19/05/2026
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের হেফাজত করুন!!
ভাই! আপনার সন্তানকে মি//শ//না//রি//দের কাছে কবে দিয়েছেন? উত্তর-"যখন সে মায়ের পেটে ছিল তখন!"
ছোট্ট একটা প্রশ্ন। তার চাইতেও ছোট্ট উত্তর। কিন্তু এই প্রশ্নোত্তরের পিছনে রয়েছে মর্মস্পর্শী এক কাহিনী...
এক মায়ের গর্ভে সন্তান এসেছে। গর্ভের বয়স তিন মাস। দিনমজুর স্বামী। ভূমিহীন অসহায় পরিবার। গোলপাতার ঝুপড়ির নিচে দিন গুজরান করছেন।
এক সকালে এই ঝুপড়ির সামনে কয়েকজন নারীকে দেখা গেল। অফিসিয়াল ড্রেসআপ। তারা এই মায়ের খোঁজ খবর নিতে লাগলো। তাদের কথাবার্তায় বোঝা গেল- এই মায়ের গর্ভ সম্পর্কে তারা আগে থেকেই জেনে এসেছে।
সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতার পর তারা প্রস্তাব করল- যেহেতু গর্ভকালীন মায়েদের বিশেষ যত্ন ও পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন হয়। যার ব্যয় বহন করা গৃহকর্তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারাই এই মায়ের গর্ভকালীন পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে চায়।
এত সুন্দর প্রস্তাবে না করার কোন কারণ নেই। গর্ভবতী মা খুব সহজেই রাজি হয়ে যান। সেই ম্যাডামরা তাকে আয়রন ট্যাবলেট, নানা রকম পুষ্টিকর খাবার ও দুধ ডিম কেনার জন্য পর্যাপ্ত টাকা দিয়ে যায়।
এভাবেই আরো কিছু দিন কেটে যায়। ম্যাডামদের নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয় এই ঝুপড়িতে। এর মধ্যেই ফুটফুটে এক কন্যা শিশুর জন্ম হয়। সাহায্যকারী ম্যাডামরা বহু উপহার উপঢৌকন আর প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হয়।
অভাবের ঘরে সাধারণত জন্মের আনন্দ উদযাপনের সুযোগ থাকে না। কিন্তু এই ম্যাডামরা যেন এই পরিবারের আনন্দের সকল শূন্যস্থান পূরণ করে দেয়। চির দুঃখী এই পরিবারটির জন্য ম্যাডামরা যেন স্বর্গীয় আনন্দের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
ঠিক এ সময়েই কথায় কথায় তারা নতুন মা'কে জিজ্ঞাসা করে- শিশুর ভবিষ্যতের জন্য কি ভেবে রেখেছেন? তার সুন্দর পরিচর্যা, ভালো পড়াশোনা কীভাবে হবে? গ্রামের সহজ সরল এই মায়ের কাছে এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট কোন জবাব থাকে না।
জবাব সেই ম্যাডামরাই প্রদান করে। বলে- আপনি যদি সম্মত হন, তাহলে ২২ বছর পর্যন্ত এই শিশুর সকল দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করব। ৪-৫ বছর পর্যন্ত তাকে কিছু খাদ্য প্রদান করব। এরপর তাকে আমাদের মি/শ/ন স্কুলে ভর্তি করব। বয়প্রাপ্ত হলে তার সকল প্রকার উপকরণ ব্যবস্থা করব। প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাকে পাত্রস্থ করে দেবো।
লোভনীয় সব প্রস্তাব। সরল পিতা-মাতার জন্য এই প্রস্তাবের পেছনে থাকা কোন দূরভিসন্ধি আঁচ করা সম্ভব হয় না। অথবা এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কোন প্রয়োজন তারা অনুভব করেন না। তারা সাগ্রহে স্বাক্ষর করে দেন সেই ফর্মে।
শিশু কন্যা জানতেও পারেনা- তার জন্মের আগে থেকেই একটি মহল তাকে নিয়ে কী চরম পরিকল্পনায় লিপ্ত হয়েছে! এমনকি তা কাগজে-কলমে পাকাপোক্ত হয়ে আছে!!
৪-৫ বছর বয়সে শিশুটিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মি//শ//ন স্কুলে। খাতা কলম সবকিছু স্কুল থেকেই সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন টিফিন প্রদান করা হয় ওখান থেকে। সপ্তাহে দুই দিন ভালো খাবার দেওয়া হয় সেখানে।
২০২৬ সালের ১৭ মে আমাদের সাথে কথা হয় সেই কন্যা শিশুর। শিশুটি অকপটে স্বীকার করে- খাবার খাওয়ানোর সময় তাদেরকে যী//শুর নাম উচ্চারণ করে খাবার খেতে বলা হয়। তাদেরকে বাই//বেলও পাঠ করানো হয়। এভাবেই শিশুটি শৈশব অতিক্রম করে কৈশরে পা দেয়।
সেই কিশোরীর পিতার সাথে কথা হয় আমাদের। তাকে আমরা জিজ্ঞাসা করি- ভাই! আপনার সন্তানকে মি//শ//না//রি//রা কবে নিয়ে গেছে?
তিনি উত্তর দেন-"যখন সে মায়ের পেটে ছিল তখন!"
এরপর তার কাছ থেকেই আমরা জানতে পারি নেপথ্যের পুরো ঘটনা।..
টীকা-১
মুসলমান মায়ের গর্ভের সন্তানকে দখল করে নিচ্ছে মি//শ//না//রী। সেই সন্তান যিশুর নামে খাবার খাচ্ছে আর বাইবেল পাঠ করছে। এরপরও কি আমরা দ্বীন ঈমানকে নিরাপদ মনে করছি? ভাবছি- আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মুসলিম পরিচয় ধারণ করবে??
সত্যিই যদি এমন কোন কল্পনা করে থাকি; তাহলে সেটাকে আকাশ-কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই বলার নেই!
টীকা-২
তাদের এইসব কার্যক্রমের বড় একটা অংশ জুড়ে রয়েছে আর্থিক সহযোগিতা। তাই এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুসলমানদের অভাব পূরণের যথাসাধ্য চেষ্টা আমাদের করা উচিত। সেই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল আযহায় এই ভাইদের মধ্যে আমরা কুরবানির গোশত বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিস্তারিত কমেন্টে দেখুন-
ইরফান জিয়া । Erfan Zia