দৃক বাংলা টিউটোরিয়াল

দৃক বাংলা টিউটোরিয়াল

Share

নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা হয়।।

05/05/2026

ছোট ছোট সুখ, এই তো আমাদের,
হাসির রোদে ভেজা দিন—
কিছু স্বপ্ন নীল আকাশ ছুঁয়ে,
কিছু কথা রয়ে যায় অচিন।।

হাতের মাঝে হাতটা রেখে,
পথ চলা নির্ভর, নীরব—
দুঃখ এলে ছায়ার মতো,
ভালোবাসা থাকে অবিচল।।

রোদ-বৃষ্টির খেলাঘরে,
মনটা গায় জীবনের গান—
ছোট ছোট সেই সুখগুলোই
বুনে দেয় রঙিন প্রাণ।।

03/05/2026

‎এই ১০টি সংকেত দেখলে বুঝবেন, আপনার সফলতা খুব নিকটেই!

‎১. আপনার উপর বিপদ আসার কোনো মানবিক সমাধান নেই। এটি আসলে আল্লাহর একটি 'ছদ্মবেশী রহমত', যা আপনাকে দুনিয়ার মোহ থেকে সরিয়ে তাঁর সিজদায় নিয়ে এসেছে।

‎২. যখনই আপনি তওবা করে ঠিক পথে চলতে শুরু করবেন, মানুষ বা শয়তানের পক্ষ থেকে বাধা, ঠাট্টা বা কুমন্ত্রণা আসবে। মনে রাখবেন, চোর কখনোই খালি বাড়িতে চুরি করতে যায় না; আপনার হৃদয়ে ঈমানের সম্পদ জমা হচ্ছে দেখেই শয়তান হানা দিচ্ছে।

‎৩. হারাম ছেড়ে দিলে সাথে সাথেই হয়তো হালাল রিযিক আসবে না। মাঝখানে একটি পরীক্ষার সময় আসবে যখন মনে হবে সব আটকে গেছে। এটি আপনার সততার পরীক্ষা।

‎৪. কষ্টের সময় দীর্ঘ হতে হতে যখন আপনি প্রায় হাল ছেড়ে দেবেন, তখনই আল্লাহর সাহায্য আসার সময়। হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ৯ বছরের জেলের পর মিশরের শাসনভার পাওয়ার ঘটনাটি এর বড় প্রমাণ।

‎৫. যখন দেখবেন নামায আর ভারী মনে হচ্ছে না, কুরআন তিলাওয়াত আপনার সঙ্গী হয়ে গেছে। বুঝবেন আল্লাহ আপনাকে বড় নিয়ামত দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করছেন।

‎৬. ইস্তিগফারের কয়েক মাস পর আল্লাহ স্বপ্ন বা যে কোনো মাধ্যমে আপনাকে বা আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাধ্যমে বিভিন্ন শুভ সংকেত পাঠাতে শুরু করবেন।

‎৭. যে সব পাপে আপনি আগে আসক্ত ছিলেন, সেগুলোর প্রতি আপনার মনে প্রচণ্ড অনীহা তৈরি হবে। এই চারিত্রিক পরিবর্তনই বস্তুগত রিযিক আসার পূর্বশর্ত।

‎৮. আপনার বড় সমস্যাটি হয়তো এখনও সমাধান হয়নি, কিন্তু ছোট ছোট বিষয়ে (যেমন- অসুস্থতা থেকে মুক্তি বা পারিবারিক শান্তি) আল্লাহর সাহায্য টের পাবেন। এটি আপনার দীর্ঘ সফরের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পাথেয়।

‎৯. আপনি বুঝতে শুরু করবেন যে, রিযিক বা সফলতা কেবল মেধা দিয়ে অর্জন হয় না। এটাও মনে রাখতে হবে, গাড়ি (নেয়ামত) দেওয়ার আগে আল্লাহ আপনাকে ড্রাইভিং (উপলব্ধি) শেখাচ্ছেন।

‎১০. আপনার চারপাশের চাটুকার বা হিংসুকদের আসল চেহারা আপনার সামনে প্রকাশ হয়ে যাবে। আল্লাহ চান আপনি যখন বড় সফলতার স্তরে পৌঁছাবেন, তখন যেন আপনার আশেপাশে কোনো মুনাফিক না থাকে।

‎বিজয় আসার সময়টি একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে (কারও এক বছর, কারও পাঁচ বছর)। তবে সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো ‘বাধার পর্যায়’ এবং ‘শয়তানের আক্রমণ’। ৯০% মানুষ এই স্তরে এসে ইস্তিগফার ছেড়ে দেয়। আপনি যদি এই বাধা পার হতে পারেন, তবে আল্লাহর সাহায্য অবধারিত।

