04/12/2025
ঘন ঘন ভূমিকম্প সম্পর্কে কোরআন ও হাদীসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ আছে। ইসলামে ভূমিকম্পকে একদিকে আল্লাহর নিদর্শন, অন্যদিকে মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে তুলে দিচ্ছি:
---
⭐ কোরআনে ভূমিকম্প সম্পর্কে
কোরআনে বেশ কয়েক জায়গায় “ভূমিকম্প”, “কম্পন”, বা “ভূমি কাঁপা” (زلزال / رجفة) শব্দ ব্যবহার হয়েছে। এগুলো সাধারণত তিনভাবে উল্লেখ হয়েছে—
1️⃣ আল্লাহর শক্তি ও ক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে
“হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো। নিশ্চয় কিয়ামতের ভূমিকম্প এক মহা ভয়াবহ ব্যাপার।”
— সুরা হজ্জ, 22:1
এ ayat-এ বলা হয়েছে যে ভূমিকম্প আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সতর্কবার্তা, যা মানুষকে তাঁর ক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দেয়।
---
2️⃣ পূর্বের উম্মতদের শাস্তি হিসেবে
কোরআনে পূর্বের কিছু জাতি (যেমন—সামূদ জাতি) আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে ভয়াবহ কম্পনে ধ্বংস হয়েছিল।
“অতঃপর তাদেরকে আঘাত করল একটি প্রচণ্ড কম্পন, ফলে তারা তাদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।”
— সুরা আরাফ, 7:78
— সুরা হুদ, 11:67
---
3️⃣ মানবজাতিকে চিন্তা ও তওবার দিকে ডাক
আল্লাহ বলেন—বিপদ-আপদের মাধ্যমে মানুষকে ফিরে আসতে বলা হয়।
“আমি তাদেরকে শাস্তি দেই—সম্ভবত তারা ফিরে আসবে।”
— সুরা সাজদা, 32:21
---
⭐ হাদীসে ভূমিকম্প সম্পর্কে
নবী ﷺ ভূমিকম্পকে সাধারণত ‘সতর্কতা’ ও ‘পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
1️⃣ মানুষ যখন অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়
রাসুল ﷺ বলেছেন—
“যখন কোনো قومের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে… তখন তাদের মাঝে প্লেগ, ব্যাধি ও ভূমিকম্প দেখা দেয়।”
— ইবনে মাজাহ, হাদীস 4019 (হাসান)
➡️ অর্থ: গুনাহ বৃদ্ধি পেলে আল্লাহ মানুষের মধ্যে বিপদ সৃষ্টি করেন যাতে তারা ফিরে আসে।
---
2️⃣ ভূমিকম্প হলে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ
একটি বর্ণনায় এসেছে—
“যখন ভূমিকম্প হয়, তখন বেশি বেশি ‘ইস্তেগফার’ করো।”
➡️ অর্থ: এটা সতর্কবার্তা, তাই তওবা ও দুআ করা উচিত।
---
3️⃣ কিয়ামতের আলামত হিসেবে
রাসুল ﷺ বলেছেন—
“কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না ভূমিকম্প ঘন ঘন হতে থাকে।”
— বুখারি, 1036
➡️ ঘন ঘন ভূমিকম্প—কিয়ামতের নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম লক্ষণ।