Bangladesh Telemedicine Research Center-BTRC

Bangladesh Telemedicine Research Center-BTRC

Share

This is the official page for the Bangladesh Telemedicine Research Center-BTRC .

Led by the professionals of the Pharmacy Department, Atish Depankar University of Science and Technology
1st Telemedicine Research Center of Bangladesh

29/11/2021

হাজার কোটি টাকার প্লট ও ফ্ল্যাট কিনে প্রতারিত ক্রেতারা ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

রিয়েল এস্টেট ও হাউজিং কোম্পানিগুলোর লোভনীয় অফারে প্লট ও ফ্ল্যাট কেনার পর প্রতারিত হয়ে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ২০ হাজারের বেশি ক্রেতা। এই কোম্পানিগুলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের প্রতারিত করেছে। বছরের পর বছর ঘুরে, এমনকি মামলা করেও টাকা আদায় করতে পারছেন না প্রতারিত ক্রেতারা।

নিজের একটি ফ্ল্যাট থাকবে—এই স্বপ্ন হাজারো মানুষের। কিন্তু ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে টাকা খুইয়ে, জাল কাগজপত্রের খপ্পরে পড়ে অসংখ্য মানুষের জন্য সেই স্বপ্ন পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। প্রতিকারের জন্য আইনের গোলকধাঁধায় ঘুরে ঘুরে হয়রান হচ্ছেন তারা। কিছু দুর্বৃত্ত রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, চটকদার বিজ্ঞাপন ও কথায় আকৃষ্ট হয়ে প্রতারিত হয়েছেন তারা।

রিয়েল এস্টেট ও হাউজিং কোম্পানিগুলোর লোভনীয় অফারে প্লট ও ফ্ল্যাট কেনার পর প্রতারিত হয়ে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ২০ হাজারের বেশি ক্রেতা। এই কোম্পানিগুলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের প্রতারিত করেছে। বছরের পর বছর ঘুরে, এমনকি মামলা করেও টাকা আদায় করতে পারছেন না প্রতারিত ক্রেতারা।

দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অনুসন্ধানে জানা যায়, এরকম প্লট কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগে প্রায় ৯ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে ঢাকার বিভিন্ন আদালতে। এসব মামলার বিপরীতে ক্রেতাদের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে।

এছাড়াও ফ্ল্যাট কেনার পর প্রতারিত হওয়ার মামলা আছে ৩ হাজার। যার বিপরীতে আটকে আছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

প্লট বিক্রির নামে প্রতারণা

রাজধানীর অদূরে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাছাকাছি ওয়েলকেয়ার সিটি আবাসন প্রকল্পে ২০১৬ সালে দুই কোটি টাকা দিয়ে ৫ কাঠার একটি প্লট কিনেছিলেন ব্যবসায়ী আশরাফুল হাসান রাহাত।

ওই বছরের শেষ নাগাদ আবাসিক প্রকল্পের দুই হাজার ক্রেতার কাছে প্লটগুলো হস্তান্তরের কথা থাকলেও তা আর হয়নি।

এর কারণ, জলাশয়, আবাদি জমি ও ফ্লাড ফ্লো-জোন দখল করে ৫০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা এই আবাসিক প্রকল্পটির জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) সরকারের সংশ্লিষ্টদের কোনো অনুমোদন ছিল না। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে রাজউকের দুইজন মেজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আবাসিক প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর ফলে বিপাকে পড়েন আশরাফুলসহ দুই হাজার প্লট ক্রেতা। আবাসিক প্রকল্পটির কর্তাদের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে দিনের পর দিন ঘুরেও কাজ হয়নি। এছাড়া রাজউক, বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন ও রিহ্যাবের কাছে অভিযোগ করলেও সেগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি।

আর কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত গত বছরের মে মাসে তারা ঢাকার আদালতে মামলা করেছেন।

আশরাফুল হাসান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'দুই হাজার প্লটের ক্রেতারা পৃথকভাবে ৪০ টি প্রতারণার মামলা করেছে। এসব মামলায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।'

তিনি বলেন, এসব মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন ওয়েলকেয়ার সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এখন পর্যন্ত মামলার অভিযোগ গঠন হয়নি।

এসব মামলার তদন্তের দায়িত্ব রাজধানীর খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি বলে জানান আশরাফুল।

হতাশ আশরাফুল জানালেন, 'প্রতি মাসে তারিখ পড়ে, আর সে তারিখে আমরা আদালতে হাজির হই। নতুন করে তারিখ পড়ে পুলিশের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য। এখন আমরা চরম বেকায়দায় আছি।'

আরেক প্লট ক্রেতা গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাসিন্দা সৈয়দ মুজিবর রহমান বলেন, 'দুবাইয়ে শ্রমিক হিসেবে আট বছর কাজ করে সকল উপার্জন জমা করে দুই কোটি টাকায় প্লটটি কিনেছিলাম। এই প্লট কেনার আগে প্রকল্পের কর্মকর্তারা রাজউকসহ ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ভূয়া অনুমোদন দেখিয়ে আমাদের লোভে ফেলেছিল। অনেক সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এখানে প্লট কিনেছেন, তাই আমি আর কোনো কিছু যাচাই করার চিন্তা করিনি।'

তিনি বলেন, 'পরিকল্পনা ছিল এই প্লটি কোনো ডেভেলপার কোম্পানিকে দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে যে কয়টি ফ্ল্যাট পাওয়া যায়, সেগুলো থেকে আসা ভাড়ার টাকায় সংসার পরিচালনা করব। জীবনের সকল উপার্জন এখানে হারিয়েছি। এখন পথে বসে গেছি। ছোট একটি ব্যবসা করে কোনো রকমে জীবন পার করছি। এই টাকা ফেরত পাব কি না, তার কোনো কূল-কিনারা নেই।'

টিবিএসের পক্ষ থেকে ওয়েলকেয়ার গ্রুপের এমডি মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে কেয়কবার কল করা হলেও, তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এসএমএস করা হলেও উত্তর দেননি।

তবে মোস্তাফিজুর রহমানে আইনজীবী মোহাম্মদ জসীম টিবিএসের কাছে দাবি করেছেন, এসব মামলার কোনো 'ভিত্তি নেই'।

