16/09/2026
কিছু কথা বলবো। মেনে চললে ইনশাআল্লাহ উপকৃত হবেন।
১) রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বেন। কমপক্ষে ১১টার মধ্যে তো অবশ্যই। ১০টায় ঘুমাতে পারলে আরও ভালো। রাত জেগে কাজ না করে কাজগুলো ফজরের পরের জন্য রাখুন।
২) রাতে ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। অবশ্যই সহজপাচ্য খাবার। এতে হজমের নানা সমস্যা কমে আসবে।
৩) ফজরের আগে বিছানা ছাড়বেন। ঘুম থেকে উঠে অন্য যেকোনো খাবার খাওয়ার আগে, এমনকি রুম টেম্পারেচারে থাকা পানি খাওয়ার আগেও এক গ্লাস কুসুম গরম পানি খাবেন প্রতিদিন।
৪) ফজরের আযকার শেষ করে সারাদিনের জন্য রুকইয়াহ পানি পড়া রেডি করে রাখবেন। এখন প্রায় সবারই বদনজর, হাসাদ এসব সমস্যা হয়ই। তাই প্রতিদিন রুকইয়াহ পানি খাওয়া ও রুকইয়াহ গোসল দেওয়া ভালো। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে একদিন!
৫) সকালের সময়টায় যত বেশি কুরআন তিলাওয়াতে সময় দিবেন, সারাদিন তত বেশি বারাকাহ্ পাবেন। বিশেষ করে সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত করার চেষ্টা করবেন, যত আয়াত পারেন। এটা অসম্ভব ফজিলতপূর্ণ সূরা।
৬) মেয়েরা ঘরের কাজকর্মে পরিশ্রম করে। তবুও বলবো, প্রতিদিন অন্তত ১৫/২০ মিনিট আলাদা করে এক্সারসাইজ করবেন। বডির প্রতিটা জয়েন্টের মুভমেন্ট খুব দরকার। স্কোয়াট, বাটারফ্লাই পোজ, ব্রিদিং এক্সারসাইজ ইত্যাদি ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ ইউটিউব দেখে শিখে নিবেন। এক্সারসাইজ করলে শরীর ফুরফুরে থাকবে। মন-মেজাজ তুলনামূলক ভালো থাকবে। বয়স যেমনই হোক, বডি টোনড থাকবে।
৭) সূর্যের আলো গায়ে মাখার আগে ফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হওয়া উচিত নয় আসলে। আমার নিজেরই এই বদঅভ্যাস আছে। চেষ্টা করছি নিজেকে পরিবর্তন করার। সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ বসে তারপর প্রয়োজনে ফোন হাতে নেওয়া উচিত।
৮) সকালে তো সবারই ফোনটা হাতে নেওয়াই হয়। হোক তা প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে। ফোন হাতে নিয়ে বিকাশ, নগদ, রকেট যে অ্যাপ আপনার কাছে এভেইলএবল, সে মাধ্যমে বিশ্বস্ত কোনো ফান্ডে সদকাহ্ করে দিবেন।
সকালে একদল ফেরেশতা দুনিয়ায় আসে, যারা দানশীলের জন্য বরকতের দুআ ও কৃপণের জন্য ধ্বংসের দুআ করে যায়। হোক ১ টাকা, সামান্য দান করেও আপনি ফেরেশতার বরকতের দুআ পেতে পারেন ও ধ্বংসের দুআ থেকে বেঁচে যেতে পারেন।
সদকাহ্ করার কোনো অপশন না পেলে মনে মনে নিয়্যাত করে আলাদা টাকা সরিয়ে রাখবেন। পরে বাসা থেকে বের হলে বা সুযোগ বুঝে সদকাহ্ করে দিবেন।
৯) দুধ চা খাওয়া ছেড়ে দিবেন। হ্যাঁ, এটা আমি 'চাখোর' বলছি। যে আমার নিজেরই দুধ চা ছাড়া চলতো না। সত্যি বলছি, দুধ চা খাওয়া ছাড়তে পারলে আপনি অনেক বেশি উপকৃত হতে পারবেন সবদিকে!
