15 minute for Quran

15 minute for Quran

Share

আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’? (Ha-Meem Sijdah 33-34)

And who is better in speech than one who invites to Allah and does righteousness and says, "Indeed, I am of the Muslims."

18/05/2026

বছরের সেরা ১০টি দিন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে না তো?

​রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আল্লাহর দৃষ্টিতে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন থেকে মর্যাদাপূর্ণ দিন আর নেই এবং এই দিনগুলোতে করা ইবাদাতের চেয়ে প্রিয় ইবাদাত আর নেই।” (মুসনাদে আহমাদ)

​এমনকি সহীহ বুখারীর হাদিস অনুযায়ী, এই দিনগুলোর আমল আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার চেয়েও উত্তম (বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া)!

​তাহলে বুঝতেই পারছেন, আমাদের সামনে কত বড় একটা সুযোগ আসছে। জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০টি দিনের মহিমা যেমন অপরিসীম, তেমনি এই দিনগুলোতে আমাদের কিছু বিশেষ আমল করা উচিত।

​চলুন জেনে নিই এই ১০ দিনের মূল ১০টি করণীয় আমল:

​১. 📿 বেশি বেশি যিকির করা: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার বেশি বেশি পাঠ করা।
২. 📅 ১-৯ জিলহজ্জ সিয়াম পালন: বিশেষ করে ৯ই জিলহজ্জ (আরাফার দিন) রোজা রাখা মিস করবেন না! এই ১টি রোজায় বিগত ও আগামী ১ বছরের গুনাহ মাফ হয় (সুবহানাল্লাহ)।
৩. 💰 সাদাকাহ (দান করা): এই বরকতময় দিনগুলোতে সাধ্যমতো বেশি বেশি দান-সਦকা করা।
৪. 📖 কুরআন তিলাওয়াত: প্রতিদিন নিয়ম করে কুরআনের সাথে সময় কাটানো।
৫. 🤲 মরিয়া হয়ে দুআ করা: শেষ রাতে, সেজদায় এবং আযান-ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে অবিরত দুআ করা।
৬. 🌌 কিয়ামুল লাইল: রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায়ের চেষ্টা করা।
৭. 🐏 পশু কুরবানি: সামর্থ্যবানদের জন্য ১০ থেকে ১৩ই জিলহজ্জের মধ্যে কুরবানি সম্পন্ন করা।
৮. ↩️ খাঁটি তাওবাহ: অতীতের সব ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা।
৯. 🕌 নফল ও সুন্নাত সালাত: দৈনিক ১২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাসহ বেশি বেশি নফল সালাত পড়া।
১০. 🛑 পাপ কাজ থেকে দূরে থাকা: যেহেতু আমলের সওয়াব বেশি, তাই এই সময়ে যেকোনো গুনাহের কাজ থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত রাখা।

​আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে এই ১০টি রাতের শপথ নিয়েছেন। তাই আসুন, অবহেলায় দিনগুলো পার না করে আজই একটি সুন্দর পরিকল্পনা করে ফেলি।

​আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই পবিত্র দিনগুলোর সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার করার তাওফিক দান করুন। আমীন। 🤲

#ইসলামিকপোস্ট #জিলহজ্জ #আরাফারদিন #নেকআমল #ইসলাম

07/05/2026
10/04/2025

ঘুমাতে যাওয়ার আগের আমল

ঘুমাতে যাওয়ার আগের আমলসমূহ
-------------------------------------------

ঘুমাতে যাওয়ার আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশ কিছু আমল করতেন। এই সুন্নাহগুলো পালন করার মাধ্যমে আমরা আমাদের ঘুমকেও নেক কাজে পরিণত করতে পারি। ঘুমানোর আগের সুন্নাহগুলো প্রথমে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরে পরে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

১। ব্যবহার্য থালা-বাসন, হাড়ি-পাতিল ঢেকে রাখা ও বাতি নিভিয়ে দেয়া
২। অযু করা
৩। ঘুমানোর পূর্বে দুআ পড়া (যেমনঃ আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া)
৪। সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস পড়া
৫। ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া
৬। আয়াতুল কুরসী পড়া
৭। সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়া
৮। সূরা সাজদাহ ও সূরা মুলক পড়া
৯। ডান কাত হয়ে ঘুমানো

উপরের পয়েন্টগুলোর বিস্তারিত ও রেফারেন্স নিচে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলোঃ

