26/06/2026
মাদ্রাসাগুলোর বদনাম ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রচার-অপপ্রচারের বিষয়গুলো দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। প্রায় প্রতিদিনই এক বা একাধিক খারাপ ঘটনা/অভিযোগের ছবি ভিডিও সামনে আসছে। প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে, তারপর মূলধারার গণমাধ্মমে। মানুষ খুব খারাপ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এটা শিশুশিক্ষা ও মক্তব শিক্ষার জন্য সামনে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, এই বদনাম ও অশুভ জনপ্রতিক্রিয়ার কুফল বহু ভালো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বেইজ্জত করতে পারে, হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রশাসন, সুশীল সমাজ, এনজিও নানা রকম নেতিবাচক সিদ্ধান্ত ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান বিরোধী কথাবার্তা নাড়াচাড়া শুরু করতে পারে।
সব অভিযোগ কি সত্য? মনে হয় না। গত কিছুদিনের মধ্যে এমন বেশ কয়েকটা ঘটনা ঘটেছে, যে পরে সেটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আবার কিছু ঘটনা মিথ্যাও না। মারধর ধরপাকড় ইত্যাদির পরে এটার আর ফলাফল জানা যায় না।
ইসলামী শিক্ষার অঙ্গনে অশুভ তৎপরতা, অনৈতিকতা, জুলুম, যৌন সমস্যা/যৌন জবরদস্তি, ধ*র্ষণ বলা #ৎকার এসব অভিযোগের সুষ্ঠু সুরাহা তো হওয়া দরকার। নিছক অভিযোগ এবং ষড়যন্ত্র হলে সেটাও পরিষ্কার করার চেষ্টা করা দরকার। আর একশোর মধ্যে একজন শয়তান প্রকৃতির লোক থাকলে তাকেও পরিষ্কার করা দরকার এবং আইনের হাতে তুলে দিয়ে অঙ্গনকে পরিষ্কার রাখা দরকার। সুন্দর কর্ম প্রক্রিয়া ও অবস্থান পরিচ্ছন্ন করা এটা এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তা না হলে দোষী/ নির্দোষ সবাই আক্রান্ত হতে থাকার আশঙ্কাটা বাড়বে।
[সামনে এমন দিন না আসুক, যেকোনো মাদ্রাসা শিক্ষক কিংবা মসজিদের ইমামকে যৌন জুলুমের অপরাধে অপরাধী বানিয়ে যে কেউ শত্রুতামূলকভাবে করে রাস্তাঘাটে মার খাওয়াতে পারে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করায়ে দিতে পারে। অন্য সব ক্ষেত্রে মব বন্ধ করা হলেও এ জায়গায় মিডিয়াগুলোও/রাজনীতিক/সুশীলেরাও উৎসাহ দিয়ে যাবে। মানুষের মনের ভেতরে সন্দেহ এবং অশ্রদ্ধা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়ে গেছে অলরেডি! শহরে নগরে গ্রামেগঞ্জে শিশুদের মক্তব চালানো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠতে পারে!]
এ সমাধানটা কে করবে? কে উদ্যোগ নেবে? আমার জানা নেই। আমি ছোট মানুষ, মাঝে মাঝে মনে হয় ব্যানার নিয়ে কোথাও দাঁড়িয়ে যাই। এখানে অনেকগুলো ব্যাপার খেয়াল করার মতো। হঠাৎ করে ধর্মীয় অঙ্গনের সাথে যুক্ত করে প্রতিদিন খারাপ বিশ্রী খবরগুলো/ অভিযোগগুলো কেন আসছে? এদেশের ১৮ কোটির বেশি মানুষ সবাই চরিত্রবান হয়ে গেছে? অফিস আদালত মার্কেট ক্যাম্পাস রাস্তাঘাট বস্তি শহর নগর গ্রাম সব জায়গায় গত দুই মাসে ২০০ খারাপ যৌন ঘটনার খবর নাই, কিন্তু মসজিদ-মাদ্রাসা জড়িয়ে খবর আসছে! এটা কি খুব নরমাল অনুপাত? এদেশের বাস্তবতায় খুব সাধারণ চিত্র? কে এসব খবর একতরফাভাবে প্রমোট করছে এবং মতলবী ভঙ্গিতে সামনে আনছে? এগুলোও দেখা দরকার। তবে, ধর্মীয় অঙ্গনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা দুষ্ট শক্তি থাকলে, উপাদান থাকলে সেটাও তো সাফ করা দরকার। সাফ করার চেষ্টা, জবাবদিহিতা, শাস্তি প্রক্রিয়া চালু করা দরকার। একটা পরিষ্কার স্বচ্ছ অবস্থান সামনে আনা দরকার।
আমি আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি। অনেক দুশ্চিন্তা হয়। না, যারা মনে করছেন, এটা অল্প কিছু দোষী মানুষের সমস্যা কিংবা অতি উৎসাহী কিছু প্রোপাগান্ডাবাদীর প্রোপাগান্ডা, আমার কাছে তেমন মনে হচ্ছে না। ঘটনা সঠিক হোক কিংবা পরিকল্পিত প্রচারণা হোক এটা ভয়ংকর কোনো পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা হআল্লাহচ্ছে। দায়িত্বশীলরা যদি একটু মনোযোগ দিতেন মনে হয় ভালো হতো।
[সংযোজন: তবে চলমান পরিস্থিতিতে কিংবা সর্বাবস্থায় প্রতিটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চারিত্রিক- নৈতিক বিষয়ে বাস্তবিক, অভিযোগকেন্দ্রিক কিংবা ষড়যন্ত্রমূলক সব ধরনের ক্ষেত্র থেকে সম্ভাব্য জটিলতার ব্যাপারে পূর্ণ সচেতন ও সতর্ক থাকা। সূক্ষ্ম ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতি কিংবা সিসিটিভির ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা। আল্লাহ না করুন, প্রকৃতই কোনো খারাপ ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনসম্মত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কার্য-পদ্ধতির মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পরিচ্ছন্নতার প্রক্রিয়া অবলম্বন করা। স্থানীয় কোনো ষড়যন্ত্র, দুশমনি এবং সে প্রেক্ষিতে জটিলতার আশঙ্কা হলে সেটাও পূর্বেই কিছু দায়িত্বশীল মানুষকে জানিয়ে রাখা। একক প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগ হিসেবে অন্তত এ কটি বিষয়ে সচেতন থাকা দরকার।
আল্লাহ তাআলা সবাইকে হেফাজত করুন।
মুহতারাম শরীফ মুহাম্মাদ