বটতলার স্কুল । BotTolar School

বটতলার স্কুল । BotTolar School

Share

It's never too late to learn.

17/06/2026

ঘুম যেভাবে মস্তিষ্ক ‘পরিষ্কার’ করে

Ref: Prothom Alo

16/06/2026

হেলিকপ্টার, এয়ারশিপ, উড়োজাহাজ—একের ভেতর সব

Ref: Prothom Alo

16/06/2026

বাড়ি বিক্রি করে ১৬৮ দেশ ঘুরেছেন তিনি

Ref: Prothom Alo

16/06/2026

মহাকাশের ৫টি অদ্ভুত ভুল ধারণা

মহাকাশ জয় কিংবা অন্য গ্রহে বসতি স্থাপনের চেয়ে মানুষ এখনো অনেক দূরে রয়েছে। তবে পৃথিবীর সীমানার বাইরে কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তা জানার কৌতূহল কিন্তু থেমে নেই। ১৯৬৯ সালে চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পা রাখার পর থেকে প্রযুক্তির অনেক উন্নতি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে মহাকাশ নিয়ে মানুষের মনে জমে থাকা প্রাচীন সব ভুল ধারণা ও গুজব দূর করতে কাজ করছে। হলিউডের সিনেমা ও কল্পবিজ্ঞানের গল্পগুলো আমাদের মনে মহাকাশ সম্পর্কে এমন কিছু অদ্ভুত ধারণার জন্ম দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। নাসা বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে যে বাস্তব মহাকাশ আমাদের ভাবনার চেয়ে অনেক আলাদা। মহাকাশ নিয়ে এমন পাঁচটি অদ্ভুত ভুল ধারণা নিচে আলোচনা করা হলো।

১. সূর্য আসলে জ্বলন্ত আগুনের গোলক
সূর্য প্রচণ্ড গরম, এটি প্রমাণিত সত্য। কিন্তু কেন এই উত্তাপ? ১৯৬০–এর দশকের একটি জনপ্রিয় গানে সূর্যকে আকাশের আগুনের গোলক বলা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ধারণাই প্রচলিত। তবে নাসা প্রমাণ করেছে, সূর্য মোটেও কোনো আগুনের গোলক নয়। সূর্যের উপরিভাগ বা ফটোস্ফিয়ার থেকে আগুনের মতো শিখা বের হতে দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে সূর্য হলো পারমাণবিক ফিউশন প্রক্রিয়ায় চলা একটি বিশাল গ্যাসীয় পিণ্ড। সূর্যের তাপ কোনো সাধারণ আগুন বা শিখা থেকে আসে না, বরং এটি আসে বিকিরণ বা রেডিয়েশন থেকে। নাসার ইন্টারফেস রিজিয়ন ইমেজিং স্পেক্ট্রোগ্রাফ প্রজেক্ট সূর্যের বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন অংশের তাপমাত্রা পরিমাপ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২. মহাকাশ থেকে খালি চোখে চীনের মহাপ্রাচীর দেখা যায়
কয়েক শ বছর ধরে একটি কিংবদন্তি প্রচলিত আছে, মহাকাশ থেকে মানুষের তৈরি চীনের মহাপ্রাচীর দেখা যায়। চীনের মানুষও এই গল্প বেশ পছন্দ করে। তবে মানুষ যখন সত্যি সত্যি মহাকাশে যাওয়ার প্রযুক্তি অর্জন করল, তখন এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। নাসার অ্যাপোলো ১২ মিশনের পাইলট অ্যালান বিন মহাকাশ থেকে অনেক খুঁজেও মানুষের তৈরি কোনো স্থাপনা দেখতে পাননি। তিনি জানিয়েছিলেন, এই দূরত্ব থেকে মানুষের তৈরি কোনো বস্তু দৃশ্যমান নয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে নাসার কমান্ডার লেরয় চাও একটি ছবি তুলেছিলেন, যা মহাপ্রাচীরের ছবি বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সেটি কোনো নিশ্চিত প্রমাণ ছিল না। মহাকাশ থেকে মহাপ্রাচীরের স্পষ্ট ছবি তুলতে অত্যন্ত শক্তিশালী ক্যামেরার প্রয়োজন হয়। মহাকাশ স্টেশন পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় অনেক কাছে হওয়ার পরও সেখান থেকে খালি চোখে এই প্রাচীর দেখা অসম্ভব।

