05/02/2023
B1-C2-Tips & Tricks
⭕ জীবজগতে 3 প্রকার কোষ বিভাজন দেখা যায়। যথা-
👉অ্যামাইটোসিস
👉মাইটোসিস
👉মায়োসিস
💠 যে সকল কোষে বিভাজন হয় না- প্রাণীদেহের স্নায়ুকোষ, পরিণত জননকোষ বা গ্যামেট (শুক্রাণু, ডিম্বাণু, হৃৎপেশী কোষ, পেশী কোষ, সকল রক্তকোষ (RBC, WBC, Platelets), উদ্ভিদের স্থায়ী কোষসমূহ
যে সকল কোষ দ্রুত বিভাজিত হয় - ভ্রূণ কোষ, মূল ও কান্ডের শীর্ষ, মেরিস্টেম কোষ।
💠 অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন -
কোনো কোনো এককোষী জীবের সংখ্যাবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং একমাত্র প্রক্রিয়া।
সংঘটন স্থানঃ ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, কতক ইস্ট (এককোষী বিশেষ করে আদিকোষী)
ব্যাকটেরিয়ার ছি-ভাজন প্রক্রিয়াও কতকটা অ্যামাইটোসিস এর মতোই বা সমার্থক।
💠 মাইটোসিস বা সমীকরণিক বা ইকোয়েশনাল কোষ বিভাজন
ক্যারিওকাইনেসিস - নিউক্লিয়াসের বিভাজন
সাইটোকাইনেসিস - সাইটোপ্লাজমের বিভাজন
মাইটোসিস নামে অভিহিত করেন- ওয়ালার ফ্লেমিং
সংঘটন স্থানঃ উদ্ভিদ ও প্রাণীর দৈহিক কোষে, যেমন: উদ্ভিদের কাণ্ড বা তার শাখা-প্রশাখার শীর্ষ, মূলের বর্ধিষ্ণু শীষ, ক্যাম্বিয়াম।
জীবদেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মাইটোসিস প্রক্রিয়ারই ফল।
জননাঙ্গের গঠন এবং বৃদ্ধিও মাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হয়ে থাকে।
এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ক্রোমোসোম লম্বালম্বিভাবে দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত হয়।
মাইটোসিসের ফলে একটি নিউক্লিয়াস থেকে দুটি নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।
অপত্য কোষগুলো মাতৃকোষের সমান সম্পন্ন হয়, কারণ জীবনের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রক (জিনসমূহ বহনকারী) ক্রোমোসোমগুলোর প্রতিটি
পদ্মালম্বিভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের নিউক্লিয়াসে যায়।
অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার সমান থাকে।
অপত্য কোষ বৃদ্ধি পেয়ে মোটামুটি মাতৃকোষের সমান আয়তনের হয়।
⭕ কোষচক্র
একটি কোষ সৃষ্টি, এর বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিভাজন- এ তিনটি কাজ যে চক্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাকে কোষ।
মানুষের ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টা, ইস্টের ক্ষেত্রে ১০ মিনিট।
একটি জেনেটিক প্রোগ্রাম দ্বারা কোষচক্র নিয়ন্ত্রিত হয়।
কোষ চক্র নিয়ন্ত্রণকারী দুধরনের প্রোটিন হচ্ছে:
1) প্রোটিন কাইনেজ, ii) সাইক্লিন
💠 দুটি অংশে বিভক্তঃ
১. ইন্টারফেজ (৯০-৯৫%) - ২ টি M ফেজ-এর মধ্যবর্তী অবস্থা
২. M ফেজ বা মাইটোসিস পর্ব সময় মাত্র (৫-১০%)
ইন্টারফেজ কে সাধারণত ৩টি উপ-পর্যায়ে ভাগ করা - G1, S এবং G2
👉G1=এই পর্যায়ের শুরুতেই সাইক্লিন নামক প্রোটিন তৈরি হয় যা Cdk-এর সাথে যুক্ত হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়ার গতি ত্বরান্বিত করে ও নিয়ন্ত্রণ করে। যে কোষটি বিভাজিত হবে না তা আমৃত্যু এই উপ-পর্যায়েই আরম্ভ হয়ে যায়।
