MAS Online School & College
This is a page of " MAS ONLINE SCHOOL & COLLEGE."
26/03/2021
HSC Physics 1st paper 10th Chapter | 1st part | Saimun sir HSC Physics 1st paper 10th Chapter | Saimun sir
23/12/2020
Good morning to everybody
বিজ্ঞানীদের কথাঃ টমাস আলভা এডিসন
টমাস আলভা এডিসন ১৮৪৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও, মিলানে জন্ম গ্রহন করেন। একাধারে উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী এবং উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। তাঁর আবিষ্কারেই প্রথম আলোকিত হয়েছিল গোটা পৃথিবী। বৈদ্যুতিক বাতি, ফনোগ্রাফ, মাইক্রোফোন, ভিডিও ক্যামেরা, ফ্লুরোস্কোপসহ আরো হাজারো আবিষ্কারের জনক তিনি। প্রথম বাণিজ্যিক গবেষণামূলক পরীক্ষাগার নির্মাণের কৃতিত্বও তাঁর। কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই তাঁর পেটেন্ট সংখ্যা হাজারের বেশি। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স আর জার্মানিতেও আছে এডিসনের পেটেন্ট।
এডিসন ছিলেন স্যামুয়েল অগডেন এডিসন (১৮০৪-১৮৯৬) ও ন্যন্সি ম্যাথিউস এলিয়টের (১৮১০-১৮৭১) সপ্তম এবং সর্বশেষ সন্তান। তাঁর পিতা ছিলেন ওলন্দাজ বংশোদ্ভুত। এ সময় তাঁর পিতার আর্থিক সচ্ছলতা ছিল। ফলে এডিসনের ছেলেবেলার দিনগুলো ছিল আনন্দদায়ক। সাত বছর বয়সে এডিসনের পিতা মিশিগানের অন্তর্গত পোর্ট হুরন নামে একটা শহরে এসে নতুন করে বসবাস শুরু করলেন। তাঁর পিতাকে কানাডা থেকে পালিয়ে যেতে হয় কারণ তিনি ম্যাকেনজি বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন।
এডিসন স্কুলে ভর্তি হলেন। তিনি অসম্ভব মেধার অধিকারী ছিলেন। কিন্তু স্কুলের গন্ডিবাঁধা পড়াশুনা তাঁর নিকট একঘেঁয়েমি মনে হত। পড়াশুনায় কোনো মনোযোগ নেই, শিক্ষকদের অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ হতেন। স্কুলের শিক্ষকরাও তাঁর সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন না। রেভেরেন্ড অ্যাঙ্গল নামের এক শিক্ষককে একদিন পেছন হতে 'বোকা' বলেছিলেন এডিসন। এতে ভীষণ ক্ষেপে যান তিনি। ফলস্বরূপ তিন মাসেই স্কুলজীবনের সমাপ্তি ঘটে এডিসনের। আর কোনদিন স্কুলে যাননি এডিসন। এবার মায়ের নিকট তাঁর পড়াশুনা শুরু হল।
এডিসন ছোটবেলা থেকে পারিপার্শ্বিক যা কিছু আছে, যা দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন এগুলো নিয়ে। বেশ মজার ঘটনা। একবার তিনি মুরগির মতো ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করতে পারেন কিনা তা দেখবার জন্য ঘরের এক কোণে ডিম সাজিয়ে বসে পড়লেন। এর কয়েক বছর পর তিনি বাড়িতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য একটা ছোট ল্যাবরেটরি তৈরি করলেন। কিছুদিন যেতেই তিনি হাতে-কলমে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কিনে ফেললেন। এ সময় বাবার আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি স্থির করলেন কাজ করে অর্থ সংগ্রহ করবেন।
