15/07/2024
বনু সকিফা থেকে কারবালা। (ধারাবাহিক পোস্ট নং ৬৫)।
দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) মাওলা আলী প্রসঙ্গে যা বলেন
أَمَّا أَنْتَ يَا عَلِيّ، أَنْتَ صَفِيِّي وَ أمِينِي.
আর তুমি হে আলী! তুমি আমার মনোনীত এবং আমার আমানতদার।
(খাসায়েসে নাসায়ী : ১৯,মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১৫৬)।
إِنَّ هَذَا أَخِي وَ وَصِيِّي وَ خَلِيفَتِي فِيكُمْ، فَاسْمَعُوا لَهُ وَ أَطِيعُوه.
জেনে রেখো যে,সে তোমাদের মাঝে আমার ভাই,উত্তরসূরি এবং স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে।
(তারীখে তাবারী ২:২১৭,আল কামিল ফিত্ তারীখ ২:৬৪,মাআলিমুত্ তানযীল ৪:২৭৮)।
أنْتَ وَلِيُّ كُلِّ مُؤمِنٍ وَ مُؤمِنَةٍ بَعْدِي.
আমার পরে তুমি প্রত্যেক মুমিন নর ও নারীর ওপর কর্তৃত্বের অধিকারী।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩৪,আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী ১২:৭৮/১২৫৯।
هَذَا أَخِي وَ وَصِيِّي وَ خَلِيفَتِي مِنْ بَعْدِي، فَاسْمَعُوا لَهُ وَ أَطِيعُوه.
এ হলো আমার ভাই,আর আমার পরে আমার ওয়াসী এবং খলীফা। তার নির্দেশের প্রতি কর্ণপাত করো এবং তার আনুগত্য করো।
(তারীখে তাবারী ২:৩৩১,মাআলিমুত তানযীল ৪:২৭৯,আল কামিল ফিত তারীখ ২:৬৩,শারহে নাহজুল বালাগা– ইবনে আবিল হাদীদ ১৩:২১১,কানযুল উম্মাল ১৩:১৩১)
لِكُلِّ نَبِيٍّ وَصِيٌّ وَ وَارِثٌ، وَ إَِنَّ عَلِيّاً وَصِيِّي وَ وَارِثِي.
প্রত্যেক নবীর ওয়াসী এবং উত্তরসূরি থাকে। আর আমার ওয়াসী এবং উত্তরসূরি হলো আলী।
(আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১৩৮,আল ফেরদৌস ৩:৩৩৬/৫০০৯,ইমাম আলী (আ.)– ইবনে আসাকির ৩: ৫/১০৩০-১০৩১)
দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) গাদীরে খুমে সোয়া লক্ষ সাহাবীর সামনে মাওলা আলীকে সকল মুমিনদের অভিভাবক,মুমিনদের কর্তৃত্বের অধিকারী ও মাওলা এবং খলিফা নির্বাচিত করে যান। যাতে মুসলিম জাতি কখনো পথভ্রষ্ট না হয়। কিন্তু অদৃষ্টের নির্মম পরিহাসে দয়াল রাসূল (সাঃ) ওফাত হওয়ার সাথে সাথে সেই নির্দেশ বুমেরাং হয়ে যায়। দয়াল রাসূল (সাঃ) এর দেহ মোবারক ফেলে প্রায় সকল সাহাবীরা বনু সকিফা নামক স্হানে খলিফা নির্বাচন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মদিনাবাসীরা বলে আমরা খলিফা হবো এবং মক্কাবাসীরা বলে আমরা খলিফা হবো। এই নিয়ে তিনদিন ধরে মতপার্থক্য চলতে থাকে। এইরকম জটিল পরিস্থিতিতে হযরত আবু বকর, ওমর ও উসমান মোয়াবিয়ার নিকট শরণাপন্ন হয়। কারণ মোয়াবিয়ার উমাইয়া গোত্র বিশাল বড় ছিলো। যারা মক্কা বিজয়ের সময় নিজেদের জীবন বাঁচাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলো। অবশেষে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে