13/03/2025
লাইলাতুল কদর (শবে কদর) সম্পর্কে বহু হাদিস রয়েছে, যা এর গুরুত্ব ও ফজিলত প্রকাশ করে। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হাদিস দেওয়া হলো—
১. লাইলাতুল কদরের ফজিলত:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
(সহিহ বুখারি: ২০১৪, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)
২. লাইলাতুল কদর খোঁজার নির্দেশ:
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন:
"তোমরা রমজানের শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।"
(সহিহ বুখারি: ২০২০, সহিহ মুসলিম: ১১৬৯)
৩. লাইলাতুল কদরে দোয়ার গুরুত্ব:
আয়িশা (রা.) বলেছেন:
"আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি জানতে পারি যে কোন রাত লাইলাতুল কদর, তাহলে আমি কী দোয়া করব?"
তিনি বললেন, বলবে: "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।"
(অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাকে ক্ষমা করে দাও।)
(তিরমিজি: ৩৫১৩, ইবনে মাজাহ: ৩৮৫০)
৪. লাইলাতুল কদরের মর্যাদা:
আবু দরদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন:
"লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশ রাতের মধ্যে অবস্থিত। যে ব্যক্তি তা থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃত অর্থে সব ভালো থেকে বঞ্চিত হলো।"
(মুসনাদ আহমাদ: ২১৪৭৩)
লাইলাতুল কদর হল এমন এক রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (সূরা আল-কদর: ৩)। তাই এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও জিকির করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।