা নয় খাকি
তবু যারা সিংহাসন নেয় তারা কথার খেলাপি
আবং আমার ভাই, মা-বোন নিখাকী।
ছিঁড়েছে সম্রাজ্য ঢের, নতুন বসতি
পুরোনো হবার আগে দু‘বার উল্টায়
দিকে দিকে গণভোটে রটে যায় বেশ্যারাও সতী
রং পলেস্তারা পড়ে দেয়ালের চলটায়।
এরকম চলে আসে, তবু নিরালায়
ছোট এক কবি বলে যাবে সিধে কথা
সূর্যাস্তের অগ্নিপ্রভা লেগে আছে আকাশের গায়
জীবনই জীবন্ত হোক, তুচ্ছ অমরতা।

==========
এসেছি দৈব পিকনিকে
==========

সর্বাধিক ৬৫ জন কবি ও তাদের ২৬০০+ কবিতা পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ টি ডাউনলোড করুন
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.samiulbasir.kobita

30/08/2022

শিল্পী ফিরে চলেছেন
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

শিল্পী ফিরে চলেছেন, এ কেমন চলে যাওয়া তার?
এমন নদীর ধার ঘেঁষে চলা,
যেখানে অজস্র কাঁটাঝোপ
এবং অদূরে রুক্ষ বালিয়াড়ি,
ওদিকে তো আর পথ নেই
এর নাম ফিরে যাওয়া? এ তো নয় শখের ভ্রশণ
রমণীর আলিঙ্গন ছেড়ে কেন সহসা লাফিয়ে ওঠা-
কপালে কোমল হাত, টেবিলে অনেক সিক্ত টিঠি
কত অসমাপ্ত কাজ, কত হাতছানি
তবু যেন মনে পড়ে মভুল ভাঙাবার বেলা এই মাত্র
পার হয়ে গেল!
বুকে এত ব্যাকুলতা, ওষ্ঠে এত মায়া
তবু ফিরে যেতে হবে, ফিরে যেতে হবে
এর নাম ফিরে যাওয়া? এতো নয় শখের ভ্রমণ
ওদিক তো আর পথ নেই
অচেনা অঞ্চলে কেউ ফেরে? যাওয়া যায়। ফেরে?
এর চেয়ে জলে নামা সহজ ছিল না?
সকলেই বলে দেবে, শিল্পী, আপনি ভুল করেছেন
অতৃপ্ত, দুঃখিত এক বৃহত্তম ভুল।।

==========
দাঁড়াও সুন্দর
==========

সর্বাধিক ৬৫ জন কবি ও তাদের ২৬০০+ কবিতা পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ টি ডাউনলোড করুন
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.samiulbasir.kobita

30/08/2022

নারী ও শিল্প
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ঘুমন্ত নারীকে জাগাবার আগে আমি তাকে দেখি
উদাসীন গ্রীবার ভঙ্গি, শ্লোকের মতন ভুরু
ঠোঁটে স্বপ্ন বিংবা অসমাপ্ত কথা
এ যেন এক নারীর মধ্যে বহু নারী, বিংবা
দর্পণের ঘরে বস
চিবুকের ওপরে এসে পড়েছে চুলের কালো ফিতে
সরিয়ে দিতে ইচ্ছে করে না, কেননা আবহমান কাল
থেকে বেণীবন্ধনের বহু উপমা কয়েছে
আঁচল ঈষৎ সরে গেছে বুক থেকে-এর নাম বিস্রস্ত,
এ রকম হয়
পেটের মসৃণ ত্বক, ক্ষীণ চাঁদ নাভি, সায়ার দড়ির গিট
উরুতে শাড়ীর ভাঁজ, রেখার বিচিত্র কোলাহল
পদতল-আল্পনার লক্ষ্মীর ছাপের মতো
এই নারী
নারী ও ঘুমন্ত নারী এক নয়
এই নির্বাক চিত্রটি হতে পারে শিল্প, যদি আমি
ব্যবধান টিক রেখে দৃষ্টিকে সন্ন্যাসী করি
হাতে তুলে খুঁজে আনি মন্ত্রের অক্ষর
তখন নারীকে দেখা নয়, নিজেকে দেখাই
বড় হয়ে ওঠে বলে
নিছক ভদ্রতাবশে নিভিয়ে দিই আলো
তারপর শুরু হয় শিল্পকে ভাঙার এক বিপুল উৎসব
আমি তার ওষ্ঠ ও উরুতে মুখ গুঁজে
জানাই সেই খবর
কালস্রোত সাঁতরে যা কোথাও যায় না।