৩. অ্যাস্টেরয়েড বেল্ট বিপজ্জনক বাধা
কল্পবিজ্ঞানের সিনেমা স্টার ওয়ার্সের একটি বিখ্যাত দৃশ্যে দেখা যায়, একটি স্পেসশিপ গ্রহাণুপুঞ্জ বা অ্যাস্টেরয়েড বেল্টের ভেতর দিয়ে বিপজ্জনকভাবে পাথর এড়িয়ে উড়ে যাচ্ছে। চারপাশে বড় বড় মহাজাগতিক পাথর একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে মনে হতে পারে, মহাকাশে গ্রহাণুর দল বুঝি গাদাগাদি করে থাকে। বাস্তবতা হলো এই গ্রহাণুগুলো একে অপরের থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। অন্তত এক কিলোমিটার আকারের গ্রহাণুগুলোর মধ্যে লাখ লাখ মাইল দূরত্ব থাকে। মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে যেখানে প্রধান অ্যাস্টেরয়েড বেল্ট রয়েছে, সেখান দিয়ে কোনো মহাকাশযান গেলে কোনো পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। উদাহরণস্বরূপ, নাসা ২০০৩ সালে পাইওনিয়ার ১০ নামের একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। এই যানে কোনো বর্ম বা অস্ত্র ছিল না, এমনকি পথ পরিবর্তনের জন্য কোনো থ্রাস্টারও ছিল না। তবু এটি কোনো রকম বিপদ ছাড়াই গ্রহাণু বেল্ট পার হয়ে গিয়েছিল।

৪. স্পেসস্যুট ছাড়া মহাকাশে মানুষ সঙ্গে সঙ্গে জমে মারা যায়
হলিউডের ‘মিশন টু মার্স’ কিংবা ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ সিনেমায় দেখানো হয়, কোনো মানুষ স্পেসস্যুট ছাড়া মহাকাশের শূন্যতায় উন্মুক্ত হলে মুহূর্তের মধ্যে জমে বরফ হয়ে যায় বা মারা যায়। কিন্তু নাসা প্রমাণ করেছে, এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। মহাকাশের শূন্যতায় কোনো পরমাণু থাকে না। তাই শরীরের তাপ শুষে নেওয়ার মতো কোনো মাধ্যম সেখানে নেই। সুমেরু মহাসাগরের বরফশীতল পানিতে কোনো মানুষ যতটা দ্রুত শরীরের তাপ হারাবে, মহাকাশের শূন্যতায় তার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে শরীরের তাপমাত্রা বজায় থাকবে। অবশ্য মহাকাশে অক্সিজেন না থাকা এবং অত্যন্ত কম বায়ুচাপ শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ১৯৬৬ সালে নাসার টেকনিশিয়ান জিম লেব্লাঙ্ক একটি ভ্যাকুয়াম চেম্বারে স্পেসস্যুট পরীক্ষা করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন এবং তাঁর স্যুট থেকে বাতাস বেরিয়ে যায়। কক্ষটির বায়ুচাপ স্বাভাবিক করতে ৮৭ সেকেন্ড সময় লেগেছিল। এই দীর্ঘ সময় বায়ুশূন্য স্থানে থাকার পরও জিম লেব্লাঙ্ক সামান্য কানের ব্যথা ছাড়া বড় কোনো আঘাত পাননি। তীব্র চাপের পরিবর্তন বিপজ্জনক হলেও এটি তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ নয়।

৫. মহাকাশ পানিহীন শুষ্ক জায়গা
মহাকাশ মূলত একটি বিশাল শূন্যস্থান। তবে এই শূন্যস্থান কিন্তু পানিহীন নয়। তবে অনেকেই মনে করেন পৃথিবীর বাইরে তরল বা পানির কোনো অস্তিত্ব নেই। মহাকাশে প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে। এটি কেবল ধূমকেতুর বরফ বা শনির বলয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১১ সালে নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি কোয়াসার ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পান, যা বিশাল জলীয় বাষ্পের মেঘ দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই পানির পরিমাণ এতটাই বিশাল তা দিয়ে পৃথিবীর সব মহাসাগরকে কয়েক ট্রিলিয়ন বার পূর্ণ করা সম্ভব। এই বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প সেখানে কীভাবে এল, তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় রহস্য। তবে এই ব্ল্যাকহোলটি পৃথিবী থেকে ১২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।

