নিষিদ্ধ উচ্চারণ

নিষিদ্ধ উচ্চারণ নীরবতার বিরুদ্ধে, বিবেকের শব্দ।

19/06/2026

জাতীয়তাবাদের আড়ালে আত্মপরিচয়ের সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক সত্য!

লিখেছেন : আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ আরহাম

​বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উদ্ভব এবং পরবর্তী কয়েক দশকের জাতীয় রাজনীতিতে ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদ’ একটি অবিসংবাদিত ধ্রুবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা সমাজতত্ত্বের শীতল দৃষ্টিতে দেখলে বোঝা যায়, এটি যতটা না একটি স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ, তার চেয়ে অনেক বেশি একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। এই প্রকল্পের আড়ালে যে বড় ধরনের আত্মপরিচয়ের সংকট ও ঐতিহাসিক বৈষম্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনার সময় এসেছে।

১. ​অভিন্ন জাতীয়তাবাদের মিথ বনাম ধর্মীয় বাস্তববাদ:
​বাঙালী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তারা দাবি করেন, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে আমরা একটি অভিন্ন জাতিসত্তায় বিশ্বাসী। কিন্তু আমাদের সমাজবাস্তবতায় ধর্ম সবসময়ই জাতীয় পরিচয়ের সমান্তরালে এক শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভারতবিরোধী মানসিকতার শিকড় অত্যন্ত গভীরে।
পক্ষান্তরে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভারত-কেন্দ্রিক বা ‘অখণ্ড ভারত’-এর প্রতি এক ধরনের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রকাশ পাওয়া যায়। এই যে দুটি ভিন্ন মেরু, একে অস্বীকার করে ‘বাঙালী’ পরিচয় দিয়ে সবাইকে এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা এক ধরনের কৃত্রিমতারই নামান্তর।

২.​ইতিহাসের দায় ও বিচারের মানদণ্ড:
​আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, সেখানে ‘রাজাকার’ তকমাটি কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ওঠে—পাকিস্তান ভাঙার দায় যদি পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের ওপর বর্তায়, তবে তাদের সেই রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে কি রাষ্ট্রদ্রোহিতা ছাড়া অন্য কোনো দৃষ্টিতে দেখা সম্ভব ছিল না?

​এখানেই প্রশ্ন আসে দ্বিচারিতার। যদি হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ তাদের ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে অখণ্ড ভারতের আদর্শ লালন করতে পারে, তবে মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশ কেন তাদের ধর্মীয় ও আদর্শিক আবাসভূমি ‘পাকিস্তান’-কে অটুট রাখতে চাইল না? যদি একজনের লক্ষ্যকে ‘দেশপ্রেম’ বলা হয়, তবে অন্যজনের লক্ষ্যকে কেন ‘দেশদ্রোহিতা’র মানদণ্ডে বিচার করা হলো? বিচার বা ইতিহাসের সত্য যখন কেবল বিজয়ী শক্তির বয়ান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, তখন তা ন্যায়বিচার নয়, বরং ‘প্রোপাগান্ডা’র রূপ পরিগ্রহ করে।

৩. ​ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পশ্চিম বাংলার চিত্র:
​পশ্চিম বাংলার হিন্দু সমাজ বা রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদ’-এর চেয়ে ‘হিন্দুত্ববাদী’ বা ভারতীয় জাতীয়তাবাদ অনেক বেশি প্রকট। তারা কখনোই তাদের জাতীয় পরিচয়ের বিসর্জন দিয়ে একটি স্বাধীন বা আলাদা সত্তার কথা ভাবে না। অথচ বাংলাদেশে এসে সেই একই গোষ্ঠী যখন ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদ’-এর কথা বলে, তখন তা রাজনৈতিক কৌশলের অংশ ছাড়া আর কী হতে পারে? এটি পরিষ্কার যে, জাতীয়তাবাদ এখানে একটি হাতিয়ার—যা দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করা হয় এবং অন্যকে তার নিজস্ব আদর্শ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা চালানো হয়।