==========
দাঁড়াও সুন্দর
==========

সর্বাধিক ৬৫ জন কবি ও তাদের ২৬০০+ কবিতা পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ টি ডাউনলোড করুন
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.samiulbasir.kobita

30/08/2022

নারী
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নাস্তিকেরা তোমায় মানে না, নারী
দীর্গ ঈ-কারের মত তুমি চুল মেলে
বিপ্লবের শত্রু হয়ে আছো!
এমনকি অদৃশ্য তুমি বহু চোখে
কত লোকে নামই শোনেনি
যেমন জলের মধ্যে মিশে থাকে
জল-রং আলো-
তারা চেনে প্রেমিকা বা সহোদরা
জননী বা জায়া
দুধের দোকানে মেয়ে, কিংবা যারা নাচে গায়
রান্না ঘরে ঘামে
শিশু কোলে চৌরাস্তায় বাড়ায় কঙ্কাল হাত
ফ্রক কিংবা শাড়ী পরে দুঃখের ইস্কুলে যায়
মিস্তিরির পাশে থেকে সিমেন্ট মেশায় কান্না
কৌটো হাতে পরমার্থ চাঁদা তোলে
কৃষকের পান্তা ভাত পৌছে দেয় সূর্য ক্রুদ্ধ হলে
শিয়রের কছে রেখে উপন্যাস দুপুরে ঘুমোয়
এরা সব ঠিকঠাক আছে
এদের সবাই চেনে শয়নে, শরীরে
দুঃখ বা সুখের দিনে অচির সঙ্গিনী!
কিন’ নারী? সে কোথায়?
চল্লিশ শতাব্দী ধরে অবক্ষয়ী কবি দল
যাকে নিয়ে এমন মেতেছে?
সে কোথায়? সে কোথায়?
দীর্ঘ ঈ-কারের মত চুল মেলে
সে কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে?
এই ভিড়ে কেমন গোপন থাকো তুমি
যেমন জলের মধ্যে মিশে থাকে
জল-রং আলো…

==========
দাঁড়াও সুন্দর
==========

সর্বাধিক ৬৫ জন কবি ও তাদের ২৬০০+ কবিতা পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ টি ডাউনলোড করুন
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.samiulbasir.kobita

30/08/2022

একটি শীতের দৃশ্য
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মায়ামমতার মতো এখন শীতের রোদ
মাঠে শুয়ে আছে
আর কেউ নেই
ওরা সব ফিরে গেছে ঘরে
দু’একটা নিবারকণা খুঁটে খায় শালিকের ঝাঁক
ওপরে টহল দেয় গাংচিল, যেন প্রকৃতির কোতোয়াল।
গোরুর গাড়িটি বড় তৃপ্ত, টাপুটুপু ভরে এছ ধানে
অন্যমনা ডাহুকীর মতো শ্লথ গতি
অদূরে শহর আর ক্রোশ দুই পথ
সেখানে সবাই খুব প্রতীক্ষায় আছে
দালাল, পাইকার, ফড়ে, মিল, পার্র্টি, নেকড়ে ও পুলিস
হলূদ শস্যের স্তূপে পা ডুবিয়ে
ওরা মল্লযুদ্ধে মেতে যাবে
শোনা যাবে ঐক্যতান, ছিঁড়ে খাবো চুষে খাবো
ঐ লোকটিকে আমি তোদের আগে ছিঁড়ে খাবো।
সিমেন্টের বারান্দায় উবু হয়ে বসে আছে সেই লোকটা
বিড়ির বদলে সিগারেট
আজ সে শৌখিন বড়, চুলে তেল, হোটেলের ভাত খেয়ে
কিনেছিল এক খিলি পান
খেটেছে রোদ্দুরে জলে দীর্ঘদিন, পিতৃস্নেহ
দিয়েছিল মাঠে
গোরুর গাড়ির দিকে চোখ যায়, বড় শান্ত এই
চেয়ে থাকা
সোনালী ঘাসের বীজ আজ যেন নারীর চেয়েও গরবিনী
সহস্র চোখের সামনে গায়ে নিচ্ছে
রোদের আদর
এখনই যে লুট হবে কিছুই জানে না
পালক পিতাটি সেই সঙ্গে-সঙ্গে যাবে
যারা অগ্নিমান্দ্যে ভোগে তারা ঐ লোকটির
রক্ত মাংস খাবে।
আচর্য শঙ্কর, আমি করজোড়ে অনুরোধ করি
আকস্মাৎ এই দৃশ্যে আপনি এসে যেন না বলেন
এ তো সবই মায়া!