১০) দেশীয় ফল খাবেন প্রতিদিন। যেই সিজনে যা পান, সেটাই খাবেন।
১১) রোদে বসবেন প্রতিদিন ১০/১৫ মিনিট। ভিটামিন ডি এর অভাবে এ দেশের অধিকাংশ মেয়েরা কোমরব্যথা, মুড সুইংসহ নানা সমস্যায় ভুগে। ভিটামিন ডি লেভেল কমে গেলে ডাক্তার দেখিয়ে সাপ্লিমেন্ট নিবেন, পাশাপাশি রোদে বসতে হবে।
পর্দা মেইনটেইন করে কিভাবে রোদে বসাটা ম্যানেজ করা যায় বলতে পারছি না। আল্লাহকে বলবেন সহজ করে দিতে। তাঁর দেওয়া শরীর। তিনিই ব্যবস্থা করবেন।
১২) ইউরিন আর ইস্ট ইনফেকশন কমন সমস্যা। লেবু খাবেন প্রতিদিন। প্রোবায়োটিক রাখবেন (টকদই বা প্রোবায়োটিক আচার যেটা সুবিধা হয়)।
১৩) অলস বসে থাকবেন না। এমন কিছু করবেন, যাতে নিজের ও অন্যের দুনিয়া এবং আখিরাতের কল্যাণ সাধন হয়। কারও ক্ষতি না হয়।
১৪) সারাদিন জবানকে যিকরে ব্যস্ত রাখবেন। দুরুদ ও ইস্তেগফার করবেন। ইনশাআল্লাহ সব কাজে সহজতা আসবে।
১৫) অযু নষ্ট হলে অযু করে নেওয়া ভালো। অধিক পরিমাণে অযুকারীর অঙ্গ কেয়ামতের দিন উজ্জ্বল হবে।
১৬) দুপুরের খাবারের এক ঘণ্টা পর মৌরি ফুটিয়ে সেই পানি খেতে পারেন। শরীর হালকা লাগবে।
১৭) চুলে প্যাক লাগাবেন মাঝে মাঝে। নখে, হাতে মেহেদী দিবেন। এটা নারীদের জন্য সুন্নাহ আমল। আর নখ ছোট রাখবেন।
১৮) চেষ্টা করবেন, সপ্তাহে তিন-চার দিন হলেও শরীরে তেল মাখার। গরম লাগলে গোসলের আগে ম্যাসাজ করে তারপর গোসল দিবেন। জয়তুন তেল হলে ভালো হয়।
১৯) প্রতিদিন গোসল করবেন। গোসলের আগে পরা কাপড় আবার গায়ে দিবেন না। এই অভ্যাস মোটেই ভালো না। বাসার জন্য সুন্দর, হালকা ঘ্রাণের আতর রাখবেন৷ পরিষ্কার ও সুবাসিত থাকলে সব মেয়েকেই সুন্দরী লাগে। (নন-মাহরামের সামনে সুগন্ধি ব্যবহার নিষেধ)
২০) কয়েক মাস পর পর হিজামা করবেন। শরীর ব্যথামুক্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ। হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ এটি। হাদিসে বর্ণিত, সবচেয়ে উত্তম চিকিৎসা হিজামা।
২১) দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার রাখবেন।মিসওয়াক করবেন। জয়তুনের মিসওয়াক সবচেয়ে ভালো। দাঁত একদম চকচকে লাগে।
২২) জিনিসপত্র অকারণে জমিয়ে জমিয়ে রাখবেন না। এক্সট্রা কিছু থাকলে, সেটা আপনার প্রয়োজন না হলে অন্য কোনো নিডি মানুষকে দিন। আল্লাহ আপনাকে বরকত দিবেন। দেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনদের প্রাধান্য দিবেন।
২৩) মাঝে মাঝে সাজগোজ করতে হয় মেয়েদের। জীবনে যত সমস্যা থাকুক, বয়স ৫০+ হোক, হালাল রংঢং বাদ দিবেন না। এটা মেয়েদের সৌন্দর্য। রিজনেবলেই এখন কাজল, লিপ অয়েল পাওয়া যায়। দু-একটা কালেকশনে রাখবেন।
২৪) যাদের বয়স ৩০+ হয়ে গেছে, কিন্তু বিয়ে হয়নি, ফেসবুকের আবুল তাবুল কথায় নিজেকে ছোট ভাববেন না। আল্লাহ ইজ্জত দেন। সম্মানিত করেন। অন্য মানুষ যেমন, আপনিও আল্লাহর কাছে তেমনই। তো আপনি আপনার সমমানের কারও কথায় এত হতাশ হবেন কেন?
