shriman somon krishna das

shriman somon krishna das

Share

সনাতন শ্রাস্ত্রীয় জ্ঞানের পিপাসু.. ভগবতভক্তির সাথে, শ্রাস্ত্র অধ্যায়ণ ও গবেষণাই মূখ্য উদ্দেশ্য।

12/01/2025

✅"ধর্ম এব হতো হন্তি ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ।
তস্মাদ্ধর্মং ন ত্যজামি মা নো ধর্মো হতো বধীৎ।।"

👉যে ব্যক্তি ধর্ম নষ্ট করে, ধর্মই তাকে সমূলে বিনষ্ট করে দেয়। পক্ষান্তরে যিনি ধর্মকে রক্ষা করেন, ধর্মই তাকে সর্বদা রক্ষা করেন।

(মহাভারত : বনপর্ব, ২৬৭.৯২)

তাই আমি (ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির) ধর্মকে কখনও পরিত্যাগ করি না। কেননা, ধর্ম যদি আমার দ্বারা বিনষ্ট হয়, তবে সে ধর্মই আমাকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে দেবে।

20/10/2023

🙏হরেকৃষ্ণ

সকলকে জানাই শরৎতের শারদীয়া শুভেচ্ছা।

আমি সুমন কৃষ্ণদাস শারদীয়া দূর্গোৎসব কেন্দ্র করে দেবী দূর্গার বিষয়ে কিছু লিখব। কেন এই উৎসবটাকে শারদীয় বা শারদীয়া বলা হয় সেই বিষয় এবং সেই সাথে শ্রাস্ত্র থেকে দেবী দূর্গার মাহাত্ম্য লিখবো।


👉 প্রথমেই আসি শারদীয়া বা শারদীয় সম্পর্কে।

শরৎকালে এই পূজা অনুষ্ঠানগুলি হয় বলে শরৎতের শুভেচ্ছা জানাই শারদীয় বলে।

আর দেবী দূর্গা স্ত্রী বাচক শব্দ তাই শারদীয়া, শারদীয়া এ বলে হয় সরাসরী দেবী দূর্গাকে বুঝানো হয়। শারদীয় ও শারদীয়া শব্দ দুটিই ব্যবহার সঠিক। আসুন শ্রাস্ত্রীয়ভাবে আলোচনা করি।

👉বৈদিক যুগে এক সময়ে যে শরৎকালে বৎসর শুরু হতো এবং সে কারণে বৎসর অর্থে ‘শরৎ’শব্দের প্রয়োগ বৈদিক সাহিত্যে যথা ঋগ্বেদ (ঋগ্বেদ-১০/১৬১/২-৪), অথর্ববেদ (অথর্ববেদ-১৯/৬৭/২-৪) ইত্যাদিতে বহুবার পাওয়া যায়।

▪️তৈত্তিরীয়-ব্রাহ্মণে- শরৎকেই অম্বিকা বলা হয়েছে।
(তৈঃ ব্রাঃ-১/১/৬-১০)

আর এই অম্বিকা শুধুমাত্র শরৎকালকে বুঝায়নি, কেনোনা

👉তৈত্তিরীয় আরণ্যকে আবার অম্বিকাকে রুদ্রের পত্নীরূপে দেখিতে পাই।

▪️তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণে এবং কাঠক-সংহিতায়,

আবার দেখিতে পাই এই অম্বিকাকেই ‘শরৎ’ বলা হইয়াছে (শরদ্বৈ অম্বিকা)। এই শরৎ-রূপিণী অম্বিকার পূজাই হইল শারদীয়া পূজা।’
(ভারতের শক্তি-সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য, পৃষ্ঠা-২৪-২৫)

▪️শাস্ত্রানুসারে ছয়মাস উত্তরায়ণ দেবতাদের একদিন ও ছয়মাস দক্ষিণায়ণ দেবতাদের এক রাত্রি। দক্ষিণায়ণ শুরু হলে বিষ্ণু শয়ন করেন; তখন শয়ন একাদশী হয়। দক্ষিণায়ণান্তে বিষ্ণুর উত্থান,– সে সময়ে উত্থান একাদশী হয়। দেবগণ রাত্রিতে অর্থাৎ দক্ষিণায়ণে নিদ্রিত থাকেন, দিনে অর্থাৎ উত্তরায়ণে জাগ্রত হন। উত্তরায়ণ তাই যজ্ঞাদি অনুষ্ঠানের প্রকৃষ্ট কাল। বিষ্ণুশক্তি বিষ্ণুমায়া দুর্গাও রাত্রিতে শায়িতা বা নিদ্রিতা থাকেন। তাই দক্ষিণায়ণকালে শরতে দেবীর উদ্বোধন বা জাগরণ বা অকালবোধন। আর এই শরৎ-রূপিণী অম্বিকা বা রুদ্রপত্নী অম্বিকার পূজাই হইল শারদীয়া পূজা।’

