ফোনটা যত স্মার্ট কিংবা দামীই হোক, চার্জ না দিলে কিন্তু চলে না। ঈমানও তেমনি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, সৎকাজ আর দোয়া-জিকির হলো সেই চার্জ।
দিনে দিনে গুনাহ, অলসতা, দুনিয়াদারিতে সেই চার্জ কমে যায়। রিচার্জ না করলে এক সময় অফ হয়ে যায়!
অতএব কার ঈমান কী অবস্থায় আছে— সে তার আমল দিয়েই বুঝে নিতে পারে।
#খুতুবাত
10 Minute Madrasha
10 Minute Madrasha is online Islamic education platform in Bangladesh through social media.
তাহাজ্জুদের আমল ছোট মনে হলেও এর মর্যাদা অপরিসীম। যে আল্লাহ তাআলার নিকট প্রিয় হতে চায়, এই নফল ইবাদত তার জন্য অপূর্ব এক উপহার। তাহাজ্জুদের তিন রকম অবস্থা আছে।
১. সর্বোত্তম হলো, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে ঘুম ভেঙে নামায আদায় করা।
২. যদি আশঙ্কা থাকে যে রাত জেগে ওঠা সম্ভব হবে না, তাহলে ঘুমানোর আগে—ইশার পরপরই হলেও—তাহাজ্জুদ পড়ে নেওয়া যায়।
৩. আর যদি কোনো কারণে রাতে আদায় করা না যায়, তাহলে পরদিন দুপুরের আগেই এই নামায আদায় করে নেওয়া যায়।
নবীজি ﷺ এই ইবাদতে এতটাই অটল ছিলেন যে, অসুস্থতা বা প্রবল ঘুমের কারণে যদি রাতে মিস হয়ে যেত, তবে দিনে বারো রাকাত পড়ে তা পূরণ করতেন—ইবাদতের ধারাবাহিকতা যেন ভেঙে না যায়, শুধু এজন্যই। [কানযুল উম্মাল : ৮/২৮৮]
এখন একটি ব্যাপার ভালোভাবে বুঝে নিন। ধরা যাক কেউ ব্যাংকে গিয়ে মাত্র পাঁচশ’ টাকা জমা দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলল। ব্যাংক যদি মালিকদের তালিকা প্রস্তুত করে, যেখানে কোটি টাকার মালিক, লক্ষ টাকার মালিক, হাজার টাকার মালিক—সবাই থাকবে, তাহলে সেই পাঁচশ’ টাকার অ্যাকাউন্টধারীর নামও অবশ্যই সেই তালিকায় থাকবে। কারণ তার অ্যাকাউন্ট তো খোলা আছে!
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের তালিকাও ঠিক এমনই। যেখানে থাকবেন হাসান বসরী রহ., যিনি সারা রাত নামাযে দাঁড়িয়ে থাকতেন; রাবেয়া বসরীয়া রহ., যিনি দীর্ঘ সিজদায় রাত পার করতেন; ইমাম আবু হানিফা রহ., যিনি ইশার ওযু দিয়ে ফজর পর্যন্ত নামায পড়তেন—এরা হবেন আধ্যাত্মিক অর্থে ‘কোটি টাকার মালিক’।
কিন্তু যদি আমরা প্রতিদিন ঘুমানোর আগে মাত্র দু-চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ে রাখি, তাহলে আমরাও সেই তালিকার অংশ হয়ে যাব। আমলের পরিমাণ কম—কিন্তু আমাদের হিসাব তো খোলা আছে!
কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহর প্রেমিকদের নাম ঘোষণা করা হবে, তখন যে বান্দা নিয়মিত তাহাজ্জুদের সামান্য আমলও করেছে, তাকে কখনোই শত্রুদের সারিতে দাঁড় করানো হবে না। আল্লাহর অফুরন্ত দয়া এমনটি হতে দেয় না। যে ব্যক্তি প্রতিদিন কিছু রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর প্রেমিকদের দলে নিজের নাম যুক্ত করে রাখে, ফেরেশতারা তাকে কখনোই বলবে না, 'চল, আল্লাহর শত্রুদের সঙ্গে দাঁড়াও।' বরং তাকে ডাকা হবে প্রিয় বান্দাদের কাতারে, যেখানে বর্ষিত হবে দয়া, রহমত ও অগণিত পুরস্কার।
তাই এমন কোনো রাত যেন না যায়, যাতে অন্তত কয়েক রাকাত নফল পড়ে নিজেদের নাম তাহাজ্জুদগোযারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করি। যারা এখনও ঘুমাননি—আজকের রাত থেকেই সেই সম্মানিত তালিকায় নিজের নাম লিখে নেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত হোক আমাদের সবার।
#খুতুবাত
আল্লাহ নিজেই বলেছেন! রিজিক বৃদ্ধির ৪টি গুণ | Azadi #আমল #ওয়াজ #আল্লাহর #
ঈমান নসিব হওয়ার আমল । #আমল #থানবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি #আল্লাহর #ওয়াজ #ঈমান
যেকোনো হালাল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইস্তিখারা করুন!