মোয়াবিয়াকে গর্ভণর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোয়াবিয়ার বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থন আদায়ে সক্ষম হন। ফলে অধিকাংশ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে তিনদিন পর হযরত আবু বকর খলিফা নির্বাচিত হয়ে যান। গাদীরে খুমে দয়াল রাসূল (সাঃ) এর ওছিয়তনামা প্রায় সকল সাহাবীরা নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য সবকিছু ভুলে যায়। যা ছিলো মুসলিম জাহানের প্রথম কলংকিত অধ্যায়। এদিকে মাওলা আলী মাত্র ১৩ জন মুমিন সাহাবী নিয়ে ৩দিন অপেক্ষা করে রাসূলে খোদার দাফন-কাফন কাজ সম্পন্ন করে ফেলে। বনু সকিফায় থেকেই শুরু হলো মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য, অবিশ্বাস এবং দ্বন্দ্ব। যার চূড়ান্ত ফলাফল কারবালা প্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। এমন হীন কঠোর ভঙ্গুর অবস্থায় মাওলা আলী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং তাদের আচরণে মনোক্ষুণ্ণ হন। ফলে মাওলা আলী মুসলিম ঐক্যের বৃহৎ স্বার্থে নীরবতা পালন করে। তাছাড়া দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) মাওলা আলীকে ওছিয়ত করে যান এই বলে, "হে আলী! যারা তোমার কাছে বায়াত নিতে আসবে, তুমি শুধু তাদের বায়াত করাবে। তুমি কারোর কাছে বায়াতের জন্য যাবে না। মনে রাখবে,পিপাসিত মানুষ কুয়োর কাছে যায়, কুয়ো পিপাসিত মানুষের কাছে যায় না।" তাছাড়া মাওলা আলী তখন বিদ্রোহ ঘোষণা করলে ইসলামটা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যেতো। এটা মাওলা আলী কখনো মনেপ্রাণে চাননি। মাওলা আলী ক্ষমতালোভী ছিলেন না, তাই নীরবে সকল ব্যথা সহ্য করে যান। তাছাড়া মাওলা আলী খলিফা হওয়ার জন্য যুদ্ধ করলে, আজকের ইতিহাস মাওলা আলীকে ক্ষমতালোভী এবং ভিন্ন চোখে দেখতো। রাসূলে খোদা ওফাতের ছয়মাসের মাথায় একদল দুষ্কৃতকারীরা মা ফাতেমার পেটে লাথি মেরে মা ফাতেমা এবং গর্ভের সন্তান ইমাম মহসিনকে হ'ত্যা করে।
হযরত আবু বকর খলিফা হয়েই বনু সকিফার সেই গোপন চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোয়াবিয়াকে সিরিয়ার দামেস্ক নগরের গর্ভণর নিযুক্ত করে। ফলে মোয়াবিয়া অর্থাৎ উমাইয়া বংশ রাষ্ট্রেীয় ক্ষমতা পেয়ে ফুলেফেঁপে উঠে এবং সাথে তো সাহাবীর তকমা ছিলোই। হযরত ওমরও খলিফা হয়ে মোয়াবিয়াকে স্বপদে বহাল রাখে এবং হযরত উসমান খলিফা হওয়ার পর মোয়াবিয়াকে আরো ছয়টি প্রদেশের গর্ভণর নিযুক্ত করে। তাছাড়া হযরত উসমান ইসলামের ঘোরতর দুশমন মারওয়ানকে তার রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ করে। এই মারওয়ানকে দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) নির্বাসন