★প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে তিনি দূর্গা কেন? তাকে দূর্গা কেন বলা হয়?

উত্তরঃ- আমরা জানি, দেবী দূর্গম নামক এক অসুরকে বধ করার কারনে তিনি দূর্গা। আমি সুমন এই দূর্গম অসুরের বধের বিষয়ে কিছু বলবো না৷ চলুন ভিন্ন কিছু জানি।

▪️মার্কণ্ডয় পুরাণে-দেবীমাহাত্ম্যে বলা হয়েছে।

"দুর্গামি দুর্গ-ভবসাগর-নৌ রসঙ্গা।"

অর্থাৎ : তিনি দুর্গম ভবসাগরে (জড়জগতের) নৌকাস্বরূপ বলে দুর্গা।

▪️মহাভারতে বলা হয়েছে,

"দুর্গাত্তারয়সে দুর্গে তস্মাৎ দুর্গা স্মৃতাজনৈঃ।
কান্তারেষ্ববসন্নানাং মগ্নানাঞ্চ মহার্ণবে।।
দস্যুভির্বা নিরুদ্ধানাং ত্বং গতিঃ পরমা নৃণাম্ ।
জলপ্রতরণে চৈব কান্তারেষ্বটবীযু চ।।
যে স্মরন্তি মহাদেবি ন চ সীদন্তি তে নরাঃ।
(মহাভারত-বিরাটপর্ব-৬/২০-২২)

অর্থাৎ– হে দুর্গে, তুমি দুর্গতি নাশ কর বলেই লোকে তোমায় দুর্গা বলে থাকে।
কান্তার মধ্যে যারা অবসন্ন হয়ে পড়ে, মহাসমুদ্রে যারা মগ্ন হয়, দস্যুর দ্বারা যারা বন্দি হয়, সেই মনুষ্যগণের তুমিই পরমা গতি। জল (নদী বা সমুদ্র) পার হওয়ার সময়ে কান্তারে এবং অরণ্যে, হে মহাদেবি! যারা তোমাকে স্মরণ করেন তাঁরা কখনও বিপন্ন হন না।


👉দূর্গা পূজা কি শৈব,শাক্ত,গণপতে,বৈষ্ণব আমাদের সকলকেই করা উচিত?

এই প্রশ্নটা বিশেষ করে অধিকাংশ বৈষ্ণব তথা কৃষ্ণভক্তদের মনে থাকে বা আসে।

উত্তরঃ- হে আমাদের সকলকেই দূর্গাপূজা করা উচিত।
👉 কেননাঃ- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ থেকে শুরু করে- বিষ্ণু,শিব,ব্রহ্মা,শ্রীরাম চন্দ্র সকলেই দূর্গা পূজা করেছিলেন। 🤔

👉কি আমার কথা শুনে অবাক হলেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই শ্রাস্ত্রের প্রমাণ ছাড়া আমি সুমন কিছু বলি না৷

▪️সংসারবন্ধহেতুশ্চ সৈব সর্বেশ্বরেশ্বরী।।
পরা পরাণাং পরমা ত্বমেব পরমেশ্বরী।।" –(চণ্ডী-১/৫৮,৮২)

অর্থাৎ: তিনিই সংসারবন্ধনের কারণস্বরূপা অবিদ্যা এবং ব্রহ্মা, বিষ্ণু আদি সকল ঈশ্বরের ঈশ্বরী।।

আপনি ব্রহ্মাদিরও শ্রেষ্ঠ। আপনি সর্বপ্রধানা দেবী এবং পরমেশ্বরের মহাশক্তি। (১/৮২)।।