ইস্তিখারা কী?
ইস্তিখারা অর্থ হলো—
আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া।
*যখন আমরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দ্বিধায় পড়ি (বিয়ে, চাকরি, ব্যবসা, পড়াশোনা, কোথাও যাওয়া ইত্যাদি), তখন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেই ইস্তিখারা করা হয়।
ইস্তিখারা কেন পড়তে হয়?
কারণ—
আমরা ভবিষ্যৎ জানি না
কোনটা আমাদের জন্য ভালো, কোনটা খারাপ—তা শুধু আল্লাহ জানেন তাই ইস্তিখারার মাধ্যমে আমরা বলি:
"হে আল্লাহ, আপনি জানেন, আমি জানি না—আমার জন্য যেটা ভালো সেটাই করে দিন।"
*ইস্তিখারা কখন পড়বেন?*
যেকোনো হালাল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে
ফরজ বা হারাম বিষয়ে ইস্তিখারা নেই
ইস্তিখারা কীভাবে পড়তে হয়?
১. ভালোভাবে অজু করবেন
২. দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বেন (ফরজ নামাজের সাথে মিলাবেন না)
৩. নামাজ শেষে ইস্তিখারার দোয়া পড়বেন
৪. দোয়ার সময় নিজের প্রয়োজনের কথা মনে মনে বলবেন
ইস্তিখারার দু'আ:
কোন কাজে ভালো মন্দ বুঝতে না পারলে, মনে ঠিক-বেঠিক, উচিত-অনুচিত বা লাভ-নোকসানের দ্বন্দ্ব আল্লাহর নিকট মঙ্গল প্রার্থনা করতে দুই রাকআত নফল নামায পড়ে নিম্নের দুআ পঠনীয়।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ ، وَأَسْتَعِينُكَ بِقُدْرَتِكَ ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ وَآجِلِهِ ، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ وَآجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي ، وَاصْرِفْنِي عَنْهُ ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ، ثُمَّ رَضِّنِي بِهِ
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্ত্খীরুকা বিইলমিকা অ আস্তাক্বদিরুকা বি কুদরাতিকা অ আসআলুকা মিন ফায্বলিকাল আযীম, ফাইন্নাকা তাক্বদিরু অলা আক্বদিরু অতা'লামু অলা আ'লামু অ আন্তা আল্লা-মুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুন্তা তালামু আন্না হা-যাল আমরা খাইরুল লী ফী দীনী অ মাতা'শী অ আ'-কিবাতি আমরী অ আ'-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাক্বদুরহু লী, অ ইয়াসসিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহ। অ ইন কুন্তা তা'লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দীনী অ মাতা'শী অ আ'-কিবাতি আমরী অ আ'-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাসরিফহু আন্নী অসরফনী আনহু, অক্বদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না সুম্মা রায্যিনী বিহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট তোমার ইলমের সাথে মঙ্গল প্রার্থনা করছি। তোমার কুদরতের সাথে শক্তি প্রার্থনা করছি এবং তোমার বিরাট অনুগ্রহ থেকে ভিক্ষা যাচনা করছি। কেননা, তুমি শক্তি রাখ, আমি শক্তি রাখি না। তুমি জান, আমি জানি না এবং তুমি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। হে আল্লাহ! যদি তুমি এই ( ) কাজ আমার জন্য আমার দ্বীন, দুনিয়া, জীবন এবং কাজের বিলম্বিত ও অবিলম্বিত পরিণামে ভালো জান, তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারিত ও সহজ করে দাও। অতঃপর তাতে আমার জন্য বরকত দান কর। আর যদি তুমি এই কাজ আমার জন্য আমার দ্বীন, দুনিয়া, জীবন এবং কাজের বিলম্বিত ও অবিলম্বিত পরিণামে মন্দ জান, তাহলে তা আমার নিকট থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকে ওর নিকট থেকে সরিয়ে দাও। আর যেখানেই হোক মঙ্গল আমার জন্য বাস্তবায়িত কর, অতঃপর তাতে আমার মনকে পরিতুষ্ট করে দাও।
প্রথমে (هَذَا الْأَمْرَ) 'হা-যাল আমরা এর স্থলে বা পরে কাজের নাম নিতে হবে অথবা মনে মনে সেই জ্ঞাতব্য বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করতে হবে।
সে ব্যক্তি কর্মে কোনদিন লাঞ্ছিত হয় না, যে আল্লাহর নিকট তাতে মঙ্গল প্রার্থনা করে, অভিজ্ঞদের নিকট পরামর্শ গ্রহণ করে এবং ভালো-মন্দ বিচার করার পর কর্ম করে। (বুখারী ৭/ ১৬২, আবু দাউদ ২/৮৯, তিরমিযী ২/৩৫৫, আহমাদ ৩/৩৪৪)।
ইস্তিখারার পর কী হবে?