তেরো বছরের ছেলে কাজ করবে! তাঁর বাবা-মা দুজনে রীতিমত অবাক। এডিসনের জেদ চাকরি করবে। অগত্যা আর কি করা, বাবা-মা দুজনে রাজি হলেন। এডিসন অনেক খোঁজাখুঁজির পর খবরের কাগজ ফেরি করার কাজ পেলেন। আরো বেশকিছু আয় করার জন্য তিনি খবরের কাগজের সাথে চকলেট বাদামও রেখে দিতেন। এভাবে কয়েক মাসের মধ্যে বেশকিছু অর্থ সংগ্রহ হল।
এ সময় এডিসন জানতে পেলেন একটি ছোট ছাপাখানা যন্ত্র কম দামে বিক্রি হবে। তিনি যে সামান্য অর্থ জমিয়েছিলেন তাই দিয়ে ছাপাখানার যন্ত্রপাতি কিনে ফেললেন। এবার নিজেই একটি পত্রিকা বের করলেন। একইসঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ করা, সম্পাদনা করা, ছাপানো, বিক্রি করা, সমস্ত কাজ করতেন। অল্পদিনেই তাঁর কাগজের বিক্রির সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। লাভ হল একশো ডলার। তখন তাঁর বয়স ছিল পনেরো।
একদিন এডিসন লক্ষ করলেন, একটি ছেলে রেল লাইনের উপর খেলা করছে। দূরে একটি ওয়াগন এগিয়ে আসছে। ছেলেটির সেদিকে নজর নেই। বিপদ আসন্ন বুঝতে পেরে হাতের কাগজ ফেলে দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন লাইনের উপর। আর ছেলেটি কেউ নয়। স্টেশন মাস্টারের একমাত্র ছেলে। কৃতজ্ঞ স্টেশন মাস্টার যখন এডিসনকে পুরষ্কার দিতে চাইলেন, এডিসন সে সময় টেলিগ্রাফ শেখবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। স্টেশন মাস্টার রাজি হলেন মহানন্দে। আর কয়েক মাসের মধ্যেই এডিসন টেলিগ্রাফি শেখা রপ্ত করে নিলেন। এর সঙ্গে সাংকেতিক লিপি ও তার অর্থ বুঝতে সক্ষম হলেন।
অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এডিসন। একবার স্টাফোর্ড জংশনে রাত্রিবেলায় ট্রেন ছাড়ার সিগনাল দেওয়ার কাজ পেলেন। রাত জেগে কাজ করতে হত এবং দিনের বেলায় সামান্য কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিয়ে নিজের গবেষণার কাজ করতেন। এ সময় তিনি একটি ঘড়ি তৈরি করলেন যেটি আপনা থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে সিগনাল দিত। এর পরে বোস্টন শহরে কাজ করার সময় দেখলেন, অফিস জুড়ে ভীষণ ইঁদুরের উৎপাত। তিনি হঠাৎ করে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করলেন যা সহজেই ইঁদুর ধ্বংস করতে সক্ষম।
তিনি ১৮৬৯ সালে বোস্টনে চাকরিরত অবস্থায় একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন যা দিয়ে ভোল্ট গণনা করা যায়। এই যন্ত্রের গুণাগুণ বিবেচনা করে উদ্ভাবক হিসেবে তাঁকে পেটেন্ট দেওয়া হল। আর এই পেটেন্ট এডিসনের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এরপর বোস্টন শহর ছেড়ে চলে এলেন নিউইয়র্কে। হাতে মোটেও পয়সা নেই। খাওয়া হয়নি দুদিন ধরে। এক টেলিগ্রাফ অপারেটরের সাথে পরিচয় ঘটল। সে এডিসনকে এক ডলার ধার দিয়ে গোল্ড ইনডিকেটর কোম্পানির ব্যাটারি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। সেখানে দুদিন কেটে গেল। তৃতীয় দিন তিনি খেয়াল করলেন ট্রান্সমিটারটি খারাপ হয়ে গিয়েছে। ম্যানেজারের অনুমতিক্রমে তিনি অল্পক্ষণের মধ্যেই ট্রান্সমিটারটি মেরামত করে ফেললেন। এর ফলে তিনি কারখানার ফোরম্যান হিসেবে চাকরি পেলেন। তাঁর মাইনে ছিল ৩০০ ডলার। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজের যোগ্যতা বলে ম্যানেজার পদে উন্নীত হলেন।
