18/05/2026
মাধ্যমিক জীববিজ্ঞানের ৩য় অধ্যায় (কোষ বিভাজন)-এর ওপর তোমার দেওয়া জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর নিচে সহজ এবং নির্ভুলভাবে তৈরি করে দেওয়া হলো। এগুলো তোমার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দারুণ কাজে দেবে।
# # জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর
**১। অ্যামাইটোসিস কী?**
> যে জটিল ও ধারাবাহিক পর্যায় ছাড়াই একটি মাতৃকোষ সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য (নতুন) কোষ সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলে। (যেমন: ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট)।
>
**২। ইন্টারফেজ কী?**
> কোষ বিভাজনের একটি পর্যায় শেষ হওয়ার পর পরবর্তী বিভাজন শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী প্রস্তুতিমূলক সময়কে ইন্টারফেজ বলে।
>
**৩। সাইটোকাইনেসিস কী?**
> কোষ বিভাজনের সময় মাতৃকোষের সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সাইটোকাইনেসিস বলে।
>
**৪। ক্যারিওকাইনেসিস কী?**
> কোষ বিভাজনের সময় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসের বিভাজন প্রক্রিয়াকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে।
>
**৫। ইন্টারকাইনেসিস কী?**
> মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় মিয়োসিস-১ এবং মিয়োসিস-২ এর মধ্যবর্তী সংক্ষিপ্ত প্রস্তুতিমূলক পর্যায়কে ইন্টারকাইনেসিস বা সাইটোকাইনেসিস-১ পরবর্তী বিরতি পর্যায় বলে।
>
**৬। আকর্ষণ তন্তু কী?**
> মাইটোসিস বা মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ ও মেটাফেজ পর্যায়ে স্পিন্ডল যন্ত্রের যে সমস্ত তন্তুর সাথে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার যুক্ত থাকে, সেগুলোকে আকর্ষণ তন্তু বা ক্রোমোজোমাল তন্তু বলে।
>
**৭। বিষুবী অঞ্চল কী?**
> স্পিন্ডল যন্ত্রের দুই মেরুর ঠিক মধ্যবর্তী বরাবর স্থানটিকে বিষুবী অঞ্চল বা নিরক্ষীয় অঞ্চল বলা হয়। মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো এখানে অবস্থান করে।
>
**৮। মেটাকাইনেসিস কী?**
> মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মেটাফেজ পর্যায়ে স্পিন্ডল যন্ত্রের আকর্ষণ তন্তুর টানে ক্রোমোজোমগুলোর বিষুবী অঞ্চলে বিন্যস্ত বা জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে মেটাকাইনেসিস বলে।
>
**৯। অ্যাস্টার রে (Aster ray) কী?**
> প্রাণী কোষের বিভাজনের সময় সেন্ট্রিওল দুটি থেকে চারদিকে বিচ্ছুরিত আলোক রশ্মির মতো যে তন্তু বা রশ্মি নির্গত হয়, তাকে অ্যাস্টার রে বলে। এটি স্পিন্ডল যন্ত্র গঠনে সাহায্য করে।
>
**১০। ক্রোমোজোম কী?**
> কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত, অনুলিপন ক্ষমতাসম্পন্ন, রংগ্রাহী যে সুত্রাকার অঙ্গাণু বংশগতীয় বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং কোষের সব বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে।
>
# # অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর
# # # ১। মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কেন?
**উত্তর:** মাইটোসিস কোষ বিভাজনে একটি সমগুণসম্পন্ন মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোজোম উভয়ই মাত্র একবার করে বিভক্ত হয়। এর ফলে সৃষ্ট অপত্য (নতুন) কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা, আকার, আয়তন এবং গুণাগুণ হুবহু মাতৃকোষের সমান থাকে। যেহেতু অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমীকরণ বা সমান হয়, তাই মাইটোসিসকে সমীকরণিক (Equational) বিভাজন বলা হয়।
# # # ২। মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?
**উত্তর:** মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় কোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুইবার এবং ক্রোমোজোম মাত্র একবার বিভক্ত হয়। এর ফলে উৎপন্ন চারটি অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক (হ্রাস পায়) হয়ে যায়। যেমন- মাতৃকোষ 2n (ডিপ্লয়েড) হলে অপত্য কোষ হয় n (হ্যাপ্লয়েড)। ক্রোমোজোমের সংখ্যা এভাবে অর্ধেক হ্রাস পাওয়ার কারণে মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক (Reductional) বিভাজন বলা হয়।
# # # ৩। ক্যান্সার কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা কর।
**উত্তর:** ক্যান্সার সৃষ্টির মূল কারণ হলো কোষের অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস কোষ বিভাজন।
সাধারণত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিন এবং জিন দ্বারা অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত থাকে। কিন্তু কোনো কারণে (যেমন: মিউটেশন, কার্সিনোজেনিক কেমিক্যাল, বা প্যাপিলোমা ভাইরাসের E6 ও E7 জিনের প্রভাবে) যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রোটিনগুলো নষ্ট হয়ে যায়, তবে কোষগুলো অস্বাভাবিক ও দ্রুত গতিতে বিভাজিত হতে থাকে। এই অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের ফলে শরীরের ওই অংশে টিউমার তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে এই টিউমারই মারাত্মক ক্যান্সারে রূপ নেয়।
