Bipasha Mohan

Bipasha Mohan

Share

Use your smile to change the "world"
Don't let the world change "your smile"
So, "FLY YOUR OWN WAY"

24/12/2025

বাংলা বিভাগ
বাংলা ছোটগল্প-১

শাস্তি গল্পের মূল-বিষয়বস্তু ✅

22/12/2025

অনার্স তৃতীয় বর্ষ

বিষয়ঃ প্রাচীন ও মধ্যযুগের কবিতা

চর্যাপদের নারীদের অবস্থানঃ

✅চর্যাপদের যুগে নারীরা খুবই স্বাধীন ছিল । তারা স্বেচ্ছায় পেশা ও সঙ্গী নির্বাচনের অধিকার রাখত। কুক্কুরীপা একটি পদে (২নং) লিখেছেন, গৃহবধূটি বেশ ছল জানে। সে দিনের বেলায় কাকের ডাক শুনেই ভয় পায়, কিন্তু রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়। কাহ্নপা একটি পদে (১০নং) জানিয়েছেন, এক ডোমিনী নগরে তাঁত ও চেঙারি বিক্রি করে । কাহ্নপার অন্য একটি পদে (১৮নং) ডোমনীর 'ছিনালী' করার কথা আছে । ডোম্বীপাদের ১৪নং পদে নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপার ইত্যাদির মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায় । তাছাড়া নারীরা গুরুর স্থানও অধিকার করেছিল ।

22/12/2025

অনার্স ৩য় বর্ষ

বাংলা বিভাগ✅

বিষয়: মধ্যযুগের কবিতা

বিষয়ের শিরোনাম: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রাধা চরিত্র বিশ্লেষণ ✅

প্রিয় শিক্ষার্থীরা... গ বিভাগে এই রাধা চরিত্র আসার সম্ভাবনা প্রায় ১০০%

👉বড়ুচণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটির মধ্যমণি হলো রাধা চরিত্র। কবি শ্রীকৃষ্ণের মাহাত্ম্য কীর্তনের উদ্দেশ্যে হয়তো কাব্য রচনা করেছিলেন। কারণ কাব্যের নাম হিসেবে আমরা 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্বঃ' (শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ) লেখা চিরকুটটির কথা স্মরণ করতে পারি। তথাপি এ কাব্যের সকল গৌরব আত্মসাৎ করেছে রাধা চরিত্রটি। মনস্তত্ত্ব সম্মত উপায়ে রাধা চরিত্রটি বিকশিত হয়ে উঠেছে কবির সুনিপুণ লেখনী-স্পর্শে। পূর্ণাঙ্গ নারী চরিত্ররূপে রাধাকে চিত্রিত করার মধ্যে কবি তাঁর অতুলনীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। এগারো বছরের বালিকা ধীরে ধীরে দেহচেতনা ও প্রেমচেতনায় পরিপূর্ণ মানবীরূপে উপস্থিত হয়েছে এ কাব্যে—"বংশীখণ্ড" সেই পরিণত নারীর পরিণত প্রণয়ের চিহ্ন বহন করছে। কৃষ্ণ বীতরাগিনী রাধাকে কৃষ্ণ-অনুরাগিনীতে রূপান্তরিত করার মনস্তত্ত্বসম্মত পন্থাটি বড়ু চণ্ডীদাসের চরিত্র চিত্রণে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয়বাহী।

'তাম্বুলখণ্ডে' কৃষ্ণ-প্রেরিত কর্পূর তাম্বুল রাধা পদদলিত করেন। কারণ তাঁর কাছে সমাজজীবন ও পরিবারজীবনই সবচেয়ে বড়। তাঁর মনে আছে আজন্ম লালিত সতীত্বের সংস্কার, স্বামী-প্রীতি অথবা স্বামীভীতি। আর আছে কুল, শীল, মান, মর্যাদা ও আপনরূপ-যৌবন সম্পর্কে সচেতনতা ও করলো অহংবোধ। তাই বড়ায়িকে রাধা বলেছেন,

"ঘরের সামী মোর সর্বাঙ্গে সুন্দর আছে সুলক্ষণ দেহা। নান্দের ঘরের গরু রাখোয়াল তা সমে কি মোর নেহা।।"

বড়ায়ি কৃষ্ণের সঙ্গে রাধার প্রণয় সম্পর্কের সুফল হিসেবে বিষ্ণুপুরে স্থিতির কথা বললে রাধা স্পষ্টভাবে বড়ায়িকে জানান—

“ধিক জাউ নারীর জীবন দহেঁ পসু তার পতী।
পর পুরুষের নেহাএঁ যাহার বিষ্ণুপুরে স্থিতী।।”

সুতরাং রাধার মনে পাপ-পুণ্য, নৈতিকতা ও অনৈতিকতার প্রশ্নটি বেশ প্রবল। তথাপি এই নারীকে পাশবপ্রবৃত্তির কামনালোলুপ স্বেচ্ছাচারী কৃষ্ণের কাছে দেহসমর্পণ করতে হয়। 'দানখণ্ডে' বড়ায়ির সঙ্গে পরামর্শ করে কৃষ্ণ দানী সেজে অপেক্ষা করেন এবং রাধার কাছে বারো বছরের দান চান। রাধার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণও করেন তিনি যা এযুগের বিচারে অশ্লীল বলে মনে হতেই পারে। লজ্জিত রাধা আত্মরক্ষার তাগিদে কাহাঞিকে নানা ভাবে বোঝাতে সচেষ্ট হন। নিজের স্বামী, শ্বশুরঘর, এমনকি কংসের কথাও বলেন। সেই সঙ্গে বারবার কৃষ্ণকে তাদের সম্পর্কর কথা স্মরণ করান—“তোহ্মার মাউলানী আহ্মো শুন দেবরাজ।।”

কিন্তু এত করেও নিজের সতীত্ব রক্ষা করতে পারেন না রাধা। প্রাস্তরে একাকিনী রাধাকে বলপূর্বক সম্ভোগ করেন কৃষ্ণ। লজ্জায়, অপমানে, আত্মগ্লানিতে দগ্ধ রাধার অসহায় অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন কবি ১৪৫ নং পদে।

কিন্তু “নৌকাখণ্ডে” এই দেহচেতনার পথ ধরেই রাধার মনে প্রেমচেতনা জাগ্রত হয়েছে। 'নৌকাখণ্ডে'ও বলপূর্বক মিলনের পর রাধার মনে অদ্ভুত পরিবর্তন এসেছে। বড়ায়ির কাছেও সত্য গোপন করেছেন তিনি। কৃষ্ণের প্রশংসা করে বলেছেন,

“এবার কাহাঞি বড় কৈল উপকার।
জরমে সুঝিতে নারা এ গুণ তাহার।”

জাগ্রত যৌবনচেতনায় রাধার মনে কৃষ্ণের প্রতি অনুরাগ সঞ্চারিত হয়েছে। তাই "ভার’ ও ‘ছত্র’ খণ্ডে কানুর সঙ্গে রাধার ব্যবহারে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। পূর্বের সেই উষ্মা, ক্ষোভ ও বীতস্পৃহা রাধার মধ্যে লক্ষ করা যায় না। বেশ সরসতাও লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে রাধার কথোপকথনে। 'বৃন্দাবন খণ্ডে’ রাধার নব-অনুরক্ত মনে অভিমান জাগ্রত হয়েছে, যার মূলে আছে আধিকারবোধ। কৃষ্ণ বহুমূর্তি হয়ে গোপীদের সঙ্গে বিলাসরত হলে রাধা অভিমানিনী হন। তখন কানাই জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দে'র কৃষ্ণের অনুরূপ ভঙ্গিতে রাধার মানভঞ্জনে সচেষ্ট হন—