দিয়েছিলো এবং মারওয়ানই ছিলো কারবালার মূল হর্তাকর্তা ব্যক্তি। যার গভীর ষড়যন্ত্রে কারবলার করুণ ইতিহাস ঘটে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই মারওয়ানই হয়ে যায় হযরত উসমানের প্রধান রাজনৈতিক সচিব। হযরত আবু বকর, ওমর এবং উসমানের ২৬ বছর শাসনামলে মোয়াবিয়া অর্থাৎ উমাইয়া গোষ্ঠী বিশাল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যায়। এই উমাইয়া গোষ্ঠী ছিলো দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) এবং ইসলামের ঘোরতর দুশমন। এদের সাথেই দয়াল রাসূল (সাঃ) এর ২৭টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দয়াল রাসূলে খোদা ওফাত হওয়ার সাথে সাথে এরাই হয়ে যায় মুসলিম খেলাফতের শক্তিশালী গর্ভণর। আর উমাইয়াদের শক্তিশালী করার পিছনে আমাদের গুণধর তিন খলিফাই মূলত দায়ী। কারণ মোয়াবিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে তিন খলিফাই উমাইয়াদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। এই মহাসত্য কখনো অস্বীকার করার উপায় নেই।
হযরত আবু বকর, ওমর এবং উসমানের মৃত্যুর পর মক্কা ও মদিনার জনগণ জোর করে মাওলা আলীকে খলিফা বানিয়ে দেয়। মাওলা আলী খলিফা হওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং ইচ্ছুক ছিলেন না। মাওলা আলী যখন খলিফা হয়, তখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা বিরাজ করেছিলো। মাওলা আলী খলিফা হওয়ার সাথে সাথে মোয়াবিয়া বায়াত গ্রহণের পরিবর্তে মাওলা আলী অর্থাৎ মুসলিম জাহানের খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। যা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কাফের হওয়ার শামিল। একজন সামান্য গর্ভণর কখনো মুসলিম জাহানের খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারেন না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একজন জেলা প্রশাসক বিদ্রোহ ঘোষণা করলে, সে রাষ্টদ্রোহী হিসাবে গণ্য হবে। ইসলামি আইন-কানুন এবং রীতিনীতি তো আরো কঠিন। ইসলামের দৃষ্টিতে এমন বিদ্রোহী সরাসরি মুরতাদ হয়ে যায় এবং মুরতাদকে হ'ত্যা করা যায়েজ হয়ে যায়। মোয়াবিয়া হযরত উসমান হ*ত্যার উস্কানি দিয়ে মা আয়েশাকে মাওলা আলীর বিরুদ্ধে জঙ্গে জামাল যুদ্ধে অবতীর্ণ করে। তবে মা আয়েশা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে যুদ্ধের ময়দান পরিত্যাগ করে। কিন্তু মোয়াবিয়া নেতৃত্ব দিয়ে মাওলা আলীর সাথে যুদ্ধ করে যায়। পরবর্তীতে মোয়াবিয়া নিশ্চিত পরাজয় জেনে যুদ্ধ থেকে পিছু হটে। এটাই জঙ্গে জামাল অর্থাৎ উষ্টের যুদ্ধ নামে পরিচিত। মা আয়েশা মোয়াবিয়ার দুরভিসন্ধি বুঝে ফেলার জন্য, মোয়াবিয়া মারওয়ানের মাধ্যমে মা আয়শাকে দাওয়াত করে গোপনে গর্তে ফেলে হ"ত্যা করে। ফলে আজও মা আয়েশার মাজার কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।