# # # ৪। ইন্টারফেজ বলতে কী বোঝ?
**উত্তর:** একটি কোষ একবার বিভাজিত হওয়ার পর পরবর্তী বিভাজনের জন্য প্রস্তুত হতে যে সময় নেয়, তাকে ইন্টারফেজ বা প্রস্তুতিমূলক পর্যায় বলে।
একটি কোষের জীবনচক্রের প্রায় ৯০-৯৫% সময় এই পর্যায়ে ব্যয় হয়। এ সময় কোষে ডিএনএ (DNA) অনুলিপন হয়, প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও আরএনএ (RNA) সংশ্লেষিত হয় এবং বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) তৈরি হয়। এই প্রস্তুতি ছাড়া কোষ পরবর্তী বিভাজনে প্রবেশ করতে পারে না।
# # # ৫। ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয় কেন?
*(নোট: প্রশ্নে 'ভৌতবিদ্যালয়' লেখাটি সম্ভবত টাইপিং ভুলের কারণে 'ভৌত ভিত্তি' হবে)*
**উত্তর:** জীবের বংশগতীয় বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরের জন্য ক্রোমোজোম প্রধান ভূমিকা পালন করে।
ক্রোমোজোমের মধ্যেই ডিএনএ (DNA) এবং জিন (Gene) অবস্থান করে, যা জীবের গায়ের রঙ, চোখের রঙ, বুদ্ধিমত্তা, আচরণ ইত্যাদি সমস্ত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। পিতা-মাতা থেকে এই ক্রোমোজোমগুলোই গ্যামেটের (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) মাধ্যমে সন্তানের দেহে স্থানান্তরিত হয়। যেহেতু ক্রোমোজোম সরাসরি বংশগতির উপাদানগুলোকে সশরীরে বহন করে নিয়ে যায়, তাই একে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়।
# # # ৬। প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলতে কী বোঝ?
**উত্তর:** প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলতে 'অ্যামাইটোসিস' কোষ বিভাজনকে বোঝায়, যেখানে কোনো জটিল মধ্যবর্তী পর্যায় (যেমন: স্পিন্ডল যন্ত্র তৈরি বা ক্রোমোজোমের জটিল বিন্যাস) ছাড়াই কোষ বিভাজিত হয়।
এই প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি প্রথমে ডাম্বেলের আকার ধারণ করে এবং মাঝখানে সংকুচিত হয়ে সরাসরি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একই সাথে সাইটোপ্লাজমও মাঝ বরাবর সংকুচিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে। আদি কোষ বা এককোষী জীবে অত্যন্ত দ্রুত বংশবৃদ্ধির জন্য এই প্রত্যক্ষ বিভাজন ঘটে।
জীববিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় (**জীবনীশক্তি**) এর আলোকে তোমার দেওয়া জ্ঞানমূলক, পূর্ণরূপ এবং অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর নিচে সুন্দর ও সহজভাবে সাজিয়ে দেওয়া হলো। তোমার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এটি বেশ সাহায্য করবে।
# # জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
**১। জৈব মুদ্রা:**
কোষের ভেতরে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সচল রাখার জন্য যে অণু শক্তি জমা রাখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি সরবরাহ করে, তাকে জৈব মুদ্রা বলে (যেমন: ATP)।
**২। ফসফোরাইলেশন (Phosphorylation):**
অর্গানিক বা ইনঅর্গানিক ফসফেটের সাথে অন্য কোনো যৌগের (যেমন: ADP) যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ফসফোরাইলেশন বলে।
**৩। ফটোফসফোরাইলেশন (Photophosphorylation):**
সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরে ADP-এর সাথে অজৈব ফসফেট (P_i) যুক্ত হয়ে ATP তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলে।
**৪। শক্তি মুদ্রা:**
ATP (Adfenosine Triphosphate) অণুকে শক্তি মুদ্রা বলা হয়, কারণ এটি কোষের যাবতীয় বিপাকীয় কাজের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে সরবরাহ করে।
**৫। সালোকসংশ্লেষণ:**
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ আলোর উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO_2) এবং পানির (H_2O) বিক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন (O_2) নির্গত করে, তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
**৬। জীবনীশক্তি (Bioenergy):**
জীবদেহে বা কোষে প্রতিনিয়ত যে শক্তি রূপান্তরিত হয়ে বিভিন্ন জৈবনিক কাজ পরিচালনা করে, সেই শক্তির মূল রূপ বা উৎসকেই জীবনীশক্তি বলে।
**৭। ফটোলাইসিস বা পানির সালোকবিভাজন:**
সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে সূর্যের আলো এবং ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি ভেঙে হাইড্রোজেন (H^+), ইলেকট্রন (e^-) এবং অক্সিজেন (O_2) উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে ফটোলাইসিস বলে।
**৮। শ্বসন:**
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষস্থিত জটিল খাদ্যবস্তু (যেমন: গ্লুকোজ) অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে শক্তি (ATP), কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন করে, তাকে শ্বসন বলে।
**৯। গ্লাইকোলাইসিস:**
শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ, যেখানে এক অণু গ্লুকোজ (C_6H_{12}O_6) বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে দুই অণু পাইরুভিক এসিড (C_3H_4O_3), চার অণু ATP (নিট ২ অণু) এবং দুই অণু NADH+H^+ উৎপন্ন করে, তাকে গ্লাইকোলাইসিস বলে।
**১০। ডিফসফোরাইলেশন (Dephosphorylation):**
কোনো যৌগ (যেমন: ATP) থেকে ফসফেট গ্রুপ বা অণু অপসারিত বা বিমুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ডিফসফোরাইলেশন বলে (যেমন: ATP ভেঙে ADP তৈরি হওয়া)।
**১১। কো-এনজাইম (Co-enzyme):**
এনজাইমের প্রোটিন অংশের সাথে যখন কোনো অপ্রোটিন জৈব যৌগ সাময়িকভাবে যুক্ত হয়ে এনজাইমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, তখন তাকে কো-এনজাইম বলে (যেমন: NAD, FAD)।
**১২। পাইরুভিক এসিডের সংকেত:**
পাইরুভিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত হলো **CH_3COCOOH** (বা আণবিক সংকেত: **C_3H_4O_3**)।
