22/12/2024
মা ফাতেমা (আঃ)-এর শুভ আগমন উপলক্ষে সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক। (ধারাবাহিক পোস্ট নং ৬৭)।
হযরত মা ফাতমা (আঃ) এমন এক সময় ধুলির ধরায় তাসরিফ গ্রহণ করেন, যখন সারা বিশ্বে নারীদের মানুষ বলে গণ্য করা হতো না। তাদেরকে নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। খ্রিস্টানরা নারীকে ‘শয়তানের দোসর’ বলত এবং তাদেরকে সব পাপের উৎস বলে মনে করত। আরবরা কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে জীবন্ত কবর দিত।
পবিত্র কুরআনে সেই জাহেলিয়াতের যুগের কথা এভাবে বর্ণিত হয়েছে- অর্থাৎ - "আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয় তখন তার মুখ কালো হয়ে যায়,অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে।
তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে তাকে অপমান সহ্য করে থাকতে দেবে,না তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে।
সূরা নাহল,আয়াত নং ৫৮-৫৯।
মা ফাতেমা (আঃ) সেই অবস্থায় শুভাগমন করেন।
হযরত রাসূল (সাঃ)-এর মাধ্যমে আল্লাহ নারী জাতিকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। রাসূল পাক (সাঃ) প্রথমে তাঁর স্ত্রী হযরত খাদীজা (রাঃ)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নারী জাতিকে সম্মানিত করেন। পরে স্বীয় কন্যা ফাতেমা (আঃ) -এর প্রতি দায়িত্ব পালন করেও নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন।
হযরত খাদীজা (রাঃ) বলেন-
ফাতেমার আবির্ভাবের সময় সাহায্য করার জন্য আমি কুরাইশ নারীদের ডেকে পাঠিয়েছিলাম। তারা এ বলে প্রত্যাখ্যান করল যে,আমি মুহাম্মাদ (সাঃ)- কে বিয়ে করেছি। আমি কিছুক্ষণের জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ দেখলাম চারজন উজ্জ্বল জ্যোতির্ময় দীর্ঘকায়া বিশিষ্ট নারী আমার দিকে এগিয়ে আসছেন।
আমাকে আতংকিত দেখে তাঁরা বললেন-
হে খাদীজা! ভয় পাবেন না। আমি হলাম ইসহাকের মা সারা,আর অপর তিনজন হলেন ঈসার মা মারইয়াম,ফিরআউনের স্ত্রী আছিয়া এবং মূসার বোন উম্মে কুলসুম। আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন আপনাকে সাহায্য করতে। এ বলে সেই জ্যোতির্ময় নারীরা আমার চারপাশ ঘিরে বসলেন। আমার মেয়ে ফাতেমা (আঃ) জন্মগ্রহণ করা পর্যন্ত তাঁরা আমার সেবা করলেন। সূত্রঃ মহানবী (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইত,পৃষ্টা ৫১।
মা ফাতেমা (আঃ) সিজদা অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হন এবং ঐ অবস্থায় তাঁর শাহাদাত আঙ্গুলী উত্তোলিত ছিল।
হযরত আয়েশা হতে বর্ণিত তিনি বলেন-
খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমা (আঃ) ব্যতীত রাসূল (সাঃ) -এর চেহারা মোবারক,স্বভাব চরিত্র ও কথাবার্তার সাথে অত মিল তিনি আরবে কারো নিকট দেখেননি। মা ফাতেমা (আঃ) -এর মুখমণ্ডলের রঙ ছিলো গোলাপের ন্যায় এবং চুল মোবারক ছিল ঘন কালো। তাঁর মুখ দেখতে পুর্ন চন্দ্র বা মেঘমুক্ত সূর্যের ন্যায় ছিল।
মা ফাতেমা (আঃ) -এর বহু খেতাব ছিল।
যেমন-
১. যাহরা (উজ্জ্বল,দীপ্তশীলা)
২. আল-সিদ্দিকা (ন্যায়পরায়ণা)
৩. আল-মোবারকা (মহিমান্বিতা)
৪. আত-তাহেরা (নিষ্পাপ)
৫. আজ-জাকিয়া (সতী)
৬. আর-রাদিয়া (সন্তষ্ট)
৭. আল-মারদিয়া (যিনি আল্লাহ্কে সন্তষ্ট রাখেন)
৮. আল-আদরা (চিরসতী)
৯. আল-মোহাদ্দেসী (যিনি পয়গাম্বর না হয়েও ফেরেশতার সঙ্গে কথা বলতেন।)
১০. যাহারা ( উজ্জ্বল, জ্যোতি, পুষ্প)।
তাঁর বিশেষ গুনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তাঁকে এসব খেতাব দেওয়া হয়েছে।
দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) বলেন-
ফাতেমা মানবীরূপে হুর। যখনই সে তাঁর প্রভুর সম্মুখে প্রার্থনায় দণ্ডায়মান হন, তখনই তাঁর শরীরে স্বর্গীয় দূতদের মতো আলোক বিকিরন করে যেভাবে তারকারাজি পৃথিবীর মানুষকে আলো দান করে।
রাসূলে খোদা আরো বলেন,
"ফাতেমা আমার কলিজার টুকরো, যে তাকে রাগান্বিত করবে সে বস্তুত আমাকে রাগান্বিত করবে। (বোখারী ও মুসলিম শরিফের সূত্রে মেশকাত শরিফ, পৃষ্ঠা নং ৫৬৮)।
" ফাতেমা আমার অস্তিত্বের অংশ বিশেষ,চোখের জ্যোতি,অন্তরের ফল এবং আমার রুহ স্বরুপ। সে হচ্ছে মানুষরুপী স্বর্গীয় হুর"।
"ফাতেমা কোনো ব্যাপারে ক্রুদ্ধ হলে আল্লাহ নিজে ক্রুদ্ধ হন এবং আমার ফাতেমার আনন্দে আল্লাহ নিজে আনন্দিত হন"।
রাসূলে খোদা আহলে বাইত ( মা ফাতেমা,মাওলা আলী,মাওলা ইমাম হাসান ও হোসাইন) সমন্ধে বলেন,
" যারা তোমাদের সঙ্গে মিত্রতা স্হাপন করবে আমিও তাদের সঙ্গে মিত্রতা স্হাপন করবো। আর যারা তোমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, আমিও তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবো। (ইবনে মাজা ১ম খন্ড, হাদিস নং ১৪৫)।
"যে স্বত্ত্বার হাতে আমার প্রাণ সে স্বত্ত্বার কসম! কোনো ব্যক্তির অন্তরে ঈমান প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তারা আল্লাহ ও রাসূলের খাতিরে তোমাদের ভালোবাসবে"। ( তিরমিজি শরিফ ৬ষ্ট খন্ড, হাদিস নং ৩৭৫৮)।
" হে মানব সম্প্রদায়! আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি,যদি তোমরা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর তবে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হলো কোরআন এবং আমার আহলে বাইত"। ( মুসলিম শরিফ ৭ম খন্ড, হাদিস নং ৬০১০)।
পাপী-তাপীর মুক্তির দিন মা ফাতেমার শুভ আগমনের দিন।
কুলকায়েনাতের মুক্তির দিন মা ফাতেমার শুভ আগমনের দিন।
আজকে মোদের খুশির দিন মা ফাতেমার শুভ আগমনের দিন।
শুভ শুভ শুভদিন মা ফাতেমার শুভ আগমনের দিন।
মা ফাতেমা তোমার কদমে ঠাঁই চায় অধমে।
জয় জগত জননী মা ফাতেমার জয়। জয় মোহাম্মদী ইসলামের জয়।
যেকোনো আহলে বাইত প্রেমিক বিনা অনুমতিতে এই পোস্ট কপি করার অধিকার রাখে।
প্রচারেঃ "আহলে বাইত (আঃ) ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ" একটি অনলাইন ভিত্তিক গোলামি সংগঠন। আপনি অনলাইনে আহলে বাইতের গোলামি করতে চাইলে মেসেঞ্জারে নক দিন।
15/07/2024
আরবী হিজরি সাল নিয়ে হযরত ওমরের দুরভিসন্ধি। ( ধারাবাহিক পোস্ট নং ৬৭)