১। ব্যবহার্য থালা-বাসন, হাড়ি-পাতিল ঢেকে রাখা ও বাতি নিভিয়ে দেয়া
---------------------------------
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যখন রাত্রের আঁধার নেমে আসে, অথবা বলেছেনঃ সন্ধ্যা হয়, তখন তোমাদের শিশুদেরকে (বাইরে যাওয়া থেকে) আবদ্ধ রাখো। কেননা সে সময় শয়তান ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতের কিছু সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তাদেরকে ছেড়ে দাও এবং বিসমিল্লাহ বলে ঘরের দরজাসমূহ বন্ধ করো। কারণ শয়তান বদ্ধদ্বার খুলতে পারে না। আর বিসমিল্লাহ পড়ে তোমাদের মশকগুলোর মুখ বন্ধ করো এবং বিসমিল্লাহ বলে তোমাদের পাত্রগুলোও ঢেকে রাখো। (ঢাকার কিছু না পেলে) কোন কিছু আড়াআড়িভাবে হলেও পাত্রের উপর রেখে দাও। (আর ঘুমানোর সময়) বাতিগুলো নিভিয়ে দাও। (বুখারী ও মুসলিম)

১। অযু করা
-----------------------------------------------
হজরত বারা ইবনে আযিব হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন,

‘যখন তুমি তোমার শয্যা গ্রহণের ইচ্ছা করবে, তখন সালাতের ন্যায় অজু করে ডান কাত হয়ে শয়ন করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

যে ব্যক্তি পবিত্রাবস্থায় (অজু অবস্থায় ) ঘুমায় তার সাথে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকে। অতঃপর সে ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহর সমীপে ফেরেশতাটি প্রার্থনায় বলে থাকে, হে আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দাও, কেননা সে পবিত্রাবস্থায় ঘুমিয়েছিল।’ (আল ইহসান ফি তাকরিব, সহীহ ইবনে হিব্বান)

২। ঘুমের পূর্বে দুআ পড়া
------------------------------------------------------------

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাতে গেলে ডান কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন-
اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا

হে আল্লাহ ! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো।

বুখারী,৬৩১৪
ঘুমের পূর্বের দুআ হিসেবে এ দুআটিই আমাদের বেশি পরিচিত। তবে এ ছাড়াও হাদীসে আরও কয়েকটি দুআ বর্ণিত হয়েছে। এসব দুআগুলোও আমরা পড়তে পারি। যেমন,

ক.

اللّٰهُمَّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ

হে আল্লাহ! আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন।
আবূ দাউদ, ৫০৪৭

খ.
اللّٰهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِيْ وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ العَافِيَةَ

হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।
আহমাদ, ৫৫০২।

গ.
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَىْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَىْءٌ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
হে আল্লাহ! হে আকাশ সমূহের রব, যমিনের রব, মহান ‘আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব, হে শস্য-বীজ ও (খেজুরের) আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (অর্থাৎ আপনি তাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।

মুসলিম ২৭১৩

ঘ.
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا، وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لاَ كَافِيَ لَهُ وَلاَ مُؤْوِيَ

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমাদেরকে পানাহার করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। এমন কত মানুষ আছে যাদের প্রয়োজনপূর্ণকারী কেউ নেই এবং যাদের আশ্রয়দানকারীও কেউ নেই।
মুসলিম ২৭১৫

ঙ.
اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءًا أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ

হে আল্লাহ! হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞানী, হে সব কিছুর রব ও মালিক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্ট থেকে ও তার শির্ক থেকে, এবং আমার নিজের উপর কোনো অনিষ্ট করা, অথবা কোনো মুসলিমের প্রতি অনিষ্ট করা থেকে।
তিরমিযী ৩৫২৯

চ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘তোমাদের কেউ যখন বিছানায় যায় তখন সে যেন তার চাদর বা লুঙ্গির আঁচল দিয়ে তিনবার বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না যে, তার চলে যাবার পর এতে কী পতিত হয়েছে। এরপর সে যেন এ দুআটি পড়ে :

بِاسْمِكَ رَبِّ وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ الصَّالِحِينَ

আমার রব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি) এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা উঠাবো। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমাকে আটকে রাখেন (অর্থাৎ মৃত্যু দেন), তবে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন, তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হেফাযত করে থাকেন।

বুখারী, ৬৩২০

৩। সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস পড়া
------------------------------------------------------------------------------

নাওফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন,
তুমি সূরা কাফিরুন পড়ে ঘুমাও। কেননা তা শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা।
সুনানে আবু দউদ, ৫০৫৭

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বললেন, “তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে পার না”? বিষয়টি সাহাবীদের জন্য কঠিন মনে হল। তাই তাঁরা বলে উঠলেন, “হে আল্লাহর রসুল! এই কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে!” (অর্থাৎ কেউ পারবে না।) তিনি বললেন, সুরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান”।. (অর্থাৎ এই সুরা পড়লে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ার সমান নেকী পাওয়া যাবে)।