তিনি বলেন, 'পার্শ্ববর্তী একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কারণে এই প্রকল্পটি বন্ধ হয়েছে। ওয়েলকেয়ার সিটির এমডিসহ সংশ্লিষ্টরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে এখনও আলাপ-আলোচনা করছে। এটি সমাধান হয়ে যাবে।'

খিলক্ষেত থানার ওসি মুন্সী ছাব্বীর আহমেদ টিবিএসকে বলেন, 'মামলাগুলোর তদন্ত এখনো চলছে। আগের যে দুইজন কর্মকর্তা এই মামলাগুলোর তদন্ত করছিলেন, তারা অন্য থানায় বদলি হওয়ায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ করছেন। বিষয়টি বড় হওয়ায় তদন্ত সম্পন্ন করতেও সময় বেশি প্রয়োজন।'

ওয়েলকেয়ার সিটির প্লট কিনে প্রতারিত গ্রাহকদের সনন্বয়ক সাবেক অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন বলেন, 'প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনেক প্রভাবশালী ও টাকার মালিক হওয়ায় তিনি নানাভাবে তদন্ত বিলম্ব করাচ্ছেন। এছাড়াও বড় মাপের আইনজীবী নিয়োগ করে এবং প্রভাব খাটিয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার পর নিম্ন আদালতে গিয়ে সেই জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন।'

নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, রাজধানীতে যেকোনো আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলার জন্য হাউজিং কোম্পানিগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে রাজউকের অনুমোদন নিতে হয়।

রাজউকের আওতাধীন যেকোনো অবৈধ আবাসন প্রকল্প বন্ধ করা রাজউকের দায়িত্ব। তিনি বলেন, রাজউক এ ব্যাপারে তেমন কোনো কাজই করে না।

তিনি বলেন, 'প্রতিষ্ঠানটি তখনই কোনো বেআইনি আবাসন প্রকল্প বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয়, যখন সেটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তার "চাহিদা" পূরণ করতে পারে না।'

তবে স্থপতি ইকবাল হাবীবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রাজউক চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রাজউক কর্তৃপক্ষ সবসময়ই গুরুত্বের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে।

তিনি দাবি করেন, এখন যেসব বেসরকারি আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠছে রাজধানীর আশপাশের এলাকায়, তার বেশিরভাগই রাজউকের অনুমোদন নেয়নি। তিনি বলেন, 'রাজউক ২০১০ সাল থেকে এরকম ৫৪টি বেসরকারি আবাসিক প্রকল্প বন্ধ করেছে। এসব প্রকল্পের প্লট ক্রেতাদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য রাজউক থেকে নির্দেশনা আছে।'

তবে এ ধরনের অবৈধ প্রকল্প বন্ধ করার দায়িত্ব শুধু রাজউকের নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এরকম অবৈধ প্রকল্প বন্ধ করার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের।'

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ও ২৮টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্লট-সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা প্রায় ৬ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় গ্রাহকদের ১০ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে।

ঢাকা জেলা দায়রা আদালতের নাজির আজিম উদ্দিন জানান, জেলা আদালত ও আটটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরও তিন হাজার মামলা চলছে এবং এসব মামলার বিপরীতে গ্রাহকদের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে।

ফ্ল্যাট ব্যবসায় প্রতারণা

রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকায় আউটার সার্কুলার রোডের ৭৩ নম্বর বাড়িটি ২০১৫ সালে আনোয়ারা হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তর করেন জমিটির মালিক খান এ মজলিস নাসিম।

ওই বাড়িটিতে মোট ২৬টি ফ্ল্যাট করার ছিল। জমির মালিকের জন্য বরাদ্দ হওয়া ৮টি ফ্ল্যাট ছাড়া বাকি ১৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের আগেই অগ্রিম বিক্রি করে দেন আনোয়ারা হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান হাবীব। প্রতিটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয় আড়াই কোটি টাকা দরে।

২০১৫ সালের শেষ দিকে বাড়িটি নির্মাণের কাজ শুরু করে তিনতলা পর্যন্ত ইটের দেওয়াল গড়ে ওঠে। কিন্তু ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে হঠাৎ করেই বাড়িটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

জমিটির মালিক খান এ মজলিস নাসিম বলেন, 'এই ১৮টি ফ্ল্যাটের প্রায় ৪৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৩ কোটি টাকার কাজ হয়েছিল। এছাড়াও এই জমি এবং ১৮ টি ফ্ল্যাটের ওপর শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে আরও ১১ কোটি ঋণ নিয়ে যুক্ত রাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটির এমডি আহসান হাবীব।'

দেওয়ান মুরাদ হোসেন নামে একজন ফ্ল্যাট ক্রেতা বলেন, 'প্রতিষ্ঠানটির এমডি বিদেশ পালিয়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ আছে। এখন জমির মালিক বলছেন, সেখানে তিনিই বাড়ি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে নিজের জন্য পুরো বাড়িই নিয়ে নিবেন।'

তিনি বলেন, 'থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও আনোয়ারা হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেটের কাউকে খুঁজে না পওয়ায় আমরা আর মামলা করতে পারিনি।

'ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও সেটি ফ্ল্যাট-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সালিশি ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ, বাড়ির জন্য বরাদ্দ হওয়া জমিটির মালিকও প্রতারিত। এখন পর্যন্ত আরবিট্রেশন কাউন্সিল কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। ফলে এখনও ঘুরছি, কিন্তু কিছু করতে পারছি না।'

রাজধানীর মানিকনগরে নাজরানা হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেটের একটি প্রকল্পের ১৪টি ফ্ল্যাটের প্রতিটি ফ্ল্যাট প্রতারণা করে ৩১ ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই ভবনের একটি ফ্লাট ৮০ লাখ টাকায় কিনেছিলেন ব্যবসায়ী ফজলুল হক। তিনি বলেন, 'প্রথমে আমার কাছে প্লাট বিক্রয় করেছে। এরকম ১৪ জন গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করার পর পরবর্র্তীতে এই ১৪ টি ফ্লাট নানা কৌশলে আরও ১৭ জনের কাছে বিক্রয় করেছেন নাজরানা হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী এহসান উদ্দিন। এখন ৩১ ক্রেতাই ঢকার আদালতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন।'