আবু বকর যখন ওমরকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে, তখন ওমর ক্ষমতায় বসে আরবী হিজরি সাল প্রথা চালু করে। নি:সন্দেহে ইহা একটি ভালো কাজ। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটে অন্য জায়গায়। ওমর মহররম মাসকে প্রথম হিজরি সালের প্রথম মাস হিসাবে গণনা করার প্রথা চালু করে। ওমর মহররম মাসকে কেনো আরবি হিজরি সালের প্রথম ঘোষণা করলো, তার কারণ বলার আগে একটু ইংরেজি সালের কথা বলি। খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীরা ইংরেজি সালের প্রথম মাস হিসাবে চালু করে জানুয়ারি মাসকে। কারণ হযরত ঈসা (আ:) নবী ২৫শে ডিসেম্বর জন্ম গ্রহন করে। যেহেতু খ্রীষ্টানরা তাদের ধর্মগুরুর জন্মদিন উপলক্ষে মহা ধুমধামের সহিত পালন করে, তাই জানুয়ারি মাসকে তারা প্রথম মাস হিসাবে গণনা শুরু করে। বাংলা নববর্ষে বৈশাখ মাসকে প্রথম মাস হিসাবে গণনা করা হয়। কারণ বৈশাখ মাসে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে নতুন ধান গোলায় ওঠে। যা বাঙালির জন্য উৎসব আমেজের দিন। মূল কথা প্রতিটি সাল উৎসব এবং আনন্দের দিন হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু হযরত ওমর কঠিন কারচুপি করে রাসূলে খোদা যেদিন মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে মদিনায় হিজরত করলেন, সেই দিনটিকে আরবী সালের প্রথম মাস হিসাবে গণনা করা হয়। বলুন তো এরচেয়ে দু:খজনক আর কি হতে পারে? রাসূলে খোদা নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর হুকুমে নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে। সেদিন রাসূলে খোদা মনের দু:খে অঝোর নয়নে কান্নাকাটি করছিলো। আর কা"ফের সম্প্রদায়রা বিজয় উল্লাস করে আনন্দ উদযাপন করেছিলো। কাফের সম্প্রদায় লোকজন কেয়ামত পর্যন্ত এই দিনটিকে আনন্দ উদযাপন করবে। আর একটি অন্তনির্হিত কারণ রয়েছে। রাসূলে খোদা সকল সাহাবীর সামনে ভবিষ্যৎ বাণী করে যান, এই মহররম মাসেই আমার প্রিয় নাতি ইমাম হোসাইন কারবালার ময়দানে শহীদ হবে। এখন একটু ঝেড়ে কাশ দিয়ে বলুন তো, আরবী হিজরি নববর্ষ কি মুসলমানদের জন্য আনন্দ হতে পারে নাকি ব্যদনার। এটা আমি আপনাদের বিবেকের উপর ছেড়ে দিলাম।
এবার আসি মূল প্রসঙ্গে। রাসূলে খোদা যেদিন মক্কা বিজয় করেছিলো, সেদিন মুসলমানদের জন্য ছিলো আনন্দের এবং কা"ফেরদের জন্য ছিলো ব্যদনার। রাসূলে খোদার নিকট যেদিন কোরআন শরিফ নাজিল হয়, সেদিন ছিলো আমাদের জন্য আনন্দের। ধরাধামে যেদিন নবুওয়াত প্রকাশিত হয়, সেদিন ছিলো আমাদের জন্য আনন্দের। তারচেয়েও সৃষ্টি কুলের সবচেয়ে বেশী আনন্দের দিন ছিলো, যেদিন রাসূলে খোদা ধরাধামে শুভ আগমন অর্থাৎ জন্মগ্রহণ করে। এইদিনগুলো অর্থাৎ মাসগুলো ছিলো মুসলমানদের জন্য মহা আনন্দের আর কা"ফেরদের জন্য ছিলো ব্যদনার। কিন্তু অদৃষ্টের নির্মম পরিহাসে রাসূলে খোদা যেদিন মক্কা থেকে কা"ফেরদের দ্বারা বিতাড়িত হলেন এবং মাওলা ইমাম হোসাইন যে মাসে শহীদ হলেন, সেই মহররম মাসকে আরবি হিজরি নববর্ষ প্রথম মাস হিসাবে গণনা করা হয়। যা ছিলো কা"ফেরদের বিজয় ও আনন্দ উল্লাসের এবং মুসলমানদের জন্য ব্যদনার। এখন আপনারা বিবেচনা করুন, আমরা মুসলিমরা কতোটা গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আর এই গভীর ষড়যন্ত্রের মূল খলনায়ক ছিলো হযরত ওমর। কারণ হযরত ওমরই মহররম মাসকে আরবি সালের প্রথম মাস হিসাবে চালু করে। এরচেয়ে দু:খজনক আর কি হতে পারে ভাই। এই বাস্তব কঠিন সত্য কথা প্রকাশ করলেই আমরা সাহাবী বিদ্নেষী শিয়া হয়ে যাই। বলুন তো সত্যকে আর কতকাল ধামাচাপা দিয়ে রাখবেন। এই ষড়যন্ত্রের জন্য মুসলমানরা আজ জেনে হোক আর না জেনে হোক ব্যদনার দিন আনন্দ উদযাপন করে। যা ছিলো তৎকালীন কা"ফেরদের রীতিনীতি। আর আমরা মুসলমানরা পথভ্রষ্ট খাদের কিনারায় চলে গেলাম। আপনি কি জানেন! মাওলা ইমাম হোসাইনকে শহীদ করে তাঁর মা"থা মোবারক ব"র্শার আগায় বি"দ্ধ করে ইয়াজিদ বাহিনী শহরের অলি গলিতে আনন্দ মিছিল করেছিলো। আরবী নববর্ষ মহররম মাস আসলেই প্রতি বছর আনন্দ উদযাপন করা হতো। আহলে বাইত বিদ্বেষী উমাইয়া এবং আব্বাসীয়রা যুগের পর যুগ শতশত বছর ধরে এই প্রথা বজায় রেখেছিলো। আজো এই প্রথা চালু রয়েছে আরব দেশগুলোতে। আমরা কি সেই খবর একবারও রেখেছি ভাই। জানবেন কিভাবে, আমাদের চারপাশে ইয়াজিদের উত্তরসূরী আলেমগণ আমাদের কঠিন সত্য জানতে দেয়নি বরং উল্টো পাল্টা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদেরকে পাক পাঞ্জাতন বিরোধী করে গড়ে তুলছে। এখনো সময় আছে ভাই, সত্য জানুন এবং সত্যকে মেনে নিন। সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। মহান মালিক আমাদের সবাইকে হেদায়েত নসিব করুক এবং সত্য জানা ও মানার জন্য তৌফিক ভিক্ষা দিক।
জয় পাক পাঞ্জাতনের জয়। জয় মোহাম্মদী ইসলামের জয়।
প্রচারে: "আহলে বাইত (আ:) ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ" একটি অনলাইন ভিত্তিক গোলামি সংগঠন। আপনি অনলাইনে আহলে বাইতের গোলামি করতে চাইলে মেসেঞ্জারে নক দিন।।
15/07/2024
নামদারী মুসলমানদের আক্রমনে নবী পরিবারের পবিত্র সদস্যদের শাহাদাৎ বরণ। (ধারাবাহিক পোস্ট নং ৬৬)।
১/ জগত জননী হযরত মা ফাতেমা (আঃ) কে হযরত ওমর লাথি মেরে হ"ত্যা করে।
২। ইমাম মাওলা আলী (আঃ) কে মোনাফেক মোয়াবিয়া স্বর্ণ মুদ্রার বিনিময়ে ঘা"তক আবদুর রহমান মুলজিমকে দিয়ে নামাজরত অবস্থায় হ"ত্যা করায়। এই মুলজিম ছিলো একজন মোনাফেক সাহাবী এবং কোরআনের হাফেজ।
তদ্বীয় পুত্র
৩। ইমাম হাসান ইবনে আলী (আঃ)। উমাইয়্যা রাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা, মোনাফেক মুয়াবিয়ার চক্রান্তে নিজ স্ত্রী যায়দা কর্তৃক বিষ পানে শাহাদাৎ।
তাঁর ছোট ভাই
৪। ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (আঃ)। উমাইয়্যা খলিফা ইয়াজিদের চক্রান্তে, কারবালায় স্ব পরিবারে সীমার কর্তৃক শিরোচ্ছে"দ করে শাহাদাৎ।
তদ্বীয় পুত্র
৫। ইমাম জয়নাল আবেদিন (আঃ)! উমাইয়্যা খলিফা আব্দুল মালেকের নির্দেশে, জেলখানায় খাবারের সাথে বিষ প্রয়োগে শাহাদাৎ।
তদ্বীয় পুত্র
৬। ইমাম মুহাম্মাদ আল বাকের (আঃ)! উমাইয়্যা খলিফা বিন ওয়ালিদের নির্দেশে বিষ প্রয়োগে হ"ত্যা।
তদ্বীয় পুত্র
৭। ইমাম জাফর সাদেক (আঃ)। আব্বাসীয় খলিফা মুনসুরের নির্দেশে শাহাদাৎ।
তদ্বীয় পুত্র
৮। ইমাম মুসা আল কাজিম (আঃ)। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের নির্দেশে বিষ প্রয়োগে শাহাদাৎ।
তদ্বীয় পুত্র
৯। ইমাম আলী রেজা (আঃ)। আব্বাসীয় খলিফা মামুনের নির্দেশে বিষ প্রয়োগে শাহাদাৎ।
তদ্বীয় পুত্র
১০। ইমাম মুহাম্মাদ আল তাক্বি (আঃ)।আব্বাসীয় খলিফা মামুনের চক্রান্তে স্বীয় স্ত্রী কর্তৃক বিষ প্রয়োগে শাহাদাৎ।
তদ্বীয় পুত্র
১১। ইমাম আলী আন নাক্বি (আঃ)। আব্বাসীয় খলিফা মুতাওক্কিলের নির্দেশে শাহাদাৎ।
তদ্বীয় পুত্র
১২। ইমাম হাসান আল আসকারি (আঃ)। আব্বাসীয় খলিফা মুতামিদ কর্তৃক শাহাদাৎ।
কেনো এই হ"ত্যাযজ্ঞ?
