26/05/2026
"ইয়াওমুল আরাফা" বা "আরাফার দিন"। কম বেশি সকল মুসলিম-ই এই শব্দের সাথে পরিচিত।
জিলহজ্জ মাসের মাহাত্ম্য যেমন ব্যাপক তেমনি মুসলিম হিসেবে রয়েছে কিছু কর্তব্য।
দিনটি ইসলামের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতময় একটি দিন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা দিনটিকে অসংখ্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের ঘোষণা দিয়ে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।
এই দিনের মাহাত্ম্য কতটা তা বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়।
রাসূল(ﷺ) বলেছেন,
"আরাফার দিনের রোযা বিষয়ে আমি আল্লাহ তাআলার নিকট আশাবাদী যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।" -সুনানে তিরমিযি:৭৪৯
"আল্লাহ তাআলা আরাফার দিনের চেয়ে অন্য কোনো দিনে এত বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না। তিনি নিকটবর্তী হন এবং ফেরেশতাদের সামনে বান্দাদের নিয়ে গর্ব করেন।”
-সহিহ মুসলিম:১৩৪৮
"আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।"
-সহিহ মুসলিম:১১৬২
"সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া। আর আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছি তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো—
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর)"
-তিরমিজি:৩৫৮৫
এসব হাদিস থেকে জানা যায় এবং বোঝা যায় এই দিনটি বিশেষ। আমাদের জন্য একটি জ্যাকপট। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য, সওয়াব প্রাপ্তির জন্য, বিগত গুনাহ মাফ করানোর জন্য কিংবা দুআ কবুলের জন্য। এই সুযোগ আমরা অজ্ঞতার কারণে হেলায় হারিয়ে ফেলি। আর তা না হোক। এবারের আরাফা হয়ে উঠুক আমাদের গুনাহমুক্তির দিন, আমাদের দুআ কবুলের দিন, আমাদের রব্বের সন্তুষ্টি অর্জনের দিন।
এই দিনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য মাথায় রেখে বেশ কিছু কর্তব্য রয়েছে আমাদের-
১. আরাফার দিনে নফল সিয়াম পালন। হাদিসে আসছে, আরাফার দিনে রোজার ফলে পূর্বাপর এক বছরের গুনাহ মাফ হতে পারে। কেউ চাইলে, বরকতময় জিলহজ্জ্বের প্রথম ৯ দিনই নফল সিয়াম পালন করতে পারেন।
২. বেশি বেশি দোয়া করা। নিজের, পরিবারের, উম্মাহর এবং দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা। দেশ ও দেশের বাইরে মাজলুম মুসলিমের জন্য বিশেষভাবে দুআ করা।
৩. বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা। নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া। সাইয়েদুল ইস্তিগফার পড়া।
৪. তাকবীর, তাহলীল ও যিকির করা। আরাফার দিন ফজর থেকে আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোর প্রতি ওয়াক্তের নামাজে অন্তত একবার তাকবীরে তাশরিক পড়া— "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।"। নিজে পড়া ও পরিবারের সবাইকে পড়তে স্মরণ করিয়ে দেওয়া, একসাথে পড়া।
৫. কুরআন তিলাওয়াত ও নফল ইবাদত করা। এই দিনটি ইবাদতের জন্য বিশেষ সুযোগ। কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও যিকিরে সময় ব্যয় করা।
৬. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। শুধু ইবাদত করলেই হবে না, চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরকে গুনাহ থেকে হেফাজত রাখা। অপরের মনে কষ্ট দেওয়া ও অপরের হক নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা। তবে এমন যেন না হয় শুধু এই দিনেই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকলাম পরের দিন শুরু।
এই দিন একজন মুমিনের জন্য নতুনভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুবর্ণ সুযোগ। রোজা, দোয়া, যিকির, তওবা ও নেক আমলের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করা উচিত। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে আরাফার দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে আমল করার তাওফিক দান করেন। আল্লাহ আমাদের সবার জন্য সহজ করুন। আল্লাহুমা আমীন।
|| 'আরাফার দিন' মাহাত্ম্য ও কর্তব্য ||
~আয়শা সিদ্দিকী মুন্নী
কো-অর্ডিনেটর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড
24/05/2026
হার্ড কপি পড়তে চান যারা তাদের অনুরোধে রকমারি লিংক-
লস্ট ইসলামিক হিস্ট্রি
https://rkmri.co/2R0eMMSooASM/
বাংলার ইতিহাস
https://rkmri.co/NNoolo2Il2e3/
আপনি কি ইতিহাসকে শুধু গল্প মনে করেন, নাকি একটি সভ্যতার জীবন্ত মানচিত্র? 📚
“ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড ১৪৪৭” নিয়ে আসছে নিজেকে জানার, চিন্তাকে শাণিত করার এবং ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করার এক অনন্য সুযোগ।
🔥 নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন
🔥 ইতিহাসকে নতুনভাবে আবিষ্কার করুন
🔥 জ্ঞানের এই অভিযাত্রায় হয়ে উঠুন অংশীদার
📞 যোগাযোগ
📧 [email protected]
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড আয়োজন কমিটি
ছেলে প্রতিযোগীদের জন্য :
০১৬১৫-৫৪৩০২৮
০১৬০৬-৫৯২২৭৩
মেয়ে প্রতিযোগীদের জন্য :
০১৫২১-১০৫০৬৪
#শেকড়ের_সন্ধানে
22/05/2026
লক্ষাধিক টাকার 🏆 পুরস্কার জিতুন! 📚ইতিহাস পড়ুন !