স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়।
মন যেদিকে স্বস্তি পায়
কাজটি সহজ হয়ে যায় বা দূরে সরে যায়
—এভাবেই আল্লাহ সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেন
বিশ্বাস রাখুন
ইস্তিখারার পর আল্লাহ যা ঘটাবেন—
সেটাই আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো।
আল্লাহ আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দিন।
আমিন।
হঠাৎ মৃত্যু থেকে আশ্রয় চাওয়ার দু‘আ :
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مَوْتِ الْفُجَاءَةِ
উচ্চারণ : আল্লহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন মাওতিল ফুজা'আহ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি হঠাৎ মৃত্যু থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
- M***i Masum Billah
কুফু মিলিয়ে বিবাহ করুন!
অধিকাংশ বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে কুফু না মিলার কারণে।!
আসুন জেনে নেই কুফু কী?
❑ কুফু(كَفُؤ) ❑ কি??
বিয়ের ক্ষেত্রে “কুফু” একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «تَخَيَّرُوا لِنُطَفِكُمْ وَانْكِحُوا الْأَكْفَاءَ وَأَنْكِحُوا إِلَيْهِمْ»
“তোমরা ভবিষ্যত বংশধরদের স্বার্থে উত্তম নারী গ্রহণ করো এবং 'কুফু' বিবেচনায় বিবাহ করো, আর বিবাহ দিতেও 'কুফুর' প্রতি লক্ষ্য রাখো।” [১]
●এখন 'কুফু'-র অর্থ কি?
“কুফু”(كَفُؤ) একটি আরবী শব্দ; যার অর্থ সমান,সমতুল্য,সমতা,সমকক্ষ[২]।
ইসলামী পরিভাষায় বর-কনের দ্বীন-দুনিয়ার যাবতীয় কিছুতে সমান সমান বা কাছাকাছি হওয়াকে “কুফু” বলে।
●বিয়ের ক্ষেত্রে “কুফু” কেন গুরুত্বপূর্ণ আসুন একটি উদাহরণ দেখি:
মনে করুন, A একটি দ্বীনদার মেয়ে এবং B একটি বেদ্বীন ছেলে। একজন দ্বীনদার, অপরজন বেদ্বীন; দুজনের মধ্যে কুফু নেই। তারপরও দুজনের বিয়ে হলো, মেয়েটি যেহেতু দ্বীনদার তাই সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার দ্বীনকে টেনে আনে, চায় প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বীনের ছাপ থাকুক। অপরপক্ষে বেদ্বীন ছেলেটি চাইবে দুনিয়ার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে, চাইবে সবকিছুই হোক দ্বীনের বাঁধনমুক্ত। ফলস্বরূপ অশান্তি। শেষ পরিণতি 'তালাক'।
এবার আরেকটি উদাহরণ দেখি:
মনে করুন, আপনার মাসিক আয় দশ হাজার টাকা। আর আপনি এমন কাউকে বিয়ে করলেন যার বাবার মাসিক আয় ছিল পঞ্চাশ হাজার টাকা। অর্থনৈতিক অবস্থানে 'কুফু' নেই। কি মনে হয় সুখে থাকবেন? নাহ।
হাতি-ওয়ালার সাথে বন্ধুত্ব করলে হাতি রাখার মত ঘর নিজেকে বানাতে হবে।
অতএব, আপনার রোজগার দশ হাজার টাকা হলে আপনার বিয়ে করা উচিত এমন কাউকে যে এরমধ্যেই মানিয়ে চলতে পারবে। নয়তো বিয়ের পর শুনতে হতে পারে, ‘ভুল করেছি তোমায় বিয়ে করে, দাও এবার আমার হাতটি ছেড়ে’।