৪. ​ব্রেইনওয়াশিং ও চিন্তার স্বাধীনতা:
​আমাদের শিক্ষা এবং মূলধারার প্রচারমাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে একতরফা বয়ান তৈরির ফলে একটি প্রজন্ম মানসিকভাবে অনেকটা ‘ব্রেইনওয়াশড’। যেকোনো ভিন্নমতের আলোচনাকেই এখানে রাষ্ট্রবিরোধী আখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ তো সেটিই, যেখানে ইতিহাসের সব পক্ষকে শোনার ধৈর্য থাকবে। কেন দেড় কোটি হিন্দু নাগরিকের একটি বড় অংশের মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের প্রতি টান বেশি—এই সত্যটি নিয়ে যদি আমরা প্রশ্ন না তুলি, তবে আমরা কখনই একটি স্থিতিশীল জাতীয় ঐক্য গড়তে পারব না।

৫.​প্রোপাগান্ডার উর্ধ্বে গিয়ে সত্যের অনুসন্ধান:
​আমরা যদি সত্যিই একটি পরিপক্ক রাষ্ট্র হতে চাই, তবে আমাদের ইতিহাসের এই ‘অন্ধকার’ দিকগুলোকে সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদ’ কোনো পবিত্র শাস্ত্র নয় যে তাকে প্রশ্ন করা যাবে না। এটি একটি রাজনৈতিক ধারণা মাত্র, যা সময় ও পরিস্থিতির বিচারে ব্যর্থ বা বিতর্কিত হতে পারে।

​আজ সময় এসেছে প্রোপাগান্ডার মোড়ক খুলে ইতিহাসের অন্দরমহলে প্রবেশের। আমাদের বুঝতে হবে, ধর্ম ও রাজনীতি এখানে পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করতে ব্যর্থ হয়, সেই রাষ্ট্র কখনোই প্রকৃত অর্থে সংহতি অর্জন করতে পারে না। আমাদের উচিত আবেগ দিয়ে নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নিজেদের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা।

07/04/2026

কবিতা - ৮: ​ক্রিকেটের আঙিনায় শকুনের ছায়া

কবি : অগ্নিবিবেক

​পুরানো দেয়াল ভেঙে ফেলার এ কোন মত্ত খেলা?
আঁধার রাতে নিয়ম পুড়িয়ে করছ অবহেলা।
যে বোর্ড ছিল আস্থার ঠাঁই, ঐতিহ্যে ঘেরা ঘর,
আজ সেখানে তুঘলকি কাণ্ড, আপন হলো পর।

​গণতান্ত্রিক রীতিনীতি আজ ধুলোয় লুটোপুটি,
এক নিমেষে দিলে তোমরা আইনের টুঁটি টিপি।
পরিচালনার পর্ষদ ভেঙে গড়ার এ এক ছল,
পিছন থেকে সুতো টানছে স্বার্থান্বেষী দল।

​কার ইশারায় তামিম আজ মাথায় বসবে এসে?

ব্যাট ফেলে কি সিংহাসনে বসতে হয় গো হেসে?
মাঠের নায়ক মাঠেই সাজে, সাজে না গদিতে,
সবাই কি আর পারে নৌকা ঠিকঠাক চালাতে?
যোগ্যতা নয়, কেবলই কি নামটাই সব আজি?
ক্রিকেট কি তবে কোনো ব্যক্তির গদি-দখলের বাজি?

​এডহক কমিটির নামে এই যে প্রহসন,
চূর্ণ হবে একদিন তোমাদের এই লালিত সিংহাসন।
ব্যক্তি পূজা আর তোষণনীতি ক্রিকেটে বিষ ঢালে,
ধ্বংস করছ তিল তিল করে যা গড়া বহুকাল ধরে।

​বোর্ড মানে না কোনো পরিবার, বোর্ড নয় কারো জমি,
এখানে চলুক মেধার লড়াই, যেখানে নেই কোনো কমি।
স্বেচ্ছাচারী এই সিদ্ধান্তের আমরা প্রতিবাদী সুর,
অন্যায়ের এই কালো মেঘ হোক এবার বহুদূর।