ইতিহাস শুধু অতীত নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, চিন্তার ভিত্তি এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা।
“ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড ১৪৪৭”-এ অংশ নিয়ে আপনিও হয়ে উঠুন জ্ঞানের এই মহৎ অভিযাত্রার অংশ।
📖 জানুন মুসলিম সভ্যতার গৌরব, ইতিহাসের উত্থান-পতন এবং আমাদের শেকড়ের গল্প।
📥 সিলেবাসভুক্ত বইগুলোর PDF :
https://tinyurl.com/5xxpj96k
রকমারি (যারা হার্ডকপি পড়তে চান তাদের জন্যে)
📥 রকমারি (যারা হার্ডকপি পড়তে চান তাদের জন্যে)
লস্ট ইসলামিক হিস্ট্রি
https://rkmri.co/2R0eMMSooASM/
বাংলার ইতিহাস
https://rkmri.co/NNoolo2Il2e3/
📞 যোগাযোগ
📧 [email protected]
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড আয়োজন কমিটি
ছেলে প্রতিযোগীদের জন্য :
📱 ০১৬১৫-৫৪৩০২৮
📱 ০১৬০৬-৫৯২২৭৩
মেয়ে প্রতিযোগীদের জন্য :
📱 ০১৫২১-১০৫০৬৪
#শেকড়ের_সন্ধানে
19/05/2026
আলহামদুলিল্লাহ।
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভলান্টিয়ার ভাই-বোনেরা আজ সারাদিন অন-স্পট অলিম্পিয়াডের রেজিষ্ট্রেশনের কাজে নিযুক্ত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাই-বোনের আমাদের সাথে সারাদিন আয়োজনের বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করেছেন এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করেছেন।
আপনি কী অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করছেন? রেজিষ্ট্রেশনের লিংক কমেন্ট বক্সে।
17/05/2026
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড ১৪৪৭”-এ অংশ নিয়ে হয়ে উঠুন জ্ঞানের এই সুন্দর অভিযাত্রার অংশীদার।
আজই রেজিস্ট্রেশন করুন এবং নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন ইতিহাসের আলোয়।
🔗 রেজিস্ট্রেশন লিংক :
https://ihcobd.org/registration/
সিলেবাসভুক্ত বইগুলোর PDF :
https://tinyurl.com/5xxpj96k
📥 রকমারি (যারা হার্ডকপি পড়তে চান তাদের জন্যে)
লস্ট ইসলামিক হিস্ট্রি
https://rkmri.co/2R0eMMSooASM/
বাংলার ইতিহাস
https://rkmri.co/NNoolo2Il2e3/
📞 যোগাযোগ
📧 ই-মেইল : [email protected]
ছেলে প্রতিযোগীদের জন্য :
📱 ০১৬১৫-৫৪৩০২৮
📱 ০১৬০৬-৫৯২২৭৩
মেয়ে প্রতিযোগীদের জন্য :
📱 ০১৫২১-১০৫০৬৪
#শেকড়ের_সন্ধানে
14/05/2026
📚 “শেকড়ের সন্ধানে, ইতিহাসের অন্দরে”
মানুষ কেবল বর্তমানের সন্তান নয়; সে তার অতীতেরও উত্তরাধিকারী।
যে জাতি নিজের ইতিহাস ভুলে যায়, সে হারিয়ে ফেলে আত্মপরিচয়ের দীপ্তি, চিন্তার স্বাতন্ত্র্য এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রজ্ঞা। ইতিহাস একটি জাতির আত্মার ভাষ্য, সভ্যতার স্মৃতি, পতন ও পুনর্জাগরণের দলিল।
এই উপলব্ধিকে হৃদয়ে ধারণ করেই শুরু হতে যাচ্ছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড ১৪৪৭ হিজরি। ইতিহাসের অন্দরে প্রবেশের এক অনন্য জ্ঞানযাত্রা। ✨
🎯 আয়োজনের উদ্দেশ্য
🔹 তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসলামের ইতিহাস, সভ্যতা ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি
🔹 নিজেদের শেকড়, ঐতিহ্য ও বৌদ্ধিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়া
🔹 ইতিহাসচর্চার মাধ্যমে মননশীল ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলা
👥 কারা অংশগ্রহণ করতে পারবে?