"মদন গরল খণ্ডণ রাধা মাথার মণ্ডণ মোরে।
চরণপল্লব আরোপ রাধা মোর মাথার উপরে।।”

এখানে অনিবার্যভাবে আমাদের মনে পড়বে 'গীতগোবিন্দে' কৃষ্ণ উচ্চারিত সেই পক্তিগুলি—
" স্মরগরল খণ্ডনম
মম শিরসি মণ্ডনম্
দেহি পদপল্লবমুদারম্।।"

এখানে শুধু রাধার নয়, রাধার প্রতি শ্যামের অনুরাগটিও চকিতে উদ্ভাসিত। প্রেয়সী রাধা নিজের মনোভাব প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেন 'বৃন্দাবন' খণ্ডে পরবর্তী 'যমুনানতর্গত কালীয়দমনখণ্ডে।' কৃষ্ণ কালীয়নাগ দমনে প্রবৃত্ত হয়ে কালীদহে ঝাঁপ দিয়েছেন শুনে ক্রন্দনাকুল রাধা বলেন—

“আজি জখনে মো বাঢ়ায়িলোঁ পাএ
পাছেঁ ডাক দিল কালিনী মাএ।।

এখানে রাধার হৃদয়-আকুলতা চমৎকার প্রকাশিত হয়েছে, সেই সঙ্গে শোনা গেছে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি--কৃষ্ণই তাঁর 'পরাণপতী'। রাধা চরিত্রকে এইভাবে ধীরে ধীরে বিকশিত করে তুলেছেন কবি। এ রাধার সঙ্গে বিদ্যাপতির রাধার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া গেলেও চণ্ডীদাসের রাধার সঙ্গে একেবারেই মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। আসলে পদাবলীর চণ্ডীদাসে রাধাকে প্রথমাবধি সর্বসমমর্পিত কৃষ্ণে নিবেদিত বিরহভারাতুরা সর্বংসহা চরিত্ররূপে চিত্রিত করেছেন। 'অল্পে অল্পে মুকুলিত হওয়ার সুযোগ সেখানে একেবারেই নেই। অপরদিকে, “শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের কবি বাস্তব অভিজ্ঞতার পটভূমিতে দাঁড়িয়ে রাধা চরিত্রকে রূপায়িত করেছেন। তাই সেখানে রাধার অন্তর্দ্বন্দ্ব, তাঁর সামাজিক সত্তা ও ব্যক্তিসত্তার দ্বন্দ্ব এমন বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে।

মধ্যযুগীয় সমাজে সমাজ ও পরিবারের পরম নিরাপদ গণ্ডী ভেঙে কোন নারীর পক্ষে পর-পুরুষের প্রেমে সাড়া দেওয়া সম্ভব ছিল না। তেমনি সম্ভব ছিল না পুরুষের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া। কিন্তু বড়ুর রাধা সেই অসাধ্য সাধন করেছেন। কৃষ্ণের প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে তাঁর সেই ব্যক্তিত্বের চিত্রণ আমরা 'তাম্বুলখণ্ডে" লক্ষ করেছি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্বীয় অস্তরে প্রেমের জাগরণে সমাজের ভ্রূভঙ্গিকে উপেক্ষা করতে চেয়েছেন তিনি।

তবু যে কোন কুলবর্তী নারীরই প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা থাকে। তাই স্বীয় প্রেমকে যতবার প্রকাশ করেছেন রাধা, ততবারই তাকে গোপন করতে সচেষ্ট হয়েছেন। 'বস্ত্রহরণখণ্ডে' কৃষ্ণ রাধার বস্ত্রহরণ করেন। শুধু রাধার নয়, সব গোপিনীরই হার ও বস্ত্র হরণ করেন তিনি। তারা বারবার সেগুলি ফেরত চাইলে কানাই জানান যে, রাধা যদি বিবস্ত্রা অবস্থায় ডাঙায় উঠে বস্ত্র প্রার্থনা করেন তবেই কৃষ্ণ সদয় হবেন। রাধা নিরুপায় হয়ে কৃষ্ণের কথা মতো কাজ করলেও কানু রাধাকে হার ফিরিয়ে দেন না, শুধু বস্ত্রটুকু দেন। ফলে অন্য গোপী সম্মুখে বিব্রত রাধা 'হারখণ্ডে' যশোদার কাছে কৃষ্ণের বিরুদ্ধে হার চুরির অভিযোগ আনেন। ফলে কৃষ্ণ ক্ষুব্ধ, অপমানিত হন, এবং বড়ায়ির সঙ্গে পরামর্শ করে রাধাকে পুষ্পবাণে আহত করেন। পুষ্পবাণে আহত মৃতপ্রায় রাধাকে দেখে কৃষ্ণ বিলাপ করলেও উভয়ের সম্পর্ক আর পূর্বাবস্থায় থাকে না। বিশেষত, কৃষ্ণের মানসিক পরিবর্তন অধিক স্পষ্টরূপে ধরা পড়ে।

রাধা প্রেম-বিমুখ নন, প্রেম আকুল এক নারী। তার অন্তরর অবিরাম বেজে চলেছে প্রেমের বাঁশি। নিয়ত দগ্ধ হচ্ছে পরাণ। বাস্তব থেকে দৃষ্টান্ত চয়ন করে কবি বড়ুচণ্ডীদাস বংশী-ব্যাকুলা রাধা'র অন্তরবেদনা প্রকাশ করেছেন,

“বন পোড়ে আগ বড়ায়ি জগজনে জানী।
মোর মন পোড়ে যেহ্ন কুমভারের পণী।।”

03/11/2025

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ

বাংলা বিভাগ

বিষয়: বাংলা নাটক-১ ✅

👉বিষয়ের শিরোনাম সিরাজুদ্দৌলা নাটকের মূলবিষয়বস্তু

সিরাজউদ্দৌলা হলো সিকানদার আবু জাফর রচিত একটি করুণরসাত্মক নাটক। বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব মির্জা মুহম্মদ সিরাজউদ্দৌলার জীবনের উপরে ভিত্তি করে রচিত এই নাটকটিতে পলাশীর যুদ্ধে নবাবের ভূমিকা বর্ণনা করা হয়েছে। একদিকে বাংলার স্বাধীনতা হরণে ইংরেজদের প্রচেষ্টা, অপরদিকে নবাবকে সিংহাসন থেকে সরাতে নিকটাত্মীয়দের ষড়যন্ত্র— এহেন পরিস্থিতিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কীভাবে লড়াই চালিয়ে গেছেন এবং অবশেষে যুদ্ধে হেরে গিয়ে নিজের প্রাণ হারিয়েছেন— সেই বর্ণনাই উঠে এসেছে এই নাটকটিতে।