সূত্র অনুসারে, ফ্ল্যাট কিনে বুঝে না পওয়ার অভিযোগে ঢাকার সালিশি ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ৯৮০টি অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের পেশকার জাহিদ হোসেন জানান, এসব অভিযোগের বিপরীতে বিভিন্ন ফ্ল্যাট ক্রেতার প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আটকে আছে।

তিনি বলেন, 'গত তিন মাস ধরে ট্রাইব্যুনালে কোনো বিচারক নেই বলে কার্যক্রম বন্ধ আছে। এছাড়াও গত তিন বছর ধরে এই ট্রাইব্যুনালে কোনো পৃথক বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।'

ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালত ও ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসুত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাট কিনে প্রতারণার অভিযোগে প্রায় ২ হাজার মামলা রয়েছে। যার বিপরীতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আটকা ফ্ল্যাট ক্রেতাদের।

হাইকোর্টে রিট

সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে বিল্ডিং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন লিমিটেড (বিডিডিএল) থেকে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন এস এম শাহাবুদ্দিন। সব টাকা পরিশোধ করে তিনি ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু আট বছর পর তিনি হঠাৎ দেখতে পান যে, তার ফ্ল্যাটটি ফার্স্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণের জন্য গোপনে বন্ধক হিসাবে দেখানো হয়েছে। সেই ঋণও শোধ করেনি বিডিডিএল। ফলে শাহাবুদ্দিনের কেনা ফ্ল্যাটটি এখন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।

আবদুল হান্নান, বিউটি বেগম ও ইউসুফসহ আরও ৩১ জন ফ্ল্যাট মালিক একইভাবে বিডিডিএলের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ফার্স্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ৩১টি ফ্ল্যাটের নিলামের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ৩১টি ফ্ল্যাটের মালিকেরা ফ্ল্যাটের নিলাম বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রিট করেন।

আবেদনকারীদের আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন জানান, হাইকোর্ট নিলাম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার চারটি অর্থঋণ আদালতে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ১০০টি মামলা রয়েছে। কোম্পানিগুলোর কাছে ব্যাংকগুলো ২ হাজার কোটি টাকার বেশি পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, বিডিডিএলের ঘটনার মতো ফ্ল্যাটের নিলাম বন্ধে প্রায় ৬০০ রিট বিচারাধীন রয়েছে।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অভ বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সূত্রে জানা গেছে, ক্রেতাদের হাতে ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করার জন্য সংগঠনটির কাছে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ অভিযোগ এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১১ সাল থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার অভিযোগের নিষ্পত্তি করেছে রিহ্যাব।

রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলআমিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'প্লট কেনার পর ক্রেতারা যে কোম্পানিগুলোকে প্রতারিত করেছে, তাদের কেউই আমাদের সদস্য নয়। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।'

তিনি আরও বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে এসব প্রতারক কোম্পানির হাত থেকে ক্রেতাদের রক্ষা করা সম্ভব।

16/11/2021

বাড়তি চাহিদায় বেড়েছে তালিকাভুক্ত ফার্মা প্রতিষ্ঠানের মুনাফা

করোনা ভীতি থেকে মুক্ত হয়ে আবারও বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা গ্রহণ এবং ব্যাংকের অর্থায়নের খরচ কমে যাওয়ায় ফার্মা পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। ফলে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে প্রায় প্রতিটি তালিকাভুক্ত বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান আগের চেয়ে বেশি মুনাফা করেছে।

বাংলাদেশের প্রধান ১০টি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বেড়েছে। এগুলো হলো—এসিআই লিমিটেড, একমি ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইবনে সিনা, রেনাটা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ইনফিউশন এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস।

তবে, ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস ও সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের আয় কমেছে।

বাংলাদেশে করোনা মহামারির সবচেয়ে ভয়াবহ সময়ে ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসা কিছুটা চাপের মুখে পড়ে। গত বছর মার্চে এই সংকট দেখা দিলেও এটি তুঙ্গে ওঠে এ বছরের প্রথম কয়েক মাসে। কারণ, সেই সময় মানুষ অতি জরুরি না হলে হাসপাতালে যেতে চাইতেন না।

একইভাবে, অনেক ডাক্তারও তাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরেছে। এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মহিবুজ জামান বলেন, 'এতে করে ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি ও মুনাফা বেড়েছে।'

তাদের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসের মূল প্রতিষ্ঠান এসিআই লিমিটেডের মুনাফা প্রথম প্রান্তিকে ৩০ কোটি ১২ লাখ টাকা হয়েছে, যা এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে ৬৪৭ শতাংশ বেশি। গত বছর প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা হয় ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান একই মত পোষণ করে বলেন, 'এ বছর প্রায় প্রতিটি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক সময়ের ১০ থেকে ১২ শতাংশ মুনাফা প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি পেয়েছে।'

এসিআই লিমিটেডের শেয়ার প্রতি আয় এক বছর আগের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে। একমি ল্যাবরেটরিজের মুনাফা ৪১ শতাংশ, ইবনে সিনার ৩৯ শতাংশ, বেক্সিমকো ফার্মার ৩৬ শতাংশ এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মুনাফা ২৭ শতাংশ বেড়েছে।

মনিরুজ্জামান বলেন, 'তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদকদের প্রবৃদ্ধির পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে বাড়তি বিক্রি।'

অসংখ্য মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় ভাইরাস সংক্রান্ত ওষুধের চাহিদা অনেক বেশি ছিল।

রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্যের চালান জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৩৩ শতাংশ বেড়েছে, যার নেপথ্যে আছে করোনাভাইরাস নিরোধক ওষুধ এবং সরকারের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক প্রণোদনা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত ৩ মাসে ৫৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের ওষুধ বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪২ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার।

গত বছরের এপ্রিল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব খাতের জন্য ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করে দেওয়ায় মুনাফার হার বেড়েছে বলে মনে করেন মনিরুজ্জামান।

ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানের জন্য জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক হচ্ছে সবচেয়ে ভালো সময় এবং এই সময়ে সন্তোষজনক মুনাফা অর্জিত হয়েছে বলে জানান রেনাটার কোম্পানি সচিব মো. জুবায়ের আলম।

রেনাটা ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ১৩৯ কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করেছে, যা এক বছর আগে ছিল ১২৬ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক বিবরণী থেকে জানা যায়, সব তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তাদের শেয়ার প্রতি আয় সবচেয়ে বেশি ছিল, যার পরিমাণ ১৪ দশমিক ১৯ টাকা।

গত বছর মহামারির কারণে অনেক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ব্যক্তিগত চেম্বার বন্ধ রেখেছিলেন, যা ওষুধের বিক্রিতে প্রভাব ফেলেছে। এখন তারা সশরীরে রোগী দেখছেন।

জুবায়ের বলেন, 'এখন সব চিকিৎসক সশরীরে রোগী দেখছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন। এ কারণে আমাদের বিক্রি বেড়েছে।'

তিনি জানান, চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীদের খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানের ওষুধ সেবনের উপদেশ দেন।

গত বছর ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের স্থানীয় বাজারের আকার প্রায় ২৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ছিল। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করে।

ইউসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের একটি গবেষণা অনুযায়ী, এক দশকের মধ্যে এই বাজার বেড়ে ১ লাখ কোটি টাকা হতে পারে।

দেশে প্রায় ২০০ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে এবং তারা বিশ্বের ১৫১টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই খাত থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি রপ্তানি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে, যা ২০২১ অর্থবছরের অর্জন ১৬৯ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে প্রায় ৯ গুণ বেশি।

অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক খান

31/10/2021

স্যালুট স্যার✋
পারিশ্রমিক ছাড়াই ১০০০ (এক হাজার) কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন ডা. কামরুল ইসলাম

20/09/2021

বছরে সাড়ে ১৮ শতাংশ হারে বাড়ছে দেশের ওষুধের বাজার। খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ওষুধ বিক্রি হয়েছে। ওষুধের এ বাজারের ৭১ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে ১০ কোম্পানি। আর যে ওষুধের ওপর ভর করে বাজার বড় হচ্ছে তার সর্বাগ্রে রয়েছে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরস বা অ্যাসিডিটির ওষুধ। সর্বাধিক বিক্রীত ওষুধের তালিকায় এর পরেই আছে অ্যান্টিবায়োটিক।

মোট বিক্রীত ওষুধের ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ অ্যাসিডিটির। অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে এ হার ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অ্যাসিডিটি, অ্যান্টিবায়োটিকের পরই দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ডায়াবেটিসের ওষুধ। ইনজেকশনের আকারে ব্যবহূত এ ওষুধের হিস্যা মোট বাজারের ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের মোট বিক্রীত ওষুধের প্রায় ২৫ শতাংশই দখল করে আছে অ্যাসিডিটি, অ্যান্টিবায়োটিক ও ডায়াবেটিস।

03/05/2021

মাসে দেড় কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন সক্ষমতা তিন প্রতিষ্ঠানের
বদরুল আলম

দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস। আর গুটিকয়েক যে কয়টি প্রতিষ্ঠান দেশেই টিকা উৎপাদন ও সরবরাহ করতে সক্ষম, ইনসেপ্টা সেগুলোর মধ্যেও এগিয়ে। মাসে তিন-চারদিনের উৎপাদন কার্যক্রম দিয়েই চাহিদা পূরণ করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে তাদের সক্ষমতার ৯০ শতাংশই পড়ে থাকছে অব্যবহূত। অব্যবহূত এ সক্ষমতা কভিড-১৯-এর টিকা উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে করোনার টিকা উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে দেশের আরো দুটি প্রতিষ্ঠানের। ইনসেপ্টা, পপুলার ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস—এ তিন প্রতিষ্ঠান মাসে দেড় কোটি ডোজ কভিডের টিকা উৎপাদনে সক্ষম।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে কভিড-পূর্ব পরিস্থিতিতে বছরে টিকার বাজার ছিল ২০০-২৫০ কোটি টাকার। দেশে টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতায় ভিন্নতা রয়েছে। এর একটির প্রক্রিয়া শুরু হয় স্থানীয়ভাবে উৎপাদন পর্যায় থেকে। আর অন্যগুলোর ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর, যারা ফিলিং ও টেস্টিংয়ের পর টিকা বাজারজাত করতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন করে বাজারজাতের সক্ষমতা রয়েছে শুধু ইনসেপ্টার। পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস টিকা সরবরাহ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনের ধাপ শুরু হয় ফিলিং থেকে। পরের ধাপে টেস্টিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে তাদের। সর্বশেষ গত বছর টিকা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শেষ করেছে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

কভিড-১৯ প্রতিরোধে বর্তমানে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চলছে। ব্রিটিশ কোম্পানির উদ্ভাবিত টিকাটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় আমদানি করা হচ্ছে ভারত থেকে। তবে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে বিকল্প উৎস থেকেও টিকা আমদানির চেষ্টা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশেই উৎপাদনের সম্ভাব্যতাও যাচাই করছে সরকার। এক্ষেত্রে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

দেশে চলমান গণটিকাদান কর্মসূচির মধ্যেই টিকার সংকট শুরু হয়। এতে বিকল্প বিভিন্ন উেসর সঙ্গে যোগাযোগ করছে সরকার। দেশে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের জন্য এরই মধ্যে আরো দুটি টিকার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেসব দেশ থেকে টিকা কিনে আনার পাশাপাশি নিজ দেশেও উৎপাদনের কথা ভাবছে সরকার।

স্থানীয়ভাবে টিকার পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব কিনা জানতে চাইলে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা সেই চেষ্টা করেছি। সরকারও আমাদের জন্য লিখেছে, আমরাও লিখছি। এখন পর্যন্ত সেটা হয়নি। এখনই দুটি বা তিনটি কোম্পানি তাতে সম্মতি দিলেও সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনে যেতে পারছি না। টিকা উৎপাদন শুরু করতে সময় লাগবে দু-তিন মাস। এরপর টিকা পরীক্ষা করে ছাড় প্রক্রিয়ায় ন্যূনতম ১৪-১৫ দিন সময় লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০-২১ দিন পর্যন্তও সময় লাগতে পারে। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন মাস বা চার মাস যদি সময় লাগে, সে পর্যন্ত বসে থাকার কি সময় আছে?