# # পূর্ণরূপ (Abbreviation)
* **ADP:** Adenosine Diphosphate
* **AMP:** Adenosine Monophosphate
* **ATP:** Adenosine Triphosphate
* **NADP:** Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate
* **NADPH+H:** Reduced Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate
* **FADH+H:** Reduced Flavin Adenine Dinucleotide
* **GTP:** Guanosine Triphosphate
* **CAM:** Crassulacean Acid Metabolism
# # অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
# # # ১। সালোকসংশ্লেষণকে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয় কেন?
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় একই সাথে জারণ ও বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় মাটি থেকে শোষিত **পানি (H_2O) জারিত হয়ে** অক্সিজেন (O_2) গ্যাস উৎপন্ন করে এবং বায়ুমণ্ডল থেকে গৃহীত **কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO_2) বিজারিত হয়ে** শর্করা বা গ্লুকোজ (C_6H_{12}O_6) তৈরি করে। যেহেতু জারণ ও বিজারণ একই সাথে ঘটে, তাই সালোকসংশ্লেষণকে একটি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয়।
# # # ২। ATP কে রিচার্জেবল ব্যাটারির সাথে তুলনা করা হয় কেন?
মোবাইল বা টর্চের ব্যাটারি যেমন চার্জ ফুরিয়ে গেলে আবার রিচার্জ করে ব্যবহার করা যায়, ATP-ও ঠিক সেভাবে কাজ করে। কোষের বিভিন্ন বিক্রিয়ায় শক্তি লাগলে ATP ভেঙে শক্তি নির্গত করে এবং ADP-তে পরিণত হয় (ডিসচার্জ)। আবার খাদ্য জারণ বা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হলে সেই শক্তি গ্রহণ করে ADP আবার ATP-তে পরিণত হয় (রিচার্জ)। এই চক্রাকার পরিবর্তনের ক্ষমতার কারণেই ATP কে রিচার্জেবল ব্যাটারির সাথে তুলনা করা হয়।
# # # ৩। ATP কে জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয় কেন?
খাদ্য জারণ বা সূর্যালোক থেকে প্রাপ্ত শক্তি কোষে সরাসরি ব্যবহৃত হতে পারে না। এই শক্তি প্রথমে ATP অণুর ফসফেট বন্ধনীর মধ্যে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে জমা হয়। জীবদেহের যেকোনো জৈবনিক কাজ যেমন— চলন, রেচন, বৃদ্ধি বা কোষ বিভাজনের জন্য শক্তির প্রয়োজন হলে কোষ ATP ভেঙে সেই শক্তি খরচ করে। অর্থাৎ, কোষে শক্তি জমা রাখা এবং খরচ করার মাধ্যম হিসেবে ATP ঠিক টাকার বা মুদ্রার মতো কাজ করে। এজন্য একে জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলে।
# # # ৪। সালোকসংশ্লেষণে ক্লোরোফিলের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য ক্লোরোফিল অপরিহার্য উপাদান। ক্লোরোফিলের মূল কাজ হলো সূর্য আলোক রশ্মির ফোটন কণা শোষণ করে নিজে সক্রিয় হওয়া এবং পানির ফটোলাইসিসে সাহায্য করা। উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণ ও গঠন ঠিক থাকলে সালোকসংশ্লেষণের হার ভালো হয়। তবে পাতায় খুব বেশি ক্লোরোফিল তৈরি হলে বা এনজাইমের অভাব হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। নতুন ক্লোরোফিল গঠনের জন্য উদ্ভিদে পর্যাপ্ত লৌহ ও ম্যাগনেসিয়ামের প্রয়োজন হয়।
# # # ৫। সালোকসংশ্লেষণে আলোর প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
আলো ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব, কারণ আলোর উপস্থিতিতেই আলোক-নির্ভর পর্যায় সম্পন্ন হয়। আলোর উপস্থিতিতে পাতার পত্ররন্ধ্র খোলে, যা বাতাস থেকে CO_2 গ্রহণে সাহায্য করে। আলো পানিকে ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরি করতে (ফোটোলাইসিস) উদ্দীপনা যোগায়। আলোর তীব্রতা একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হার বাড়ে, তবে খুব বেশি তীব্র আলো ক্লোরোফিলকে নষ্ট করে দেয়, ফলে সালোকসংশ্লেষণ কমে যায়। সাধারণত দৃশ্যমান আলোর লাল, নীল, কমলা ও বেগুনি আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়।