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই ইতিহাসে পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৭৫৭ সালের জুন ২৩ তারিখে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং
ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সূচিত হয়। ১৭৫৭ খৃস্টাব্দের ১২ জুন কলকাতার ইংরেজ সৈন্যরা চন্দননগরের
সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়। সেখানে দুর্গ রক্ষার জন্য অল্প কছু সৈন্য রেখে তারা ১৩ জুন অবশিষ্ট সৈন্য নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করে। কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদের পথে হুগলি,
কাটোয়ার দুর্গ, অগ্রদ্বীপ ওপলাশীতে নবাবের সৈন্য থাকা সত্ত্বেও তারা কেউ ইংরেজদের পথ রোধ করল না। নবাব বুঝতে পারলেন, সেনাপতিরাও এই ষড়যন্ত্রে শামিল।বিদ্রোহের আভাস পেয়ে সিরাজ মিরজাফরকে বন্দী করার চিন্তা বাদ দিলেন। তিনি মিরজাফরকে ক্ষমা করে তাকে শপথ নিতে বললেন। মিরজাফর পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে
অঙ্গীকার করলেন যে, তিনি শরীরের একবিন্দু রক্ত থাকতেও বাংলার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন হতে দেবেন না গৃহবিবাদের মীমাংসা করে তিনি রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ, মিরজাফর, মিরমদন, মোহনলাল ও ফরাসি
সেনাপতি সিনফ্রেঁকে সৈন্য চালানোর দায়িত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে যুদ্ধযাত্রা শুরু করলেন। ২৩ জুন সকাল থেকেই পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজরা মুখোমুখি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো। ১৭৫৭ সালের ২২ জুন মধ্যরাতে রবার্ট ক্লাইভ কলকাতা থেকে তাঁর বাহিনী নিয়ে পলাশী মৌজার লক্ষ্মবাগ নামে আম্রকাননে এসে তাঁবু গাড়েন। বাগানের উত্তর-পশ্চিম দিকে গঙ্গা নদী। এর উত্তর-পূর্ব দিকে দুই
বর্গমাইলব্যাপী আম্রকানন। বেলা আটটার সময় হঠাৎ করেই মিরমদন ইংরেজবাহিনীকে আক্রমণ করেন। তাঁর
প্রবল আক্রমণে টিকতে না পেরে ক্লাইভ তার সেনাবাহিনী নিয়ে আমবাগানে আশ্রয় নেন। ক্লাইভ কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েন। মিরমদন ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিলেন। কিন্তু
মিরজাফর, ইয়ার লতিফ, রায়দুর্লভ যেখানে সৈন্যসমাবেশ করেছিলেন সেখানেই নিস্পৃহভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তাদের সামান্য সহায়তা পেলেও হয়ত মিরমদন ইংরেজদের পরাজয় বরণ করতে বাধ্য করতে পারতেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে সিরাজদ্দৌলার গোলা বারুদ ভিজে যায়। তবুও সাহসী মিরমদন ইংরেজদের সাথে লড়াই চালিয়ে
যেতে লাগলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই গোলার আঘাতে মিরমদন মৃত্যুবরণ করেন। গোলান্দাজ বাহিনীর প্রধান নিহত হওয়ার পর সিরাজদ্দৌলা মীরজাফর ও রায় দুর্লভকে তাঁদের অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে তীব্র বেগে অগ্রসর হতে নির্দেশ দেন। কিন্তু উভয় সেনাপতি তাঁর নির্দেশ অমান্য করলেন। তাঁদের যুক্তি হলো গোলন্দাজ বাহিনীর আশ্রয়
ছাড়া অগ্রসর হওয়া আত্মঘাতী ব্যাপার। কিন্তু কোম্পানি ও নবাবের বাহিনীর মধ্যে তখন দূরত্ব মাত্র কয়েক
শ গজ। বিকেল পাঁচটায় সিরাজদ্দৌলা বাহিনী নির্দেশনার অভাবে এবং ইংরেজ বাহিনীর গোলন্দাজি অগ্রসরতার মুখে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেন অর্থাৎ পরাজয় স্বীকার করেন। নবাবের ছাউনি ইংরেজদের অধিকারে আসে। ইংরেজদের পক্ষে সাতজন ইউরোপিয়ান এবং ১৬ জন দেশীয় সৈন্য নিহত হয়। তখন কোন উপায় না দেখে সিরাজদ্দৌলা রাজধানী রক্ষা করার জন্য দুই হাজার সৈন্য নিয়ে মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু রাজধানী রক্ষা করার জন্যেও কেউ তাঁকে সাহায্য করেনি।
সিরাজদ্দৌলা তাঁর সহধর্মিণী লুৎফুন্নেসা ও ভৃত্য গোলাম হোসেনকে নিয়ে রাজধানী থেকে বের হয়ে স্থলপথে ভগবানগোলায় পৌঁছে যান এবং সেখান থেকে নৌকাযোগেপদ্মা ও মহানন্দার মধ্য দিয়ে উত্তর দিক
অভিমুখে যাত্রা করেন। তাঁর আশা ছিল পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছাতে পারলে ফরাসি সৈনিক মসিয়ে নাস-এর
সহায়তায় পাটনা পর্যন্ত গিয়ে রামনারায়ণের কাছ থেকে সৈন্য সংগ্রহ করে ফরাসি বাহিনীর সহায়তায় বাংলাকে রক্ষা করবেন।

বিখ্যাত পর্তুগিজ ঐতিহাসিক বাকসার পলাশীর যুদ্ধকে গুরুত্বের দিক থেকে পৃথিবীর সেরা যুদ্ধগুলোর অন্যতম।

28/10/2025

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ...
বাংলা বিভাগ ✅

বিষয়: মধ্যযুগের কবিতা

বিষয়ের শিরোনাম : লাইলী মজনু কাব্যের মূলভাব ✅

লাইলি-মজনু কাব্য এটি একটি করুণ প্রেমকাহিনী, যেখানে কায়েস ও লায়লার প্রেমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাদের ভালোবাসা যখন পরিবার ও সমাজের বাধার মুখে পড়ে, তখন কায়েস "মজনু" (পাগল) নামে পরিচিত হন। প্রেম বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় লায়লা মারা যান এবং মজনু তার কবরের পাশে প্রাণ হারান—এই মর্মান্তিক পরিণতিই এই কাহিনীর মূল উপজীব্য।

