Quranea

Quranea

Share

It's a Qur'an training platform.

Teachers & Students will be available here for learning & teaching Qur'an.
এটি একটি কুরআন প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা এখানে কুরআন শেখার এবং শেখানোর জন্য উপলব্ধ থাকবে।

04/03/2026

মক্কার হারামে কর্মরত একজন পাকিস্তানি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর এক বিস্ময়কর ঘটনা। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি অত্যন্ত বিনয় ও একাগ্রতার সাথে আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন।

অভাব-অনটনে জর্জরিত এই ব্যক্তিটি নিজের ঋণ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কাঁদছিলেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে হারামের লাইভ ক্যামেরাটি তাঁর ওপর ফোকাস করে। হারাম শরীফের চ্যানেল থেকে সেই দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

সৌদি আরবের একজন দানবীর ব্যক্তির চোখে ভিডিওটি পড়লে তিনি সেই কর্মীর সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর সমস্ত ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেন।

পরবর্তীতে সেই কর্মীকে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি তখন কোন দোয়াটি পড়ছিলেন? তিনি জানালেন, তিনি অভাব মুক্তির সেই দোয়াটি পড়ছিলেন যা রাসূলুল্লাহ ﷺ এক মেহমানের আগমনের সময় পড়েছিলেন।

ঘটনাটি হলো, একবার নবীজী ﷺ-এর ঘরে একজন মেহমান এলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে খাবারের খোঁজে লোক পাঠালেন, কিন্তু খবর এলো ঘরে কিছুই নেই। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দোয়াটি পাঠ করলেন,

​"اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ، فَإِنَّهُ لَا يَمْلِكُهَا إِلَّا أَنْتَ"

(আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা ওয়া রাহমাতিকা, ফাইন্নাহু লা ইয়ামলিকুহা ইল্লা আন্তা)

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ ও রহমত প্রার্থনা করছি। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ এর মালিক নয়।" (আবু দাউদ, সহীহ আল জামে, তাবারানী)

দোয়া করার কিছুক্ষণ পরই নবীজী ﷺ-এর কাছে উপহার হিসেবে একটি ভাজা বকরি এলো।

উলামাদের মতে, অভাব ও সংকটের সময় এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত বরকতময়।

সংগ্রীহিত।

17/12/2025

আসুন কুরআন শিক্ষা ছড়িয়ে দেই।

18/08/2025

শাওয়াল মাসের সাওম : ফাজায়েল ও মাসায়েল
*************************
রমাদানের পর আসে শাওয়াল মাস। এ মাসের গুরত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে ছয়টি সাওম। রমাদানের ফরয সাওম পালনের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি সাওম রাখা মুস্তাহাব।
▪ফাজায়েল:
এ সাওমের অনেক ফজিলত রয়েছে যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রসূল ( ﷺ ) নিজেও এ সাওম রাখতেন। সাহাবায়ে কেরামদেরকেও রাখার নির্দেশ দিতেন।
ঈদুল ফিতরের দিন বাদে পুরো শাওয়াল মাসে ৬টি নফল সাওম রাখলে এক বছর নফল সাওমের সাওয়াব পাওয়া যায়।

হযরত আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমাদানের সাওম রাখলো, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি সাওম রাখলো, সে যেনো সারা বছরই সাওম রাখলো।’ (সহীহ মুসলিম: ৮২২)
মুসলিমগণ রমাদানের ফরয সাওম পালনের পর যাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেন, এ জন্য রসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর উম্মতদেরকে শাওয়ালের ছয় সাওম পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।

হযরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমাদানের সাওম ১০ মাসের সাওমের সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় সাওম দুই মাসের সাওমের সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের সাওম।’ (সুনানে নাসায়ী: ১৬২)

মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে বলেন, ‘যে একটি সৎকাজ করবে, সে তার ১০ গুণ সাওয়াব পাবে।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৬০)

উপরোক্ত আয়াতের আলোকে ওলামা কেরামগণ শাওয়ালের ছয় সাওমকে এভাবে মূল্যায়ন করেছেন যে, রমাদানের ৩০ সিওম আর শাওয়ালের ছয়টিসহ মোট ৩৬টি সাওম হয়। পুণ্যময় কাজের সওয়াব ১০ গুণ বৃদ্ধির কথা কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে। অতএব ৩৬কে ১০ গুণ বৃদ্ধি করলে ৩৬০ হয়। সুতরাং বছরে ৩৬টি সাওম রাখলে যেনো পূর্ণ বছর অর্থাৎ ৩৬০ দিনই সাওম রাখা হয়।

