26/06/2025
ভবিষ্যতের কোন এ সকালে উঠে দেখবেন আপনার ঘরে একটা রোবট ঝাড়ু মেরে বেড তুলে রেখেছে, আর আপনার জন্য কফি বানিয়ে রেখেছে? অথবা কলেজে গিয়ে দেখবেন একটা রোবট প্রফেসর ক্লাস নিচ্ছে, সবার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে? এটা আর কল্পনার কথা নয়, অবশ্যই এটা আস্তে আস্তে বাস্তব হয়ে উঠার পথে রয়েছে। রোবোটিকস ধীরে ধীরে মানুষের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আর ভবিষ্যতে এর সম্পর্ক আরও গভীর হবে। জাপান বা চীনের রোবটিক্স টেকনোলজির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিলে বিষয়টা আরো পরিষ্কার হয়ে যায়। চলুন, একটা গল্পের মাধ্যমে বর্তমান অগ্রগতি আর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখে নিই।
সময় ভাবুন, ২০৩৫ সালের একটা সকাল। করিম সাহেব একজন ইঞ্জিনিয়ার, সে সকালে তার স্মার্টহোমে ঢুকে দেখে তার রোবট সহকারী ‘করিমন’ ঘর পরিষ্কার করছে। করিমন তার হাতে একটা সেন্সর চালিয়ে দ্রুত ময়লা চিনে সেটা পরিষ্কার করছে, আর একসঙ্গে করিমের জন্য ব্রেকফাস্টের মেনু বেছে নিচ্ছে। করিম সাহেবের মেয়ে জরিনা স্কুলে যাওয়ার আগে তার হোমওয়ার্ক চেক করতে বললে, করিমন তাৎক্ষণিকভাবে গণিতের সমস্যা সমাধান করে দিল। এটা কল্পনা নয়—এটা নিকট ভবিষ্যতের টেকনোলজির একটা ছোট্ট ছবি।
বর্তমানে রোবোটিকসে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। টোকিওর একটা ফ্যাক্টরিতে রোবটগুলো গাড়ি তৈরি করে, যেগুলো মানুষের তুলনায় দ্রুত আর ভুলহীন। হাসপাতালে সার্জন রোবট, যেমন ‘দা ভিঞ্চ সিস্টেম’, অপারেশন করছে, যেখানে ডাক্তারের হাতের কাঁপুনি থাকে না। আবার, আমেরিকায় আমাজনের ওয়ারহাউজে রোবট প্যাকেজিং তৈরি ও সরবরাহ করে, যা মানুষের চেয়ে দশ গুণ দ্রুত। এই রোবটগুলো আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এমনকি মানুষের ভঙ্গি চিনতে পারে, কারণ তারা আর্ম আর সেন্সরে সজ্জিত।
এখন ভাবুন, ২০৪০ সালের একটা দিন। করিম সাহেবের অফিসে একটা নতুন রোবট কোলিগ ‘আব্দুল’ এসেছে। আব্দুল ডেটা বিশ্লেষণ করে, করিম সাহেবের জন্য প্রেজেন্টেশন তৈরি করে, আর সন্ধ্যায় তার সঙ্গে গল্পও করে। আব্দুলের মুখে একটা স্মার্ট স্ক্রিন, যেটা করিম সাহেবের মেজাজ বুঝে হাসি বা সান্ত্বনার ভাব দেখায়। এটা সম্ভব হবে কীভাবে? আজকের AI আর মেশিন লার্নিং-এর উন্নতি থেকে। গবেষকরা রোবটকে মানুষের মতো ভাবনা শেখাচ্ছে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ভবিষ্যতে রোবোট আর মানুষের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। ধরুন, একটা পরিবারে ‘কেয়ারবট’ থাকবে, যে বৃদ্ধদের দেখাশোনা করে, তাদের ওষুধ মনে করিয়ে দেয়, আর পড়ে গেলে তুলে ধরে। জাপানে এমন রোবটের ইতিমধ্যে পরীক্ষা চলছে। আবার, যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট সৈন্য ব্যবহার হতে পারে, যারা মানুষের জীবনের ঝুঁকি কমাবে। নাসা রোবট দিয়ে মঙ্গল গ্রহে গবেষণা করছে, আর ভবিষ্যতে মহাকাশে মানুষের সঙ্গী হিসেবে কাজ করবে।
কিন্তু এর সঙ্গে চ্যালেঞ্জও আসবে। করিম সাহেব একদিন দেখল, আব্দুল তার কাজের বেশিরভাগ নিয়ে নিলে, তার চাকরি ঝুঁকিতে পড়ল। এটা সত্যি—রোবোটের কারণে কিছু চাকরি হারাবে, যেমন ফ্যাক্টরির সাধারণ কাজ। তবে, নতুন চাকরি তৈরি হবে—রোবট তৈরি, প্রোগ্রামিং, আর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। আবার, প্রাইভেসির ঝুঁকিও আছে—রোবট যদি আমাদের প্রতিটি কথা রেকর্ড করে, তাহলে নিরাপত্তা কীভাবে রক্ষা করা যাবে?
আবার গল্পে ফিরে যাই। ২০৫০ সালে করিম সাহেবের ছোট ছেলে বল্টু একটা রোবট বন্ধু ‘পুচি’র সঙ্গে খেলছে। পুচি বল্টুর সঙ্গে ফুটবল খেলে, গল্প শোনে, আর তার হোমওয়ার্কে সাহায্য করে। আবার তার সাথে বন্ধু হিসেবে স্কুলেও পৌঁছে দেয়। অর্থাৎ তার সারাক্ষনের সঙ্গি। এটা সম্ভব হবে সোশ্যাল রোবোটিকসের মাধ্যমে, যেখানে রোবট মানুষের আবেগ বুঝতে শিখবে। গবেষকরা ইতিমধ্যে এমন রোবট তৈরি করছে, যারা বয়স্কদের একাকীত্ব কাটায়।
ভবিষ্যতে রোবোট আর মানুষের সম্পর্ক একটা সহযোগিতার মতো হবে—কখনো সহকারী, কখনো বন্ধু। তবে, এটি নির্ভর করবে আমরা কতটা নিয়ন্ত্রণ আর নৈতিকতা বজায় রাখতে পারি। আপনারা কী মনে করেন? ভবিষ্যতে রোবটের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কী হবে? কমেন্টে আপনাদের কল্পনা শেয়ার করুন! 😊
#রোবোটিকস #ভবিষ্যৎ #টেকনোলজি
লেখা: শেখ মাসুদ পারভেজ।
25/06/2025
24/06/2025
24/06/2025
23/06/2025
22/06/2025
16/06/2025
18/05/2025
18/05/2025
17/05/2025