"লায়লি মজনু" কাব্যের মূল বিষয় হলো একনিষ্ঠ ও বিয়োগান্তক প্রেম।

লাইলী মজনু কাব্য থেকে লাইলী মজনু যখন
পাঠশালায় লেখা পড়া করতেন তারা তখনই
প্রতিজ্ঞা করেন প্রেমের আগুনে তাদের শরীর পুড়ে
পতঙ্গের মত
হয়ে যাবে তবু তারা সারাজীবন চির প্রেমের বন্ধনে
থাকবেন ।
একে অপরকে সারা আর অন্য কোন মানব প্রেমে
জরাবেন না।
পাঠশালা থেকে লাইলী সখীদের সাথে একবার বাড়ি
ফেরার পথে ঠিক করল মজনুর সাথে দেখা করবে কিন্তু
কি ভাবে হঠাৎ করে বুদ্ধি খাতিয়ে সখিদের বল্ল
তোমরা আগে আগে যেতে থাক আমি পিছু আছি
তোমাদের সাথে এক সংঙ্গে যাওয়া সম্ভব নয় আমার
পায়ে কাঁটা ফুটেছে । পরে লাইলীর সংঙ্গের সখীরা
আগে চলেগেলেন আর লাইলী পিছু নিলেন মজনুর
সাথে দেখা করার জন্য ।
লাইলী আর মজনু প্রায় সময় পাঠশালা থেকে বাড়ি
ফেরার পথে মজনু লাইলীকে বলতেন লাইলী নিশ্চয়
আমি আমার জিবনে কোন পূর্ণ করেছি আর সে পূর্ণের
ফল হিসেবে তোমাকে পেয়েছি।
অবশ্যই আমার কোননা কোন পূর্ণের ফল হলে তুমি ।
মজনু লাইলীকে বলতেন লাইলী ছাড়া মজনুর জীবন
ব্যর্থ । আর লাইলী মজনুকে বলতেন আমার জীবন যৌবন
বন্ধু সবই তোমার এবং তা শুধু তোমারই থাকবে তুমি
বীনে অন্য পুরুষ নয় ।
লাইলী আর মজনু পাঠশালা থেকে ফেরার পরে দুজন
দুজনার বাড়ি চলে যাবার পরে যখন রাত্রী বেলা দুই
জন দুই জনের ঘরে শুয়ে থাকতেন তখন তাদের চোখে
ঘুম আসত না আর তখন তারা চিন্তা করতেন কখন সকাল
হবে কখন সূর্য উঠবে আর তখন তারা একে অপরকে
দেখে মনের জ্বালা মেটাবে ।
পাঠশালায় সকল সংঙ্গীদের মন লেখা পড়ায়
থাকলেও তাদের মন দুজন দুজনের দিকে থাকত ।
পাঠশালায় সকল সংঙ্গী সখীরা শাস্ত্র পাঠ করত ।
লাইলী আর মজনু তারা দুজন দুজনকে দেখত
আর প্রেমপাঠে ব্যস্ত থাকত ।
এ ভাবে তাদের প্রেম চলতে থাকে । হঠাৎ করে
একদিন লাইলী মা তাদের প্রেমের কথা জানতে
পারেন ।
লাইলী মজনুর প্রেমের কথা লাইলী মাকে জানালেন
লাইলীর সাঠে পাঠ শালায় থাকা তার সহপাঠীরা ।
পাঠশালায় গিয়ে লাইলী মজনুর সাথে প্রেম করে এ
ঘটনা প্রথমে জানে লাইলীর মা অর্থাৎ লাইলী মজনু
প্রেমের কথা যখন লাইলীর মা জানতে পরলেন তখন
থেকেই লাইল পাঠশালা যাওয়া বন্ধ করে দেন এবং
লাইলীকে লাইলীর মা ঘরে বন্দী করে রাখেন।
এবং লাইলীর মা লাইলীর ঘরের আশে পাশে কঠড়
পাহারার ব্যবস্থা করলেন ।
লাইলীর মা লাইলীকে গৃহ বন্দী করার পড়ে লাইলীর
ঘরে থাকা লাইলীর যাবতীয় কাগজ খাতা কলম সব
সরিয়ে নেন এবং কালির দোয়াত
ভেঙে দেন।
লাইলীর মা লাইলীকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন
কিশোরী বয়সের প্রেমের কথা কেউ জানলে আর
তাকে কেউ বিয়ে করবে না । কিন্তু তার মায়ের কোন
কথায় মন দিতনা । তার মন শুধুই মজনুর পনে চেয়ে
থাকত।
এদিকে মজনুও থেমে নাই তার প্রিয়তমা গৃহ বন্দী শুনে
বা জানার পরেও মজনু লাইলীর সাথে দুইবার
ছদ্মবেশে দেখা করলেন ।একবার অন্ধ ছদ্মবেশে
আরেক বার ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে দেখা করলেন।
যখন মজনু অন্ধের ছদ্মবেশে গেছেন তখন লাইলী তার
মাকে বললেন অন্ধ মানুষ যদি খাদে পড়ে তাই বলে
মাকে লাইলী আসে মজনুর দর্শন করতে শুধু দুজন দুজনকে
দর্শন করলো কোন কথা নয় কারন কথা বল্লে যদি
দুষ্টলোকে দেখেফেলে তাই কথা বল্লো না।
লাইলীর বাবা জানতে পাড়লো মজনু তাদের বাড়ি
ভিখারি বেশে লাইলীর সাথে দেখা করতে গেছে
আর তখন লাইলীর বাবা পাড়ার ছেলেদের বলেছিল
মজনু যাতে আর কখন লাইলীর সাথে দেখা করতে
তাদের বাড়িতে না যেতে পারে তাই লাইলীর বাবা
বলেছিল মজনুকে মেরে ফেলতে ।
কিন্তু পাড়ার ছেলেরা মজনুকে পাগল পাগল বলে ঢিল
মেরে মেরে তাকে ঐ নগর ছাড়া করে ।
মজনু তখন থেকে প্রেমোম্মাদ বনে জংঙ্গলে গুরে
বেড়াতে থাকে তখন মজনুর বাবা অনেক খোজার পরে
পেল কিন্তু মজনু তার বাবাকে না চিনতে পেরে
জিজ্ঞাসা করল কি নাম তোমার মহাশয় ।
মজনুর বাবা কিছুতেই যখন ছেলেকে বাড়িতে
ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হচ্ছে না তখনই বাবা মিথ্যে
কথা বললেন মজনুকে । মজনুর বাবা মজনুকে বললেন
লাইলী মজনুকে ডাকছে এ কথাশুনে মজনু বাড়িতে
আসলেন ।
মজনু যখন বাড়িতে ফিরে দেখেন লাইলী বাড়িতে
নাই তখন মজনু আবার পাগলামী কান্না শুরু করেন ।
মজনু সে প্রতিবেশি গুরুজনদের সাথে পরামর্শ করে
লাইলীর পায়ের ধুলো নিয়ে মজনুর চোখের পাশে
দিয়ে মেখে দেন এবং মজনুকে জানান হয় ওতা
লাইলীর পায়ের ধুলো আর সাথে সাথে মজনু কান্না
বন্ধ করে দিল যাতে করে চোখের পানি দিয়ে ধুলো
না ধুয়ে যায় ।
মজনুর বাবা লাইলীর পায়ের ধুলো এনে যখন মজনুর
চোখের নিচে দিয়ে লাগিয়ে দিলেন তখন থেকে মজনু
কান্না বন্ধ করে দিলেন কারন কাদঁলে যদি লাইলীর
পায়ের ধুলো মুছে যায় তাই মজনুর কান্ন বন্ধ ।
এখন আর মজনু না কাদঁলেও তার হাতের ধারালো নখ
দিয়ে তার বুকের মাংস খুবলে নেওয়া শুরু করল ।
মজনুর বাবা আমীর সাহেব লাইলীর বাবার কাছে
গেলেন লাইলী ও মজনুর সাথে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে
কিন্তু লাইলীর বাবা মালিক কিছুতে এ বিয়েতে
রাজি হলেন না । লাইলীর বাবার একটি কথাই মজনু
একজন উম্মাদ আর কোন বাবায় জেনে শুনে তার
মেয়েকে কোন উম্মদের সাথে বিয়ে দিবে না । তখন
মজনুর বাবা লাইলীর বাবাকে বল্লেন আজ মজনু
উম্মাদ লাইলীর জন্য তাই লাইলর সাথে মজনুর বিয়ে
হলে মজনু সুস্থ হয়ে যাবে। এবং মজনুর বাবা লাইলীর
বাবাকে আর বল্লেন যদি মালিক তার কন্যাকে মজনুর
সাথে বিয়ে দেন তাহলে মজনুর বাবা লাইলী
বাবাকে বহু মূল্যের রজত কাঞ্চন দেবে ,দাস দাসী
দেবে,দুইশ উট দিবে পাচশ ষাড় দিবে এবং পঞ্চাশটি
হাতি দিবে উপহার হিসেবে। অনেক বোঝানর পরে
লাইলীর বাবা বিয়েতে রাজি হোলেন।
মজনুর বাবা মজনুকে চুল নখ কাটিয়ে সুন্দর করে
সাজিয়ে যখন লাইলীদের বাড়ি নিলেন তখন মজনু
লাইলীদের বাড়ির কুকুর টিকে বুকে টেনে নিয়ে চুম্মন
করল আর তা দেখে লাইলী বাবা আবার মজনুর
বাবাকে না করে দিল যে মজনু অনেক উম্মাদ তাই
তার সাথে লাইলীকে বিয়ে দেবেন না ।
এর মধ্যে লাইলীর মা লাইলীকে জোড় করে অন্য
ছেলের সাথে বিয়ে দিবেন বলে লাইলীকে জানান
আর এ কথা শোনার পরে লাইলী তার মাকে বলে দিল
মা এ জীবন যৌবন ও সতীত শুধু একজনের আর তা হোল
মজনুর ।
লাইলী তার মাকে আর বল্ল মা এক রাজ্য যেমন দুই
রাজা থাকতে পারে না তেমন এক নারীর মনে দুটি
পুরুষ স্থান পায় না । কারন মা তোমার মেয়ে মনে
প্রাণে শুধু মজনুর আর বিয়ের কথা বলছো সে অনেক
আগেই মজনুর মনের সাথে লাইলীর মনের বিয়ে হয়ে
গেছে ।
তার পরেও লাইলীর বাবা মা লাইলীকে জোড় করে
অন্য ছেলের সাথে বিয়ে দেন কিন্তু লাইলী বিয়েতে
বাধ্য হোলেও সে মনে প্রাণে মজনুকে স্বামী বলে
মনে করেন ।
তাই লাইলীর বাবা মা জোড় করে যে ছেলেটির
সাথে লাইলীকে বিয়ে দিলেন সেই ছেলেটিকে
লাইলী বাসর ঘরে তার পা দিয়ে আঘাত করলে
ছেলেটি লজ্জায় লাইলীকে ত্যাগ করে চলে যান ।
বনে জংঙ্গলে গুরে বেরায় মজনু একদিন হঠাৎ স্বপ্নে
লাইলীকে দেখতে পান আর ঘুম ভাংঙার পরে মজনু
সত্যসত্য লাইকে দেখতে লাইলীদের বাড়িতে যান ।
মজনুকে দেখে লাইলীদের বাড়ির দারোয়ান তাকে
আঘাত
করতে যায় তখন মজনু তার হাতদিয়ে দারোয়ানের
আঘাত
ফেরান ।
ঘটনাক্রমে অন্য এক রাজ্যের রাজা নয়ফলরাজ নামক
রাজা যানতে পারলো লাইলী ও মজনুর প্রেমের কথা
তখন নয়ফলরাজ মজনুকে ডেকে নেওয়ায় এবং নয়
ফলরাজ মজনুকে কথা দেয় অবশ্যই লাইলীকে তার
কাছে এনে দেবে বলে ।
নয়ফলরাজ লাইলীর বাবার কাছে পত্র লেখে অতি
শিগ্রই যেন লাইলীর সাথে মজনুর বিয়ের ব্যবস্থা করা
হয় এবং মজনুর সাথে লাইলীর বিয়ে দেয় না হোলে
নয়ফলরাজ লাইলীর বাবার সাথে যুদ্ধ করবে বলে পত্র
পাঠিয়ে দিলেন ।
কিন্তু তাতে কোন লাভ হোল না লাইলীর বাবা পত্র
লেখলেন তারাও তার থেকে কম নয় তারা
নয়ফলরাজের সাথে যুদ্ধ করবে কিন্তু লাইলীকে মজনু
সাথে বিয়ে দেবে না বলে পত্র লেখে নয়ফলরাজের
কাছে পাঠিয়ে দিলেন ।
পরে নয়ফলরাজ তার সৈন্য নিয়ে হামলা বা যুদ্ধ
করলেন লাইলীর বাবার সাথে এবং সে যুদ্ধে রাজা
নয়ফলরাজের জয় লাভ হোল ।নয়ফলরাজ সে যুদ্ধে জয়
লাভ করে লাইলীকে মজনুর সাথে বিয়ে দেবে বলে
সাথে করে নিয়ে আছে।
কিন্তু নফলরাজ মজনুর জন্য যুদ্ধকরে লাইলীকে জয়
করলেও যখন সে লাইলীর রুপ দেখল তখন সে নিজেই
লাইলীর রুপে পাগল হয়ে গেল এবং সে চাইলো
কৌশলে মজনুকে বিষ পান করিয়ে মেরে ফেলতে
কিন্তু এখানে ভাগ্যের কি নি দারুন খেলা রাজা
নয়ফলরাজ যে কর্মচারিকে বলে মজনুকে বিষ দিতে
আর তাকে মধু দিতে বলে সে কর্মচারি ভুল করে রাজা
নয়ফলরাজকে বিষ দেয় আর মজনুকে দেয় মধু আর তাতে
নয়ফলরাজার মৃত্যু হয় ।
অবশেষে সেখান থেকে আবারও লাইলীর পিতা মাতা
লাইলীকে নিয়েচলে গেলেন ।
রাত্রি বেলা লাইলী একা ঘরে শুয়ে আছে সে যৌবনে
জ্বালায় কাতর তাই তার এক সখীকে ডেকে এনে
দুজনে কথা বলে রাত্রি পাড় করতে চাইছেন সে সময়
লাইলী তার সখীর হাতে হাত রেখে বললেন সখীগো
লাইলীর মনে যৌবন জোয়ার জেগেছে । রতি
জেগেছে অথচ প্রেমিক নেই । এ দশা অসহ্য ।
বিষাক্ত নাগিনী ছোবল মারলে বিষে যেমন শরীর জর
জর তেমনি যৌবনাবেগের জ্বালায় লাইলী কাতর ।
লাইলীর মা পর দিন সকালে আবার লাইলীর সামনে
বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন । লাইলী তার মাকে
বলে দিলেন হয় মৃত্যু না হয় মজনুর সাথে মিলন এ দুটি
ছাড়া লাইলীর জীবনে আর কিছু প্রয়োজন নাই ।
লাইলীরা স পরিবার যাচ্ছিলেন বনের পাশ দিয়ে
সেখানে লাইলীদের উট অসুস্থ হয়ে পড়াতে লাইলী
পরিবারের সকলের চখু আরালে যান মজনুকে দেখতে
লাইলী বনের এক কোনে দেখতে পান মজনু মৃত মানুষের
মত
অসচেতন হয়ে পড়ে আছে । লাইলী দৌড়ে মজনুর কাছে
গেল এবং সে মজনুকে ডাক দিল । লাইলীর ডাকে মজনু
চেতন হোলেন ।
মজনুকে লাইলী বললেন তুমি আমাকে বিয়ে কর এবং
বিয়ের পরে আমাকে তোমায় সেবা করার সুযোগ দেও
। তাতে আমাদের দুজনের সুখ শান্তি ফিরে আসবে ।
মজনু লাইলীকে বল্লো গোপনে যদি তোমাকে আমি
বিয়ে করি আমাদের সে বিয়ে এ সমাজের কেউ যে
মেনে নিবে না লাইলী ।এ সমাজ আমাকে শাশ্তি
দিবে । তাই বলে মজনু লাইলীকে প্রত্যাখ্যান করলো