প্রত্যেক ইমামকে তৎকালীন, খলিফাগন তাদের রাজ বংশের অধীনে বায়াত হতে বললে, ইমামগন তাদের খেলাফত অবৈধ ঘোষনা করে। ফলে, প্রতিটি শাসন আমলে নবীর বংশের ( আহলে বাইতের) সমর্থন বাড়তে থাকলে খলিফাগন তাদের হ"ত্যা করে।
আমি আল্লাহর কসম করে বলতে পারি, আহলে বাইতের হ"ত্যাযজ্ঞ এবং নির্যাতন সম্বন্ধে যদি আপনারা জানতেন, তাহলে চোখের পানি সংবরন করতে পারতেন না। অপর দিকে আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ ও মানসুরের প্রশংসায় ইতিহাস গ্রন্থ ভরে গেছে। অথচ তারা দুই জনই ইমাম জাফর সাদিক ও ইমাম মুসা কাজেম (আঃ) কে শহিদ করেছেন।
আমাদের মুসলিম ইতিহাসকে বারবার মিথ্যার প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। যাতে মুসলিম জাতি কখনো সত্যকে জানতে না পারে। এরচেয়ে নির্মম নিদারুন ইতিহাস সৃষ্টি জগতে আছে কিনা অধমের জানা নেই। আমার রাসূলে খোদার পরিবার ইসলামের শাশ্বত সোমহান রক্ষা করার জন্য, বারবার বাতিল অপশক্তির নিকট হ"ত্যার শিকার হয়েছে। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, কোন ইহুদি, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ ও হিন্দুদের দ্বারা হ"ত্যাযজ্ঞের শিকার হননি। বরং আমরা যাদেরকে সম্মান করি, সেই গুণধর মুসলিম শাসকদের দ্বারা শহীদ হয়েছেন। এই চরম দুঃখের কথা কার কাছে সুধাই। যারা আমাদের ইসলাম, ইমান, অস্তিত্ব, ভালোবাসার মধ্যমণি এবং মুক্তিদাতা তাদেরকেই আমরা হ"ত্যা করে মুমিন মুসলমান সেজেছি। আর কতকাল এমন মিথ্যা অভিনয় করে সরলমনা মুসলমান জাতিকে ধোঁকা দিবেন। মাঝে মাঝে অধমের কাছে মুসলিম জাতির অজ্ঞতা এবং হীনমন্যতা দেখে বড়ই আফসোস হয় এবং নিজেকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করে বারেবার। অন্ধ এবং বিবেকহীন মুসলমান হওয়ার চেয়ে, মৃত্যুকেই অধিক শ্রেয়তর মনে করি। যদি সত্যই বলতে না পারি, তাহলে মিথ্যার মাঝে আঁকড়ে বেঁচে থেকে কি লাভ? আমরা আহলে বাইতের গোলামরা যখনই এই সত্যগুলো প্রকাশ করি, তখনই আমাদেরকে শিয়া, না"স্তিক, কা"ফের, ভ"ন্ড এবং ই"হুদিদের দা"লাল বলে আখ্যায়িত করা হয়। তবুও আমরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে সত্য প্রচারে কখনো পিছপা হয়নি এবং শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত পিছপা হবো না। এটাই আমাদের কারবালার শিক্ষা, আদর্শ এবং মাওলা ইমাম হোসাইনের নিকট ওয়াদাবদ্ধ। প্রভু তোমার নিকট ফরিয়াদ করছি, তুমি দয়া করে মিথ্যাকে দূরীভূত করে সত্যের আলোকে দাবানলের ন্যায় সকলের নিকট পৌঁছে দাও। জয় মাওলা আলীর জয়। জয় মোহাম্মদী ইসলামের জয়।
যেকোনো আহলে বাইতের গোলাম বিনা অনুমতিতে এই পোস্ট কপি করার অধিকার রাখে।
প্রচারেঃ "আহলে বাইত (আঃ) ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ" একটি অনলাইন ভিত্তিক গোলামি সংগঠন। আপনি অনলাইনে আহলে বাইতের গোলামি করতে চাইলে মেসেঞ্জারে নক দিন।
15/07/2024
বনু সকিফা থেকে কারবালা। (ধারাবাহিক পোস্ট নং ৬৫)।
দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) মাওলা আলী প্রসঙ্গে যা বলেন
أَمَّا أَنْتَ يَا عَلِيّ، أَنْتَ صَفِيِّي وَ أمِينِي.
আর তুমি হে আলী! তুমি আমার মনোনীত এবং আমার আমানতদার।
(খাসায়েসে নাসায়ী : ১৯,মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১৫৬)।
إِنَّ هَذَا أَخِي وَ وَصِيِّي وَ خَلِيفَتِي فِيكُمْ، فَاسْمَعُوا لَهُ وَ أَطِيعُوه.
জেনে রেখো যে,সে তোমাদের মাঝে আমার ভাই,উত্তরসূরি এবং স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে।
(তারীখে তাবারী ২:২১৭,আল কামিল ফিত্ তারীখ ২:৬৪,মাআলিমুত্ তানযীল ৪:২৭৮)।
أنْتَ وَلِيُّ كُلِّ مُؤمِنٍ وَ مُؤمِنَةٍ بَعْدِي.
আমার পরে তুমি প্রত্যেক মুমিন নর ও নারীর ওপর কর্তৃত্বের অধিকারী।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩৪,আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী ১২:৭৮/১২৫৯।
هَذَا أَخِي وَ وَصِيِّي وَ خَلِيفَتِي مِنْ بَعْدِي، فَاسْمَعُوا لَهُ وَ أَطِيعُوه.
এ হলো আমার ভাই,আর আমার পরে আমার ওয়াসী এবং খলীফা। তার নির্দেশের প্রতি কর্ণপাত করো এবং তার আনুগত্য করো।
(তারীখে তাবারী ২:৩৩১,মাআলিমুত তানযীল ৪:২৭৯,আল কামিল ফিত তারীখ ২:৬৩,শারহে নাহজুল বালাগা– ইবনে আবিল হাদীদ ১৩:২১১,কানযুল উম্মাল ১৩:১৩১)
لِكُلِّ نَبِيٍّ وَصِيٌّ وَ وَارِثٌ، وَ إَِنَّ عَلِيّاً وَصِيِّي وَ وَارِثِي.