এই অর্থ দিয়ে তিনি নিজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে গবেষণার কাজে লাগাতেন। গোল্ড ইনডিকেটর কোম্পানি টেলিগ্রাফের জন্য এক ধরনের যন্ত্র তৈরি করত যার ফিতের উপর সংবাদ লেখা হত। এ সময় এডিসনের মনে হল বর্তমান ব্যবস্থার চেয়ে আরো উন্নত ধরনের যন্ত্র তৈরি করা সম্ভব। এজন্যে প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার। এ সময় চাকরিতে ইস্তফা দিলেন এডিসন। কয়েক মাস প্রচণ্ড পরিশ্রমের পর উদ্ভাবন করলেন এক নতুন যন্ত্র। এটি আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং সেই সঙ্গে এর উৎপাদন ব্যয়ও কম। তিনি এ যন্ত্রটি নিয়ে গেলেন গোল্ড ইনডিকেটর কোম্পানীর মালিকের নিকট। এতে মালিক খুশি হলেন। এডিসনকে জিজ্ঞাসা করলেন, কত দামে সে যন্ত্রটি বিক্রি করবে? এডিসন দ্বিধান্বিতভাবে বললেন, যদি পাঁচ হাজার ডলার দাম বেশি হয়, আবার তিন হাজার ডলার খুব কম হয় তবে কোম্পানী স্থির করুক তারা কি দামে যন্ত্রটি কিনবে। কোম্পানীর মালিক এডিসনকে চল্লিশ হাজার ডলার দিয়ে বললেন, আশা করি আপনাকে আমরা সন্তুষ্ট করতে পেরেছি। এডিসন তো হতবাক!
এই প্রচুর অর্থ বিজ্ঞানী এডিসনের জীবনে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনে দিল। এতদিন তিনি অন্যের অধীনস্থ হয়ে কাজ করতেন। সেখানে তাঁর স্বাধীনতা ছিল না। এবার কয়েক মাসের চেষ্টায় নিউজার্সিতে তৈরি হল তাঁর কারখানা। তিনি সেখানে দিবারাত্রি কাজ করতেন। রাত্রে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিতেন। এ কারখানাটি ছিল প্রকৃতপক্ষে একটি গবেষণাগার। কয়েক বছরের মধ্যেই এডিসন প্রায় ১০০টির বেশি নতুন উদ্ভাবন করে তার পেটেন্ট নিলেন। এগুলি বিক্রি করে পেলেন প্রচুর অর্থ।
এডিসন এবার নিজের কারখানায় কাজ করতে করতে পুনরায় আকৃষ্ট হলেন টেলিগ্রাফির দিকে। অল্পদিনেই তৈরি হল ডুপ্লেক্স টেলিগ্রাফ পদ্ধতি। এর সাহায্যে দুটি বার্তা একই সাথে একই তারের মধ্যে দিয়ে দুই দিকে পাঠানো সম্ভব। এরপরে একই সময়ে একই তারের মধ্যে দিয়ে একাধিক বার্তা প্রেরণ করতে সক্ষম হলেন। আর এই পদ্ধতির সাহায্যে টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার যে শুধু অসাধারণ উন্নতি হল তাই নয়, বরং খরচও কয়েকগুণ হ্রাস পেল।
তিনি ১৮৭৬ সালে তাঁর নতুন কারখানা স্থাপন করলেন মেনলো পার্কে। এখানে একদিকে তাঁর গবেষণাগার অন্যদিকে কারখানা। এই মেনলো পার্কে বিজ্ঞানী এডিসনের প্রথম উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার টেলিফোন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল আবিষ্কার করেছিলেন টেলিফোন, কিন্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে বহুবিধ সমস্যা দেখা গিয়েছিল। এডিসন কয়েক মাসের চেষ্টায় তৈরি করলেন কার্বন ট্রান্সমিটার। আর এর সহায়তায় গ্রাহকদের প্রতিটি কথা স্পষ্ট এবং পরিষ্কারভাবে শোনা গেল। চতুর্দিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়ল এডিসনের।