​ব্যাট-বলের ঐ নির্মল খেলা কলঙ্কিত আজ বড়,
নব্য মোড়লদের ভিড়ে আজ সবাই হচ্ছে জড়।
জবাব দেবে ইতিহাস একদিন, সময় কথা বলবে,
বিসিবির ঐ রক্তমাখা ইতিহাস অন্যায়ের আগুনে জ্বলবে।

​জাগো এবার ক্রিকেটপ্রেমী, জাগো খেলার প্রাণ,
রক্ষা করো ক্রিকেটের মান, গাও ন্যায়ের গান।
ব্যক্তি নয়, নিয়ম চলুক—এটাই মোদের দাবি,
সঠিক হাতেই থাকুক ফিরে ক্রিকেটের সব চাবি।

​বি.দ্রব্য: এই কবিতাটি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। ক্রিকেট কোনো একক ব্যক্তির পরিচয় নয়, বরং এটি একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান যা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া আবশ্যক।

৭ এপ্রিল ২০২৬

06/04/2026

কবিতা - ৭ : ​বাবার শ্রেষ্ঠ আমানত

কবি : অগ্নিবিবেক

​আপনার আঙিনায় যে মেয়েটি আজ সাজায় সুখের ঘর,
এককালে সেই ছিল তার বাবার হৃদয়ের পুরোটা জুড়ে অমর।
যাকে আজ আপনি শাসন করেন কিংবা করেন অভিমান,
সে ছিল তার বাবার কাছে এক জীবন্ত স্বর্গের সম্মান।
কখনো কি ভেবে দেখেছেন সেই বাবার হৃদয়ের ভার?
যিনি নিজের কলিজার টুকরোকে তুলে দিয়েছেন হাতে আপনার।

​আপনার ঘরের লক্ষ্মী আজ যে নারীটি শান্ত ধীর,
সে একদিন ছিল তার বাবার রাজপ্রাসাদের রাজকুমারী অস্থির।
তার প্রতিটি আবদার পূরণ করতে গিয়ে বাবা যে কতবার,
নিজের প্রয়োজনকে হাসিমুখে করেছেন বিসর্জন বারবার—
সে খবর কেবল সেই পিতাই জানেন আর জানেন বিধাতা,
যিনি নীরবে সয়েছেন রোদে পুড়ে ছায়ার শীতলতা।

​যেদিন আপনি কোনো এক কন্যাসন্তানের পিতা হয়ে হাসবেন,
সেদিন নিজের স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে হয়তো একটু থমকে দাঁড়াবেন।
বুঝবেন—মেয়েরা কেবল নারী নয়, তারা বাবার হৃদস্পন্দন,
যাদের বিদায়ে বাবার শূন্য ঘরে নামে বিষাদের ক্রন্দন।
মেয়ের সুরক্ষার জন্য এক বাবা লড়তে পারেন সারা দুনিয়া,
বিনিময়ে চান শুধু মেয়ের মুখে এক চিলতে সুখের আমানিয়া।

​তাই আপনার সঙ্গিনীকে কেবল কর্তব্যের খাতিরে ভালোবাসবেন না,
মনে রাখবেন, তিনি এক বাবার তিল তিল করে গড়া এক স্বপ্নীল গয়না।
তাঁকে ভালো রাখলে, তাঁর চোখের জল মুছিয়ে দিলে মমতায়,
এক বাবার নীরব আশীর্বাদ আপনার পথ করে দেবে প্রশান্তিময়।
স্ত্রীর মর্যাদাই হোক আপনার পৌরুষের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ,
কারণ তিনি যে আপনার ঘরে আসা এক বাবার শ্রেষ্ঠ আমানত আর দান।

03/04/2026

কবিতা - ৬ : ​অঙ্গীকারের অগ্নিনাদ!

​রক্তের কালিতে লিখেছি যে নাম, জুলাইয়ের তপ্ত রোদে,
সে লড়াই কি আজ হারিয়ে যাবে টালবাহানার পাঠে?
সহস্র প্রাণ ঝরে গেল যারা ফেরাতে চেয়েছিল মান,
তাদের সোপান বেয়েই কি তবে আজ ক্ষমতার জয়গান?

