09/12/2023
পঞ্চগড় থেকে ফিরে>>>কাঞ্চনজঙ্গা দেখা
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়টা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মোক্ষম। এই বারের সেমিষ্টার ব্রেক, বন্ধুদের নিয়ে উত্তরবঙ্গ ঘুরতে বিশেষ এক উপলক্ষ তৈরি করে দিলো। অক্টোবরের শেষ সময়, উত্তরাঞ্চলের হালকা শীতের আমেজের উপভোগ্যর মাত্রা, তেতুলিয়ার সীমানা থেকে কাঞ্চনজঙ্গা দেখা পাওয়া তা দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয়।
যাত্রা শুরু কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে, রেলে আগে দুয়েক'বার ভ্রমণের অভিজ্ঞতার জুলিতে থাকলেও পঞ্চগড়ে ট্রেন যাত্রা বেশ বিরক্তিকর। বিরক্তিকর এই অর্থে ১১ ঘন্টার ট্রেন ভ্রমণ অনেক ডারউইন বীরল যাত্রীর ভ্রমণ কথায় সমুদ্র যাত্রার যে সমুদ্র পীড়ার কথা উল্লেখ করেছেন, সেরকমই এইটা ট্রেন পীড়া। অবশ্য বাসে চড়া মানুষ হঠাৎ ট্রেনে লম্বা সময় কাটিয়ে দেয়াটা অবশ্যই বিরক্তিকর। রাতে ১১.১৫ এর দিকে ট্রেন থামে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেল স্টেশনে। পৌঁছামাত্রই রেস্টুরেন্টে রুই মাছ দিয়ে জম্পেশ খাওয়া-দাওয়া। ঢাকার চড়া দামের জীবন যাপন করা মানুষ, হঠাৎ দূরের কোনো জেলায় গেলে বোধ হয় "এখানে দাম এতো কম ক্যানো!"। বড় সাইজের রুই মাছের এক টুকরা মাত্র ১০০ টাকা, মনে হলো যেনো পানির দামে পেলাম। হোটেলের দামও এমন, ৪০০ টাকাই দুই বেডের একটা রুম পেয়ে গেলাম। এরপরের দিন খুব সকালেই রওনা দিলাম- তেতুলিয়া। যাওয়ার পথেই বাসে মাঝে মাঝে জানালার ফাঁক দিয়ে কাঞ্চনজঙ্গা উঁকি দিচ্ছিলো। সারা পথ কাঞ্চনজঙ্গা দেখার প্রতিক্ষায় আকাশের দেখিয়ে তাকিয়েই ১ ঘন্টা কাটিয়ে দিলাম। অবশ্য দুয়েকবার দেখা পাওয়া ছাড়া ভাগ্য তেমন সহায় হলো না। অবশ্য তেতুলিয়ার তেতুলতলা মোড়ে পৌঁছা মাত্রই ব্যাটারি চালিত ভ্যান নিয়ে চলে গেলাম- জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে। পৌঁছা মাত্রই সাদা ঝকঝকে পাহাড় কাঞ্চনজঙ্গার দেখা পেলাম। এইটা অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর মতো। পাশেই মহানন্দা নদী বয়ে যাচ্ছে, নদীর ওপারটাই ভারত। স্থানীয় লোকজন বললো গত দু'তিন দিন ধরে কুয়াশার কারণে কাঞ্চনজঙ্গার দেখা নেই। আজকে দেখা গেলো কাঞ্চনজঙ্গা, নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হলো। ছবি তুলে লিখলাম অঞ্জন দত্তের গানের কলি "কাঞ্চনজঙ্গা কাঞ্চন মন"।