সূত্র: নাসা সায়েন্স আর্কাইভ
Collected from: Prothom Alo
Image: Gemini AI

#মহাকাশের_অদ্ভুত_ভুল_ধারণা

11/06/2026

সমাবর্তনের টুপিগুলো গোল না হয়ে চারকোনা হয় কেন

মাথার অন্যান্য টুপি গোল হলেও গ্র্যাজুয়েশনের এই টুপি কেন এমন চারকোনা? এই টুপির ইতিহাস সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শেষ হয় সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে সব শিক্ষার্থী একসঙ্গে তাঁদের মাথার টুপি আকাশের দিকে ছুড়ে দেন। তবে টুপি ওড়ানোর আগে একটি বিশেষ নিয়ম পালন করতে হয়।

অনুষ্ঠানে যখন ঘোষণা করা হয় ‘আপনারা এখন গ্র্যাজুয়েট বা স্নাতক’, ঠিক তখনই শিক্ষার্থীদের টুপির ঝুলন্ত ফিতা বা ট্যাসেলটি ডান দিক থেকে বাঁ দিকে সরাতে বলা হয়। এই ট্যাসেলটি ডান থেকে বাঁয়ে সরানোর মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থীর ডিগ্রি পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়।

এই আনুষ্ঠানিকতার পরই বিশেষ টুপিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সামনে আসার মুহূর্তটি তাঁদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক ও স্মরণীয় ঘটনাগুলোর একটি হয়ে থাকে। সমাবর্তনের টুপিটিকে বলা হয় মর্টারবোর্ড ক্যাপ। ওপরের অংশটি চ্যাপ্টা হওয়ায় দূর থেকে চোখে পড়ে।

চারকোনা হওয়ার কারণ:

মর্টারবোর্ড ক্যাপের উৎপত্তি ষোড়শ শতাব্দীতে ইতালিতে। সে সময় ‘বাইরেটা’ নামের ক্যাথলিক যাজকদের একধরনের টুপি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয় এই টুপি। চতুর্দশ শতাব্দী থেকেই গির্জার যাজক ও বড় বড় পণ্ডিত এই বাইরেটা টুপি পরতেন।

তবে শুরুর দিকের মর্টারবোর্ড ক্যাপগুলো আজকের মতো চারকোনা ছিল না। সেসবের ওপরের দিকে তিনটি উঁচু অংশ ও মাঝখানে একগুচ্ছ সুতা থাকত।

এই টুপি চারকোনা রূপ নিতে শুরু করে ১৬৬০ সালের দিকে। সে বছর রাজা দ্বিতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের সিংহাসনে বসেন। ইতিহাসবিদ স্টিফেন ওলগাস্টের মতে, নতুন রাজার প্রতি আনুগত্য ও সম্মান দেখানোর জন্য যাজক ও পণ্ডিতেরা তাঁদের টুপির ওপরের অংশটি ধীরে ধীরে বড় করতে শুরু করেন।

কিন্তু টুপির ওপরের অংশটি বেশি বড় হয়ে যাওয়ায় তা সোজা বা চ্যাপ্টা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন সেই বড় অংশটির আকৃতি ঠিক রাখার জন্য ভেতরে শক্ত কিছু দিয়ে তা সমতল করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এভাবেই জন্ম নেয় আজকের এই শক্ত ও সমতল চারকোনা গ্র্যাজুয়েশন টুপি।

মর্টারবোর্ড নামটি এসেছে যেভাবে:

গ্র্যাজুয়েশনের এই বিশেষ টুপির নাম মর্টারবোর্ড হয়েছে মূলত এর আকৃতি থেকে। টুপিটি দেখতে আদতে নির্মাণশ্রমিকদের মর্টার (গাঁথুনির মসলা) বহন করার জন্য ব্যবহৃত বর্গাকার বোর্ডের মতো।

নির্মাণশ্রমিকদের ব্যবহৃত আসল মর্টারবোর্ডটি মূলত সমতল কাঠের তক্তা। একাডেমিক বা গ্র্যাজুয়েশন টুপিটির ওপরের অংশটি দেখতে হুবহু ওই তক্তার মতো ছিল। তাই ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এটি নিয়ে ঠাট্টাও করতেন।