বর্তমানে হেপাটাইটিস-বি, টিটেনাস, অ্যান্টি-রেবিসসহ কয়েকটি টিকা উৎপাদন ও বাজারজাত করছে সক্ষমতা থাকা ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা মাসে দেড় কোটি ডোজ। এর মধ্যে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতি মাসে ৮০ লাখ ডোজ উপাদন করতে পারবে। হেলথকেয়ার পারবে ৫০ লাখ ডোজ। আর মাসে ২০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করতে পারবে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস।

বর্তমানে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পরও প্রতি মাসে ২০ লাখ ডোজ করোনার টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির উপবিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বিশ্বাস। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে তাতে প্রতি মাসে ২০ লাখ ডোজ উৎপাদন করতে পারব। এর সঙ্গে সরকারের সহযোগিতা পেলে তা ৫০ লাখে নেয়া সম্ভব। এ টিকা উৎপাদনে গেলে চলমান উৎপাদন ব্যাহত হবে না।’ উৎপাদনের পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্নের সক্ষমতা পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করতে পারবে বলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে জানিয়েছে। ২০২০ সালের শেষ নাগাদ টিকার সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব শুরুর ন্যূনতম দুই বছর আগে টিকা উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। বর্তমানে হেলথকেয়ারের টিটি ও হেপাটাইটিস-বি টিকা বাজারে সরবরাহ হচ্ছে।

হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের (বাপি) ট্রেজারার মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, টিকার বিষয়টি দেখভাল করছে সরকার। সরকার চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

টিকা উৎপাদনে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধারদের সঙ্গে আলোচনায় তারা জানিয়েছেন, টিকা নিশ্চিত করতে জোর চেষ্টা করছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে অনুমোদিত টিকার অংশীদার খোঁজ করতে। সেই চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

ঔষধ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অনুমোদন দেয়া হয়। সেরামের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী টিকা সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় গত ২৭ এপ্রিল রাশিয়ার মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি স্পুটনিক-ভি ও ২৯ এপ্রিল চীনের বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রডাক্টের উৎপাদিত সিনোফার্মের টিকাকে জরুরি প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এসব টিকা আমদানির পাশাপাশি সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের বিষয়ে পরিকল্পনা করছে। সরকার স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনে ডেভেলপারদের সহায়তা দিতে অথবা টিকা উদ্ভাবকদের সঙ্গে যৌথ উৎপাদনে যাবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান জানান, দেশে টিকা আমদানি করার পর এর মূল্য কেমন হবে তা সরকার নির্ধারণ করবে। এসব টিকা আমদানি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি হবে। এর মধ্যে কোনো তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণ থাকবে না। আমদানি ছাড়াও স্পুটনিক-ভি ও সিনোফার্মের টিকা দেশে উৎপাদনের জন্য এরই মধ্যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে অথবা কাঁচামাল নিয়ে এসে বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিতে টিকা উৎপাদন করা যাবে।

18/03/2021

ওষুধ শিল্পের বিকাশে অগ্রণী
নীতি কাঠামোয় জাফরুল্লাহ, ব্যক্তি খাতে স্যামসন-সালমান

বদরুল আলম

এ মাসেই পূর্ণ হচ্ছে স্বাধীনতার ৫০ বছর। মুক্তির সুবর্ণজয়ন্তীর কালে এসে দেশের নানা সফলতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিয়মিত আয়োজন থাকছে বণিক বার্তায়। আজকের উপস্থাপনাটি এ আয়োজনেরই অংশ—

স্বাধীনতার সময় দেশের ওষুধ শিল্প ছিল অবিকশিত একটি খাত। আমদানিনির্ভরতা ছিল অনেক বেশি। সে সময় ওষুধের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশই পূরণ করতে হয়েছে আমদানির মাধ্যমে। ব্যয় করতে হয়েছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বঙ্গবন্ধু বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যার সুফলও আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর আবারো সে পুরনো ধারাতেই ফিরে যায় দেশের ওষুধ খাত।

এ পরিস্থিতি বিরাজ করে আশির দশকের শুরু পর্যন্ত। ১৯৮২ সালে প্রণয়ন করা হয় দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ঔষধ নীতিমালা। ওই নীতিমালাই শিল্প খাতটিতে ব্যক্তি উদ্যোগের বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়। আর এ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সফল ভূমিকার কৃতিত্ব অনেকটাই গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর।

সংশ্লিষ্টদের অভিমত, নীতিমালাটি প্রণয়নের আগে দেশের ওষুধ শিল্পে বিদেশী বিনিয়োগের আধিপত্য ছিল একচ্ছত্র। অসম প্রতিযোগিতায় স্থানীয় উদ্যোগ টিকিয়ে রাখাই অনেক কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ কারণে এটি প্রণয়নের সময়ে নানা দিক থেকে বিরোধিতারও সম্মুখীন হতে হয়েছে। নীতিমালাটি প্রণয়নের পর এ চিত্র পুরোপুরি উল্টে যায়। ভিত শক্ত করে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ পায় দেশী ওষুধ কোম্পানিগুলো। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সামনে তৈরি হয় লাভজনক বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ। একপর্যায়ে দেশীয় উদ্যোক্তারাই শিল্পটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিতে সক্ষম হন।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ওষুধ শিল্পে এখন যেসব প্রতিষ্ঠানকে জায়ান্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলোর বেশির ভাগেরই বিকাশ ঘটেছে প্রধানত ১৯৮২ সালের পরে। এ বিষয়ে জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬ প্রণয়ন-সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের বক্তব্য হলো, ১৯৮২ সালের ওষুধনীতিটি ছিল প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ওষুধনীতি। এটি ছিল অত্যন্ত সফল ও শিল্পবান্ধব। দেশের মানুষকে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পকে পুনরায় প্রণোদনা দিতে এটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। ১৯৮২ সালে যখন নীতিটি প্রণয়ন করা হয়, তখন ওষুধ খাতের স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বড় ও জোরালো অবস্থান নেয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি ছিল না। তবে নীতি প্রণয়নের পর তা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে ওষুধ শিল্পের বিকাশ ঘটে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এতে অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছে। যেমন স্কয়ার, বেক্সিমকো, অপসোনিন ইত্যাদি।