মুমিনদের জেনে রাখা ভালো, কোনো রমাদান মাস যদি ২৯ দিন হয়, তাহলেও আল্লাহর তায়ালা সায়িমকে ৩০ দিনেরই সাওয়াব দান করেন।
▪মাসায়েল:
ঈদের পরদিন থেকে পুরো শাবান মাসে এ ছয়টি সাওম পালন করা যায়।
শাওয়ালের ছয় সাওম একাধারে অথবা বিরতি দিয়ে অর্থাৎ ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায়।

কারও যদি রমাদানের কাজা সাওম থেকে থাকে, তাহলে প্রথমে রমাদানের কাজা আদায় করা উচিত। এরপর শাওয়ালের সাওম রাখবেন।

মহিলারা রমাদানের (বিশেষ সময়ের) ভাংতি সাওম কাজা করার আগেই এ ছয় সাওম রাখতে পারবে তাদের (বিশেষ সময়ের) ভাংতি সাওম পরবর্তী রমাদানের আগে রাখলেই হবে।

তবে ভাংতি সাওমের সাথে এ ছয় সাওম একসাথে করার সুযোগ নেই।
ভাংতি সাওম আলাদা রাখতে হবে। আর এ ছয় সাওম আলাদা রাখতে হবে।

উল্লেখ্য,কেউ যদি শাওয়ালের সাওমসহ যেকোনো নফল সাওম রেখে যদি ভেঙে ফেলেন, তবে তার কাজা আদায় করা ওয়াজিব।

হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, নফলসমূহ ফরজের ত্রুটিগুলোর ক্ষতিপূরণ করে। অর্থাৎ জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে সায়িম কর্তৃক যে ভুলত্রুটি হয়ে থাকে তা নফল সাওম দূর করতে সহায়তা করে।
অনুরূপভাবে শাওয়ালের ছয় সাওম রমাদানের ফরয সাওমের অসম্পূর্ণতাকে সম্পূর্ণ করে এবং তাতে কোনো ত্রুটি থাকলে তাও দূর করে।

তাই প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর উচিত শাওয়াল মাসের ফজিলতপূর্ণ ছয়টি সাওম রেখে পূর্ণ এক বছরের সাওয়াব হাসিল করা।
কেউ যদি ভাই-বোনসহ অন্যদেরকেও এ সাওম রাখতে উদ্বুদ্ধ করেন, সে ক্ষেত্রে উভয়ই পূর্ণ সাওয়াবের ভাগিদার হবেন।

আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে ভালো রাখুন।

07/08/2025

রহমতের নবী ﷺ
রসুলুল্লাহ ﷺ ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক অনন্য রহমতের উপহার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ
“আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি কেবল রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।”
(সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)
তিনি শুধু একজন নবী নন, বরং তাঁর উম্মতের জন্য কিয়ামতের দিন একমাত্র শাফায়াতকারীও।
যেদিন সবাই নিজেরই চিন্তায় অস্থির হয়ে যাবে, সেদিনও রসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মাহকে ভুলবেন না।

আবু যার রা: বর্ণনা করেন:
একবার রসুল ﷺ রাতভর নামাজ আদায় করলেন। শুধু একটি আয়াত বারবার পড়তেন, দীর্ঘ রুকু ও সিজদা করতেন। ফজরের সময় হয়ে গেল। সেই আয়াতটি ছিল—

إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
“আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা। আর যদি তাদের ক্ষমা করেন, তবে আপনি তো পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।”
(সুরা মায়িদা, আয়াত: ১১৮)

আমি (আবু যার) বললাম, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তো শুধু এই আয়াতই পড়লেন, আর তাতেই রাত শেষ করলেন!”
তিনি উত্তর দিলেন:
“আমি আমার উম্মতের জন্য আমার রবের কাছে শাফায়াত চেয়েছি। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে আমার শাফায়াত পাবে।”
(মুসনাদে আহমদ: ২০৮২১)
তিনি ছিলেন এমন এক নবী ﷺ, যিনি মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর উম্মতের জন্য চিন্তিত ছিলেন।
হায় আফসোস! আমরা সেই উম্মত, যারা তাঁর জীবনের কথা জানারও সময় পাই না।

চলুন, ভেবে নেই,এই মুহূর্তটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ সুযোগ।
একবার অন্তত চেষ্টা করি, তাঁর সীরাহ জানার, তাঁর সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ার।

06/08/2025

দুরুদ শরীফ পড়ার অপার ফজিলত

চারটি বিষয় মাথায় রেখে দুরুদ শরীফ পড়ুন,
আপনার দুরুদের প্রতি আকর্ষণ বাড়তেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।

১) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনার নাম জানেন!

