বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভাঙন শুরু হয় সৃজনশীল প্রশ্ন চালু হওয়ার সময় থেকেই। এরপর মূল ভাঙন আসে অটোপাশের ব্যাচ থেকে।
যখন থেকেই সৃজনশীল চালু হয়, স্টুডেন্টরা ফেইল করার কথা আস্তে আস্তে ভুলে যেতে শুরু করে। উদ্দীপক লিখে দিলেও নাকি পাশ হয়ে যায়। কথাটা আসলেও মিথ্যা না, প্রশ্ন সম্পর্কিত জ্ঞান ২ লাইন থাকলেও উদ্দীপক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আরও ১০ লাইন লিখে ফেলা যেতো। শিক্ষকরাও বাধ্য হয়ে মার্ক্স দিয়ে দিতো। কারণ, সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ফিক্সড নয়, ঠিক কতটুকু লিখলে উত্তর সঠিক আর কতটুকু লিখলে ভুল— এমন কোনো পরিমাপক ছিলো না।
যদি প্রশ্ন কমন নাও পড়তো, তাও স্টুডেন্টরা খাতা ভর্তি লেখা দিতে পারতো। ইভেন সাইন্সের সাবজেক্টেও এই ধারা অব্যাহত ছিলো। হাইয়ার ম্যাথ, একাউন্টিং, ফাইন্যান্সে 'গ' না পারলে 'ঘ' পারা যেতো না, তবুও দেখেছি প্রশ্নে যা দেয়া আছে তা লিখে, পাশের জনের থেকে সূত্র দেখে অংক ভুল ভাবে করতে করতে লাস্টে আবার পাশের জনের উত্তর দেখে মান বসিয়ে দিতে।
সরকার যেহেতু নিরক্ষতার হার শুণ্যে নামিয়ে আনতে চায়, তাই শিক্ষা খাতে প্রচুর বাজেট ধরা হচ্ছিলো। কিন্ত পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হচ্ছে বোঝাতে পাশের হারও ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হতো— কিছুটা বাধ্য হয়েই বাড়ানো লাগতো। জিপিএ ফাইভের সংখ্যাও ভুরি ভুরি বাড়তে লাগলো। পুরো ঘটনাটা এমন যেনো— রঙিন, চকচকে, দামী কফিনে শিক্ষা ব্যবস্থার কবর রচনা।
অটোপাশ ছিলো বিগত সরকারের অন্যতম বড় ভুল। এক এক ব্যাচে ১২-১৪ লাখ স্টুডেন্টের সবাই পাশ! অথচ দেশের পাবলিক, প্রাইভেট, ন্যাশনাল, মেডিক্যাল, ডেন্টাল, কৃষি, সব মিলিয়ে ৮-৯ লাখের বেশী স্টুডেন্ট পড়ানোর সক্ষমতা নেই। ধারণ ক্ষমতার বেশি স্টুডেন্ট নিতে যেয়ে শিক্ষার কোয়ালিটি ড্রপ করে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যেহেতু টিউশন ফি নির্ভর, তারাও যত বেশি সম্ভব স্টুডেন্ট নেয়ার চেষ্টা করে। ফলে গুনগত শিক্ষা সরকারী বেসরকারী কোনো ইউনিভার্সিটি ই শতভাগ নিশ্চিত করতে পারেনি।
পরের বছর আবারো অটো পাশ, হাফ সিলেবাসে পাশ, সাবজেক্ট কমিয়ে এনে পাস। এই যে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী প্রোপার এসেসমেন্ট ছাড়া পাশ করে গেছে। যাদের এইচএসসিতে ফেইল করার কথা ছিলো তারাও ব্যাচেলর পড়ার সুযোগ পেয়েছে। তারাও গ্রাজুয়েট হয়েছে। এটার ইমপ্যাক্ট ৫-৭ বছর পর, অর্থাৎ ২০২০ সালের পর ২০২৬ সালে এসে সরাসরি জব মার্কেটে পড়েছে।
