ইতমাম সবাইকে প্রেশার মাপা শেখাচ্ছে
এমএসএইচ
বিএ (সম্মান) প্রথম শ্রেণি, এমএ (বাংলা) প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক প্রাপ্ত
31/07/2026
শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
04/07/2026
বাংলা দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্র
এইচএসসি ২৬
প্রবন্ধ রচনার জন্য চূড়ান্ত সাজেশন
1. বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা/ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা
2. মাদকাসক্তি ও তরুণ প্রজন্ম / যুদ্ধ নয় শান্তি/ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ
3. একুশের চেতনা/আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস/বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
4. কৃষি কাজে বিজ্ঞান/ বিদ্যুৎ ও আধুনিক জীবন/ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
5. স্বদেশপ্রেম/ শিষ্টাচার /অধ্যবসায়
02/07/2026
আজকের বাংলা প্রথম এমসিকিউ সমাধান
২রা জুলাই ২৬, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সকল এইচএসসি ২৬ পরীক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা।
তোমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:
১. পরীক্ষার আগের রাত ও সকাল:
- রাত ১১টার মধ্যে ঘুমাও। ৬-৭ ঘন্টা ঘুম না হলে মাথা কাজ করে না। শেষ রাতে নতুন কিছু পড়তে যেও না।
তবে পারলে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এক পলক দিয়ে যাও।
- দরকারি জিনিস আগেই গুছিয়ে রাখো: এডমিট কার্ড, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, কলম, পেনসিল, রাবার, স্কেল, ক্যালকুলেটর। ব্যাগে এক্সট্রা ২টা কালো কালির কলম রাখো।
- হালকা নাস্তা খাও। পেট ভরা কিন্তু ভারী না। খালি পেটে গেলে মনোযোগ থাকে না।
২. হলে ঢোকার ৩০ মিনিট আগে:
প্রথম দিন অবশ্যই ৪৫ মিনিট পূর্বে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
- যেহেতু পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে খাতা দিবে; তাই ৪০ মিনিট আগে হলে ঢুকো: লেট করলে টেনশন বাড়ে।
- প্রথম দিন সিট খুঁজে রোল-রেজিস্ট্রশন চেক করো।
- পরীক্ষার হলে ঢুকে গভীর শ্বাস নাও। ৩ বার লম্বা শ্বাস নাও, ছাড়ো। টেনশন ৫০% কমে যাবে।
৩. প্রশ্ন পাওয়ার পর ৫ মিনিট:
- পুরো প্রশ্ন ১ বার পড়ো: কোনটা সহজ, কোনটা কঠিন মার্ক করে নাও।
- টাইম ভাগ করে নাও:
MCQ ৩০/২৫ মিনিট, CQ ১৪৫ মিনিট, রিভিশন ৫ মিনিট।
- যেটা পারো সেটা আগে লিখো: কঠিন প্রশ্নে আটকে থাকলে সময় নষ্ট হবে।
৪. লেখার সময়:
- হাতের লেখা পরিষ্কার রাখো: টিচার বুঝতে না পারলে নাম্বার কাটবে।
- পয়েন্ট আকারে লিখো: বড় প্যারাগ্রাফের চেয়ে হেডিং-পয়েন্টে নাম্বার বেশি আসে।
সৃজনশীল ফরমেট অনুযায়ী প্যারা করে লিখ।
- চিত্র, ছক, উদ্ধৃতি , ফ্লোচার্ট দাও: বিজ্ঞান, ব্যবসা, মানবিক সব সাবজেক্টে এক্সট্রা মার্ক পাবে।
- সময় দেখো প্রতি ২০ মিনিটে: ঘড়ি না থাকলে হলের ঘড়ি দেখো।
৫. ভুল করলে/আটকে গেলে:
- কাটাকাটি কম করো: এক লাইন টেনে কেটে পাশে লিখো। ঘষামাজা করো না। খাতা পরিষ্কার রাখবে।
- একটা প্রশ্ন ছেড়ে দিলেও প্যানিক করো না: বাকিগুলো ভালো লিখলে কাভার হয়ে যাবে।
- ফাঁকা খাতা জমা দিও না: যেটুকু জানো লিখে দাও। আংশিক নাম্বার পাবে।
৬. খাতা জমা দেওয়ার আগে
- শেষ ৫ মিনিট রিভিশন: রোল-রেজি, মার্জিন, পেজ নাম্বার চেক করো।
- MCQ OMR শিট ভরাট করো: ভুল বৃত্ত ভরাট হলে OMR রিডার ধরবে না। লেখা অথবা বৃত্ত ভরাট যেকোনো একটি ঠিক থাকলে দুশ্চিন্তা করবে না।
- অতিরিক্ত পেজ নিলে প্রতিটি নম্বর দিয়ে নাও এবং মেইন খাতার সাথে ধারাবাহিক সেলাই করে নাও।
৭. নকল, মোবাইল, স্মার্ট ওয়াচ ও অননুমোদিত ক্যালকুলেটর হলে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
পরীক্ষার হলে শিক্ষকদের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করতে হবে। কোনো ভাবেই অসদাচারণ করা যাবে না।
কোনো প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে কান দিয়ে সময় নষ্ট করো না।
- সবচেয়ে বড় কথা: পরীক্ষা জ্ঞান যাচাই, জীবন না। একটা খারাপ হলে বাকিগুলো ভালো দাও। HSC এর পরও অনেক রাস্তা খোলা।
শুভকামনায়
মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন
সহকারী অধ্যাপক, বাংলা
বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা
"আলোর কুঠুরি" - পর্ব ২
বৃত্তি পেয়ে নাজমা মিরপুরের একটা ভালো স্কুলে ভর্তি হলো। দিনে স্কুল, রাতে মিলাদের বাসায় পড়াশোনা। মিলার মা বলেছিলেন, “যতদিন পড়বে, এটা তোমারও বাড়ি।”
এইচএসি-তে গোল্ডেন A+, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে চান্স। কিন্তু টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতে হতো। তখন ও বুঝল, গরিব বাচ্চারা শুধু টাকার অভাবে পড়তে পারে না। ওদের দরকার এমন কাউকে, যে বোঝে ওদের ভাষা, ওদের ভয়।
অনার্স শেষ করার দিন নাজমা একটা সিদ্ধান্ত নিল।
চাকরির জন্য ব্যাংক, কর্পোরেট সব ছেড়ে ও গেল স্লাম এরিয়ার একটা ছোটো স্কুলে। বেতন মাসে ৮ হাজার টাকা। বন্ধুরা হাসল, “ঢাবি পাশ করে এখানে?”