প্রত্যেক নবীর ওয়াসী এবং উত্তরসূরি থাকে। আর আমার ওয়াসী এবং উত্তরসূরি হলো আলী।
(আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১৩৮,আল ফেরদৌস ৩:৩৩৬/৫০০৯,ইমাম আলী (আ.)– ইবনে আসাকির ৩: ৫/১০৩০-১০৩১)
দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) গাদীরে খুমে সোয়া লক্ষ সাহাবীর সামনে মাওলা আলীকে সকল মুমিনদের অভিভাবক,মুমিনদের কর্তৃত্বের অধিকারী ও মাওলা এবং খলিফা নির্বাচিত করে যান। যাতে মুসলিম জাতি কখনো পথভ্রষ্ট না হয়। কিন্তু অদৃষ্টের নির্মম পরিহাসে দয়াল রাসূল (সাঃ) ওফাত হওয়ার সাথে সাথে সেই নির্দেশ বুমেরাং হয়ে যায়। দয়াল রাসূল (সাঃ) এর দেহ মোবারক ফেলে প্রায় সকল সাহাবীরা বনু সকিফা নামক স্হানে খলিফা নির্বাচন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মদিনাবাসীরা বলে আমরা খলিফা হবো এবং মক্কাবাসীরা বলে আমরা খলিফা হবো। এই নিয়ে তিনদিন ধরে মতপার্থক্য চলতে থাকে। এইরকম জটিল পরিস্থিতিতে হযরত আবু বকর, ওমর ও উসমান মোয়াবিয়ার নিকট শরণাপন্ন হয়। কারণ মোয়াবিয়ার উমাইয়া গোত্র বিশাল বড় ছিলো। যারা মক্কা বিজয়ের সময় নিজেদের জীবন বাঁচাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলো। অবশেষে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে মোয়াবিয়াকে গর্ভণর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোয়াবিয়ার বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থন আদায়ে সক্ষম হন। ফলে অধিকাংশ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে তিনদিন পর হযরত আবু বকর খলিফা নির্বাচিত হয়ে যান। গাদীরে খুমে দয়াল রাসূল (সাঃ) এর ওছিয়তনামা প্রায় সকল সাহাবীরা নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য সবকিছু ভুলে যায়। যা ছিলো মুসলিম জাহানের প্রথম কলংকিত অধ্যায়। এদিকে মাওলা আলী মাত্র ১৩ জন মুমিন সাহাবী নিয়ে ৩দিন অপেক্ষা করে রাসূলে খোদার দাফন-কাফন কাজ সম্পন্ন করে ফেলে। বনু সকিফায় থেকেই শুরু হলো মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য, অবিশ্বাস এবং দ্বন্দ্ব। যার চূড়ান্ত ফলাফল কারবালা প্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। এমন হীন কঠোর ভঙ্গুর অবস্থায় মাওলা আলী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং তাদের আচরণে মনোক্ষুণ্ণ হন। ফলে মাওলা আলী মুসলিম ঐক্যের বৃহৎ স্বার্থে নীরবতা পালন করে। তাছাড়া দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) মাওলা আলীকে ওছিয়ত করে যান এই বলে, "হে আলী! যারা তোমার কাছে বায়াত নিতে আসবে, তুমি শুধু তাদের বায়াত করাবে। তুমি কারোর কাছে বায়াতের জন্য যাবে না। মনে রাখবে,পিপাসিত মানুষ কুয়োর কাছে যায়, কুয়ো পিপাসিত মানুষের কাছে যায় না।" তাছাড়া মাওলা আলী তখন বিদ্রোহ ঘোষণা করলে ইসলামটা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যেতো। এটা মাওলা আলী কখনো মনেপ্রাণে চাননি। মাওলা আলী ক্ষমতালোভী ছিলেন না, তাই নীরবে সকল ব্যথা সহ্য করে যান। তাছাড়া মাওলা আলী খলিফা হওয়ার জন্য যুদ্ধ করলে, আজকের ইতিহাস মাওলা আলীকে ক্ষমতালোভী এবং ভিন্ন চোখে দেখতো। রাসূলে খোদা ওফাতের ছয়মাসের মাথায় একদল দুষ্কৃতকারীরা মা ফাতেমার পেটে লাথি মেরে মা ফাতেমা এবং গর্ভের সন্তান ইমাম মহসিনকে হ'ত্যা করে।
হযরত আবু বকর খলিফা হয়েই বনু সকিফার সেই গোপন চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোয়াবিয়াকে সিরিয়ার দামেস্ক নগরের গর্ভণর নিযুক্ত করে। ফলে মোয়াবিয়া অর্থাৎ উমাইয়া বংশ রাষ্ট্রেীয় ক্ষমতা পেয়ে ফুলেফেঁপে উঠে এবং সাথে তো সাহাবীর তকমা ছিলোই। হযরত ওমরও খলিফা হয়ে মোয়াবিয়াকে স্বপদে বহাল রাখে এবং হযরত উসমান খলিফা হওয়ার পর মোয়াবিয়াকে আরো ছয়টি প্রদেশের গর্ভণর নিযুক্ত করে। তাছাড়া হযরত উসমান ইসলামের ঘোরতর দুশমন মারওয়ানকে তার রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ করে। এই মারওয়ানকে দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) নির্বাসন দিয়েছিলো এবং মারওয়ানই ছিলো কারবালার মূল হর্তাকর্তা ব্যক্তি। যার গভীর ষড়যন্ত্রে কারবলার করুণ ইতিহাস ঘটে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই মারওয়ানই হয়ে যায় হযরত উসমানের প্রধান রাজনৈতিক সচিব। হযরত আবু বকর, ওমর এবং উসমানের ২৬ বছর শাসনামলে মোয়াবিয়া অর্থাৎ উমাইয়া গোষ্ঠী বিশাল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যায়। এই উমাইয়া গোষ্ঠী ছিলো দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) এবং ইসলামের ঘোরতর দুশমন। এদের সাথেই দয়াল রাসূল (সাঃ) এর ২৭টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দয়াল রাসূলে খোদা ওফাত হওয়ার সাথে সাথে এরাই হয়ে যায় মুসলিম খেলাফতের শক্তিশালী গর্ভণর। আর উমাইয়াদের শক্তিশালী করার পিছনে আমাদের গুণধর তিন খলিফাই মূলত দায়ী। কারণ মোয়াবিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে তিন খলিফাই উমাইয়াদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। এই মহাসত্য কখনো অস্বীকার করার উপায় নেই।
হযরত আবু বকর, ওমর এবং উসমানের মৃত্যুর পর মক্কা ও মদিনার জনগণ জোর করে মাওলা আলীকে খলিফা বানিয়ে দেয়। মাওলা আলী খলিফা হওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং ইচ্ছুক ছিলেন না। মাওলা আলী যখন খলিফা হয়, তখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা বিরাজ করেছিলো। মাওলা আলী খলিফা হওয়ার সাথে সাথে মোয়াবিয়া বায়াত গ্রহণের পরিবর্তে মাওলা আলী অর্থাৎ মুসলিম জাহানের খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। যা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কাফের হওয়ার শামিল। একজন সামান্য গর্ভণর কখনো মুসলিম জাহানের খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারেন না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একজন জেলা প্রশাসক বিদ্রোহ ঘোষণা করলে, সে রাষ্টদ্রোহী হিসাবে গণ্য হবে। ইসলামি আইন-কানুন এবং রীতিনীতি তো আরো কঠিন। ইসলামের দৃষ্টিতে এমন বিদ্রোহী সরাসরি মুরতাদ হয়ে যায় এবং মুরতাদকে হ'ত্যা করা যায়েজ হয়ে যায়। মোয়াবিয়া হযরত উসমান হ*ত্যার উস্কানি দিয়ে মা আয়েশাকে মাওলা আলীর বিরুদ্ধে জঙ্গে জামাল যুদ্ধে অবতীর্ণ করে। তবে মা আয়েশা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে যুদ্ধের ময়দান পরিত্যাগ করে। কিন্তু মোয়াবিয়া নেতৃত্ব দিয়ে মাওলা আলীর সাথে যুদ্ধ করে যায়। পরবর্তীতে মোয়াবিয়া নিশ্চিত পরাজয় জেনে যুদ্ধ থেকে পিছু হটে। এটাই জঙ্গে জামাল অর্থাৎ উষ্টের যুদ্ধ নামে পরিচিত। মা আয়েশা মোয়াবিয়ার দুরভিসন্ধি বুঝে ফেলার জন্য, মোয়াবিয়া মারওয়ানের মাধ্যমে মা আয়শাকে দাওয়াত করে গোপনে গর্তে ফেলে হ"ত্যা করে। ফলে আজও মা আয়েশার মাজার কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।মোয়াবিয়া উষ্টের যুদ্ধের পরাজয় প্রতিশোধ গ্রহণ করার জন্য আবারও ৮০ হাজার সৈন্য নিয়ে মাওলা আলীর সাথে সিফফিন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এবারও মোয়াবিয়া চূড়ান্ত পরাজয়ের মূহুর্তে বর্শার আগায় পবিত্র কুরআন ঝুলিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটান। যদিও মাওলা আলী যুদ্ধ থামাতে চাননি কিন্তু মাওলা আলীর সৈন্যদের ১২ হাজারের একটি অংশ পবিত্র কুরআন অপমান অজুহাতে বিদ্রোহী ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহীদের মাওলা আলী খারেজী ঘোষণা করে। এখান থেকেই শুরু হয় খারেজি গোত্রের উদ্ভব। মাওলা আলী খেলাফতের ৪বছর যুদ্ধ বিগ্রহ এবং চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে থাকে। ফলে মাওলা আলী দেশ এবং ইসলাম গঠনের নূন্যতম সুযোগটুকু পাননি এবং তাঁকে সেই সুযোগটুকু দেওয়া হয়নি। অবশেষে মোয়াবিয়া সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গুপ্তঘাতক আবদুর রহমান মুলজিমকে দিয়ে নামাজরত অবস্থায় মাওলা আলীকে হ"ত্যা করায়। শুরু হলো আবার নতুন অধ্যায়।