‎‎(আরবি থেকে অনূদিত)

08/02/2026

নারীর সৌন্দর্য তার কল্পনায়
নারীর সৌন্দর্য কোনো নির্দিষ্ট মাপে বাঁধা যায় না।
চুলের দৈর্ঘ্য, ত্বকের রং কিংবা মুখাবয়ব—এসব কেবল দৃশ্যমান স্তর।
আসল সৌন্দর্য জন্ম নেয় তার কল্পনায়।
যে কল্পনায় সে নিজেকে প্রশ্ন করতে শেখে,
নিজেকে নতুনভাবে ভাবতে সাহস করে,
ভেঙে পড়েও আবার গড়ে তোলে নিজের ভিতরকার এক অদৃশ্য পৃথিবী—
সেখানেই নারীর সৌন্দর্য।
একজন নারী যখন কল্পনায় নিজেকে মুক্ত ভাবতে পারে,
নিজেকে কেবল “দেখার বস্তু” নয়,
ভাবনার নির্মাতা হিসেবে কল্পনা করে—
তখন তার চোখে জন্ম নেয় আলোর ভাষা।
তার সৌন্দর্য তখন আয়নায় নয়,
থাকে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে।
থাকে নীরবতায়, সিদ্ধান্তে,
আর স্বপ্ন দেখার নির্ভীক ক্ষমতায়।
সমাজ হয়তো তাকে মাপে, তুলনা করে, সংজ্ঞা খোঁজে
কিন্তু নারী নিজেই যদি তার কল্পনায় সুন্দর হতে পারে,
তাহলে কোনো বাহ্যিক স্বীকৃতি
তার সৌন্দর্যকে খাটো করতে পারে না।
কারণ—
নারীর সৌন্দর্য সাজে না প্রসাধনে,
সাজে তার কল্পনার স্বাধীনতায়।

সুরাইয়া শিউলি
০৮.০২.২০২৬

05/02/2026

নুপুরের উৎপত্তি : অলংকার থেকে সংস্কৃতির প্রতীক

নুপুর—পায়ের এক প্রাচীন অলংকার, যার ইতিহাস হাজার বছরের। এটি কেবল সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ নয়; বরং ভারতীয় সভ্যতার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের অংশ।
নুপুরের উৎপত্তি প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশেই। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, সিন্ধু সভ্যতা (খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ২৫০০ বছর) থেকেই নারীরা পায়ে অলংকার পরতেন। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা সভ্যতার মূর্তি ও খোদাইচিত্রে পায়ের অলংকারের উপস্থিতি তার প্রমাণ। যদিও তখনকার নুপুর আধুনিক শব্দবাহী অলংকারের মতো ছিল না, তবে সেটিই পরবর্তী নুপুরের আদিরূপ।
বৈদিক যুগে (খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০–৫০০) নুপুর পরিচিত হয় ‘নূপুর’ বা ‘নূপুরা’ নামে। ঋগ্বেদ, অথর্ববেদ এবং পরবর্তী সংস্কৃত সাহিত্যে পায়ের অলংকারের উল্লেখ পাওয়া যায়। তখন নুপুর শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, সামাজিক মর্যাদা ও বৈবাহিক অবস্থার পরিচায়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।
মৌর্য ও গুপ্ত যুগে নুপুরের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়। বিশেষ করে শাস্ত্রীয় নৃত্যে নুপুর অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ভরত মুনির নাট্যশাস্ত্র-এ নৃত্যশিল্পীদের নুপুর ব্যবহারের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। নুপুরের শব্দ নৃত্যের তাল ও লয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো।
প্রাচীন ভারতীয় সমাজে নুপুরের শব্দ ছিল আগমনী সংকেত। আলো না থাকলেও নুপুরের টুংটাং শব্দে বোঝা যেত পরিচিত কারো আগমন। এভাবেই নুপুর ধীরে ধীরে অলংকারের গণ্ডি পেরিয়ে হয়ে ওঠে সংস্কৃতির প্রতীক।
আজ নুপুর আধুনিক জীবনে কিছুটা আড়ালে গেলেও শব্দটি রয়ে গেছে ভাষা ও সাহিত্যে—একটি প্রত্যাবর্তন, একটি উপস্থিতি, একটি জীবন্ত ঘটনার ইঙ্গিত হিসেবে।
নুপুর তাই শুধু গয়না নয়,
এটি ইতিহাসের শব্দ,
সভ্যতার ছন্দ।