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যখন আপনি দুরুদ পাঠ করেন, তখন একজন বিশেষ ফেরেশতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে আপনার নাম উল্লেখ করে এই দুরুদের সংবাদ পৌঁছে দেন।

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের দুরুদ আমার কাছে পৌঁছায়।"
(সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২০৪২; মুসনাদ আহমদ: ১০৫৯৪)

অন্য হাদিসে এসেছে,
"তোমাদের দুরুদ ফেরেশতারা আমার কাছে পৌঁছে দেয় এবং তোমাদের নাম উল্লেখ করে।"
(মুসনাদ আহমদ: ১৬৩০৩, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯১০, হাদিস সহিহ)

২) একবার দুরুদ পড়লে আল্লাহ দশগুণ রহমত বর্ষণ করেন!

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:
"যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।"
(সুনান আন-নাসায়ি: ১২৯৭, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯০৮, সহিহ হাদিস)

আর আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে বিশ্বাসীগণ! তোমরাও নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম প্রেরণ করো।"
(সুরা আল-আহযাব: ৫৬)

৩) দুরুদ শরীফ সমস্যার সমাধান এনে দেয়

যে ব্যক্তি দুরুদ শরীফ বেশি বেশি পড়ে, আল্লাহ তার জীবনের সকল সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নিয়ে নেন, এমনকি সে যদি আলাদাভাবে দোয়া নাও করে।

হাদিসে এসেছে,
"তোমাদের সমস্যার সমাধান ও গুমাহ মাফের জন্য দুরুদকে অধিক পরিমাণে নিজের উপর আবশ্যক করো।"
(সুনান আত-তিরমিজি: ২৩৮১, সহিহ হাদিস)

এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল:
"হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার দোয়ার একাংশকে আপনার জন্য দুরুদে নির্ধারণ করেছি।"
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:
"তাহলে তোমার চিন্তা-ভাবনা থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেওয়া হবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।"
(সুনান আত-তিরমিজি: ২৪৫৭, সহিহ হাদিস)

৪) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে জীবন উৎসর্গ করেছেন

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য কত কষ্ট সহ্য করেছেন! তাঁর সামনে তাঁর প্রিয় সাহাবীদেরকে নির্যাতন করা হয়েছে, তবুও তিনি উম্মতের জন্য দোয়া করেছেন।

কিয়ামতের দিনও তিনি আমাদের জন্য দোয়া করবেন:
"আমার উম্মত! আমার উম্মত!"
(সহিহ মুসলিম: ২০২, তিরমিজি: ২৪৪৩)

তিনি বলতেন:
"হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে ক্ষমা করো, হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে ক্ষমা করো।"
(সহিহ মুসলিম: ২৪৯)

অতিরিক্ত আমল: দুরুদের সাথে ইস্তেগফার ও দোয়া ইউনুস

দুরুদের পাশাপাশি বেশি বেশি ইস্তেগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পড়লে এবং দোয়া ইউনুস (لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ) পাঠ করলে জীবন থেকে বিপদ দূর হয়।

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি দোয়া ইউনুস পড়বে, আল্লাহ তাকে সমস্ত সংকট থেকে মুক্তি দেবেন।"
(সুনান আত-তিরমিজি: ৩৫০৫, সহিহ হাদিস)

দুরুদ শরীফ শুধু একটি আমল নয়, এটি আমাদের জীবনের জন্য রহমত, সমস্যার সমাধান এবং জান্নাতের সুসংবাদ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দুরুদ পড়ার তাওফিক দান করুন, আমিন!
আল্লাহুম্মা আমিন

15/07/2025

আসুন, আমরা কুরআনের আলোয় আলোকিত হই,
নিজে শিখি, পরিবারকে শেখাই, সমাজে ছড়িয়ে দেই।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআনের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করার তাওফিক দান করুন।
আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।

28/05/2025

সবাইকে পড়ার অনুরোধ করছি।
ঈমানের সাথে জড়িত।
১৬ টি কুফরি বাক্য যা আমরা নিয়মিত বলে থাকি:

১. আল্লাহও লাগে ইল্লাও লাগে।
(নাউজুবিল্লাহ)

২. তোর মুখে ফুল চন্দন পড়ুক। (ফুল চন্দন হিন্দুদের পূজা করার সামগ্রী তাই এই বাক্যটি হিন্দু ধর্মের জন্য সঠিক )

৩. কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে (কেষ্ট হিন্দু দেবির নাম, তাকে পাবার জন্য কষ্ট করছেন তাই এই বাক্যটি হিন্দু ধর্মের জন্য সঠিক )

