24/05/2012
" , ২৩ মে (বিডিন্যাশনাল নিউজ ডটকম):- দেশ ভাগের সময়ে হিন্দুদের বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি ফেরত দিতে নভেম্বরেই আইন সংশোধন করেছিল বাংলাদেশ সরকার। গেজেট প্রকাশ করে এ বার তার প্রক্রিয়া শুরু হল। এর ফলে বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি উপকৃত হবেন ভিটে-মাটি ছেড়ে ভারতে চলে আসা বহু পরিবারও। দখল হওয়া এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তার প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়ার জন্য ভারত ও বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুরা যেমন বার বার বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে এসেছেন, একই ভাবে দিল্লিও চাপ সৃষ্টি করে এসেছে ঢাকার উপরে ।
আনন্দবাজার লিখেছে, শেখ হাসিনার সরকার ২০০১-এই বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের দাবি মেনে পাকিস্তান আমলের আইন সংশোধন করে বেদখল হওয়া জমি-বাড়ি তার আসল মালিককে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। দখল করা হিন্দুদের সম্পত্তিকে ‘শত্রু সম্পত্তি’-র বদলে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ নাম দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরে বাংলাদেশে পট পরিবর্তনে বিএনপি-জামাতে ইসলামির সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সব উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফের হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামি লিগ ক্ষমতায় আসার পরে দেশের নানা প্রান্তে দখল হওয়া হিন্দু-সম্পত্তির তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক নানা জটিলতায় তার স্লথ গতি নিয়ে হিন্দু সংগঠনগুলি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে। দিল্লিও ঢাকাকে জানায়, ‘অর্পিত সম্পত্তি’ ফেরত দেওয়া হলে দু’দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। এমনকী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কলকাতায় বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী দীপু মণিকে বলেন, হিন্দুদের সম্পত্তি যাতে দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া যায়, ঢাকা সেটা দেখুক।
আনন্দবাজার আরো লিখেছে, গত নভেম্বরে আইন সংশোধনের পরে এ মাসের ১০ তারিখে গেজেট প্রকাশের কথা ছিল। প্রকাশ হয় ১৫ তারিখে। কিন্তু সরকারের দখলে থাকা প্রায় ২ লক্ষ একর ‘অর্পিত সম্পত্তি’র ‘ক’ তালিকা করা গেলেও বেসরকারি দখলে থাকা ‘খ’ তালিকা তৈরির কাজ এখনও শেষ হয়নি। সোমবার মন্ত্রিসভা তাই ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন’ আবার সংশোধন করে গেজেট প্রকাশের সময়সীমা আরও ১৫০ দিন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের দাবি, কয়েকটি উপজেলায় ‘খ’ তালিকা তৈরি করে পাঠানোও হয়েছে। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত মালিকদের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সরকার কেন্দ্রীয় কমিটি, আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং প্রতি জেলায় জেলা কমিটি ও জেলা ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট আবেদনকারীরা যাতে আপিল ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যেতে পারেন, তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে গোল বেধেছে অন্যত্র। ‘অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ কমিটি’র নেতা বিশিষ্ট আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশ হলেও অর্পিত সম্পত্তির ‘ক’ বা ‘খ’ কোনও তালিকাই এখনও বেশির ভাগ উপজেলা বা থানায় পৌঁছয়নি। এ দিকে আবেদন করার দিন গড়িয়ে যাচ্ছে। তালিকা সংবাদমাধ্যমে প্রচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সুব্রতবাবু বলেন, জেলা জজদের মাথায় রেখে সরকার ট্রাইব্যুনালগুলি গড়েছে। কিন্তু সাধারণ মামলার চাপে তাঁরা এতটাই জেরবার, তাঁদের পক্ষে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ ফেরতের কাজ দ্রুত গতিতে করা খুবই কঠিন। সুব্রতবাবু বলেন, সব দিক খতিয়ে না দেখে গেজেট প্রকাশ করে দেওয়ায় সরকারের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তবে বিষয়টি সরকার অনুধাবন করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। "