22/04/2022
২০১৬ সালে, বর্তমান আওয়ামী সরকার কমপক্ষে চারটি আইন গণঅধিকার হরণ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করবার জন্য প্রস্তাব করেছিল, কিন্তু তৎকালীন নাগরিকদের একটি অংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছিলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে, পরবর্তীতে প্রস্তাবিত বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন ২০১৬, এবং প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৬ আইনে পরিণত করতে পেরেছিল, প্রস্তাবিত আইন প্রণয়ণ করতে পারেন নাই বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন ২০১৬ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন ২০১৬।
যদিও আইন দুটি প্রণয়নে নাগরিকদের অংশগ্রহণ, পর্যালোচনায় সমতার সুযোগের, পরিছন্নতা, নাগরিকদের নিকট দায়বদ্ধতা ছিল শূন্য থেকে মহাশূন্যেময়; যার ফল সরাসরিভাবে মানবাধিকার সংগঠনসমূহ এবং নাগরিকরা ভোগ করেছেন, করছেন এবং করবেন; কারণ অবৈধ এবং নিপীড়নমূলক আইনসমূহ কার্যত রাষ্ট্র, শাসকশ্রেণি, ক্ষমতাধর, ও বিত্তবানদের স্বার্থই রক্ষা করে।
ঠিক একই প্রক্রিয়ায়, ২০২২ সালে বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় আইনসমূহ, নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে সংবিধানের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ রেখে পাঁচটি নতুন আইন ও নীতিমালাসমূহ প্রস্তাব করেছে, এইসকল নীতিমালা-আইনসমূহ হয়তো নাগরিকদের পরিপূর্ন, প্রয়োজনীয়, যৌক্তিক এবং পরিছন্নতামূলক অংশগ্রহণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যাবে; নাগরিকদের থেকে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, পাঁচটি প্রস্তাবিত নীতিমালা ও আইন বিদ্যমান হতাশাজনক মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও সংকুচিত করে, নাগরিক অধিকার হরণ করে ফেলবে; এই সকল নীতিমালা-আইনসমূহ হল-
১. প্রস্তাবিত উপাত্ত সুরক্ষা আইন ২০২২
২. প্রস্তাবিত The Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission Regulation for Digital, Social Media and OTT Platforms, 2021
৩. প্রস্তাবিত ওভার দ্যা টপ (ওটিটি) কনটেন্টভিত্তিক পরিসেবা প্রদান ও পরিচালনা নীতিমালা ২০২১
৪. প্রস্তাবিত বৈষম্য বিরোধী আইন ২০২২ এবং
৫. গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন
প্রস্তাবিত নীতিমালাসমূহ এবং আইনগুলোর নানা দিক সম্পর্কে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার এবং প্রশ্ন করা দরকার এবং নাগরিকদের একটি খুবই ছোট অংশ বা মহলের প্রায় সবকটিই সাম্প্রতিক প্রস্তাবিত আইন নিয়ে সরকারের আগ্রহকে প্রশ্ন তুলেছেন কিন্তু কতটুকু কার্যকর?
সেই প্রেক্ষাপটে নাগরিক সংগঠন নাগরিক আগামী ২৩ এপ্রিল (শনিবার) ২০২২, সকাল ১১.০০ থেকে দুপুর ১.০০ ঘটিকা পর্যন্ত সাম্প্রতিক প্রস্তাবিত আইন-নীতিমালাসমূহ কেন্দ্র করে নাগরিকদের অবস্থান থেকে নাগরিক অধিকার প্রশ্নসমূহ ও বাস্তবতা যাচাই-বাছাই করতে চায় এবং এই আলোচনায় আপনাদের সকলকে আমন্ত্রণ ।