21/07/2025
সূরা আলে ইমরান, আয়াত ২৬ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর অর্থবহ আয়াত। এটি আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতা, রাজত্ব, দান-প্রদান এবং ইচ্ছানুযায়ী সম্মান ও অপমান করার ক্ষমতার বর্ণনা দেয়।
📖 আয়াতটি (আরবি):
قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاءُ وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
📜 বাংলা অনুবাদ:
বলুন, হে আল্লাহ! রাজত্বের মালিক! আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা তা কেড়ে নেন। যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। সব কল্যাণ আপনার হাতেই। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
🧠 এই আয়াতের ব্যাখ্যা / তাফসির:
1. "মালিকুল মুল্ক" অর্থাৎ রাজত্বের একমাত্র মালিক আল্লাহ:
আল্লাহই সমস্ত সৃষ্টির মালিক এবং তিনিই ঠিক করেন কে শাসন করবে এবং কে করবে না।
এটি কেবল দুনিয়ার রাজত্ব নয়, আখিরাতের রাজত্বও অন্তর্ভুক্ত।
2. "তু'তিল মুল্কা মান তাশা" — আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দেন:
রাজত্ব বা নেতৃত্ব কেবল বংশগৌরব বা যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে না। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দেন, কখনো সেটা পরীক্ষাও হতে পারে।
3. "ওয়া তানজিউল মুল্কা মিম্মান তাশা" — আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন:
ইতিহাসে আমরা দেখি কিভাবে অনেক রাজা বা জাতি পতিত হয়েছে। এটি আল্লাহর ইচ্ছায় হয়।
4. "তু'ইজ্জু মান তাশা ওয়া তুজিল্লু মান তাশা":
সম্মান ও অপমান কারো ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়; আল্লাহ যাকে চান সম্মান দেন, যাকে চান অপমান করেন।
5. "বিইয়াদিকাল খাইর" — সকল কল্যাণ আপনার হাতে:
দুনিয়ার বা আখিরাতের সব কল্যাণ আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। কেউ নিজের প্রচেষ্টায় কিছুই অর্জন করতে পারে না যদি আল্লাহ তা না চান।
6. "ইন্নাকা আলা কুল্লি শাই’ইন কাদির":
আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। কেউ তাঁকে বাধা দিতে পারে না।
🌿 আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়:
ক্ষমতা ও পদ কোনো স্থায়ী বস্তু নয়। এটা আল্লাহর দান এবং তিনিই যখন ইচ্ছা তা কেড়ে নিতে পারেন।
অহংকার করার কিছু নেই। কারণ সম্মান, নেতৃত্ব, অর্থ, সম্মান সবই আল্লাহর ইচ্ছায় আসে।
কাউকে হীনজ্ঞান করা উচিত নয়, কারণ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা উঁচু করেন।
আল্লাহর উপর ভরসা রাখা ও সব সময় তাঁর কাছে সম্মান, কল্যাণ ও নিরাপত্তা চাওয়া উচিত।