Department of Political Science, University of Rajshahi, 57th Batch

Department of Political Science, University of Rajshahi, 57th Batch PoliVerse-57

16/07/2026

রেজিষ্ট্রেশন চলছে। কেবল অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন সম্পূর্ণ হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন সম্পূর্ণ করুন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় এলামনাই সম্মিলন আগামী ৩০-৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
বিস্তারিত কমেন্টে....

দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার আদিপাঠ: সক্রেটিস-পূর্ব যুগ থেকে শুরু ( পর্ব-৫) প্রধান শিরোনাম : ডেমোক্রেটাস: যুক্তিবাদ, বিজ্ঞান ও...
15/07/2026

দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার আদিপাঠ: সক্রেটিস-পূর্ব যুগ থেকে শুরু ( পর্ব-৫)

প্রধান শিরোনাম :
ডেমোক্রেটাস: যুক্তিবাদ, বিজ্ঞান ও মানবসভ্যতার বুদ্ধিবৃত্তিক বিবর্তনের এক অগ্রদূত

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন একজন দার্শনিক আছেন, যাঁর চিন্তা তাঁর নিজস্ব সময়কে ছাড়িয়ে হাজার বছর পরেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রেটাস (খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ৪৬০–৩৭০) এমন এক সময়ে বসবাস করেছিলেন, যখন প্রকৃতি, জীবন ও মহাবিশ্বের অধিকাংশ ব্যাখ্যাই ছিল পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় বিশ্বাসনির্ভর। কিন্তু ডেমোক্রেটাস সাহসের সঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন প্রকৃতিকে বোঝার জন্য অলৌকিকতার নয়, যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও কারণ-কার্য সম্পর্কের আশ্রয় নিতে হবে।

তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হলো পরমাণুবাদ (Atomism) বিষয়ে । তিনি দাবি করেছিলেন, মহাবিশ্বের সবকিছুই গঠিত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা অ্যাটমোস (Atomos) এবং শূন্যস্থান (Void) দিয়ে। আধুনিক বিজ্ঞান আজ যে পরমাণু, অণু, মৌল ও উপ-পরমাণুকণার জগৎ আবিষ্কার করেছে, তার বীজ নিহিত ছিল ডেমোক্রেটাসের এই বিপ্লবী চিন্তায়।

প্রাচীন গ্রিসে যুক্তিবাদের উত্থানে ডেমোক্রেটাসের ভূমিকা ছিল। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর গ্রিস ছিল জ্ঞানচর্চার এক স্বর্ণযুগ। দর্শন, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও রাজনীতিতে নতুন নতুন চিন্তার বিকাশ ঘটছিল। এই সময়ে ডেমোক্রেটাস তাঁর শিক্ষকের সঙ্গে মিলে এমন একটি দার্শনিক মতবাদ গড়ে তোলেন, যা প্রকৃতির প্রতিটি ঘটনাকে প্রাকৃতিক নিয়মের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে।
তাঁর মতে, বিশ্বজগতে দুটি মৌলিক বাস্তবতা রয়েছে পরমাণু এবং শূন্যস্থান। পরমাণুগুলো চিরন্তন, অবিনশ্বর এবং সর্বদা গতিশীল। এগুলোর আকার, বিন্যাস ও অবস্থানের পার্থক্য থেকেই সৃষ্টি হয় পাথর, পানি, বায়ু, উদ্ভিদ, প্রাণী এমনকি মানুষও। অর্থাৎ প্রকৃতির সব বৈচিত্র্যের পেছনে রয়েছে ক্ষুদ্র কণার বিভিন্ন বিন্যাস।

ডেমোক্রেটাসের পরমাণুবাদ ছিল আধুনিক বিজ্ঞানের পূর্বাভাস। তবে হুবহু সঠিক তিনি ছিলেন না। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান বলছে, পরমাণু অবিভাজ্য নয়; এটি প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন দ্বারা গঠিত। পরে কোয়ার্ক, গ্লুয়নসহ আরও মৌলিক কণার অস্তিত্বও আবিষ্কৃত হয়েছে। ফলে ডেমোক্রেটাসের পরমাণু ধারণা হুবহু সঠিক ছিল না।তবু প্রশ্ন হলো তাঁকে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়?
কারণ, তিনি প্রথম সুসংগঠিতভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে বস্তু ক্ষুদ্র কণার সমষ্টি এবং প্রকৃতির পরিবর্তন সেই কণাগুলোর বিন্যাসের পরিবর্তনের ফল। এই ধারণা পরবর্তীকালে পরমাণু তত্ত্ব, ইলেকট্রন আবিষ্কার, নিউক্লিয়ার মডেল এবং পরমাণু মডেল বিকাশের ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদরা মনে করেন, ডেমোক্রেটাসের প্রকৃত গুরুত্ব তাঁর বৈজ্ঞানিক মনোভাব৷ তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃতিকে বোঝার জন্য যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণই প্রধান উপায়।