মাওলা আলী শহীদ হওয়ার পর মাওলা ইমাম হাসান মুসলিম জাহানের খলিফা নিযুক্ত হন। মোয়াবিয়া মাওলা ইমাম হাসানের সাথে যুদ্ধ করে কূটকৌশলের মাধ্যমে শান্তি চুক্তি করতে বাধ্য করে। ফলে মাওলা ইমাম হাসান ৬মাসের মাথায় খলিফা পদ থেকে ইস্তফা নেয়। আর মোয়াবিয়া সামান্য গর্ভণর থেকে সমগ্র মুসলিম জাহানের খলিফা হয়ে যায়। তবে মোয়াবিয়া মাওলা ইমাম হাসানের সাথে চুক্তি করে তার মৃত্যুর পর ইমাম হোসাইন হবে মুসলিম জাহানের পরবর্তী খলিফা। ধুরন্ধর মোয়াবিয়া খলিফা হওয়ার পরই ষড়যন্ত্র করে মাওলা ইমাম হাসানকে স্বীয় স্ত্রীর মাধ্যমে বিষ প্রয়োগে হ*ত্যা করে। ফলে আহলে বাইতের মধ্যে একমাত্র সদস্য মাওলা ইমাম হোসাইন জীবিত থাকে। এদিকে চতুর মোয়াবিয়া মৃত্যুর আগে চুক্তি ভঙ্গ করে স্বীয় পুত্র মদ্যপ ও নারীলোভী এজিদকে পরবর্তী খলিফা নির্বাচন করে যান। মক্কা ও মদিনার গর্ভণর ব্যতীত সকল প্রাদেশিক গর্ভণর এজিদের হাতে বায়াত গ্রহণ করে খলিফা হিসাবে মেনে নেন। এজিদ খলিফা হওয়ার সাথে সাথে মারওয়ানের কুপরামর্শে মাওলা ইমাম হোসাইনকে তার নিকট বায়াত হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। মাওলা ইমাম হোসাইন দুশ্চরিত্র এজিদের প্রস্তাব সরাসরি অস্বীকার করে। ফলে এজিদ এবং মারওয়ান মাওলা ইমাম হোসাইনকে হ*ত্যা করার নীল নকশা আঁকতে থাকে। ইয়াজিদ রাষ্ট্রীয় সকল মুফতি, হাফেজ, মোহাদ্দেস এবং মসজিদের ইমামদের রাজ দরবারে তলব করে ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়ার জন্য। সকল আলেমগণ সর্ব সম্মতিক্রমে এজিদের বায়াত অস্বীকার করার জন্য মাওলা ইমাম হোসাইনকে কাফের ফতোয়া দেয়। এদিকে ৪০ হাজার কুফাবাসী মাওলা ইমাম হোসাইনের নিকট বায়াত হওয়ার জন্য কুফায় আমন্ত্রণ জানায়। মাওলা ইমাম হোসাইন তাদের চিঠির পরিপ্রক্ষিতে ৮২জন সাথী ও পরিবার নিয়ে কুফায় রওনা দেয়। আর এজিদ এই খবর পেয়ে ইবনে যিয়াদের নেতৃত্বে ২২ হাজার সৈন্য প্রেরণ করে। কারবালার ময়দানে মাওলা ইমাম হোসাইন বিশ্রামের জন্য তাবু ঘারে। তখন এজিদের ২২ হাজার সৈন্য বাহিনী চারিদিকে ঘিরে ফেলে এবং ১০ই মহররমের দিন মাওলা ইমাম হোসাইনসহ ৭২ জন সাথীকে নির্মমভাবে হ*ত্যা করে। মাওলা ইমাম হোসাইনের মাথা মোবারক নিয়ে শহরের অলি গলি ও মসজিদের মিম্বরে রেখে বিজয় মিছিল করে এবং মাওলা ইমাম হোসাইনের মাথা মোবারক বর্শার আগায় বিদ্ধ করে সামনে রেখে দুই রাকাত শোকরানা নামাজ আদায় করে।
তাই কারবালার নির্মম ঘটনার জন্য এজিদ একা দায়ী নন বরং এজিদ শুধুমাত্র নীল নকশা বাস্তবায়নকারী। এজিদ আকাশ থেকে পড়ে একদিনেই ক্ষমতা লাভ করেনি বরং এজিদকে মাওলা ইমাম হোসাইনকে হ*ত্যা করার জন্যই মোয়াবিয়া ক্ষমতায় বসায়। এজিদের গডফাদার মোয়াবিয়া আর মোয়াবিয়ার গড ফাদার আমাদের গুণধর তিন খলিফা। কারবলার ক্ষেত্র একদিনে তৈরি হয়নি বরং বনু সকিফা থেকে দীর্ঘ ৫০ বছরের ফসল কারবালা। হত্যাকারীর চেয়ে হুকুমদাতা সবচেয়ে বড় অপরাধী। আমাদের সমাজের অনেক পন্ডিত মহাশয় বলে থাকেন, কারবালা ঘটনা আল্লাহর হুকুম ছাড়া হয়নি। তাদের যুক্তি হলো আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনকিছু হয় না। তাহলে শুনুন যুক্তিবাদী পন্ডিত মহাশয়! পতিতাবৃত্তি, ধর্ষণ, সুদ ঘোষ, রাহাজানি এবং হত্যা সবই কি আল্লাহর হুকুমে হয়। ( নাউজুবিল্লাহ)। নিজেদের নেতার কৃতকর্মের দোষ ঢাকার জন্য আর কতকাল আল্লাহকে দোষী সাব্যস্ত করবেন। হোসাইনি গোলামরা আপনাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিচ্ছে এবং জনগনকে আর বোকা বানানো যাবে না। বাহ কি চমৎকার মুসলিম জাতি আমরা! দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) ওফাত হওয়ার মাত্র ৫০ বছরের মধ্যে নবীর সকল পরিবারকে সমূলে শহীদ করলাম। আপনাদের বিবেকবুদ্ধি কি লোপ পেয়েছে ভাই? আর কতকাল ঘুমিয়ে থাকবেন। ঘুম থেকে জেগে দেখুন এজিদের দোসররা এখনো ধর্মকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আপনার ঈমানকে বাঁচাইতে এখনই এজিদের ধর্ম ত্যাগ করে হোসাইনি মুসলমান হয়ে মোহাম্মদী ইসলামে প্রবেশ করুন। জয় মোহাম্মদী ইসলামের জয়। জয় মাওলা আলীর জয়।
যেকোনো আহলে বাইত গোলাম বিনা অনুমতিতে এই পোস্ট কপি করার পূর্ণ অধিকার রাখে।
প্রচারেঃ "আহলে বাইত (আঃ) ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ" একটি অনলাইন ভিত্তিক গোলামি সংগঠন। আপনি অনলাইনে আহলে বাইতের গোলামি করতে চাইলে মেসেঞ্জারে নক দিন।
15/07/2024
তৎকালীন সময়ে মাওলা ইমাম হোসাইনের ভক্তরা মসজিদে নামাজ পড়তে যেত না। (ধারাবাহিক পোষ্ট নং ৬৪)।
মাওলা ইমাম হোসাইনকে শহীদ করার আগে হাজার হাজার আলেম নামের জালেম সম্প্রদায় মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুৎবায় মাওলা ইমাম হোসাইনকে কাফের এবং বিদআতি ফতোয়া দেওয়া হয়। এদের মধ্যে ছিল হাজার হাজার কোরআনের হাফেজ ও মুফতি। যারা পরবর্তীতে সরাসরি এজিদের সৈন্য বাহিনীর সদস্য হয়ে কারবালা প্রান্তরে মাওলা ইমাম হোসাইনের মাথা মোবারক শি"রশ্ছেদ করে। এজিদি ২২ হাজার সৈন্য বাহিনীর সবাই ছিল নামদারী সাহাবী এবং তাবেঈন। এরাই আবার সিফফিনের যুদ্ধে. মাওলা আলীর বিপক্ষে যুদ্ধ করেছিল। মাওলা ইমাম হোসাইনের মাথা মোবারক শি"রশ্ছেদ করে শহরের অলি গলিতে এবং মসজিদের ভিতরে বিজয় মিছিল ও আনন্দ উৎসব করেছিল। আবার মাওলা ইমাম হোসাইনের মাথা মোবারক বর্শার আগায় বিদ্ধ করে দুই রাকাত শোকরানা নামাজ আদায় করেছিল। আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিল একজন কাফেরকে হ*ত্যা করেছি। (নাউজুবিল্লাহ)। তাদের আনন্দ উৎসব ঈদকে হার মানিয়েছিল। তাদের সকলের মুখেই দাড়ি, জুব্বা, পাগড়ী লেবাস ছিল। আর মুখে আল্লাহ এবং রাসূল পাক (সঃ) এর নামের জ্বিকির তুলত। এমন নামাজ রোজা করতো, মনে হতো তাদের চেয়ে মুমিন বান্দা জগতে নাই। লেবাস, নামাজ, রোজা এবং পবিত্র কুরআন শরীফকে ঢাল স্বরুপ ব্যবহার করে জনগনকে বোকা বানিয়েছিল। আর সাথে সাহাবী এবং তাবেঈন নামের তকমা তো ছিলই। এজিদি হাফেজ ও মুফতিরা পবিত্র কুরআন শরীফের এমনভাবে অপব্যাখ্যা করেছিল, যাতে মাওলা ইমাম হোসাইনকে নিশ্চিতভাবে জনগনের নিকট কাফের প্রমাণ করা যায়। এবং তারা জনগণের নিকট মাওলা ইমাম হোসাইনকে কা"ফের প্রমান করতে সক্ষম হয়েছিল।