✅ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
✅ কওমি, আলিয়া ও জেনারেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী
✅ হাইস্কুল/সমমান থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ বছর বয়সী যেকোনো আগ্রহী ব্যক্তি
📌 প্রতিযোগিতার ধাপসমূহ
🗓️ রেজিস্ট্রেশন সময়কাল : ১৪ মে — ৩১ মে ২০২৬
📝 প্রাথমিক বাছাইপর্ব : ১০ মহরম (সম্ভাব্য ২৫ জুন)
📂 বিভাগীয় রাউন্ড : এসাইনমেন্টের মাধ্যমে জাতীয় পর্বের জন্য বাছাই
🏆 জাতীয় পর্ব : লিখিত পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
🖊️ রেজিস্ট্রেশন
🔗 রেজিস্ট্রেশন লিংক :
https://ihcobd.org/registration/
💳 রেজিস্ট্রেশন ফি : ১২০ টাকা
🎁 রেফারেল কোড ব্যবহার করলে ২০ টাকা ছাড়। নিয়মাবলি রেজিস্ট্রেশন ফর্মে পাওয়া যাবে।
🎖️ পুরস্কারসমূহ
🥇 ১ম পুরস্কার : ৩০,০০০ টাকা
🥈 ২য় পুরস্কার : ২০,০০০ টাকা
🥉 ৩য় পুরস্কার : ১০,০০০ টাকা
🏅 ৪র্থ পুরস্কার : ৫,০০০ টাকা
🏅 ৫ম পুরস্কার : ৩,০০০ টাকা
📚 ৬ষ্ঠ–১০ম : ২০০০ টাকা সমমূল্যের বই
📚 ১১তম–৫০তম : ১০০০ টাকা সমমূল্যের বই
📚 ৫১তম–১০০তম : ৫০০ টাকা সমমূল্যের বই
📚 প্রাথমিক বাছাইপর্বের সিলেবাস
1️⃣ Lost Islamic History
✍️ লেখক : ফিরাস আল খাতিব
2️⃣ বাংলার ইতিহাস (১২০০–১৮৫৭)
✍️ লেখক : আব্দুল করিম
📥 সিলেবাসভুক্ত বইগুলোর PDF :
https://tinyurl.com/5xxpj96k
রকমারি (যারা হার্ডকপি পড়তে চান তাদের জন্যে)
Last Islamic History book
https://rkmri.co/2R0eMMSooASM/
বাংলার ইতিহাস
https://rkmri.co/NNoolo2Il2e3/
🏛️ আয়োজনে
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড আয়োজন কমিটি
🌐 যুক্ত থাকুন
👥 ফেসবুক গ্রুপ :
https://facebook.com/groups/230419045194189/
🤝 ভলান্টিয়ার রেজিস্ট্রেশন :
https://forms.gle/cFaAAwtJHFcfemtQ9
ভলান্টিয়ার রেফারেল কোডের তালিকা : https://tinyurl.com/2jk345cx
📞 যোগাযোগ
📧 ই-মেইল : [email protected]
ছেলে প্রতিযোগীদের জন্য :
📱 ০১৬১৫-৫৪৩০২৮
📱 ০১৬০৬-৫৯২২৭৩
মেয়ে প্রতিযোগীদের জন্য :
📱 ০১৫২১-১০৫০৬৪
✨ ইতিহাস শুধু অতীতের স্মরণ নয়; এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের আলোকবর্তিকা।
শেকড়ের দিকে ফিরে তাকানো মানেই নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা।
আসুন, ইতিহাসের অন্দরে প্রবেশ করি—
নিজেকে জানি, সভ্যতাকে বুঝি, শেকড়কে অনুভব করি। 🌿
#শেকড়ের_সন্ধানে
08/05/2026
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,
IHCO 1447 এর ভলান্টিয়ারদের বিশেষ অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় ভলান্টিয়ারদের অনলাইন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
📅 সময়: আজ ৮ই মে, শুক্রবার, রাত ৯টা
📍মিটিং এ জয়েন হবার লিংক ভলান্টিয়ারদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া হবে।
⚠️বিশেষ নির্দেশনা-
▪️নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট পূর্বেই সবাই জয়েন হয়ে যাবেন।
▪️মিটিং এ জয়েনের সময় ভিডিও এবং অডিও অফ রাখবেন।
▪️গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা নোট করবেন।
▪️কোন প্রশ্ন থাকলে নোট ডাউন করে রাখবেন। প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হলে, তখন প্রশ্ন করতে পারবেন।
07/05/2026