ডেমোক্রেটাস দেবতার অস্তিত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন এমন দাবি করা ইতিহাসসম্মত নয়। তবে তিনি মনে করতেন, প্রকৃতির ঘটনাবলি ব্যাখ্যা করতে অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রয়োজন নেই। বজ্রপাত, ভূমিকম্প, জন্ম-মৃত্যু কিংবা নক্ষত্রের গতিবিধি সবকিছুরই প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তীকালে বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে। আজ বিজ্ঞান যে পদ্ধতিতে প্রশ্ন করে, পরীক্ষা চালায় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, তার বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড় প্রাক-সক্রেটীয় দার্শনিকদের মধ্যেই নিহিত।
নৈতিক দর্শনে ডেমোক্রেটাস ছিলেন অনন্য। তিনি শুধু প্রকৃতি নিয়েই ভাবেননি; মানুষের জীবন, সুখ ও নৈতিকতা সম্পর্কেও গভীর চিন্তা করেছেন। তাঁর মতে, মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন হলো Euthymia অন্তরের প্রশান্তি ও মানসিক ভারসাম্য। আজকের সুফি দর্শনের সাথে মিলে যায় এই ধারণাটা।
তিনি লিখেছিলেন, অতিরিক্ত ভোগ-বিলাস মানুষকে সুখী করে না; বরং সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও ন্যায়পরায়ণতা মানুষকে প্রকৃত আনন্দ দেয়। বর্তমান ভোগবাদী সমাজে তাঁর এই দর্শন নতুন তাৎপর্য বহন করে।
ডেমোক্রেটাসকে ইতিহাসে The Laughing Philosopher বা হাস্যোজ্জ্বল দার্শনিক নামে স্মরণ করা হয়। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি মানুষের অজ্ঞতা, লোভ ও অহংকারকে ব্যঙ্গাত্মক হাসির মাধ্যমে দেখতেন। এই হাসি অবজ্ঞার নয়; বরং মানবজীবনের সীমাবদ্ধতাকে উপলব্ধি করার এক দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি।

কেন তাঁর রচনা হারিয়ে গেল? ইতিহাসের এক বড় দুর্ভাগ্য হলো, ডেমোক্রেটাসের শতাধিক গ্রন্থের কোনো পূর্ণাঙ্গ কপি আজ আর নেই। তাঁর দর্শন সম্পর্কে আমরা জানতে পারি বিভিন্ন প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি থেকে। গবেষকদের মতে, প্লেটোনিক ও অ্যারিস্টটেলীয় দর্শনের ব্যাপক প্রভাবের ফলে তাঁর রচনাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।

আধুনিক যুগে ডেমোক্রেটাসের প্রাসঙ্গিকতা: আজকের পৃথিবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানোপ্রযুক্তি, জিন প্রকৌশল ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও প্রমাণনির্ভর জ্ঞান। ডেমোক্রেটাস আমাদের শিখিয়েছেন প্রকৃতিকে বুঝতে হলে প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তি প্রয়োগ করতে হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তাঁর দর্শন আজও বিজ্ঞান শিক্ষা, সমালোচনামূলক চিন্তা, গবেষণা পদ্ধতি এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ডেমোক্রেটাসের সবচেয়ে বড় অবদান কেবল পরমাণুবাদ নয়; বরং তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন বিশ্বকে বোঝার জন্য কুসংস্কারের পরিবর্তে যুক্তি, পর্যবেক্ষণ এবং প্রমাণের ওপর নির্ভর করতে হবে। তিনি এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের সূচনা করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় আধুনিক বিজ্ঞান বিকশিত হয়েছে।

আড়াই হাজার বছর আগে উচ্চারিত তাঁর চিন্তা আজও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জ্ঞান তখনই অর্থবহ, যখন তা প্রশ্ন করতে শেখায়; বিজ্ঞান তখনই বিকশিত হয়, যখন সমাজ মুক্তচিন্তাকে সম্মান করে। তাই ডেমোক্রেটাস কেবল একজন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক নন; তিনি মানবসভ্যতার যুক্তিবাদী অভিযাত্রার এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা।

📝 Md. Abdul Barik

পর্ব -১:https://www.facebook.com/share/p/18uTE8ASRg/
পর্ব -২:https://www.facebook.com/share/p/1Afi2tW4e2/
পর্ব -৩:https://www.facebook.com/share/p/1Bswunicva/
পর্ব -৪:https://www.facebook.com/share/p/1E7korT9uw/

দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার আদিপাঠ: সক্রেটিস-পূর্ব যুগ থেকে শুরু ( পর্ব-৪) প্রধান শিরোনাম:পরিবর্তনই চিরন্তন: হেরাক্লিটাসের দর...
10/07/2026

দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার আদিপাঠ: সক্রেটিস-পূর্ব যুগ থেকে শুরু ( পর্ব-৪)

প্রধান শিরোনাম:
পরিবর্তনই চিরন্তন: হেরাক্লিটাসের দর্শন ও আমাদের সময়

আমার জন্ম ২০০১ এ। তখন ছিল ছোট্ট দু'টো হাত, পা, ছোট ছোট চোখ, রোদের তীব্রতা সহ্য করতে না পারা ত্বক, ছিল না দাঁত। তারপর? তারপর ধীরে ধীরে বড় হলাম, ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। সেই ছোট কথা বলতে না পারা ছেলেটা বড় হয়েছি, কথা বলা শিখেছি। তীব্র রোদেও কষ্ট হয় না। দাঁতগুলো শক্ত মাংস চিবিয়ে ফেলে নিমেষেই। জীবন আর জীবিকা সম্পের্ক চিন্তা না করা ছেলেটা অনেকটা বাঁধ্য হয়েই চিন্তা করা শিখতে হচ্ছে। শারীরিক, মানসিক বা আত্মিক একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছি, অতপর মৃত্যুও আসবে। আমাকে তা গ্রহণ করতেই হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্ম দিয়েছেন, মৃত্যুও দিবেন। মাঝের সমস্ত সময় হলো পরিবর্তন। আর পরিবর্তন-ই জীবন। কথাটা আমি (মাত্রই) লিখতে লিখতে উপলব্ধি করতেছি। আর সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টটা পড়তে পড়তে আপনিও হয়তো উপলব্ধি করছেন। যাইহোক আজকে একজন দার্শনিকের সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে চলেছি, যাকে বলা হয় পরিবর্তনের দার্শনিক।

আমাদের জীবন, সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা একটা বিষয় খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারি, আর সেটা হলো কোনকিছুই স্থির নয়। সবকিছুই পরিবর্তনশীল। সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলায়, সমাজ বদলায়, রাষ্ট্র বদলায়, এমনকি আমাদের চিন্তা ও বিশ্বাসও পরিবর্তিত হয়। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই গভীর সত্যটি উপলব্ধি করেছিলেন প্রাক-সক্রেটীয় গ্রিক দার্শনিক হেরাক্লিটাস (খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ৫৩৫–৪৭৫)। তাই তাঁকে বলা হয় The Philosopher of Change বা পরিবর্তনের দার্শনিক।