==========
দাঁড়াও সুন্দর
==========

সর্বাধিক ৬৫ জন কবি ও তাদের ২৬০০+ কবিতা পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ টি ডাউনলোড করুন
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.samiulbasir.kobita

30/08/2022

আমি নয়
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

পথে পড়ে আছে এত কৃষ্ণচুড়া ফুল
দু’পায়ে মাড়িয়ে যাই, এলোমেলো হাওয়া
বড় প্রীতি-স্পর্শ দেয়, যেন নারী, সামনে বকুল
যার ঘ্রাণে মনে পড়ে করতল, চোখের মাধুরী
তারপরই হাসি পায়, মনে হয় আমি নয়, এই ভোরে
এত সুন্দরের কেন্দ্র চিরে
গল্পের বর্ণনা হয়ে হেঁটে যায় যে মানুষ
সে কি আমি?
ক্ষ্যাপাটের মত আমি মুখ মচকে হাসি।
ক্যাবিনের পর্দা উড়লে দেখা যায় উরুর কিঞ্চিৎ
একটি বাহুর ডৌল, টেবিলে রয়েছে ঝুঁকে মুখ
ও পাশে কে? ইতিহাস চূর্ণ করা নারীর সম্মুখে
রুক্ষচুল পুরুষটি এমন নির্বাক কেন? শুধু সিগারেট
নেড়েচেড়ে, এর নাম অভিমান? পাঁচটি চম্পক
এত কাছে, তবু ও নেয় না কেন, কেন ওর ওষ্ঠে
দেয় না গরম আদর?
শুধু চোখে চোখ- এটি অলৌকিক সেতু, একি
অসম্ভব চিন্ময়তা
চায়ের দোকানে ঐ পুরুষ নারূ-মূত্যি ব্যাথা দেয়
বুকের বড় ব্যাথা দেয়
ওরা এই পৃথিবীর কেউ নয় ইদানীং বেড়াতে এসেছে।
মধ্যরাত্রি ভেঙে-ভেঙে কে কোথায় চলে যায়, যেন উপবনে বসন্ত উঃসব হলো শেষ
বিদায় শব্দটি যাকে বিহ্বল করেছে
অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে সে এখন দ্রুত উঠে আসে
চাঁদের শরীর ছুঁতে
অথবা স্বর্গের পথ এই দিকে হঠাৎ ভেবেছে
দরজা খুলো না তুমি, দূর থেকে রুক্ষ বাক্য বলে দাও
ও এখন দুঃখে- নোংরা, দু’হাতে তীব্রতা
এবং কপালে তৃষ্ণা, পর্দাহীন জানলার দিকে
দুই চোখ
মাতালের অসি’রতা মাধুর্যকে ওষ্ঠে নিতে চায়-
অথচ জানে না
গোলূলির কাছে তার নির্বাসন হয়ে গেছে কবে!
দরজা খুলো না তুমি, দুর থেকে রুক্ষ বাক্য বলে দাও
ও তোমার জানু আঁকড়ে আহত পশুর মতো ছটফটাবে
অতৃপ্তির সহোদর, সশরীর নিষিদ্ধ আগুন
ক্ষমা করো, আমি নই, ক্ষমা করো, দুঃস্বপ্ন, বিষাদ

==========
দাঁড়াও সুন্দর
==========

সর্বাধিক ৬৫ জন কবি ও তাদের ২৬০০+ কবিতা পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ টি ডাউনলোড করুন
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.samiulbasir.kobita