৪. মহাভারত কি অশুদ্ধ হয়ে গেল?
(মহাভারত একটি উপন্যাস, যা সবসময় অশুদ্ধ)।

৫. মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।
(এটি ইসলামের নামে কটুক্তি করা)।

৬. লক্ষী ছেলে, লক্ষী মেয়ে লক্ষী স্ত্রী বলা। (হিন্দুদের দেব-দেবির নাম লক্ষী তাই ইসলামে এটি হারাম)।

৭. কোন ওষুধকে জীবন রক্ষাকারী বলা। (জন্ম-মৃত্যু একমাত্র আল্লাহর হাতে)।

৮. দুনিয়াতে কাউকে শাহেনসা বলা।
(এর অর্থ রাজাদের রাজাধীকার)।

৯. নির্মল চরিত্র বোঝাতে ধোয়া তুলসি পাতা বলা (এটি অনইসলামিক পরিভাষা যা হারাম)।

১০.ইয়া খাজাবাবা, ইয়া গাউস, ইয়া কুতুব ইত্যাদি বলা। (এটি শির্ক, ইসলামের সবচেয়ে বড় পাপ)।

১১. ইয়া আলি, ইয়া রাসূল (সঃ) বলে ডাকা
(মানে দোয়া করা অর্থে, আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে কিছু চাওয়া) (আল্লাহ ছাড়া পৃথিবীর কারোর কাছে কিছু পার্থনা করা শির্ক)।

১২. বিসমিল্লায় গলদ বলা
(এটি সরাসরি কুফরি)।

১৩. মৃত্যুর সাথে পান্জালড়া বলা
(কুফরি বাক্য, তাই সাবধান)।

১৪. মধ্যযুগ বর্বরতা বলা
(মধ্যযুগ ছিল ইসলামের স্বর্ণযুগ)।

১৫. মন ঠিক থাকলে পর্দা লাগে না
( ইসলাম ধংশকারি মতাবদ)।

১৬. নামাজ না পড়লে ঈমান ঠিক আছে বলা। (ইসলাম থেকে বের করার মূলনীতি)।

তাই মুসলিম ভাই ও বোনেরা যখন কথা বলবেন খুব সাবধানে কথা বলবেন

আর এসব কথা ভুলেও মুখে আনবেন না,,,প্লিজ,আল্লাহতায়ালা আমাদের সঠিক বুঝদান করুন।
(আমীন)।

24/04/2025

কুরআনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী : হাদীসের দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ মানুষ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَمَه.

তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে তা শেখায়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০২৭

কুরআন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সর্বশেষ আসমানী গ্রন্থ। মানবজাতির হেদায়েতের জন্যে, তাদেরকে আল্লাহ ও পরকালের পথে আহ্বান করার জন্যে, সঠিক পথের দিশা দেবার জন্যে আল্লাহ পাঠিয়েছেন অনেক অনেক নবী-রাসূল। তাঁদের মধ্যে কাউকে কাউকে দিয়েছেন কিতাব। পবিত্র কুরআন হচ্ছে সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ কিতাব, যা নাযিল করা হয়েছিল সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর। কুরআন নাযিলের পর থেকে ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে শত-সহ¯্র বছর। কিন্তু মানবজাতির ইতিহাসে এ কুরআনই এমন এক গ্রন্থ, এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও যাতে কেউ বসাতে পারেনি বিকৃতির সামান্য আঁচড়। শত্রুরা তো আর কম চেষ্টা করেনি! কিন্তু হাজারো চেষ্টা সত্ত্বেও তারা সফল হয়নি কুরআনকে মানুষের রচিত গ্রন্থ বলে প্রমাণ করায়। বরং কুরআন যখন অবিশ্বাসীদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছে-

وَ اِنْ كُنْتُمْ فِیْ رَیْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلٰی عَبْدِنَا فَاْتُوْا بِسُوْرَةٍ مِّنْ مِّثْلِهٖ وَ ادْعُوْا شُهَدَآءَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللهِ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ.

আমি আমার বান্দার ওপর যা নাযিল করেছি তা নিয়ে যদি তোমরা সামান্য সন্দেহেও থেকে থাক, তবে এর মতো একটি সূরা বানিয়ে নিয়ে আসো! আর তোমরা তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে (প্রয়োজনে) আহ্বান করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক! -সূরা বাকারা (২) : ২৩

তখনো তারা একটি ছোট্ট সূরাও হাজির করতে পারেনি। তখনো পারেনি, এ আধুনিক কালেও নয়। এ বৈশিষ্ট্যে পাক কুরআন অনন্য। মানুষের হেদায়েতের জন্যে সর্বশেষ নাযিলকৃত এ গ্রন্থকে সংরক্ষণের ভারও নিয়েছেন মহান রাব্বুল আলামীন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন-

اِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَ اِنَّا لَهٗ لَحٰفِظُوْنَ.