পরবর্তীতে এজিদি আলেমরা সমগ্র আরব দেশের প্রতিটি মসজিদে খুৎবায় মাওলা ইমাম হোসাইন এবং মাওলা আলীকে গালাগালি করা হতো। এরা পবিত্র মসজিদকে ঢাল স্বরুপ ব্যবহার করে। যাতে জনগণকে সহজেই বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। বোকা জনগন কোনকিছু যাচাই-বাছাই না করে, তাদের কথা বিশ্বাস করতে থাকে। কারণ মসজিদের ইমাম যেভাবে বলে মুসল্লীগণ সেইভাবে চলতে বাধ্য হয়। সেই দুঃসহময় স্মৃতিগুলো আমি অধম ভাষায় প্রকাশ করতে অক্ষম। এইভাবে চলতে থাকে দীর্ঘ ৫৯৭ বছর এবং এদের দ্বারাই তৈরি হয় হাজার হাজার জাল হাদিস। যা পরবর্তীতে এই জাল হাদিসগুলো গ্রন্হ আকারে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং রাষ্ট্রের অর্থায়নে মসজিদ ও মাদ্রাসায় পড়ানো হয়। তখন বেসরকারি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুৎবায় মাওলা ইমাম হোসাইন এবং মাওলা আলীকে গালাগালি করার জন্য, অতি অল্প সংখ্যক হোসাইনি প্রেমিক মসজিদে নামাজ পড়া ছেড়ে দিয়ে বাসায় নামাজ পড়ে। রাষ্ট্রীয় পেশিশক্তির কাছে অনায়াসে মসজিদগুলো দখলে চলে যায়। পরিস্থিতি অতি ঘোলাটে এবং ভয়ংকর হওয়ার জন্য কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পেত না। রাসূলে খোদা স্বপ্নে দেখে তাঁর মিম্বরে বানর উঠছে এবং নামছে। সেই স্বপ্নটা অতি তাড়াতাড়ি বাস্তবায়ন হয়ে গেল। সেই যে মসজিদগুলো দখল হয়ে গেল, তা কালের পরিক্রমায় আজও বিদ্যমান রয়ে গেছে। পরবর্তীতে অলী আল্লাহগণ মসজিদের বিকল্প হিসাবে নিজস্ব খানকাহ শরীফ ব্যবহার শুরু করে এবং সেখানেই সকল ভক্তদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। এই শিক্ষাটা হলো পাক পাঞ্জাতন প্রেমে নিজেকে বিসর্জন দেওয়া। যা আজও প্রতিটি অলী আল্লাহ দরবারে স্পষ্ট দেখা যায়।
আচ্ছা আমরা হেসাইনি প্রেমিক হয়ে কিভাবে মসজিদে সেই এজিদি আলেমদের পিছনে নামাজ পড়তে পারি? যারা আমার পাক পাঞ্জাতনকে প্রতিনিয়ত মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুৎবায় অতি কৌশলে অপমান করে। এরা খুৎবায় বলে আমার রাসূল পাক (সঃ) মাটির তৈরি, গায়েব জানে না, রাসূল জিন্দা নয় মৃত, পাক পাঞ্জাতন বলতে কিছু নাই ইত্যাদি অপমানজনক কথা। ১৪০০ বছর আগে সরাসরি গালাগালি করা হতো এবং বর্তমানে ভোল পাল্টিয়ে অতি সূক্ষ্ণ কৌশলে অপমান করে। আমি অধম কিন্তু কোন পার্থক্য খুঁজে পাই না। সেই লেবাস এবং পবিত্র কুরআন শরীফের অপব্যাখ্যা একই রয়ে গেছে। শুধু মানুষের চেহারার সুরতগুলো পাল্টাইছে কিন্তু চরিত্রগুলো হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। দোষ কিন্তু মসজিদের নয় বরং দোষ এজিদি শিক্ষায় শিক্ষিত মসজিদের মোল্লাদের। আপনাকে একটি প্রশ্ন করি, সেদিন কারবালার ময়দানে এজিদি শিবিরে নামাজ আদায় করা হয় আবার মাওলা হোসাইনি শিবিরে নামাজ আদায় করা হয়। এখন আপনি কি এজিদি শিবিরে নামাজ আদায় করতেন নাকি হোসাইনি শিবিরে নামাজ আদায় করতেন? তাহলে এখন কেনো আমরা নামাজ এবং সমাজের দোহাই দিয়ে এজিদি মোল্লার পিছনে নামাজ পড়বো? এই হিসাবটা আমি অধম পাপী কখনো মিলাইতে পারি না এবং কখনো মিলবে বলে আশা করি না। যারা আমার পাক পাঞ্জাতনকে অপমান করে, তাদের পিছনে নামাজ পড়ার চেয়ে হাজার বছর নামাজ না পড়া অতি উত্তম মনে করি। এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত, কাউকে মানতে হবে এমন নয়। শুধু মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, যেখানে আমার পাক পাঞ্জাতনের শানে চরম অপমান করা হয়, সেই স্হানটা আমার নিকট নর্দমার কীটের চেয়েও নিকৃষ্ট। হোক সেটা মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির,গীর্জা অথবা প্যাগোডা। কারণ আমার নিকট পাক পাঞ্জাতনের উর্ধ্বে সৃষ্টি জগতে কোনকিছু নেই। এজিদি মোল্লার পিছনে নামাজ না পড়ার কারণে যদি আমাকে অনন্তকাল নরকে জ্বলতে হয়, তবুও আমি হাসতে হাসতে সেই নরকে যেতে রাজি আছি। তবুও আমি আমার ভিতরের বিবেকের স্বত্বাকে নষ্ট করতে পারব না। হে আমার প্রভু! আমি যদি এই অপরাধে অপরাধী হয়ে থাকি, তবে তুমি আমাকে আরো অপরাধ করার তৌফিক ভিক্ষা দাও। এই জন্য আমি অধম তোমার কাছে মোটেও অনুতপ্ত হব না বরং আরো গর্ববোধ করব। মনে বড় স্বাধ জাগে তোমার মসজিদে গিয়ে একটু সেজদা দিতে। কিন্তু আমি বড় অসহায়, যা তুমি জানো। কারণ তুমি আমার মনিব এবং আমি তোমার গোলাম। জানি না কবে হোসাইনি ভক্তরা মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুৎবা পড়বে এবং প্রাণ ভরে শুনতে পারবো? তোমার লীলা বুঝা বড় দায়। আমি অধম তোমার সকল ইচ্ছার বলিদান হতে চাই কিন্তু এই একটিমাত্র ইচ্ছা নিজের কাছে রেখে দিলাম। তুমি আবার রাগ করিও না। আমিন। অধমের লেখায় কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দিবেন। জয় মাওলা ইমাম হোসাইনের জয়। জয় মোহাম্মদী ইসলামের জয়।
যেকোনো আহলে বাইতের গোলাম এই পোস্ট কপি করার পূর্ণ অধিকার রাখে।
প্রচারেঃ "আহলে বাইত (আঃ) ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ" একটি অনলাইন গোলামি সংগঠন। আপনি অনলাইনে আহলে বাইতের গোলামি করতে চাইলে মেসেঞ্জারে নক দিন।।
15/07/2024
মাওলা ইমাম হোসাইন (আ:) আমাদের নাজাতদাতা। কারবালা প্রান্তরে মাওলা ইমাম হোসাইনের কোরবানি সর্বশ্রেষ্ঠ। (ধারাবাহিক পোস্ট নং ৬৩)।
বাবা ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয়বস্তু ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি অর্থাৎ বিসর্জন দিয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহ খুশি হয়ে ইসমাইল (আঃ) এর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়। সেই থেকে আমাদের মুসলিম সমাজে কোরবানি প্রথা চালু হয়ে আসছে। এটা ছিল বাবা ইব্রাহিম (আঃ) এর আল্লাহর প্রতি আত্নত্যাগের বলিয়ান।
আর মাওলা ইমাম হোসাইন তাঁর পবিত্র ৭২ জন সঙ্গীসহ কারবালা প্রান্তরে আমাদের মতো পাপীতাপীদের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করে। আর মাওলা হাসান আমাদের মুক্তির জন্য বিষ খেয়ে নিজেকে কোরবানি করে। নচেৎ বিষের কি ক্ষমতা আছে, আমার মাওলা ইমাম হাসানকে মে"রে ফেলার।সৃষ্টি জগতের সমস্ত শক্তি এক হলেও মাওলা ইমাম হোসাইনকে ক*তল করবে, এমন শক্তি কারোর আছে। মাওলা ইমাম হোসাইনের দুলদুল ঘোড়ার একটি পায়ের কাছে এজিদি ২২ হাজার সৈন্য অতি তুচ্ছ ছিলো। অথচ মাওলা ইমাম হোসাইন স্বেচ্ছায় নিজের গ"র্দান মোবারক কোরবানি দিয়ে আমাদের জন্য মুক্তির ব্যবস্হা করে গেলেন। আচ্ছা আপনার বিবেককে একবার প্রশ্ন করুন তো, বাবা ইব্রাহিম (আঃ) এর কোরবানি নাকি মাওলা ইমাম হোসাইনের কোরবানি সবচেয়ে বেশি মহৎ ছিলো। বাবা ইব্রাহিম (আঃ) এর কোরবানি ছিল শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এখানে আমরা জড়িত নই। আর মাওলা ইমাম হাসান ও হোসাইন আমাদের মুক্তির জন্য কোরবানী হয়েছেন। সেদিন কারবালা প্রান্তরে মাওলা ইমাম হোসাইন কোরবানী না হলে, আমাদের মতো পাপীতাপীর জীবনেও মুক্তির ব্যবস্হা হতো না। এরচেয়ে বড় আত্নত্যাগ অর্থাৎ কোরবানি কি হতে পারে?