ছাত্ররা এর নাম দেন মর্টারবোর্ড। পরে এই নামই মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে এই টুপির নামের সুনির্দিষ্ট উৎপত্তি নিয়ে কিছুটা ভিন্নমতও আছে।

সারা বিশ্বে ব্যবহৃত হচ্ছে এই টুপি:

সপ্তদশ শতকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পোশাক নিয়ে কঠোর নিয়ম ছিল। তখন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের এই টুপি ও গাউন পরতে হতো। সাধারণ গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের পরতে হতো পুরোনো আমলের গোল টুপি। অন্যদিকে যাঁরা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতেন, কেবল তাঁরাই মর্যাদার প্রতীক হিসেবে চারকোনা টুপি পরার অনুমতি পেতেন।

১৬৭৫ সালের দিকে ধনী পরিবারের সাধারণ স্নাতকদেরও এই চারকোনা টুপি পরার অধিকার দেওয়া হয়। এভাবেই টুপিটি উচ্চশিক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।

সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে। নতুন মহাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সময় পড়াশোনার নিয়ম ও ডিগ্রির শর্তগুলো ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলেই তৈরি করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রথম দিকের গ্র্যাজুয়েটরা দেশের অন্যান্য জায়গায় নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তখন ইউরোপের এই প্রাতিষ্ঠানিক পোশাকের ঐতিহ্যও পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে যায়। পরে সারা বিশ্ব তা অনুসরণ করতে শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই টুপি পরার পদ্ধতিতে নতুন কিছু প্রথা তৈরি হয়। প্রায় ১০০ বছর আগে সেখানকার শিক্ষার্থীরা সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর তাঁদের টুপির ট্যাসেলটি ডান দিক থেকে ঘুরিয়ে বাঁ দিকে সরানো শুরু করেন।

আজ পর্যন্ত এই ফিতা ঠিক কোন পাশে রাখা উচিত, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক কোনো লিখিত নিয়ম তৈরি হয়নি। তবে তখন করা হতো বলে আজও সেটি করা হয়।

এই প্রথা এখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মেনে চলে।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও রিডার্স ডাইজেস্ট
- আসহাবিল ইয়ামিন / Prothom Alo
ছবি: মারুফ হাসান

#সমাবর্তনের_টুপি #গ্র্যাজুয়েশনের_টুপি

11/06/2026

ষাঁড়ের নাম রোমিও, উচ্চতা ৬ ফুট সাড়ে ৪ ইঞ্চি

Ref: Prothom Alo

Photos from বটতলার স্কুল । BotTolar School's post 11/06/2026

ইরেজার কীভাবে পেনসিলের দাগ মুছে দেয়

খাতায় পেনসিল দিয়ে লেখার সময় ভুল হলে আমরা ইরেজার দিয়ে ঘষে তা মুছে ফেলি। কিন্তু ইরেজার কীভাবে কোনো দাগ না রেখে পেনসিলের লেখা মুছে দেয়, তা কি জানো? আসলে পেনসিলের সিস গ্রাফাইট দিয়ে তৈরি হয়। আমরা যখন কাগজে লিখি, তখন গ্রাফাইটের অতি ক্ষুদ্র গুঁড়া কাগজের তন্তুর বা আঁশের সঙ্গে আটকে যায়। চলো জানা যাক, সাধারণ দেখতে এই ছোট প্রযুক্তিটি ঠিক কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে কাগজের দাগ একদম মুছে ফেলে?

মানুষ কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে থেকেই গ্রাফাইট দিয়ে কোনো না কোনো জায়গায় দাগ কেটে আসছে। তবে কাঠের ভেতর গ্রাফাইট ও কাদার মিশ্রণ ভরে আজকের আধুনিক পেনসিল তৈরি শুরু হয় মূলত ১৬০০ কিংবা ১৭০০ সালের দিকে।

মজার ব্যাপার হলো, পেনসিল আগে আবিষ্কার হলেও দাগ মোছার ইরেজার অনেক পরে এসেছে। শুরুর দিকে মানুষ পেনসিলের লেখা মুছতে বাসি রুটির নরম অংশ গোল করে বল বানিয়ে ব্যবহার করত। কেউ কেউ আবার মোমও ব্যবহার করত। এরপর ১৭০০ সালের পর থেকে প্রথম প্রাকৃতিক রাবার দিয়ে দাগ মোছার কাজ শুরু হয়। ১৮০০ সালের দিকে কাঁচা রাবারকে আগুনে তাপ ও সালফার দিয়ে আরও শক্ত ও উন্নত করার পদ্ধতি আবিষ্কার হয়। আর সবশেষে ১৯০০ সালের পর বাজারে আসে আজকের ইরেজার।