আজ ৭ মে — কর্মবীর মুনশী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ রহ.-এর ১১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।
যশোরের এই সাধারণ মানুষটি ছিলেন একজন কর্মবীর ও ইসলামের অকুতোভয় সিপাহসালার।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তেমন ছিল না, কিন্তু কুরআন-হাদিসের গভীর জ্ঞান, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর অদম্য সাহস নিয়ে তিনি একাই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন ব্রিটিশ আমলের সরকারি মদদপুষ্ট খ্রিষ্টান মিশনারিদের বিরুদ্ধে।
বিতর্কে হারিয়েছেন বড় বড় পাদ্রিদের, ফিরিয়ে এনেছেন বিপথগামীদের।
শুধু বিতর্ক নয় — লিখেছেন বই, গড়েছেন মাদরাসা-স্কুল, জাগিয়েছেন মুসলিম সমাজকে।
মাত্র ৪৭ বছরের জীবনে যা করে গেছেন, তা অনেকের পক্ষে শত বছরেও সম্ভব হয় না।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।
24/04/2026
ঢাকার দুই আউলিয়া ও একটি মসজিদের আদি পরিচয়
ঢাকা কেবল মিনার আর মসলিনের শহর নয়। এ শহর মূলত সুফি-সাধক আর আউলিয়াদের পদধূলিতে ধন্য এক আধ্যাত্মিক জনপদ। বুড়িগঙ্গার তীরে যখন নগরায়ন শুরু হয়নি। যখন বনাঞ্চল আর জলাভূমির রাজত্ব ছিল চারদিকে। তখনই এই জনপদে ইসলামের শাশ্বত বাণী নিয়ে এসেছিলেন এমন কিছু সাধক, যাঁদের ইতিহাস আজ আমাদের আধুনিক নাগরিকতার ভিড়ে ম্লান হয়ে আসছে।
এমনই দুইজন কালজয়ী ব্যক্তিত্ব হলেন শাহ নি’য়ামতুল্লাহ বুদ-সেকান্দ এবং শাহ জালাল দাখিনী। দিলকুশা আর বঙ্গভবনের চার দেয়ালের মাঝে আজও মিশে আছে তাঁদের বর্ণাঢ্য জীবনের ঘ্রাণ। যদিও ইতিহাসের বাঁকবদলে তাঁদের পরিচয় আজ অনেকটা সংকুচিত।
বুদ- সেকান্দ্: সত্যের এক অলৌকিক ইশারা
ঢাকার প্রাচীন ইতিহাসের পাতা উল্টালে শাহ নি’য়ামতুল্লাহর নাম পাওয়া যায় এক রহস্যময় ও প্রভাবশালী ধর্মপ্রচারক হিসেবে।
জনশ্রুতি আছে বঙ্গে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার বহু আগেই তিনি ঢাকা অঞ্চলে পদার্পণ করেছিলেন। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত 'বুতশিকন' বা 'মূর্তি চূর্ণকারী' উপাধিটি এক আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক।
একদিন ধ্যানেরত এই সাধকের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানোর উদ্দেশ্যে এক মূর্তিসহ শোভাযাত্রা তাঁর আস্তানার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন তাঁর ক্রুদ্ধ দৃষ্টি আর অঙ্গুলের ইশারায় মাটির মুর্তিগুলো নিজে নিজেই ভেঙে চূর্ণ হয়ে যায়। এই অলৌকিক ঘটনায় বিমোহিত হয়ে হাজারো মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে। সেখান থেকেই তাঁর নামের সাথে যুক্ত হয় ''বুদ- সেকান্দ' উপাধি। বুদ- সেকান্দ এর মানে হলো বুজুর্গানের পবিত্র দৃষ্টি নিক্ষেপের মাধ্যমে দেব-দেবীর মূর্তি অলৌকিক ভাবে ভেঙে যেতো।
এখনও পুরানা পল্টনের দিলকুশায় রয়েছে তাঁর মাজার। শান্তভাবে পরে থাকা তাঁর মৌন সমাধি এখন কেবলই ঢাকার প্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্যের এক নীরব সাক্ষী।
শাহ জালাল দাখিনী: সুলতান ও সুফির এক ট্র্যাজিক আখ্যান
শাহ নি’য়ামতুল্লাহর পরবর্তী সময়ে বাংলায় আগমন ঘটে শাহ জালাল দাখিনীর। তিনি ছিলেন দক্ষিণ ভারতের গুজরাটের এক প্রভাবশালী সাধক। তাঁর আগমন ছিল রাজকীয় আভিজাত্যে ঘেরা। তাঁর শিষ্যদের শৃঙ্খলিত জীবনযাপন এবং খানকাহর জাঁকজমক তৎকালীন বাংলার সুলতান রুকনুদ্দীন বরবক শাহের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।
ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর পরিহাসে কোনো এক ষড়যন্ত্রকারীর প্ররোচনায় সুলতান মনে করেছিলেন এই সুফি সাধক হয়তো রাজশক্তি দখল করতে চান। ফলস্বরূপ ১৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতানি বাহিনীর হাতে শাহ জালাল দাখিনী এবং তাঁর অসংখ্য মুরিদ শাহাদাত বরণ করেন।
'আখবারুর আখইয়ার' গ্রন্থ প্রণেতা ও হাকিম হাবিবুর রহমান সাহেবের মতে ঢাকার গভর্নমেন্ট হাউস (বঙ্গভবন) এলাকার মধ্যে তিনি শাগরিদগণসহ সমাহিত আছেন।
মওলানা আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী লিখিত 'আখবারুল আখইয়ার' গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি উত্তর ভারতের স্বনামধন্য সূফী শায়খ সলীম চিশতীর বিখ্যাত বাঙালি শাগরিদ শায়খ পিয়ারার কাছে শিক্ষা লাভ করেছিলেন।
হযরত শাহ জালাল দাখিনীকে বঙ্গভবনের প্রধান ফটকের পাশে দাফন করা হয়। আর মোগল আমলেই বর্তমান রাজউক ভবনের পাশে 'শাহ জালাল দাখিনী মসজিদ'টি নির্মাণ করা হয়।
সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো, স্থাপত্য ও স্মৃতির এই প্রবাহে আমরা আমাদের শেকড়কে ভুলতে বসেছি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ভবনের পাশে যে প্রাচীন তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে, সেটি মোগল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। ১৮৯০ সালের আলোকচিত্রে এই স্থাপনাটিকে স্পষ্টভাবে 'হযরত শাহ জালাল দাখিনি মসজিদ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি ঢাকার নবাব আহসানউল্লাহ এই মসজিদের ব্যাপক সংস্কার করেছিলেন এবং নবাব পরিবারের মেহের বানু ও জেনারেল খাজা ওয়াসিউদ্দীনসহ অনেকের অন্তিম শয়তান এখানেই হয়েছে।
দুঃখজনকভাবে, কালক্রমে এই মসজিদের আদি পরিচয় মুছে ফেলে এর নাম রাখা হয়েছে 'দিলকুশা জামে মসজিদ (নওয়াববাড়ি)'। নামের এই পরিবর্তন কেবল একটি শব্দবদল নয়। বরং এটি দুজন সুফি সাধকের স্মৃতিকে জনমানস থেকে বিচ্ছিন্ন করার এক প্রচ্ছন্ন প্রক্রিয়া। যদিও মসজিদের আঙিনায় শাহ নি’য়ামতুল্লাহর মাজার আজও টিকে আছে। কিন্তু মসজিদের আদি নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সুলতানি ও মোগল আমলের সেই যোগসূত্রটি আজ দুর্বল।
একটি জাতি তার স্থাপত্য আর আধ্যাত্মিক পুরুষদের হাত ধরেই বেঁচে থাকে। শাহ নি’য়ামতুল্লাহ বুতশিকন এবং শাহ জালাল দাখিনী কেবল ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন। তাঁরা ঢাকার সমাজ-সংস্কৃতির বিবর্তনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজউকের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদটি কিংবা বঙ্গভবনের অভ্যন্তরে ঘুমিয়ে থাকা সুফি সাধকের সমাধি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অত্যাধুনিক এই মহানগরের কংক্রিটের নিচেই চাপা পড়ে আছে এক সহস্রাব্দ প্রাচীন আধ্যাত্মিক জনপদ।
ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি কেবল দালানকোঠা রক্ষা করা নয়। বরং সেই দালানের গায়ে লেগে থাকা সত্য ও নামের শুদ্ধতা বজায় রাখাও জরুরি। আমাদের উচিত এই বিস্মৃতপ্রায় অধ্যায়গুলোকে পাঠ্যপুস্তক ও নাগরিক আলোচনায় ফিরিয়ে আনা। যাতে অনাগত প্রজন্ম জানতে পারে—কোন ত্যাগের বিনিময়ে এই জনপদে সভ্যতার প্রদীপ জ্বলে উঠেছিল।