25/11/2025

জীবন বদলে দেওয়ার মত ৬ টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস‼️

১. যখন একা থাকবেন চিন্তা গুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।।কারণ সেখান থেকেই শুরু হয় আপনার মানসিক অবস্থা।

২. যখন বন্ধুর সাথে থাকবেন, ভাষা সংযত রাখুন ‼️কারণ, সম্পর্ক নষ্ট হয় অপ্রয়োজনীয় কথায়। 😥

৩.যখন রেগে যাবেন মেজাজ সামলান, কারণ রাগের মাথায় বলা শব্দ গুলো ফিরে আসে ঘুরে ঘুরে।।

৪. যখন অনেক মানুষের মাঝে থাকবেন, আচরণে সচেতন থাকুন।কারন আপনার আচরণে আপনার ব্যক্তিত্বের পরিচয় পাওয়া যায় ‼️

৫. বিপদে পড়বে নিজেকে স্থির রাখুন। কারণ, সেই সময় আবেগে ভেসে না গিয়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি‼️

৬.যখন সাফল্য আসবে অহংকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কারণ অহংকার মানুষকে নিচে নামায়‼️
#জীবন

31/10/2025

বহুদিন পর কবিতাটা পেলাম।💞
কি সুন্দর কবিতা রেখে পাঠ্য তালিকায় কি
কবিতা ‼️‼️
কষ্ট হয় খুব।।

29/09/2025

প্রথম গুলিটা লাগলো বামহাতে, শরীর থরথর করে কাঁপছে .. তবু দেশের পতাকা মাটিতে স্পর্শ করতে দিলেন না। ডানহাত থেকে শাঁখটি মাটিতে পড়ে গেল ... বামহাত থেকে ডানহাতে পতাকাটি নিলেন, শাঁখও তুললেন... উঁচুতে তুলে ধরে বললেন, 'বন্দে মাতরম'। এবারে গুলি করা হলো ডানহাতে .. বসে পড়লেন মাটিতে ...সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখার মতো সজোরে বুকে জড়িয়ে ধরলেন প্রিয় পতাকা। এবারে কাপুরুষ পুলিশ অফিসার অনিল ভট্টাচার্য্যের নির্দেশে ৭৩ বছরের বৃদ্ধার কপাল লক্ষ্য করে গুলি করল। ক্ষিন কন্ঠে 'বন্দে .. মাতরম' ... বলতে বলতে দেশমাতৃকার কোলে চিরনিদ্রায় শুয়ে পড়লেন আজন্ম-সেবিকা মাতঙ্গিনী হাজরা ... তাঁর লাল রক্তের ফোঁটায় ফোঁটায় ভিজে গেল ভবিষ্যত স্বাধীন দেশের মাটি... 🇮🇳

১৮৬৯ সালের ১৭ই নভেম্বর, তমলুকের কাছে হোগলা গ্রামের মাইতি পরিবারে তাঁর জন্ম। যদিও তাঁর সঠিক জন্ম তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বাবা ঠাকুরদাস মাইতি এবং মা ভগবতী দেবী'র (বিদ্যাসাগরের বাবা-মা'য়ের নামে ছিল তাঁর বাবা মা'য়ের নাম) তিনি ছিলেন ছোট কন্যা।

মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবা ঠাকুরদাস আদরের সুদর্শনা 'মাতু'র বিয়ে দিলেন পাশের আলিনান গ্রামের সম্পন্ন কৃষক ৬০ বছরের ত্রিলোচন হাজরার সাথে। এটি ছিল ত্রিলোচন বাবুর দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের ছয় বছরের মাথায় ত্রিলোচন বাবু মারা যান। নিঃসন্তান অবস্থায় মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিধবা হলেন মাতঙ্গিনী। এরপর যথারীতি স্বামীর সংসারে জায়গা না মেলায় পাশের এক জমিতে ঝুপড়ি কুটিরে আশ্রয় নেন। ধান ভাঁঙার কাজ করে নিজের জীবন চালাতে লাগলেন সদ্য বিধবা কিশোরী থেকে তরুণী মাতঙ্গিনী।

তরুণী অবস্থায় আত্ম-সুখ বিসর্জন দিয়ে বৈধব্য ব্রহ্মচর্য সাধনা শুরু করেন মাতঙ্গিনী হাজরা। দেশবাসীদের উদ্দেশ্যে বলা স্বামী বিবেকানন্দর একটি বক্তব্য বাল্য বিধবা মাতু'কে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছিল; স্বামীজি বলেছিলেন --

“ এখন থেকে আগামী পঞ্চাশ বছর তোমাদের একমাত্র উপাস্য দেবতা হবেন জননী-জন্মভূমি। তাঁর পূজো করো সকলে।”

