22/07/2026
গতকাল আমরা আমাদের নতুন বইয়ের সম্মানিত লেখক শায়খ ড. ইয়াহিয়া আল গাওসানীর 'দশ কেরাতের সনদ' নিয়ে কথা বলেছিলাম। এরপর অনেকেই কৌতূহলী হয়ে জানতে চেয়েছেন— এই দশ কেরাত আসলে কী?
আসুন, আজ খুব সহজে বিষয়টি জেনে নিই:
দশ কেরাত কী?
'কেরাত' শব্দের অর্থ হলো তিলাওয়াত বা পড়ার পদ্ধতি। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের ১০টি 'মুতাওয়াতির' (সর্বজনস্বীকৃত এবং রাসূলুল্লাহ সা. থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত) পঠনপদ্ধতিকে একত্রে 'দশ কেরাত' বলা হয়।
এর পটভূমি:
হাদিস অনুযায়ী, মানুষের সুবিধার্থে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনকে ৭টি ভিন্ন 'হরফ' বা আরবদের বিভিন্ন গোত্রের উচ্চারণভঙ্গিতে নাজিল করেছিলেন। পরবর্তীতে ইসলামি স্কলাররা (বিশেষ করে আল্লামা ইবনুল জাজারী রহ.) বিশুদ্ধতা ও সনদের ভিত্তিতে এই পঠনপদ্ধতিগুলোকে মোট ১০টি প্রধান ধারায় বা কেরাতে সুবিন্যস্ত করেছেন।
কেরাতের কাঠামো (ইমাম ও রাবী):
১০ জন ইমাম: এই ১০টি কেরাতের প্রত্যেকটি একেকজন বিখ্যাত ক্বারী বা ইমামের নামে পরিচিত (যেমন: ইমাম আসিম, ইমাম নাফে, ইমাম ইবনে কাসির প্রমুখ)।
২০ জন রাবী (বর্ণনাকারী): প্রত্যেক ইমামের পঠনপদ্ধতি সংরক্ষণ ও প্রচার করার জন্য দুজন করে প্রধান ছাত্র বা বর্ণনাকারী (রাবী) রয়েছেন। সেই হিসেবে মোট ২০টি প্রসিদ্ধ রেওয়ায়েত বা বর্ণনা রয়েছে।
কেরাতগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য কোথায়?
দশ কেরাতে কুরআনের মূল অর্থ বা বার্তার কোনো পরিবর্তন হয় না। পার্থক্যটি মূলত তেলাওয়াতের নিয়মে বা উচ্চারণে। যেমন:
কোনো শব্দে টান (মাদ্দ) কম বা বেশি দেওয়া।
কোনো হরফ স্পষ্ট করে পড়া বা মিলিয়ে পড়া (ইদগাম)।
আঞ্চলিক উচ্চারণের ভিন্নতা (যেমন: ইমালাহ)।
আমাদের পরিচিত কেরাত কোনটি?
বর্তমানে আমাদের দেশে এবং বিশ্বের প্রায় ৯৫% মুসলিম যে পদ্ধতিতে কুরআন তিলাওয়াত করেন, সেটি হলো— ইমাম আসিম (রহ.)-এর কেরাত এবং তাঁর ছাত্র হাফস (রহ.)-এর বর্ণনা। একে সংক্ষেপে 'রেওয়ায়েতে হাফস আন আসিম' বলা হয়। এছাড়া আফ্রিকার অনেক দেশে ইমাম নাফে (রহ.)-এর কেরাত (ওয়ারশ ও কালুন) বেশ প্রচলিত।
সারসংক্ষেপ: সহজ কথায়, দশ কেরাত হলো কুরআন পড়ার ১০টি বিশুদ্ধ, রাসুল (সা.) থেকে প্রমাণিত এবং সর্বজনস্বীকৃত উচ্চারণ পদ্ধতি। এর প্রতিটি পদ্ধতিই সম্পূর্ণ সঠিক।
#কুরআনশিক্ষা #দশকিরাত