27/12/2025
মুজতাহিদ ইমাম তথা ফকীহ গনের মর্যাদা ও লা মাজহাবীদের হিংশা বিদ্ধেশতা ।
একটি ঘটনা মনে পড়ল। এক বাদশার দরবারে এক কবি বাদশার প্রশংসা করে কবিতা শুনালে বাদশা খুশি হয়ে এক হাজার টাকা পুরস্কার দেয়। এতে মন্ত্রী নাখোশ হয়ে বলে-“রাজা মশাই! আপনি তাকে একটি কবিতার জন্য পুরো এক হাজার টাকা দিয়ে দিলেন? টাকাটা ফেরত নিন”। রাজা মশাই বললেন-“তাকে টাকা দিয়ে আবার ফেরত নিতে আমার লজ্জা লাগছে। তুমি এক কাজ কর, তুমি তাকে বল তুমি তাকে একটি প্রশ্ন করবে সে যদি সুন্দর উত্তর না দিতে পারে তাহলে তার টাকা ফেরত নেয়া হবে”।
তখন মন্ত্রীকে কবিকে ডাক দিয়ে বলল-“কবি! এদিকে আস! তোমার কাছে আমার একটি প্রশ্ন আছে। সঠিক উত্তর না দিতে পারলে তোমার টাকা ফেরত দিয়ে দিতে হবে”। কবি বলল-“বলুন! আপনার কি প্রশ্ন?”।
মন্ত্রী বলল-“তুমি বল রাজার মাথায় কেন টাক পড়ল?”
কবি ঝটপট বলল-“রাজা মশাই আমার মত ব্যক্তিদের উপহার দিতে দিতে মাথায় টাক পরে গেছে”। এই কথা শুনে রাজা খুব খুশি হলেন। কবিকে আরো এক হাজার টাকা পুরস্কার দিলেন।
মন্ত্রী এবার আরো দিশেহারা হয়ে গেল। কবিকে বলল-“আমার আরেকটি প্রশ্ন আছে। সেটার সঠিক জবাব না দিতে পারলে তোমাকে দেয়া টাকা ফেরত নেয়া হবে”। কবি বলল-বলেন”। মন্ত্রী বলল-“তোমরা মাথায় টাক পড়ল কেন?” কবি বলল-রাজার মত মহানুভব ব্যক্তির দান গ্রহণ করতে করতে আমার মাথায় টাক পরে গেছে”। রাজা এই কথাও খুব খুশি হল। আরো এক হাজার টাকা কবিকে দান করলেন।
মন্ত্রী এবার মরিয়া হয়ে বলল-“কবি এবার আমার একটি শেষ প্রশ্ন আছে। সেটার জবাব না দিতে পারলে তোমাকে দেয়া সকল টাকা ফেরত নেয়া হবে”। কবি বলল-বলেন”। মন্ত্রী বলল-“তাহলে আমার মাথায় কেন টাক পড়ল?। কবি মুচকি হেসে জবাব দিল-“মহানুভব রাজা আমার মত ব্যক্তিদের দান করেন, আর আমার মত গুনিরা তা গ্রহণ করতে দেখে দেখে আপনি হিংসায় হাত কচলাত কচলাতে টাক হয়ে গেছেন”। কবির এই কথায়ও রাজা খুব খুশি হলেন। তাকে আরো এক হাজার টাকা হাদিয়া দিলেন”। মন্ত্রী শুধু হায়! হায় করেই গেল। কোন ফায়দা লুঠতে পারলনা। দাতা দিতেই রইল। আর গ্রহীতা নিতেই আছে। আর হিংসুক শুধু জ্বলতেই রইল।
তেমনি আল্লাহ তায়ালা ফক্বীহদের মর্যাদা দিয়েছেন। আর ইমাম আবু হানীফা রহঃ গ্রহণ করেছেন। ইমাম মালিক রহঃ গ্রহণ করেছেন। ইমাম শাফেয়ী রহঃ গ্রহণ করেছন। ইমাম আহমাদ রহঃ গ্রহণ করেছেন। আর গায়রে মুকাল্লিদরা শুধু শুধু হিংসা করে জ্বলতেই আছে।
ফিক্বহ আক্বলকে বলে, সুতরাং ফিক্বহের যারা বিরোধিতা করে আল্লাহ তায়ালা তার থেকে আক্বলকে ছিনিয়ে নেন। আল্লাপহ তায়ালা ফুক্বাহাদের উপর সন্তুষ্ট আর শয়তান রাগাম্বিত।
