06/11/2022
৬ নভেম্বর ২০২২
ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'বীরকন্যা প্রীতিলতা' এর প্রচারে কলাকুশলীবৃন্দ।
আত্মদানের নব্বই বছর পর আসছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'বীরকন্যা প্রীতিলতা'।
ইডেন মহিলা কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ মহোদয় প্রফেসর সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য্য এর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, প্রীতিলতার বংশধর এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি প্রফেসর এ এন রাশেদা। আরো উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহোদয় প্রফেসর ফেরদৌসী বেগম, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মহোদয় প্রফেসর সুফিয়া আখতার, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপকসহ শিক্ষকবৃন্দ এবং ছাত্রীরা। চলচ্চিত্রের কলাকুশলীবৃন্দ এই চলচ্চিত্র সম্পর্কে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অধ্যক্ষ মহোদয় বলেন, প্রীতিলতা ইডেন কলেজের গর্ব। অত্যন্ত মেধাবী হয়েও তিনি দেশের জন্য আত্মাহুতি দেন। শিক্ষার্থীদেরকে প্রীতিলতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে বলেন। আবেদ খান এবং রানা দাশগুপ্ত বলেন এই সিনেমার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম এ দেশের অতীত ইতিহাস এবং প্রীতিলতা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে। এ এন রাশেদা প্রীতিলতার একটি চিঠি পড়ে শোনান।
মাতৃভূমির জন্য আত্মত্যাগের এক কাহিনীর জন্ম দিয়েছিলেন যে নারী, তিনি আমাদের প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। তাঁর বীরত্বের গল্প অনুপ্রাণিত করেছে হাজার দেশপ্রেমিককে। কেননা সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশের লৌহকঠিন দুঃশাসনের পাজর গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম থেকে এসে প্রীতিলতা ইডেন মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিলেন ১৯২৭ সালে । ১৯২৯ সালে আইএতে মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান এবং সম্মিলিতভাবে পঞ্চম স্থান অধিকার করে বৃত্তি নিয়ে কলকাতায় বেথুন কলেজে পড়তে যান। বেথুন কলেজে পড়ার সময় ফাঁসির আসামী রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের সাথে দেখা করতে যান। একবার দুইবার নয়, চল্লিশবার। রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসি হবার পরে তিনি চট্টগ্রামে ফিরে এসেছিলেন। যুক্ত হয়েছিলেন বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামের বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের দলে ।
মাস্টারদা সূর্য সেন বলেছিলেন, “বাংলার ঘরে ঘরে মায়ের জাতিও যে শক্তির খেলায় মেতেছে, ইতিহাসে সে অধ্যায় রচিত হোক এই-ই আমি চাই। ইংরেজ জানুক, বিশ্বজগৎ জানুক, এ দেশের মেয়েরাও মুক্তিযুদ্ধে পিছিয়ে নেই।"
১৯৩২ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর রাতে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের দায়িত্ব দেয়া হয় প্রীতিলতার উপর। হামলা শেষে প্রতিপক্ষের একটি গুলি এসে লাগে তার শরীরে। অত্যাচারে মুখে দলের কোনো গোপন তথ্য যাতে বলে ফেলতে না হয়, তাই প্রীতিলতা পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন । লোমহর্ষক এই কাহিনি আমাদের দেশের একুশ বছরের এক মেয়ের ।
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস 'ভালোবাসা প্রীতিলতা' অবলম্বনে বীরকন্যা প্রীতিলতা চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, মনোজ প্রামাণিক, কামরুজ্জামান তাপু সহ অনেকে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন প্রদীপ ঘোষ।
প্রচারণার অংশ হিসেবে ছাত্রীদের কাছে সিনেমার টিকেট বিতরণ করা হয়। এই টিকেট প্রদর্শন করে অর্ধেক মূল্যে তারা সিনেমা দেখতে পারবে।