হেরাক্লিটাসের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি ''No man ever steps in the same river twice.” অর্থাৎ, কোনো মানুষ একই নদীতে দু'বার পা রাখতে পারে না। আমার লেখা এই পর্বগুলোর প্রথম পোস্টে বলেছিলাম বিস্তারিত জানাবো। কারণ হেরাক্লিতোস বা হেরাক্লিটাস সম্পর্কে জানতে গিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি জীবনের সাথে পরিবর্তনের সম্পর্ক কতটা গভীর।
“কোনো মানুষ একই নদীতে দু'বার পা রাখতে পারে না।” প্রথম দর্শনে কথাটি সহজ মনে হলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ অত্যন্ত গভীর। বিষয়টা এমন, দ্বিতীয়বার যখন একজন মানুষ নদীতে নামে, তখন নদীর পানি আর আগের মতো থাকে না; প্রবাহ ইতোমধ্যে বদলে গেছে। একই সঙ্গে মানুষটিও আর আগের মানুষ থাকে না। সময়, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, সুখ-দুঃখ এবং জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে সেও পরিবর্তিত হয়। ফলে নদীও নতুন, মানুষও নতুন। এই একটি উপমার মধ্যেই হেরাক্লিটাস মানবজীবন ও বিশ্বপ্রকৃতির চিরন্তন গতিশীলতার দর্শন তুলে ধরেছেন। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা উপমাটা, আপনার জন্ম ও বেড়ে ওঠাকে মিলিয়ে দেখেন।

হেরাক্লিটাসের মনে করতেন, পরিবর্তনই প্রকৃতির একমাত্র স্থায়ী সত্য। আমরা স্থায়িত্বের যে ধারণা লালন করি, তা অনেকাংশেই আমাদের উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা। প্রকৃতিতে সবকিছুই অবিরাম প্রবাহমান আমাদের জন্ম ও মৃত্যু, সৃষ্টি ও বিনাশ, উন্নতি ও অবনতি, মিলন ও বিচ্ছেদ। পরিবর্তনকে থামিয়ে রাখার কোনো উপায় নেই; বরং পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই জীবন ও সভ্যতার অগ্রগতি ঘটে।

তাঁর দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো Logos (লোগোস)। হেরাক্লিটাস বিশ্বাস করতেন, বিশ্বজগতের এই আপাত বিশৃঙ্খল পরিবর্তনের পেছনে একটি সার্বজনীন যুক্তি ও শৃঙ্খলা কাজ করে। এই লোগোসই প্রকৃতি, সমাজ এবং মানুষের জীবনকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত করে। মানুষ যদি সেই যুক্তিকে উপলব্ধি করতে পারে, তবে সে বিশ্বকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সক্ষম হবে। এটা পিথাগোরাসের শৃঙ্খলা বা Order দর্শনের সাথে মিলে যায়।

হেরাক্লিটাস আরও বলেন, বিপরীত শক্তির সংঘাত থেকেই সামঞ্জস্যের জন্ম হয়। দিন ও রাত, আলো ও অন্ধকার, জীবন ও মৃত্যু, সুখ ও দুঃখ এসব একে অপরের বিপরীত হলেও তারা পরস্পরকে অর্থপূর্ণ করে তোলে। তাঁর কথায়, সংঘাত ধ্বংসের প্রতীক নয়; বরং পরিবর্তন ও সৃষ্টির চালিকাশক্তি। এই ভাবনা আধুনিক দ্বান্দ্বিক দর্শনের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ প্রভাবশালী রাষ্ট্র, তার কারণ সে প্রভাবশালী না হলে অন্য একটা রাষ্ট্র ঠিকই হতো। এভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একসময় পৃথিবীর মোড়ল থাকবে না। আর এটাই নিয়ম।

হেরাক্লিটাস আগুনকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মৌলিক উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে এটি কেবল ভৌত অর্থে নয়; আগুন তাঁর কাছে ছিল চিরন্তন গতি, শক্তি ও রূপান্তরের প্রতীক। আগুন যেমন এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় পদার্থকে পরিবর্তিত করে, তেমনি বিশ্বজগতও প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন রূপ ধারণ করে।

আজকের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে হেরাক্লিটাসের দর্শন যেন আরও বাস্তব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার, প্রযুক্তিগত বিপ্লব, জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্বায়ন, অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবর্তন আমাদের প্রতিনিয়ত নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করছে। যে ব্যক্তি, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, তারাই টিকে থাকে এবং নেতৃত্ব দেয়। যারা অতীতকে আঁকড়ে ধরে পরিবর্তনকে অস্বীকার করে, তারা সময়ের স্রোতে পিছিয়ে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছি।

বাংলাদেশও এই পরিবর্তনের বাইরে না। শিক্ষা, প্রশাসন, অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তরুণদের জন্য নতুন দক্ষতা অর্জন, প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ এখন সময়ের দাবি। হেরাক্লিটাস আমাদের শেখান, পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে তাকে বোঝা এবং গ্রহণ করাই প্রজ্ঞার পরিচয়।

হেরাক্লিটাসের দর্শনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো জীবনকে কখনো স্থির ধরে নেওয়া যাবে না। মানুষ প্রতিদিন বদলায়, সমাজ প্রতিদিন নতুন রূপ পায় এবং ইতিহাস প্রতিনিয়ত নতুন অধ্যায় রচনা করে। তাই পরিবর্তনকে প্রতিপক্ষ নয়, সম্ভাবনা হিসেবে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এফেসাসের এক চিন্তকের উচ্চারিত সেই দর্শন আজও সমান সত্য। আমরা প্রত্যেকে প্রতিদিন এক নতুন নদীতে পা রাখছি, আর প্রতিদিনই নতুন একজন মানুষে পরিণত হচ্ছি। এই উপলব্ধিই হয়তো হেরাক্লিটাসের দর্শনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। পরিবর্তনই জীবনের ধর্ম, আর সেই পরিবর্তনকে উপলব্ধি করাই জ্ঞানের সূচনা।

