29/08/2026
িভিউ
~নবীকে জানার যে তৃষ্ণা,
সে তৃষ্ণাই সিরাতের সুবাস~
কখনো কি মনে হয়েছে-যাঁকে ভালোবাসি, তাঁকে কি সত্যিই চিনি?
আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসি। তাঁর নাম শুনলে হৃদয় নরম হয়ে আসে, দরুদ পড়তে ইচ্ছে করে, তাঁর উম্মত হওয়ার গৌরব অনুভব করি। কিন্তু এই ভালোবাসাকে যদি সত্যিকার অর্থে গভীর করতে চাই, তাহলে শুধু আবেগ দিয়ে কি তা সম্ভব? প্রিয় মানুষকে তো জানতে হয়, তাঁর জীবনকে জানতে হয়, তাঁর হাসি-কান্না, দুঃখ-কষ্ট, সংগ্রাম, ধৈর্য, ক্ষমা, নেতৃত্ব, পরিবার, সাহাবিদের সঙ্গে সম্পর্ক -সবকিছু জানতে হয়।
আর আমাদের নবিজির জীবন তো কোনো সাধারণ মানুষের জীবন নয়। এটি এমন এক জীবন, যার প্রতিটি অধ্যায় উম্মতের জন্য শিক্ষা হয়ে আছে।
শৈশবের এতিম জীবন থেকে শুরু করে নবুয়তের পূর্ববর্তী পবিত্র জীবন, চল্লিশ বছর বয়সে ওহির আগমন, মক্কার নির্যাতন, দাওয়াতের কঠিন দিনগুলো, সাহাবিদের ওপর অত্যাচার, হিজরত, মদিনায় ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধ ও সন্ধি, বিজয়, ক্ষমা, পরিবার, সাহাবিদের সঙ্গে আচরণ, বিদায় হজ এবং শেষ জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত-সবকিছু মিলিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন যেন এক বিশাল শিক্ষা আমাদের জন্য।
আমাদের সমাজে ইসলামের ইতিহাস ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধ, জিহাদ, মক্কা বিজয় কিংবা ইসলামের বিস্তারকে অনেকে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার আলোকে বিচার করেন। অথচ পূর্ণাঙ্গ সিরাত অধ্যয়ন করলে বোঝা যায়-নবিজির পুরো জীবন ছিল দাওয়াত, ধৈর্য, ক্ষমা, প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ, মানবিকতা ও আল্লাহর ওপর অটুট ভরসার এক অনন্য শিক্ষা। সিরাতের আলোয় দাঁড়িয়ে অনেক প্রচলিত ভুল ধারণা আপনাআপনিই দূর হয়ে যায়।
একজন মুমিনের জন্য সিরাতচর্চা তাই বিলাসিতা নয়,প্রয়োজন। নবিজির জীবনকে যতই পড়ি, ততই মনে হয়-জানার এখনও কত বাকি! সাধারণ জীবনীতে যেখানে কেবল ঘটনাগুলো জানা হয়, গভীর সিরাতচর্চা সেখানে প্রতিটি ঘটনার পেছনের শিক্ষা, প্রেক্ষাপট, কারণ ও ফলাফল বুঝতে সাহায্য করে। হৃদয় তখন শুধু ঘটনা জানতে চায় না; বরং জানতে চায়-নবিজি কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন, কীভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কীভাবে মানুষকে ভালোবেসেছেন এবং কীভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও আল্লাহর ওপর আস্থা রেখেছেন।
সীরাতের অসংখ্য গ্রন্থের ভিড়ে ১১ খণ্ডের এই বিশাল সিরিজটি আমাকে বারবার নতুনভাবে সিরাতের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। একবার পড়ার পর শেষ হয়ে যায়-এমন বই এটি নয়। বরং যত পড়ি, তত নতুন তথ্য, নতুন বিশ্লেষণ ও নতুন উপলব্ধির দরজা খুলে যায়। সিরাতপ্রেমী পাঠকের পাশাপাশি ইতিহাস, সংস্কৃতি, আরব সমাজ, ইসলামের প্রাথমিক যুগ কিংবা ধর্মীয় জ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী যে কোনো পাঠকের জন্যই এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি সংকলন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানবজীবনের দলিল। তাঁর জন্ম, শৈশব, কৈশোর, ব্যবসায়িক জীবন, বিবাহ, নবুয়ত লাভ, দাওয়াত, নির্যাতন, হিজরত, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধ, সন্ধি, বিজয় এবং বিদায়-প্রতিটি অধ্যায়ের মধ্যেই রয়েছে অসংখ্য শিক্ষা। দুঃখের সময় কীভাবে ধৈর্য ধরতে হয়, বিপদের সময় কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, বিজয়ের মুহূর্তে কীভাবে বিনয়ী থাকতে হয়-এসব শিক্ষা নবিজির জীবন থেকেই সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে পাওয়া যায়।
