17/08/2026
Repsot...
বাংলা ব্যাকরণ - ষ-ত্ব বিধান
-
ষ-ত্ব বিধানঃ বাংলা ভাষায় সাধারণতঃ মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।
-
ষ-এর ব্যবহারের নিয়মঃ
-
নিয়ম – ১
অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক বা র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন— ভবিষ্যৎ (ভ্ + অ + ব্ + ই + ) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
-
নিয়ম – ২
ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন— অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্তু > সুষুপ্তু, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্ঠান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্ঠান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
-
নিয়ম – ৩
‘ঋ’ এবং ঋ-কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
-
নিয়ম – ৪
তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন— বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
-
নিয়ম – ৫
র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে ‘ষ’ হয়। যেমন- পরিষ্কার।
কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে ‘ষ’ হয় না। যেমন- পুরস্কার।
-
নিয়ম – ৬
ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
-
নিয়ম – ৭
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন— ষড়ঋতু, ষড়যন্ত্র, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।
-
জ্ঞাতব্য
* আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ‘ষ’ হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন— জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
** সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।