নোট: আমরা আগে থেকেই সবকিছু জানতাম, জন্মের সময় সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম। অতঃপর নতুন করে জানা শুরু করেছি। প্লেটো এটাই তাঁর থিউরি অব রিকালেকশনে বলেছেন। প্লেটো সম্পর্কে অনেক আলোচনা আছে। বিস্তারিত লিখব ইনশাআল্লাহ।

📝 Md. Abdul Barik

পর্ব -১: https://www.facebook.com/share/p/18uTE8ASRg/

পর্ব -২: https://www.facebook.com/share/p/1Afi2tW4e2/

পর্ব -৩: https://www.facebook.com/share/p/1Bswunicva/

আর কখনও ক্লাস রুটিন নোটিশ গ্রুপের নোটিফিকেশনে দেখা যাবে না। দেখা যাবে না সিআর রাকিবের মেসেজ। আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপর ...
09/07/2026

আর কখনও ক্লাস রুটিন নোটিশ গ্রুপের নোটিফিকেশনে দেখা যাবে না।
দেখা যাবে না সিআর রাকিবের মেসেজ। আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপর একে একে চলে যাব প্রিয় ক্যাম্পাস, বিভাগ ছেড়ে।

আজকে আমাদের শিক্ষাজীবনের সর্বশেষ ক্লাসটা শেষ হলো। মিস করব স্যারদের ক্লাস, মিস করব ম্যামদের ক্লাস, মিস করব একে অপরকে।

বন্ধু, তোকে অনেক ভালোবাসি! বলা হবে না।
কাল সাপ হয়ে দংশন করা হবে না প্রিয় বন্ধুকে!
এটাই এখন জরুরি খবর।

দোয়ায় রাখবেন আমাদের 💝

09/07/2026

বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য।
আপনার ক্যাম্পাস লাইফের স্মৃতি আমাদের সবার সাথে শেয়ার করতে ইনবক্সে লেখা পাঠাতে পারেন। 💝

Once Again, Meet Our Political Science Basketball Team — Hat-trick Champions! 🏆🏆🏆 ⭐The Men Who Make Us Proud1. Nuel2. Ni...
08/07/2026

Once Again, Meet Our Political Science Basketball Team — Hat-trick Champions! 🏆🏆🏆 ⭐

The Men Who Make Us Proud
1. Nuel
2. Nirob
3. Humayun
4. Rafiul
5. Wasi
6. Ashraful
7. Sakin
8. Tibro
9. Rahim
10. Nayeem
11. Amirul (Angur)

পোস্টের শিরোনাম: দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার আদিপাঠ: সক্রেটিস-পূর্ব যুগ থেকে শুরু (পর্ব-৩) প্রধান শিরোনাম: পিথাগোরাস: সংখ্যার...
08/07/2026

পোস্টের শিরোনাম: দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার আদিপাঠ: সক্রেটিস-পূর্ব যুগ থেকে শুরু (পর্ব-৩)

প্রধান শিরোনাম:
পিথাগোরাস: সংখ্যার দর্শন থেকে রাষ্ট্রচিন্তার আধুনিক পাঠ

শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ড. এস এম রাজী স্যার আমাদের ফিডব্যাক ক্লাস উপস্থাপন করার সুযোগ দিতেন। অর্থাৎ একদিনের জন্য আমরা শিক্ষক আর স্যার আমাদের কথা মনযোগ দিয়ে শুনতেন। আমি বিষয়টা সবচেয়ে বেশি ইনজয় করতাম। কারণ সু্যোগ পেলেই দর্শকদের সামনে কিছু বলা আমার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ অনার্সের ফিডব্যাক ক্লাসের চেয়ে আমি মাস্টার্সের একটা ফিডব্যাক ক্লাসে বোধহয় একটু বেশি বলে ফেলেছিলাম। এই প্রসংগটা পরবর্তী কোন পোস্টে বিস্তারিত লিখব। সেদিন যে দার্শনিক সম্পর্কে একটু বেশিই বলে ফেলেছিলাম তাঁর নাম Protagoras. তাঁর একটা বিখ্যাত উক্তি দিয়ে শুরু আর তারপর জ্ঞান কী, কেন, কীভাবে তা বলেছিলাম। ছোট মানুষ! কী বলতে কী বলেছিলাম তা মাঝে মধ্যে ভাবলে হাসি পায়! যাইহোক তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি ছিল Man is the measure of all things....."। Man is the measure of all things- এই উক্তির মাধ্যমে প্রোটাগোরাস বোঝাতে চেয়েছেন যে, সত্য, জ্ঞান ও বাস্তবতার মূল্যায়নের চূড়ান্ত মানদণ্ড হলো মানুষ ও তার অভিজ্ঞতা। তাই কোনো বিষয়ে যা একজন মানুষের কাছে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়, তা তার দৃষ্টিকোণ থেকে সত্য; অর্থাৎ সত্য আপেক্ষিক এবং ব্যক্তি-নির্ভর। সেদিন বুঝতে পারিনি পিথাগোরাস আর প্রোটাগোরাস দুজন আলাদা মানুষ, প্রাক-সক্রেটিস যুগের। পরবর্তীতে একটা বইয়ে দুজন সম্পর্কে জানতে পারি। তারপর একটু ঘাটাঘাটি! যাইহোক প্রোটাগোরাস সম্পর্কে অন্যদিন লিখব। আজকের আলোচ্য বিষয় গণিতবিদ পিথাগোরাস ও তাঁর দর্শন !