অবশেষে লাইলী মজনুর বিরহে মৃত্যু বরণ করলেন ।
লাইলীর মা লাইলীকে গোলাপ জ্বলে শেষ গোছল
করিয়ে দিয়ে লাইলীর শরীরে চন্দন দিয়ে সাজিয়ে
কাফন পড়ালেন । মিত্যুর আগে লাইলী তার মাকে
বলেছেন লাইলীর মৃত্যুর পড়ে যেন লাইলীর মিত্যুর
সংবাদ মজনুকে দেওয়া হয়। তাই লাইলীর মা বনে
গিয়ে লাইলীর মত্যুর সংবাদ মজনুকে দিয়ে মেয়ের
শেষ অনুরোধ রাখলেন ।
লাইলীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে মজনু বনে থেকে চলে
গেলেন লাইলীদের এলাকায় আর সেখানে মজনু ছোট
বড় সকল মানুষের কাছে লাইলীর কবরের সন্ধান
চাইলে সকলে মজনুকে বলে মজনু যদি লাইলীকে সত্যই
ভালবাসে ও লাইলী মজনুর প্রেম যদি সত্য হয়ে থাকে
তাহলে লাইলীর কবর মজনু নিজেই একা একা খুজে
বাহির করতে পারবে ।
সত্য সত্য তাই হলো মজনু একা একায় লাইলীর কবর
খুজে পেল এবং লাইলীর কবরে মথা রেখে মজনু শেষ
নিঃশেষ ত্যাগ করেন ।