এমপ্লয়াররা দেখলো চাকুরির বিজ্ঞাপন দিলেই শ'য়ে শ'য়ে সিভি জমা পড়ে। লেবার সাপ্লাই বেশি হলে কাজের মূল্য কমে যায়; একটা কাজ ২০ হাজারে আপনি করতে রাজি না হলেও ১০ হাজারেই সেই কাজ করার মতো মানুষ অলরেডি মার্কেটে আছে। এমপ্লয়াররা দেখলো, এই দেশে সার্টিফিকেট আর জিপিএ ফাইভ শোপিসের মতোই। ৮-১০ হাজারেই সারা মাস খাটানোর মতো গ্রাজুয়েট লেবার পাওয়া যাচ্ছে। ইভেন, ফুল টাইম জব কে ইন্টার্নশিপ হিসেবে সার্কুলার দিয়েও খাটানোর মতো লেবার পাওয়া খুব ই সহজ। একজন এমপ্লয়ার এর পার্স্পেক্টিভে একজন ফ্রেশার যত স্কিল্ড ই হোক, সে ফ্রেশার।
অটো পাশ আর জিপিএ ফাইভ এভাবেই সাময়িক তৃপ্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ।
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্তগত ভুল আছে এটা সত্য। বেশি কঠোরতা দেখিয়ে ফেলেছেন, এটাও সত্য। তবে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রতি ঘরে ঘরে বেকার গ্রাজুয়েট তৈরির কারখানা এবার বন্ধ হওয়া উচিত। এই দেশে সবাই শিক্ষিত, কিন্ত এমনভাবে শিক্ষিত যে শিক্ষার মূল্য তেমন একটা নাই।
আর যারা আন্দোলন করছো, ফ্রি মার্ক্স, অটোপাশ, এক্সাম হলে দেখে লেখার সুযোগ, কলেজ ভর্তি অটো পাশ— সব ই সম্ভব, সরকারকে চাপে রেখে বাধ্য করতেই পারো। কিন্ত, যে কঠিন বাস্তবতা তোমাদের ফেইস করতে হতে পারে, তার জন্য তোমরা প্রস্তুও নও।
আর হ্যাঁ, সরকার কিন্ত সবাইকে উচ্চশিক্ষা দিতে বাধ্য নয়। শিক্ষা মৌলিক অধিকার, উচ্চশিক্ষা কিন্ত নয়। আর, উচ্চশিক্ষার পর সরকার সবাইকে চাকুরি দিতেও বাধ্য নয়। দিনশেষে মনে হবে কোয়ালিটি ওভার কোয়ান্টিটিই খুব বেশি প্রয়োজন।
এখনো সময় আছে জিপিএ ফাইভের বাম্পার ফলন রোধ করতে হবে, নাহলে এই সার্টিফিকেট দিয়ে দেশে তো কিছু করা যাবে ই না, বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগও দিন দিন কমতে থাকবে।
Nazmul Sir
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Nazmul Sir, College & University, Kallyanpur, Dhaka.
সকল সমস্যার কারণ মূলত ২০২০ ও ২০২৪ সালে ২ বার অটো পাশ দেয়া।আমি কলেজের শিক্ষক হিসেবে দেখেছি আন্দোলন করলে অটোপাশ পাব এটা ছাত্ররা বিশ্বাস করে ফেলেছে।এটার দায় পূর্বের ২ সরকারের। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর অটোপাশ মানা যায় কিন্তু এটা বারবার দিয়ে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি করা হয়েছে তা অবর্ণনীয়। তারা পড়াশোনা করবে না কিংবা করতে চাইবে না এটাকে স্বাভাবিক করে ফেলছি আমরা।এসব ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চশিক্ষায় তেমন ভালো করতে পারে না এমনকি এডমিশন টেস্টে পাশ করতেও পারে না।
শিক্ষার মানের এ অবনতির জন্য আমরা শিক্ষকরাও দায়ী। আমরা সাজেশন দিয়ে পড়িয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রিক পড়াশোনার দ্বারা ছাত্রদের জানার আগ্রহকে মেরে ফেলেছি।তারা যেনতেন ভাবে পাশ করে যেতে চায় সেটা যেভাবেই হোক।
ছাত্র -ছাত্রীদের মনের চাওয়া
১. পরীক্ষার প্রশ্ন সে যে কয়টা প্রশ্ন পড়েছে তার মধ্যে আসতে হবে। এর বাইরে আসলে আন্দোলন।
সমাধান : প্রশ্ন করার আগে তাদের কে জিজ্ঞেস করতে হবে বাবা এটা কি দিব? না দিলে রাগ করবা?
