10/07/2025
আমদিয়া কৃষক শ্রমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের এই বছরের এসএসসি রেজাল্ট আগের বছরের তুলনায় ভয়াবহ রকম খারাপ। এটা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়—বরং বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অব্যবস্থাপনা, অযোগ্যতা আর দুর্নীতিরই ফল।
বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, শিক্ষাদানের মান কতটা নেমে গেছে। যারা শিক্ষকতায় নিযুক্ত, তাদের অনেকের মাঝেই নেই সেই আন্তরিকতা, যত্ন বা শিক্ষার্থী তৈরির দায়বোধ। পাঠদান যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা—আসল লক্ষ্যটা যেন হারিয়ে গেছে।
আরেকটি ভয়ংকর সত্য হলো—যারা ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়েছে, তারাই এখন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস সহকারী বা কেরানী হিসেবে কর্মরত। অথচ তারাই এখন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন!
এই ব্যক্তিরা শিক্ষক নন, তাদের নেই প্রশিক্ষণ, নেই যোগ্যতা। তবুও তারা শিক্ষার্থীদের পাঠ দিচ্ছেন—এটা কি শিক্ষা নয়, অপশিক্ষা? এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কিছু হতে পারে না।
এছাড়াও, সদ্য পাশ করা, কোনো রকম অভিজ্ঞতা বা প্রস্তুতি ছাড়াই কিছু তরুণকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আনা হচ্ছে। যাদের নিজস্ব দক্ষতাই তৈরি হয়নি, তারা কীভাবে অন্যদের গড়ে তুলবে?
আমরা, আমদিয়া স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে, এই ধ্বংসাত্মক অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই।
আমরা চাই—
- ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়া সব অযোগ্য কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক
- শিক্ষকের নাম ব্যবহার করে যারা ক্লাস নিচ্ছে, তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক
- যোগ্য, অভিজ্ঞ ও আন্তরিক শিক্ষক নিয়ে নতুন করে শ্রেণিকক্ষে গঠনমূলক পরিবেশ তৈরি হোক
- বিদ্যালয়ের মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হোক
আমরা নীরব থাকতে পারি না।
ঘুষে নয়, গুণে চাকরি হোক। শিক্ষাকে অপমান নয়, সম্মান দাও