Fatema Sharmin Rikta-ফাতেমা শারমিন রিক্তা

Fatema Sharmin Rikta-ফাতেমা শারমিন রিক্তা

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Fatema Sharmin Rikta-ফাতেমা শারমিন রিক্তা, Uttara, Dhaka.

21/05/2023

অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশে তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকাল। দেশীয় সিপাইরা বিদ্রোহী হয়ে উঠল কোম্পানির অন্যায়ের বিরুদ্ধে। শাস্তিস্বরূপ জাহাজ বোঝাই করে বিদ্রোহী সিপাইদেএ চালান করা হচ্ছিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে। উদ্দেশ্য ছিল পেনাল সেটেলমেন্ট স্থাপন কিংবা সেলুলার জেল তৈরির পরিকল্পনা। সেখানে দুহাজার বছরের প্রাচীন স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় বিপুল অরণ্য ধ্বংস আর বাসস্থান হারানোর ভয়ে সশস্ত্র প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লেখা হলো তির ধনুক আর বন্দুকের অসম লড়াইয়ের এক করুণ ইতিহাস। সেদিন অসহায় মানুষের চোখের জলের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল সমুদ্রের নোনাজল।

প্রেমও নিলাম হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদের কাছে। আদিবাসী দুইবোন, দুই কন্যা, যেন প্রকৃতিরই দুই রূপ। স্বভাবে বিপরীত হয়েও তারা ভালবাসে এক বিজাতীয় পুরুষকে। বিপন্ন সময়ের টানাপোড়েনেও গড়ে ওঠে এক অপূর্ব প্রেমকাহিনী। কিন্তু তারপর?

কিভাবে তথাকথিত সভ্য সমাজ দাম দেয় তাদের সারল্যের, কিভাবে পৃথিবী লাঞ্ছিত হয় সাম্রাজ্যবাদের হাতে, মানবসভ্যতার নৃশংস বাস্তবতা কিভাবে হার মানায় পরাবাস্তবতাকে সেই ইতিহাস মূর্ত হয়ে উঠেছে এই উপন্যাসে।

বইঃ নোনাজল
লেখকঃ অনিন্দিতা গোস্বামী
প্রকাশনাঃ পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
প্রচ্ছদঃ রাজীব রাজু

20/05/2023

লুকোচুরি করতে আমি চাই নে, কেননা তাতে কাপুরুষতা আছে। কিন্তু দরকার হলে যদি করতে না পারি তবে সেও কাপুরুষতা। তুমি যা চাও তা তুমি দেয়াল গেঁথে রাখতে চাও, সুতরাং আমি যা চাই তা আমি সিঁধ কেটে নিতে চাই।
তোমার লোভ আছে তাই তুমি দেয়াল গাঁথ, আমার লোভ আছে তাই আমি সিঁধ কাটি।

---সন্দীপের আত্মকথা (ঘরে-বাইরে)

19/05/2023

বইঃ পদ্মা নদীর মাঝি
লেখকঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বাহুল্যবর্জিত। সমকালীন অন্যান্য লেখকের মতো পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা জুড়ে কোনো চরিত্রের বর্ণনা দিতেন না। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও অনুভূতি গুলোতে তার এক প্রকার নির্বিকারত্ব লক্ষণীয়।

জনৈক অধ্যাপক বলেছিলেন, 'পদ্মা নদীর মাঝি' শরৎচন্দ্রের হাতে পড়লে চার খন্ডের শ্রীকান্ত হয়ে যেত !'
তাঁর এই পরিমিতিবোধের মূল কারণ ছিল তিনি নিছক লেখার উদ্দেশ্যে লিখতেন না, একটি আদর্শকে সামনে
রেখে লিখতেন।

ব্যক্তি জীবনে মানিক ছিলেন মার্ক্সবাদী আদর্শের অনুসারী, সেইসঙ্গে তাঁর মনন ছিল ফ্রয়েডীয় চেতনায় লালিত।