বাসি রুটি, শক্ত রাবার কিংবা আজকের প্লাস্টিকের ইরেজার কিন্তু একই বৈজ্ঞানিক নিয়মে কাজ করে। পেনসিল ও ইরেজারের এই পুরো খেলাটি চলে মূলত দুটি জিনিসের ওপর। আকর্ষণ ও ঘর্ষণ।

ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির রসায়নের অধ্যাপক জোসেফ এ শোয়ার্জ জানান, ‘আমরা যখন কাগজে পেনসিল দিয়ে লিখি, তখন কার্বনের অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো খসে গিয়ে কাগজের গায়ে লেগে থাকে। এভাবেই পেনসিলের কালো দাগ তৈরি হয়। আমরা অনেকেই পেনসিলের ভেতরের কালো অংশকে সিসা বলি, যা আসলে ভুল। এটি মূলত গ্রাফাইট ও কাদার মিশ্রণ। এই গ্রাফাইটের কণাগুলো শুধু যে কাগজের ছোট ছোট আঁশের ভেতর আটকে থাকে, তা নয়; বরং এদের অণুগুলোর মধ্যকার একধরনের সূক্ষ্ম আকর্ষণ বলের কারণেও কাগজের ওপর শক্তভাবে লেগে থাকে।’

ঠিক এই জায়গাতেই ইরেজার এর কাজ দেখায়। কাগজের চেয়ে রাবারের সঙ্গে এই গ্রাফাইট কণাগুলোর আকর্ষণের ক্ষমতা অনেক বেশি। তাই যখন কাগজের ওপর ইরেজার দিয়ে ঘষা দেওয়া হয়, তখন কণাগুলো কাগজ ছেড়ে রাবারের গায়ে আটকে যায় এবং কাগজটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

মেসোআমেরিকার আদি বাসিন্দারা স্থানীয় রাবারগাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে জানত। তারা সেই প্রাকৃতিক ল্যাটেক্স প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও খেলার সামগ্রী তৈরি করত। বর্তমানে বিশ্বের অনেক জায়গায় প্রাকৃতিক রাবারের চেয়ে পলিভিনাইল ক্লোরাইডের মতো উপাদান দিয়ে তৈরি কৃত্রিম বা প্লাস্টিকের ইরেজার বেশি জনপ্রিয়। তবে উপাদান যা–ই হোক না কেন, সব ইরেজারের কাজের মূল ভিত্তি একটাই। গ্রাফাইটের কণাগুলো কাগজের চেয়ে ইরেজারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়।

এর পেছনে ঘর্ষণ বলেরও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। ঘষার ফলে গ্রাফাইটের কণাগুলো এদের জায়গা থেকে সহজে স্থানচ্যুত হয়। এই ঘর্ষণের কারণে কাগজের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়ে। আর এ কারণেই বাজারে নানা ধরনের ইরেজার পাওয়া যায়। নরম ইরেজারগুলো কাগজের কোনো ক্ষতি না করে খুব আলতোভাবে দাগ মুছে ফেলে। আর শক্ত ইরেজারগুলো একটু বেশি স্থায়ী হয় এবং নিখুঁতভাবে দাগ মুছতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়, ‘ভ্যান ডার ওয়ালস বল’। বিষয়টি সহজ করে বললে, অণুগুলোর পরমাণুর চারপাশজুড়ে খুব হালকা বিদ্যুৎ বা চার্জ ছড়িয়ে থাকে। আমরা জানি, ধনাত্মক (+) চার্জ সব সময় ঋণাত্মক (–) চার্জকে আকর্ষণ করে। কাগজের অণুতে থাকা এমনই কিছু ঋণাত্মক চার্জ গ্রাফাইটের ধনাত্মক পৃষ্ঠকে নিজের দিকে টেনে নেয়। মূলত এই আকর্ষণ বলের কারণেই পেনসিল দিয়ে লেখার সময় গ্রাফাইট কাগজের ওপর সুন্দরভাবে লেগে থাকে।