# # # ৬। জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি কেন?
জলজ উদ্ভিদে স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি হওয়ার প্রধান কারণ দুটি:
* **কার্বন ডাই-অক্সাইডের সহজলভ্যতা:** বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ প্রায় ০.০৩%, কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ প্রায় ০.৩%, যা বায়ুমণ্ডলের চেয়ে অনেক বেশি।
* **ত্বকীয় শোষণ:** জলজ উদ্ভিদ তাদের সমগ্র দেহত্বক দিয়ে সরাসরি পানি এবং পানিতে দ্রবীভূত CO_2 শোষণ করতে পারে, যা তাদের সালোকসংশ্লেষণের গতি বাড়িয়ে দেয়।
# # # ৭। সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের মধ্যে পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | সালোকসংশ্লেষণ | শ্বসন |
|---|---|---|
| **১. সংঘটনের স্থান** | শুধুমাত্র ক্লোরোফিলযুক্ত কোষে ঘটে। | উদ্ভিদের সব সজীব কোষে (সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়া) ঘটে। |
| **২. সময়** | আলোর উপস্থিতিতে কেবল দিনের বেলায় ঘটে। | দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই অনবরত ঘটে। |
| **৩. শক্তির রূপান্তর** | আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে স্থৈতিক শক্তি হিসেবে জমা হয়। | স্থৈতিক শক্তি ভেঙে গতিশক্তি ও তাপে রূপান্তরিত হয়। |
| **৪. কাঁচামাল ও উপজাত** | কাঁচামাল CO_2 ও পানি; উপজাত উপাদান অক্সিজেন। | কাঁচামাল খাদ্য ও অক্সিজেন; উপজাত CO_2 ও পানি। |
| **৫. শুষ্ক ওজন** | উদ্ভিদের শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায় (গঠনমূলক প্রক্রিয়া)। | উদ্ভিদের শুষ্ক ওজন হ্রাস পায় (ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া)। |
# # # ৮. সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসনের মধ্যে পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | সবাত শ্বসন | অবাত শ্বসন |
|---|---|---|
| **১. অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা** | মুক্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ঘটে। | মুক্ত অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ঘটে। |
| **২. খাদ্যের জারণ** | খাদ্যবস্তু (গ্লুকোজ) সম্পূর্ণ জারিত হয়। | খাদ্যবস্তু আংশিক বা অসম্পূর্ণভাবে জারিত হয়। |
| **৩. উৎপাদিত পদার্থ** | কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। | ইথাইল অ্যালকোহল বা ল্যাকটিক এসিড, CO_2 ও স্বল্প শক্তি উৎপন্ন হয়। |
| **৪. শক্তির পরিমাণ** | এক অণু গ্লুকোজ থেকে ৩৮টি (বা ৩৬টি) ATP উৎপন্ন হয়। | এক অণু গ্লুকোজ থেকে মাত্র ২টি ATP উৎপন্ন হয়। |
| **৫. স্থান** | সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়া— উভয় স্থানে ঘটে। | সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কেবল সাইটোপ্লাজমে ঘটে। |
জীববিজ্ঞান বইয়ের ১১শ অধ্যায় (**"জীবের প্রজনন"**) থেকে আপনার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর নিচে সহজ ও নিখুঁতভাবে তৈরি করে দেওয়া হলো:
# # জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর
**১। ফুল কী?**
> **উত্তর:** প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ বিটপকে (Shoot) ফুল বলে।
>
**২। পুষ্পাক্ষ কী?**
> **উত্তর:** ফুলের বোঁটার শীর্ষে অবস্থিত যে চ্যাপ্টা বা গোলাকার অংশের ওপর ফুলের স্তবকগুলো সাজানো থাকে, তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
>
**৩। সিনজেনেসিয়াস বা যুক্তধানী কী?**
> **উত্তর:** কোনো ফুলের পুংকেশরগুলোর পরাগধানীগুলো যখন পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে কিন্তু পুংদণ্ডগুলো মুক্ত থাকে, তখন সেই অবস্থাকে সিনজেনেসিয়াস বা যুক্তধানী বলে (যেমন: সূর্যমুখী)।
>
**৪। যোজনী (Connective) কী?**
> **উত্তর:** পরাগধানীর খণ্ড দুটি যে বন্ধনী বা টিস্যু দ্বারা পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে, তাকে যোজনী বলে।
>
**৫। পুষ্পমঞ্জুরী কী?**
> **উত্তর:** গাছের শাখার শীর্ষে বা পত্রকক্ষে ফুলসহ শাখার একটি বিশেষ নিয়মে সাজানো থাকার ব্যবস্থাকে পুষ্পমঞ্জুরী বলে।
>
**৬। পরাগায়ন কী?**
> **উত্তর:** ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু একই ফুলে বা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।
>
**৭। গর্ভযন্ত্র কী?**
> **উত্তর:** ডিম্বকের ভ্রূণথলির ভেতরে গর্ভমুণ্ডের দিকে অবস্থিত একটি বড় ডিম্বাণু এবং এর দুপাশে থাকা দুটি সহকারী কোষকে একত্রে গর্ভযন্ত্র বলে।
>
**৮। নিষেক কী?**
> **উত্তর:** পুংগ্যামেট (শুক্রাণু) ও স্ত্রীগ্যামেটের (ডিম্বাণু) স্থায়ী মিলন বা ফিউশনের প্রক্রিয়াকে নিষেক (Fertilization) বলে।
>
**৯। দ্বিনিষেক কী?**
> **উত্তর:** একই সময়ে একটি পুংগ্যামেটের ডিম্বাণুর সাথে মিলন (নিষেক) এবং অপর পুংগ্যামেটের গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলন (ত্রিমিলন) ঘটার প্রক্রিয়াকে দ্বিনিষেক বলে।
>
**১০। শস্যকলা কী?**
> **উত্তর:** দ্বিনিষেক প্রক্রিয়ায় একটি পুংগ্যামেট ও ট্রিপ্লয়েড গৌণ নিউক্লিয়াসের মিলনের ফলে যে ট্রিপ্লয়েড (3n) টিস্যু তৈরি হয় এবং যা পরবর্তীতে ভ্রূণের পুষ্টি জোগায়, তাকে শস্যকলা বলে।
>
**১১। অপ্রকৃত ফল কী?**
> **উত্তর:** গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ (যেমন: পুষ্পাক্ষ, দলমণ্ডল ইত্যাদি) পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয়, তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে (যেমন: আপেল, চালতা)।
>
**১২। ভিন্নবাসী উদ্ভিদ কী?**
> **উত্তর:** যে সমস্ত উদ্ভিদে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা আলাদা উদ্ভিদে জন্মায়, অর্থাৎ পুরুষ গাছ ও স্ত্রী গাছ সম্পূর্ণ পৃথক হয়, তাদের ভিন্নবাসী উদ্ভিদ বলে (যেমন: পেঁপে, তাল)।
>
**১৩। ক্লীব ফুল কী?**
> **উত্তর:** যে ফুলে পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক দুটির কোনোটিই উপস্থিত থাকে না, অর্থাৎ যা প্রজননে অক্ষম, তাকে ক্লীব ফুল বলে।