​যে অঙ্গীকারে রাজপথ হলো লালে লাল একাকার,
সেই ‘জুলাই সনদ’ কেন আজ হবে ফাইলবন্দি আর?
এক পাশে আজ স্বজন হারানো বোবা কান্নার সুর,
অন্য পাশে কি মসনদে বসা জুলাই গাদ্দার চাতুর্য বহুদূর?

​শহীদের মা আজও পথ চেয়ে, বিচার কি তবে হবে না?
আহত ভাইয়ের পঙ্গুত্ব কি কোনোই দায় মানে না?
প্রতিটি ক্ষতের বিচার চেয়েছি, চেয়েছি বৈষম্যহীন দেশ,
সেখানে আজ কেন টালবাহানার অদ্ভুত নীল রেশ?

​মনে রেখো শাসক, জনতা কখনো ভোলে না দস্তখত,
রক্তের দাগ মুছতে পারে না কোনোই রাজকীয় পথ।
বিপ্লব মানে আপোষ করা নয় মিছিমিছি আশ্বাসে,
বিপ্লব মানে অধিকার বুঝে নেওয়া উত্তাল নিশ্বাসে।

​জুলাইয়ের ক্ষত এখনো টাটকা, এখনো কাঁপছে বুক,
প্রতিশ্রুতির খেলাপ দেখিলে ফিরবে না কারো মুখ।
টালবাহানার দেয়াল ভেঙে দাও, সত্যকে করো বরণ,
শহীদের আমানত রক্ষা করা আজ প্রধানতম রণ।

​বিপ্লবী ছাত্র, জনতা এখনো সজাগ প্রহরীর মতো,
তাদের দাবিকে তুচ্ছ ভাবিলে বাড়বে কেবলই ক্ষত।
সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই মিটাও পাওনা সব,
নইলে রাজপথে আবার জাগিবে দ্রোহের কলরব।

​ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করো আজ সেই ন্যায্য ইশতেহারে,
বিচারের বাণী যেন কভু আর না কাঁদে নিভৃত আঁধারে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হোক—শহীদের স্বপ্ন তরে,
অন্যথায় ফের বিপ্লব আসিবে প্রতিটি ঘরের ঘরে।

​রক্তের ঋণ শোধ করো আজ, দাও ন্যায়ের অধিকার,
বাংলার মাটিতে টালবাহানার ঠাঁই হবে না আর।
ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ,
ফ্যাসিবাদ ফ্যাসিবাদ, মুর্দাবাদ মুর্দাবাদ!

__ অগ্নিবিবেক

31/03/2026

কবিতা ৫: “ফিরে না আসা বিকেল”

বিকেলের রোদটা আজও ঠিক আগের মতোই নরম,
তবুও কেন জানি মনটা আজ এত ভারী, এত নির্জন।
একটা সময় ছিল—
এই রোদেই তুমি হেঁটেছিলে আমার পাশে,
হাসির শব্দে ভরে উঠেছিল চারপাশ।

আজ সেই পথ আছে,
গাছগুলো আছে, বাতাসও আগের মতোই বয়ে যায়—
শুধু তুমি নেই,
আর নেই সেই নির্ভেজাল সুখের ছোঁয়া।

আমি এখনো দাঁড়িয়ে থাকি সেই পুরোনো মোড়ে,
যেখানে শেষবার তুমি বলেছিলে—
“আবার দেখা হবে।”
কিন্তু জানো,
সেই “আবার” আর কোনোদিন আসেনি।

সময় বড় অদ্ভুত—
সবকিছু বদলে দেয় নিঃশব্দে,
মানুষ বদলায়, অনুভূতি বদলায়,
শুধু কিছু স্মৃতি থেকে যায়
অবিচল, অনড়, অবিনশ্বর।

রাত নামলে এখনো আকাশের দিকে তাকাই,
তোমার কোনো চিহ্ন খুঁজি তারার ভিড়ে।
হয়তো তুমি অন্য কোথাও ভালো আছো—
এই ভেবেই নিজেকে সান্ত্বনা দেই।