শয়তান কেন নারাজ জানেন? কারণ হল দ্বীনের মাঝে তিনটি বিষয় ছিল। যাতে শয়তান হস্তক্ষেপ করার জন্য উদগ্রিব ছিল। যখন ওসব পথ বন্ধ করে দেয়া হল, তখন যারা বন্ধ করে দিল তাদের প্রতি শয়তান রেগে গেল।
প্রথম নাম্বার হল হাদীস সংরক্ষণের বিষয়। শয়তান চেয়েছিল রাসূল সাঃ এর হাদীসকে গড়বড় করে মিথ্যা হাদীসকে হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলতে। তখন মুহাদ্দিসীনদের এক জামাত দাঁড়িয়ে গেল। যারা মেহনত করে হাদীস যাচাই বাছাই করার জন্য এমন কিছু মূলনীতি সাব্যস্ত করলেন, এবং তা সংরক্ষণের জন্য প্রচেষ্টা করলেন যে, সহীহ হাদীস বাতিল হাদীস থেকে মুক্ত হয়ে গেল। এই কারণে শয়তান মুহাদ্দিসীনদের উপর রাগাম্বিত।
আর দ্বিতীয় বিষয় হল-হাদীসের মূল অর্থকে সংরক্ষণ করা। আরবীতে এক শব্দের একাধিক অর্থ আছে। যেমন সালাত শব্দের অর্থ এক স্থানে নামায, আরেক স্থানে রহমত। আরেক স্থানে দরূদ ও সালাম। শয়তান চাইল এই সকল অর্থ মানুষ কোন স্থানে কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে তার সঠিক অর্থ মানুষ না জানলে বিভ্রান্ত হওয়া সহজ। নামাযের অর্থবোধক স্থানে বলা হবে দরূদ। দরূদের স্থানে রহমত ইত্যাদী। কিন্তু ফুক্বাহায়ে কিরাম তা হতে দেননি। তারা গবেষণা করে হাদীসের সঠিক অর্থ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
তৃতীয় বিষয় হল একাধিক হাদীদের মাঝে বাহ্যিক যে বিরোধ রয়েছে তা নিরসন করে সঠিক অর্থ বের করা। কিন্তু শয়তান চাইল বিরোধপূর্ণ হাদীস নিজের অবস্থানে থাকলে মানুষ ভুল আমল করে বিভ্রান্ত হবে। তাই সে এটা কামণা করছিল যে, মানুষকে হাদীসের ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে ফেলা হবে যে, হাদীস পরস্পর বিরোধী, সুতরাং কোন হাদীসই আমলযোগ্য নয়। কিন্তু ফুক্বাহায়ে কিরাম যখন পরস্পর বিরোধী হাদীসের মাঝে গবেষণা করে হাদীসের সঠিক অর্থ এবং আল্লাহ ও তারা রাসূলের মূল মাকসাদকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন তখন শয়তান নারাজ হয়ে গেছে ফুক্বাহাদের উপর।
নবীজী সাঃ যখন কুরআনের ব্যাখ্যা করেন তখন তা হয় হাদীস। আর সাহাবায়ে কিরাম ও আয়িম্মায়ে দ্বীন যখন কুরআন সুন্নাহর মাসআলা থেকে মাসআলা বের করেন গবেষণা করে সেটা হয় ফিক্বহ।
সুতরাং যেহেতো শয়তানের একটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছেন মুহাদ্দিসীনরা। আর ফুক্বাহারা শয়তানের ২টি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাই শয়তান ফুক্বাহাদের উপর এতটা ক্ষ্যাপা। কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদরা কেন ফক্বীহদের উপর এতটা রাগাম্বিত শয়তানের মত?
ছবিটা দেখে কিছু বলে যাবেন আশা করি