★সকল দেবতা ও ব্রহ্মা দূর্গা পূজা করেছিলো

▪️বৃহদ্ধর্মপুরাণেও দেবীর বোধন করেছিলেন ব্রহ্মা স্বয়ং। এখানে ব্রহ্মা পুরোহিতরূপে প্রার্থনা করেছিলেন।
(বৃহদ্ধর্ম, পূর্ব খণ্ড-২২/১৪-১৫)

বীর রাবণ নিহত হলে সকল দেবতার সঙ্গে পিতামহ ব্রহ্মা দুর্গার বিশেষ পূজা করেছিলেন। ৩২।।
(কালিকা পুরাণ-৬০/২৬-২৭, ৩২


▪️ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী, চিন্ময়ধাম তথা গোলক -বৃন্দাবন ধামে ভগবান শ্রীকৃষ্ণই সর্বপ্রথম দূর্গাপূজা করেছিলেন। এটা এই জগতে নয় চিন্ময়ধামে।

"নারায়ন উবাচ।
পুরা স্তুতা সা গোলকে কৃষ্ণেন পরমাত্মনা সংপূজ্য মধুমাসেচ প্রীতেন রাসমন্ডলে। মধুকৈটভয়োযুদ্ধে দ্বিতীয়ে বিষ্ণুনা পুরা। ২। তত্রৈব কালে সা দুর্গা ব্রহ্মণা প্ৰাণ সঙ্কটে। চতুর্থে সংস্তুতা দেবী ভক্ত্যাচ ত্রিপুরারিণা। ৩ পুরা ত্রিপুরযুদ্ধেন মহাঘোরতরে মুনে। পঞ্চমে সংস্তুতা দেবী বৃত্রাসুরবধে তথা। ৪| শক্রেণ সৰ্ব্বদেবৈশ্চ ঘোরেচ প্রাণ সঙ্কটে। তদা মুনীন্দ্রৈরৰ্ম্মনুভিৰ্ম্মানবৈঃ সুরথাদিভিঃ। ৫। স’স্তুতা চ পূজিতা কল্পে কল্পে পরাৎপরা | স্তোত্রঞ্চ স্ক্রয়তাং ব্রহ্মণ সৰ্ব্ববিমবিনাশনং সুখদং মোক্ষদং সারং ভবাদ্ধি পারকারণং। ৬

অনুবাদঃ নারায়ণ ঋষি কহিলেন- দেবর্ষে ! পূর্বে গোলক ধামে রাসমন্ডলে পরাৎপর পরমাত্মা কৃষ্ণ মধুমাসে প্রীতিপূর্ণ হৃদয়ে সেই পরমাপ্রকৃতি দূর্গা দেবীর পূজা করিয়া তাহার স্তব করিয়া ছিলেন। পরে মধুকৈটভ যুদ্ধে বিষ্ণু কর্তৃক সংস্তুতা হন, তৎকালে প্রাণসঙ্কট উপস্থিত হইলে ব্ৰহ্মা তাঁহার স্তব করেন, তৎপরে মহাঘোরতর ত্রিপুর যুদ্ধাকালে ত্রিপুরারি দেবাদিদেব তাঁহার স্তুতিবাদে প্রবৃত্ত হন, অতঃপর বৃত্রাসুর বধকালে ঘোর প্রাণ সঙ্কট উপস্থিত হইলে দেবরাজ সমস্ত দেবগণে পরিবৃত হইয়া তাঁহার স্তুতিবাদ করেন, তদনন্তর মুনিত্রয়, মনু ও সুরথাদি মানবগণ প্রতি কল্পে সেই পরাৎপরা পরমাপ্রকৃতির স্তব করিয়াছিলেন। যে যে সময়ে যে যে পুরুষ কর্তৃক সেই মহাদেবী পূজিতা ও স্তুতা হইয়াছিলেন তাহা কীৰ্ত্তন করিলাম। এক্ষণে তাহার সৰ্ব্ববিঘ্ন বিনাশন সুখমোক্ষপ্রদ ভবাদ্ধি পারের কারণ যে সার স্ত্রোত্র তাহা শ্রবণ কর৷

(ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, প্রকৃতিখন্ডম্, অধ্যায় ৬৬,শ্লোকঃ ২-৬)

ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর তোমার মহিমা ।
অন্যে কেবা দিবে সীমা বলিতে না পারে,