কিন্তু সত্যিটা জানো?
কিছু মানুষ জীবনে আসে
শুধু একটা শূন্যতা রেখে যাওয়ার জন্য,
যা হাজার চেষ্টাতেও আর ভরে না।

তাই আজও সেই বিকেল
ফিরে আসেনি,
ফিরে আসেনি তোমার হাতের উষ্ণতা—
শুধু রয়ে গেছে
একটা দীর্ঘশ্বাসে ভেজা নিঃসঙ্গ জীবন।

__অগ্নিবিবেক

27/03/2026

কবিতা ৪ : “সময় এখনো জেগে আছে”

পৃথিবী এখন ক্লান্ত এক পথিক,
কাঁধে তার যুদ্ধের ধোঁয়া,
চোখে তার আগুনের প্রতিচ্ছবি—
মানুষ যেন মানুষকে ভুলে গেছে অনেক আগেই।

একদিকে আকাশ ছুঁয়ে ওঠা দালান,
অন্যদিকে ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না,
সভ্যতার এই অদ্ভুত সমীকরণে
মানবতা কোথায় হারিয়ে যায়—
কেউ তার হিসাব রাখে না।

বোমার শব্দে কেঁপে ওঠে শহর,
সংবাদে ভেসে আসে রক্তাক্ত সকাল,
কিন্তু পর্দার আড়ালে বসে থাকা মানুষ
শুধু স্ক্রল করে—
একটু থামে না, অনুভব করে না।

প্রযুক্তি এগিয়ে যায় আলোর গতিতে,
মানুষ পিছিয়ে পড়ে হৃদয়ের অন্ধকারে,
মুখে হাসি, চোখে ক্লান্তি—
ভেতরে জমে থাকে অগণিত নিঃশব্দ চিৎকার।

ধর্মের নামে বিভাজন,
রাজনীতির নামে প্রতারণা,
সত্য যেন এক নির্বাসিত শব্দ—
যার জন্য কেউ লড়তে চায় না আর।

তবুও কোথাও এক মা সন্তানের জন্য দোয়া করে,
কোথাও এক যুবক সত্যের পথে হাঁটে,
কোথাও এক শিক্ষক আলোর প্রদীপ জ্বালে—
সেই ক্ষুদ্র আলোই পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখে।

এই সময় বড় কঠিন,
কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি আশা—
কারণ অন্ধকার যত গভীর হয়,
আলো ততই কাছে আসে।

এসো, আমরা মানুষ হই আবার,
হাত বাড়াই একে অপরের দিকে,
ভাঙা পৃথিবীর বুকের উপর
নতুন করে লিখি—
ভালোবাসার ইতিহাস।

সময় এখনো জেগে আছে,
প্রশ্ন করছে আমাদের—
“তোমরা কি এখনো মানুষ আছো?”

__অগ্নিবিবেক

23/03/2026

কবিতার ৩ : “অন্ধ শহরের আয়না”

এই শহর একদিন আলোয় ভরেছিল—
মানুষের হাসিতে, স্বপ্নের রঙে,
আজ সেই আলো নিভে গেছে ধীরে ধীরে,
রয়ে গেছে শুধু কৃত্রিম আলোর ভান।

রাস্তার ধারে বসে আছে ক্ষুধার্ত শিশু,
তার চোখে প্রশ্ন—
“স্বাধীনতা কি শুধু পতাকার রঙে?”
পাশ দিয়ে চলে যায় দামি গাড়ি,
কাঁচের ভেতরে বন্দী কিছু নির্লিপ্ত মুখ।

এই সমাজে সত্য কথা বলা এক অপরাধ,
মিথ্যার কাছে সত্য আজ বন্দী,
ন্যায়ের দরজায় তালা ঝুলে আছে,
অন্যায় হাসে উঁচু মঞ্চে দাঁড়িয়ে।

ক্ষমতার চেয়ারে বসা মানুষগুলো,
শপথ নেয় মানুষের জন্য—
কিন্তু শপথ ভাঙে প্রথম সুযোগেই,
তাদের বিবেক বিক্রি হয় নীরব বাজারে।