তাই তাঁর উপন্যাসের সার্থকতা নিরূপণ তাঁর চিন্তা-আদর্শের ভিত্তিতে হওয়া উচিৎ। এক্ষেত্রে, লেখকের আদর্শের সঙ্গে সহমত হওয়াটা জরুরী নয়।

সেই বিচারে দেখা যায় বিভূতি, শরৎচন্দ্রের মতো মানিকও নিম্নবর্গ, নিম্নশ্রেণীর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুঃখ, দুর্দশা চিরায়ত অভাব, অসহায়ত্ব দেখিয়েছেন। তাদের উপন্যাসের দুর্বল দিক হলো তারা এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় দেখান নি।

তবে পদ্মানদীর মাঝি তে মানিক ময়নাদ্বীপের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের একটা উপায় বা স্বপ্ন দেখিয়েছেন বলা যায়।

উপন্যাসে ময়না দ্বীপকে ঘিরে হোসেন মিয়ার স্বপ্ন-

সেখানে সে এমন একটা জনসমাজ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দলমত ও ধর্মমত নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ এমন একটা সমাজ গড়ে তুলবে, মনুষ্যত্ব ও মানবতাই হবে যার প্রধান ভিত্তি।
তাই বলা যায়, ময়নাদ্বীপ লেখকের স্বপ্নের কম্যুনিস্ট রাষ্ট্রের প্রতীকী রূপ।

সাহিত্যমানে লেখকের বাহুল্যবর্জন আমাকে আইসবার্গ তত্ত্ব এবং আর্নেস্ট হেমিংওয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এখানে কুবের যেন দ্য "ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী" - এর সেই বৃদ্ধ মাঝির মতো যে শত প্রতিকূলতার মাঝেও নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে।

সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের কারণে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ক্ষোভ লুকানোর চেষ্টা করেননি মানিক-‘ ঈশ্বর থাকেন ওই গ্রামে, ভদ্রপল্লীতে । এখানে তাঁহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না ।

তাঁর লেখায় প্রাধান্য পেয়েছে, মানবপ্রেম।
নীতি নৈতিকতার বিচারে সে কুবেরকে ধনঞ্জয় খুড়ো, শেতলবাবুদের মতো মানুষকে ঘৃণা করতে দেখিয়েছেন। আবার কুবের-কপিলার অবৈধ সম্পর্ক, হোসেন মিয়ার শঠতা, চক্রান্তকে সমর্থন করেছেন।
তিনি মনে করতেন ন্যায়, অন্যায় আপেক্ষিক। মানবতাই আসল ধর্ম।

সামগ্রিক বিবেচনায় বলা যায়, পদ্মা নদীর মাঝি একটি নিরীক্ষাধর্মী সামাজিক উপন্যাস- যেখানে সমাজ, পরিবার প্রথা এবং পাত্র-পাত্রীদের মনঃস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব সমানভাবে উল্লেখ্য। স্রোতের বিপরীতে গিয়ে বাংলা উপন্যাস নিয়ে এমন দুঃসাহসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার।

'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের আঙ্গিক গঠন, রচনাশৈলী, পাত্র-পাত্রীদের মুখে আরোপিত ভাষা, জীবনাচরণ, জীবনচর্চা এ সবই একটি সার্থক আঞ্চলিক উপন্যাসের পরিচয় বহন করে।

উপন্যাসটির সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ হলো- সম্পূর্ণরূপে নিম্নশ্রেণী অধ্যুষিত গ্রাম্য জীবনের চিত্রাঙ্কনে সূক্ষ্মতা। সঙ্কীর্ণ পরিধির মধ্যে সনাতন মানব-প্রবৃত্তিগুলির ক্ষুদ্র সংঘাত ও মৃদু উচ্ছ্বাসের যথাযথ সীমা নির্দেশ।