>
# # অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর
# # # ১। জবাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয় কেন?
**উত্তর:** যে উদ্ভিদে পুরুষ ও স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ একই ফুলের মধ্যে অথবা একই গাছের আলাদা ফুলে অবস্থান করে, তাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয়।
জবা ফুল একটি সম্পূর্ণ এবং উভলিঙ্গ ফুল। একই জবা ফুলের মধ্যে পুংস্তবক (যা পরাগরেণু তৈরি করে) এবং স্ত্রীস্তবক (যা ডিম্বাণু তৈরি করে) উভয়ই বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ, প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় উভয় লিঙ্গ একই উদ্ভিদে অবস্থান করায় জবাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয়।
# # # ২। ধানকে বায়ুপরাগী ফুল বলা হয় কেন?
**উত্তর:** ধানের পরাগায়ন বাতাসের মাধ্যমে ঘটে বলে একে বায়ুপরাগী ফুল বলা হয়।
ধান ফুলের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বায়ুপরাগায়নের অনুকূল। ধান ফুলগুলো আকারে ছোট, বর্ণহীন ও গন্ধহীন এবং এদের কোনো মধুগ্রন্থি থাকে না, যা পতঙ্গকে আকর্ষণ করে না। এদের পরাগরেণুগুলো খুব হালকা ও প্রচুর পরিমাণে তৈরি হয় যাতে বাতাসে সহজে ভাসতে পারে। এছাড়া ধানের গর্ভমুণ্ড পালকের মতো এবং আঠালো হওয়ায় বাতাস থেকে সহজেই পরাগরেণু ধরতে পারে।
# # # ৩। আপেলকে অপ্রকৃত ফল বলা হয় কেন?
**উত্তর:** সাধারণত নিষেকের পর কেবল গর্ভাশয়টি রূপান্তরিত হয়ে ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। কিন্তু গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্য কোনো অংশ ফলে পরিণত হলে তাকে অপ্রকৃত ফল বলে।
আপেলের ক্ষেত্রে ফুলের গর্ভাশয়টি ফলে রূপান্তরিত হয় না; বরং ফুলের গোড়ার চ্যাপ্টা অংশ বা পুষ্পাক্ষটি (Thalamus) রসালো ও মাংসল অংশে পরিণত হয়, যা আমরা ফল হিসেবে খাই। যেহেতু আপেলের মূল ভক্ষ্য অংশটি গর্ভাশয় থেকে তৈরি হয় না, তাই আপেলকে অপ্রকৃত ফল বলা হয়।
# # # ৪। দ্বিনিষেক বলতে কী বোঝ?
**উত্তর:** সপুষ্পক উদ্ভিদের ভ্রূণথলির ভেতরে প্রায় একই সময়ে দুটি নিষেচন ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াকে দ্বিনিষেক বলে।
পরাগনালিকা ভ্রূণথলিতে পৌঁছানোর পর দুটি পুংগ্যামেট মুক্ত করে। এর মধ্যে একটি পুংগ্যামেট 👎 ডিম্বাণুর 👎 সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n) তৈরি করে। ঠিক একই সময়ে অপর পুংগ্যামেটটি 👎 ভ্রূণথলির কেন্দ্রে থাকা গৌণ নিউক্লিয়াসের (2n) সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3n) শস্য নিউক্লিয়াস গঠন করে। এই দুটি মিলন একসাথে ঘটে বলেই একে দ্বিনিষেক বলা হয়।
