25/09/2024
আল্লাহ্ সব কিছু দেখতে পানঃ
একদিন ছোট্ট আহমেদ তার মায়ের কাছে এসে বলল, "মা, আল্লাহ কি সব কিছু দেখতে পান?"
তার মা মিষ্টি হেসে বললেন, "হ্যাঁ, আল্লাহ আমাদের সব কিছু দেখতে পান। এমনকি আমরা যখন একা থাকি, তখনও তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন।"
আহমেদ ভাবল, "তাহলে আমি যদি কাউকে না জানিয়ে কোনো ভুল করি, আল্লাহ তা-ও দেখবেন?"
তার মা মাথা নেড়ে বললেন, "ঠিকই ধরেছো। তাই আমাদের সব সময় ভালো কাজ করতে হবে এবং অন্যকে সাহায্য করতে হবে, কারণ আল্লাহ আমাদের ভালো কাজও দেখেন আর পুরস্কারও দেন।"
এই গল্পের শিক্ষা: আল্লাহ সর্বদ্রষ্টা। তিনি সব কিছু দেখেন, তাই আমাদের সব সময় সৎ ও ভালো কাজ করতে হবে।
08/04/2023
রোজার তিনটি স্তর সম্পর্কে জেনে নেই।
ইমাম গাজ্জালি (রহ.) তার বিখ্যাত এহইয়াউ উলুমিদ্দিন গ্রন্থে রোজার তিনটি স্তর বর্ণনা করেছেন -
১ - সাধারণ রোজা,
২ - বিশেষ শ্রেণীর রোজা
৩ - অতি বিশেষ শ্রেণির রোজা।
১. সাধারণ রোজা হলো পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থাকা।
২. বিশেষ শ্রেণির রোজা হলো পেট ও লজ্জাস্থানের চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ, কান, জিহ্বা, হাত, পা অর্থাৎ তার সব অঙ্গগুলোকে গুনাহমুক্ত রাখা।
৩. অতি বিশেষ শ্রেণির রোজা হলো নিজের অন্তরকে দুনিয়া ও তার মোহ মুক্ত করা। আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ হওয়া।
ইমাম গাজালি (রহ.) রোজার তিন শ্রেণির উল্লেখ করে বলেন----
প্রথম প্রকারের রোজা কোনো মুমিনের প্রত্যাশা হতে পারে না।
আর তৃতীয় শ্রেণির রোজা দীর্ঘ সাধনার ব্যাপার। মুমিনের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিৎ দ্বিতীয় শ্রেণির রোজা পালন।
এক্ষেত্রে করনীয় হল -
রমাদানের প্রথম দিন থেকে আল্লাহপাক যে জিনিসের প্রতি তাকাতে নিষেধ করেছেন বা তিনি তাকানো অপছন্দ করেন এমন সব কিছু থেকে নিজের চোখের হিফাজত করা।
মিথ্যা, গীবত, অপবাদ, অশ্লীলতা, গালি ও অনর্থক কথা থেকে নিজের জিহবার হিফাজত করা।
গান-বাজনা, মিথ্যা-গীবত, অর্থহীন গালগল্প শোনা থেকে নিজের কানের হিফাজত করা।
হাত-পাসহ বাকি অঙ্গসমূহকে হারাম কাজ ও হারাম খাওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখা।
আল্লাহপাক আমাদের রোজাসমুহকে শুধু পানাহার মুক্ত না রেখে দ্বিতীয় স্তরের রোজা হিসেবে কবুল করুন আমীন।
06/04/2023
“কিন্তু আপনি যদি (রমাদানে) আল্লাহর ক্ষমা না পান—তবে সেটা আপনার গাফিলতি আর ফাঁকিবাজির ফল। কিন্তু এর মাধ্যমে আপনি কাকে ফাঁকি দিচ্ছেন? আল-গাফুর আল্লাহর ক্ষমাকে? আপনি চারদিক থেকে আপনার দিকে ছুটে আসা রহমত ও ক্ষমাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, দুনিয়ার শান্তি আর অনন্ত সুখের জান্নাতে প্রবেশের জন্য এই রহমত আর ক্ষমা আপনার একান্ত প্রয়োজন। একদিন যার জন্য আপনি আফসোস করবেন।”
(ধূলিমলিন উপহার রমাদান, ১৩)
05/04/2023
“একটি রোজার বিনিময়ে,রোজাদারের চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে ৭০ বছরের দুরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়”
"সুব’হান’আল্লাহ"
[বুখারীঃ-১৭৫৯]
04/04/2023
আমাদের ভাবা দরকার, আমাদের সন্তান কি একান্তই আমাদের, নাকি আমাদের কাছে আল্লাহর আমানত?