( শ্রীচৈতন্যভাগবত, মধ্যখণ্ড, ১৮/ ১৬৭-১৮৫)



👉এখন শ্রাস্ত্র থেকে দেবী দূ্র্গার মাহাত্ম্য প্রকাশ করি।

▪️ঋগ্বেদের দেবী সূক্ত মন্ডল ১০ সূক্ত ১২৫ বলা হয়েছে।

"অহং রুদ্রেভির্বসুভিশ্চরাম্যহমাদিত্যৈরুত বিশ্বদেবৈঃ।
অহং মিত্রাবরুণোভা বিভর্ম্যহমিন্দ্রাগ্নী অহমশ্বিনোমা।।১।।

সরলার্থঃ আমি দুষ্টের দমকারী এবং পৃথিবী আদি সমস্ত লোকের সাথে বাপ্য। আমি ১২ মাস এবং সমস্ত তেজোময় পদার্থের সাথে ব্যাপ্য। দিন এবং রাত্রী উভয় কে আমিই ধারণ করি। সূর্য ও অগ্নি, দ্যুলোক ও পৃথিবীলোক উভয় কেও আমিই ধারণ করি।।১।।

"অহমেব স্বয়মিদং বদামি জুষ্টং দেবেভিরুত মানুষেভিঃ।
যং কাময়ে তংমুগ্রং কৃণোমি তং ব্রহ্মাণং তমৃষি তং সুমেধাম্।।৫।।

সরলার্থঃ আমিই ইহা স্বয়ম উপদেশ করি যাকে বিদ্বান এবং মননশীল জন প্রেমপূর্বক শ্রবন এবং মনন করে। আমি যাকে ইচ্ছা করি তাকে তাকে বলবান করি তাকে চতুর্বেদবিত্ করি তাকে ঋষি এবং তাকে উত্তম মেধাযুক্ত করি।। ৫।।

▪️"সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোহস্তু তে।।
ত্রিশূলচন্দ্রাহিধরে মহাবৃষভবাহিনি।
মাহেশ্বরীস্বরূপেণ নারায়ণি নমোহস্তু তে।।" (শ্রীশ্রীচণ্ডী-১১/১০,১৪)

অর্থাৎ : আপনি সর্বমঙ্গলস্বরূপ, সর্বাভীষ্টসাধিকা, একমাত্র শরণযোগ্যা, ত্রিভুবন-জননী ও গৌরবর্ণা । হে নারয়ণি, আপনাকে প্রণাম। ।। হে দেবী, আপনি ত্রিশূল, অর্ধচন্দ্র ও সর্প ধারণ করেন এবং মহাবৃষ আপনার বাহন। আপনি মহেশ্বর-শক্তিরূপা। হে নারায়ণি, আপনাকে প্রণাম। (১১/১৪)।।

★"সদৈকত্বং ন ভেদোহস্তি সর্বদৈব মমাস্য চ।
যোহসৌ সাহমহং যাসৌ ভেদোহস্তি মতিবিভ্রমাৎ।।- (দেবী-ভাগবত-৩/৬/২)

অর্থাৎ : আমি ও ব্রহ্ম এক। উভয়ের মধ্যে ভেদ নাই। যিনি ব্রহ্ম তিনিই আমি। আমি যাহা, তিনিও তাহাই। এই ভেদ ভ্রমকল্পিত, বাস্তব নয়।

★"উমেতি কেচিদাহুস্তাং শক্তিং লক্ষ্মীং তথাপরে।
ভারতীত্যপরে চৈনাং গিরিজেতামবিকেতি চ।।
দুর্গেতি ভদ্রকালীতি চণ্ডী মাহেশ্বরীতি চ।
কৌমারী বৈষ্ণবী চেতি বারাহীতি তথাপরে।।

অর্থাৎ : সেই দেবীকে কেহ শক্তি, কেহ উমা, কেহ বা লক্ষ্মী বলেন। ভারতী, গিরিজা, অম্বিকা, দুর্গা, ভদ্রকালী, চণ্ডী, মাহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, বারাহী প্রভৃতি নামেও তিনি অভিহিতা। (বৃহৎনারদীয় পুরাণ)

★মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত দেবীমাহাত্ম্যের ত্রয়োদশ অধ্যায়ের (যা সচরাচর চণ্ডী নামে পরিচিত

"যয়া ত্বয়া জগৎস্রষ্টা জগৎপাতাত্তি যো জগৎ।
সোহপি নিদ্রাবশং নীতঃ কস্ত্বাং স্তোতুমিহেশ্বরঃ।।– (চণ্ডী-১/৮৩)

অর্থাৎ– যিনি জগৎস্রষ্টা, জগৎপাতা– এবং যিনি জগৎ-গ্রাসকারী– তিনিও তোমাদ্বারা নিদ্রাবশে নীত হন, সেই তোমাকে স্তব করিতে কে সমর্থ?

"যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।– (চণ্ডী-৫/১৪)

অর্থাৎ– যে দেবী সকল প্রাণীতে বিষ্ণুমায়া নামে [আগমশাস্ত্রে] অভিহিতা হন, তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।

★সেয়ং শক্তির্মহামায়া সচ্চিদানন্দরূপিণী।
রূপং বিভর্তারূপা চ ভক্তানুগ্রহহেতবে।।

অর্থাৎ : সেই সচ্চিদানন্দরূপিণী মহামায়া পরাশক্তি অরূপা হইয়াও ভক্তগণকে কৃপা করিবার জন্য রূপ ধারণ করেন। (দেবী ভাগবত)

★জগৎ- স্বরূপা তুমি, তুমি সর্ব-শক্তি। লজ্জা, তুমি বিষ্ণুভক্তি তুমি শ্রদ্ধা, দয়া।

সাধু-জন-গৃহে তুমি লক্ষ্মী-মূর্তিমতী । অসাধুর ঘরে তুমি কালরূপাকৃতি।

(মাতৃ বন্ধনা শ্রীচৈতন্যভাগবত, মধ্যখণ্ড, ১৮/ ১৬৭-১৮৫)


👉👉শেষ করছি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের করা দেবী দূর্গাকে স্তব দিয়ে। 👇

★👉শ্ৰীকৃষ্ণ উবাচ।
" ত্বমেব সৰ্ব্বজননী মূলপ্রকৃতিরীশ্বরী। ত্বমেবাদ্যা সৃষ্টিবিধৌ স্বেচ্ছয়া ত্রিগুণাত্মিকা | ৭ | কার্য্য্যার্থে সগুণাত্বঞ্চ বস্তুতো নিৰ্গুণা স্বয়ং পরব্রহ্মস্বরুপাত্বং সত্যানিত্যা সনাতনী৷ ৮৷ তেজস্বরূপা পরমা ভক্তানুগ্রহ বিগ্ৰহা সর্ব্বস্বরূপা সর্ব্বেসা সর্ব্বাধারা পরাৎপরা। ৯। সৰ্ব্ববীজ স্বরূপা চ সর্ব্বপূজ্যা নিরাশ্রয়া। সৰ্ব্বজ্ঞা সৰ্ব্বতো ভদ্ৰা সৰ্ব্বমঙ্গল মঙ্গলা৷ ১০৷ সৰ্ব্ববুদ্ধিস্বরূপাচ সৰ্ব্বশক্তি স্বরূপিণী। সৰ্ব্বজ্ঞানপ্রদা দেবী সৰ্ব্বজ্ঞা সৰ্ব্বভাবিনী৷ ১১৷ ত্বং স্বাহা দেব দানেচ পিতৃদানে স্বধা স্বয়ং। দক্ষিণা সৰ্ব্বদানেচ সৰ্ব্বশক্তিস্বরূপিণী৷ ১২৷ নিদ্রাত্বঞ্চ দয়াত্বঞ্চ তৃষ্ণাতৃষ্ণাত্মনশ্চ মে ক্ষুৎক্ষান্তিঃ শান্তিরীশাচ কান্তিঃ সৃষ্টিশ্চ শাশ্বতী ৷ ১৩৷ শ্রদ্ধা পুষ্টিশ্চ তন্ত্রাচ লজ্জা শোভা দয়া সদা ৷ সতাং সম্পংসরূপা চ বিপত্তিরসতামিহ | ১৪| প্রীতিরূপা পুণ্যবতী পাপিনাং কলহাঙ্কুরা। শ্বশংকৰ্ম্মময়ী শক্তিঃ সৰ্ব্বদা সৰ্ব্বজীবিনাম্‌ | ১৫|
(ব্র.বৈ.পু.প্রকৃতিখন্ড/৬৬/৭-১৫)