তিনি উপলব্ধি করলেন দেশ ভারতবর্ষের মহান আদর্শ 'জনসেবা'। চেনা-অচেনা বিভিন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করতে করতে একসময় তাঁর যোগাযোগ হয় পাশের সিউরি গ্রামের কংগ্রেস নেতা গুণধর ভৌমিকের (বিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিকের বাবা) সাথে। সেই সূত্রেই পরিচয় হয় অজয় মুখোপাধ্যায় এবং সতীশ সামন্ত'র মতো দুই দিকপাল নেতৃত্বের সাথে। তাঁদের মুখে মাতঙ্গিনী শুনলেন গান্ধীজীর কথা, তাঁর আদর্শ, ভাবনা ও আন্দোলনের কথা। তিনি গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে ঘুরে স্বাধীনতার কথা, গান্ধীজীর কথা প্রচার করতে লাগলেন; সেইসাথে চলল দুঃখি, আর্ত-পীড়িত মানুষের সেবা কাজ। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করলেন দেশকে বিদেশীর শাসনমুক্ত করে দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড়ো ধর্ম আর কিছুই থাকতে পারে না। লোকে তাঁর নাম দিল 'গান্ধীবুড়ি'।

১৯২০ থেকে ১৯৪২ সাল - তিনি কংগ্রেসের প্রতিটি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন অসংখ্য সভা সমিতিতে, প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছিলেন অনেক কংগ্রেস সম্মেলনে, দিয়েছেন বক্তৃতা। লবণ সত্যাগ্রহ থেকে সরকারি কর বন্ধ আন্দোলন, আদালতে জাতীয় পতাকা তোলা, সামনে থেকে লাটসাহেব'কে কালো পতাকা দেখানো - সবেতেই জুটেছে পুলিশের নির্মম অত্যাচার, বহুবার খেটেছেন জেল। বিচারে কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর মাতঙ্গিনী হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘'দেশের জন্য, দেশকে ভালোবাসার জন্য, দণ্ডভোগ করার চেয়ে বড়ো গৌরব আর কী আছে?’' তিনি বহরমপুর কারাগারে ছয় মাস বন্দী ছিলেন, হিজলি বন্দি নিবাসেও বন্দি ছিলেন দুই মাস।

আমাদের পড়াশোনার সাধারণ বই বা ইতিহাস বইতে মাতঙ্গিনী হাজরা'র আন্দোলনের কথা, আত্মত্যাগের কথা সে ভাবে লেখা নেই। মাতঙ্গিনী হাজরা কংগ্রেসের সদস্য পদ পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কোনও বিপ্লবী সংগঠনে দিক্ষিত ছিলেন না; বা সমাজের সার্বিক মুক্তিকামী কোনও সংগঠনের কর্মীও ছিলেন না। তিনি ছিলেন মূলত বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী একজন নির্ভীক সৈনিক। মাতঙ্গিনী হাজরা ভারতের তৎকালীন কংগ্রেস নেতা গান্ধীর অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও অহিংস নীতির বদলে যেখানেই সহিংস আন্দোলন শুরু হয়েছে সেখানেই তিনি যোগ দিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, কোনও বাধ বিচার করেননি। তাই মাতঙ্গিনী হাজরা'র মৃত্যু কোন আবেগসর্বস্ব করুণ পরিণতি নয়, তা ছিল আজন্ম দেশ ও জন সাধনার মোক্ষফল।

১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, বেলা তিনটে। জনতার মিছিল এগিয়ে চলছে তমলুক থানা ও দিওয়ানি আদালতের দিকে ... তমলুক শহরের চারটে প্রধান প্রবেশপথে সেই মিছিল আটকানোর জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বিরাট ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনী। বিপ্লবীদের মুখে স্লোগান,