এ কুরআন আমিই নাযিল করেছি আর আমিই তা হেফাযত করব। -সূরা হিজ্র (১৫) : ৯

কুরআন আল্লাহর কালাম। নবী ও রাসূল হিসেবে হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে কয়টি মৌলিক দায়িত্ব ছিল, সেসবের মধ্যে অন্যতম- মানুষকে কুরআনের শিক্ষা প্রদান করা। পবিত্র কুরআনের ভাষ্য-

لَقَدْ مَنَّ اللهُ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ اِذْ بَعَثَ فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْ اَنْفُسِهِمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَكِّیْهِمْ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ .

আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছেন, যে তাঁর আয়াতসমূহ তাদের নিকট তিলাওয়াত করে, তাদেরকে পরিশোধন করে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৬৪

নবীর পরবর্তীতে যখন কেউ তাঁর দায়িত্ব আঞ্জাম দেবে, সে তো শ্রেষ্ঠ হবেই। উপরোক্ত হাদীসের বক্তব্যে কোনো অস্পষ্টতা নেই- যিনি প্রথমে কুরআনের শিক্ষার্থী হয়েছেন, এরপর কুরআনের শিক্ষক হয়েছেন, তিনি শ্রেষ্ঠ মানুষ।

শিক্ষকদের গুরুত্ব ও মর্যাদা এমনিতেই অতুলনীয়। আর সে শিক্ষা যদি হয় দ্বীন ও ইসলামের, আল্লাহ ও পরকালের, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষকদের মর্যাদা এভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন-

إِنّ اللهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَمَوَاتِ وَالأَرَضِينَ حَتّى النّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَى الحُوتَ لَيُصَلّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَاسِ الخَيْرَ.

সন্দেহ নেই, যিনি মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দেন, তার প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন। তাঁর ফেরেশতাকুল, আকাশসমূহ ও পৃথিবীর অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের ভেতরে থাকা পিঁপড়াও, এবং মাছও এ ব্যক্তির জন্যে দুআ করে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৬৮৫

আর এ শিক্ষক যদি সরাসরি কুরআনের শিক্ষক হন! কুরআনের ছোঁয়া তো যেখানেই লেগেছে, তা-ই মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বে অনুপম হয়ে আছে। রমযান মাস কুরআন নাযিলের মাস। মর্যাদার এ মাসের সঙ্গে অন্য কোনো মাসের তুলনা চলে! কুরআন নাযিল হয়েছে লাইলাতুল কদরে, আর এ এক রাতকে পবিত্র কুরআনেই ঘোষণা করা হয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে। তাই যিনি কুরআনের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, তিনি অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ হতেই পারেন।

এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ دَلّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ.

কেউ যখন কাউকে কোনো ভালো কাজের পথ দেখিয়ে দেয়, সে ব্যক্তি কাজটি করে যে সওয়াব পাবে, যে তাকে এর পথ দেখিয়ে দিল সেও অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১৩১

কুরআনের শিক্ষক যিনি, এ হাদীস অনুসারে তিনি কী বিপুল পরিমাণ পুণ্যের অধিকারী হবেন, তা ভাবতে গেলেও আমাদেরকে আগে জেনে নিতে হবে- এ কুরআন আমাদের জীবনের সঙ্গে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পালিত ইবাদতের সঙ্গে কতটা গভীরভাবে সম্পৃক্ত। প্রথমেই যে বিষয়টি আমাদের সামনে চলে আসে তা হল- কুরআন তিলাওয়াত আমাদের দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাযের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নফল হোক আর ফরজ হোক, প্রতিটি নামাযের প্রতি রাকাতেই আমাদের তিলাওয়াত করতে হয় এ কুরআন। নামাযে তিলাওয়াতের ন্যূনতম একটা পরিমাণ তো ফরয। এছাড়া নামাযে অধিক পরিমাণ তিলাওয়াতের জন্যে রয়েছে আরও অনেক পুরস্কার। যারা রাতে দিনে নফল নামাযে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকে, তাদের কথা ভিন্নভাবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আর শুধুই কুরআন তিলাওয়াত- তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। একটি হাদীস লক্ষ করুন-

لاَ حَسَدَ إِلاّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ عَلّمَهُ

اللهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَتْلُوهُ آنَاءَ اللّيْلِ وَآنَاءَ النّهَارِ فَسَمِعَهُ جَارٌ لَهُ فَقَالَ لَيْتَنِي أُوتِيتُ مِثْلَ مَا أُوتِيَ فُلاَنٌ فَعَمِلْتُ مِثْلَ مَا يَعْمَلُ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً فَهْوَ يُهْلِكُهُ فِي الْحَقِّ فَقَالَ رَجُلٌ لَيْتَنِي أُوتِيتُ مِثْلَ مَا أُوتِيَ فُلاَنٌ فَعَمِلْتُ مِثْلَ مَا يَعْمَلُ.