তাই সবদিক দিয়ে নিজের চলাফেরা, পোশাক আশাক, বাড়িঘর, থাকা খাওয়ার মান যেমন, ঠিক সেই সমমানের পাত্রী পছন্দ করা উচিত। এতে কেউ কারোর উপর গর্ব প্রকাশ করবেনা, খোঁটা দেবেনা; ভালোবাসার গতিও বাধাগ্রস্ত হবেনা। এককথায় প্রায় সব বিষয়ে 'কুফু' বিবেচনা করেই বিয়ের পিঁড়িতে বসা উচিত। নচেৎ পরবর্তী সময়ে 'ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালাতে পারে'।
যদি সবকিছুতেই 'কুফু' মিলে যায় তবে তো সোনায় সোহাগা এবং এমন দাম্পত্য হবে চিরসুখের। পক্ষান্তরে কিছু না পেলেও যদি শুধুই দুজনের মধ্যেই দ্বীনদারী থাকে তবে সুখের জন্য এটাই যথেষ্ট।
(এক কথায়- স্বামী স্ত্রী দুজনের মধ্যে রুজি রোজগার দিন ইসলাম ব্যাপারে খাওয়া দাওয়া ব্যাপারে কাপড়-চোপড় ঘরবাড়ি ব্যাপারে মনোমালিন্য নিজের ভিতর যেন না আসে। এবং কোন ছেলে তার আর্থিক অবস্থার চাইতে বেশি মেয়ের আর্থিক অবস্থা যদি থাকে তাহলে নেগলেট করতে পারে ) আমার এটা হচ্ছে না ওটা হচ্ছে না আমার বাড়িতেই ভালো আমি ছিলাম বলবে। (স্বামীর সব কিছুর উপর সন্তুষ্ট যেন থাকতে পারে, অসন্তুষ্ট যেন না হয় )
কীভাবে স্ত্রীকে নেককার হিসাবে গড়ে তুলবেন⁉️
১. তাকে কিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদের জন্য উৎসাহিত করবে।
২. কুরআন তিলাওয়াতের ব্যাপারে যত্ন নেওয়ার তাগিদ দেবে।
৩. প্রতিটি কাজের মাসনুন দুআ, সকাল-সন্ধ্যা ও নামাযের পরের আযকারগুলো আদায়ের ব্যাপারে যত্ন নেওয়ার তাগিদ দেবে।
৪. তাকে সদাকা করার প্রতি উৎসাহিত করবে।
৫. বিভিন্ন উপকারী দ্বীনি ও ইসলামি বই পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে।
৬. ঈমান ও আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদানকারী বিভিন্ন লেকচার ও আলোচনা শোনাবে এবং তা শোনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে।
৭. তাকে নেককার ও উত্তম সঙ্গী নির্বাচন করে দিতে হবে— যার সাথে সে বসবে, অবসর সময়ে উত্তম উত্তম কথা বলবে এবং একসাথে হাঁটতে বের হবে।
৮. তাকে খারাপ ও অকল্যাণকর বিষয় থেকে ফিরিয়ে রাখবে
এবং এগুলো আসার সকল পথ বন্ধ করে দেবে।
তাকে খারাপ মানুষের সাথে মিশতে দেবে না,
খারাপ জায়গায় যেতে দেবে না।
একজন নেককার স্ত্রী, তার স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
তবে একজন স্ত্রী ততক্ষণ পর্যন্ত নেককার হতে পারবে না,
যতক্ষণ পর্যন্ত ৪টি কাজ সঠিকভাবে করতে না পারবে—
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
রমজান মাসের রোজা
নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত
(অর্থাৎ আল্লাহ্র বিধান অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে পর্দা করা)
স্বীয় স্বামীর আনুগত্য ✨💖
রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ
“সম্পূর্ণ পৃথিবী সম্পদ।
আর পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হচ্ছে সৎ চরিত্রবান নারী।” 🌸