30/08/2022

আছে ও নেই
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

হাওড়া স্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে সেই পাগলটি
পৃথিবীর সমস্ত পাগলের রাজা হয়ে
সে উলঙ্গ, কেননা উম্মাদ উলঙ্গ হতে পারে, তাতে
প্রকৃতির তালভঙ্গ হয় না কখনো
পাশেই গম্ভীর ট্রেন, ব্যস্ত মানুষের হুড়োহুড়ি
সকলেই কোথাও না কোথাও পৌছুতে চায়
তার মধ্যে এই মূর্তিমান ব্যতিক্রম, ইদানীং
অযাত্রী, উদাসীন-
মাঝারি বয়েস, লম্বা, জটপাকানো মাথা
তার নাম নেই, কে জানে আমিত্ব আছে কিনা
অথচ শরীর আছে
সুতোহীন দেহখানি দেহ সচেতন করে দেয়
পেটা বুক, খাঁজ-কাটা কোমর, আজানুলম্বিত বাহু
এবং দীর্ঘ পুরুষাঙ্গ
চুলের জঙ্গলে ঘেরা
পুরুষশ্রেষ্টের মতন দাঁড়িয়ে রয়েছে ভিড়ে, যেন সদর্পে
সন্ন্যাসী হলেও কোনো মানে থাকতো, কেউ হয়তো প্রণাম জানাতো
কিন্তু এই শারীরিক প্রদর্শনী এত অপ্রাসঙ্গিক
টিকিটবাবুও তাকে বধা দেয় না
রেলরক্ষীরা মুখ ফিরিয়ে থাকে
ফিলমের পোস্টারের নারী-পুরুষদের সরে যাবার উপায় নেই
অপর নারী-পুরুষরা তাকে দেখেও দেখে না
তারা পাশ দিয়ে যেতে-যেতে একটু নিমেষহারা হয়েই
আবার দূরে চলে যায়
শুধু মায়ের হাত ধরা শিশুর চোখ বিস্ফারিত হয়ে ওঠে
একটি আপেল গড়ি েযায় লাইনের দিকে-
ঠিক সেই সময় বস্তাবন্দী চিঠির স’পের পাশ দিয়ে
এসে দাঁড়ায় দুটি হিজড়ে
নারীর বেশে ওরা নারী নয়, এবং সবাই জানে
ওদের বিস্ময়বোধ থাকে না
তবু হঠাৎ ওরা থমকে দাঁড়ায়; পরস্পরের দিকে
তাকায় অদ্ভুত বিহ্বল চোখে
যেন ওদের পা মাটিতে গেঁথে গেল
সার্চ লাইটের মতন চোখ ফেরালো পাগলটির শরীরে
সেই অপ্রয়োজনীয় সুঠাম সুন্দর শরীর,
নির্বিকার পুরুষাঙ্গ
যেন ওদের শপাং-শপাং করে চাবুক মারে
সূর্য থেকে গল-গল করে ঝরে পড়ে কালি
এই আছে ও নেই’-র যুক্তিহীন বৈষম্যে প্রকৃতি
দুর্দান্ত নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে
সেই দুই হিজড়ে অসম্ভব তীব্র চিৎকার করে ওঠে-
ধর্মীয় সঙ্গীতের মতন
ওরা কাঁদে,
দু’হাতে মুখ ঢাকে
বসে পড়ে মাটিতে
এবং টুকরো-টুকরো হয়ে মিশে যায়
নশ্বর ধুলোয়
অল্প দূরে, সিগা�

27/08/2022

সুস্থ ও সুঠাম দেহের অধিকারী ভিক্ষুককে দান করার বিধান
এবং ইসলামের দৃষ্টিতে ভিক্ষাবৃত্তির ভয়াবহতা
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
প্রশ্ন: আমরা জানি, ইসলামে অভাবীকে সাহায্য করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং যে চায় তাকে ধমক দিতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝে এমন কিছু মানুষ ভিক্ষা চাইতে আসে যারা সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সুঠাম দেহের অধিকারী। তাদের জিজ্ঞাসা করলে নানা অজুহাত দেখায়। এমন কি তাদের যদি কাজ দিয়ে দিতে চাই তাও তারা করবে না। উল্টা এমন কথা বললে খারাপ কথা বলে। বলে, ছোটলোক! গরিব মানুষের পেটে লাথি মারে ইত্যাদি। এমন অবস্থায় কী করা উচিৎ?