কেবল দুই ব্যক্তিকে নিয়েই হিংসা করা যায়- এক. যাকে আল্লাহ কুরআনের শিক্ষা দিয়েছেন আর সে তা রাত ও দিনের বিভিন্ন প্রহরে তিলাওয়াত করতে থাকে; তার প্রতিবেশী তার তিলাওয়াত শুনে আক্ষেপ করে- আমিও যদি তার মতো শিখতে পারতাম, তাহলে এমন আমল আমিও করতাম! আরেকজন, আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন আর সে সত্যের পথে তা ব্যয় করতে থাকে। (তাকে দেখে) অন্যরা বলে, আমারও যদি তার মতো সম্পদ থাকত, তাহলে আমিও এমন করতাম! -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০২৬

এ কুরআনই তো একমাত্র গ্রন্থ, যার শাব্দিক পাঠও ইবাদত, তা বুঝে হোক কিংবা না বুঝে। রয়েছে তিলাওয়াতের প্রতিটি হরফে হরফে নেকী লাভের ঘোষণা। তাও একেক হরফে দশটি করে-

مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا.

কুরআনের যে একটি হরফ পাঠ করল তার জন্যে রয়েছে একটি নেকী। আর একটি নেকী দশটি নেকীর সমান! -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৯১০

কুরআন পড়তে শেখার পর এভাবে যে আমল করবে, ফরয নামাযে তিলাওয়াত করবে, নফল নামাযে পড়বে, নামাযের বাইরে তিলাওয়াত করবে, বুঝে কিংবা না বুঝে, দেখে কিংবা না দেখে, তার আমলনামা কতটা সমৃদ্ধ হবে! বলার কথা হল, দিনে রাতে এভাবে আমল করে সে যে সওয়াব অর্জন করবে, যিনি তাকে কুরআন পড়তে শিখিয়েছেন, হাদীসের ভাষ্য অনুসারে এর সমপরিমাণ সওয়াব তার আমলনামায়ও যোগ হতে থাকবে। এ ধারা তো চলমান। মৃত্যুর মধ্য দিয়েও শেষ হয় না পুণ্যের এ ¯্রােত। হাদীসের কথা-

إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلّا مِنْ ثَلَاثَةٍ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ وَعِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ وَوَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ.

মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সকল আমলের দুয়ারই বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল এর ব্যতিক্রম- এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. উপকারী ইলম, তিন. তার জন্যে দুআ করে এমন নেক সন্তান। -সুনানে নাসাঈ, হাদীস ৩৬৫১

এ তো গেল শুধুই শাব্দিক তিলাওয়াতের কথা। এর বাইরে রয়ে গেছে কুরআন শিক্ষার বিশাল জগৎ। কুরআনকে নাযিলই করা হয়েছে মানুষের হেদায়েতের জন্যে, হক ও বাতিলের পরিচয় তুলে ধরার জন্যে, সত্য আর মিথ্যাকে স্পষ্ট করে দিয়ে আল্লাহর পথের সন্ধান দেবার জন্যে। আর কুরআনের হেদায়েত গ্রহণ করার জন্যে কুরআনের অর্থ, মর্ম ও ব্যাখ্যা বোঝার বিকল্প নেই।

পবিত্র কুরআনের মর্ম অনুধাবন করা, এর বিধানাবলি আহরণ করা- এ এক সুবিশাল সমুদ্র। শুধুই আরবী ভাষা শিখে কেউ যদি পবিত্র এ গ্রন্থের ব্যাখ্যা করতে শুরু করে, পদস্খলন তার অনিবার্য। কুরআনের ব্যাখ্যা ও তাফসীর করতে গেলে আরবী ভাষার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে হাদীস শরীফেরও। হাদীসকে বলাই হয় কুরআনের ব্যাখ্যা। পবিত্র কুরআনের ঘোষণা-

وَ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الذِّكْرَ لِتُبَیِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ اِلَیْهِمْ وَ لَعَلَّهُمْ یَتَفَكَّرُوْنَ.