মোয়াবিয়া উষ্টের যুদ্ধের পরাজয় প্রতিশোধ গ্রহণ করার জন্য আবারও ৮০ হাজার সৈন্য নিয়ে মাওলা আলীর সাথে সিফফিন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এবারও মোয়াবিয়া চূড়ান্ত পরাজয়ের মূহুর্তে বর্শার আগায় পবিত্র কুরআন ঝুলিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটান। যদিও মাওলা আলী যুদ্ধ থামাতে চাননি কিন্তু মাওলা আলীর সৈন্যদের ১২ হাজারের একটি অংশ পবিত্র কুরআন অপমান অজুহাতে বিদ্রোহী ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহীদের মাওলা আলী খারেজী ঘোষণা করে। এখান থেকেই শুরু হয় খারেজি গোত্রের উদ্ভব। মাওলা আলী খেলাফতের ৪বছর যুদ্ধ বিগ্রহ এবং চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে থাকে। ফলে মাওলা আলী দেশ এবং ইসলাম গঠনের নূন্যতম সুযোগটুকু পাননি এবং তাঁকে সেই সুযোগটুকু দেওয়া হয়নি। অবশেষে মোয়াবিয়া সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গুপ্তঘাতক আবদুর রহমান মুলজিমকে দিয়ে নামাজরত অবস্থায় মাওলা আলীকে হ"ত্যা করায়। শুরু হলো আবার নতুন অধ্যায়।
মাওলা আলী শহীদ হওয়ার পর মাওলা ইমাম হাসান মুসলিম জাহানের খলিফা নিযুক্ত হন। মোয়াবিয়া মাওলা ইমাম হাসানের সাথে যুদ্ধ করে কূটকৌশলের মাধ্যমে শান্তি চুক্তি করতে বাধ্য করে। ফলে মাওলা ইমাম হাসান ৬মাসের মাথায় খলিফা পদ থেকে ইস্তফা নেয়। আর মোয়াবিয়া সামান্য গর্ভণর থেকে সমগ্র মুসলিম জাহানের খলিফা হয়ে যায়। তবে মোয়াবিয়া মাওলা ইমাম হাসানের সাথে চুক্তি করে তার মৃত্যুর পর ইমাম হোসাইন হবে মুসলিম জাহানের পরবর্তী খলিফা। ধুরন্ধর মোয়াবিয়া খলিফা হওয়ার পরই ষড়যন্ত্র করে মাওলা ইমাম হাসানকে স্বীয় স্ত্রীর মাধ্যমে বিষ প্রয়োগে হ*ত্যা করে। ফলে আহলে বাইতের মধ্যে একমাত্র সদস্য মাওলা ইমাম হোসাইন জীবিত থাকে। এদিকে চতুর মোয়াবিয়া মৃত্যুর আগে চুক্তি ভঙ্গ করে স্বীয় পুত্র মদ্যপ ও নারীলোভী এজিদকে পরবর্তী খলিফা নির্বাচন করে যান। মক্কা ও মদিনার গর্ভণর ব্যতীত সকল প্রাদেশিক গর্ভণর এজিদের হাতে বায়াত গ্রহণ করে খলিফা হিসাবে মেনে নেন। এজিদ খলিফা হওয়ার সাথে সাথে মারওয়ানের কুপরামর্শে মাওলা ইমাম হোসাইনকে তার নিকট বায়াত হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। মাওলা ইমাম হোসাইন দুশ্চরিত্র এজিদের প্রস্তাব সরাসরি অস্বীকার করে। ফলে এজিদ এবং মারওয়ান মাওলা ইমাম হোসাইনকে হ*ত্যা করার নীল নকশা আঁকতে থাকে। ইয়াজিদ রাষ্ট্রীয় সকল মুফতি, হাফেজ, মোহাদ্দেস এবং মসজিদের ইমামদের রাজ দরবারে তলব করে ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়ার জন্য। সকল আলেমগণ সর্ব সম্মতিক্রমে এজিদের