উত্তর:
কেউ যদি আপনার নিকট অভাব-অনটনের কথা বলে সাহায্য/ভিক্ষা চায় আর তাকে সত্যিই অভাবী মনে হয় তাহলে তাকে যথাসম্ভব দান করার চেষ্টা করবেন। চাই সাধারণ দান-সদকা হোক অথবা যাকাত হোক।
আর যদি জানতে পারেন যে, সে অভাবী নয় বা সে ভিক্ষাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে তাহলে তার নিকট অপারগতা প্রকাশ করবেন এবং তাকে ভিক্ষা দেয়া থেকে বিরত থাকবেন।
এ ক্ষেত্রে যদি সুন্দর পন্থায় ভালো কথার মাধ্যমে তাকে নসিহত করা সম্ভব হয় তাহলে নি:সন্দেহে তা করা উচিৎ। কেননা ইসলামের দৃষ্টিতে একান্ত নিরুপায় অবস্থা ছাড়া ভিক্ষা করা হারাম। হাদিসে আখিরাতে সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ভিক্ষাবৃত্তির করুণ পরিণতির কথা বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম ইবনুল কাইয়েম রাহ. বলেন:
المسألة في الأصل حرام، وإنما أبيحت للحاجة والضرورة
“প্রকৃতপক্ষে ভিক্ষা করা হারাম। তবে কেবল প্রয়োজন ও একান্ত জরুরি ক্ষেত্রে তার বৈধতা দেয়া হয়েছে।”

সুতরাং এ ধরণের কথিত ভিক্ষুকের নিকট সুন্দর ভাষায় ভিক্ষাবৃত্তি সংক্রান্ত ইসলামের নির্দেশনা পৌঁছানো এবং এ বিষয়ে তাকে নসিহত করা কর্তব্য।

◉ একান্ত নিরুপায় অবস্থা ছাড়া ভিক্ষা করা হারাম:

নিম্নে এ প্রসঙ্গে কয়েকটি হাদিস পেশ করা হল:

🔸 ১. হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ, قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْتَعِينُهُ فِي حَمَالَةٍ , فَقَالَ: ” أَقِمْ عِنْدَنَا فَإِمَّا أَنْ نَتْحَمَّلَهَا وَإِمَّا أَنْ نُعِينَكَ وَاعْلَمْ أَنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَصْلُحُ إِلَّا لِأَحَدِ ثَلَاثَةِ رِجَالٍ: رَجُلٍ تَحَمَّلَ عَنْ قَوْمٍ حَمَالَةً فَسَأَلَ حَتَّى يُؤَدِّيَهَا ثُمَّ يُمْسِكُ , وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ أَذْهَبَتْ مَالَهُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ أَوْ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ ثُمَّ يُمْسِكُ , وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ حَاجَةٌ حَتَّى يَشْهَدَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَى أَوْ مِنْ ذَوِي الصَّلَاحِ فِي قَوْمِهِ أَنْ قَدْ حَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ , وَمَا سِوَى ذَلِكَ مِنَ الْمَسَائِلِ سُحْتٌ يَأْكُلُهُ صَاحِبُهُ سُحْتًا يَا قَبِيصَةُ
আবু বিশর কাবিসা ইবনে মুখারেক রা. থেকে বর্ণিত, একবার এক অর্থদণ্ডের দায়িত্ব আমার ঘাড়ে থাকলে আমি সে ব্যাপারে সাহায্য নিতে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম। তিনি বললেন, ‘‘সদকার মাল আসা পর্যন্ত তুমি অবস্থান কর। এলে তোমাকে তা দেওয়ার আদেশ করব।’’
অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘হে কাবিসা! তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কারো জন্য চাওয়া বৈধ নয়:
▪ ১. যে ব্যক্তি অন্য লোকদের অর্থদণ্ড পরিশোধের দায়িত্ব নিবে (কারো দিয়াত তথা রক্তপণ কিংবা জরিমানা দেওয়ার জামিন হবে), তার জন্য চাওয়া হালাল। অতঃপর তা পরিশোধ হয়ে গেলে সে চাওয়া বন্ধ করবে।
▪ ২. দুর্যোগ কবলিত হয়ে যার অর্থ-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে, তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত চাওয়া বৈধ, যতক্ষণ তার সচ্ছল অবস্থা ফিরে না আসে।
▪ ৩. যে ব্যক্তি অভাবী হয়ে পড়বে এবং তার গোত্রের তিনজন জ্ঞানী বা সৎ লোক এ কথার সাক্ষ্য দেবে যে, অমুক অভাবী, তখন তার জন্য চাওয়া বৈধ। আর এ ছাড়া হে কাবিসা, অন্য লোকের জন্য চেয়ে (মেগে) খাওয়া হারাম। সে মাল খেলে হারাম খাওয়া হবে।’’
(মুসলিম ১০৪৪, নাসায়ী ২৫৭৯, ২৫৯১, আবু দাউদ ১৬৪০, আহমদ ১৫৪৮৬, ২০০৭৮, দারেমী ১৬৭৮)