আমি তোমার কাছে কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যেন মানুষের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা তাদের সামনে সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করতে পার এবং যেন তারা চিন্তা করে। -সূরা নাহল (১৬) : ৪৪

এমন আয়াত আরও আছে। মানুষকে তাই কুরআনের মর্ম কুরআনের বিধানাবলি কুরআনের শিক্ষা সম্পর্কে অবহিত করা ছিল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক দায়িত্ব। সঙ্গত কারণেই তাঁর মুখনিঃসৃত হাদীস সামনে রেখেই পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা করতে হবে। শুধু কি তাই, প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র জীবনটাকেও গড়ে তুলেছিলেন কুরআনের নির্দেশনা অনুসারে। এজন্যেই তো আমরা দেখি, সাহাবায়ে কেরাম যখন উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা.-এর কাছে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলেন তখন তিনি তাদেরকে খুবই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন-

كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْآنَ.

তাঁর আচরণ তো ‘কুরআন’! -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৫৩০২

পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা জানতে হলে তাই আমাদের জানতে হবে প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতও। তাঁর হাতে গড়া সাহাবায়ে কেরাম কতটা সময় নিয়ে কত গভীরভাবে কুরআন শিখতে চেষ্টা করেছেন এর একটা নমুনা আমরা পাই বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ ‘মুয়াত্তা’ থেকে। ইমাম মালেক রাহ. বর্ণনা করেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আট বছর ধরে কেবল সূরা বাকারাই শিখেছেন। (দ্র. মুয়াত্তা মালেক, হাদীস ৪৭৯)

কী আশ্চর্য! একজন মেধাবী বিচক্ষণ কুরাইশ বংশীয় তরুণ সাহাবী, জন্মগতভাবেই আরবীভাষী, প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুবই প্রিয় পাত্র, তিনি আট বছর সময় ব্যয় করেছেন এক সূরা বাকারা শেখার পেছনেই! আসলে কুরআনের জগৎ এমনই সুবিশাল। আমরা যদি একেবারে আক্ষরিক অর্থেও প্রথমোক্ত হাদীসটি নিয়ে ভাবি, তাহলে শ্রেষ্ঠত্বের এ কাতারে শামিল হবেন- যারা বাচ্চাদেরকে মক্তবে পবিত্র কুরআন বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে শেখান, যারা মসজিদে কিংবা মাদরাসায় বা অন্য কোথাও বয়স হয়ে যাওয়া মুসলমানদের কুরআন পাঠ শুদ্ধ করার খেদমত করছেন, হিফযখানায় যারা ছাত্রদের হাফেযে কুরআন হিসেবে গড়ে তুলছেন, যারা কুরআনের শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ তাজবীদ শেখান, যারা কুরআনের তাফসীর শেখান, কুরআনের অর্থ মর্ম ও ব্যাখ্যা শেখান, কুরআনের বিধান শেখান, এমন আরও অনেকেই-যারা সরাসরি কুরআনের সঙ্গেই যুক্ত। আর কুরআন বোঝার জন্যে, কুরআনের তাফসীর শেখার জন্যেই যেহেতু হাদীসের জ্ঞানার্জনও অপরিহার্য, তাই যারা হাদীসে নববীর পাঠদান করেন, সেরাদের কাতারে শামিল হবেন তারাও। যারা মানুষকে কুরআনে সরাসরি বর্ণিত কিংবা কুরআন থেকে আহরিত মাসায়েল শেখান, তারাও এ দলের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি যারা কুরআন শেখার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আরবী ভাষাজ্ঞানের শিক্ষা দেন, আরবী ব্যাকরণ শেখান, কুরআনের ভাষা-অলংকার বোঝার জন্যে বালাগাত শাস্ত্র শেখান, আরবী সাহিত্য শেখান, তাদেরকেও সেরাদের এ কাফেলা থেকে দূরে রাখার সুযোগ কোথায়! নামাযের জন্যেই যেমন ওজু জরুরি, ফলে নামাযের মতো ওজুও ফরয, তেমনি আরবী ভাষা-ব্যাকরণ-বালাগাত ইত্যাদি সবই তো কুরআন বোঝার জন্যেই। তাই কুরআনের শিক্ষকের যে মর্যাদা, তা সঙ্গত কারণেই ভাষাশিক্ষকেরাও লাভ করতে পারেন। আল্লাহর রহমতের ভা-ার যেখানে অসীম অফুরন্ত, সেখানে আমরা এমনটা আশা করতেই পারি।

