21/07/2025
শিরোনাম: “নিস্পাপ স্বপ্নের ছাই হয়ে যাওয়া”
আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো দিন হয়ে থাকবে। একটিমাত্র মুহূর্তে সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেল। আকাশ থেকে আগুন ঝরে পড়ল, আর সেই আগুনে পুড়ে গেল একদল নিষ্পাপ শিশুর স্বপ্ন, একজন বীর পাইলটের জীবন আর হাজারো পরিবারের আশা।
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে তখন সকাল ক্লাস চলছিল। ছাত্রছাত্রীরা প্রার্থনা শেষে ক্লাসে বসেছিল। হঠাৎ এক ভয়ংকর শব্দ—আকাশ যেন ফেটে চৌচির হয়ে গেছে! মুহূর্তেই চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। একটা যুদ্ধবিমানের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ স্কুল প্রাঙ্গণে এসে পড়ে। বিস্ফোরণ, আগুন, আর কান্নার তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।
শিশুরা কিছুই বুঝে ওঠার আগেই তাদের উপর নেমে আসে মৃত্যু। ছোট ছোট হাত, যাদের হাতে বই থাকার কথা ছিল, সেগুলো পড়ে থাকে মাটিতে – ছিঁড়ে যাওয়া পৃষ্ঠার মাঝে লেগে থাকে রক্তের দাগ। ক্লাস থেমে যায়, শব্দ থেমে যায় – শুধু চলতে থাকে কান্না।
সেই শিশুদের একজন ছিল আরমান। মাত্র দশ বছর বয়স। সকালে হাসিমুখে মা'র হাতে হাত রেখে স্কুলে গিয়েছিল। বলেছিল, "আজ আমি নতুন কবিতা বলবো ক্লাসে।" সেই মুখ আজ নিস্তব্ধ। তার খালি স্কুলব্যাগ, রক্তমাখা খাতা আর চৌচির হয়ে যাওয়া ইউনিফর্ম যেন গোটা জাতিকে এক প্রশ্ন করছে – কেন?
পাইলটও একজন সাহসী সৈনিক ছিলেন। দুর্ঘটনার মুহূর্তে তিনি চেষ্টা করেছিলেন জনবহুল এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার, কিন্তু তার জীবনের বিনিময়েও সব রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তিনি শহীদের মর্যাদা নিয়ে বিদায় নিলেন – তাঁর আত্মত্যাগ জাতির শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। এমন দুর্ঘটনা কীভাবে হলো? কেনো একটা নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি তৈরী হলো শিক্ষার্থীদের জন্য? যারা এখনো স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, তাদের স্বপ্ন কেন ভেঙে গেল আগুন আর ধোঁয়ার মাঝে?
আজকের এই ঘটনা আমাদের কাঁদিয়েছে, নাড়িয়ে দিয়েছে ভেতর থেকে। যেন গোটা জাতির হৃদয়ে আগুন লেগেছে। আমরা হারিয়েছি কেবল কয়েকজন শিশু নয়, আমরা হারিয়েছি আগামী দিনের সম্ভাবনা।
আজকের দিনটি যেন আমাদের শিখিয়ে দেয় – নিরাপত্তা শুধু কথায় নয়, বাস্তবে প্রমাণ করতে হবে। যেন আর কোনো মা সন্তানের স্কুলব্যাগ বুকে জড়িয়ে কাঁদতে না বসে, যেন আর কোনো শিশু আকাশের দিকে তাকিয়ে ভয়ে চিৎকার না করে।
আমরা শোকাহত, আমরা কাঁদি... কিন্তু আমাদের জেগে উঠতেই হবে – দায় নিতে হবে, ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ এই নিস্পাপ মৃত্যুগুলো যেন আর কখনো না ঘটে।
---
লেখাটি উৎসর্গ করা হলো আজকের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সকল শিশু, পাইলট ও আহতদের প্রতি।