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু চিন্তাবিদ আছেন, যাঁদের অবদান একটি নির্দিষ্ট শাস্ত্রের গণ্ডি অতিক্রম করে বহু ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছে। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক ও গণিতবিদ পিথাগোরাস তাঁদের অন্যতম। সাধারণভাবে তাঁকে গণিতের ‘পিথাগোরাসের উপপাদ্য’-এর জন্য স্মরণ করা হলেও, তাঁর চিন্তাধারা কেবল জ্যামিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নৈতিকতা, শিক্ষা, সমাজ, রাষ্ট্র, নেতৃত্ব এবং মানবজীবনের শৃঙ্খলা সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি প্রাচীন গ্রিক রাজনৈতিক দর্শনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তীকালে প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের মতো দার্শনিকদের রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি নির্মাণেও তাঁর ভাবনার সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

পিথাগোরাসের দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল শৃঙ্খলা (Order), সামঞ্জস্য (Harmony) এবং অনুপাত (Proportion)। তিনি বিশ্বাস করতেন, মহাবিশ্ব কোনো বিশৃঙ্খল সত্তা নয়; বরং এটি নির্দিষ্ট নিয়ম, সংখ্যা ও ভারসাম্যের মাধ্যমে পরিচালিত একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা। মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রও এই একই নীতির অনুসারী হওয়া উচিত। যেখানে ভারসাম্য, নিয়ম এবং নৈতিকতা থাকবে, সেখানেই একটি রাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী ও কল্যাণমুখী হতে পারে।

রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে পিথাগোরাস মনে করতেন, রাষ্ট্রের ভিত্তি হওয়া উচিত নৈতিক চরিত্র ও জ্ঞান। ক্ষমতা অর্জনের জন্য নয়, বরং জনকল্যাণের জন্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব এমন ব্যক্তিদের হাতে থাকা উচিত, যাঁরা আত্মসংযমী, শিক্ষিত, ন্যায়পরায়ণ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে নিবেদিত। এই ধারণা পরবর্তীকালে প্লেটোর ‘দার্শনিক-রাজা’ (Philosopher King) তত্ত্বের বৌদ্ধিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

পিথাগোরাস আরও বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তবে তাঁর শিক্ষা কেবল তথ্যভিত্তিক ছিল না; বরং চরিত্র গঠন, আত্মনিয়ন্ত্রণ, নৈতিকতা এবং যুক্তিবোধের বিকাশ ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে কঠোর শৃঙ্খলা, নীরবতা, আত্মসংযম এবং সমষ্টিগত জীবনযাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তাঁর মতে, সুশিক্ষিত নাগরিক ছাড়া কোনো রাষ্ট্র কখনোই প্রকৃত অর্থে উন্নত হতে পারে না।

তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ধারণা ছিল ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি। যেমন একটি সুরেলা সংগীতের প্রতিটি স্বর নির্দিষ্ট অনুপাতে মিলিত হয়ে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে, তেমনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত হয়। বিভাজন, বিদ্বেষ ও সংঘাত রাষ্ট্রকে দুর্বল করে; আর পারস্পরিক আস্থা রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে।

আজকের বিশ্বে দাঁড়িয়ে পিথাগোরাসের এই চিন্তাধারা নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো নানা ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ, দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা এবং নেতৃত্বের সংকটে ভুগছে। এমন বাস্তবতায় পিথাগোরাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন - কেবল উন্নত অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একটি রাষ্ট্রকে সফল করে না; নৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষিত নাগরিক, আইনের শাসন এবং সামাজিক সম্প্রীতিই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি।

বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে তাঁর দর্শনের গুরুত্ব আরও গভীর। উন্নয়নের পাশাপাশি যদি সুশাসন, জবাবদিহিতা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি টেকসই হবে না। পিথাগোরাসের শৃঙ্খলা ও ভারসাম্যের দর্শন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তিস্বার্থের পরিবর্তে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সামাজিক বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করতে হবে।

তবে সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতায় পিথাগোরাসের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি মূলত জ্ঞানী ও নৈতিক ব্যক্তিদের নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, কিন্তু আধুনিক গণতন্ত্রে জনগণের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের প্রশ্ন অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাঁর দর্শনকে হুবহু অনুসরণ করার পরিবর্তে এর নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধকে আধুনিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করাই অধীক যুক্তিসঙ্গত।

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উচ্চারিত পিথাগোরাসের দর্শন আজও আমাদের একটি মৌলিক শিক্ষা দেয় - রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, জ্ঞান এবং ভারসাম্যের ওপর। প্রযুক্তি বদলেছে, সমাজ বদলেছে, রাজনৈতিক ব্যবস্থা বদলেছে; কিন্তু সুশাসনের মৌলিক নীতিগুলো আজও অপরিবর্তিত। তাই পিথাগোরাস কেবল একজন গণিতবিদ নন; তিনি এমন এক চিন্তাবিদ, যাঁর রাষ্ট্রদর্শন বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায়ও মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করে। সংখ্যার ভাষায় তিনি যেমন মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা ব্যাখ্যা করেছিলেন, তেমনি তাঁর দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয় - একটি রাষ্ট্রও তখনই সফল হয়, যখন সেখানে নৈতিকতা, জ্ঞান, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক সামঞ্জস্য একসূত্রে গাঁথা থাকে।

যাইহোক, প্রফেসর ড. রাজী স্যারের ক্লাসে সেদিন কী ঘটেছিল তা এবং দার্শনিক প্রোটাগোরাস সম্পর্কে জানতে একটা অনুপ্রেরণামুলক কমেন্ট করতেই পারেন!🥰

📝 Md. Abdul Barik

🏆 আবারও সেরার মুকুট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের! 🏀অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভা...
08/07/2026

🏆 আবারও সেরার মুকুট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের! 🏀

অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগ বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬-এ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। ফাইনালে লোক প্রশাসন বিভাগ রানার-আপ হয়েছে।

আজ (৮ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, শিক্ষকবৃন্দ ও খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগ অংশগ্রহণ করে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ আবারও তার ক্রীড়া ঐতিহ্যের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছে। পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ বাস্কেটবল টিম। অভিনন্দন জানাবেন না?