22/04/2026
IHCO স্বেচ্ছাসেবক নিবন্ধন কর্মসূচি ১৪৪৭
শুরু হতে যাচ্ছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড ১৪৪৭।
অলিম্পিয়াডকে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে বিগত সময়ের মত এবারও কাজ করবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। অলিম্পিয়াডে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিবন্ধন করার মাধ্যমে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অলিম্পিয়াড নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
স্বেচ্ছাসেবক হবার সুবিধাঃ
১. অলিম্পিয়াড এর মাঠপর্যায়ের আয়োজক হবার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকরা জাতির জ্ঞানবিকাশে অবদান রাখতে পারবেন।
২. জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের সংগঠকদের সাথে পরিচিত হবার সুযোগ পাবেন৷
৩. স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালার মাধ্যমে এবং ইভেন্ট আয়োজনের সাথে যুক্ত থাকার মাধ্যমে নিজেরা প্রভূত বিষয়ে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারবেন।
৪. সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সার্টিফিকেট পাবেন।
৫. কাজের মান এবং প্রভাব অনুযায়ী সেরা স্বেচ্ছাসেবকরা পুরস্কার পাবেন।
৬. স্বেচ্ছাসেবকরা চাইলে মূল প্রতিযোগিতাতেও অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বঃ
১. নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এলাকায় অলিম্পিয়াড এর অনলাইন এবং অফলাইন প্রচার-প্রচারণা চালানো। এসব কাজে অলিম্পিয়াড এর ডিজিটাল কনটেন্ট (ভিডিও, গ্রাফিকস, ফটো ফ্রেম, লেখা ইত্যাদি) সরাসরি কিংবা নিজস্ব সৃজনশীল উপায়ে ব্যবহার করা।
২. যত বেশি সম্ভব শিক্ষার্থীকে রেজিষ্ট্রেশন এর মাধ্যমে অলিম্পিয়াড এর সাথে যুক্ত করা।
৩. আঞ্চলিক ভাবে কোন সভা বা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা সশরীরে আয়োজন করার প্রয়োজন হলে সেটি আয়োজনে মূল ভূমিকা পালন করা।
৪. স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা।
৫. অলিম্পিয়াড এর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের গ্রুপে যুক্ত থাকা এবং প্রতিযোগিতা সম্পর্কিত আপডেটগুলো নিজ প্রতিষ্ঠান বা এলাকার শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া৷
স্বেচ্ছাসেবক হবার যোগ্যতাঃ
১. আবেদনকারীকে কোন কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের/মাদ্রাসা/সমমানের ছাত্র/ছাত্রী হতে হবে। পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকরা শুধু পুরুষ এবং নারীরা নারীদের নিয়ে কাজ করবেন।
২. নিয়মিতভাবে অলিম্পিয়াডে সময় দেবার মানসিকতা থাকতে হবে।
৩. পূর্বে কোন ইভেন্ট বা প্রতিযোগিতা আয়োজনের অভিজ্ঞতা থাকলে ভাল হয়।
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিবন্ধনের উপায়ঃ
স্বেচ্ছাসেবক নিবন্ধন করতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন।
নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবকদেরকে এসএমএস করে পরবর্তী নির্দেশনা জানানো হবে।
রেজিষ্ট্রেশন লিংক- https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeF7jyQIVv8RyZi4aP7_Xr-Xy2vUGDK_26gmlxyEjRNQw8t4Q/viewform
http://tiny.cc/vr44