কাহিনী সংক্ষেপঃ

'পদ্মা নদীর মাঝি' একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
জেলে অধ্যুষিত গ্রামের জীবনযাত্রাই পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।
এ উপন্যাসের পটভূমি বাংলাদেশের বিক্রমপুর, ফরিদপুর অঞ্চল। উপন্যাসে বিক্রমপুর-ফরিদপুর অঞ্চলের পদ্মার তীর সংলগ্ন কেতুপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের পদ্মার মাঝি ও জেলেদের দীন-দরিদ্র জেলে ও মাঝিদের জীবনচিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে। এর কোথাও আধুনিকতা বা সভ্যতার ছোঁয়া নেই। অদৃষ্ট এবং প্রকৃতিও এদের বিরুদ্ধে। এদের স্বরূপ বিশ্লেষণে লেখক বলেছেন,

"এই ধীবর পল্লীর জীবনযাত্রায় শিক্ষিত আভিজাত্যের মার্জিত রুচি ও উচ্চ আদর্শবাদের ছায়াপাত নাই।"

"ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে- এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া দুস্কর।"

এখানে এইসব এলাকার নিম্নশ্রেণীর অধিবাসীদের মধ্যকার সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, অভাব-অভিযোগ, রাগ, হিংসা, স্নেহ-মায়া, চতুরতা, অসহায়ত্ব প্রত্যেকটি দিক খুব স্পষ্টভাবে চিত্রিত।

উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং নায়ক কুবের। পদ্মা নদীর সে এক পাকা মাঝি। মাছ ধরে, প্রধানত ইলিশ মাছ ধরে সে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে। নিজের নৌকা, জাল নেই কুবেরের। ধনঞ্জয় খুড়ার নৌকায় সে আর গণেশ কাজ করে।
নিম্নবিত্ত সহজ সরল হওয়ায় তাকে সবাই ঠকায়। তার অসহায়ত্বের উপর রাগ হয় তবু নিরব থাকে সে। কেননা,

"গরীবের মধ্যে সে গরীব, ছোটলোকের মধ্যে আরও বেশি ছোটলোক"

সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রী মালা, চিরপঙ্গু। পদ্মার ঢেউয়ের মতো চঞ্চল কুবের আর স্ত্রী মালার মধ্যে ছিলো আশ্চর্যরকমের স্থবিরতা।
তা নিয়ে যদিও তেমন কোনো অভিযোগ তার ছিল না। কিন্তু মালার বোন কপিলার চতুরতা, চাঞ্চল্য, বুদ্ধি বিবেচনা তাকে আকর্ষিত করে। অন্যদিকে কুবেরের হৃদয়ে আদিম আবেদন সৃষ্টিকারী কপিলা সচেতনভাবেই কুবেরের অনুভূতিকে প্রশ্রয় দিতে থাকে।

তাদের এ আচরণের মধ্যে কিছুটা আদিম ও অসংস্কৃত মনের পরিচয় লক্ষণীয়, যা সমাজের চোখে অনেকটাই নিন্দনীয়। তবে কপিলার স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়া, বাপের বাড়ি ফিরে আসা, স্বামীর ২য় বিবাহ, মালার পঙ্গুত্বের কারণে কুবের ও সন্তান-সন্ততির প্রতি তার কর্তব্য করতে না পারা প্রভৃতি এর ইন্ধন যোগায়।

সন্তান-সন্ততি, পরিবার, সমাজের জন্য যদিওবা তারা পরস্পরকে অস্বীকার করে নিজ নিজ সংসারের প্রতি দায়িত্ববান হয়।

কিন্তু উপন্যাসের এক পর্যায়ে, কুবের মিথ্যে ঘটি ও টাকা চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হয় এবং হোসেন মিয়ার কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। বিত্তবান হোসেন মিয়া কুবেরের মতো হতদরিদ্র লোকদের বিভিন্ন কৌশলে তার জনমানবহীন ময়নাদ্বীপে এক নতুন সমাজ গঠনের জন্য নিয়ে যায়। তার চক্রান্তে কুবের একসময় ময়নাদ্বীপে যেতে রাজি হয়।

পুরো উপন্যাসে কপিলা কুবেরের সংশয় নিমেষেই ঘুচে যায়। কপিলা তার সাথে যেতে চায়!