ওষুধ শিল্পের বিকাশে প্রথম জাতীয় ওষুধ নীতিমালার ভূমিকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, দেশীয় ওষুধ শিল্পের বিকাশের কারণ ছিল সরকারি নীতি। সরকার প্রকৃত নীতিমালা করলে সবাই সুবিধাভোগী হয়। ওই সময় যে ওষুধ কোম্পানির বার্ষিক বিক্রি ছিল যৎসামান্য, এখন ওই কোম্পানিটি হয়তো ঘণ্টায় সেই পরিমাণের চেয়েও বেশি ওষুধ বিক্রি করে। ওই সরকারি নীতিমালা প্রণয়নের কারণেই দেশে উৎপাদিত ওষুধের বাজার ক্রমেই সম্প্রসারিত হয়েছে।

বাংলাদেশ এখন ওষুধ উৎপাদনে প্রায় স্বনির্ভর। মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ এখন দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। এ উৎপাদন কার্যক্রমে অনুসরণ করা হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংজ্ঞায়িত আদর্শ উৎপাদন চর্চার (গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস বা জিএমপি)। এজন্য স্কয়ার, বেক্সিমকোসহ বেশকিছু ওষুধ কোম্পানি এরই মধ্যে নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে বৈশ্বিক ওষুধ খাতের বড় কিছু সনদ অর্জন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ, যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ, ইউরোপের ইইউ, অস্ট্রেলিয়ার টিজিএ, উপসাগরীয় দেশগুলোর জিসিসি, ব্রাজিলের আনভিসা ইত্যাদি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ এখন বিদেশে রফতানি হচ্ছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছেছে বিদেশেও। এক্ষেত্রে নীতিমালার পাশাপাশি ব্যক্তি খাতের উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে অভিমত খাতসংশ্লিষ্টদের।

তাদের ভাষ্যমতে, যৎসামান্য থেকে শুরু হওয়া ওষুধ শিল্পের এ অর্জনের পেছনে ১৯৮২ সালের নীতিমালাটি যেমন গুরুত্ববহ, তেমনি উল্লেখ করতে হয় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অবদানও। এক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছেন দুজন উদ্যোক্তা। তারা হলেন স্যামসন এইচ চৌধুরী ও সালমান এফ রহমান। তাদের প্রতিষ্ঠিত ওষুধ কোম্পানিগুলো এখন শুধু দেশের বাজারেই জায়ান্ট হয়ে ওঠেনি, একই সঙ্গে বিদেশেও রফতানি করছে কোটি কোটি টাকার ওষুধ।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রেনাটা লিমিটেডের সিইও ও এমডি সৈয়দ এস কায়সার কবিরের মূল্যায়ন, ১৯৮২ সালের ওষুধনীতির জন্য আমরা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছে ঋণী। আমাদের ওষুধ বাজারে এখন স্থানীয় কোম্পানিগুলোর আধিপত্য ওই নীতির কারণেই। নীতি প্রণয়নের কয়েক বছরে অনেক সন্দেহ বিরাজ করছিল যে স্থানীয় কোম্পানিগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে কিনা। এটা যে সম্ভব, তা দৃশ্যমান হয় স্কয়ার ও বেক্সিমকোর নেতৃত্বে।

অথচ ষাটের দশকেও ভারতীয় উপমহাদেশের এ ভূখণ্ডে ওষুধ কোম্পানি ছিল না বললেই চলে। হাতে গোনা কিছু ওষুধ কোম্পানির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অপসোনিন, একমি ও স্কয়ার। এর মধ্যে স্কয়ারের প্রতিষ্ঠা ১৯৫৮ সালে। কয়েক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠা করেন স্যামসন এইচ চৌধুরী। সে সময়ের এ ছোটখাটো উদ্যোগ আজ অনেক বড় এক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। কর্মসংস্থান হয়েছে ২৮ হাজারেরও বেশি মানুষের। বাংলাদেশের বাইরে কেনিয়ায়ও ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছে স্কয়ার।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, সেই সময় প্রফেসর নুরুল ইসলাম, ডা. জাফরুল্লাহসহ আরো অনেকের সহযোগিতায় ওষুধনীতিটি প্রণয়ন হয়। ওই সময় আধিপত্যে থাকা বহুজাতিক কোম্পানির জন্য নীতিমালাটি ছিল বড় ধরনের ‘শক’। আমাদের চিকিৎসকরাও বিশ্বাস করতে চাইতেন না যে ওষুধের মতো একটি পণ্য বহুজাতিক ছাড়া স্থানীয় কোম্পানি উৎপাদন করতে পারে। সে বিশ্বাসটি তৈরিতে ভূমিকা রাখে ওষুধনীতি। বাজারে ওষুধের মূল্যে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, নীতিমালাটির পরে নিয়ন্ত্রণ আসে। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে তখন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। স্কয়ার, বেক্সিমকো, একমি, অপসোনিন তখন সক্রিয়ভাবে ওষুধ শিল্প বিকাশে এগিয়ে আসে। ১৯৮২-এর যথাযথ ওষুধনীতির সুফল হিসেবেই এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের বিকাশ ঘটছে। যার কারণে স্থানীয় বাজারে ওষুধের চাহিদা মিটিয়ে এখন রফতানিও হচ্ছে।

ওষুধ শিল্পের জায়ান্ট বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের যাত্রা ১৯৭৬ সালে সালমান এফ রহমানের উদ্যোগে। ১৯৮০ সালে ওষুধ উৎপাদনে আসে বেক্সিমকো। বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনকারীর প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম বেক্সিমকো। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা করা একাধিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিকে অধিগ্রহণ করে নিয়েছে। বেক্সিমকোর বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে শিল্পটিতে উন্নত পশ্চিমা বিশ্বেও। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রথম ওষুধ কোম্পানি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ রফতানি করে প্রতিষ্ঠানটি।

