20/10/2022
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে রমযানের যাকাত, সদকায়ে ফিতর সংরক্ষণ ও পাহারা দিবার দায়িত্ব দিলেন। এদায়িত্ব পালনকালে এক ব্যক্তি আমার কাছে আসল এবং খাদ্যবস্ত তুলে নিতে লাগল৷ আমি তাকে ধরে ফেললাম।
১ম দিন ****
তাকে বললাম, আমি তোমাকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর খেদমতে পেশ করবো। সে বলল, আমি একজন অভাবী। সন্তানদের বোঝাও আমার ঘাড়ে আছে এবং আমার প্রয়োজনও খুব বেশী। এ কথা বলায়, আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।
পরদিন সকালে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আবু হুরায়রা! গত রাতে তোমার কয়েদী কি করল? আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সে তার অভাব এবং সন্তানদের কথা বলল, আমি তাই দয়াপরবশ হয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বললেন, “সে অবশ্য তোমাকে মিথ্যা বলেছে। তবে আবার সে আসবে।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কথায় আমি জানতে পারলাম, সে আবার আসবে। তাই আমি তার জন্য আঁড়ি পেতে থাকলাম।
২য় দিন ****
সে এসে খাদ্যবস্তু তুলে নিতে লাগল। আমি বললাম, আমি তোমাকে অবশ্যই এবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত করবো। সে বলল, “আমাকে ছেড়ে দাও। কারণ আমি অভাবী এবং আমার সন্তানদের বোঝাও আমার উপর রয়েছে। এরপর আমি আর চুরি করতে আসবোনা। এ কথা বলায়, তার অনুরোধে দয়াপরবশ হয়ে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।
পরদিন সকালে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু হুরায়রা! গত রাত্রে তোমার বন্দি কি করলো? আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! (সাঃ) সে অভাব এবং সন্তান প্রতিপালনের ব্যয়ভারের অভিযোগ করলো। তাই আমি দয়াপরবশ হয়ে তাকে ছেড়ে দিলাম।
তিনি বললেন, “অবশ্য সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে। তবে সে আবার আসবে।”
৩য় দিন ****
এরপর আমি তৃতীয়বারের মত তার জন্য আঁড়ি পেতে থাকলাম। সে এসে আবারও খাদ্যবস্তু সরাতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, এবারে অবশ্যই আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট হাজির করবো। কারণ, এই নিয়ে তিন বার তুমি বলেছ যে, তুমি আর চুরি করবেনা। কিন্তু প্রত্যেকবারই তুমি চুরি করতে আস। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে এমন কিছু কালেমা শিখিয়ে দেব যার ফলে আল্লাহ আপনাকে লাভবান করবেন। আমি বললাম, সে গুলো কি? সে বলল, যখন বিছানায় ঘুমাতে যাবেন তখন আয়াতুল কুরসী পড়বেন৷ এর ফলে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আপনার উপর সবসময় একজন হিফাজতকারী নিযুক্ত থাকবে এবং শয়তান আপনার নিকটে ঘেঁসতেই পারবেনা এবং এভাবে সকাল হয়ে যাবে। একথা শুনে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম৷
পরদিন সকালে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে দেখে আবার জিজ্ঞেস করলেন, “গতরাতে তোমার কয়েদী কি করল, আবু হুরাইরা?” আমি বললাম, “ইয়া রাসূলুল্লাহ! সে ওয়াদা করল যে, সে এমন কিছু কালেমা শিখিয়ে দিবে যার ফলে আল্লাহ তায়ালা আমাকে লাভবান করবেন। ফলে আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “সেগুলি কি?” আমি বললাম, সে আমাকে বললো, আপনি বিছানায় ঘুমাতে যাওয়ার সময় আয়াতুল কুরসী পড়বেন। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত। আর সে আমাকে এও বলেছে, এর ফলে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একজন হিফাজতকারী সব সময় আমার উপর নিযুক্ত থাকবে এবং শয়তান আমার কাছেও ঘেঁসতে পারবেনা এবং এভাবেই সকাল হয়ে যাবে। একথা শুনে নবী করীম (সাঃ) বললেন, “এ কথাটা সে অবশ্য তোমাকে সত্য বলেছে, তবে সে নিজে একজন মহা-মিথ্যুক৷ কিন্তু হে আবু হুরাযরা! তুমি কি জান? গত তিন দিন থেকে তুমি কার সাথে কথা বলে আসছো?” আমি বললাম, না, আমিতো জানি না। তিনি বললেন, “সে হচ্ছে শয়তান”। [বুখারী]