[বুখারী, মুসলিম, মিশকাত : ৩০৮৩]
রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ
“যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে,
রমজান মাসের রোজা রাখে,
নিজের লজ্জাস্থান হেফাজত করে
এবং স্বীয় স্বামীর আনুগত্য করে—
সে নিজের ইচ্ছানুযায়ী জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।” 🌸
[আহমাদ, ১৫৯৩]
যাদের সাথে আল্লাহ নিজের যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। #সুদের #ওয়াজ #জাহান্নাম #আল্লাহর #যুদ্ধ
আপনার ব্যক্তিত্ববোধ বজায় রাখতে যে কাজগুলো করতে হবে ----------
১। আগে সালাম দিন।
২। হাসিমুখে কথা বলুন। দুঃখ কষ্ট চেপে রেখে মুখের হাসি ধরে রাখতে চেষ্টা করবেন।
৩। বেশি শুনবেন, কম বলবেন।
৪। তামাশার ছলেও কখনো মিথ্যা বলবেন না।
৫। ভুল হলে বিনয়ের সাথে ক্ষমা চেয়ে নিন বা দুঃখ প্রকাশ করুন।
৬। অকারণে বেশি হাসি বা ঠাট্টা মশকরা করবেন না।
৭। ধীরে ধীরে বুঝিয়ে কথা বলুন।
৮। আগে অন্যের কথা শুনুন, তারপর নিজে বলুন।
৯। কোনো বিষয়ে তর্কে জড়াবেন না। মনে রাখবেন, তর্কে জিতা নয় বরং তর্কে না জড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
১০। কারো কাছে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না।
১১। ধৈর্য ধরে রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
১২। কেউ ভুল করলে ক্ষমা করুন। অন্যের দোষ ঢেকে রাখুন। মানুষের প্রতি সুধারণা রাখুন।
১৩। ছোট বড়ো সবাইকে প্রাপ্য সম্মান দিন।
১৪। কথা দিয়ে কথা রাখবেন।
১৫। পোশাকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, সম্ভব হলে সুবাসিত রাখতে চেষ্টা করবেন।
১৬। পারলে খাওয়ান, জোর করে খাবেন না। অন্যের জিনিসে লোভ করবেন না।
১৭। খাবার সামনে এলে আগে অন্যকে দিন। সুযোগ সুবিধা নিজে না নিয়ে অন্যদের দিয়ে দিন।
১৮। মুখ ও শরীর দুর্গন্ধমুক্ত রাখুন। আপনার যা কিছুই আছে, পরিচ্ছন্ন পরিপাটি রাখুুন।
১৯। চরিত্র ও নৈতিকতা উন্নত রাখুন। নিজের অপারগতার কথা কাউকে জানাবেন না। প্রার্থনায়, সাজদায় পড়ে শুধু আল্লাহকেই বলুন।
২০। আচার ব্যবহারে বিনয়, ভদ্রতা ও নম্রতা বজায় রাখুন।
ইনশাআল্লাহ, ব্যক্তিত্ববান বলে গণ্য হবেন। মানুষের শ্রদ্ধা সম্মান সমীহ ও ভালোবাসা লাভ করবেন।
✒️_____Sheikh Najmul Islam Mujahid▫️
আস্তাগফিরুল্লাহ! বলার ফজিলত নিয়ে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) এর চমৎকার গল্প অবলম্বনে ...
আলহামদুলিল্লাহ!
শুরুতেই বলে রাখি,
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ)
ছিলেন ইমাম বুখারী (রহঃ) এর ওস্তাদ। তিনি ১০ লক্ষ হাদিস মুখস্ত রেখেছিলেন। তিনি যে হাদিস গ্রন্থ লিখেছিলেন তার নাম মুসনাদে আহমদ। সেখানে তিনি প্রায় ৪০ হাজার হাদিস লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
একদিনের ঘটনা!