বায়াত অস্বীকার করার জন্য মাওলা ইমাম হোসাইনকে কাফের ফতোয়া দেয়। এদিকে ৪০ হাজার কুফাবাসী মাওলা ইমাম হোসাইনের নিকট বায়াত হওয়ার জন্য কুফায় আমন্ত্রণ জানায়। মাওলা ইমাম হোসাইন তাদের চিঠির পরিপ্রক্ষিতে ৮২জন সাথী ও পরিবার নিয়ে কুফায় রওনা দেয়। আর এজিদ এই খবর পেয়ে ইবনে যিয়াদের নেতৃত্বে ২২ হাজার সৈন্য প্রেরণ করে। কারবালার ময়দানে মাওলা ইমাম হোসাইন বিশ্রামের জন্য তাবু ঘারে। তখন এজিদের ২২ হাজার সৈন্য বাহিনী চারিদিকে ঘিরে ফেলে এবং ১০ই মহররমের দিন মাওলা ইমাম হোসাইনসহ ৭২ জন সাথীকে নির্মমভাবে হ*ত্যা করে। মাওলা ইমাম হোসাইনের মাথা মোবারক নিয়ে শহরের অলি গলি ও মসজিদের মিম্বরে রেখে বিজয় মিছিল করে এবং মাওলা ইমাম হোসাইনের মাথা মোবারক বর্শার আগায় বিদ্ধ করে সামনে রেখে দুই রাকাত শোকরানা নামাজ আদায় করে।
তাই কারবালার নির্মম ঘটনার জন্য এজিদ একা দায়ী নন বরং এজিদ শুধুমাত্র নীল নকশা বাস্তবায়নকারী। এজিদ আকাশ থেকে পড়ে একদিনেই ক্ষমতা লাভ করেনি বরং এজিদকে মাওলা ইমাম হোসাইনকে হ*ত্যা করার জন্যই মোয়াবিয়া ক্ষমতায় বসায়। এজিদের গডফাদার মোয়াবিয়া আর মোয়াবিয়ার গড ফাদার আমাদের গুণধর তিন খলিফা। কারবলার ক্ষেত্র একদিনে তৈরি হয়নি বরং বনু সকিফা থেকে দীর্ঘ ৫০ বছরের ফসল কারবালা। হত্যাকারীর চেয়ে হুকুমদাতা সবচেয়ে বড় অপরাধী। আমাদের সমাজের অনেক পন্ডিত মহাশয় বলে থাকেন, কারবালা ঘটনা আল্লাহর হুকুম ছাড়া হয়নি। তাদের যুক্তি হলো আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনকিছু হয় না। তাহলে শুনুন যুক্তিবাদী পন্ডিত মহাশয়! পতিতাবৃত্তি, ধর্ষণ, সুদ ঘোষ, রাহাজানি এবং হত্যা সবই কি আল্লাহর হুকুমে হয়। ( নাউজুবিল্লাহ)। নিজেদের নেতার কৃতকর্মের দোষ ঢাকার জন্য আর কতকাল আল্লাহকে দোষী সাব্যস্ত করবেন। হোসাইনি গোলামরা আপনাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিচ্ছে এবং জনগনকে আর বোকা বানানো যাবে না। বাহ কি চমৎকার মুসলিম জাতি আমরা! দয়াল রাসূল পাক (সাঃ) ওফাত হওয়ার মাত্র ৫০ বছরের মধ্যে নবীর সকল পরিবারকে সমূলে শহীদ করলাম। আপনাদের বিবেকবুদ্ধি কি লোপ পেয়েছে ভাই? আর কতকাল ঘুমিয়ে থাকবেন। ঘুম থেকে জেগে দেখুন এজিদের দোসররা এখনো ধর্মকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আপনার ঈমানকে বাঁচাইতে এখনই এজিদের ধর্ম ত্যাগ করে হোসাইনি মুসলমান হয়ে মোহাম্মদী ইসলামে প্রবেশ করুন। জয় মোহাম্মদী ইসলামের জয়। জয় মাওলা আলীর জয়।
যেকোনো আহলে বাইত গোলাম বিনা অনুমতিতে এই পোস্ট কপি করার পূর্ণ অধিকার রাখে।
প্রচারেঃ "আহলে বাইত (আঃ) ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ" একটি অনলাইন ভিত্তিক গোলামি সংগঠন। আপনি অনলাইনে আহলে বাইতের গোলামি করতে চাইলে মেসেঞ্জারে নক দিন।