05/11/2024

অনার্স প্রথম বর্ষ
বিষয়: বাংলা উপন্যাস-১

একদম সহজ ভাষায় ❤️

উপন্যাস: কপালকুণ্ডলা
রচয়িতা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নবকুমার, কপালকুণ্ডলা, কাপালিক, মতিবিবি প্রমূখ।

উনিশ শতকের গোড়াতে বাংলা গদ্য সাহিত্য তথা উপন্যাস শিল্পের সার্থক সূচনা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। একাধিক সার্থক উপন্যাস রচনা করে তিনি এ ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন।

কপালকুণ্ডলা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস এবং এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস। ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

এ উপন্যাসের নিগুঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য একে রোমান্সধর্মী উপন্যাস বলা হয়। অরণ্যে কাপালিক পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই
উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সাথে বিয়ে এবং তার সমাজ বন্ধনের সাথে দ্বন্দ্বই এর মূল কাহিনী। কপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য, সে রহস্য উদঘাটনই উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

উপন্যাস শুরু হয় এভাবে- তীর্থ যাত্রীদের নৌকা পথ হারিয়ে এক মোহনায় উপস্থিত হয়। জনবিচ্ছিন্ন সে জায়গায় নৌকার সবার জন্য আহারের ব্যবস্থা করতে নবকুমার বনের মধ্যে কাঠ আনতে যায়। কিন্তু এরই মধ্যে জোয়ার চলে এলে নবকুমারকে রেখেই সবাই চলে যায়। সে বনে নবকুমারের সাথে দেখা হয় এক কাপালিকের।

কাপালিক তাকে ভৈরবীর কাছে বলি দিতে চায়। কিন্তু কাপালিকের আশ্রিতা কন্যা কপালকুণ্ডলার সহায়তায় নবকুমার পালিয়ে যায়। পরে নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয় এবং তারা বাড়ীতে ফিরে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করে।

এখানে শুরু হয় কাহিনির নতুন ধারা। নবকুমারের আগে এক স্ত্রী ছিল। তার নাম ছিল পদ্মাবতী। ঘটনাক্রমে সে পরিবারের সাথে মুসলমান হয় এবং নাম হয় মেহেরুন্নেসা। সে মতি ছদ্মনাম ধারণ করে বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়ায়। সারা উপন্যাস জুড়ে এই মতিবিবির উপস্থিতি রয়েছে। হিন্দুরীতি অনুসারে সে পরিবারসহ পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। ফলে সে আর স্বামীর কাছে যেতে পারে না। কিন্তু সে স্বামী নবকুমারকে মন থেকে সরাতে পারে না।

পথিমধ্যে সরাইখানায় কপালকুণ্ডলার সাথে দেখা হলে জানতে পারে নবকুমারের সাথে কপালকুণ্ডলার বিয়ের কথা। এরপর থেকে সে কপালকুণ্ডলা ও নবকুমারের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা করে। এদিকে কাপালিক আসে কপালকুণ্ডলাকে বলি দিতে। মতি কাপালিকের সাথে হাত মিলায় কাপালিকের হাতে

Photos from Bipasha Mohan 's post 04/11/2024

📚টপিক:
বাংলা উপন্যাস-১

'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস মূল বইয়ের লেখক পরিচিতি,উপন্যাসের মূলভাব/কাহিনি + বোর্ড প্রশ্ন (ক-বিভাগ এর) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।
(পরীক্ষার সময় দ্রুত রিভিশন দিতে কার্যকরী নোটস)

04/11/2024

অনার্স প্রথম বর্ষ

বাংলা বিভাগ

বিষয়: বাংলা উপন্যাস-১


চোখের বালি উপন্যাস অবলম্বনে মহেন্দ্র চরিত্রটি আলোচনা কর।

ভূমিকা : বাংলা সাহিত্যে একমাত্র নোবেল বিজয়ী লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)। তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন সব্যসাচী লেখক। সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় সাবলীল ভাবে তিনি পদচারণা করেছেন। তিনি মোট তেরটি উপন্যাস রচনা করেছেন। তার মধ্যে ‘চোখের বালি’ (১৯০৬) অন্যতম। এটি কাহিনী প্রধান উপন্যাস নয়, চরিত্র প্রধান উপন্যাস। বিভিন্ন চরিত্রের গতি প্রকৃতি এ উপন্যাসে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মহেন্দ্র এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নায়ক চরিত্র। আমরা এখন মহেন্দ্র চরিত্রটি আলোচনা করব।


মহেন্দ্রের পরিচয় সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়-সে শৈশবে পিতৃহীন, রাজলক্ষ্মীর সন্তান, বয়স প্রায় বাইশ বছর, এম.এ পাশ করেছে, তারপর ডাক্তারি পড়া শুরু করেছে। যথেষ্ট বয়স ও উচ্চ শিক্ষিত হলেও মানসিক পরিপক্বতা এখনও আসেনি। তাই সব কাজে এখনও মায়ের ওপর নির্ভরশীল। সঙ্গতকারণেই লেখক তাকে ‘ক্যাঙারু শাবক’ এর সাথে তুলনা করেছেন। মহেন্দ্র আলালের ঘরের দুলালের মতো। নিজের ইচ্ছা ও মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেয়। অন্যের মতামত যৌক্তিক হলেও তার কাছে মূল্যহীন। মহেন্দ্র জেদিস্বভাবের চরিত্র।

স্বেচ্ছাচারীতা,ঘামখেয়ালীপনা মহেন্দ্র চরিত্রের একটি বিশেষ দিক। নিজের পছন্দ আর স্বার্থের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। মনমতো না হলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তাই রাজলক্ষ্মীর পছন্দের মেয়ে বিনোদিনীকে মহেন্দ্র বিয়ে করতে অস্বীকার করে। আশাকেও প্রথমে বিয়ে করতে অস্বীকার করে, কিন্তু দেখাশুনার পর মহেন্দ্র চিরকালের বন্ধু বিহারীকে বঞ্চিত করে নাটকীয় কাহিনীর মধ্যদিয়ে আশাকে বিয়ে করে। মহেন্দ্র তার কোন ইচ্ছাকে অপূর্ণ রাখতে চায়না।

বিয়েরপর মহেন্দ্র চরিত্রের নতুন পর্ব উন্মোচিত হয়। মহেন্দ্র যে কতটা স্ত্রৈণ স্বভাবের দুর্বল পুরুষ চরিত্র,তা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। আশার জন্য স্লেট, খাতা, চারুপাঠ কিনে আনে আর লেখাপড়ার অজুহাতে স্ত্রীকে কাছে বসিয়ে রাখে। পত্মীপ্রেমে সে অসংযত, অসংযমী, অন্ধ। লোলুপতা, নারীআসক্তি তার চরিত্রের অন্যতম দিক। প্রকাশ্যে দাম্পত্যলীলায় মেতে থাকে। মহেন্দ্র ব্যাহায়াপনার সর্বোচ্চ পর্যায় পৌঁছে এবং লজ্জ্বার মাথা খেয়ে রাজলক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে বলে-“বউকে ঘরের কাজে আমি দাসীর মতো খাঁটিতে দিতে পারিনা।” পত্নী প্রেমের বাড়াবাড়িতে মহেন্দ্র সে বছর ডাক্তারি পরীক্ষায় ফেল করল।