"আমারে নিবা মাঝি লগে?"

কুবের কপিলাকে ময়নাদ্বীপে নিতে সম্মত হলে তারা রওয়ানা দেয় ময়নাদ্বীপের উদ্দেশ্যে ফেলে রেখে তাদের সমস্ত অতীত।

+++----+++----+++----+++----+++----+++---+++---+++

উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু সংগৃহীত তথ্যঃ

'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বাধিক পঠিত,আলোচিত এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। ১৯৩৬ সালে গ্রন্থাকারে উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতীয় উপন্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনূদিত হওয়ার গৌরব অর্জন করে এই উপন্যাসটি।

১৯৪৮ সালে হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ইংরেজিতে অনুবাদ করেন (Boatman of the Padma)।
১৯৫৩ ও ১৯৫৪ সালে যথাক্রমে সুইডিশ ও চেক ভাষায় উপন্যাসটির অনুবাদ প্রকাশিত হয়। তাছাড়া হাঙ্গেরীয়, জার্মান ও ডাচ ভাষায়ও উপন্যাসটির অনুবাদ হয়।

বাংলাদেশে দুবার পদ্মানদীর মাঝির ওপর চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। ঢাকায় নতুন প্রতিষ্ঠিত এফডিসি প্রাথমিক পর্যায়ে উর্দু ভাষায় নির্মিতব্য যে ছবি করার অনুমতি দেয়—সেটি এই উপন্যাসকে অবলম্বন করে নির্মিত হয়। ১৯৫৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটির নাম ছিল

'জাগো হুয়া সাভেরা (The Day Shall Dawn)'- এর পরিচালক ছিলেন এ জে কারদার। কিন্তু এখানে লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহৃত হয়নি। এর বদলে কাহিনীকার (চিত্রনাট্যকার) হিসেবে উর্দু ভাষার বিশিষ্ট কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজের নাম উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীকালে গৌতম ঘোষ ১৯৯২ সালে এই উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপ দেন।

Fatema Sharmin Rikta

#চিরায়ত_সাহিত্য_চিরন্তন
#পদ্মা_নদীর_মাঝি

Photos from Fatema Sharmin Rikta-ফাতেমা শারমিন রিক্তা's post 24/08/2022

ডনোভান দাবা টিম ❤️

Fatema Sharmin Rikta

15/08/2022

ভ্রমণপিপাসু সাধারণ মানুষের ভ্রমণ গল্প, সাহিত্যিকের ভ্রমণ গল্প, আর রাজনৈতিক নেতার ভ্রমণ গল্পের মধ্যে আমি রাজনৈতিক নেতার গল্পকে বেশি প্রাধান্য দেই যদি তাতে দেশটির সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবস্থা সুক্ষ্ণভাবে নিরীক্ষিত এবং বিশ্লেষিত হয়।

'আমার দেখা নয়াচীন' তেমন একটি গ্রন্থ।

বঙ্গবন্ধু যখন দেশটি ভ্রমণ করেছিলেন তখন কম্যুনিস্ট চীনের বয়স মাত্র ৩ বছর। মাও সেতুং এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা চীনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবস্থা বেশ ভালভাবেই পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তিনি। নিজের থেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করতে চেয়েছেন, পরীক্ষা করে দেখেছেন তথ্যগুলো। এবং প্রতিবারই তিনি অভিভূত হয়েছিলেন নয়াচীন এবং মাও সেতুং - এ!