এডিসন দীর্ঘদিন মানুষের শ্রবণ যন্ত্র নিয়ে কাজ করেছিলেন। এবার তিনি স্থির করলেন ইলেকট্রিক কারেন্টকে কাজে লাগিয়ে আলো জ্বালাবেন। সে সময় এক ধরনের বৈদ্যুতিক আলো ছিল কিন্তু তা ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। প্রথমেই তিনি এমন একটি ধাতুর সন্ধান করেছিলেন যার মধ্যে কারেন্ট প্রবাহিত করলে উজ্জ্বল আলো বিকিরণ করে। তিনি বিভিন্ন রকমের ধাতু নিয়ে ১৬০০ রকমের পরীক্ষা করলেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তৈরি করলেন কার্বন ফিলামেন্ট।
তিনি শুধু বাল্বের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। এরপর সমগ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে তৎপর হলেন। তিনি তৈরি করলেন নতুন এক ধরনের ডাইনামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জেনারেটর থেকে শুরু করে ল্যাম্প তৈরি করা প্রভৃতি। নিউইয়র্কে প্রথম বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র গড়ে উঠল যার অগ্রনায়ক ছিলেন বিজ্ঞানী এডিসন।
এবার এডিসন তাঁর বিখ্যাত মেনলো পার্ক ছেড়ে ওয়েস্ট অরেঞ্জে চলে এলেন। ১৮৪৭ সালের ঘটনা। এসময় তিনি শব্দের গতির মতো কীভাবে ছবির গতি আনা যায় তাই নিয়ে শুরু করলেন ব্যাপক গবেষণা। মাত্র দুবছরের মধ্যে উদ্ভাবন করলেন কিনেটোগ্রাফ, যা গতিশীল ছবি তোলবার জন্য প্রথম ক্যামেরা। ১৯২২ সালে এডিসন আবিষ্কার করলেন কিনেটোফো যা সংযুক্ত করা হয় সিনেমার ক্যামেরার সাথে। এরই ফলে তৈরি হল সবাক চিত্র।
এই পরিশ্রমী বিজ্ঞানী অবশেষে ১৯৩১ সালের ১৮ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করলেন। তাঁর মৃত্যুর পর নিউইয়র্ক পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল মানুষের ইতিহাসে এডিসনের মাথার দাম সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন সৃজনীশক্তি অন্য কোনো মানুষের মধ্যে দেখা যায় নি। তাঁর শেষ নিঃশ্বাসটুকু একটি টেস্টটিউবে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে হেনরি ফোর্ড জাদুঘরে। তাঁর নামে একটি শহর, তিনটি কলেজ, কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়, তিনটি সেতু এবং একটি হোটেলও রয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েক জায়গায় তাঁর নামে জাদুঘর এবং স্মৃতিস্তম্ভ আছে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অনন্য অবদানের জন্য দেওয়া হয় এডিসন মেডেল। নেদারল্যান্ডসে সঙ্গীতের জন্য রয়েছে 'এডিসন অ্যাওয়ার্ড'।
তিনি অনেক আবিস্কারের পথপ্রদর্শন করে গেছেন। নিজে চেষ্টা করে যদিও তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন, তবুও পরবর্তীতে তাঁর ধারণাকে পুঁজি করেই এসব তৈরি করা হয়। নিচে সেরকম কতগুলো চেষ্টার কথাই তুলে ধরা হলোঃ
উল্কি যন্ত্র
