07/09/2020
নিজে সতর্ক হোন- দূর্ঘটনা থেকে বাঁচুন:
এসি বিষ্ফোরণ বর্তমান সময়ের একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িছে। আপনার ব্যবহারকৃত এসিটিও যেকোনো সময় বিষ্ফোরিত হতে পারে। ভয় নয়, সাবধান ও সতর্ক হতে হবে।
তাই চলুন যেনে নেয়া যাক, এসি কেনো বিষ্ফোরণ হয় এবং এর থেকে বাঁচার উপায় কি কি--
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসি দুর্ঘটনার পেছনে অনেক কারন থাকতে পারে। যেমন-
#এসি থেকে গ্যাস লিক হওয়া এবং সেটি রুমে বা এসির ভেতরে জমে থাকা।
#এসির ভেতরের বা বাইরের বৈদ্যুতিক তার নড়বড়ে হয়ে থাকা, যা শর্টসার্কিটের তৈরি করতে পারে।
# বৈদ্যুতিক হাই ভোল্টেজের কারণে ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি হওয়া।
#বজ্রপাত বা বৃষ্টির সময়ে এসি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ভালো আর্থিং ব্যবস্থা না থাকলে এটিও এসির দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
# অনেকে রুমের লোড অনুপাতে এসি ব্যবহার করেন না। ফলে এসিটি অনেকক্ষণ ধরে চলে। এতে যন্ত্রটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। তখন বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ে।
# নিম্নমানের এসি কিনলে সেগুলোর ভেতরে ফ্যান, তার, বিদ্যুতের ব্যবস্থাগুলো ঠিক থাকে না। ফলে সেখানেও কারিগরি ক্রুটি দেখা যায়, যা অনেক সময় আগুনের সূত্রপাত করতে পারে।
# এসি দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করালে কারিগরি ক্রুটির কারণে এসিতে আগুন ধরে যেতে পারে বা এসির গ্যাসে আগুন লেগে সেটি ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
# অনেক সময় উইন্ডো এসির সামনে জানালা বা দরজার পর্দা চলে এলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। সেটিও এসিকে গরম করে তুলতে পারে।
#. অনেক পুরনো বা নিম্নমানের এসির ব্যবহার।
# কম্প্রেসরের ভেতরে ময়লা আটকে জ্যাম তৈরি হওয়া।
--বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসি দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি বিষয়ের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত। যেমন-
-- বৈদ্যুতিক সংযোগ, সকেট, ফিল্টার নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা।
-- হাই ভোল্টেজ এড়াতে বাড়িতে সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা।
-- বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় এসির ব্যবহার বন্ধ রাখা। বাড়ির ছাড়ে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা রাখা ।
--- একনাগাড়ে আট ঘণ্টার বেশি এসি ব্যবহার করা ঠিক নয়। আউটডোর মেশিন এমন স্থানে বসানো উচিত যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।
-- পেশাদারদের মাধ্যমে নিয়মিত সার্ভিসিং করানো।
-- রুমের আকার অনুযায়ী সঠিক মাত্রার এসি নির্ধারণ।
-- নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের এসি কেনা।
-- দীর্ঘসময় একটানা এসি না চালিয়ে মাঝে মাঝে বিরতি দেয়া।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
অনেকেই এসি কিনছেন খুব একটা চিন্তা না করেই। ইনভারটার শব্দটি দেখলেই লাফিয়ে পড়ছেন। তবে কষ্ট করে হলেও একটু দেখবেন যে কুল্যান্ট যেইটা ব্যাবহার হচ্ছে, সেইটার নাম R22 নাকি R410a নাকি R32
একটু উদ্ভট শুনালেও, এইটা বেশ ইম্পরট্যান্ট। ২০২০ সালের পর (মানে কয়েক মাস পরেই) মূলত R22 গ্যাসটি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হচ্ছে। কারণ এইটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এবং ওজন লেয়ারের অনেক ক্ষতি করে।
কারণ বাজার সয়লাব আরও খারাপ কুল্যান্ট দিয়ে বানানো এসিতে, যেগুলো ফ্লেমেবল (আগুন ধরে)। উত্তরায় আস্ত এক ফ্যামিলি এসি ব্লাস্ট হয়ে আগুনে পুড়ে গেল না? সেইটা হয়েছিল কারণ এসির মধ্যে আগুন ধরে এমন কুল্যান্ট ছিল। কমদামী কুল্যান্ট এর মধ্যে আগুন ধরে। সহজ হিসাব। আজকে না ধরলে কালকে ধরবে। ধরবেই। মাফ নাই। স্টেডিয়াম মার্কেটে ব্রান্ড এর সিল মারা এসি গুলোতে মূলত এই ধরনের গ্যাস ব্যাবহার করা হয়।
R22 তে আগুন কম ধরে। কিন্তু তবুও আপনি কেন R22 থেকে দূরে থাকবেন? কারণ তিন চার বছর পর এই গ্যাসটির প্রডাকশন অনেক আংশেই কমে যাবে (অলরেডি যাচ্ছে, এবং উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই পাওয়া যায়না)। তো যেইটা হবে, তা হচ্ছে যে আপনি কয়েক বছর পর এসি নষ্ট হলে ঠিক করতে যেয়ে অসুবিধায় পড়ে যাবেন।
বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন অনেকগুলো এসিতেই কুল্যান্ট হিসেবে R22 ব্যাবহার হয়। থাইল্যান্ড এর জেনারেল, গ্রি, মিনিস্টার, ওয়াল্টন, চিগো, মিডিয়া, ইত্যাদি ব্র্যান্ডের অনেকগুলোর মধ্যেই R22 ব্যাবহার হয়।
তো কি কিনবেন? R410A/R32 কিনবেন। এটাতে আগুন ধরেনা। ওজন ডিপ্লিট করেনা। যদিও গ্লোবাল ওয়ার্মিং এইটা ব্যাবহারেও হয়, তবুও এইটা খারাপের ভাল।কিন্তু R32, R410A এর থেকেও ভালো। এটাতে গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও কম আবার কম ফ্লেমেবল। এখন বেশিরভাগ এসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই R32 এর দিকে ঝুঁকছে।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::
আপনার একটি #শেয়ার হবে একটি সতর্ক বার্তা।
সকলের উপকারের জন্য শেয়ার করতে ভুলবেন না
::::::::::::::::::::::::::::::::::::