24/07/2022
বেশ কয়েকবছর আগের ঘটনা। লন্ডনের রাস্তায় দূর্ঘটনার শিকার হলেন এক নারী। তাকে হাসপাতালে নেয়া হকো।সার্জারির জন্য দ্রুত স্থানান্তর করা হলো। সবকিছু ঠিকঠাক এগোচ্ছিলো, তারপরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এর কারণ জানতে কর্তব্যরত ডাক্তার তার মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখতে পান দুর্ঘটনার পর তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। ব্যাপারটি যদি সার্জারির আগে পরীক্ষা করা যেত, তবে হয়তো তাকে বাঁচানো যেত।
এটা কেবল অনেকগুলো ঘটনার একটি। এরকম অনেকগুলো ঘটনাকে একসাথ করলেই একটি নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করা যায়, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুপথযাত্রীর শরীরের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী কর্তব্য নির্ধারণ করা সহজ হবে। চিকিৎসাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারের ধারণা চলতি বছরগুলোতে বেশ আলোচিত হচ্ছে। সবার মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে আমাদের চিরায়ত ওষুধের ব্যবহার ও চিকিৎসা সেবার ধারণা বদলে যাবে।
ওষুধ গ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
চিকিৎসাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার মূলত এমন একটি ধারণা, যেখানে যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ নির্ণয় করে সেই অনুযায়ী সেবা দেয়া হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই হবে স্বয়ংক্রিয়, যেখানে ব্যবহৃত মেশিনের নিজে থেকেই শেখার ক্ষমতা থাকবে। আপাতদৃষ্টিতে পুরো জিনিসটি সরল মনে হলেও তেমনটা নয়, মূলত অনেকগুলো বিষয়কে একসাথে করে তবেই সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে। যেমন- সবার প্রথমেই একজন রোগীর সাক্ষাৎকার নেয়া হবে এবং পাশাপাশি কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা করা হবে।
তারপর প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর্ব চলবে। যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পর কোন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে সেটা নির্ধারিত হবে। চিকিৎসা পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান এবং মনিটরিংয়ের দায়িত্ব থাকবে এসব মেশিনের উপর। মেশিনগুলো একজন রোগীর রোগের ইতিহাস, বয়স, লিঙ্গ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল, সেনসিটিভিটি, ডিএনএ সিকোয়েন্স এবং অসংখ্য ক্যাটাগরির তথ্য মজুদ রাখবে। যে পরিমাণ তথ্য একজন মানুষের মনে রাখা সম্ভবের বাইরে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাথমিক ব্যবহার
চিকিৎসাক্ষেত্রে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার শুরু হতে পারে ইমেজিংয়ের ক্ষেত্রে। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত কতগুলো ইমেজিং হলো এক্সরে, ইসিজি, সিটি স্ক্যান, ইকোকার্ডিওগ্রাম, এমআরআই ইত্যাদি।©