# # # ৫। পেঁপে গাছে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় কেন?
**উত্তর:** পেঁপে গাছ একটি ভিন্নবাসী উদ্ভিদ, অর্থাৎ এর পুরুষ গাছ ও স্ত্রী গাছ সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে পেঁপে গাছে সবসময় **পর-পরাগায়ন** ঘটে।
পর-পরাগায়নের কারণে একটি পেঁপে গাছের পরাগরেণু অন্য একটি পেঁপে গাছের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে দুটি ভিন্ন জিনগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদের গ্যামেটের মিলন ঘটে। জিনের এই নতুন বিন্যাস বা ক্রসিং ওভারের কারণে এদের বংশধরদের মধ্যে জিনের আদান-প্রদান ঘটে, যার ফলে উৎপন্ন নতুন পেঁপে গাছে নতুন বৈশিষ্ট্যের বা ভ্যারিয়েশনের সৃষ্টি হয়।
# # # ৬। স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়নের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
| বৈশিষ্ট্য | স্ব-পরাগায়ন | পর-পরাগায়ন |
|---|---|---|
| **সংজ্ঞা** | একই ফুলে বা একই গাছের দুটি ভিন্ন ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটলে তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। | একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটলে তাকে পর-পরাগায়ন বলে। |
| **মাধ্যমের নির্ভরতা** | এতে পরাগায়নের জন্য বাহক বা মাধ্যমের ওপর তেমন নির্ভর করতে হয় না। | এতে পরাগায়ন পুরোপুরি বাতাস, পানি বা কীটপতঙ্গের মতো বাহকের ওপর নির্ভরশীল। |
| **পরাগরেণুর অপচয়** | পরাগরেণুর অপচয় খুব কম হয়। | পরাগরেণুর অপচয় অনেক বেশি হয়। |
| **নতুন বৈশিষ্ট্য** | নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয় না এবং প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। | নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয় এবং উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ে। |
| **উদাহরণ** | সর্ষে, ধুতুরা, টমেটো ইত্যাদি। | পেঁপে, শিমুল, তাল ইত্যাদি। |
# # # ৭। ধুতুরাকে সম্পূর্ণ ফুল বলা হয় কেন?
**উত্তর:** যে ফুলে একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকই (পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) উপস্থিত থাকে, তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে।
ধুতুরা ফুলের ক্ষেত্রে এই পাঁচটি স্তবকের সবকটিই সুন্দরভাবে বিদ্যমান থাকে। এর বোঁটার ওপরে পুষ্পাক্ষ থাকে, সবুজ রঙের বৃতি থাকে, আকর্ষক সাদা বা বেগুনি পাপড়ি বা দলমণ্ডল থাকে এবং প্রজননের জন্য পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক উভয়ই উপস্থিত থাকে। কোনো স্তবকই অনুপস্থিত না থাকায় ধুতুরাকে সম্পূর্ণ ফুল বলা হয়।
১. **বংশগতিবিদ্যা (Genetics):** জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জিনের গঠন, কাজ, বংশপরম্পরায় বৈশিষ্ট্য সঞ্চারণের প্রক্রিয়া এবং প্রকরণ বা মিউটেশন নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়, তাকে বংশগতিবিদ্যা বলে।
২. **বংশগতি (Heredity):** পিতামাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ যে প্রক্রিয়ায় সন্তান-সন্ততির দেহে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলে।
৩. **জিন (Gene):** জীবের বংশগতির মৌলিক ভৌত ও কার্যকারক একক, যা ক্রোমোজোমে অবস্থিত এবং নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA অণুর সুনির্দিষ্ট অংশ।
৪. **লোকাস (Locus):** ক্রোমোজোমের যে সুনির্দিষ্ট স্থানে কোনো নির্দিষ্ট জিন অবস্থান করে, তাকে ওই জিনের লোকাস বলে।
৫. **পিউরিন (Purine):** নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক বা বেসসমূহের মধ্যে অ্যাডেনিন (Adenine) এবং গুয়ানিন (Guanine)-কে একত্রে পিউরিন বলে। এটি দুই রিংবিশিষ্ট অণু।
৬. **পাইরিমিডিন (Pyrimidine):** নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক বা বেসসমূহের মধ্যে সাইটোসিন (Cytosine), থাইমিন (Thymine) এবং ইউরাসিল (Uracil)-কে একত্রে পাইরিমিডিন বলে। এটি এক রিংবিশিষ্ট অণু।
৭. **নিউক্লিওসাইড (Nucleoside):** একটি পাঁচ-কার্বনযুক্ত রাইবোজ বা ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা (পেন্টোজ সুগার) এবং একটি নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (বেস) যুক্ত হয়ে যে যৌগ গঠন করে, তাকে নিউক্লিওসাইড বলে।
৮. **নিউক্লিওটাইড (Nucleotide):** একটি নিউক্লিওসাইডের সাথে একটি ফসফেট গ্রুপ বা ফসফরিক অ্যাসিড যুক্ত হয়ে যে অণু গঠিত হয়, তাকে নিউক্লিওটাইড বলে। এটি DNA ও RNA-এর গাঠনিক একক।
৯. **অ্যালিল (Allele):** সমসংস্থ (Homologous) ক্রোমোজোম জোড়ের একই লোকাসে বা সুনির্দিষ্ট স্থানে অবস্থিত নির্দিষ্ট জিন জোড়ার একটিকে অপরটির অ্যালিল বলে।
১০. **থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia):** এটি রক্তে লোহিত রক্তকণিকার একটি বংশগত রোগ, যেখানে মানবদেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না, ফলে তীব্র রক্তস্বল্পতা (Anemia) দেখা দেয়।