হায়রে সেলুকাস মুসলিম জাতি! কারবালা প্রান্তরের সেই কোরবানির কথা নিমিষেই ভুলে গেলাম। অথচ হাজার হাজার বছর আগে বাবা ইব্রাহিম (আঃ) এর কোরবানি নিয়ে মহা উৎসবে মেতে উঠলাম। তার মানে এই নয় যে, আমি অধম পাগলা বাবা ইব্রাহিম (আঃ) এর কোরবানিকে অস্বীকার করছি। বাবা ইব্রাহিম (আঃ) শুধু দেখিয়ে গেছে কিভাবে আত্নত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হয়। সে কিন্তু আমাদের নাজাতদাতা নন। আমাদের নাজাতদাতা মাওলা ইমাম হাসান ও হোসাইন। কারণ তাঁরা শুধু আমাদের মুক্তির জন্য কোরবানী হয়েছেন। আমি অধম পাগলা মাঝে মাঝে শুধু ভাবি, মুসলিম জাতি এতো অজ্ঞ ও বিবেকহীন কিভাবে হলো? আজ কারবালার নির্মম কাহিনি আমাদের হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করে না। বৃষ্টি ধারায় আঁখি ভিজে না। হায় হোসাইন, হায় হোসাইন, হায় হোসাইন বলে মন অনুতপ্ত হয় না। এ কেমন অকৃতজ্ঞ জাতি আমরা? বিষয়টি যখন গভীরভাবে ভাবি, তখন নিজের উপর ধিক্কার দিই শতবার। প্রচন্ড ঘৃণা লাগে নিজের প্রতি। আমার মতো জুলুমবাজ ও অকৃতজ্ঞ জগতে আর একটিও নেই। হায়রে সেলুকাস আমাদের বিবেক বুদ্ধি। মাওলা ইমাম হোসাইনের চেয়ে আত্নত্যাগ অর্থাৎ কোরবানি সৃষ্টি জগতে আর একটি দেখান তো আমায়। জানি কেয়ামত পর্যন্ত অপচেষ্টা করলেও পারবেন না। ধ্বংস হোক আমাদের অকৃতজ্ঞ বিবেক এবং মাওলা ইমাম হোসাইনের আত্মাত্যাগে বলিয়ান হোক আমাদের জাগ্রত শুদ্ধ বিবেক। হে মাওলা ইমাম হোসাইন! তোমার স্মরণে যেনো আজীবন প্রতিটি সেকেন্ড অধম পাগলার হৃদয় ক্রন্দনরত হয়। ক্ষত-বিক্ষত হোক আমার পাষান্ড মন। তুমি দয়া করে অধম পাপী পাগলাকে তোমার ভালোবাসায় সিক্ত করো। জয় পাক পাঞ্জাতনের জয়। জয় মোহাম্মদী ইসলামের জয়।
যেকোনো আহলে বাইত গোলাম বিনা অনুমতিতে এই পোস্ট কপি করার পূর্ণ অধিকার রাখে।
প্রচারে: "আহলে বাইত (আ:) ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ" একটি অনলাইন ভিত্তিক গোলামি সংগঠন। আপনি অনলাইনে আহলে বাইতের গোলামি করতে চাইলে মেসেঞ্জারে নক দিন।।
15/07/2024
হে মুসলিম জাতি! তোমরা কাকে নির্মমভাবে শহীদ করছো। কখনো একবার ভেবে দেখেছেন। (ধারাবাহিক পোস্ট নং ৬২)।
দয়াল রাসূল পাক (সঃ) বলেন-
حسين مني وأنا من حسين أحب الله من أحب حسينا
অর্থাৎ: হোসাইন আমার থেকে আমি হোসাইন থেকে, যে হোসাইনকে ভালবাসে তাকে মাহান আল্লাহ ভালোবাসেন। ( সুনানে ইবনে মাজা ১ম খন্ড, হাদিস নং ১৪৪)।
দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) এর চেহারা মোবারকের সাথে সবচেয়ে বেশী সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলো মাওলা ইমাম হোসাইনের। দয়াল পাক (সাঃ) এবং মাওলা ইমাম হোসাইন ছিলেন এক এবং অভিন্ন স্বত্ত্বা। তাঁদের মধ্যে প্রেমের গভীরতা ছিলো মহাসমুদ্রের ন্যায়। যাহা কোন লেখক কেয়ামত পর্যন্ত লিখলেও সমস্ত সমুদ্রের একবিন্দু লেখা সম্ভব হবে না। সেখানে অধম আর কি লিখবো? ভাষার তুলি কথামালা গুলো থরথর করে কাঁপছে এবং অন্তরে মহাপ্রলয় অগ্নিঝড় বইছে। আরে মাওলা ইমাম হোসাইন তো সরাসরি দয়াল রাসূলে খোদারই স্বত্ত্বা প্রেমময় নুরের অধিকারী। দয়াল রাসূল (সাঃ) এবং মাওলা ইমাম হোসাইন একবিন্দু জুদা নন বরং একই বস্তু ভিন্ন রুপে আবির্ভাব হয়েছে। মাওলা ইমাম হোসাইনকে দেখা মানে সরাসরি দয়াল রাসূল (সাঃ) কে দেখা। মাওলা ইমাম হোসাইনের চেহারার দিকে মহব্বতের দৃষ্টিতে তাকানো হাজার বছর ইবাদতের চেয়েও উত্তম। তাঁকে ভালোবাসা মুমিনের জন্য ফরজেরও ফরজ। যাঁর প্রেম মুমিনের হৃদয়ে ঝড় তুলে এবং মহাপ্রলয় ঘটায়। যাঁর কথা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে মুমিন বদ্ধ উন্মাদের ন্যায় হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। যাঁর প্রেমে অশ্রু ঝড়ালে মহাপাপীও মুমিন হয়ে যায়। বাহ কি চমৎকার মুসলিম জাতি! তোমরা তাঁকেই কারবালার ময়দানে নৃশংসভাবে হ"ত্যা করলে। তোমরা কেমন মুসলিম জাতি, ভাবতেই অবাক লাগে এবং চোখেমুখে ঘৃণার ছাপ ফুঁটে ওঠে। না না তোমরা মাওলা ইমাম হোসাইনকে হ"ত্যা করোনি বরং দয়াল রাসূল (সাঃ) এর স্বত্ত্বা, আদর্শ, স্বপ্ন, প্রেমকেই হ"ত্যা করছো। আমি আরো স্পষ্ট করে বলতে চাই, তোমরা সরাসরি দয়াল রাসূল (সাঃ) এবং মোহাম্মদী ইসলামকেই হ"ত্যা করছো।
দয়াল রাসূল (সাঃ) মাওলা ইমাম হাসান ও হোসাইনকে প্রতিনিয়ত নিজের পিঠে নিয়ে ঘোড়া ঘোড়া খেলা করতেন। দয়াল রাসূল (সাঃ) একদিন খুৎবা পাঠ করতেছে, এমন সময় মাওলা ইমাম হোসাইন প্রবেশ করে এবং মাওলা ইমাম হোসাইন জামার সাথে বেঁধে মাটিতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে, দয়াল রাসূল (সাঃ) খুৎবা রেখে মাওলা ইমাম হোসাইনকে জড়িয়ে ধরে। আবার দয়াল রাসূল (সাঃ) নামাজে সেজদা দেওয়ার সময় মাওলা ইমাম হাসান ও হোসাইন অধিকাংশ সময় পিঠে চড়ে থাকতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা পিঠ থেকে না নামতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত দয়াল রাসূল (সাঃ) সেজদা থেকে উঠতেন না। হায়রে কি প্রেমের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে মনের অকপটে। এমন ভালোবাসার নজির সৃষ্টি জগতে আর নেই। আর তোমরা দয়াল রাসূলে খোদার সেই ভালোবাসাকেই হ"ত্যা করলে। অথচ নাম দিয়েছো পাক্কা মুসলিম। ঘৃণার ভাষায় হারিয়ে ফেলেছি মুসলমানদের এমন হীন কার্যকলাপে। প্রতিবাদের ভাষাগুলো প্রতিনিয়ত ঠুকরে ঠুকরে কাঁদছে এবং বাকরুদ্ধ হচ্ছি বারবার।