বইটির প্রতিটি অংশ আলোচনা সম্ভব নয় তবে বেশ কয়েকটি পর্বে লিখতে চাই। একবার পড়েছি, দ্বিতীয়বার পড়ছি সারসংক্ষেপ তুলে ধরার জন্য।

শুরুর কথাঃ-
বঙ্গবন্ধু তখন তরুণ রাজনৈতিক নেতা।
১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে পিস কনফারেন্স অব দি এশিয়ান এন্ড প্যাসিফিক রিজিয়ন্স-এ পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে নয়া চীন সফর করেন। সেই সময়ের ভ্রমণকাহিনী ১৯৫৪ সালে কারাগারে রাজবন্দি থাকাকালে তিনি রচনা করেন।

বঙ্গবন্ধু তাঁর লেখার শুরুতেই বলেছেন-

'অনেকে বলতে পারেন কম্যুনিস্টদের শান্তি সম্মেলনে আপনারা যোগদান করবেন কেন? আপনারা তো কম্যুনিস্ট না। কথাটা সত্য যে আমরা কম্যুনিস্ট না। তথাপি দুনিয়ার আজ যারাই শান্তি চায় তাদের শান্তি সম্মেলনে আমরা যোগদান করতে রাজি।

তিনি আরও লিখছেন-

'১৯৫২ সালে জেল থেকে বের হলাম, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পর। জেলে থাকতে ভাবতাম আর মাঝে মাঝে মওলানা ভাসানী সাহেবও বলতেন, যদি সুযোগ পাও একবার চীন দেশে যেও।' অল্পদিনের মধ্যে তারা কত উন্নতি করেছে। চীন দেশের খবর আমাদের দেশে বেশি আসে না এবং আসতে দেওয়াও হয় না। তবুও যতটুকু পেতাম তাতেই মনে হতো যদি দেখতে পেতাম কেমন করে তারা দেশকে গড়েছে!
তিনি শুধু দেখে সন্তুষ্ট থাকেন নি। বুঝতে সময় নিয়েছেন, আসলে সত্যি তাই কিনা! ভিনদেশি নেতাদের কাছে সবটা সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে কি না!

যখন নিজের থেকেই সত্যতার প্রমাণ পেলেন, তখনই শুধুমাত্র মাও সেতুং এর প্রতি চীনের জনগণের গভীর শ্রদ্ধা ও অগাধ ভালবাসাকে ব্যাখ্যা করতে পারলেন।

©Fatema Sharmin Rikta

03/08/2022

নারী কুহেলিকা!
নারী শুধু ইঙ্গিত, সে প্রকাশ নয়। নারীকে আমরা দেখি বেলাভূমে দাঁড়িয়ে - মহাসিন্ধু দেখার মতো। তীরে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের যতটুকু দেখা যায়, আমরা নারীকে দেখি ততটুকু।
কী গভীর রহস্য ওদের চোখেমুখে। ওরা চাঁদের মতো মায়াবী; তারার মতো সুদূর। ছায়াপথের মতো রহস্য। শুধু আবছায়া, শুধু গোপন।
ওরা যেন জলের ঢেউ, ফুলের গন্ধ, পাতার শ্যামলিমা, ওদের অনুভব কর, দেখ কিন্তু ধরতে যেয়ো না।
ঢেউ ধরতে গেলেই জলে ডুববে। গন্ধ ধরতে গেলেই বিঁধবে কাঁটা। শ্যামলিমা ধরতে গেলেই বাজবে শাখা। নারী দেবী, ওকে ছুঁতে নেই, পায়ের নিচে গড় করতে হয়।
নারী মাত্রই নায়িকা। ওরা প্রত্যেকে প্রতিদিন গল্প আর উপন্যাস সৃজন করে চলছে। কত 'চোখের বালি' কত 'ঘরে বাইরে' কত 'গৃহদাহ', 'চরিত্রহীন' সৃষ্টি করছে নারী.......
---- কাজী নজরুল ইসলাম (কুহেলিকা)

Fatema Sharmin Rikta
Reader's Choice

01/08/2022

-- ক্রিটিক্যাল কি ক্যাল আমি জানি! হাসপাতালে জায়গা না থাকলে কোথায় রাখা হবে? মেঝেতে পা ফেলার ঠাঁই নেই, বারান্দা দিয়ে হাঁটার উপায় নেই। ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই। এরপর রুগী তো আমার বেডরুমে পাঠিয়ে দেবেন দেখছি। একঘন্টার মধ্যে যে রুগী মরবে না, তাকে যেন এখানে ভর্তি করা না হয়। এক ঘন্টার মধ্যে মরা চাই।

.....পাতালে হাসপাতালে, হাসান আজিজুল হক।

মধ্যরাতের কাব্যি,
সরল হিংসা,
সাক্ষাৎকার,
পাতালে হাসপাতালে,,,,

সীমাহীন বিভৎসতায় ভরা এর গল্প ৪ টা, তবুও বাস্তবতা অস্বীকারের উপায় নেই। এরপরে একবেলা আর কিছু পড়তে ইচ্ছেও করে না!