১১. **বিবর্তন বিদ্যা (Evolutionary Biology):** জীববিজ্ঞানের যে শাখায় পৃথিবীর উৎপত্তি, জীবনের বিকাশ এবং সময়ের সাথে সাথে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক পরিবর্তনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া (বিবর্তন) নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে বিবর্তন বিদ্যা বলে।
১২. **মিউটেশন (Mutation):** কোনো জীবের কোষে অবস্থিত DNA-এর ক্ষারক বা বেস সিকোয়েন্সের হঠাৎ এবং স্থায়ী পরিবর্তন, যা বংশপরম্পরায় স্থানান্তরিত হতে পারে, তাকে মিউটেশন বা পরিব্যক্তি বলে।
১৩. **অভিযোজন (Adaptation):** কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে টিকে থাকার এবং বংশবৃদ্ধি করার জন্য জীবের আকৃতি, অঙ্গসংস্থান বা আচরণের যে পরিবর্তন বা উপযোজন ঘটে, তাকে অভিযোজন বলে।
১৪. **DNA অনুলিপন (DNA Replication):** যে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ DNA অণু থেকে হুবহু তার মতো দুটি নতুন অপত্য DNA অণু তৈরি হয়, তাকে DNA অনুলিপন বা রেপ্লিকেশন বলে।
১৫. **PCR এর পূর্ণরূপ কি:** PCR এর পূর্ণরূপ হলো **Polymerase Chain Reaction** (পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন)।
১৬. **প্রকট বৈশিষ্ট্য (Dominant Trait):** বিপরীত বৈশিষ্ট্যের দুটি জীবের মধ্যে সংকরণ (Cross) ঘটালে প্রথম প্রজন্মে (F_1 জনু) যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায় এবং অন্য বৈশিষ্ট্যের প্রকাশে বাধা দেয়, তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে।
# # # অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
**১। ক্রোমোজোমকে বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয় কেন?**
**উত্তর:** ক্রোমোজোম জীবের বংশগতির মূল ভৌত ভিত্তি। ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলো পিতামাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, গায়ের চামড়ার রঙ, চুল সোজা বা কোঁকড়ানো হওয়া ইত্যাদি) রাসায়নিক সংকেত হিসেবে ধারণ করে। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে ক্রোমোজোমই এই জিনগুলোকে পিতামাতা থেকে সন্তান-সন্ততির দেহে সরাসরি বহন করে নিয়ে যায়। বংশগতির বৈশিষ্ট্যসমূহ নিখুঁতভাবে ধারণ এবং এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে বহন বা স্থানান্তর করার এই ভূমিকার কারণেই ক্রোমোজোমকে বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয়।
**২। DNA কে রাসায়নিক ভিত্তি বলা হয় কেন?**
**উত্তর:** জীবের সমস্ত দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান বংশগত বৈশিষ্ট্যের রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণকারী হলো DNA। ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান হলো DNA এবং এটিই জিনের রাসায়নিক রূপ। DNA অণুর ভেতরের নাইট্রোজেন বেস বা ক্ষারকের (A, T, C, G) সুনির্দিষ্ট বিন্যাসই জীবের প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং সমস্ত বিপাকীয় কার্যাবলির সংকেত নির্ধারণ করে। যেহেতু জীবের বংশগতির সব তথ্য রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে DNA-তে সংরক্ষিত থাকে এবং এর মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই DNA-কে বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি বলা হয়।
**৩। থ্যালাসেমিয়া কেন হয়? ব্যাখ্যা কর।**
**উত্তর:** থ্যালাসেমিয়া একটি অটোসোমাল বংশগত রোগ, যা লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন তৈরির জিন ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে ঘটে। মানবদেহের ক্রোমোজোমে অবস্থিত হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন চেইন (আলফা বা বিটা) উৎপাদনকারী জিন যদি মিউটেশন বা অন্য কোনো কারণে ত্রুটিপূর্ণ বা অনুপস্থিত থাকে, তবে শরীরে ত্রুটিযুক্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয়। এর ফলে লোহিত রক্তকণিকাগুলো সহজে ভেঙে যায় এবং এদের গড় আয়ু কমে যায়, যা শরীরে তীব্র রক্তস্বল্পতার সৃষ্টি করে। পিতামাতা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার জিন বহনকারী বা বাহক হলে সন্তানের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
**৪। DNA রেপ্লিকেশনকে অর্ধ-রক্ষণশীল বলা হয় কেন?**
**উত্তর:** DNA অনুলিপন বা রেপ্লিকেশন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ DNA অণু থেকে দুটি নতুন অপত্য DNA অণু তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় মাতৃ DNA-এর ডাবল হেলিক্সের সূত্র দুটি আলাদা হয়ে যায় এবং প্রতিটি সূত্র একটি ছাঁচ বা টেমপ্লেট হিসেবে কাজ করে। এই ছাঁচ অনুুযায়ী পরিপূরক নতুন সূত্র তৈরি হয়ে নতুন দ্বিসূত্রক DNA গঠিত হয়। ফলস্বরূপ, উৎপন্ন প্রতিটি নতুন DNA অণুর একটি সূত্র আসে পুরনো বা মাতৃ DNA থেকে এবং অন্য সূত্রটি সম্পূর্ণ নতুন তৈরি হয়। যেহেতু নতুন DNA-তে মাতৃ DNA-এর অর্ধেক অংশ সংরক্ষিত বা রক্ষণশীল থাকে, তাই এই পদ্ধতিকে অর্ধ-রক্ষণশীল (Semi-conservative) পদ্ধতি বলা হয়।