🎉 রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সকল খেলোয়াড়, কোচ, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। ভবিষ্যতেও বিভাগটি শিক্ষা, গবেষণা ও ক্রীড়াঙ্গনে একইভাবে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখুক—এই প্রত্যাশা রইল।

পোস্টের শিরোনাম: দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার আদিপাঠ: সক্রেটিস-পূর্ব যুগ থেকে শুরু (পর্ব-২)প্রধান শিরোনাম:  থেলিস: যিনি পানি থ...
07/07/2026

পোস্টের শিরোনাম: দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার আদিপাঠ: সক্রেটিস-পূর্ব যুগ থেকে শুরু (পর্ব-২)

প্রধান শিরোনাম:
থেলিস: যিনি পানি থেকে সৃষ্টির রহস্য খুঁজেছিলেন, আবার স্বাধীন রাষ্ট্রের ঐক্যের স্বপ্নও দেখেছিলেন

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু চিন্তাবিদ আছেন, যাঁদের ভাবনা হাজার বছর পরেও নতুন আলো ছড়ায়। প্রাচীন গ্রিসের মিলেটাস নগরের দার্শনিক থেলিস (খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ৬২৪–৫৪৬) তাঁদের অন্যতম। তাঁকে সাধারণত পাশ্চাত্য দর্শনের জনক, প্রথম প্রাকৃতিক দার্শনিক এবং প্রাচীন বিজ্ঞানের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর মৌলিক অবদান রয়েছে। যদিও তাঁর নিজের কোনো গ্রন্থ আজ আর সংরক্ষিত নেই, তবুও পরবর্তী দার্শনিক ও ঐতিহাসিকদের লেখার মাধ্যমে তাঁর চিন্তা আজও জীবন্ত। গ্রিসের সপ্তর্ষিদের একজন ছিলেন এই থেলিস। তাঁর মতো একজন দার্শনিকের ভবিষ্যতবাণীর প্রেক্ষিতে পৃথিবীর মানুষ প্রথম সুর্য গ্রহণ দেখেছিল। শুরু হয়েছিল বিজ্ঞানের সূচনা, প্রকৃতির নানা বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণা।

থেলিসের সবচেয়ে বিখ্যাত দর্শন হলো "পানিই সকল কিছুর আদি বা মৌলিক উপাদান (Arche)"। তাঁর মতে, পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি একটি মৌলিক উপাদান থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং সেই উপাদান হলো পানি। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে সমস্ত জীবের অস্তিত্ব পানির ওপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদের বৃদ্ধি, প্রাণীর জীবনধারণ, এমনকি মানুষের অস্তিত্বও পানি ছাড়া অসম্ভব। প্রকৃতির এই বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকেই তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে পানিই সৃষ্টির মূল ভিত্তি।

আজকের বিজ্ঞানের আলোকে আমরা জানি যে মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন পানি নয়। কিন্তু থেলিসের গুরুত্ব তাঁর সিদ্ধান্তে নয়, বরং তাঁর চিন্তার পদ্ধতিতে। তিনি প্রথমদের একজন, যিনি প্রকৃতির ঘটনাকে দেবতা বা অলৌকিক শক্তির পরিবর্তে প্রাকৃতিক কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। এই দৃষ্টিভঙ্গিই পরবর্তীকালে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং যুক্তিনির্ভর দর্শনের ভিত্তি স্থাপন করে। মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন পানি কিনা তা বড় কথা না। মানুষের জন্মের মূলে যে পানি তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। থেলিস মনে করেছিলেন, পানি হলো সব কিছুর আদি নীতি (arche)। সম্ভবত তিনি এ ধারণায় পৌঁছেছিলেন কারণ তিনি দেখেছিলেন যে সব জীবের পুষ্টি আর্দ্র (moist) থেকে আসে, বীজের প্রকৃতি আর্দ্র, এবং তাপও আর্দ্রতা থেকেই উৎপন্ন ও টিকে থাকে।
হ্যাঁ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পবিত্র কুরআনেও পানিকে জীবনের মৌলিক উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কুরআনের বক্তব্য ও থেলিসের দর্শন এক নয়। থেলিস এটি একটি প্রাকৃতিক-দার্শনিক অনুমান হিসেবে বলেছেন, আর কুরআন এটিকে আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কুরআনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত: সূরা আল-আম্বিয়া (২১:৩০):
"আমি পানি থেকে প্রত্যেক জীবন্ত বস্তুকে সৃষ্টি করেছি। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?" (আরবি: Wa jaʿalnā mina al-mā'i kulla shay'in ḥayy.) এটি কুরআনের সবচেয়ে বিখ্যাত আয়াত, যেখানে পানিকে জীবনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূরা আন-নূর (২৪:৪৫): "আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন।" এরপর বিভিন্ন প্রাণীর চলাফেরার ধরন (পেটে ভর দিয়ে, দুই পায়ে, চার পায়ে) উল্লেখ করা হয়েছে।
সূরা আল-ফুরকান (২৫:৫৪): "তিনি পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কের ধারক করেছেন।"এই আয়াতে মানুষের সৃষ্টি এবং বংশবিস্তারের প্রসঙ্গ একসঙ্গে এসেছে।
কুরআন আর থেলিসের দর্শনের মধ্যে মিল হলো উভয় ক্ষেত্রেই পানিকে জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলা হয়েছে। তবে কুরআন স্পষ্ট, যেখানে থেলিসের দর্শন কেবল প্রকৃতিতে সীমাবদ্ধ। থেলিস বলেছেন, পানি হলো প্রকৃতির মৌলিক উপাদান (arche) এটি একটি দার্শনিক ব্যাখ্যা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে , আল্লাহ পানি থেকে জীবন্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন, এটি সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতা ও সৃষ্টির প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধর্মীয় ঘোষণা। তাই এ দুটি বক্তব্যকে এক করে দেখা উচিত নয়। তবে ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, জীবনের সঙ্গে পানির মৌলিক সম্পর্ক এই ধারণাটি থেলিসের দর্শন এবং কুরআন উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্ব পেয়েছে, যদিও তাদের উদ্দেশ্য ও ব্যাখ্যার ভিত্তি ভিন্ন। থেলিসের পানিদর্শন নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমি মূলত পবিত্র কুরআনের সাথে একটু বিষয়টা মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি।