নাজমা শুধু হাসল।
প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকে দেখল, ৪০টা চোখ। সব চোখে একই ভয়, একই ক্ষুধা। ঠিক যেমন ওর ছিল ১০ বছর আগে।
ব্ল্যাকবোর্ডে বড়ো করে লিখল: “আমি নাজমা। একসময় আমিও তোমাদের মতো ছিলাম।”
ক্লাসে কেউ বিশ্বাস করল না।
একটা ছেলে বলল, “আপা মিথ্যা বলেন। আপনার জামা কত সুন্দর!”
নাজমা নিজের পুরনো ছেঁড়া জামাটা ব্যাগ থেকে বের করল। গ্রাম থেকে আনা, এখনো রেখে দিয়েছে।
“এটা আমার প্রথম জামা। ঢাকায় এসে ৩ বছর এটা পরে কাজ করেছি। আজ আমি তোমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কারণ আমি থামিনি।”
সেই দিন থেকে বাচ্চাগুলো আর পালায় না।
নাজমা শুধু অ-আ-ক-খ শেখায় না। শেখায় কীভাবে স্বপ্ন দেখতে হয়, কীভাবে রাতে ছাদে তাকিয়ে বলতে হয়, “আমি পারব।”
৫ বছর পর।
স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে স্টেজে ডাকা হলো হেডমিস্ট্রেস নাজমাকে।
মঞ্চে উঠে ও দেখল সামনের সারিতে বসে আছে মিলা, ওর স্বামী, আর ওদের ৬ বছরের মেয়ে। মেয়েটার নাম – *আলো*।
মিলা মাইকে বলল, “আমার মেয়ের নাম রেখেছি আলো, কারণ নাজমা আপা আমার জীবনের আলো। আজ ও হাজারটা আলোর জন্ম দিচ্ছে।”
নাজমা মাইক হাতে নিয়ে শুধু বলল,
“আমার বাবা-মা নেই। কিন্তু আজ আমার ৪০ জন সন্তান আছে।
ওদের চোখে আমি আমার বাবা-মাকে দেখি।
"আলোর কুঠুরি"
পর্ব ০১
রাত ১টা। ঢাকার এক ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে টিউবলাইটের আলোয় বসে আছে নাজমা। বয়স ১৪, কিন্তু চোখ দুটো যেন ৩০ বছরের ক্লান্তি বয়ে বেড়ায়।
তিন বছর আগে অতিমারি করোনায় হারিয়েছে বাবা-মাকে। গ্রামের চাচা ঢাকায় এনে বলেছিল, “বড়োলোকের বাসায় কাজ করলে ভাত-কাপড় মিলবে।”
মিলেছে। কিন্তু ভাতের সাথে মিলেছে বাসন মাজা, ঘর মোছা, সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দম ফেলার ফুরসত না পাওয়া।
আজ মালিকের মেয়ে, মিলা, স্কুল থেকে ফিরে ওকে দেখে বলল, “ নাজমা আপা, তুমি কাঁদছো কেন?”
নাজমা তাড়াতাড়ি চোখ মুছে হাসল। “কই কাঁদি? চোখে পিঁয়াজের ঝাঁজ লেগেছে।”
মিলা ওর হাত ধরল। “মিথ্যা বলো না। তুমি রাতে ছাদে গিয়ে আকাশ দেখো, আর বিড়বিড় করে কী যেন বলো। আমি শুনেছি।” নাজমা চুপ করে গেল। রাতে ও ছাদে যায়, কারণ ওখানে তারার ভিড়। গ্রামে মা বলত, “তারারা হলো মরা মানুষের বাতি। তোর বাবা-মা ওখান থেকে দেখছে।”
তাই ও প্রতিদিন বলে, “মা, আজ আমি একটা প্লেট কম ভেঙেছি। বাবা, আজ মালিক বকা দেয়নি। তোমরা ভালো আছো তো?”
মিলা ওকে জড়িয়ে ধরল। “কাল থেকে তুমি আমার সাথে পড়বে। মা বলেছে, তোমাকে স্কুলে ভর্তি করবে।”
নাজমার চোখে আবার জল এলো। এবার পিঁয়াজের জন্য না।
পরদিন সকালে নাজমা প্রথমবারের মতো কাজের ফাঁকে একটা পুরনো খাতা বের করল। ওর বাবা ওকে শিখিয়েছিল অ, আ, ক, খ। ভুলে যায়নি।
খাতার প্রথম পাতায় বড়ো করে লিখল: “আমি শিখব।”
বাড়ির বারান্দায় এক কোণে একটা ছোট কুঠুরি ছিল। সেখানে সারাদিন আলো ঢোকে না। আজ থেকে ওই কুঠুরির নাম হলো – আলোর কুঠুরি।
চলবে...
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Dhaka
1206