**৫। DNA টেস্ট করা হয় কেন?**
**উত্তর:** DNA টেস্ট বা DNA প্রোফাইলিং মূলত কোনো ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট জিনগত পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য করা হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
* **পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণ:** কোনো সন্তানের প্রকৃত পিতামাতা কে, তা আইনগত বা চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত করার জন্য।
* **অপরাধী শনাক্তকরণ:** অপরাধস্থলে পাওয়া রক্ত, চুল, বীর্য বা লালা থেকে DNA সংগ্রহ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির DNA-এর সাথে মিলিয়ে প্রকৃত অপরাধী বা খুনি-ধর্ষক শনাক্ত করতে।
* **লাশ বা কঙ্কাল শনাক্তকরণ:** কোনো বড় দুর্ঘটনায় বা আগুনে বিকৃত হয়ে যাওয়া মৃতদেহ বা পুরোনো কঙ্কালের পরিচয় নিশ্চিত করতে তাদের আত্মীয়-স্বজনের DNA-এর সাথে তুলনা করা হয়।
* **বংশগত রোগ নির্ণয়:** গর্ভস্থ বা জন্ম নেওয়া শিশুর কোনো জটিল জিনগত ত্রুটি বা রোগ আছে কিনা তা আগে থেকেই জানতে।
**৬। প্রাকৃতিক নির্বাচন বলতে কি বোঝায়?**
**উত্তর:** বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের মতে, প্রাকৃতিক নির্বাচন হলো এমন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে উপযোগী ও অনুকূল অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবেরা প্রকৃতির দ্বারা নির্বাচিত হয় এবং টিকে থাকে। জীবন সংগ্রামের ফলে যেসব জীবের অনুকূল পরিবর্তন ঘটে, তারা পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে বেশি দিন বাঁচে এবং বংশবৃদ্ধি করতে পারে। পক্ষান্তরে, যেসব জীব পরিবেশের প্রতিকূলতার সাথে মানিয়ে নিতে পারে না বা অনুপযোগী, তারা প্রকৃতি থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ডারউইনের এই তত্ত্বটিকে "যোগ্যতমের জয়জয়কার" বা প্রাকৃতিক নির্বাচন বলা হয়।
**৭। মেন্ডেল কে বংশগতির জনক বলা হয় কেন?**
**উত্তর:** অস্ট্রিয়ান গ্রেগর জোহান মেন্ডেল দীর্ঘ সাত বছর ধরে মিষ্টি মটরশুঁটি গাছের ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে বংশগতির দুটি মৌলিক সূত্র আবিষ্কার করেন (পৃথকীকরণ সূত্র এবং স্বাধীনভাবে সমন্বয়ের সূত্র)। তিনিই প্রথম বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন যে, কীভাবে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্দিষ্ট ফ্যাক্টরের (যা বর্তমানে জিন নামে পরিচিত) মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক বংশগতিবিদ্যার (Genetics) সূচনা ও বিকাশ ঘটেছিল। বংশগতিবিদ্যার এই মজবুত ভিত্তি স্থাপনের অনন্য অবদানের জন্য মেন্ডেলকে বংশগতির জনক বলা হয়।
**৮। বর্ণান্ধতার কারণ ব্যাখ্যা কর।**
**উত্তর:** মানুষের চোখের রেটিনায় রঙ চেনার জন্য লাল ও সবুজ লাইট-সেনসিটিভ বা আলোকসংবেদী কোণ কোষ (Cone Cells) থাকে। এই কোণ কোষগুলোর রঞ্জক পদার্থ বা পিগমেন্ট তৈরির জন্য দায়ী জিনটি মানুষের X ক্রোমোজোমে অবস্থিত। যদি কোনো কারণে X ক্রোমোজোমে থাকা এই জিনটি ত্রুটিপূর্ণ বা মিউটেশনপ্রাপ্ত হয়, তবে চোখে রঙ চেনার পিগমেন্ট তৈরি ব্যাহত হয়। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি লাল ও সবুজ রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে না। যেহেতু এটি একটি X-লিংকড রিসেসিভ (প্রচ্ছন্ন) বংশগত ব্যাধি, তাই পুরুষদের ক্ষেত্রে একটিমাত্র ত্রুটিপূর্ণ X ক্রোমোজোম থাকলেই বর্ণান্ধতা দেখা দেয়, অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে দুটি X ক্রোমোজোমই ত্রুটিপূর্ণ হতে হয়।
**৯। DNA ও RNA এর মধ্যে পার্থক্য লিখ:**
| বৈশিষ্ট্য | DNA (Deoxyribonucleic Acid) | RNA (Ribonucleic Acid) |
|---|---|---|
| **গঠন** | এটি সাধারণত দ্বি-সূত্রক এবং পেঁচানো সিঁড়ির মতো (Double Helix)। | এটি সাধারণত এক-সূত্রক শিকলের মতো হয়ে থাকে। |
| **পেন্টোজ সুগার** | এতে ডি-অক্সিডাইবোজ শর্করা বা সুগার থাকে। | এতে রাইবোজ শর্করা বা সুগার থাকে। |
| **নাইট্রোজেন বেস** | এতে অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন এবং **থাইমিন** থাকে। | এতে অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন এবং থাইমিনের পরিবর্তে **ইউরাসিল** থাকে। |
| **কাজ** | এটি জীবের প্রধান বংশগত উপাদান হিসেবে স্থায়ীভাবে তথ্য ধারণ করে। | এটি মূলত প্রোটিন সংশ্লেষণে সরাসরি অংশ নেয় এবং রাসায়নিক বার্তা বহন করে। |
Suggestion for ssc 2026
05/02/2026
11/07/2025
11/07/2025
03/07/2025