আপনি কি জানেন! কারা মাওলা ইমাম হোসাইনকে কারবালা প্রান্তরে নির্মমভাবে হ"ত্যা করছে? কারবালা প্রান্তরে ২২ হাজার এজিদ বাহিনীর মধ্যে হাজার হাজার মসজিদের ইমাম, হাফেজ, মুফতি এবং সবাই নামদারী সাহাবী ও তাবেইন ছিলো। অথচ আমরা অজ্ঞতার জন্যই হাফেজ, মুফতি, আলেম, সাহাবী এবং তাবেইনদের কথা শুনলেই শ্রদ্ধার সাথে মাথা অবনত করি প্রতিনিয়ত। এজিদ নিজেও ছিলো একজন তাবেইন এবং কোরআনের হাফেজ। এরা কিন্তু কেউ আমাদের মতো সাধারণ মুসলিম ছিলো না। এরাই আমার মাওলা ইমাম হোসাইনের ম"স্তক কে"টে বর্শার আগায় বিদ্ধ করে কুফা ও দামেস্কের সকল মসজিদ এবং শহরের অলি গলিতে বিজয় মিছিল করে। কারবালা প্রান্তরে মাওলা ইমাম হোসাইনের মাথা মোবারক শিরশ্ছেদ করার পর, মাওলা ইমাম হোসাইনের দেহ মোবারকের উপর দিয়ে শতশত ঘোড়া চালিয়ে দেহকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়। কোরআনের হাফেজ সীমার যখন মাওলা ইমাম হোসাইনের মাথা মোবারক কা"টতে ব্যস্ত, তখন সাহাবীর ছেলে সেনাপতি ওমর সাদ বলে, সীমার তাড়াতাড়ি করে মাথা কা"টো দামেস্ক নগরে গিয়ে আছরের নামাজ পড়বো। বেশী দেরি করলে আছরের নামাজ কাযা হয়ে যাবে। আরো একটি চমকপ্রদ তথ্য দিই। ১লা মহররম থেকে ১০ই মহররম পর্যন্ত এজিদের সৈন্য বাহিনী কারবালা প্রান্তরে মাওলা ইমাম হোসাইনের শিবির ঘিরে ফেলে। এই কয়দিন মাওলা ইমাম হোসাইন এবং এজিদ বাহিনীর শিবিরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও আজান হয়েছে। অথচ এজিদ বাহিনী বুঝতে পারেনি মাওলা ইমাম হোসাইন নিজেই নামাজ এবং ধর্ম। লেবাসধারী নামাজি এবং ধার্মিকরাই স্বয়ং নামাজ এবং ধর্মকেই হ"ত্যা করছে। এজিদ বাহিনীর নামজকে যদি নামাজ বলা হয়, তাহলে মুমিনরা সে নামাজকে প্রচন্ডভাবে ঘৃণার চোখে দেখবে। এখনো সেই এজিদের রুহানি সন্তানদের সমাজে আধিক্য সর্বত্র চোখে পড়ে। যুগে পাল্টিয়েছে কিন্তু ধরণ সেই একই রয়ে গেছে। এরাই ওহাবী, জঙ্গিবাদী,আহলে হাদিস এবং মৌলবাদী বিভিন্ন নামে অভিহীত। এদের পিছনে নামাজ তো দুরের কথা বরং ঐ ধরনের নামাজ পড়াকে মহাপাপ বলে গণ্য করি। ওদের পিছনে নামাজ পড়ার চেয়ে, হাজার বছর নামাজ না পড়াকে উত্তম মনে করি। এটা অধমের একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত। আপনাদের মানতে হবে এমন কোন কথা নেই। আমি শুধু এজিদ বাহিনীর সেই নামাজকে ঘৃণা করি এবং মাওলা ইমাম হোসাইন শিবিরের নামাজকে মনেপ্রাণে লালন করি এবং শ্রদ্ধার সাথে মাথায় তুলে রাখি।
মাওলা ইমাম হোসাইন শহীদ হওয়ার আগে কিছু কথা বলেন। যা হৃদয়ে সবসময় দাগ কাটে। "তোমাদের ভিতরে কি একজনও মুসলমান নেই, যে আমাকে ফুরাত নদী থেকে একটু পানি দিবে। তোমরা কাকে হ"ত্যা করতে এসেছো? জানো না আমি দয়াল রাসূল (সাঃ) এর প্রাণপ্রিয় নাতি, শেরে খোদা মাওলা আলীর আদরের দুলাল, বেহেশতে মহিলাদের সর্দার জগত জননী মা ফাতেমার কলিজার ধন এবং আমি নিজেই বেহেশতের সর্দার ইমাম হোসাইন। তাহলে তোমরা কি বেহেশতকে হ"ত্যা করে বেহেশতে যেতে চাও? আজকে যদি কাফেররা আসতো আমাকে হ"ত্যা করতে, তাহলে মনে কোন দুঃখ থাকতো না। তোমরা তো আমার নানারই উম্মত এবং এক আল্লাহর ইবাদতকারী। আমি কি অন্যায় এবং জুলুম করেছি তোমাদের সাথে? যার জন্য আমাকে হ"ত্যা করতে দৃঢ সংকল্পবদ্ধ। তোমাদের কি ভয় নাই আখিরাতের? রোজ হাশরে কি জবাব দিবা আমার নানা এবং আল্লাহর কাছে? আমার নানার শাফায়াত ছাড়া তো কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না। এখনো সময় আছে ভয় করো আল্লাহর এবং আমার পথ ছেড়ে দাও।" জবাবে এজিদ বাহিনী কি বলেছিলো জানেন? হে হোসাইন তুমি আমাদেরকে ভয় দেখিও না বরং তুমি আল্লাহকে ভয় করো। কারণ তুমি খলিফা এজিদের বায়াত অস্বীকার করে কাফের এবং ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছো। তোমাকে হ"ত্যা করা ফরজ হয়ে গেছে এবং তোমার মতো কাফেরকে হ"ত্যা করলে নিশ্চিত জান্নাতি হবো আমরা। এখনো সময় আছে তুমি এজিদের বশ্যতা স্বীকার করে নাও, তাহলে আমরা তোমাকে কিছু বলবো না। নচেৎ আমরা তোমার মাথা শিরশ্ছেদ করে এজিদের কাছে নিয়ে যাবো। তখন মাওলা ইমাম হোসাইন বলে, ওরে পাপিষ্ঠ দলেরা তোমাদের মনে যদি এই মনোবাসনা থেকে থাকে, তাহলে শুনো রাখো আমি পাপিষ্ঠ এজিদের হাতে বায়াত গ্রহণ করবো না। প্রয়োজনে আমি নিশ্চিত শহীদ হবো তবুও মিথ্যার কাছে মাথা নত করবো না।
হে মাওলা ইমাম হোসাইন! তুমি মহাবীর, মহাবিশ্বের মহাপ্রলয়, সত্যের মূর্ত প্রতীক এবং ত্যাগের জলন্ত উত্তপ্ত অগ্নিশিখা। তুমি দিয়েছো শির তবুও মিথ্যার কাছে হার মানোনি। তুমি মুমিন হৃদয়ে চির অম্লান এবং ভালোবাসার মধ্যমনি। তোমার কদমে হাসতে হাসতে জীবন বিসর্জন দিবো, তবুও মহাসত্য থেকে পিছুপা হবো না। গোলামদের জীবন উৎসর্গ হোক তোমার নুরময় কদমে। তোমার পবিত্র রক্তের কসম খেয়ে বলছি, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত তোমারই গোলামি করে যাবো। জয় মোহাম্মদী ইসলামের জয়। জয় মাওলা ইমাম হোসাইনের জয়।
যেকোনো আহলে বাইত প্রেমিক বিনা অনুমতিতে এই পোস্ট কপি করার অধিকার রাখে।
প্রচারেঃ "আহলে বাইত (আঃ) ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ" একটি অনলাইন ভিত্তিক গোলামি সংগঠন। আপনি অনলাইনে আহলে বাইতের গোলামি করতে চাইলে মেসেঞ্জারে নক দিন।।