👉S=এই উপ-পর্যায়ের প্রধান কাজ হলো নিউক্লিয়াসের কোমোসোমস্থ DNA সূত্রের প্রতিলিপন।
👉G2= এই উপ-পর্যায়ের প্রধান কাজ হলো মাইক্রোটিউবিউল গঠনকারী পদার্থ সংশ্লেষণ যা দিয়ে মাইটোসিস পর্যায়ে স্পিন্ডল তন্তু তৈরি হয়। G2 থেকে মাইটোসিস-এ প্রবেশ করতে হলে ম্যাচুরেশন প্রোমোটিং ফ্যাক্টর (MPF) প্রয়োজন হয়।
⭕মাইটোসিসের ৫ টি পর্যায় -
👉প্রোফেজ- প্রথম ও সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়, ক্রোমোসোমগুলো খাটো, মোটা ও স্পট হয়ে দৃষ্টিগোচর হয় এবং এর বৃদ্ধি পায়।
👉প্রো মেটাফেজ- স্পিন্ডল যন্ত্র গঠন শেষ হয়, প্রতিটি ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার একটি ক্রোমোসোমাল তন্তুর এর সাথে সংযুক্ত হয়। এ সময় ক্রোমোসোম একটু আন্দোলিত হয় যাকে ক্রোমোসোমীয় নৃতা বলে। ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার সংযুক্তকারী তত্ত্বকে ট্রাকশন ফাইবার বলে।
👉মেটাফেজ - এ পর্যায়ে ক্রোমোসোমগুলো কুন্ডলিত থাকায় সর্বাধিক খাটো এবং মোটা দেখায়। ক্রোমোসোমের মোটা ও খাটো হওয়ার, এ পদ্ধতিকে কন্ডেনসেশন (Condensation) বলে। একটি অতিমাত্রায় করেলিং প্রক্রিয়ায় এটি হয়ে থাকে বলে একে সুপার কয়েলিং বলে। মেটাকাইনেসিস ঘটে। ক্রোমোসোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে। এ পর্যায়ে কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আকৃতি নির্ণয় করা যায়।
👉অ্যানাফেজ - সেন্ট্রোমিয়ারের পূর্ণ বিভক্তির ফলে প্রতিটি ক্রোমাটিড একটি অপত্য ক্রোমোসোমে পরিণত হয়। প্রতিটি ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার মেরুর দিকে অগ্রগামী এবং বাহু দুটি পশ্চাদবর্তী থাকে। চলনশীল অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমোসোমকে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে V (মেটাসেন্ট্রিক), L (সাবমেটাসেন্ট্রিক) J (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) ও I (টেলোসেট্রিক) প্রভৃতি আকৃতির দেখায়। অপত্য কোমোসোমগুলো মেরুর কাছাকাছি পৌঁছালে এ ধাপের সমাপ্তি ঘটে।
⭕অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস
অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিসের ফলে টিউমার, ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।
P নামক প্রোটিন সাধারণত কোষকে বিভাজন হতে বিরত রাখে। এটি defective হলে কোষচক্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ফলে ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। মানুষের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক কোষেই defective p53 আছে। ক্যান্সার কোষ সইক্লিন Cdk এর নিয়ন্ত্রন নষ্ট।
টিউমার সৃষ্টি হওয়াকে বলা হয় Oncogenesis কোষ চক্র বিনষ্টকারী জিন হলো Oncogene বলে যে সব রাসায়নিক পদার্থ ক্যান্সার সৃষ্টিতে উৎসাহিত করে তাদেরকে বলা হয় Mutagens.