সহীহুল বুখারী ৫০১৫

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রাত্রে ঘুমানোর আগে দুই তালু একত্রিত করে তাতে ফুঁ দিতেন। এরপর সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়তেন। অতঃপর দুই হাত দ্বারা শরীরের যতদূর পর্যন্ত বুলানো সম্ভব হতো, ততদূর পর্যন্ত বুলিয়ে নিতেন। স্বীয় মাথা, চেহারা এবং শরীরের সামনের দিক থেকে আরম্ভ করতেন। এইভাবে তিনি তিনবার করতেন।’’ (বুখারী ৫০১৭)

৪। ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া
---------------------------------------------------------------

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, ফাতিমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে একটি খাদেম চাইলে, তিনি বললেন, “আমি কি তোমাদের দু’জনকে এমন জিনিস বলে দেবো না, যা তোমাদের খাদেমের চেয়ে উত্তম? তোমরা যখন বিছানায় শুতে যাবে, তখন ৩৩ বার আল্লাহু আকবর, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ এবং ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়বে। এটা তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চেয়েও উত্তম।” (বুখারী ৬৩১৮)

৫। আয়াতুল কুরসী পড়া
----------------------------------
হাদীস শরীফে আছে, যখন বিছানায় ঘুমাতে যাবে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য একজন হেফাযতকারী নিযুক্ত থাকবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান তোমার ধারে কাছেও আসতে পারবে না।”
সহীহ বুখারী, ৫০১০
আয়াতুল কুরসী :

اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاواتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

অনুবাদঃ আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রা তো নয়ই। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর তাঁর যতটুকু ইচ্ছা, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।

৬। সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া
------------------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে সেটা তার জন্য যথেষ্ঠ হবে”। সহীহ বুখারি ৫০০৯
[সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত :

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ -

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ -

অনুবাদঃ
রাসূল তাঁর প্রভুর পক্ষ থেকে যা তাঁর কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশ্তাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন।

আল্লাহ্ কারো উপর এমন কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফলও তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপমোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।]

বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ “রিয়াদুস সালেহীন” এর লেখক ও সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার, ইমাম আন-নববী (রহঃ) বলেন, “এর অর্থ কেউ বলেছেনঃ কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেনঃ শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেনঃ বালা-মুসিবত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। তবে সবগুলো অর্থ সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৭। সূরা সাজদাহ ও সূরা মুলক পড়া
--------------------------------------------------------
“রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সূরা আস-সাজদা ও সূরা মুলক তেলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না।
জামে তিরমিযী ২৮৯২

৮। ডান কাত হয়ে ঘুমানো
-----------------------------------
রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন এ দুআটি পড়বে-

اللّٰهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِيْ إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِيْ إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِيْ إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِيْ إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَّرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِيْ أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِيْ أَرْسَلْتَ

হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছে সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকে ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকে ন্যস্ত করলাম; আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনাকে ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো মুক্তির উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।”

রাসূল (সা) যাকে এ দুয়াটি শিখালেন, তাকে বলেন, "যদি তুমি ঐ রাতে মারা যাও তবে ফিতরাত তথা দীন ইসলামের উপর মারা গেলে"।
বুখারী, ৬৩১৩

10/04/2025

কোরআনুল কারিম আসমানি গ্রন্থ। মানব জাতির মুক্তির উপায় ও পথপ্রদর্শক। এ পবিত্র গ্রন্থেই রয়েছে মানুষের মুক্তির দিশা। এ কোরআন শুধু সঠিক পথের সন্ধান তথা হেদায়েত ও রহমতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনে শুধু এর তেলাওয়াতেও রয়েছে অনেক ফজিলত ও উপকারিতা। কোরআন তেলাওয়াতে মানুষের জীবনের সেসব উপকারিতাগুলো কী?