তবে সিরাত লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যের বিশুদ্ধতা। নবিজির জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ঘটনা সামান্য পরিবর্তিত হলেও তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। সাহিত্যিক সৌন্দর্য বাড়াতে গিয়ে কখনো কখনো দুর্বল বর্ণনা, অপ্রমাণিত ঘটনা কিংবা অতিরঞ্জিত তথ্য বিভিন্ন গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। ফলে একজন সাধারণ পাঠকের জন্য কোন তথ্য নির্ভরযোগ্য আর কোনটি নয়-তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
'সীরাত বিশ্বকোষ'-এর অন্যতম বড় শক্তি এখানেই। কুরআনুল কারীম, বিশুদ্ধ হাদিস, নির্ভরযোগ্য তাফসির, পূর্ববর্তী সিরাতগ্রন্থ এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক ও গবেষণামূলক গ্রন্থের সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি জীবনীগ্রন্থ নয়; বরং গবেষণা, বিশ্লেষণ ও তথ্যনির্ভর সিরাতচর্চার একটি বড় আয়োজন।
📚প্রথম খণ্ড : সিরাত বোঝার ভিত্তিপ্রস্তর-
সাধারণ সিরাতগ্রন্থে আমরা শুরুতেই নবিজির জন্ম, শৈশব ও পারিবারিক জীবনের দিকে চলে যাই। কিন্তু ‘সীরাত বিশ্বকোষ’-এর প্রথম খণ্ডের পদ্ধতি একেবারেই আলাদা। এখানে প্রথমেই তুলে ধরা হয়েছে এই বিশাল সিরিজের সংকলনপদ্ধতি, গবেষণার ধারা, তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং বিষয়বিন্যাস।
এর পাশাপাশি আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, মক্কা-মদিনার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়, তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থা, প্রশাসন ও রাজত্ব, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন ধর্মের ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।ফলে নবিজির আবির্ভাবের সময়কার পৃথিবী ও আরব সমাজকে বোঝার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়। মনে হয়, সিরাত পড়ার আগে যেন আমাদের চোখের সামনে পুরো আরব উপদ্বীপের একটি জীবন্ত মানচিত্র তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।
📚দ্বিতীয় খণ্ড : নবিজির জন্ম থেকে নবুয়তের পূর্বক্ষণ-
দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরিচয় এবং তাঁর আবির্ভাবের পূর্ববর্তী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
তাঁর জন্ম, শৈশব, দুধমা হালিমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে থাকা, হারবুল ফিজার, হিলফুল ফুজুল, ব্যবসায়িক জীবন, ব্যবসার নীতি, খাদিজা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে বিবাহ, কাবা পুনর্নির্মাণ এবং নবুয়তের পূর্ববর্তী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে।
চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর জীবনকে বুঝে নেওয়ার পর পাঠক যখন নবুয়তের আলোড়িত অধ্যায়ে প্রবেশ করবেন, তখন পরবর্তী খণ্ডগুলোর ঘটনাগুলো আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব হবে।
📚তৃতীয় খণ্ড : নবুয়তের সূচনা ও মক্কার নির্যাতন-
নবুয়ত লাভের পর শুরু হয় এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়। গোপনে দাওয়াত, প্রকাশ্যে ইসলামের আহ্বান, আত্মীয়-স্বজন ও গোত্রের মানুষের বিরোধিতা, অপবাদ, নির্যাতন এবং সাহাবিদের ওপর অকথ্য অত্যাচার-সবকিছুই এখানে বিস্তৃতভাবে এসেছে।
মুশরিকদের নির্যাতনের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের কষ্ট, তাঁর ধৈর্য এবং সাহাবিদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার নানা দিক পাঠকের হৃদয়কে নাড়া দেবে।হাবাশায় হিজরত এবং মক্কার বাইরে ইসলামের প্রথম দাওয়াত পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ পাঠককে পরবর্তী খণ্ডের জন্য গভীর আগ্রহী করে তুলবে।
এখানে একটা বিষয় বারবার মনে হবে-এটি কোনো রোমাঞ্চকর কাহিনি নয়; এটি এমন একজন মানুষের জীবন, যিনি আমাদের না দেখেও আমাদের ভালোবেসেছেন। উম্মতের জন্য যার হৃদয়ে ছিল গভীর মমতা। তাঁর ভালোবাসার ঋণ কোনো শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
📚চতুর্থ খণ্ড : হিজরত, মদিনা ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা-