দুআ করবেন প্রচুর উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য। কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্তেও সন্তুষ্ট থাকবেন। দুআ করি, আল্লাহ অবিবাহিত বোনদের উত্তম বর ও উত্তম ঘর মিলিয়ে দিন। বিবাহিতদের সংসারে বারাকাহ্ দিন।
২৫) দুআ করতে গিয়ে অন্যের জন্য দুআর কথা মনে এলো। নিজের পাশাপাশি অন্যের জন্য দুআ করবেন। এতে মন হিংসা থেকে মুক্ত থাকবে৷ হিংসা খুব খারাপ জিনিস। এটা নিজেকে পোড়ায়, সেই সাথে অন্যকেও।
২৬) মাঝে মাঝে খালি পায়ে মাটিতে হাঁটবেন। এটা সুন্নাহ। বাড়ির আঙ্গিনায়, বেলকনিতে ফুলের গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন সবুজ, ঔষধি গাছ যেমন-নিম,কারিপাতা ইত্যাদি গাছ রোপণ করবেন৷
২৭) অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং মারাত্মক ক্ষতিকর। সালাতের খুশু-খুযু নষ্ট হয় এর কারণে। আমার নিজেরই ইদানীং এই অভ্যাস বেড়েছে। আল্লাহ আমাকেসহ অন্য যারা এই কুঅভ্যাসে জড়িত, তাদের হিদায়াত দিন।
২৮) মা-বাবার সাথে সদাচরণ করবেন। তাদের জন্য দুআ করবেন। ইনশাআল্লাহ আপনার দুআ কবুল হবে। রিজিকে বরকত হবে। আমি যেদিন আমার মা-বাবার সাথে কর্কশ কণ্ঠে কথা বলি, আমার দুনিয়া এলোমেলো হয়ে যায়। শরীর ভার লাগে। আল্লাহ এই ব্যাপারে বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন ও মা-বাবার সাথে সদাচরণের তওফিক দিন।
২৯) একাকী খাবেন না। ভাগযোগ করে খাবেন। পরিবারের সাথে একসঙ্গে বসে খাবেন। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হবে। মোহাব্বত বাড়বে। রান্না থেকে অল্প অল্প আশেপাশের মানুষকে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আর খাবার খাওয়ার সময় ফোন চালাবেন না বা দেখবেন না৷
৩০) দুপুরে খাবার খাওয়ার পর একটু ঘুমাবেন। এটাকে কাইলুলা বলে। শয়তান কাইলুলা অপছন্দ করে আর ফজরের পরের ঘুমকে পছন্দ করে। ফজরের পর না ঘুমিয়ে সারাদিনের বাকি কাজ গুছিয়ে নিবেন। ইনশাআল্লাহ বরকত পাবেন।
৩১) কখনোই মনে করবেন না, আপনার যোগ্যতা আছে বলেই যোগ্য স্থানে যাবেন। কখনোই মনে করবেন না, বাবা বা স্বামী আপনার রিজিকদাতা। কখনোই মনে করবেন না, আপনি কাজে দক্ষ বলে নিজের টাকায় নিজে চলতে পারেন। কখনোই মনে করবেন না, আপনি পড়াশোনায় ভালো বলে ভালো রেজাল্ট করেন। কখনোই মনে করবেন না, আপনার লেখা ভালো, তাই মানুষের হৃদয়ে দাগ ফেলে।
বরং, সকল কিছুর ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লাই একক ক্ষমতাবান। তিনি দেন বলেই আমরা পাই। তিনিই করেন সবকিছু। আমাদের শ্রম, মেধা, চেষ্টা, সম্মান, অর্জন তাঁর তওফিকেই হয়। এই বিশ্বাস নিজের মাঝে গেঁথে নিতে পারলে আপনি জীবনে অনেক কিছুই করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
পয়েন্টগুলো বেশ এলোমেলো হয়েছে জানি। যখন, যেভাবে, যা মাথায় এসেছে, তাই তাই লিখেছি। লেখাটা আমার জন্যই লিখেছি। আপনাদের সামান্য উপকার হলে এটাই আমার পাওয়া।
~ তাহিয়া ইসলাম