১৮৭৬ সালে এডিসনের আবিষ্কৃত একটি যন্ত্রকে বলা যায় আধুনিক উল্কিযন্ত্রের পূর্বসূরি। অবশ্য তাঁর উদ্দেশ্য ছিল চিকন সুচ দিয়ে কাগজে ছাপার ব্যবস্থা করা। ১৮৯১ সালে স্যামুয়েল ও'রেলি প্রথম উল্কি আঁকার যন্ত্রের পেটেন্ট নেওয়ার পর এডিসনকে নকলের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। লোকের ধারণা ছিল যন্ত্রে আঁকা উল্কি অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। তাই রেলির কাছে সবসময় উল্কিপ্রেমীদের ভিড় লেগেই থাকত। ও'রেলির সঙ্গে এডিসনের সাক্ষাৎ হয়েছিল কিনা জানা যায়নি। তবে এক বীমা কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছক্কার ঘুঁটির মত পাঁচ ফোটার একটি উল্কি ছিল তাঁর বাম কব্জিতে।
লোহা নিষ্কাশক
১৮৯০ সালের দিকে খনি থেকে নিষ্কাশন করা লোহার মূল্য ধাই ধাই করে বাড়ছিল। চুম্বক ব্যবহার করে অপদ্রব্য থেকে লোহা আলাদা করার কথা ভাবলেন এডিসন। ১৪৫টি খনিতে প্রবেশ করার অনুমতি নিলেন। প্রচুর পয়সা ঢাললেন একটা যন্ত্র তৈরির পেছনে। কিন্তু কিছু কৌশলগত গোলযোগে সব চেষ্টা বিফলে গেল। ততদিনে লোহার মূল্য পড়তির দিকে। বাধ্য হয়ে গবেষণা থামিয়ে দিলেন মাঝপথে। তবে তাঁর দেখানো পথ ধরে এখন বৈদ্যুতিক চুম্বক ব্যবহার করে ওই কাজ করা হচ্ছে।
বৈদ্যুতিক মিটার
বিদ্যুতের মিটার কোথায় নেই! আর ওটাও এসেছে এডিসনের মাথা থেকে। বিদ্যুতের যথেচ্ছ ব্যবহার ঠেকাতে এডিসনই প্রথম তৈরি করেন মিটার। এতে দুটি দস্তার পাত জিংক সালফেট দ্রবণে ডোবানো থাকত। বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার অনুযায়ী এক পাতের দস্তা গলে অন্য পাতে জমা হতো। মাসের শেষে পাতটি ওজন করে বের করা হত ব্যবহারের পরিমাণ।
ফল সংরক্ষণ
বাতি আবিষ্কারের পথে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন করেছিলেন এডিসন। বায়ুশূন্য টিউব নিয়ে গবেষণা চালাতে গিয়ে মাথায় আসলো ফলমূল সংরক্ষণের উপায়। তিনি বললেন, 'টিউবে পচনরোধী তরলে মৌসুমি ফল ও শাকসবজি রেখে ভেতরের বায়ু টেনে বের করে নিতে হবে। তারপর টিউবের মুখ বন্ধ করে রেখে দেওয়া যাবে বহুদিন।'
ব্যাটারিচালিত গাড়ি
গাড়ির চাকা ঘোরাতে এডিসন ব্যাটারির শক্তি ব্যবহারের কথা ভেবেছিলেন। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ব্যাটারিও বানিয়ে ছিলেন। তবে তিনি এমন এক ব্যাটারি বানাতে চেয়েছিলেন যা একবার চার্জ করলে একশ মাইল নির্বিঘ্নে চলতে পারে। কিন্তু ১০ বছর চেষ্টা শেষে রণে ভঙ্গ দিলেন, কেননা ততদিনে গ্যাসোলিন জ্বালানি সবার নাগালে আসতে শুরু করেছে। তাঁর পরিশ্রম একেবারে বৃথা যায়নি। সিগন্যাল বাতি বা খনিতে বহনযোগ্য আলো জ্বালাতে ওই ব্যাটারি কাজে লেগে গেল। একসময় এডিসনের ব্যাটারি সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসাতেও পরিণত হয়।
কনক্রিট বাড়ি
আলো ঝলমলে জীবনের পাশাপাশি বিশ্ববাসীকে উপহার দিতে চেয়েছিলেন কম দামে নিরাপদ ঘর। উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন কনক্রিট, গড়ে তুললেন এডিসন সিমেন্ট কম্পানি। তাঁর ফর্মুলায় বাড়ি বানানোর প্রক্রিয়াটাও সহজ। কাঠ দিয়ে ফাঁপা কাঠামো গড়ে মাঝে ঢেলে দিতে হবে কনক্রিট। কয়েকদিন পরে জমাট বাঁধলে কাঠ সরিয়ে নিলেই হলো। পদ্ধতিটা খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। দক্ষ কারিগরের অভাব যেমন ছিল, তেমনি বাড়িগুলোও অতটা দৃষ্টিনন্দন হতো না। তবে এখন অহরহ ব্যবহৃত হচ্ছে তাঁর সেই কৌশলের আধুনিক সংস্করণ।