অনুবাদঃ প্রথমে শ্রীকৃষ্ণ গোলকধামে সেই দুর্গা দেবীর এই রূপ স্তব করিয়াছিলেন, দেবী! তুমি সৰ্ব্বজননী মূল প্রকৃতি, ঈশ্বরী ও সৃষ্টি বিধান কালে আদ্যাশক্তি বলিয়া কীৰ্ত্তিতা হইয়া থাক কেবল স্বেচ্ছাক্রমে তুমি ত্রিগুণাত্মিকা হও| ৭|

দুর্গে! তুমি বস্তুত স্বয়ং নির্গুণা, কেবল কার্য্যার্থে সগুণারূপে প্রকাশ মানা হও। তুমি পরব্রহ্ম স্বরূপা, সত্যরুপিণী, নিত্যা, সনাতনী, তেজ-স্বরূপা পরমা প্রকৃতি| ভক্তজনের প্রতি অনুগ্রহার্থ তোমার মূর্তি প্রকাশ হয় এবং তুমি সর্ব্বস্বরূপা সর্ব্বেশ্বরী সর্ব্বাধারা পরাৎপরা বলিয়া অভিস্থিতা হইয়া থাক। ৮-৯৷

দেবি! তুমি সৰ্ব্ববীজস্বরূপা, সর্ব্বপূজা, নিরাশ্রয়া, সর্বজ্ঞা, সৰ্ব্বতো-ভদ্রা, সৰ্ব্বমঙ্গল মঙ্গলা, সৰ্ব্ববুদ্ধি স্বরূপা, সর্ব্বশক্তি স্বরুপিণী, সৰ্ব্বজ্ঞানদায়িনী ও সৰ্ব্বভাবিনী নামে বিখ্যাত রহিয়াছ৷ ১০-১১।

প্রচারেঃ- সুমন কৃষ্ণদাস🙏🙇‍♀️

23/09/2023

▪️"শ্রীকৃষ্ণ উবাচ ।
"ত্বং মে প্রাণাধিকা রাধা প্রেয়সী শ্রেয়সী পরা ।
৫৬"

অর্থ, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন।
তুমি আমার প্রানাধিকা মঙ্গলপ্রদায়িনী প্রেয়সী রাধিকা।

[ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, শ্রীকৃষ্ণ জন্মখণ্ড ১৫/৫৬]

02/08/2023
23/07/2023

#সনাতনী হিন্দুরা কথা বলার মাঝে শ্রাস্ত্রভাষা সংস্কৃতভাষায় কখন কি বলতে হয়।

#আমরা অনেকেই জানি না হিন্দুধর্মের শ্রাস্ত্রভাষা অনুযায়ী আমাদের কথা বলার মাঝে কখন কি বলতে হয়।

#সংস্কৃতভাষাশিক্ষা
#শ্রাস্ত্রভাষা
#বেদভাষা
#দেবভাষা
#সনাতনধর্ম
#হিন্দুধর্মের

krishna das

19/07/2023

Bhagban ShiKrishna k asur bolate Dinokrishna thakur O Tapash bishwash k daat vangga jobab diye opo-Prochar khondon.

ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অসুর বলায় তাপস বিশ্বাসের দাঁত ভাংগা জবাব দিয়ে অপ-প্রচার খন্ডন .

#সনাতনকথা #সনাতনধর্মীয় #হিন্দুধর্মের , #অপপ্রচারখন্ডন #অপপ্রচার #খন্ডন

17/07/2023

"ত্বং চ সোম নো বশো জীবাতুং ন মরামহে প্রিয়স্তোত্রো বনস্পতিঃ।।"

(ঋগ্বেদ-১/৯১/৬)

ভাবার্থ : যে মনুষ্য পরমেশ্বরকে ভক্তি করেন এবং তাঁর বৈদিক আজ্ঞা অনুযায়ী নিজের জীবন গড়েন, তাঁর নিয়মানুকূলে চলেন, তাঁকে জানেন, তিনি সম্পূর্ণ আয়ু প্রাপ্ত হন এবং মরণান্তে এই ভৌতিক দেহকে ত্যাগ করে মুক্তিধাম প্রাপ্ত হন ।