যাইহোক থেলিসের চিন্তা কেবল প্রকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কেও তাঁর দূরদর্শী ধারণা ছিল। তাঁর সময়ে এশিয়া মাইনরের আইওনীয় গ্রিক নগর-রাষ্ট্রগুলো পারস্য সাম্রাজ্যের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ছিল। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে থেলিস একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক প্রস্তাব দেন। তিনি পরামর্শ দেন যে আইওনীয় নগর-রাষ্ট্রগুলো একটি যৌথ পরিষদ (General Council) গঠন করবে এবং একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে মিলিত হয়ে অভিন্ন স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে প্রতিটি নগর-রাষ্ট্র নিজস্ব সরকার, আইন ও স্বাধীন মর্যাদা বজায় রাখবে।

এই ধারণাটি আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোকে ফেডারেল বা কনফেডারেশনধর্মী রাজনৈতিক চিন্তার একটি প্রাথমিক রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়। থেলিস উপলব্ধি করেছিলেন যে বিচ্ছিন্ন ছোট রাষ্ট্রগুলো একা শক্তিশালী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারবে না। তাই তিনি এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামোর কথা বলেন, যেখানে ঐক্য থাকবে, কিন্তু স্বাধীনতা হারিয়ে যাবে না।

থেলিসের প্রকৃতিদর্শন এবং রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যে একটি গভীর মিল রয়েছে। প্রকৃতির মধ্যে তিনি যেমন একটি মৌলিক ঐক্য খুঁজেছিলেন, তেমনি রাজনৈতিক সমাজেও তিনি সহযোগিতা ও সমন্বয়ের দর্শন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর কাছে ঐক্য মানে একরূপতা নয়; বরং বৈচিত্র্য বজায় রেখেই বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা।

থেলিসের এই ধারণা পরবর্তীকালে প্রাক-সক্রেটীয় দার্শনিকদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অসীম বা Apeiron-কে এবং বায়ুকে সৃষ্টির মূল উপাদান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে তাঁর রচনায় থেলিসকে প্রথম দার্শনিক হিসেবে উল্লেখ করেন, যিনি প্রকৃতির মৌলিক নীতি অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছিলেন। আবার তাঁর ইতিহাসগ্রন্থে থেলিসের রাজনৈতিক পরামর্শের বিবরণ সংরক্ষণ করেছেন। এসব সূত্র থেকেই আমরা থেলিসের চিন্তার ব্যাপ্তি সম্পর্কে জানতে পারি।

আধুনিক বিশ্বে থেলিসের রাজনৈতিক চিন্তার প্রতিফলন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক ব্যবস্থায় দেখা যায়। স্বাধীন রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেও নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও কূটনীতির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে থেলিসের ধারণা তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল।

থেলিসের জীবন আমাদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রশ্ন করতে হবে, পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং যুক্তির সাহায্যে সত্য অনুসন্ধান করতে হবে। তিনি প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসকে অন্ধভাবে গ্রহণ করেননি; বরং প্রকৃতিকে বুঝতে চেয়েছেন প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মের মাধ্যমে। এই অনুসন্ধিৎসু মনোভাবই তাঁকে দর্শন ও বিজ্ঞানের ইতিহাসে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।

থেলিস ছিলেন এমন একজন চিন্তাবিদ, যিনি একদিকে পানিকে সৃষ্টির মৌলিক উপাদান হিসেবে ব্যাখ্যা করে প্রকৃতিকে যুক্তির আলোয় দেখার পথ খুলে দিয়েছিলেন, অন্যদিকে স্বাধীন নগর-রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার ধারণা দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারও এক প্রাথমিক ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন। যদিও তাঁর অনেক মতবাদ আজ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে, তবুও তাঁর চিন্তার মূল শিক্ষা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। জ্ঞান অর্জনের জন্য যুক্তি, সমাজ গঠনের জন্য সহযোগিতা এবং সভ্যতার অগ্রগতির জন্য মুক্ত চিন্তার কোনো বিকল্প নেই। তাই থেলিস শুধু একজন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক নন; তিনি মানবসভ্যতার বুদ্ধিবৃত্তিক যাত্রার এক উজ্জ্বল পথপ্রদর্শক।

তথ্যসূত্র (References)
১। পবিত্র কুরআন💝
২। পূর্বোক্ত

📝 Md. Abdul Barik

দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার আদিপাঠ: সক্রেটিস-পূর্ব যুগ থেকে শুরু ( পর্ব-১ )ভেবেছিলাম সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের রাষ্ট্র...
06/07/2026

দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার আদিপাঠ: সক্রেটিস-পূর্ব যুগ থেকে শুরু ( পর্ব-১ )

ভেবেছিলাম সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে টুকটাক লেখালেখি শুরু করব। কিন্তু মাঝপথে আরো কয়েকজন দার্শনিকের নাম চলে আসল। এরা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ত্রয়ী দার্শনিকেরও আগের। সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটলের আগের অনেক দার্শনিক ছিল। তবে Thales of Miletus, Pythagoras, Heraclitus, Parmenides, Democritus এই পাঁচজন উল্লেখযোগ্য । এই পাঁচজনের দর্শন পরবর্তীকালে সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের চিন্তাধারার ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে অনেকেই মনে করেন। আজকে এই পাঁচজন সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেই।

