12/02/2024
এখন আর বিদায় অনুষ্ঠানে কেউ কাঁদে না।শিক্ষকদের দোয়া নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে না।মাথা নিচু করে নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা করে না।আবেগে আপ্লুত হয়ে শিক্ষকের পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চায় না।কথা বলতে বলতে চোখের কোণে পানি জমে না।অজান্তে টুপটাপ পানি গড়িয়েও আসে না।এ দোষ আমাদের? পরিবারের? পরিবেশের? আমরা কোথায় আছি এটা কার কাছে জিজ্ঞেস করি?এখন বাদশাহ আলমগীরের মত অভিভাবকের যেমন বড়ই অভাব তেমনি রাধা গোবিন্দ চৌধুরী,শাহনাজ পারভিন, প্রফুল্ল চন্দ্রের মত শিক্ষকের বড়ই অভাব। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের নামে ডিভাইস নির্ভর একটা অসুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলছি।এদের না আছে ধর্মীয় জ্ঞান, না আছে সামাজিক জ্ঞান। কোথায় কি আচরন করতে হবে এরা জানে না।এরা শিক্ষকদের সামনে দিয়ে সদর্পে বুকটান করে সাইকেল/মটর সাইকেল চালিয়ে যাবে।সালাম নেই,আদব নেই এদের আছে শুধু বুক ভর্তি ইগো।এরা রাত ৩ টা ৪ পর্যন্ত মোবাইল টিপাটিপি করবে আর দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঘুমাবে। মা বাবার সাথে খারাপ আচরন করবে। বর্তমানে আমরা আধুনিকতার নামে অমানুষ পয়দা করছি। সরকারও শিক্ষকদের বিভিন্ন আইন কানুন দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেধে রেখেছে।এরা হাজার বেয়াদবি করবে কিন্তু কোন বিচার করা যাবে না।আর তেমনি এখনকার অভিভাবক! আমার সন্তান কে শাসন করার আপনে কে?এরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল নিয়ে আসবে, ক্লাস চলাকালীন মোবাইল চালাবে ,মাস্তানী করবে,প্রেম করবে, বখাটেপনা করবে, বখাটে কাটিং চুল রাখবে আপনি শিক্ষক হয়ে এদের কিছুই করতে পারবেন না।
এরা বিদায় অনুষ্ঠানে মিলাদ মাহফিল চলাকালীন হাসাহাসি করবে,ফুল দিয়ে রোমান্স করতে চাইবে মোবাইলে ছেলে মেয়ে এক সাথে ছবি তুলতে চাইবে, সবাই একি রকমের সাদা টি শার্ট পরতে চাইবে,টি শার্টে অশালীন উক্তি লিখতে চাইবে,ডিজে পার্টি করতে চাইবে, নাচানাচি করতে চাইবে,ছেলে মেয়ে একসাথে মাস্তি করতে চাইবে। আপনি এগুলো করতে দিবেন না তখন শিক্ষকেরা খারাপ!
হায়রে! বাংলাদেশ।
হায়রে! বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ।
জাতীর সামনে ঘোর অমানিশা!
তবুও! ভালো থাকুক আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের কর্ণধরেরা।
আল্লাহ সবাই কে হেদায়েত দান করুন।