দুর্নীতির কালো ছায়া ঢেকে দিয়েছে
প্রতিটি সৎ স্বপ্নের আকাশ,
যেখানে যোগ্যতা হারায় পরিচয়ের কাছে,
আর মেধা দাঁড়িয়ে থাকে লজ্জায় মাথা নিচু করে।

শিক্ষা আজ পণ্যের মতো বিক্রি হয়,
জ্ঞান নয়, সার্টিফিকেটই আসল—
নৈতিকতা হারিয়ে গেছে পাঠ্যবইয়ের পাতায়,
মানুষ তৈরি হয় না, তৈরি হয় শুধু যন্ত্র।

ধর্মের নামে বিভাজন,
মানবতার নামে অভিনয়—
কেউ কাউকে বোঝে না,
সবাই ব্যস্ত নিজের স্বার্থের হিসাব নিয়ে।

মসজিদের মিনারে আজও আজান হয়,
কিন্তু মানুষের হৃদয়ে সেই সুর পৌঁছায় না,
নামাজ শেষে মানুষ বদলায় না,
বরং ফিরে যায় পুরোনো অন্যায়ের পথে।

নারীর চোখে জমে থাকা কান্না,
পুরুষের অহংকারে হারিয়ে যায়—
সমতার কথা শুধু বক্তৃতায় থাকে,
বাস্তবতায় তা এক নিষ্ঠুর মিথ্যে।

বৃদ্ধ বাবা-মা পড়ে থাকে নিঃসঙ্গতায়,
যাদের কাঁধে চড়ে আমরা বড় হয়েছি,
আজ তাদের জন্য সময় নেই—
এই কি আমাদের সভ্যতার অর্জন?

যুবকেরা স্বপ্ন দেখে বিদেশে যাওয়ার,
নিজ দেশকে তারা বিশ্বাস করে না,
কারণ এখানে স্বপ্ন ভাঙে প্রতিদিন,
এখানে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার বন্দী।

মিডিয়ার পর্দায় সাজানো সত্য,
বাস্তবতা ঢাকা পড়ে অভিনয়ের আড়ালে,
মানুষ দেখে, বিশ্বাস করে, ভুলে যায়—
প্রশ্ন করার সাহস হারিয়ে ফেলে।

এই সমাজে ভালো মানুষগুলো চুপ থাকে,
কারণ তারা জানে—
সত্য বললে তারা একা হয়ে যাবে,
আর মিথ্যার ভিড়ে হারিয়ে যাবে তাদের কণ্ঠ।

তবুও কোথাও একটা আলো জ্বলে—
কোনো এক নির্ভীক মানুষের চোখে,
কোনো এক সৎ কণ্ঠের প্রতিবাদে,
কোনো এক শিশুর নির্মল হাসিতে।

সমাজ এখনো পুরোপুরি মরে যায়নি,
মানবতা এখনো নিঃশেষ হয়নি,
যদি আমরা জেগে উঠি একসাথে—
তবে এই অন্ধকার ভাঙা সম্ভব।

চলুন, আমরা আয়নায় নিজেদের দেখি,
অন্যকে দোষ দেওয়ার আগে—
নিজের ভেতরের অন্যায়কে প্রশ্ন করি,
নিজের বিবেককে জাগিয়ে তুলি।

কারণ সমাজ বদলায় না শুধু কথায়,
বদলায় মানুষের পরিবর্তনে—
একটি সত্য পদক্ষেপই পারে
হাজার মিথ্যাকে হার মানাতে।

এই অন্ধ শহরের আয়নায়
যদি আমরা সত্য দেখতে শিখি,
তবে একদিন—
এই শহর আবার আলোয় ভরে উঠবে।

__ অগ্নিবিবেক

20/03/2026

কবিতা - ২: অসাম্যের অন্ধকারে!