জানতে চাইলে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ওষুধ শিল্পের আজকের অবস্থানের নেপথ্যে মূল ভূমিকায় ছিলেন এখানকার সক্রিয়, কঠোর পরিশ্রমী ও দূরদর্শী উদ্যোক্তারা—যেমন স্যামসন এইচ চৌধুরী। শুধু তিনিই নন, আমরাও ছিলাম। একমি ও অপসোনিনও ছোট থেকে পর্যায়ক্রমে বড় হলো। ওষুধনীতি মূলত আমাদের সাহস দিয়েছে। নীতিটির আগে বাংলাদেশের ওষুধ খাতে আধিপত্য ছিল বহুজাতিক কোম্পানির। ৯০ শতাংশই ছিল বহুজাতিক কোম্পানির বাজার। ওষুধনীতিতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। সরকার অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে এবং তত্কালেও দিয়েছে। কিন্তু যদি কোম্পানিগুলোর যোগ্যতা না থাকত তাহলে তো সে সুবিধা কাজে লাগানো সম্ভব হতো না। একদিকে ওষুধনীতি হলো, অন্যদিকে আমরা আমাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হলাম। এসব মিলিয়েই বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প এখন অনেক শক্তিশালী।

ওষুধের বিক্রি ও ধরন নিয়ে নিয়মিত জরিপ চালায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্লিনিক্যাল গবেষণার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আইকিউভিআইএ। প্রতি প্রান্তিকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওষুধের বিক্রির তথ্য সংকলন ও পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটি। আইকিউভিআইএর হিসাব বলছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশে স্থানীয় বাজারে ওষুধ বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। দেশের মোট ওষুধ বিক্রির ৭০ শতাংশই করে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইকিউভিআইএ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ অনুযায়ী শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে স্কয়ার, ইনসেপ্টা, বেক্সিমকো. হেলথকেয়ার, অপসোনিন, রেনাটা, এসকায়েফ, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল, এসিআই ও অ্যারিস্টোফার্মা।

মানুষের ভরসারস্থল ছিল টেলিমেডিসিন 03/01/2021

https://www.sarakhon.com/c/10992/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%B2-%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8

মানুষের ভরসারস্থল ছিল টেলিমেডিসিন `ভোর রাতে গর্ভবতী স্ত্রীর পেটে ব্যাথা নিয়ে বিপদে পড়েছিলাম। পরে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আমরা খুবই উপকৃত হ....

11/12/2020

শীঘ্রই ফার্মাসিস্টদের স্বপ্ন পূরণ হবে 💝
ফার্মাসিস্টদের জন্য স্বাধীন পরিদপ্তর গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। চালু হবে পূর্ণাঙ্গ হসপিটাল ফার্মাসিস্টদের কার্যক্রম 🏆

06/12/2020

সফলরা সব ব্যবসায় সাফল্য পায় না
বদরুল আলম

ডিসেম্বর ০৬, ২০২০

দেশের বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িকভাবে সফল ব্র্যান্ড হিসেবে এপেক্স, নাভানা, র্যাংগস, আরএকে, সানম্যান, আদ-দ্বীন, শামসুল আলামিন ইত্যাদি নাম বেশ সুনাম অর্জন করেছে। পাদুকা থেকে শুরু করে রিয়েল এস্টেট পর্যন্ত নানা খাতে এসব ব্র্যান্ডসংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সাফল্যের ছাপ রয়েছে। তবে কেবল ওষুধ খাতেই ব্যবসা চালাতে গিয়ে প্রত্যাশামাফিক সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। এমনকি চলমান মহামারী পরিস্থিতিতেও ওষুধ ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

কভিড-১৯ চলাকালে দেশের ওষুধ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ ভালো ব্যবসা করেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে মহামারীর প্রাদুর্ভাব জোরালো হয়ে ওঠার পর এ শিল্পের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর ব্যবসা বেশ চাঙ্গা হয়ে ওঠে। কিন্তু এর মধ্যেও অনেক কোম্পানি রয়েছে, যারা মহামারী পরিস্থিতিতেও ওষুধের বর্ধিত চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বিক্রি বাড়াতে পারেনি।

দেশের পাদুকা বাজারে অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড এপেক্স ফুটওয়্যার। পাদুকা ব্যবসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে ব্র্যান্ড হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিতে পারলেও ওষুধ শিল্পের ব্যবসায় ভালো করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এরই প্রতিফলন এপেক্স ফার্মার বার্ষিক ওষুধ বিক্রির পরিসংখ্যানে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্লিনিক্যাল গবেষণার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আইকিউভিআইএর তথ্যমতে, ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে এপেক্স ফার্মার ওষুধ বিক্রির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর আগে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির ওষুধ বিক্রি হয়েছিল ৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার। সে হিসাবে এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির ওষুধ বিক্রি কমেছে সাড়ে ১৪ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছর জুন পর্যন্ত দেশের মোট ওষুধ বিক্রিতে এপেক্স ফার্মার অংশ ছিল মাত্র দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

অথচ দেশের পাদুকা শিল্পে বড় ব্র্যান্ড এপেক্স। ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুকের সর্বশেষ সংস্করণের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরও দেশের প্রধান পাদুকা প্রস্তুতকারকদের মধ্যে শীর্ষে ছিল এপেক্স ফুটওয়্যারের নাম।

ওষুধ শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু এপেক্স নয়, এমন আরো অনেক কোম্পানি রয়েছে, যারা অন্যান্য পণ্যের ব্যবসায় স্বীকৃত জায়ান্ট হলেও ওষুধের ব্যবসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আইকিউভিআইএর পরিসংখ্যানে।