আত্মঅহংকার মহেন্দ্র চরিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এই আত্মগৌরবে মহেন্দ্র বিনোদিনীর সাথে সৌজন্যমূলক সাক্ষাত পর্যন্তও করেনি। কিন্তু চৌদ্দতম অনুচ্ছেদে মহেন্দ্র আত্মগৌরব বিসর্জন দিয়ে বিনোদিনীর কাছে আসে। এ প্রসঙ্গে লেখকের উক্তি- “এমনি করিয়া ছবি তুলিতে তুলিতে আলাপ বহুদূর অগ্রসর হইয়া গেল।” পূর্বে একবার মহেন্দ্র ফটোগ্রাফ শিখতে শুরু করেছিল। বিনোদিনীকে দেখে আবার ফটোগ্রাফ শেখার নেশা চাপে। মহেন্দ্রের প্রেম এ শখের নেশা থেকে উৎপত্তি। বিনোদিনী তার নিটোল যৌবনের মায়াবী ফাঁদ পাতে, আর মহেন্দ্র উড়ে চলা কীটপতঙ্গের মতো সে ফাঁদে ধরা দেয়। মহেন্দ্র মুখে বলে, আমি বিনোদিনীকে ভালবাসিনা কিন্তু পরমুহূর্তে মহেন্দ্রের হৃদয়ে অনুতাপের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।

আশা কাশি যাওয়ায় মহেন্দ্র লাগাম ছাড়া হয়ে যায়। পত্নীপ্রেম শূন্যে নেমে যায়্, মহেন্দ্র পরনারীর প্রতি নেশাগ্রস্ত। বিনোদিনীর দেহ ভরা যৌবনের মোহে মহেন্দ্র ঘর-সংসার,দাম্পত্যজীবন, মা, কাকীমা, বন্ধু সবাইকে পরিত্যাগ করার মত অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত নেয়। বিনোদিনীকে নিয়ে গাড়িতে চড়ে কোলকাতার পটলডাঙ্গার বাসায় ওঠে। ঘরে অসুস্থ্য মাকে রেখে মহেন্দ্রে নির্লজ্জভাবে পটলডাঙ্গার বাসায় বিনোদিনীর সাথে দেখা করতে যায়।

মহেন্দ্র যে কোন মূল্যে বিনোদিনীকে পেতে চায়। বিনোদিনী তাকে চম্বুকের মত আকর্ষণ করে কিন্তু ধরা দেয় না। মহেন্দ্র বিহারীর বাসায় বিনোদিনীর হাতের লেখা একটি চিঠি পায়। তারপর মহেন্দ্রের মোহ ভঙ্গ হয়। মহেন্দ্র এতক্ষণে বুঝতে পারল বিনোদিনী বিহারীকে পাওয়ার জন্য মহেন্দ্রকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে মাত্র। তাই মহেন্দ্র ভগবানের কাছে তার মৃত্যু কামনা করে। এখানে মহেন্দ্র চরিত্রের উল্লেখযোগ্য বিবর্তন দেখা যায়। অনেক দেরিতে হলেও মহেন্দ্র চরিত্রের আত্ম উপলব্ধি ঘটেছে।

উপন্যাসের শেষে দেখা যায়-মহেন্দ্র ব্যাংক থেকে টাকা তুলে মা রাজলক্ষী, আর স্ত্রী আশার জন্য নতুন কিছু কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। মহেন্দ্রকে এলাহাবাদের দোকানে দোকানে ঘুরতে দেখা যায়। মহেন্দ্র নিজের অপকর্মের প্রকৃতি অনুধাবন করছে। অন্নপূর্ণার কাছে নিজেকে পাপিষ্ঠ বলে পরিচয় দেয়। অত্যন্ত দূর্বল ব্যক্তিত্ব আর কাপুরুষিত আচরণের জন্য মহেন্দ্রের হৃদয় আজ ক্ষত-বিক্ষত। এই ক্ষত-বিক্ষত হৃদয় নিয়ে আশার কাছে নিজেকে সঁপে দেয়। বিহারীর বন্ধুত্বের মর্যাদা পুনপ্রতিষ্ঠিত করে আর জন্ম দুঃখিনী মায়ের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চায়।

উপসংহারে বলতে চাই-মহেন্দ্র যতই আত্মগৌরব ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে,ততই ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা হারিয়ে কাপুরুষে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ পথ চলতে চলতে ফুরিয়ে যাওয়াই মহেন্দ্র চরিত্রে বৈশিষ্ট্য। তবুও মহেন্দ্র চরিত্রটি বাংলা কথা সাহিত্যে অতুলনীয়।

04/11/2024

অনার্স প্রথম বর্ষ

বাংলা বিভাগ❤️

বিষয়: বাংলা কবিতা -১

আজকে আলোচনা করবো..নকশীকাঁথার মাঠ কাব্যের মূল বিষয়বস্তু/কাহিনি সংক্ষেপ


পল্লীকবি জসীমউদ্দীন নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যে গ্রামীণ সমাজের একটি সামগ্রিক জীবন ফুটিয়ে তুলেছেন। যেখানে আমারা দেখতে পাই...নকশী কাথাঁর মাঠ কাব্যটিতে রুপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী। এই কাব্যের নায়ক হিসেবে যাকে উপস্থাপন করা হয়েছে তার নাম রুপাই। রুপাই সাধারণত গ্রামের ছেলে। গ্রামের ছেলে হওয়ায় সে বিভিন্ন কাজ কর্মে পারদর্শী। কৃষ্ণবর্ণের রুপাইয়ের ছিল ঘাড় পর্যন্ত চুল। তার যেসব গুণ ছিল তার মধ্যে সে যেমন ভালো ঘর ছায়তে পারে,ভালো লরকি চালাতে জানে, সরকি চালাতে জানে আবার সে একই হাত দিয়ে বাঁশের বাঁশি বাজাতে পারে। এছাড়াও সে কোকিল কন্ঠে গান গাইতে পারে। এই রুপাইয়ের সাথে পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়ে যায়। রুপাই ও সাজুদের গ্রামে একবার খুব খড়া দেখা দেয়। মাঠঘাট ফেটে চৌচির হয়ে জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টি নামানোর গান গেয়ে মাগন তুলতে গিয়ে রুপাইর সাথে সাজুর প্রথম পরিচয় হয়। ভালোবাসা থেকে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় শুরু হয় তাদের সুখের সংসার। বিয়ের পরের দিনগুলো ভালোই চলছে তাদের।

