11/05/2026
আমাদের এই ভূখণ্ডের নাম ‘বঙ্গ’ কীভাবে হলো, তা নিয়ে আমাদের অনেকের মনেই কৌতূহল আছে। এই অনেক কিছু ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে তাঁদের মধ্যে একটি ব্যাখ্যাতে ভারতীয় পুরাণে একটি অত্যন্ত চমৎকার গল্প পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে চন্দ্রবংশীয় এক শক্তিশালী রাজা ছিলেন, যার নাম বলি। উল্লেখ্য, ইনি সেই বিখ্যাত অসুর রাজ মহাবলী নন, বরং তিনি ছিলেন এক দয়ালু আর প্রতাপশালী নৃপতি। তাঁর রানির নাম ছিল সুদেষ্ণা। ধন-সম্পদ আর বিশাল সাম্রাজ্য সবকিছুই এই দম্পতির ছিল, কিন্তু মনে ছিল কেবল একটি বড় কষ্ট। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। বিশাল এই রাজ্য শাসনের পর কে এর হাল ধরবে কিংবা কার হাত ধরে বংশের নাম টিকে থাকবে, এই চিন্তায় রাজা ও রানি সবসময় অস্থির থাকতেন।
তখনকার দিনে বংশ রক্ষার জন্য একটি বিশেষ নিয়ম প্রচলিত ছিল, যাকে বলা হতো ‘নিয়োগ’ প্রথা। যদি কোনো রাজা সন্তানহীন হতেন, তবে স্বামীর অনুমতি ও অনুরোধে রানি কোনো অত্যন্ত জ্ঞানী, গুণী বা দেবতুল্য ঋষির মাধ্যমে সন্তান লাভ করতে পারতেন। রাজা বলি তাঁর বংশের উত্তরসূরি পেতে সেই সময়ের অত্যন্ত তপোবলসম্পন্ন মহর্ষি দীর্ঘতমাকে রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান। মহর্ষি দীর্ঘতমা ছিলেন জন্মান্ধ, কিন্তু তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি ছিল অতুলনীয়। তাঁর আশীর্বাদেই রানি সুদেষ্ণা পর্যায়ক্রমে পাঁচটি অত্যন্ত তেজস্বী ও সুন্দর পুত্রসন্তান লাভ করেন। এই পাঁচ ভাই যেহেতু রাজার স্ত্রী বা ‘ক্ষেত্র’ থেকে জন্ম নিয়েছিলেন, তাই শাস্ত্রের ভাষায় তাঁদের ‘ক্ষেত্রজ’ সন্তান বলা হতো। তাঁদের বীরত্ব আর রাজকীয় আভিজাত্যের কারণে ইতিহাসে তাঁরা ‘বালেয় ক্ষত্রিয়’ নামেও পরিচিতি পান।
এই পাঁচ পুত্রের নাম ছিল যথাক্রমে— অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র এবং সুহ্ম। তাঁরা যখন বড় হয়ে রাজকার্যে দক্ষ হয়ে উঠলেন, তখন রাজা বলি তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যকে ভৌগোলিক সীমানা অনুযায়ী পাঁচটি ভাগে ভাগ করে তাঁদের হাতে তুলে দেন। প্রত্যেক পুত্র স্বাধীন রাজা হিসেবে নিজেদের নামের ওপর ভিত্তি করে নিজ নিজ রাজ্যের নামকরণ করেন। এর ফলে পূর্ব ভারতে পাঁচটি প্রাচীন ও স্বতন্ত্র জনপদের সৃষ্টি হয়। প্রথম পুত্র ‘অঙ্গ’ যে রাজ্যটি পান তা বর্তমান ভারতের বিহারের মুঙ্গের ও ভাগলপুর অঞ্চল। দ্বিতীয় পুত্র ‘বঙ্গ’ যে ভূখণ্ডটি লাভ করেন, তাঁর নামানুসারেই সেই রাজ্যের নাম হয় ‘বঙ্গদেশ’ বা ‘বঙ্গ’ রাজ্য।
একইভাবে তৃতীয় পুত্র ‘কলিঙ্গ’ বর্তমান ওড়িশা অঞ্চলে তাঁর রাজ্য গড়ে তোলেন। চতুর্থ পুত্র ‘পুণ্ড্র’ লাভ কর