প্রতি প্রান্তিকেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওষুধ বিক্রির তথ্য সংকলন ও পর্যালোচনা করে আইকিউভিআইএ। চলতি বছর জুন পর্যন্ত সংস্থাটির হিসাব বলছে, দেশের ওষুধ শিল্পে মোট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান আছে আড়াই শতাধিক। এর মধ্যে পণ্য বিক্রিতে আধিপত্য রয়েছে শীর্ষ ১০ কোম্পানির। গত এক বছরে বাংলাদেশে স্থানীয় বাজারে মোট ওষুধ বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ১০টিরই অংশ রয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।

আইকিউভিআইএর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওষুধ বিক্রির বাজারে দেশের বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য ব্যবসায় বেশ ভালো করছে।

মোটরগাড়ি, ইলেকট্রনিকস, আবাসন ও শিপিং ব্যবসায় দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্রুপ র্যাংগস। ২০০৩ সালে গ্রুপটি ওষুধ শিল্পে পদার্পণ করে র্যাংগস ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড নামে। পরিসংখ্যান বলছে, জুনে শেষ হওয়া বছরে ওষুধ বিক্রির দিক থেকে শীর্ষ ৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও স্থান করে নিতে পারেনি র্যাংগস। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি ওষুধ বিক্রি করেছে ১৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার। এ এক বছরে কোম্পানির বিক্রি কমেছে ৩৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ সময় বিক্রির বাজারে প্রতিষ্ঠানটির অংশ ছিল মাত্র দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

অন্যান্য খাতে ভালো করেও ওষুধের বাজারে পিছিয়ে পড়া এমন আরেকটি প্রতিষ্ঠান নাভানা। জুনে শেষ হওয়া বছরে প্রতিষ্ঠানটির ওষুধ বিক্রি কমেছে ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

একই অবস্থা বস্ত্র ও পোশাক এবং টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান সানম্যান গ্রুপেরও। সানম্যান গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সানম্যান বারডেম জুনে শেষ হওয়া বছরে বিক্রি করতে পেরেছে ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার পণ্য। মোট বিক্রির বাজারে প্রতিষ্ঠানটির অংশ ছিল দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জুন পর্যন্ত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি কমেছে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে ওষুধের ব্যবসার ধরনে অনেক পার্থক্য আছে। সার্বিকভাবে বলতে গেলে মূলত ওষুধের বিপণন কৌশলের ঘাটতির কারণে অন্য ব্যবসার বড় ও ভালো কোম্পানিগুলো ওষুধের ব্যবসায় ভালো করতে পারছে না।

দেশের চিকিৎসা সেবা খাতে প্রতিষ্ঠিত একটি নাম আদ-দ্বীন। স্বল্প ব্যয়ে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা দিয়ে এরই মধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ওষুধের ব্যবসায় নেমে খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছে না আদ-দ্বীন। আইকিউভিআইএ জানিয়েছে, গত জুন পর্যন্ত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি ওষুধ বিক্রি করেছে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার। ওষুধের বাজারে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অংশ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

অন্য ব্যবসায় ভালো করলেও ওষুধ শিল্পে এসব প্রতিষ্ঠানের ভালো করতে না পারার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ওষুধের ব্যবসা দেশের অন্য সব ব্যবসা থেকে অনেকটাই আলাদা। এ ব্যবসার উৎপাদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো মূলত কারিগরি। আর বাজারজাত পর্যায় পর্যন্ত আসনে ভিন্ন ধরনের বিপণন কৌশল অবলম্বন করতে হয়, যার অনেক ক্ষেত্রেই অনৈতিক চর্চার প্রদর্শনও ঘটে থাকে। এ পরিবেশে টিকে থাকার লড়াইটাও তাই অন্যান্য ব্যবসা থেকে ভিন্ন। অনেক সফল উদ্যোক্তাই তাই এ ব্যবসায় প্রবেশ করলেও একটা পর্যায়ে বেরিয়ে এসেছে।

ওষুধ শিল্পে ভালো করতে না পেরে ব্যবসা আংশিকভাবে গুটিয়ে নিয়েছে শামসুল আলামিন গ্রুপ। আইকিউভিআইএর পরিসংখ্যান বলছে, সর্বশেষ জুন পর্যন্ত এক বছরে গ্রুপটির প্রতিষ্ঠিত ওষুধের ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি কমেছে ৮৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এ বিষয়ে শামসুল আলামিন গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার ও আবাসন খাতের মালিক সংগঠন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বণিক বার্তাকে বলেন, ওষুধের ব্যবসার খাতটি অনেকটাই টেকনিক্যাল। উৎপাদন থেকে শুরু করে পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রেও সে টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর প্রভাব দেখা যায়। এসবের অভিজ্ঞতার ঘাটতি থেকেই ওষুধের ব্যবসার বড় একটি অংশ ছেড়ে দিয়েছি আমরা।

ওষুধ শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানের পারদর্শিতা তিনটি আঙ্গিকে বিবেচনা করা হয়। ব্যবস্থাপনা, পণ্য ও নীতি—এ তিন ক্ষেত্রে পারদর্শিতার সমন্বয়ে যে প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে যেতে পারে তারাই বাজারে টিকে থাকে। কারিগরি দিকসম্পন্ন খাতটিতে টিকে থাকতে প্রয়োজন হয় কেন্দ্রীভূত মনোযোগ ও সহনশীলতার। এ খাতে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টও (আরওআই) খুব দ্রুত যেমন আসে না, তেমনি এলেও তা খুব একটা বেশি হয় না। সার্বিক প্রেক্ষাপটেই অন্য ব্যবসায় ভালো করছে, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক মানসিকতাই ওষুধের ব্যবসায়ে টিকে থাকা বা না থাকার নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) সেক্রেটারি জেনারেল এসএম শফিউজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, অন্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত বড় গ্রুপ হলেও ওষুধের ব্যবসায় ভালো করছে না এমন অনেক প্রতিষ্ঠানই আছে ওষুধ শিল্পে। অনেকে টিকতে না পেরে ব্যবসা বিক্রি করে দিয়েছে এমন ঘটনাও আছে। মূলত ওষুধের ব্যবসার ধরনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারার কারণে অনেক বড় গ্রুপ ভালো করতে পারেনি। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই সঠিক বিপণন কৌশল অবলম্বনে ব্যর্থ হয়েছে।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address

ADUST
Dhaka
1207