একদিন গভীর রাতে আঙ্গিনায় সাজু রূপাইয়ের কোলে শুয়ে থাকে এবং পূর্ণিমার আলোয় তার রূপ দেখে মুগ্ধ হয় রুপাই।কিন্তু এরপরে তার মনে এক অজনা সংশয় জেগে ওঠে। সে সংশয় প্রকাশ করে যে এত সুখ তার কপালে সইবে কিনা? এসব ভাবতে ভাবতে তার চোখ দিয়ে পানি ঝরে তার বেদনার অশ্রু সাজুর মুখের উপর পড়ে যারফলে সাজুর তৃপ্তির ঘুম ভেঙ্গে যায়। সাজু যখন রুপাই কে তার কান্নার কারন জিজ্ঞেস করে তখন সে তার মনের অজানা আশঙ্কার কথা জানায় এমন সময় হঠাৎ খবর। বন-গেঁয়োরা গাজনা চারর পাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। খবর শোনা মাত্রই রুপায় ছুটে যায় লরকি,সড়কি হাতে তাদের প্রতিরোধ করতে। লড়াই এর মাঝে কয়েকজন খুন হয়ে যায় ফলশ্রুতিতে রুপাই আসামি হয় আসামি হয়ে সে পালিয়ে বেড়ায়। এদিকে সাজুর কষ্টের দিন শুরু হয়ে যায় প্রতিদিন সে রুপাইয়ের জন্য অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। একদিন গভীর রাতের রুপাই এসে দাঁড়ায় সাজুর সামনে এবং জানায় তাকে আবার চলে যেতে হবে কারণ পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তাঁর হয় ফাঁসি না হয়তো কালাপানি হবে আর এটা ছিল তাদের শেষ দেখা।

এরপর রুপাই আর সাজুর কোনদিনও দেখা হয়নি। রুপাই অশ্রসিক্ত হয়ে চলে যায়, বিরহিনী সাজু তার একাকী আনমনে তাদের জীবনের সকল অতীত স্মৃতি মনে করতে থাকে এবং সুই সুতার মাধ্যমে কাঁথার উপর ফুটিয়ে তুলতে থাকে তাদের সেই ভালোবাসার স্মৃতি গুলোকে। একসময় কাঁথা বোনা শেষ হয়ে যায় সাজু মারা যায়। সাজু মারা যাওয়ার পূর্বে তার মাকে বলে গিয়েছিল সে মারা যাওয়ার পর তার নকশিকাঁথা তার কবরের উপর বিছিয়ে দেওয়া জন্য এবং কখনো যদি কেউ খুঁজতে আসে তখন তাকে যেন বলা হয় এই কবরে নিচেই সাজু তার জন্য অপেক্ষা করছে। সাজুর মৃত্যুর পর তাই করা হয় তার কবরের উপর নকশী কাঁথা বিছিয়ে দেওয়া হয়। বহুদিন পর গাঁয়ের লোকেরা বেদনার্ত এক বাঁশির সুর শুনতে পায় এবং ভোরে সবাই দেখে সাজুর কবরের পাশে এক ভিনদেশী লোক মরে পড়ে আছে। মূলত এই লোকটি হল রুপাই ।এরপর থেকে নকশী কাঁথার মাঠের এর কাহিনী সবাই জানে। আর তারপরে এই গ্রামটির নাম হয়ে যায় নকশী কাঁথার মাঠ।

04/11/2024

অনার্স প্রথম বর্ষ
বিষয়: বাংলা উপন্যাস-১

একদম সহজ ভাষায় ❤️

উপন্যাস: কপালকুণ্ডলা
রচয়িতা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নবকুমার, কপালকুণ্ডলা, কাপালিক, মতিবিবি প্রমূখ।

উনিশ শতকের গোড়াতে বাংলা গদ্য সাহিত্য তথা উপন্যাস শিল্পের সার্থক সূচনা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। একাধিক সার্থক উপন্যাস রচনা করে তিনি এ ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন।

কপালকুণ্ডলা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস এবং এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস। ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

এ উপন্যাসের নিগুঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য একে রোমান্সধর্মী উপন্যাস বলা হয়। অরণ্যে কাপালিক পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই
উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সাথে বিয়ে এবং তার সমাজ বন্ধনের সাথে দ্বন্দ্বই এর মূল কাহিনী। কপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য, সে রহস্য উদঘাটনই উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

উপন্যাস শুরু হয় এভাবে- তীর্থ যাত্রীদের নৌকা পথ হারিয়ে এক মোহনায় উপস্থিত হয়। জনবিচ্ছিন্ন সে জায়গায় নৌকার সবার জন্য আহারের ব্যবস্থা করতে নবকুমার বনের মধ্যে কাঠ আনতে যায়। কিন্তু এরই মধ্যে জোয়ার চলে এলে নবকুমারকে রেখেই সবাই চলে যায়। সে বনে নবকুমারের সাথে দেখা হয় এক কাপালিকের।

কাপালিক তাকে ভৈরবীর কাছে বলি দিতে চায়। কিন্তু কাপালিকের আশ্রিতা কন্যা কপালকুণ্ডলার সহায়তায় নবকুমার পালিয়ে যায়। পরে নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয় এবং তারা বাড়ীতে ফিরে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করে।

এখানে শুরু হয় কাহিনির নতুন ধারা। নবকুমারের আগে এক স্ত্রী ছিল। তার নাম ছিল পদ্মাবতী। ঘটনাক্রমে সে পরিবারের সাথে মুসলমান হয় এবং নাম হয় মেহেরুন্নেসা। সে মতি ছদ্মনাম ধারণ করে বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়ায়। সারা উপন্যাস জুড়ে এই মতিবিবির উপস্থিতি রয়েছে। হিন্দুরীতি অনুসারে সে পরিবারসহ পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। ফলে সে আর স্বামীর কাছে যেতে পারে না। কিন্তু সে স্বামী নবকুমারকে মন থেকে সরাতে পারে না।

পথিমধ্যে সরাইখানায় কপালকুণ্ডলার সাথে দেখা হলে জানতে পারে নবকুমারের সাথে কপালকুণ্ডলার বিয়ের কথা। এরপর থেকে সে কপালকুণ্ডলা ও নবকুমারের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা করে। এদিকে কাপালিক আসে কপালকুণ্ডলাকে বলি দিতে। মতি কাপালিকের সাথে হাত মিলায় কাপালিকের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য কপালকুণ্ডলাকে কৌশলে ঘর থেকে বের করে আনে। একপর্যায়ে নবকুমার সব বুঝতে পারে।

উপন্যাসের শেষে দেখানে হয় স্রোতময় নদীর তীর থেকে কপালকুণ্ডলা হারিয়ে যায়, আর তাকে খুঁজতে নবকুমার নদীতে নামে। তাদের কেউ আর ফিরে আসে না- এখানেই উপন্যাস শেষ হয়। এভাবে এর কাহিনী সবরকম বাহুল্য বর্জন করে বিষাদময় পরিণতির দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে।

উপন্যাসের কাহিনির একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে আছে অরণ্য ও সমুদ্র। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ইতিহাসের একটি চরিত্রকে (মতি ওরফে মেহেরুন্নেসা) কল্পিত কাহিনির সমান্তরালে স্থাপন করে নির্ভেজাল রোমান্স সৃষ্টি করেছেন।

উপন্যাসে লেখক রোমান্স ব্যবহার করেছেন কিন্তু তা জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কপালকুণ্ডলা, নবকুমার ও কাপালিক। লেখক নির্ভেজাল ইতিহাস নিয়ে উপন্যাস রচনা করেন নি। ইতিহাসের সাথে কল্পনার মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। কিছু চরিত্র কল্পিত আর কিছু চরিত্র ইতিহাস আশ্রিত।

রহস্যময়তা এ উপন্যাসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য। কপালকুণ্ডলা, কাপালিক ও মতিবিধি চরিত্রগুলো যথেষ্ট রহস্যময়। উপন্যাসের নারী চরিত্রগুলোকে লেখক সত্যিই অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কপালকুণ্ডলা, মতিবিবি চরিত্র দুটি অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সাথে বিপরীতমুখী গুণাবলী চরিত্রদুটিকে বিশেষভাবে গুণান্বিত করেছে।

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্রাজিক পরিণতি-এ সব মিলিয়ে ‘কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসটি বঙ্কিমের উল্লেখযোগ্য রচনা।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

Dhaka
1216