তারা কি শুধু আমারই সন্তান, না আল্লাহর খলিফা? তাই তাদের ক্ষেত্রে আমাদের কর্মপদ্ধতি কি এবং কি হওয়া দরকার ;গুরুত্বের সাথে ভাবা উচিত।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
04/04/2023
অস্তপ্রায় সূর্য। কিছুক্ষণের মাঝে তা হারিয়ে যাবে পশ্চিমাকাশে। সাধ্য অনুসারে ইফতারের আয়োজন সামনে নিয়ে রোযাদার অপেক্ষায় আছে সূর্যাস্তের। হাতে খাবার। পেটে ক্ষুধা। পিপাসাকাতর ক্লান্ত শরীর। তবুও কিছু মুখে দিচ্ছে না। কারণ এখনও আল্লাহ্র হুকুম হয়নি। সে এক স্বর্গীয় দৃশ্য! আল্লাহ তাআলার নিকট এ দৃশ্যটি অত্যন্ত প্রিয়। বান্দার এ সময়ের এ অবস্থাকে আল্লাহ পাক বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকেন।
04/04/2023
হাদীসে এসেছে কিয়ামতের দিন বান্দাহ প্রশ্নের সম্মুখীন হবে; যৌবনকাল কীভাবে অতিবাহিত করেছো?
অনেককেই সেদিন মাথা নীচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কারণ এটা তো আর বলা যাবে না যে, যৌবনের মহা-মূল্যবান সময়গুলো আমি ফেসবুক আর সোশ্যাল মিডিয়ার পেছনে ব্যয় করেছি!!
হায়, খুব ভয় হয় আমার! এই ফেসবুক না জানি আমাদের জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয়ে যায়। ইয়া রাব্বাহ! আপনি আমাদেরকে এর ভয়ঙ্কর ফিতনাহ থেকে হিফাযত করুন। আমরা যে বড় অসহায়!
04/04/2023
যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করে না, আল্লাহ তাআলা তাহার উপর রাগান্বিত হন
(আল হাদিস)
04/04/2023
একদিন ঠিকই আফসোস করব!
১: ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম জেনেও আমি ফজরে ঘুমিয়ে ছিলাম।
২: কুরআন তিলাওয়াতে অন্তরে প্রশান্তি আসে, তারপরও আমি কুরআন ত্যাগ করেছিলাম।
৩. আল্লাহর যিকির আমার সারাদিনের কাজেকর্মে বরকত আনে জেনেও, অলসতা করে যিকির ছেড়েছি।
৪. ইস্তেগফারে আমার রিযিক বৃদ্ধি জেনেও, গাফেল থেকেছি।
৫. তাহাজ্জুদ আমার জন্য শান্তি, শৃঙ্খলা, সুস্থিরতাসহ আরো অসংখ্য উপকারিতা নিয়ে আসে জেনেও, আমি এমন মহার্ঘ তাহাজ্জুদও আমি হেলাভরে ছেড়ে দিয়ে ঘুমিয়েছি।
৬. তাওবার দরজা সদা-সর্বদা উন্মুক্ত, আমি আজ করছি, কাল করছি করে শুধু পিছিয়েছি।
৭. গুনাহে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গুনাহ ত্যাগ করলে, আল্লাহ আমার বিপদ দুর করে দিতেন। আমার দুশ্চিন্তা লাঘব করতেন। এটা জেনেও আমি গুনাহে অনঢ় থেকেছি। গুনাহে লিপ্ত থেকেছি।
৮. যে কোনো ভালো কাজ করলেই আমি জান্নাতের আরেকটু কাছে চলে যেতাম। জাহান্নাম থেকে দূরে সরে আসতাম। এটা জেনেও আমি উদাসীন থেকেছি।
একদিন ঠিকই আফসোস করবো।
ইয়া আল্লাহ সুমতি দান করুন। আমীন।
শাইখ আতীক উল্লাহ
04/04/2023
ঠকে গেলেও বিশেষ কোন ক্ষতি নেই। এইটুকু জীবন কোন না কোনভাবে শেষ হয়েই যাবে।
কিন্তু যারা ঠকিয়েছিল, প্রতারণা করেছিল,
হক্ব নষ্ট করেছিল, তারা কীভাবে দীর্ঘশ্বাসটা নিশ্চিন্তে নেবে?
“ঠকিয়ে যারা ভাবে জিতে গেল,
তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করে” ||
-শাইখ আহমাদুল্লাহ