এই শহর ভদ্রতার মুখোশ পরে
ভেতরে পচে—
নর্দমার মতো,
যেখানে সত্য ডুবে থাকে,
আর মিথ্যে ভাসে সুগন্ধি হয়ে।

এখানে ন্যায়বিচার বিক্রি হয়—
ওজন মাপে টাকার পাল্লায়,
মানুষের কান্না এখানে
ফাইলের নিচে চাপা পড়ে থাকে,
ধুলো জমে—বছরের পর বছর।

রাস্তায় শিশুরা ক্ষুধার সঙ্গে যুদ্ধ করে,
আর অট্টালিকার জানালায়
ঝুলে থাকে অপচয়ের আলো।
একপাশে পেটের আগুন,
অন্যপাশে বিলাসিতার আতশবাজি—
এই বিভাজনই আমাদের সভ্যতা!

আমরা নীরব—
কারণ আমাদের জিভ কিনে নেওয়া হয়েছে,
আমাদের চোখ অন্ধ নয়,
তবু আমরা দেখি না—
কারণ দেখলে প্রশ্ন জাগে,
আর প্রশ্ন মানেই বিপদ।

শিক্ষা এখন সনদের ব্যবসা,
বিবেক বিক্রি হয় চাকরির দামে,
সত্য বলার সাহসীরা
আজকাল ইতিহাসের ফুটনোটে পড়ে থাকে—
বেঁচে থাকা কাপুরুষরা
হয়ে ওঠে নায়ক!

ধর্মের নামে বিভাজন,
নীতির নামে প্রতারণা,
স্বাধীনতার নামে শৃঙ্খল—
আমরা নিজেরাই গড়েছি কারাগার,
তারপর চাবি হারানোর নাটক করি!

এই সমাজ—
একটি সুসজ্জিত অরাজকতা,
যেখানে অন্যায় নিয়ম,
আর প্রতিবাদ অপরাধ।

কিন্তু মনে রেখো—
প্রতিটি নীরবতার নিচে জমে ওঠে বিস্ফোরণ,
প্রতিটি অবিচারের ভিত কাঁপে
একটি সত্য উচ্চারণেই।

যেদিন মানুষ আয়নায় নিজের মুখ চিনবে,
সেদিন এই সভ্যতার মেকআপ ধুয়ে যাবে—
উন্মোচিত হবে নগ্ন বাস্তবতা,
আর ইতিহাস লিখবে—
কারা ছিল নীরব,
আর কারা জ্বালিয়েছিল আগুন।

__অগ্নিবিবেক

19/03/2026

কবিতা ১ : “অন্ধ রাষ্ট্রের আর্তনাদ”

এই শহর—
দুর্নীতির কাদায় ডুবে থাকা এক নীরব মৃতদেহ,
যেখানে ন্যায়বিচার বিক্রি হয়
টেবিলের নিচে, অন্ধকারের দামে।

ক্ষমতার চেয়ারে বসে থাকা মুখোশধারীরা
মানুষ নয়—
তারা কেবল সংখ্যার খেলোয়াড়,
মানুষের রক্ত দিয়ে যাদের হিসাব মেলে।

এখানে ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না
কোনো সংবাদ নয়,
বরং একঘেয়ে পটভূমি—
রাজনীতির উল্লাসে ঢাকা পড়ে যায়।

আইনের বইয়ে ন্যায় আছে,
কিন্তু রাস্তায় তার কবর,
সত্যের গলায় দড়ি পড়ে আছে—
মিথ্যার উল্লাসে শহর ভাসে।

তুমি বলো উন্নয়ন—
আমি দেখি ইটের নিচে চাপা পড়া স্বপ্ন,
তুমি বলো অগ্রগতি—
আমি শুনি বেকার যুবকের নিঃশব্দ আত্মহত্যা।

এই সমাজ—
বিবেকহীন এক যন্ত্র,
যেখানে মানুষ বাঁচে না,
শুধু টিকে থাকে—
অপমানের অম্ল শ্বাসে।

কবে ভাঙবে এই অন্ধকার?
কবে জাগবে মানুষের ভেতরের মানুষ?
নাকি এই রাষ্ট্র—
চিরকালই থাকবে
নিজের পাপের ভারে নতজানু?

__ অগ্নিবিবেক

Address

Dhaka
Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নিষিদ্ধ উচ্চারণ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share