⭕কোষের মৃত্যু
২ টি উপায়ে কোষে মৃত্যু হয়-
👉Necrosis= পুষ্টির অভাব হলে অথবা বিষাক্ত দ্রব্যের কারণে ক্ষতি হলে কোষ মরে যায়।
👉Apoptosis= এটি হলো জেনেটিক্যালি নিয়ন্ত্রিত মৃত্যু। আমাদের দেহে প্রতিদিন যে লক্ষ লক্ষ কোষের মৃত্যু হয় তার অধিকাংশ রক্ত কোষ ও অন্ত্রের এপিথেলিয়াম লাইনিং কোষ।
⭕মায়োসিস
এই প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষ থেকে চারটি কোষ সৃষ্টি হয়।
নিম্নশ্রেনির জীবে মায়েসিস হয় নিষেকের পর জাইগোটে; আর উচ্চ শ্রেণির জীবে মায়োসিস হয় নিষেকের পূর্বে জনন মাতৃকোষে
ক্রোমোসোম মাত্র একবার বিভক্ত হয়।
কায়াজমা সৃষ্টি ও ক্রসিং ওভার হয় বলে হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের মধ্যে জিন বিনিময় ঘটে।
মায়োসিস হলো বৈচিত্র্য সৃষ্টির একটি উপায়।
মায়োসিস ২ ধাপে হয়= মায়োসিস ১ ও মায়োসিস ২
মায়োসিস ১= ক্রোমোসোম অর্ধেক হয়। ৪ টি পর্যায়ে বিভক্ত- প্রোফেজ-১, মেটাফেজ-১, এনাফেজ-১, টেলোফেজ-১
মায়োসিস ২= মায়োসিস-১ এ প্রাপ্ত ২টি অপত্য নিউক্লিয়াস পুনরায় মাইটোসিসের অনুরূপ পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে ৪ টি হ্যাপ্লয়েড কোষ বা নিউক্লিয়াস গঠন করে।
💠 প্রোফেজ-১ এর ৫ টি ধাপ।
👉লেপ্টোটিন - নিউক্লিয়াসের জলীয় অংশ হ্রাস পায়; প্রাণিকোষের সেন্ট্রোমিয়ারগুলো নিউক্লিওঝিল্লির একস্থানে জড়ো হওয়ায় একত্রে একে ফুলের তোড়ার মতো দেখায়। মাকে বুকে (Bouqet) বলে।
👉জাইগোটিন - সিন্যাপস হয়, জোড়বন্ধ দুটি সমসংস্থ ক্রোমোসোম একত্রে বাইভ্যালেন্ট নামে পরিচিত। প্রাণিকোষের ক্ষেত্রে সেন্ট্রিওলে বিষক্রিয়া সূচনা ঘটে।
👉প্যাকাইটিন- বাইভেলেন্টর প্রতিটি ক্রোমোসোম সেন্ট্রোমিয়ার অংশ ব্যতীত দৈর্ঘ্য বরাবর বিভক্ত হয়। এর ফলে প্রতিটি বাইভেলেন্ট থেকে চারটি ক্রোমাটিভের সৃষ্টি হয়। এই চারটি ক্রোমাটিডকে একত্রে ট্রেট্রাড বলে। একই ক্রোমোসোম হতে প্রাপ্ত দুটি ক্রোমাটিড পরস্পরের সিস্টার ক্রোমাটিড, আর ভিন্ন ক্রোমোসোম হতে প্রাপ্ত দুটি ক্রোমাটিড পরস্পরের ননসিস্টার ক্রোমাটিড নামে পরিচিত।
ননসিস্টার ক্রোমাটিডের জোড়াস্থলকে কায়াজমা (X- আকৃতির) বলে। ক্রোমোসোম অংশের বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বলে।
👉ডিপ্লোটিন - দশার শুরুতে হোমোলোগাস ক্রোমোসোমগুলোর সেন্ট্রোমিয়ার দুটির মধ্যে বিকর্ষণের ফলে বাইভেলেন্ট মধ্যে এক বা একাধিক স্থানে ফাঁস সৃষ্টি করে। দুই বা ততোধিক বাহু পরস্পর আবর্তনের ফলে পাশাপাশি লুপ ৯০ ডিগ্রী কোণে করে অবস্থান করে। একটি মাত্র কায়াজামা থাকলে এটি ১৮০ ডিগ্রী হতে পারে।
👉ডায়াকাইনেসিস - ক্রোমোসোমগুলো আরো বেশি খাটো এবং মোটা দেখায়।