প্রচারেঃ- সুমন কৃষ্ণদাস

16/07/2023

🕉️ তৎ সৎ
🕉️ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
"সত্যম্ পরম্ ধীমহি (ভা.১/১/১)
"ঋতস্য পথ্যা অনু" (ঋগ্বেদ-৩/১২/৭)
" অসতো মা সদ্ গময়, তমসো মা জোতির্গময়" (বৃহদারণ্যক উপনিষদ-১/৩/২৮)

অর্থাৎ,*পরব্রহ্ম পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ সত্য।

*হে পরমেশ্বর ভগবান বসুদেব শ্রীকৃষ্ণ, আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি।।

-হে মানব সত্যের পথ অনুসরণ করো।
-আমরা পরম সত্য (শ্রীকৃষ্ণের) ধ্যান করি

-হে পরমেশ্বর অসত্য থেকে আমাদের সত্যে নিয়ে যাও। অন্ধকার থেকে আমাদের জোতিতে নিয়ে যাও।

🙏হরেকৃষ্ণ
আমি "সুমন কৃষ্ণদাস" সকলে চরণে আমার প্রণাম🙇‍♀️।

"শ্রীমান সুমন কৃষ্ণদাস" ফেসবুক পেজে আপনাদের সু-স্বাগতম। আমি একজন সনাতনী ছাত্র। শ্রাস্ত্রজ্ঞানের পিপাসু। নিজের ধর্ম গ্রন্থ পড়ে অনেক ভালোবাসি কারণ "ছাত্রনাং অধ্যাণম্ তপঃ " শিষ্য বা ছাত্রদের শ্রাস্ত্র গ্রন্থ অধ্যয়ণ বা পড়াশুনাই তপস্যা। কারন, "ন হি জানেন সদৃশ্য প্রবিত্রম্ ইহ বিদ্যতে" (গীতা-৪/৩৮)

এই জগতে দিব্যজ্ঞানের (পারমার্থিক শ্রাস্ত্রজ্ঞান) মতো পবিত্র আর কোনো কিছু নেই।

সেই জন্য আমাদের নিজেদের ধর্মকে জানতে ও বুঝতে হয়ে সদগুরুর বা (ভগবত তত্ত্বজ্ঞানী) নিকট অধিনস্ত হয়ে নিজেদের ধর্মগ্রন্থকে বুঝা ও পড়াশোনা করা উচিত।

❏"গীতাধ্যায়নশীলস্য প্রাণায়মপরস্য চ । নৈব সত্তি হি পাপানি পূর্বজন্মকৃতানি চ ॥"
(গীতা-মাহাত্ম্য ২)

➢ অনুবাদঃ-“কেউ যদি আন্তরিকভাবে এবং অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ভগবদ্‌গীতা পাঠ করে, তা হলে ভগবানের করুণায় তার অতীতের সমস্ত পাপকর্মের ফল তাকে প্রভাবিত করে না।”

▪️তাছাড়া বর্তমানে ফেসবুক ইউটিউব সহ ভিবিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিবিন্ন অপ-প্রচারকারীরা সনাতনী প্রক্ষিপ্ত শ্রাস্ত্র থেকে ও ভুল বা বিকৃত মন্ত্রে অনুবাদকৃত লেখকের গ্রন্থ সামনে রেখে সনাতন (হিন্দু) ধর্ম ও ধর্মশ্রাস্ত্রে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মিথ্যাচার, অপ-প্রচার করে বেড়াচ্ছে। অনেক হিন্দুরা এইসব অপ-প্রচারের স্বীকার হচ্ছে তারা বিভ্রান্তকারীদের ভন্ডামীতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে।

👉আমি সুমন কৃষ্ণদাস ঐসব ভুল ব্যাখ্যাকারী, মিথ্যাচারী,অপ-প্রচারকারীদের- তাদের অপ-প্রচার বিশুদ্ধ সনাতন শ্রাস্ত্র থেকে খন্ডন করে দাঁত ভাংগা জবাব দিবো। এবং সত্যকে প্রচার করবো।

সেই জন্য আপনারদের কৃপা আশির্বাদ কামনা করছি। আপনারা আমার -ইউটিউব চ্যানেলে সাবক্রাইব ও ফেসবুক পেজে লাইক ফলো দিয়ে পাশে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address

Dhaka