তবে গ্রাফাইট ও কাগজের মধ্যকার এই আকর্ষণ বলটি বেশ দুর্বল প্রকৃতির হয়। আর এই দুর্বলতার সুযোগটিই নেয় ইরেজার। আমরা যখন কাগজের ওপর ইরেজার দিয়ে ঘষি, তখন ঘর্ষণ বলের কারণে গ্রাফাইট ও কাগজের মধ্যকার আকর্ষণটি ভেঙে যায়। ফলে যে গ্রাফাইট এতক্ষণ কাগজের গায়ে লেগে ছিল, তা সহজে কাগজ ছেড়ে ইরেজারের গায়ে আটকে যায়।

অণু–পরমাণুর স্তরে গিয়ে দেখলে দেখা যাবে, গ্রাফাইট মূলত কার্বনের অনেকগুলো দ্বিমাত্রিক স্তর দিয়ে তৈরি, যে স্তরগুলোকে বলা হয় গ্রাফিন। এই গ্রাফিনের স্তরগুলো একটির ওপর আরেকটি সাজানো থাকে। এরাও ভ্যান ডার ওয়ালস বলের মাধ্যমেই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

গ্রাফিনের প্রতিটি স্তর কিন্তু এমনিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকে। অর্থাৎ এদের নিজস্ব কোনো স্থায়ী ধনাত্মক বা ঋণাত্মক দিক থাকে না। শুধু ইলেকট্রনের এই এলোমেলো ওঠানামার কারণেই এরা সাময়িকভাবে একে অপরের সঙ্গে আকর্ষণ তৈরি করে। এটি মূলত এমন একটি বল, যা যেকোনো দুটি বস্তুর ইলেকট্রনের আদান–প্রদান ও চলাচলের মাধ্যমে তৈরি হয় এবং বস্তু দুটিকে কিছুটা দুর্বল হলেও একসঙ্গে ধরে রাখতে সাহায্য করে।

হোয়াইটবোর্ড মার্কার ও ড্রাই ইরেজার বোর্ড ডাস্টার মূলত আমাদের চেনা পেনসিল ইরেজারের মতোই কাজ করে। তবে এর পেছনে বাড়তি কিছু কৌশল রয়েছে। হোয়াইটবোর্ডের পৃষ্ঠটি অত্যন্ত মসৃণ হওয়ায় তা মার্কারের কালি শুষে নেয় না। এ ছাড়া এই কালিতে একটি বিশেষ তৈলাক্ত উপাদান থাকে, যা কালিকে বোর্ডের ওপর ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে ড্রাই ইরেজার দিয়ে হালকা টান দিলেই বোর্ডের মসৃণ গা থেকে তৈলাক্ত কালিটি সহজে আলগা হয়ে মুছে যায়।

আমরা যখন এই কলমের পেছনে থাকা ইরেজারটি দিয়ে কাগজের ওপর ঘষা দিই, তখন ঘর্ষণের ফলে সেখানে তাপ তৈরি হয়। এই তাপমাত্রার পরিমাণ যখন ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে যায়, তখন কালির ভেতরের একটি বিশেষ রাসায়নিক উপাদান সক্রিয় হয়ে ওঠে। কলম প্রস্তুতকারক সংস্থা পাইলটের মতে, এই তাপ মূলত কালির রং তৈরি করার উপাদানগুলোর মধ্যকার বন্ধনটিকে সাময়িকভাবে ভেঙে দেয়। ফলে রংটি অদৃশ্য হয়ে যায় এবং আমাদের মনে হয় লেখাটি মুছে গেছে।

জাপানি স্টেশনারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টমবো ১৯১৩ সালে তাদের প্রথম পেনসিল বাজারে এনেছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এর ২৬ বছর পর তারা বাজারে তাদের প্রথম ইরেজার নিয়ে আসে, যার নাম ছিল আয়রন হেলমেট ইরেজার।

সূত্র: পপুলার সায়েন্স
- আসহাবিল ইয়ামিন / kishoralo

#ইরেজার #পেনসিলের_দাগ

11/06/2026

অন্তত ১১টি ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করতে পারে পাণ্ডা

Ref: Prothom Alo

10/06/2026

Students’ Bus of PrimeAsia University | 10.06.26

09/06/2026

মহাসাগরে কত টন সোনা আছে, জানলে অবাক হবেন

Ref: Prothom Alo

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

Kemal Ataturk Avenue, Banani C/A
Dhaka
1213