26/06/2024
অনলাইন টিউশন এবং বাস্তবতা
অনেকের কাছে মনেহয়, অনলাইনে পড়ানো খুব সহজ একটা ব্যাপার, একবার স্টুডেন্ট পেলেই হয়! তবে বাস্তবতা একেবারে ভিন্ন। টিউশন পাওয়া যেমন আকাশের চাঁদ পাবার মত ব্যাপার আর পেলে কন্টিনিও করতে পারা।
প্রথমেই বলে রাখি, যাদের কখনো টিউশন করানোর অভিজ্ঞতা নেই, অফলাইনেও না, তারা প্রথমেই অনলাইনে ভালো করতে পারবেনা। টুকটাক শিক্ষকতা করছেন, অলরেডি কিছু অভিজ্ঞতা আছে পড়ানোর ; তারা আরেকটু শিখে নিলে অনলাইনে ভালো করতে পারবেন।
খুব সহজ তো নয়ই, বরং সামনা-সামনি পড়ানোর চেয়ে চ্যালেঞ্জিং। কারণ?
নেটওয়ার্ক এবং ডিভাইস : ভালো একটা ল্যাপটপ এবং ফোন লাগবেই। সাথে লাগবে ভালো নেটওয়ার্ক কানেকশন। ব্যাক আপ কানেকশন রাখতে হবে ইলেক্ট্রিসিটি/ নেট না থাকলে।
যারা ম্যাথ, সাইন্স ক্লাস করান, তাদের গ্রাফিক্স ট্যাবলেট জরুরী। সাথে ভালো ইয়ার ফোন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস।
কমিউনিকেশন স্কিল : অনলাইন টিচারের কমিউনিকেশন স্কিল খুব ভালো হতে হয়। স্টুডেন্ট এর গলা শুনেই আপনাকে তার পেটের খবর বুঝতে হবে এরকম আর কি! স্টুডেন্ট ঠিক কথা বলছে কিনা, ফাকি মারছে কিনা, অনেক সময় বোঝা কঠিন। গার্ডিয়ানের সাথে রেগুলার যোগাযোগ রাখতে হয়, বাচ্চার ট্রাকে রাখতে আরো বিভিন্ন কৌশল জানতে হয়। এসব অনেক কিছুই সামনা-সামনি পড়ানোর সময় লাগেনা।
টাইম ম্যানেজমেন্ট : অফলাইনে টিউশনি করালে, রাস্তায় জ্যাম, বৃষ্টি, হরতাল এরকম নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনলাইনে সমস্যা, মহিলা হলে ঘর, বাচ্চা সামলে সময়মতো ক্লাসে জয়েন করা। ঝিমাতে ঝিমাতে, ঘুম চলে আসলে বিপদ! এর সাথে নেটওয়ার্ক এর সমস্যা তো আছেই। ডিভাইস গুলোকে চার্জ দিয়ে রাখা সহ অন্যান্য ব্যাবস্থা করে রাখা।
আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, অনলাইন টিউশন এর একটা বড় অংশ দেশের বাইরের স্টুডেন্ট। এরা প্রবাসী বাংগালী। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাচ্চারা পড়ে। ওদের টাইমের সাথে মিল রেখে সময় নির্ধারিত হয়। কখনো এমন হতে পারে, একটা স্টুডেন্ট এর টাইম বাংলাদেশ থেকে ২ ঘন্টা আগানো আবার আরেকজনের ৩ ঘন্টা পেছানো। কখনো ভোরবেলা পড়াতে হয়, কখনো বেশ রাতে!
মিডিয়া চার্জ : এসব টিউশন কোনটাই আপনি মিডিয়া ছাড়া পাবেন না। কখনো কখনো পরিচিত লোকের মাধ্যমে হয়, এরকম ছাড়া। মিডিয়া চার্জ ৪০% থেকে ৬০% পর্যন্ত হতে পারে। কেউ কেউ মাসের স্যালারি পাবার আগেই চার্জ দাবি করে, কেউ পরে। তবে সেটা দিতে হবেই। এখানে দুই নাম্বারি আছে কিছু, তবে বুদ্ধি খাটিয়ে নিতে পারলে ঠকার সুযোগ কম।
কারিকুলাম : আগেই বলেছি, অনলাইন টিউশন বেশিরভাগ ই দেশের বাইরের। বোঝাই যায়, ওদের ইংরেজিতে পড়াতে হয়, এবং আর ওখানে ইংলিশ মিডিয়াম এর কারিকুলাম ফলো করে; এডেক্সেল, ক্যাম্ব্রিজ অথবা ঐ দেশের নিজস্ব কোনটা। ব্যাপারটা খুব কঠিন না, বিশেষ করে যাদের এই কারিকুলামের জ্ঞান আছে। অথবা কিছুটা পরিশ্রম করলেও পারা যায়। কিছু ইংলিশ ভার্শনের স্টুডেন্ট আছে, আর অল্প স্টুডেন্ট আছে বাংলা মিডিয়ামের।
স্যালারি : অনেকের ধারণা, অনলাইন টিউশন অনেক কম খরচে বাচ্চা পড়ানো যায়। প্রথমেই ডিভাইস আর নেটওয়ার্ক এর কথা বলেছি। এগুলো ফিক্সড খরচ। আর অনলাইনে বাচ্চাদের ফুল সাপোর্ট দেয়া যায়। এক্সামের আগে যেকোনো সময় সাপোর্ট অফলাইন টিচার কখনো দিবেনা।
আর অনলাইনে যিনি ভালো পড়ান, তিনি অবশ্যই অফলাইনে অভিজ্ঞ টিচার। অভিজ্ঞতা আর দক্ষতা থাকলে ভালো স্যালারি পাওয়া যায়।
আর স্যালারি কোন ক্লাসের, কি কি বিষয়, কয়দিন, কত সময়, কোন কারিকুলাম/ মিডিয়ায়ম ফলো করছে এসবের উপরেও নির্ভর করে।
*সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় : অনলাইনে বা অফলাইনে যে মাধ্যমেই পড়ানো হোক, টিচারের দক্ষতা, স্ট্রং একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, যে বিষয় পড়াচ্ছেন সে বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকা সবচেয়ে জরুরী। এর সাথে টেকনোলজি ব্যবহার করতে পারা, পর্দার ওপাশে থেকে নিজের জ্ঞানকে বাচ্চার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারা, দায়িত্বশীল আচরণ করা এসব গুরুত্বপূর্ণ।
স্টুডেন্ট পর্দার ওপাশে কি করে এপাশে বসে বোঝা কঠিন। অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নেই। কিছু উল্লেখ করতে পারলাম, আরও অনেক বিষয় আছে।
*কোথায় পাবো অনলাইন / অফলাইন টিউশন?
*মিডিয়া কি ট্রাস্ট করবো?
*কিভাবে resume বানাবো?
*কত টাকা ডিমান্ড করলে গার্ডিয়ান রাজি হবে?
*স্টুডেন্ট ধরে রাখার কৌশল.... ইত্যাদি...