২. পূর্বের মন্ত্রীদের মত পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন ফাস করে দাও। যাতে শুধু ঐগুলা পড়ে পাশ করব।প্রশ্ন ফাস এসব ছাত্রদের কে আজকের অবস্থায় নিয়ে আসছে।
সমাধান: সকল পরীক্ষার্থীদের টেলিগ্রাম একাউন্ট করে ওখানে প্রশ্ন সাপ্লাই করা যাতে তারা সব কমন পায় আর রাগ না করে।
৩. কলেজে ক্লাস এর চাপ না দিয়ে পরীক্ষা না নিয়ে কোচিং এর ভাইয়াদের মত বিনোদিত করা।
সমাধান: শিক্ষকদের পড়াশোনার পাশাপাশি কমেডিয়ান হওয়ার ট্রেনিং করানো।
৪. আমি যা লিখি মার্ক দিতে হবে।
সমাধান : শিক্ষকরা না পড়ে অথবা কালো চশমা লাগিয়ে মার্ক দেয়া।
৫. আমি চাপ নিব না কষ্ট করব না কিন্তু সাফল্য পাব। সাফল্য আমার বাবার সম্পদ।
সমাধান : ওদের জিজ্ঞেস করা কে কি হবে। এসব জায়গায় যারা বসে আছে তাদের আন্দোলন করে সরিয়ে ওদের বসিয়ে দেয়া। চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ছাত্রদের কাউকে দেয়া। যাতে তারা তাদের মন মত সব পেতে পারে।
আসলে দোষ যারা পড়ে তাদের।
তাদের কাজ হল নিজে পড়ে অন্যদের দেখিয়ে পাশ কারানো। কষ্ট করে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অপদার্থদের জন্য সব ছেড়ে দেয়া।তা না হলে আন্দোলন। এরা যা শুরু করছে চাকরির পরীক্ষায় গিয়ে না টিকলে কি জানি করে বসে সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি।
এমন একটা সময়ে এসে আজ শিক্ষকতা করছি, যখন প্রতিনিয়ত নিজের বিবেকের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। যে পেশাকে একসময় সমাজের সবচেয়ে পবিত্র ও সম্মানের জায়গা মনে করা হতো, আজ তা এক অদৃশ্য অবক্ষয়ের অন্ধকারে নিমজ্জিত।
আজকের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় চরম উদাসীন, ক্লাসে সম্পূর্ণ অমনোযোগী। শিক্ষকের লেকচার শোনার চেয়ে তাদের মন পড়ে থাকে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে কিংবা ভার্চুয়াল জগতের সস্তা আকর্ষণে। ক্লাসরুমে শিক্ষকের উপস্থিতিকে তোয়াক্কা না করার এক ঔদ্ধত্যপূর্ণ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। অন্যায় বা ভুল শুধরে দিলে শ্রদ্ধা তো দূরের কথা,শিক্ষকের ওপর চড়াও হতেও তারা দ্বিধা করে না।
সবচেয়ে বড়ো ট্র্যাজেডি হলো, জ্ঞান অর্জনের সেই চিরন্তন ক্ষুধা আজ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলুপ্ত। শিক্ষা আজ আলো ছড়ানোর মাধ্যম নয়, বরং কেবলই 'পরীক্ষা পাসের হাতিয়ার'। বিষয়ের গভীরে গিয়ে কিছু শেখার চেয়ে যেকোনো উপায়ে—শর্টকাট সাজেশন মুখস্থ করে হোক বা অসদুপায় অবলম্বন করে—শুধু একটা সার্টিফিকেট বা ভালো জিপিএ নিশ্চিত করাই যেন তাদের একমাত্র লক্ষ্য। এই সার্টিফিকেট-সর্বস্ব দৌড় সমাজ জুড়ে কেবল ডিগ্রিধারী রোবট তৈরি করছে, কোনো মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ নয়।
একটি সমাজ যখন তার শিক্ষকদের উপযুক্ত মর্যাদা ও জীবনধারণের ন্যূনতম অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, এবং শিক্ষার্থীরা যখন গুরুজনকে অসম্মান করতে শেখে, তখন সেই জাতির পতন অবশ্যম্ভাবী। শিক্ষকতার মতো মহান পেশা থেকে যখন একজন শিক্ষকের মন উঠে যায়, তখন তা কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়; তা একটি জাতির দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার স্পষ্ট পূর্বাভাস।
(Collection from Sabuj Hasan )
11/06/2026
আমাদের কলেজে HSC মডেল টেস্ট পরীক্ষা চলমান।আগামী মাসে পরীক্ষা। সবার জন্য দোয়া করবেন।
05/06/2026
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Telephone
Address
Dhaka
4000