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ)
বৃদ্ধ মানুষটি হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন মসজিদের সামনে! এত রাতে কোন মানুষজনের ঘরে গিয়ে তাঁদের কষ্টের কারণ হতে চান নি তিনি। সেকারণেই চেয়েছিলেন মসজিদেই কাটিয়ে দিবেন রাতটুকু। নফল ছালাত আর কিছুটা ঘুমিয়ে দিব্যি রাত কাটিয়ে দেয়া যেত।
কিন্তু বাধ সাধলেন মসজিদের খাদেম। কোন এক অজানা কারণে তাঁকে পছন্দ করলেন না খাদেম। স্রেফ মানা করে দিলেন খাদেম– মসজিদে রাত কাটানো যাবে না। মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে খাদেম সাহেব সেই কথাটি-ই বেশ উঁচু গলায় কথা বলে দিলেন বৃদ্ধকে।
মসজিদ সাথে লাগানো রুটির দোকানে মধ্য বয়স্ক একজন বিশাল তন্দুরে রুটি বানাচ্ছেন। খাদেমের চড়া গলা তাঁর কানে পর্যন্ত গেল। রুটি বানানো বন্ধ রেখে মধ্যবয়স্ক মানুষটি ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ মানুষটির কাছে।
– আসসালামু আলাইকুম। পথিক বুঝি আপনি? আপনার আপত্তি না থাকলে আজকের রাত আমার সাথে কাটিয়ে দিতে পারেন। আমি ওপাশের দোকানে রুটি বানাই, একটু কষ্ট হয়তো হবে আপনার।
খুব খুশি হলেন বৃদ্ধ মানুষটি। রুটি বানানো লোকটির সাথে গিয়ে তার ঘরে উঠলেন। বৃদ্ধের শোয়ার আয়োজন করে দিয়ে আবার রুটি বানাতে লেগে গেলেন মানুষটি। বিছানায় আধশোয়া বৃদ্ধ খেয়াল করছিলেন- কাজের ফাঁকে ফাঁকে কি যেন পড়ছেন তাঁকে আশ্রয় দেয়া মানুষটি।
বৃদ্ধ জিজ্ঞেস করলেন, – কিছু মনে না করলে আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি ভাই? রুটি বানাতে বানাতে আপনি কিছু পড়ছেন মনে হচ্ছে। দয়া করে বলবেন কি পড়ছেন?
– তেমন কিছু না, ইস্তিগফার আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ (মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করছি।
– এই যে কাজের ফাঁকেও একটানা ইস্তিগফার করছেন, কোন লাভ কি হয়েছে আপনার?
– জ্বী জনাব। আলহামদুলিল্লাহ, আমার মনে হয় এই ইস্তিগফারের কল্যাণেই মহান আল্লাহ এখন পর্যন্ত আমার যাবতীয় দোআ কবুল করেছেন; শুধু একটি দোআ ছাড়া।
– আপনার কোন দোআটি কবুল করেন নি ?
– আমাদের এখান থেকে অনেক দুরে আল্লাহর প্রিয় এক বান্দা থাকেন। জ্ঞান-গরিমা-মেধা-যুক্তি সবকিছুতেই আল্লাহ তায়ালার প্রিয় একজন তিনি।
আমার খুব শখ – একবার যদি তাঁর সাথে দেখা করতে যেতে পারতাম। কিছুটা সময় যদি কাটাতে পারতাম সেই জ্ঞানী বান্দার সাথে। আল্লাহ পাক আমার এই প্রার্থনাটি-ই শুধু কবুল করেন নি এখনও। নিশ্চয়ই কবুল করবেন তিনি। আমার কোন গুনাহের কারণে হয়তো এখনো কবুল হচ্ছে না।
বৃদ্ধ মানুষটির চোখ ভারী হয়ে এলো কান্নায়। ধরা গলায় কান্না চেপে জিজ্ঞেস করলেন তিনি, – আপনি কি আহমদ ইবনে হাম্বলের কথা বলছেন ভাই?
– জ্বী জনাব। আমি শায়খুল ইসলাম, জগত বিখ্যাত মুজতাহিদ ও মুহাদ্দীস ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল এর কথাই বলছি। আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রতি অবিরাম রহমত বর্ষণ করুক।
বৃদ্ধ মানুষটি এবার উঠে এসে পাশে দাঁড়ালেন- “সেই পবিত্র স্বত্তার কসম- যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আপনার ইস্তিগফার আল্লাহ পাক শুধু কবুল-ই করে নি, উপরন্তু আমাকে এই দূর দেশে, অচিন শহরে, মধ্য রাতে – আপনার ঘর পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। আমি-ই মহান আল্লাহ তাআ’লার সেই অধম বান্দা – আহমাদ ইবনে হাম্বল!”