ছবিঃ আমার একটা অলস বিকেলের গল্প....

Photos from Fatema Sharmin Rikta-ফাতেমা শারমিন রিক্তা's post 30/07/2022

স্কুলভিত্তিক দাবা প্রতিযোগিতার প্রশিক্ষণ পর্বে আমরা.....

Fatema Sharmin Rikta

Photos from Fatema Sharmin Rikta-ফাতেমা শারমিন রিক্তা's post 29/07/2022

মাল্যবান
লেখকঃ জীবনানন্দ দাশ

'মাল্যবান' কে জীবনানন্দ দাশের অঘোষিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস বলা হয়। এর মাধ্যমে কবিপত্নী লাবণ্য দাশের চরিত্রের যে রুঢ়, কুৎসিত দিক চিত্রায়িত হয়েছে তা গ্রন্থ আকারে প্রকাশ না করার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন তিনি।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মাল্যবান পেশায় কেরানি ছিলেন। স্ত্রী উৎপলা, কন্যা মনুকে নিয়ে কলকাতায় একটি দুইতলা বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি।

দোতলায় স্ত্রী কন্যার বিলাসবহুল, পরিপাটি বেশের ঠিক বিপরীতে নিচতলায় মাল্যবানের অন্ধকারাচ্ছন্ন ছোট্ট খুপরি ঘরে বসবাস একই ছাদের নীচে দুটি পৃথক জীবনযাপনেরই স্বরুপ। তবুও মাল্যবানের মনে ছিল স্ত্রী কন্যার ভালবাসা পাবার তীব্র বাসনা।

স্বল্প বেতনের চাকুরে স্বামীর দরিদ্রতায় চরম উদাসীন থাকার পরও স্ত্রীর উচ্চাশা পুরণে চেষ্টার কোন কমতি ছিল না মাল্যবানের। মাসিক বেতন, ইন্সুরেন্স, এমনকি নিজের ঘড়ি বিক্রি করা টাকা তুলে দেয়া সত্ত্বেও তার প্রতি স্ত্রীর ছিল সীমাহীন অভিযোগ।

সংসারে নিজের দাম্পত্য জীবনে উদাসীন হলেও উৎপলার নিজ বাড়িতে অতিথি হয়ে আসা মেজদা-মেজদির প্রতি যত্নের সীমা ছিল না। তাদের 'জোড়' যাতে না ভাঙে তার জন্য তাদের এক ঘর ছেড়ে দিতে স্ত্রী'র কথায় শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ মাস মেসে গিয়ে থাকতে হয় মাল্যবানকে।

অথচ 'জোড়' মাল্যবান-উৎপলারও ছিল! জোড়ে থাকার কথা তাদেরও!

'খুব ভালো শাঁখার ব্যবসায়ী ছিলাম আমি, তোমার হাতও ননীর মতো নরম ছিল, কিন্তু কোনো শাঁখাই পরাতে পারলাম না কেন?'
'জোড়' সম্পর্কে মাল্যবানের এ প্রশ্নে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত ছিল উৎপলা।

গল্পে প্রতিনিয়ত স্ত্রী দ্বারা অবহেলিত, উপেক্ষিত মাল্যবানের স্ত্রী-সন্তান সুখ লাভের অদম্য চাওয়া, ব্যাকুলতা মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক!

Fatema Sharmin Rikta
Reader's Choice

27/07/2022

Everyday is a new day. It is better to be lucky. But I would rather be exact. Then when luck comes you are ready.....

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Uttara
Dhaka
1230