29/07/2022
ফুটন্ত পানি নিয়েছিলাম এক মগ। হাত ফসকে সবটুকু ঢেলে পড়লো দুই পায়ের উপর।
তারপর....
কয়েকটা সেকেন্ড মাত্র। 💔
ভয়ানক জ্বালাপোড়ায় পাগলের মত কিসব যেন করছিলাম।
মাথার চুল টেনে তোলা, মুখে চামড়া মাংস সহ আচড়ে নেয়া,
মাথার উপর হাত দিয়ে ঠাস ঠাস করে হাতুড়ি পেটানোর চেষ্টা করছিলাম পেইন সহ্য করতে না পেরে৷
দিগ্বিদিক অবস্থা!
হাতের মাথায় তেল, পানি, ওষুধ, বরফ যা কিছু মাথায় আসছে সব দেয়ার চেষ্টা করছি। শরীরে যখন স্ট্রেস থাকে, ডাক্তারি বিদ্যা তখন বিট্রে করে৷
বার্ন ম্যানেজমেন্ট কিছুতেই মনে পড়তেছেনা৷
অবশেষে ৫/৬ ঘন্টার যুদ্ধের পর অজ্ঞান করার মলম দেয়ার পর জালাপোড়া থেকে মুক্তি৷
অতঃপর কালো অঙ্গার হয়ে যাওয়া এক পা, আরেক পায়ে মেহেদি কালারের ডিজাইন সহ ফোসকা। টোটাল ২-৩% বার্ন। (মানের হাতের তালুর দুই বা তিনগুন জায়গা মাত্র)
এখন কি অবস্থা? কেমন আছি?
-পরে বলছি ইনশাআল্লাহ
আচ্ছা!
কয়েকটা ব্যপার মাথায় হিট করেছে-
★২-৩% এর বদলে যদি ১০০%(মানে ফুল বডি) হত, তাহলে কি পরিমান যন্ত্রনা হওয়ার কথা?
★যদি দুই-তিন সেকেন্ডের বদলে যদি এক মিনিট বা ত্রিশ সেকেন্ড হত?
(সব সেদ্ধ হয়ে যেত পারমানেন্টলি)
সুপারফিশিয়াল বার্ন ছিল বলে এত পেইন৷
ডিপ বার্ন হলে চামড়া একদম পুড়ে নষ্ট হয়ে গেলে পেইন থাকেনা৷
★এতো গেল পানিতে পুড়া, যদি ডিরেক্ট আগুনে এক মিনিট রাখা হয়?
আর যদি আগুনের হিট চুলার আগুনের চেয়ে ৭০গুন বাড়ানো হয় তবে?
?
?
- দুই সেকেন্ড পুড়ে ঠান্ডা পানির ভেতর পা ডুবিয়ে বসেছিলাম ৫-৬ঘন্টা। শুধু নামাজের টাইমে পা তুলেছিলাম, শুধু ফরজ নামাজ (৪/৫মিনিট)। ওই কয়েক মিনিটেই সাক্ষাত পাগল হয়ে গেছি পেইনে বললেও ভুল হবে৷
সে কথা লিখে বোঝানো সম্ভব না৷ ভয়াবহ অনুভুতিগুলো কাউকে বোঝানো যায়না৷
যাই হোক,
দরকার ছিল পানি। ঠান্ডা পানি।
ওষুধ আনার জন্য কেউ, ট্রিটমেন্ট মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ডাক্তার। একটু দয়া-মায়া-সহানুভুতি ইত্যাদি৷
সুরা ওয়াকিয়াহ যখন তিলাওয়াত করি,
لَّا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ
আয়াতটা মাথায় হাতুড়ির মত বাড়ি দেয় সেইদিন থেকে। অবর্ননীয় ভয়ংকর কষ্টগুলো পিনের মত বিধতে থাকে৷
(৪০ এর পরের কয়েকটা আয়াত একটু মিনিং দেখে নিলেই অনেক কিছু বুঝতে পারবেন।)
❝কেমন হবে অনুভুতি যদি জাহান্নামে এক সেকেন্ডের জন্য ফেলা হয় আমাকে? ❞
এরপর সপ্তাহ দুয়েক পুড়ে কালি হয়ে যাওয়া পায়ের দিকে তাকিয়ে অনেক কিছু ভাবতাম। অনেক্ষণ তাকিয়ে থাকতাম। হাত দিয়ে ডলে দেখতাম। সেন্স নাই।
কুচকে যাওয়া কুচকুচে কালো মৃত চামড়া অনেক কিছুর রিমাইন্ডার দিত।
আস্তে আস্তে চামড়া গুলো উঠে যাচ্ছে প্রায়৷ মিস করব রিমাইন্ডার গুলো৷
এখন...
কালো চামড়াগুলো উঠে গিয়ে বের হওয়া নতুন চামড়া দেখে ভাবি; আল্লাহ এটাও জানিয়ে দিয়েছেন -
জাহান্নামে দীর্ঘ সময় জ্বলতে জ্বলতে যখন চামড়া পুড়ে যাবে, তখন নতুন চামড়া দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন৷
যাতে জাহান্নামীদের শাস্তি কখনো শেষ না হয়...........
(এরপর থেকে দুয়ায় বলি, আল্লাহ কাউকে জাহান্নামে দিয়েন না। সবাইকে নেক বান্দা করেই দুনিয়া থেকে কবরে নেন।)
দুয়ার পাশাপাশি ভয়ানক জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে ন্যুনতম মাস্ট নিডঃ
আমার নামাজ,
আমার পর্দা,
আমার উপর ফরজ হওয়া অন্য সমস্ত বিষয়
এবং অন্যের উপর জুলুম বিহীন একটা জীবন৷
(একটা চেকলিস্ট বানিয়ে নিজেকে প্রতিদিন যাচাই করি ইনশাআল্লাহ)
[আগের লিখা]
লিখেছেন বোন- খাদিজা তাহিরা