🔸 ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:

مَنْ سَأَلَ النَّاسَ أَمْوَالَهُمْ تَكَثُّرًا فَإِنَّمَا يَسْأَلُ جَمْرًا فَلْيَسْتَقِلَّ أَوْ لِيَسْتَكْثِرْ

“যে ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মানুষের নিকট অর্থ চায় সে মূলত: (জাহান্নামের) জলন্ত অঙ্গার চায়। অতএব সে কম-বেশি যা ইচ্ছা চাক।” [মুসলিম, অধ্যায়: যাকাত, অনুচ্ছেদ: মানুষের কাছে ভিক্ষা চাওয়া নাজায়েয।]

🔸 ৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

‏ لأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبْلَهُ فَيَأْتِيَ بِحُزْمَةِ الْحَطَبِ عَلَى ظَهْرِهِ فَيَبِيعَهَا فَيَكُفَّ اللَّهُ بِهَا وَجْهَهُ، خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ أَعْطَوْهُ أَوْ مَنَعُوهُ

“তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রশি নিয়ে (বন-জঙ্গলে গিয়ে কাঠ কেটে) পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে এনে বিক্রি করার ফলে আল্লাহ তাকে (ভিক্ষাবৃত্তির অপমান থেকে) রক্ষা করেন তাহলে তা মানুষের নিকট তার হাতপাতার চেয়ে উত্তম। তারা দিতেও পারে নাও পারে।” [সহিহ বুখারী, যাকাত অধ্যায়: হাদিস ৫৫০]

🔸 ৪. আব্দুল্লাহ ইবনে ‘উমর রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

مَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَسْأَلُ النَّاسَ حَتّى يَأْتِيَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَيْسَ فِي وَجْهِه مُزْعَةُ لَحْمٍ

“যে ব্যক্তি সর্বদা মানুষের কাছে ভিক্ষা করতে থাকে কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে উঠবে যে, তখন তার মুখমণ্ডলে গোশত থাকবে না।” [সহীহ বুখারী ১৪৭৪ ও মুসলিম ১০৪০]

🔸 ৫. আবু কাবশা আল আনমারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেনঃ
ثَلَاثَةٌ أُقْسِمُ عَلَيْهِنَّ وَأُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا فَاحْفَظُوهُ قَالَ مَا نَقَصَ مَالُ عَبْدٍ مِنْ صَدَقَةٍ وَلَا ظُلِمَ عَبْدٌ مَظْلَمَةً فَصَبَرَ عَلَيْهَا إِلَّا زَادَهُ اللَّهُ عِزًّا وَلَا فَتَحَ عَبْدٌ بَابَ مَسْأَلَةٍ إِلَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ بَابَ فَقْرٍ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا
“তিনটি বিষয়ের উপর আমি শপথ করছি এবং তোমাদের কাছে একটি হাদীছ বর্ণনা করছি, তোমরা তা মুখস্ত করে রাখ। তিনি বলেনঃ উক্ত তিনটি বিষয় হল

▪ ১. দান করলে বান্দার সম্পদ কমে না।
▪ ২. কারো উপর জুলুম করা হলে সে যদি ধৈর্য ধারণ করে তবে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
▪ ৩. যখন কোন বান্দা ভিক্ষার দ্বার খুলে দেয় (ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করে) তখন আল্লাহ তার জন্য অভাবের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন।” (অথবা তিনি এ জাতীয় একটা কথা বলেছেন)।
[সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব অধ্যায়: ইখলাস (একনিষ্ঠতা), পরিচ্ছেদ: ইখলাস, সত্যবাদিতা ও সৎ নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধ করণ, হা/১৬]

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কেবল তিনি ব্যতীত তাঁর সকল সৃষ্টি জগত থেকে মুখাপেক্ষীহীন করুন এবং এমন অভাব-অনটন থেকে হেফাজত করুন যাতে মানুষের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়। নিশ্চয় তিনি অভাব মুক্ত ও অতীব প্রশংসিত।

Address

Darus Salam Road
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Education of mind light posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category