টেকসই আসবাব
কনক্রিটের ভূত ভালোভাবেই ঢুকেছিল এডিসনের মাথায়। তা না হলে আসবাব গড়তেও সবার আগে কনক্রিটের চিন্তা আসবে কেন? যুক্তি ছিল, ওজন একটু বেশি হলেও এ আসবাবের গ্যারান্টি আজীবনের। মাত্র দুই’শ ডলারে গ্রাহকের ঘর সাজিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। ১৯১১ সালে বাথটাব, পিয়ানো ও কেবিনেট তৈরি করে প্রদর্শনীর জন্য পাঠান নিউইয়র্কে। টেকসই আসবাবের শক্তি পরীক্ষায় বহনকারী কর্মীদের ওপর নির্দেশ ছিল, যেভাবে খুশি খামখেয়ালিপনায় আসবাব বহন করা যেতে পারে। কিন্তু প্রদর্শনীর দিন এডিসনকে কোথাও দেখা গেল না। কথিত আছে, জিনিসগুলো সে যাত্রায় টিকতে পারেনি।
কথা বলা পুতুল
গ্রামোফোনের পেটেন্ট নেওয়ার পর এর বহুমুখী ব্যবহারের চিন্তা করেছিলেন। এরপর বানালেন কথা বলা পুতুল। পুতুলের শরীরে বসানো হতো খুদে গ্রামোফোন, হাত-পা জোড়া হতো আলাদাভাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ছোট্ট মেয়েদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কারখানায়। তাদের মর্জিমাফিক গান-কবিতা রেকর্ড করে সরবরাহ করতেন। রেকর্ডিং তখন সবে প্রাথমিক পর্যায়ে। পুতুলের ভেতরে গান বাজত কখনো প্রায় নিঃশব্দে, কখনো বিকট ঘড় ঘড় শব্দে। বাজখাই স্বরের পুতুলগুলো শিশুরা মোটেও ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।
বিবাহ ও সন্তানঃ
ডিসেম্বর ২৫, ১৮৭১ সালে টমাস আলভা এডিসন ১৬ বছর বয়সি মেরি স্টিলওয়েলকে বিয়ে করেন। তারা তিনটি সন্তান গ্রহণ করেনঃ
মেরিওন এসটেলা এডিসন (১৮৭৩-১৯৬৫)
টমাস আলভা এডিসন জুনিয়র (১৮৭৬-১৯৩৫)
উইলিয়াম লেসলি এডিসন (১৮৭৮-১৯৩৭)
মেরি এডিসন ১৮৮৪ সালের আগস্টের ৯ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। তারপর ওহিওতে টমাস এডিসন ২০ বছর বয়সি মিনা মিলারকে বিয়ে করেন। তিনি বিখ্যাত উদ্ভাবক লুইস মিলারের কন্যা ছিলেন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে।
মেডেলিইন এডিসন (১৮৮৮-১৯৭৯),
চার্লস এডিসন (১৮৯০-১৯৬৯), যিনি তার বাবার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটি দেখাশোনা করতেন এবং পরে নিউ জার্সির গভর্নর নির্বাচিত হন।
থিওডর এডিসন (১৮৯৮-১৯৯২), পদার্থবিদ যার ৮০টির বেশি পেটেন্ট রয়েছে।
Assalamu alaikum
How are you ?
01/07/2020
* ঘনত্ব কাকে বলে?
উত্তর : কোনো বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে ।
প্রশ্ন : চাপ কাকে বলে ?
উত্তর : কোনো পৃষ্ঠের একক ক্ষেত্রফলের উপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলের পরিমাণকে চাপ বলে ।
প্রশ্ন : তাপগতিবিদ্যা কাকে বলে ?
উত্তর : পদার্থবিজ্ঞানের যে শাখায় তাপের সাথে শক্তি ও কাজের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে তাপগতিবিদ্যা বলে ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Address
Dhaka