05/07/2026
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্রীদের কিছু কথা বলতে চাই -
১। আপনারা আজীবন স্কুল এবং কলেজে অনেক পড়াশোনা করে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে। আপনাদের মা বাবা আপনাদের অনেকজনকে অলরেডি অতীতে বলেছে, এখন ঠিক মত পড় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যা খুশি তাই কর। একটা জিনিস মনে রাখবেন আমাদের দেশের কারিক্যুলাম এখনো এমন যে স্কুল এবং কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা হলো ভোগাস। আপনার জ্ঞান অর্জনের আসল সময়টায় হলো বিশ্ববিদ্যালয়। যেসব মোরালিটি বা সাইকোলজি বিল্ডাপের ব্যাপার আপনার স্কুল কলেজে শেখার কথা ছিল তা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক পড়াশোনা করেন। আপনার কাজে আসবে আজীবন।
২। প্রেম আসলে হারাম। ধর্মে যেটা হারাম বলা আছে সেইটা হারাম। এরপরও আপনি না মানতে চাইলে জাজ করবো না। শুধু বলবো বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনে প্রেম থেকে দূরে থাকুন। প্রেম করার বয়স হলো স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পাওয়ার পর। এই অনার্সের জীবনটা স্কিল বাড়ান। নাম্বারেরও দরকার আছে, স্কিলেরও দরকার আছে।
৩। নামায আদায় করেন। এমন একটা মানুষ বানাবেন নিজেকে যে দুনিয়াতেও ক্যারিয়ারে সেরা আবার আল্লাহর কাছেও সেরা। মানে সবখানে সেরার মুকুট আপনাকে ছিনিয়ে নিতে হবে। নামাযের সময় হলে ব্রেক নিয়ে নামাযটা পড়ে আবার দুনিয়াবী লড়াইয়ের জন্য পড়াশোনা শুরু করে দিবেন। ধর্মীয় জ্ঞান এবং দুনিয়াবী নলেজ দুইটাতেই সেরা হতে হবে। আল্লাহর রাস্তায় সময় ব্যয় করতে হবে আবার দুনিয়াতে সেরা পজিসন হোল্ড করতে হবে।
৪। ছাত্রজীবনে ফিটনেস নিয়ে সচেতন থাকবেন। নিজের ফিটনেসের জন্য দুই ঘন্টা রাখবেন। অন্যদিকে সারাদিনের নামায মিলিয়ে দেড় ঘন্টা। নিজের জন্য সব মিলিয়ে সাড়ে ৩ ঘন্টা রাখবেন। দুনিয়াতে যত যাই হোক সকল সম্পর্ক ভুলে এই সাড়ে তিন ঘন্টা আপনি শুধু আপনার একার।
৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচাইতে ভাল ছেলেটাও যেন আপনার ক্লোজ ফ্রেন্ড হয় আবার সবচাইতে জঘণ্য ছেলেটাও। ছাত্র জীবন থেকে এমন ভাবে সার্কেল বানান যেন সমাজের বুদ্ধিজীবীও আপনার বন্ধু আবার সমাজের একজন মাফিয়াও আপনার বন্ধু। লাইফে কখন কে কাজে আসে আপনি নিজেও জানেন না। আপনি এমন একটা ছেলে থাকবেন যে টপার, যার ফ্রেন্ড সার্কেল ক্যাম্পাসের টপার আবার ক্যাম্পাসের সেরা ব্যাড বয়ও আপনার ফ্রেন্ড। মানে উভয় মহলেই যেন আপনার বিচরণ থাকে।
৬। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন পড়েন। সারাক্ষণ পড়ার দরকার নেই। প্রতিদিন ৩-৪ ঘন্টা পড়েন। আর নিয়মিত ক্লাসে যাবেন। ক্লাসটা নিয়মিত করে প্রতিদিন ৩-৪ ঘন্টা পড়বেন রেজাল্ট আপনার ই ভালো হবে।
৭। তিন থেকে চার ঘন্টা যে পড়াশোনা করবেন সেইটা নিজের বাসায় করবেন না। বাসা হলো এক্সামের পড়া রিভাইস দেওয়ার জন্য। সেই তিন থেকে চার ঘন্টা পড়বেন লাইব্রেরিতে। মনে রাখবেন লাইব্রেরির ১ ঘন্টা পড়ার সমান মানে বাসায় বা হলে বসে ৫ ঘন্টা পড়াশোনার সমান। কারণ, লাইব্রেরির পরিবেশ এমন যে ওখানে ঢুকলেই আপনার অবচেতন মন আপনাকে পড়াশোনার প্রতিই ফোকাসড রাখবে। ঘাড় ঘুড়িয়ে যখন দেখবেন যে পাশের মানুষ পড়ছে আপনার আবার মনোযোগ এসে যাবে।
©ollected