১. থেলিস (Thales of Miletus): থেলিসকে পাশ্চাত্য দর্শনের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকে পৌরাণিক ব্যাখ্যার পরিবর্তে যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও প্রাকৃতিক নিয়মের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তিনি মনে করতেন সবকিছুর উৎপত্তি ও বিকাশের পেছনে প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে। তাঁর প্রধান দর্শন হলো পৃথিবীর মূল উপাদান হলো পানি (Water)। তাঁর মতে, পানিই ছিল সকল সৃষ্টির মূল উপাদান। বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিনির্ভর চিন্তার সূচনায় তাঁর অবদান অনন্য।

২. পিথাগোরাস (Pythagoras): পিথাগোরাস শুধু একজন গণিতবিদ নন, তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী দার্শনিকও। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সংখ্যা ও গাণিতিক নিয়মের মধ্যেই মহাবিশ্বের মৌলিক সত্য নিহিত রয়েছে। তিনি আত্মার অমরত্ব, নৈতিক জীবন ও আত্মশৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর দর্শন গণিত, বিজ্ঞান ও দর্শনের বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছে। গণিতের পিথাগোরাসের উপপাদ্যের জন্য পরিচিত হলেও তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিকও ছিলেন। তিনি মনে করতেন সংখ্যা (Number) হলো মহাবিশ্বের মৌলিক ভিত্তি। আত্মা অমর এবং পুনর্জন্ম লাভ করে। শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নৈতিক জীবনই উত্তম জীবন।

৩. হেরাক্লিটাস (Heraclitus): হেরাক্লিটাস পরিবর্তনের দর্শনের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তাঁর মতে, পৃথিবীতে কোনো কিছুই স্থায়ী নয়; পরিবর্তনই জীবনের একমাত্র চিরন্তন সত্য। তিনি বিশ্বাস করতেন, মতভেদ ও সংঘর্ষ থেকেই নতুন সৃষ্টি ও অগ্রগতির জন্ম হয়। আধুনিক পরিবর্তনশীল সমাজ ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে তাঁর দর্শন আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর বিখ্যাত উক্তি No man ever steps into the same river twice. এই দার্শনিক সম্পর্কে আলাদা করে লিখতে হয়!

৪. পারমেনিদেস (Parmenides): পারমেনিদেস ছিলেন প্রাক-সক্রেটীয় যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এবং এলিয়াটিক (Eleatic) দর্শনধারার প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে, প্রকৃত সত্য কখনো পরিবর্তিত হয় না; পরিবর্তন, জন্ম ও মৃত্যু এসব মানুষের ইন্দ্রিয়ের বিভ্রম। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সত্যকে বুঝতে হলে ইন্দ্রিয়ের ওপর নয়, যুক্তি (Reason)-র ওপর নির্ভর করতে হবে। তাঁর দর্শন পাশ্চাত্য অধিবিদ্যা (Metaphysics) ও যুক্তিবিদ্যার ভিত্তি নির্মাণে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং পরবর্তী সময়ে প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের চিন্তাধারাকেও প্রভাবিত করেছে।

৫. ডেমোক্রিটাস (Democritus): ডেমোক্রিটাস পরমাণুবাদ (Atomism)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে, মহাবিশ্বের সবকিছুই অতি ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণিকা বা পরমাণু দ্বারা গঠিত। তিনি প্রকৃতি ও বিশ্বজগতকে অলৌকিকতার পরিবর্তে প্রাকৃতিক নিয়মের আলোকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি মনে করেন মহাবিশ্ব প্রাকৃতিক নিয়মে পরিচালিত হয়; তাই মহাবিশ্ব সম্পর্কে অলৌকিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। আধুনিক বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের প্রাথমিক ভিত্তি নির্মাণে তাঁর চিন্তার গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রাক-সক্রেটীয় এই পাঁচজন দার্শনিক—থেলিস, পিথাগোরাস, হেরাক্লিটাস, পারমেনিদেস এবং ডেমোক্রিটাস—পাশ্চাত্য দর্শনের ভিত্তি নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁরা পৌরাণিক ব্যাখ্যার পরিবর্তে যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনামূলক চিন্তার মাধ্যমে প্রকৃতি, মহাবিশ্ব এবং মানবজীবনকে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের দর্শন শুধু সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের চিন্তাধারার ভিত্তিই গড়ে দেয়নি, বরং আধুনিক বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। তা অবশ্য পরবর্তী পোস্টগুলোতে তুলে ধরার চেষ্টা করব। হাজার বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের চিন্তা আজও জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং আধুনিক সমাজ বিশ্লেষণে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কতটা প্রাসঙ্গিক তা আপনারা নিজেরাই বলতে পারবেন। আসল কথা কেউ যদি জীবন ও প্রকৃতি নিয়ে চিন্তা ও লেখালেখি করেন সে সবসময়ই সকলের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকেন৷ দেখা হচ্ছে পরবর্তী রাষ্ট্র চিন্তার আদি পাঠে!

রেফারেন্স:
১. Internet Encyclopedia of Philosophy – এখানে সকল দার্শনিক সম্পর্কে জানতে পারবেন।
২. Stanford Encyclopedia of Philosophy – Pythagoras⁠
৩. Stanford Encyclopedia of Philosophy – Ancient Atomism (Democritus)⁠
৪. The Presocratic Philosophers – G. S. Kirk, J. E. Raven & M. Schofield (Cambridge University Press)⁠
৫. The Presocratic Philosophers – Jonathan Barnes⁠
৬. A History of Greek Philosophy (Vol. I) – W. K. C. Guthrie⁠

📝 Md. Abdul Barik

Address

Rajshahi
Dhaka

Opening Hours

Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Department of Political Science, University of Rajshahi, 57th Batch posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share