“ ইংরেজ ভারত ছাড়ো ”... “ বন্দেমাতরম ’।

মেদিনীপুরের তমলুক শহরের উত্তর দিকের গ্রাম হোগলা, আলিনান, জ্যামিট্যা, সোয়াদিঘি, খোসখানা, ডিমারী, বিশ্বাস, ধলহারা, মথুরি, সিউরি থেকে দলে দলে সাধারণ মানুষ রূপনারায়ণ নদের পাড় ধরে হেঁটে আসছে স্লোগান দিতে দিতে। পায়রাটুঙ্গি খালের কাছে দেওয়ানি কোর্টের পেছনে বিশাল ব্রিটিশ সেনাবাহিনী অহিংস জনতার মিছিলের পথ আটকে দাঁড়াল। আর এগোলেই গুলি করা হবে.. সঙ্গে চলল অকথ্য ভাষায় অপমানকর কথা আর অশ্রাব্য গালাগালি। ইংরেজ বন্দুকের সামনে তখন আগুনময় জনতা। হঠাৎই মথুরি গ্রামের ১৩ বছরের ছোট্ট রোগা বালক লক্ষ্মীনারায়ণ দাস ছুটে গিয়ে এক ব্রিটিশ পুলিশের হাত থেকে উত্তেজিত হয়ে ছিনিয়ে নিতে গেল নেট বন্দুক। সেই ছোট্ট বালককে পুলিশের বীরপুরুষরা বন্দুকের বাঁট আর বেয়োনেট দিয়ে থেঁতলে থেঁতলে খোঁচা মেরে মেরে খুন করে ফেলল। ছোট্ট ছেলেটির মৃত্যুযন্ত্রণার বুকচেরা চিৎকার-আর্তনাদে হঠাৎই জনতা হতবাক দিশেহারা হয়ে যায়..

তমলুক থানা দখল করতে গিয়ে ইংরেজ পুলিশের বন্দুকের সামনে যখন মিছিল ছত্রভঙ্গ, তখন নিজে এগিয়ে এসে মিছিল'কে সঙ্গবদ্ধ করে সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন ৭৩ বছরের মাতঙ্গিনী হাজরা। পিছিয়ে আসা জনতাকে আহ্বান করে বলেন,

“থানা কোন্ দিকে? সামনে, না পেছনে? সামনে এগিয়ে চলো .. হয় জয়, না হয় মরণ .. হয় এগিয়ে যাব, নয় মরব .. আমি সকলের আগে থাকব .. কেউ পিছিয়ে যেও না .. এসো .. আর যদি কেউ না আসো, তবে আমি একাই এই পতাকা নিয়ে এগিয়ে যাব .. তাতে যদি মরতে হয় মরব, এসো আমার সঙ্গে।”

এক নিঃস্ব নিরক্ষর গ্রাম্য মেয়ের দেশসেবা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অনিবার্য পরিণতি - ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২ - তাঁর আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে ... ঐ দিন দুই হাতে দুটো গুলি লাগার পর .. তিন নম্বর গুলিটা তাঁর বাম চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার খুলি ফাটিয়ে বেরিয়ে গেছিল।
সে দিন মাতঙ্গিনী হাজরা ছাড়াও ব্রিটিশের গুলিতে তমলুকের মাটি লাল হয়েছিল মথুরি গ্রামের লক্ষ্মীনারায়ণ দাস, দ্বারিবেরিয়ার পুরীমাধব প্রামাণিক, মাশুরির জীবনকৃষ্ণ বেরা, আলিনানের নগেন্দ্রনাথ সামন্ত, ঘটুয়ালের পূর্ণচন্দ্র মাইতি, তমলুকের নিরঞ্জন জানা, কিয়াখালির রামেশ্বর বেরা, হিজলবেড়িয়ার নিরঞ্জন পাখিয়াল, খনিকের উপেন্দ্রনাথ জানা ও ভূষণচন্দ্র জানা এবং নিকাশীর বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী-সহ বারোজন দেশপ্রেমিক শহিদের তাজা রক্ত।।


25/09/2025

বহুল প্রচলিত একটি কবিতা...

চড়ুই পাখি
চড়ুই পাখি বারোটা,
ডিম পেড়েছে তেরোটা।
একটা ডিম নষ্ট,
চড়ুই পাখির কষ্ট।
পাঁচটা দিলো কাক,
বললো — “রাখ! রাখ!”
তিনটে খেয়ে ফেললো হাঁস,
বাকি রইলো আর চার পাশে ঘাস।
দুইটা দিলো পেঁচা,
বললো — “যাবে না বেচা!”
একটাতে ফুটলো ছানা,
চড়ুই বলে — “আহা, কতো বাঁচালাম মানা!



25/09/2025

সৌন্দর্য বাহ্যিক
সততা আত্মার।।

25/09/2025

"মানুষ যত বড় হয়, তত নম্র হয়।"
– এ কথা আমাদের শেখায়, বিনয়ই মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য।
সুপ্রভাত 🌹




23/09/2025

কথায় আছে --
"কথায় জয়,কথায় ক্ষয়"

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address

West Basantek, Joynagar Officer Club (beside OGSB Hospital)
Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 23:00
Tuesday 09:00 - 23:00
Wednesday 09:00 - 23:00
Thursday 09:00 - 23:00
Friday 09:00 - 23:00
Saturday 09:00 - 23:00
Sunday 09:00 - 23:00