(গ্রন্থ - মানাকিব আল ইমাম আহমাদ থেকে নেয়া)
হাদীসের জগতে ইমাম আহমাদ (রহঃ) এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাঁর হাদীসের পারদর্শিতা সম্পর্কে এক কথায় বলা যায় তিনি হাদীসের এক বিশাল সাগর। ইমাম আব্দুল ওয়াহ্হাব আল ওয়ার্রাক বলেন, ‘‘আমি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মত আর কাউকে দেখিনি। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি অন্যের চেয়ে ইমাম আহমাদ (রহঃ) এর মাঝে জ্ঞান-গরিমা বা মর্যাদা বেশী কি পেয়েছেন? তিনি বললেন, ইমাম আহমাদ এমন একজন ব্যক্তি যাকে ৬০,০০০ (ষাট হাজার) প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি সকল প্রশ্নের জবাবে হাদ্দাছানা ওয়া আখাবারানা অর্থাৎ হাদীস হতে জবাব দিয়েছেন অন্য কিছু বলেন নি। (ত্ববাকাতুল হানাবিলাহ, ১/৯ পৃঃ)।
আস্তাগফিরুল্লাহ এর ফজিলত!
রাসুলুল্লাহ (ছা.) এরশাদ করেছেন, ‘সু-সংবাদ তার জন্য, যার আমলনামায় অধিক ইস্তেগফার পাওয়া যাবে।’
(ইবনে মাজাহ হাদিস নং ৩৮০৮)।
ইস্তেগফারের রয়েছে বহুমুখী ফজিলত। যথা :
- ইস্তেগফার নির্ভেজাল একটি ইবাদত।
- গোনাহ মাপের মাধ্যম।
- বৃষ্টি বর্ষণের কারণ।
- সম্পদ ও সন্তান অর্জনে সহায়ক।
- জান্নাতে প্রবেশের সিঁড়ি।
- সার্বিক শক্তি অর্জনের মাধ্যম। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তেগফার করো অতঃপর তার কাছে তওবা করো, তাহলে তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি পাঠাবেন এবং তোমাদের শক্তির সঙ্গে আরও শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে বিমুখ হয়ো না।’ (সূরা হুদ, আয়াত ৫২)।
- উত্তম ভোগ-উপকরণ অর্জনের চাবিকাঠি। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তেগফার করো। তারপর তার কাছে ফিরে যাও, (তাহলে) তিনি তোমাদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম ভোগ-উপকরণ দেবেন।’
(সূরা হুদ : আয়াত ৩)
- বালা-মসিবত দূর করে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তাদের আজাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে, তারা ইস্তেগফার করছে।’
(সূরা আনফাল : আয়াত ৩৩)।
- আল্লাহ তায়ালা ইস্তেগফারের মাধ্যমে, আনুগত্যশীল ব্যক্তিদের আনুগত্য অনুযায়ী প্রতিদান বৃদ্ধি করে দেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘(আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তেগফার করো। এরপর তার কাছে ফিরে যাও, তাহলে) অধিক আনুগত্যশীলকে তাঁর আনুগত্য মোতাবেক দান করবেন।’
(সূরা হুদ : আয়াত ৩)।
- বান্দা ইস্তেগফারের প্রতি বেশি মুখাপেক্ষি। কারণ, দিনরাত আমরা শুধু গোনাহ আর গোনাহ করি। সুতরাং ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে যাবতীয় গোনাহ ক্ষমা করে নিতে হবে।
- রহমত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘কেন তোমরা আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করছো না, যেন তোমাদের রহমত করা হয়?’
(সূরা নামল : আয়াত ৪৬)।
- মজলিস তথা বৈঠকের সব সগিরা গোনাহের জন্য কাফফারা।
- সর্বোপরি এটা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর সুন্নতের অনুসরণ। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দৈনিক কমপক্ষে সত্তরবার ইস্তেগফার পাঠ করতেন।
استغفر الله و اتوب اليه
আস্তাগফিরুল্লাহু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
Courtesy- খালিদ সাইফুল্লাহ্ আইয়ুবী হাফিজাহুল্লাহ্
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত ঘটনাটি মুফতী (দিলাওয়ার হুসাইন) সাহেবের ইসলাহি মজলিশেও আলোচনা করেছিলেন। আল্লাহ্ আমাদের বেশী বেশী আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার তৌফিক দান করুক আমিন।
Click here to claim your Sponsored Listing.