21/04/2025

আল কুরআন কেন শিখব? কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
---------------------------------------------------------------------
১. কুরআন শিক্ষা ফরয : প্রত্যেক মুসলিমকে কুরআন পড়া জানতে হবে। যে নিজেকে মুসলিম হিসাবে দাবী করবে তাকে অবশ্যই কুরআন শিক্ষা করতে হবে। কুরআন শিক্ষা করা এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, আল্লাহ তা‘আলা কুরআন শিক্ষা করা ফরয করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
اقْرَ‌أْ بِاسْمِ رَ‌بِّكَ الَّذِي خَلَقَ ﴾ [العلق: ١

‘পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন’ [সূরা আলাক : ১]।

কুরআন শিক্ষায় কোন প্রকার অবহেলা করা যাবে না। উম্মাতকে কুরআন শিক্ষার নির্দেশ দিয়ে ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, «تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ ، وَاتْلُوهُ»

অর্থ:‘তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তিলাওয়াত কর’ [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ:৮৫৭২]।

২. সালাত আদায়ের জন্য কুরআন শিক্ষা: আল্লাহ তা‘আলা ঈমানদার বান্দাহদের উপর প্রতিদিন পাচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। কুরআন তেলাওয়াত ছাড়া সালাত আদায় হয় না। সালাত আদায় করার জন্যও কুরআন শিখতে হবে। কুরআনে বলা হয়েছে, ﴿ فَاقْرَ‌ءُوا مَا تَيَسَّرَ‌ مِنَ الْقُرْ‌آنِ﴾ [المزمل: ٢٠]

‘অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পড়’[সূরা আল-মুযযাম্মিল: ২০]।

এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ».

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি সূরা ফাতেহা পড়ে না তার সালাতই হয় না’। [সহীহ বুখারী:৭৫৬]

৩. কুরআন প্রচারের জন্য শিক্ষা করা : কুরআন মাজীদে কুরআন প্রচারের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে নির্দেশের আলোকে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরাম কুরআন প্রচার-প্রসারে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছেন। যে ব্যক্তি কুরআন পড়তে জানে না,সে কীভাবে তা প্রচার করবে?

সুতরাং কুরআন প্রচার-প্রসারে ভূমিকা পালন করার জন্য তা শিক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। কুরআনে বলা হয়েছে, ﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ بَلِّغْ مَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ﴾ [المائ‍دة: ٦٧] হে রাসূল, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার নিকট যা নাযিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দাও [সূরা মায়িদাহ : ৬৭]।

৪. কুরআন শিক্ষা অন্তরের প্রশান্তি : মানব জীবনে অর্থ বা অন্যান্য কারণে জাগতিক তৃপ্তি আসলেও প্রকৃত তৃপ্তি ও শান্তি কুরআন শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব। এজন্য কুরআনে বলা হয়েছে,

﴿ الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ‌ اللَّـهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ‌ اللَّـهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ ﴾ [الرعد: ٢٨]

যারা ঈমান আনে,বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে। জেনে রাখ,আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়’ [সূরা আর-রা‘দ:২৮]।

৫. হেদায়াত লাভের জন্য কুরআন শিক্ষা : কুরআনের মাধ্যমেই হেদায়াতের সন্ধান পাওয়া যাবে। সেজন্য কুরআন থেকে হেদায়াত পাবার জন্য কুরআন শিক্ষা করতে হবে । কুরআনে বলা হয়েছে,

﴿ إِنَّ هَـٰذَا الْقُرْ‌آنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ ﴾ [الاسراء: ٩]

‘নিশ্চয় এ কুরআন এমন পথ-প্রদর্শন করে,যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক’।[সূরা বনি-ইসরাঈল:০৯]

৬. জান্নাতে যাওয়ার জন্য কুরআন শিক্ষা: প্রত্যেক মুমিনের সর্বোচ্চ কামনা হলো জান্নাতে যাওয়া। তাই জান্নাতে যাওয়ার জন্য কুরআন শিক্ষা করতে হবে। হাদীসে এসেছে,

«اَلصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ الصِّيَامُ أَيْ رَبِّ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ وَيَقُولُ الْقُرْآنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ قَالَ فَيُشَفَّعَانِ»

সিয়াম ও কুরআন কিয়ামাতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, সিয়াম বলবে হে আমার রব, আমি দিনের বেলায় তাকে পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবূল কর।

অনুরূপভাবে কুরআন বলবে, হে আমার রব,আমাকে অধ্যয়নরত থাকায় রাতের ঘুম থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবূল কর। তিনি বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবূল করা হবে [মুসনাদ আহমাদ: ৬৬২৬]।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address

Dhaka
1000