কোরআন মানুষকে আলোর পথ দেখায়। এটি মানব জাতির জন্য রহমত ও হেদায়েত। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা একাধিক আয়াতে ঘোষণা করেন- ১.‘আর নিশ্চয়ই এটা মুমিনদের জন্যে হেদায়াত ও রহমত।’ (সুরা নমল : আয়াত ৭৭)

২. ‘অবশ্যই তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে আলো ও সুস্পষ্ট গ্রন্থ (কোরআন)। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথ দেখান; যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর তাদেরকে সরল পথের দিকে হেদায়াত দেন।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ১৫-১৬)

কোরআনুল কারিমের তেলাওয়াত, অধ্যয়ন ও শিক্ষা থেকেই মানুষ পায় মুক্তির পথ। আর যারা কোরআন থেকে দূরে সরে যায়; তারা পথহারা ও বিপদগ্রস্ত হয়। তাই সঠিক পথে দিশা পেতে নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়নের বিকল্প নেই। নিয়মিত শুধু কোরআন তেলাওয়াতেও রয়েছে বিশেষ কিছু উপকার। তাহলো-
১. সঠিক পথের সন্ধান : মুমিন মুসলমানের জন্য হেদায়েত ও পথ নির্দেশ হচ্ছে কোরআন। ব্যক্তি, পারিবার, সামাজ কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবন কীভাবে পরিচালিত হবে তা-ও রয়েছে এ মহাগ্রন্থে। আল্লাহ তাআলা বলেন-‘আমি তোমার জন্য কিতাবটি নাজিল করেছি। এটি এমন যে তা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, আর এটি হেদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ।’ (সুরা নাহল : আয়াত ৮৯)

২. কোরআন তেলাওয়াতে ঈমান বাড়ে : কোরআনুল কারিম গুরুত্বের সঙ্গে পড়লে, এর অর্থ অনুধাবন করলে মুমিন বান্দার ঈমান বেড়ে যায়। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেওয়া হয়; তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে কোরআনের আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা নিজ প্রভুর প্রতি ভরসা রাখে। (সুরা আনফাল : আয়াত ২)

৩. অন্তর প্রশান্ত হয় : অশান্ত ও হতাশাগ্রস্ত আত্মার প্রশান্তিতে কোরআন তেলাওয়াতের বিকল্প নেই। অন্তরে হতাশা যত বেশিই হোক না কেন, কোরআন তেলাওয়াত করলে বা শুনলে হৃদয় প্রশান্তিতে ভরে যায়। তাও ওঠে এসেছে কোরআনের বর্ণনায়-

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা প্রশান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্তি পায়। (সুরা রাদ : আয়াত ২৮)

কোরআনের আমলই মানুষকে দুনিয়ার শান্তি ও পরকালের মুক্তি দিতে সক্ষম। দুনিয়ার অন্ধকারকে আলোকিত করে দিতে পারে। সঠিক পথের সন্ধানও দিতে পারে এ কোরআন।

The Holy Quran is a heavenly book. It is the means and guide for the salvation of mankind. This holy book contains the direction for the salvation of man. This Quran is not limited to finding the right path, i.e. guidance and mercy; rather, its recitation alone has many virtues and benefits in human life. What are the benefits of reciting the Quran in human life?

The Quran shows people the path of light. It is a mercy and guidance for mankind. Allah Almighty declares this in several verses: 1. 'And indeed, it is a guidance and a mercy for the believers.' (Surah An-Naml: Verse 77)

2. "Indeed, there has come to you from Allah a light and a clear Book (the Quran). Allah guides thereby those who follow His pleasure and brings them out of darkness into light by His permission, and guides them to a straight path." (Surah Al-Ma'idah: 15-16)

People find salvation through recitation, study and learning of the Holy Quran. And those who stray from the Quran; they become lost and in danger. Therefore, there is no alternative to regular recitation and study of the Quran to get the right direction. Regular recitation of the Quran alone has some special benefits. These are-
1. Finding the right path: The Quran is the guidance and guidance for the believing Muslim. This great book also contains information on how the life of an individual, family, society or state should be conducted. Allah Almighty says - 'We have sent down to you the Book. It is such that it is a clear explanation of everything, and it is a guidance, a mercy and good news for the Muslims.' (Surah An-Nahl: Verse 89)

2. Faith increases in reciting the Quran: When the Quran is read with great importance and its meaning is understood, the faith of the believing servant increases. Allah Almighty declares: “Those who believe are those who, when Allah is mentioned, their hearts tremble with fear. And when the verses of the Quran are recited to them, their faith increases, and they put their trust in their Lord.” (Surah Anfal: Verse 2)

3. The heart becomes calm: There is no alternative to reciting the Quran to calm a restless and depressed soul. No matter how much depression there is in the heart, reciting or listening to the Quran fills the heart with peace. This is also mentioned in the description of the Quran:

Those who believe and whose hearts find rest in the remembrance of Allah; know that in the remembrance of Allah do hearts find rest. (Surah Ar-Ra'd: 28)

The practice of the Quran is capable of giving people peace in this world and freedom in the hereafter. It can illuminate the darkness of this world. This Quran can also help find the right path.

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address

South Komolapur, ICD Gate
Dhaka
1213