ইসরা ও মিরাজ, বাইয়াতে আকাবা, হিজরতের প্রস্তুতি, মদিনার পরিবেশ এবং মদিনায় ইসলামী সমাজ গঠনের সূচনা-চতুর্থ খণ্ডে এসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উঠে এসেছে।মক্কার প্রিয় ভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত নিছক স্থান পরিবর্তন ছিল না,এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসের এক নতুন সূচনা।
মসজিদে কুবা ও মসজিদে নববির নির্মাণ, মুহাজির-আনসারের ভ্রাতৃত্ব, আজানের সূচনা, ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন-সবকিছু মিলিয়ে মদিনার প্রথম সময়টি যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর কণ্ঠে আজানের সেই প্রথম দিনের স্মৃতি পড়তে গিয়ে মনে হয়, ইতিহাসের পাতায় নয়-আমরা যেন সেই সময়ের মদিনাতেই দাঁড়িয়ে আছি।
📚পঞ্চম খণ্ড : রোজা, যাকাত, কিবলা পরিবর্তন ও বদর-
এই খণ্ডে রোজা ও যাকাতের বিধান, কিবলা পরিবর্তন, মুমিনদের পরিচয়, জিহাদের বিধান ও প্রেক্ষাপট এবং বদর যুদ্ধের সূচনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আলোচিত হয়েছে।জিহাদের উদ্দেশ্য, সময়, প্রেক্ষাপট এবং ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা দিয়ে ইসলামের যুদ্ধনীতি বোঝা সম্ভব নয়; বরং তার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট জানা জরুরি।
বদরের প্রান্তরে সাহাবিদের আত্মত্যাগ যেমন হৃদয়কে উজ্জীবিত করে, তেমনি প্রিয় সাহাবিদের শাহাদাতের বেদনাও পাঠককে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
📚ষষ্ঠ খণ্ড : উহুদ ও কঠিন সময়-
মদিনায় স্থিতিশীলতা আসার আগেই মুসলিমদের সামনে একের পর এক পরীক্ষা উপস্থিত হয়। উহুদের ঘটনা সেই কঠিন বাস্তবতার অন্যতম বড় অধ্যায়।
যুদ্ধক্ষেত্রে ভুলের পরিণতি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সাহাবিদের ভালোবাসা, শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা এবং মুসলিম সমাজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা-সবকিছুই এখানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব, আত্মরক্ষার কৌশল এবং ঈমানি দৃঢ়তার নানা শিক্ষা এই খণ্ডকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।
📚সপ্তম খণ্ড : অপবাদ, আহযাব ও নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা-
সপ্তম খণ্ডে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার ওপর আরোপিত অপবাদ ও তাঁর পবিত্রতার প্রমাণ, বনু নাযিরের ঘটনা, আহযাবের যুদ্ধ, মুরাইসি ও খন্দকের অভিযান, বনু কুরাইযার ঘটনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে।
এই খণ্ডের বিশেষত্ব হলো-শুধু ঘটনাগুলো বলা হয়নি, বরং ঘটনাগুলোর অন্তর্নিহিত শিক্ষা, মানুষের মানসিকতা এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
📚অষ্টম থেকে একাদশ খণ্ড : বিজয়ের পথে
শেষের খণ্ডগুলোতে সিরাতের ঘটনাপ্রবাহ আরও বিস্তৃত ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে-
মদিনা সনদ, হুদায়বিয়ার সন্ধি, বিশ্বের বিভিন্ন শাসকের কাছে ইসলামের দাওয়াত, উমরাতুল কাযা, মুতার অভিযান, মক্কা বিজয়, হুনাইন, তায়েফ, তাবুক-একটির পর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে আসে।
বিশেষ করে হুদায়বিয়ার সন্ধির ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়-সব আপাতদৃষ্টিতে কঠিন সিদ্ধান্তই পরাজয়ের লক্ষণ নয়। কখনো সাময়িকভাবে পিছিয়ে আসাই ভবিষ্যতের বৃহত্তর বিজয়ের দরজা খুলে দেয়।
মক্কা বিজয়ের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমাশীলতা তাঁর মহান চরিত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর হুনাইন, তায়েফ ও তাবুকের ঘটনাগুলো বুঝিয়ে দেয়-ইসলামের ইতিহাসকে কেবল যুদ্ধের ইতিহাস হিসেবে দেখা কতটা অসম্পূর্ণ।
শেষে আসে বিদায় হজ এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐতিহাসিক বিদায় ভাষণ। তাঁর পৃথিবী থেকে বিদায়ের মুহূর্ত হৃদয়কে ভারী করে দেয়। কিন্তু তিনি রেখে গেছেন কুরআন ও তাঁর সুন্নাহ-যা কিয়ামত পর্যন্ত উম্মতের পথনির্দেশের উৎস হয়ে থাকবে।
📌‘সীরাত বিশ্বকোষ’ কেন আলাদা?
এই ১১ খণ্ডের সিরিজকে শুধু একটি জীবনীগ্রন্থ বললে এর ব্যাপ্তি অনেকটাই ছোট করে দেখা হবে। এটি একই সঙ্গে,সিরাতগ্রন্থ,গবেষণামূলক কাজ,ইতিহাসের দলিল,বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা,তথ্যভান্ডার,সচিত্র উপস্থাপনা।
কুরআন ও হাদিসভিত্তিক নবিজীবন অধ্যয়ন,
প্রতিটি খণ্ডে প্রচুর তথ্য, রেফারেন্স, ছবি, মানচিত্র ও বিশ্লেষণ রয়েছে। শুধু ছবিগুলো এবং তথ্যসূত্রগুলো দেখতে গেলেই বোঝা যায়, এর পেছনে কত দীর্ঘ পরিশ্রম রয়েছে।আমার কাছে এই সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও কুরআনের নাজিলের ঘটনাপ্রবাহকে পাশাপাশি বোঝার সুযোগ।কোন আয়াত কোন পরিস্থিতিতে নাজিল হলো, কোন ঘটনার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, সেই সময়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবিদের অবস্থা কী ছিল-এসব যখন একসঙ্গে জানা যায়, তখন কুরআন পড়ার অনুভূতিটাও যেন আরও গভীর হয়।অর্থাৎ, এখানে সিরাতের পাশাপাশি তাফসিরের স্বাদও পাওয়া যায়।
আমরা অনেক সময় নবিজির জীবনীকে কেবল কিছু ঘটনা হিসেবে পড়ি-জন্ম, নবুয়ত, হিজরত, যুদ্ধ, বিজয়, বিদায়। কিন্তু তাঁর জীবন আসলে এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু। তিনি ছিলেন একজন নবী, একজন শিক্ষক, একজন নেতা, একজন স্বামী, একজন পিতা, একজন রাষ্ট্রনায়ক, একজন দাঈ এবং সর্বোপরি আল্লাহর প্রিয় রাসুল।
তাঁর প্রতিটি ভূমিকার মধ্যেই আমাদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।
তাই সিরাত পড়া মানে শুধু অতীত জানা নয়,বরং বর্তমানকে সঠিক করার জন্য একটি আদর্শ খুঁজে নেওয়া।‘সীরাত বিশ্বকোষ’ পড়তে গিয়ে আমার বারবার মনে হয়েছে-নবিজিকে জানার কোনো শেষ নেই। একটি বই শেষ হতে পারে, একটি খণ্ড শেষ হতে পারে, এমনকি ১১ খণ্ডও শেষ হতে পারে; কিন্তু তাঁর জীবন থেকে শেখার বিষয় কখনো শেষ হবে না।
আমার কাছে তাই একটি বইয়ের তাকের সৌন্দর্য শুধু তার বাহ্যিক সাজে নয়। সেখানে যদি ‘সীরাত বিশ্বকোষ’-এর মতো একটি সিরিজ থাকে, তবে সেই তাকের সঙ্গে জ্ঞানেরও একটি বিশেষ সৌন্দর্য যুক্ত হয়।
যারা সিরাত পড়েননি, তাঁদের জন্য এটি শুরু করার একটি শক্তিশালী সুযোগ। আর যারা ইতোমধ্যে সিরাতপ্রেমী, তাঁদের জন্য এটি পাঠের জগৎকে আরও বিস্তৃত করার একটি অসাধারণ সংযোজন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসতে হলে তাঁকে জানতে হবে। আর তাঁকে জানতে হলে তাঁর জীবনকে গভীরভাবে পড়তে হবে।
📖বই পরিচিতি📖
সিরিজ : সীরাত বিশ্বকোষ
বিষয় : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণাঙ্গ জীবনী
ভাষা : বাংলায় অনূদিত
লেখক ও অনুবাদক : এক ঝাঁক বিশেষ আলেম ও গবেষকের বিচক্ষণ সম্পাদনায়
সংস্করণ : উন্নত সংস্করণ, ১–১১ খণ্ড
ফরম্যাট : হার্ডকভার
মুদ্রিত মূল্য : ১১,০০০৳
রেটিং : ৫/৫
🌹সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম🌹
Mst Rebaka Islam